18/04/2026
🧬 আমাদের হাতের ছোঁয়ায় যখন রোগীর প্রাণ ফিরে আসে।
এই রোগী যখন আমার কাছে আসে তখন হাতে-পায়ের ক্ষতস্থান থেকে গড়গড়িয়ে ফিনকি দিয়ে র*ক্ত ঝড়ছিল। মহালছড়ি থেকে কোনরকম গামছা পেঁচিয়ে আমার চেম্বারে আনে। রোগীর প্রেসার কম, পালস পাওয়া যাচ্ছিল না। মানে রোগী শকে আছে।অতিরিক্ত র*ক্তক্ষরণে রোগী তখন অসার হয়ে মৃতপ্রায়।
আমার এসিস্ট্যান্ট সহ সবাই মিলে দ্রুত সব জায়গার র*ক্তপাত বন্ধ করলাম। একটা জায়গায় কাজ করতে গেলে আরেক জায়গা থেকে র*ক্ত বের হচ্ছে। ততক্ষণে আমার চেম্বারে র*ক্তে ভেসে গেছে। দ্রুত র*ক্ত ম্যানেজ করে চেম্বারেই র*ক্ত দেয়ার ব্যবস্থা হলো। তারপর ধীরে ধীরে রোগীর চোখ মেলা শুরু করে।
আর কিছুক্ষণ দেরি হলে রোগীকে বাঁচানো সম্ভব হতো না।
আজ দেখছি রোগী সদর হাসপাতালে ওয়ার্ডে বিছানায় শুয়ে আমার সাথে কথা বলছেন।
প্রসংগত এই রোগীর দুই বাহুর হাড্ডি ভেংগে একেবারে দুভাগ হয়ে গেছিল। পায়ের সামনের দিকের প্রায় সব রগ র*র*ক্তনালীসহ কেটে গেছিল।
এসব শকের রোগীদেরকে বাঁচাতে গেলে এক্সপার্ট ডাক্তার ছাড়া আসলেই অসম্ভব। তাছাড়া এসব রোগী যদি হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে না হয়ে চেম্বারে আসে তখন পরিস্থিতি আরো চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়ায়।
মৃত্যুপথযাত্রী এই রোগীর প্রাণ বাঁচাতে পেরে আপাতত মানসিক শান্তি অনুভব করছি। সামনে আরো চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে এই রোগীর জন্য।
ভরসা রাখুন আমাদের সরকারি স্বাস্থ্যসেবায়।