16/05/2026
অটিজম বৈশিষ্ট সম্পন্ন অনেক শিশুর ক্ষেত্রেই “মনোযোগ ধরে রাখা” একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। অনেক অভিভাবক বলেন—শিশু এক জায়গায় বেশিক্ষণ বসে না, ডাকে সাড়া দিতে দেরি করে, পড়াশোনা বা খেলায় দ্রুত আগ্রহ হারিয়ে ফেলে কিংবা একটি কাজ শেষ করার আগেই অন্যদিকে চলে যায়। অনেক সময় এটিকে শুধুই “দুষ্টুমি” বা “অবাধ্যতা” মনে করা হয়, কিন্তু বাস্তবে এটি অটিজমের নিউরোডেভেলপমেন্টাল বৈশিষ্ট্যের অংশ হতে পারে।
অটিজম শিশুর মনোযোগের সমস্যার পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ কাজ করে। প্রথমত, অনেক শিশুর মস্তিষ্ক একই সাথে অনেক সেন্সরি তথ্য প্রসেস করতে গিয়ে দ্রুত overwhelmed হয়ে যায়। আশেপাশের শব্দ, আলো, চলাফেরা বা ছোট ছোট পরিবর্তনও তাদের মনোযোগ ভেঙে দিতে পারে। দ্বিতীয়ত, কিছু শিশুর “joint attention” বা অন্যের সাথে একই বিষয়ে মনোযোগ ভাগ করে নেওয়ার দক্ষতা দুর্বল থাকে। ফলে তারা নির্দেশনা অনুসরণ বা শেখার পরিবেশে স্থির থাকতে কষ্ট অনুভব করে। এছাড়া উদ্বেগ, ঘুমের সমস্যা, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম কিংবা ADHD-এর মতো সহ-বিদ্যমান সমস্যাও মনোযোগ কমিয়ে দিতে পারে।
ভালো বিষয় হলো—সঠিক কৌশল ব্যবহার করলে বাসা থেকেই শিশুর মনোযোগ ধীরে ধীরে উন্নত করা সম্ভব।
প্রথমেই শিশুর জন্য distraction কম এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। শেখানো বা খেলার সময় টিভি বন্ধ রাখা, অতিরিক্ত শব্দ কমানো এবং টেবিলে অপ্রয়োজনীয় খেলনা বা জিনিস না রাখা মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করে। অনেক অভিভাবক একসাথে অনেক কিছু শেখানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু অটিজম শিশুর ক্ষেত্রে ছোট এবং নির্দিষ্ট টাস্ক বেশি কার্যকর হয়।
একটানা দীর্ঘ সময় বসিয়ে রাখার পরিবর্তে “ছোট সময়ের structured activity” বেশি উপকারী। যেমন—প্রথমে ৩ মিনিট, তারপর ৫ মিনিট, এরপর ধীরে ধীরে সময় বাড়ানো। শিশুর সফলতাকে সাথে সাথে প্রশংসা করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ positive reinforcement মনোযোগ ধরে রাখার আচরণকে শক্তিশালী করে।
অনেক শিশুর ক্ষেত্রে visual support অত্যন্ত কার্যকর হয়। ছবি, ভিজ্যুয়াল রুটিন, ছোট নির্দেশনা কার্ড বা step-by-step cue ব্যবহার করলে তারা কী করতে হবে তা সহজে বুঝতে পারে এবং কাজের প্রতি মনোযোগ বাড়ে। শুধু মুখে নির্দেশ দিলে অনেক শিশু তথ্য ধরে রাখতে পারে না।
মনোযোগ বাড়ানোর জন্য “movement break” খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি কৌশল। অনেক অটিজম শিশু দীর্ঘ সময় স্থির বসে থাকলে অস্থির হয়ে যায়। তাই ১০–১৫ মিনিট পর ছোট বিরতি, স্ট্রেচিং, jumping activity বা sensory activity দিলে মস্তিষ্ক আবার ফোকাস ফিরে পেতে সাহায্য করে।
স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণ করাও জরুরি। দীর্ঘ সময় দ্রুত পরিবর্তনশীল ভিডিও বা মোবাইল কনটেন্ট শিশুর মস্তিষ্ককে instant stimulation-এর প্রতি অভ্যস্ত করে তোলে, ফলে বাস্তব জীবনের শেখার কার্যক্রমে মনোযোগ কমে যেতে পারে। তাই স্ক্রিন ব্যবহারে নির্দিষ্ট সীমা রাখা প্রয়োজন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—প্রতিটি অটিজম শিশু আলাদা। কারো মনোযোগের সমস্যা সেন্সরি কারণে হয়, কারো হয় ভাষাগত চ্যালেঞ্জের কারণে, আবার কারো ক্ষেত্রে ADHD বা উদ্বেগও যুক্ত থাকতে পারে। তাই শুধুমাত্র বকা দেওয়া বা জোর করে বসিয়ে রাখার পরিবর্তে সমস্যার মূল কারণ বুঝে কাজ করা জরুরি।
যদি শিশুর মনোযোগের সমস্যা শেখা, যোগাযোগ বা দৈনন্দিন কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাব ফেলে, তাহলে Speech & Language Therapist, Occupational Therapist, Psychologist বা Developmental Specialist-এর পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। সঠিক থেরাপি, রুটিন এবং অভিভাবকের ধারাবাহিক সহযোগিতা শিশুর মনোযোগ ও শেখার দক্ষতায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
📍 Speech Aid Bangladesh Ltd.
শিশুর ভাষা ও বিকাশে আপনার বিশ্বস্ত সহযোগী।
📞 Azimpur: +8801886-085264, +88015680-85265
📞 Badda: +8801849-984518, +8801849-974458
📞 Wari: +8801804-214421, +8801850-114327
📞 Lalbag: +8801815-843853, +8801317-212719
👉 আপনার শিশুর ভাষা বিকাশ নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।