23/12/2016
ব্যবস্থাপত্র ছাড়া ক্রয়যোগ্য ওষুধের সংখ্যা কমান
জাতীয় ওষুধনীতি ২০১৬
২৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ০০:৫৫
১১ বছর পর গত ১৯ ডিসেম্বর ‘জাতীয় ওষুধনীতি ২০১৬’-এর খসড়া মন্ত্রিসভার অনুমোদন পেয়েছে। এটি হবে এ দেশের তৃতীয় জাতীয় ওষুধনীতি। ‘জাতীয় ওষুধনীতি ২০০৫’ পর্যালোচনা করে তৃতীয় খসড়াটি প্রণয়ন করা হয়েছে; উদ্দেশ্য পরিবর্তিত
সময়ের উপযোগী একটা জাতীয় নীতি তৈরি করা, যা এ দেশে ওষুধ উৎপাদন, ব্যবহার, আমদানি-রপ্তানিসহ সমগ্র ওষুধশিল্প এবং চিকিৎসাব্যবস্থার বিকাশ ও অগ্রগতির সহায়ক হবে।
জনগণ যাতে নিরাপদ, কার্যকর ও মানসম্পন্ন ওষুধ সহজে ও ক্রয়সাধ্য মূল্যে পেতে পারে, তা নিশ্চিত করাসহ যে পাঁচটি লক্ষ্যে এই ওষুধনীতি প্রণয়ন করা হয়েছে বলে বলা হয়েছে, সেগুলো সঠিক লক্ষ্য। কিন্তু মনে রাখা প্রয়োজন, আগের দুটি জাতীয় ওষুধনীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে এই লক্ষ্যগুলোই সামনে ছিল, যেগুলো পূরণ করা যায়নি।
এ দেশে ওষুধের বিপণন ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে গুরুতর সমস্যা আছে। ব্যবস্থাপত্র ছাড়া ওষুধের ক্রয়-বিক্রয় ও সেবন এবং চিকিৎসকদের প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত ওষুধ সেবনের (পলিফার্মেসি) পরামর্শ দেওয়ার প্রবণতার ফলে এখানে এক বিপজ্জনক চিকিৎসা-সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। অ্যান্টিবায়োটিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের ফলে অনেক অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ অনেক রোগীর ক্ষেত্রে অকার্যকর হয়ে পড়েছে। অথচ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অ্যান্টিবায়োটিকের অতিব্যবহারের কারণে তার কার্যকারিতা নষ্ট হতে থাকায় সারা বিশ্বেই স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে একধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কার কথা বলেছে।
নতুন ওষুধনীতির খসড়ায় ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরকে ‘আরও শক্তিশালী’ করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে এবং সে জন্য এর বর্তমান জনশক্তি ও অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা ‘যথাযথভাবে বৃদ্ধি’ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু লোকবল ও অবকাঠামো বাড়ালেই যে প্রতিষ্ঠানটি শক্তিশালী হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। আইনগত ক্ষমতার দিক থেকে এটা যথেষ্ট শক্তিশালী; প্রয়োজন এর ক্ষমতার যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা। সে জন্য এ প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিত করা সবচেয়ে বেশি জরুরি।
এই ওষুধনীতিতে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই যেসব ওষুধ কেনা যাবে বলে প্রস্তাব করা হয়েছে, তার তালিকাটি বেশ দীর্ঘ। এ তালিকায় আছে ৩৯ ধরনের ওষুধ। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের অনেকেই বলেছেন, ৮-১০টির বেশি থাকা উচিত নয়। তালিকাটি ছোট করা হোক। আরও একটা জরুরি কাজ হলো, যেসব চিকিৎসকের মধ্যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ওষুধ, বিশেষত অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের পরামর্শ দেওয়ার প্রবণতা রয়েছে, তাঁদের নিরস্ত করার কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া।
---প্রথম আলো পত্রিকা থেকে সংগ্রীহিত ।