Peace and Prevention

Peace and Prevention Paranormal Investigating and Mysteries Research Center


জ্বীন ও জাদুগ্?

আমাদের এখানে অস্বাভাবিক আচরনরত ব্যাক্তিকে দক্ষতার সাথে পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে সে আসলেই জ্বীন কিংবা জাদু দ্বারা আক্রান্ত নাকি মানসিকভাবে অসুস্থ।
যদি মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে থাকেন তবে তাকে মানসিক রোগের চিকিৎসকের নিকট প্রেরন করা হয় আর যদি তিনি জ্বীন অথবা জাদু দ্বারা আক্রান্ত হন তবে আমাদের প্রতিষ্ঠানেই কোরাআন ও সুন্নাহর আলোকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়।

20/05/2022
জ্বিন জাতি সম্পর্কে কিছু কথা..............শেষপর্ব বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে জ্বীন জাতিঃআধুনিক পদার্থ বিজ্ঞান জ্বিন জাতির অস্তিত...
10/05/2022

জ্বিন জাতি সম্পর্কে কিছু কথা..............শেষপর্ব

বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে জ্বীন জাতিঃ

আধুনিক পদার্থ বিজ্ঞান জ্বিন জাতির অস্তিত্ব অস্বিকার করে না। অস্বিকার করার মত কোন যুক্তি বা মতবাদও আজ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বরং এ্যন্টি ম্যাটার সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান যত বৃদ্ধি পাচ্ছে জ্বিনের অস্তিত্বের পক্ষে যুক্তি ততই প্রগাড় হচ্ছে।

আসুন জানি এ্যন্টি ম্যাটার কিঃ

পৃথিবীতে যেমন বস্তু রয়েছে। তেমনভাবে অবস্তুও থাকতে পারে। আসুন দেখি এন্টিম্যাটার সম্পর্কে উইকিতে কি বলা হয়েছেঃ

পার্টিক্যাল ফিজিক্সে এ্যন্টি ম্যাটারেরর ধারণা প্রতিপদার্থের ধারণা রুপ নিয়েছে। ধারণা করা হয়েছে যেভাবে কণা দ্বারা পদার্থ গঠিত হয় ঠিক তেমনিভাবে প্রতিকণা দ্বারা প্রতিপদার্থ গঠিত হয়। উদাহরণস্বরুপ, একটি প্রতিইলেকট্রন (পজিট্রন) এবং একটি প্রতিপ্রোটন মিলিত হয়ে গঠন করে একটি প্রতিহাইড্রোজেন পরমাণু, যেমন করে একটি ইলকট্রন ও প্রোটন মিলে তৈরি করে একটি হাইড্রোজেন পরমাণু। উপরন্তু কণা এবং প্রতিকণা মিলিত হলে যেভাবে পূর্ণবিলয়ের মাধ্যমে সকল শক্তি বিমুক্ত হয়, তেমনি পদার্থ এবং প্রতিপদার্থের মিলনে পূর্ণবিলয়ের সৃষ্টি হয় বলে ধারণা করা হয়েছে। এ ধরণের পূর্ণবিলয়ের ফলে প্রকৃতপক্ষে উচ্চ শক্তির ফোটন (গামা রশ্মি) এবং বহু কণা-প্রতিকণা জোড়ার সৃষ্টি হয়। এই পূর্ণবিলয়ে বিমুক্ত কণাগুলোর মধ্যে বিপুল পরিমাণ শক্তি থাকে। এই শক্তির মান পূর্ণবিলয়ের ফলে সৃষ্ট বস্তুসমূহের নিশ্চল ভর এবং মূল পদার্থ-প্রতিপদার্থ জোড়ার অন্তর্ভুক্ত বস্তুসমূহের নিশ্চল ভরের পার্থক্যের সমান।

অর্থাৎ আমাদের মহাবিশ্বে যত পার্টিক্যাল আছে ঠিক তত পরিমান এ্যন্টি পার্টিক্যাল আছে। শক্তির নিত্যতা সূত্রানুযায়ী।

এ্যান্টিপার্টিকেল অদৃশ্য। এগুলোর মুভমেন্ট কোন যন্ত্র দ্বারা পর্যবেক্ষন করা যায় না। কিন্তু বিজ্ঞান এগুলোর অস্তিত্বকে অস্বিকার করতে পারছে না।

জিনরা কি অদৃশ্য বিষয়ে জানে?

আসমান ও জমিনের কোনো অদৃশ্যের সংবাদ আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না। তবে অনেক দৃশ্যমান বিষয় জিনরা অদৃশ্য থেকে অবলোকন করে তা বর্ণনা করে, যা অনেকে অদৃশ্যের খবর বলে মনে করে থাকে। এটা নিছক ভুল ধারণা।

প্রাণীর আকার বা রূপধারণঃ

ইসলাম ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী জ্বীনেরা মানুষের আকার ধারণ করতে পারে এবং মানুষের মত কথা বলতে পারে। মানুষ ছাড়াও অন্যান্য প্রাণীর আকারও ধারণ করতে পারে বলে হাদীসে বলা হয়েছে।

আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত দীর্ঘ একটি হাদীসে এক দুষ্ট লোকের কথা উল্লেখ করা হয়েছে যে প্রতি রাতে যাকাতের মাল চুরি করতে আসতো। আবু হুরায়রা প্রতি রাতেই তাকে ধরে ফেলতেন। কিন্তু লোকটি বিভিন্ন অনুরোধ করে মাফ নিয়ে চলে যেত এবং পরের রাতে আবার চুরি করতে আসতো। পরপর তিন রাতে সেই মানুষটিকে ধরার পরে রাসুল(সঃ) কে ঘটনা অবহিত করলে তিনি আবু হুরায়রা কে জিজ্ঞেস করেন, “ওহে আবু হুরায়রা, তুমি কি জানো তুমি এই তিন রাতে কার সাথে কথা বলেছ? ওটা শয়তান ছিল।” (বুখারী, ৩২৭৫)

বদরের যুদ্ধের সময় ইবলিশ শয়তান মক্কার কুরাইশদের কাছে বনু কিনানাহর সর্দার সূরাক্বা ইবনে যুশাম এর আকার ধরে গিয়ে তাদেরকে রাসুল(সঃ) এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার প্ররোচনা দিয়েছিল। (ইবনে কাসীর, আল বিদায়া ওয়াল নিহায়া, ৫/৬২)

আবু সাইদ খুদরী থেকে বর্ণিত, রাসুল(সঃ) বলেছেন-

“মদিনার কিছু সংখ্যক জ্বীন মুসলমান হয়েছে। এদেরকে (প্রাণী হিসেবে) যদি কেউ দেখো, তাহলে তিনবার সাবধান করবে। তারপরেও আবার এলে সেই প্রাণীকে হত্যা করবে।” (মুসলিম, ২২৩৬)

মানবদেহে জিনের অনুপ্রবেশ বা সাহরঃ

আশ্চর্য হলেও সত্য যে জিনরা মানবদেহের শিরা-উপশিরায় বিচরণ করতে পারে। এমনকি মানুষের জ্ঞানবুদ্ধির ওপরও প্রভাব ফেলে তাকে বিকারগ্রস্তও করে ফেলতে পারে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা সুদ খায় তারা কিয়ামতের দিন এমন অবস্থায় দণ্ডায়মান হবে, যেমন শয়তানের আছর (কুপ্রভাব) কাউকে বিকারগ্রস্ত করে ফেলে।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৭৫)

তদ্রূপ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, নবীজি (সা.) বলেন, ‘শয়তান তোমাদের দেহে অনুরূপ বিচরণ করে, যেমন রক্ত দেহের সর্বত্র প্রবাহিত হয়।’ (বুখারি, হাদিস : ৩৪৮২)

মানুষের ওপর জ্বীন ভর করাকে সাহর বলা হয়। এটি এমন একটি অবস্থা যখন মানুষের নিজের ওপর কোন নিয়ন্ত্রণ থাকে না। মানসিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায় এবং সাময়িক স্মৃতি বিভ্রম ঘটে। একে আসর করাও বলে। কুরআনে বলা হয়েছে,

“যারা সুদ খায়, তারা কিয়ামতে দন্ডায়মান হবে, যেভাবে দন্ডায়মান হয় ঐ ব্যক্তি, যাকে শয়তান আসর করে মোহাবিষ্ট করে দেয়।” (সূরা বাক্বারা, ২৭৫)

হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে- রাসুল(সঃ) বলেছেন,

“শয়তান আদম সন্তানের শরীরে প্রবাহিত হয়, যেমন রক্ত শরীরে প্রবাহিত।” (বুখারী, ৩৩/২৫১। মুসলিম, ২১৭৫)। ইমাম আহমদের ছেলে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত, “আমি আমার বাবা (ইমাম আহমাদ) কে বললাম- কিছু মানুষ মানুষের শরীরে জ্বীনের ভর করাকে বিশ্বাস করে না। তিনি বলেন- ও আমার সন্তান, তারা মিথ্যা বলছে। আসর করা অবস্থায় অসুস্থ লোকের মুখ দিয়ে জ্বীন কথাও বলতে পারে।” (মাজমু ফতোয়া- ইবনে তাইমিয়াহ ১৯/১২)

অন্য হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে, রাসুল(সঃ) একবার একটি অসুস্থ বালকের সাক্ষাত পেয়েছিলেন যার ওপর জ্বীনের ভর ছিল। রাসুল ছেলেটির দিকে ফিরে জোরে বলেন- “ও আল্লাহর শত্রু, বের হয়ে আসো। ও আল্লাহর শত্রু, বের হয়ে আসো। ছেলেটি দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে।” (ইবনে মাজাহ, ৩৫৪৮। আহমদ ৪/১৭১, ১৭২)।

সৎকর্মশীলদের ওপর জিনের কুপ্রভাব পড়ে নাঃ

জিন মানবদেহে প্রভাব বিস্তার করতে পারলেও নেককার মুসলমানদের ক্ষেত্রে তার প্রচেষ্টা নিষ্ফল হয়। পবিত্র কালামে পাকে জিন ও শয়তানের উদ্দেশে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘যারা আমার একনিষ্ঠ বান্দা, তাদের প্রতি তোমার কোনো প্রভাব কার্যকর হবে না।’ (সুরা : হিজর, আয়াত : ৪৩)

তাই দেখা যায়, ধর্মীয় ব্যাপারে উদাসীন লোকেরাই জিন ও শয়তানের কুপ্রভাব ও কুমন্ত্রণার শিকার হয়ে থাকে। হাদিসে পাকে বর্ণিত হয়েছে, টয়লেটে প্রবেশের দোয়া পাঠ না করলে দুষ্ট জিনরা তার গোপনাঙ্গ নিয়ে খেলা করে। অনুরূপ খাদ্য গ্রহণের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহ’ না পড়লে খারাপ জিন তার খাদ্যে অংশগ্রহণ করে।

মৃত্যুঃ

মানুষের জন্য যেমন মৃত্যু অবধারিত একটি বিষয়, অনুরূপভাবে জিন ও শয়তানদের জন্যও অবধারিত একটি বিষয়। তবে জিনদের মৃত্যুর উপলক্ষ মানুষের মৃত্যুর উপলক্ষের সঙ্গে মিল না-ও থাকতে পারে। সাধারণত জিনেরা জ্বলন্ত অগ্নিশিখায় পুড়ে মারা যায়। হত্যা ও লড়াইয়েও অনেকের মৃত্যু ঘটে। তাদেরও অসুখ হয়। অসুখেও অনেকের মৃত্যু হয়। আবার অনেকে সাগরে ডুবে মরে। সাগরের তলদেশে চলে গেলে তারা আর ফিরে আসে না। কেউ কেউ মহাশূন্যে হারিয়ে যায়। জিনেরা যেহেতু বিভিন্ন আকৃতি ধারণ করতে পারে, তাই ধারণকৃত আকৃতিতেও তাদের মৃত্যু হতে পারে।

শয়তানও জিনজাতির অন্তর্ভুক্ত; কিন্তু অন্য জিন তার মতো নয়। তাকে কিয়ামত পর্যন্ত হায়াত দেওয়া হয়েছে। এ সুযোগ অন্য কোনো জিনকে দেওয়া হয়নি।

প্রসংগত আরেকটি প্রশ্ন এসে যায়। প্রশ্নটি হলো, মৃত জিনদের কোথায় দাফন করা হয়? এর জবাব হলো—যেহেতু রাসুল (সা.)-কে জিনজাতির জন্যও প্রেরণ করা হয়েছে, অতএব তারাও কবর দেওয়ার ইসলামী রীতি অবশ্যই মেনে চলতে বাধ্য। তবে তার ধরন মানুষের অজানা

09/05/2022

জিন শয়তানের ক্ষতি থেকে নিরাপদে থাকতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আমাদের সবার খেয়াল রাখা উচিত।
** এই লেখাটায় জীন – শয়তান থেকে নিরাপদ থাকার সব উপায়ই আনা হয়েছে তা নয়। আরো পয়েন্ট থাকতে পারে। কারো সাজেশন থাকলে কমেন্টে জানাতে পারেন।

১। বিসমিল্লাহ বলে খাবার খেতে শুরু করা। কেননা যখন আল্লাহর নাম ব্যতিত কেউ খেতে শুরু করে সে খাবারে শয়তান শরিক হয় এবং এই খাবার খেয়ে মানুষের সাথে থাকা শয়তান হৃষ্টপুষ্ট হয়। সুতরাং এই শয়তানকে দূর্বল করতে শুরুতে বিসমিল্লাহ বলতে হবে। [১]

২। যদি কেউ বিসমিল্লাহ বলতে ভুলে যায় তবে যখনই মনে পড়বে তখনই পড়বে এই দুয়াটা পড়বে بِسْمِ اللهِ أَوَّلَهُ وَآخِرَهُ‏.‏ (বিসমিল্লাহি আওয়ালাহু ওয়া আ’খিরাহু) [২]

৩। বিসমিল্লাহ বলে বাসায় ঢুকবে। কেননা যদি বিসমিল্লাহ বলা ব্যতিত বাসায় প্রবেশ করে তবে সেই বাসায় শয়তানও একইসাথে প্রবেশ করতে পারে এবং থাকতে পারে। [১]

৪। বাসা থেকে বের হতে এই দুয়া পড়া “بِسْمِ اللَّهِ تَوَكَّلْتُ عَلَى اللَّهِ لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ” বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহি, লা-হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ। এতে সে আল্লাহর পক্ষ থেকে হিদায়াতের উপর থাকবে, হেফাজতে থাকবে, তার উপর আক্রমণ প্রতিহত করা হবে [৩]

৫।পোশাক পাল্টাবার আগে বিসমিল্লাহ বলা। কারণ বিসমিল্লাহ বলার দ্বারা মানুষের সতর ও জীনদের দৃষ্টির সামনে পর্দা সৃষ্টি হয়ে যায়। [৪]
যদি বিসমিল্লাহ না বলা হয় তবে জ্বিন মানুষদের দিকে দৃষ্টি দিতে পারে এবং সহজেই আকৃষ্ট হয়ে যেতে পারে।
ওয়াশরুমে ও টয়লেটে প্রবেশ করতে বিসমিল্লাহ এবং এই দুয়া পড়া, কারণ এসব নোংরা জায়গায় সাধারনত জীন থাকে।
“اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْخُبْثِ وَالْخَبَائِثِ”
আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিনাল খুবুসি ওয়াল কাবাইস [৪]

৬। ওয়াশরুম থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসা। বেশিক্ষণ না থাকা।
ওয়াশরুমে একা একা কথা না বলা। অনেক সময় এই কথা বলার মধ্যে জ্বিন শরিক হয়।
৬। দরজা, জানালা বিসমিল্লাহ বলে খোলা ও বন্ধ করা, কেননা যে দরজা বা জানালা বন্ধ করার সময় আল্লাহর নাম নেয়া হয় সে দরজা শয়তান খুলতে পারে না [৫]

৭। খাবার বিসমিল্লাহ বলে ঢেকে রাখা, এমনকি একটি কাঠি দিয়ে হলেও ঢেকে রাখবে এবং এর উপর আল্লাহর নাম নিবে। একইভাবে পানির পাত্রের মুখও বন্ধ করে দিবে আল্লাহর নাম নিয়ে। কারণ যে পাত্রের মুখ এভাবে আল্লাহর নাম নিয়ে ঢাকা থাকে তা শয়তান উন্মুক্ত করতে পারে না। [৫]

৮। রাতে ঘরের বাতি নেভানোর সময় বিসমিল্লাহ বলে নিভাবে। গ্যাসের চুলা, সিলিন্ডার থাকলে সতর্কতার সাথে বন্ধ করে দিবে । [৫]

৯। যথাযথভাবে পর্দা করা। কারণ জীনরাও মানুষের প্রতি আকৃষ্ট হয়। বাসার নিরাপত্তা তো হলো, কিন্তু বাহিরে যেতে পর্দাসহকারে বের না হলেও জীন দ্বারা আক্রান্তের সম্ভাবনা থাকে।

১০। মুশরিক/কাফিরদের উপসনালয় থেকে দূরে থাকা। কারণ এসব শির্কের আস্তানায় শয়তানের আনাগোনা হয় খুব বেশি। [৬]

১১। বাসায় সুরা বাকারাহ তিলাওয়াত করা। [৭] বিশেষ করে সুরা বাকারার শেষ ২ আয়াত পড়া। এটা পড়ার দ্বারা বাসা থেকে শয়তান দূর হয় । [৮]

১২। বাসায় প্রানীর ছবি না রাখা। দরকারে যেহেতু ছবি তুলতে হয় সেহেতু ছবি উন্মুক্ত জায়গায় রাখবে না। কারণ এমন ঘরে ফেরেশতা প্রবেশ করে না। [৯]

১৩। বাসায় কুকুর না রাখা। [৯]

১৪। বাসায় পর্দাহীনতা যেন না হয় তা খেয়াল রাখা। যেমন টিভিতে, পত্রিকায়, ম্যাগাজিনে এরকম কিছু থাকলে তা বন্ধ করা, ঢেকে রাখতে হবে। ভাল হয় এসবের উৎস বন্ধ করতে পারলে।

১৫। প্রানীর মূর্তি বা মূর্তিজাতীয় কিছু না রাখা। [১০]

১৬। গোসল ফরজ হলে দ্রুত গোসল করে নেয়া। কারণ জুনুব ব্যক্তি যে ঘরে থাকে তাতেও ফেরেশতা প্রবেশ করে না মর্মে হাদীসে উল্লেখিত হয়েছে। [১১] আবার অপবিত্রতাবস্থার জন্য জীনদের আক্রমন করাও সহজ হয়ে যায়।

১৭। অধিক রাগ, শোক ও খুশির অবস্থায় আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল না হওয়া। বিশেষ করে রাগের সময়। এই সময় মানুষ জীনের দ্বারা আক্রমনের শিকার হবার সম্ভাবনা তৈরি হয়। তাই রাগ উঠলেই আউযুবিল্লাহি মিনাশ শায়তনির রজিম পড়বে বার বার।

১৮। বাচ্চাদের মাগরিবের সময়ের খানিক আগে ও পরে বাইরে বিচরণ করতে না দেয়া (কেননা এই সময়ে জীনরা খুব বেশি বিচরণ করে থাকে)।
=======================

[১]: আল আদাবুল মুফরাদ/১০৯৬
[২]: জামি তিরমিযি ও আবু দাউদ। রিয়াদুস সলিহীন কিতাব ৩/ হাদিস ৭২৯
[৩]: তিরমিযি ও আবু দাউদ। রিয়াদুস সলিহীন কিতাব ১/ হাদিস ৮৩
[৪]: জামি তিরমিযি ৬০৬
[৫]: সুনান আবু দাউদ ৩৭৩১
[৬]: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা) বলেছেন- ‘তোমরা মুশরিকদের উপাসনালয়ে তাদের উৎসবের দিনগুলোতে প্রবেশ করো না। কারণ, সেই সময় তাদের উপর আল্লাহর পক্ষ থেকে গজব নাজিল হতে থাকে।’ (বায়হাক্বী)
[৭]: জামি তিরমিযি, খন্ড ৫, কিতাব ৪২, হাদীস ২৮৭৭ (শয়তান এমন ঘরে প্রবেশ করে না যাতে সুরা বাকারাহ তিলাওয়াত করা হয়)
[৮]: সুনান আবু দাউদ/১৩৯৭; সুনান ইবনু মাজাহ
[৯]: সুনান আন-নাসায়ী ৫৩৪৭ (সহিহ)
[১০]: সহিহ বুখারী ৩২৩৮, সুরা মুদ্দাসসির (১-৫)
[১১]: সুনান আন-নাসায়ী খন্ড ১/কিতাব ১/ হাদীস ২৬২

লিখেছেন: ভাই মুহাম্মাদ আনওয়ার শাহ

জ্বিন জাতি সম্পর্কে কিছু কথা..............পর্ব ০২.কুরআন অনুসারে জ্বীন জাতি মানুষের ন্যায় আল্লাহ সৃষ্ট অপর আরেকটি জাতি, ...
09/05/2022

জ্বিন জাতি সম্পর্কে কিছু কথা..............পর্ব ০২.

কুরআন অনুসারে জ্বীন জাতি মানুষের ন্যায় আল্লাহ সৃষ্ট অপর আরেকটি জাতি, যারা পৃথিবীতে মানব আগমনের পূর্ব থেকেই ছিল এবং এখনো তাদের অস্তিত্ব রয়েছে। সাধারণত মানুষের চোখে তারা দৃষ্টিগ্রাহ্য নয়। কিন্তু, জ্বীনরা মানুষদেরকে দেখতে পায়।

ইসলামী বিশ্বাস অনুসারে, মুহাম্মদ জ্বীন ও মানব উভয়জাতির নবী হিসেবে প্রেরিত হয়েছেন। সুলায়মান আঃ এর সেনাদলে জ্বীনদের অংশগ্রহণ ছিল বলে কুরআনে উল্লেখ আছে। আরো বলা হয় "ইবলিশ" তথা শয়তান প্রকৃতপক্ষে জ্বীন জাতির একজন ছিল।

বাসস্থানঃ
মানুষের বসবাসের স্থানে সাধারণত জ্বীন থাকে না। তারা মানুষের পরিত্যক্ত স্থানে থাকতে পছন্দ করে। তাদের অধিকাংশই মানুষের কাছ থেকে দুরে নির্জন এলাকায় বসবাস করে। তবে কিছু প্রজাতির জ্বীন মানুষের সাথে লোকালয়ে থাকে, যেমনঃ ক্বারীন জ্বীন। এক হাদিস থেকে জানা যায়, জ্বীনেরা নোংরা ও গন্ধময় জায়গায় থাকতে পছন্দ করে, যেখানে মানুষরা ময়লা এবং খাবারের উচ্ছিষ্ট অংশ ফেলে রাখে। পায়খানা এবং প্রস্রাব করার জায়গাগুলোতে জ্বীনদের অবাধ বিচরণ। জায়েদ বিন আরকাম বর্ণিত হাদীস থেকে জানা যায়, রাসুল(সঃ) বলেছেন-

“এই জায়গাগুলোতে (পায়খানা এবং প্রস্রাব করার জায়গা) জ্বীন এবং শয়তানরা অবাধে বিচরণ করে। তোমাদের মধ্যে যেই এই স্থানগুলোতে যাবে, সে যেন বলে- ‘আমি আল্লাহর কাছে পুরুষ এবং মহিলা শয়তানের থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি’।” (আহমেদ ইবনে হাম্বল, ‘পবিত্রতা’ খন্ড, ৪/৩৬৯)
জ্বীন জাতির শ্রেণীবিন্যাস ও অবস্থান সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর এ হাদিসের বিবরণ অকাট্য প্রামাণিক দলিল, এর ব্যাখ্যার প্রয়োজন করেনা। তবুও পরবর্তীকালে যুগে যুগে জ্বীন জাতিকে নিয়ে মুসলিম গবেষক ও ঐতিহাসিকগণ ব্যাপক আলোচনা পর্যালোচনা অব্যাহত রেখেছেন এবং এতদসংক্রান্ত আরবিসহ বিভিন্ন ভাষায় বহু কিতাবাদি রচনা করেছেন।

তাতে জানা যায় যে, নানা স্থানে জ্বীন জাতির কিছু আস্তানা বা ঘাঁটি রয়েছে এবং মুসলমানদের শিক্ষা-দীক্ষার জন্য মাদরাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পর্যন্ত রয়েছে। বর্ণিত হাদিসের আলোকে ওদের অবস্থান ও বিচরণ ক্ষেত্রগুলোর নামও উল্লেখিত হয়েছে। ওই স্থানসমূহের একটি তালিকাও রয়েছে। ওসব স্থানে মানুষকে সাবধান ও সতর্কতার সাথে চলাচল করতে বলা হয়েছে অথবা চলাচল হতে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

সেসব স্থানের তালিকা নিম্নরূপ : ১. বায়তুল খালা ২. পশুঘর ৩. নোংরা নালা, জলাশয় ৪. প্রাক্তন বৃক্ষ ৫. বৃহৎ ছায়াযুক্ত বৃক্ষ ৬. বড় গাছ (এক প্রকারের বৃক্ষ যাতে লাল বর্ণের দড়ির ন্যায় অতি সরু মূল বের হয়, পাঞ্জাবে একে বলা হয় জামন বৃক্ষ) ৮. আনার বৃক্ষ ৯. ধ্বংসস্ত‚প ও বিরানভ‚মি ১০. নদী-নালা ১১. শ্বশান ও বিরান এলাকা ১২. গহীন বন জঙ্গল ১৩. সামুদ্রিক দ্বীপ ১৪. পর্বত ১৫. দুই পর্বতের মধ্যবর্তী উপত্যকা ১৬. অনাবাদী গৃহ ১৭. যেসব গৃহ প্রায় বন্ধ থাকে ১৮. বিভিন্ন স্থলজ সৃষ্টি যেমন সাপ-ইদুর প্রভৃতির গর্তে ১৯. কাফেরদের পূজার স্থানসমূহ (মন্দির, গির্জা প্রভৃতি) ২০. আবাদি ভ‚মির মধ্যবর্তী খালি স্থানসমূহ ২১. পানি বা জলাশয় ২২. গন্ধ নোংরা পানির ঝিল ২৩. ভ‚মির নিম্নাঞ্চল এবং ২৪. গ্রামীণ এলাকায় এসব স্থান ছাড়াও এমন বহু স্থান আছে, যেখানে এ অদৃশ্য অপশক্তির বিচরণ লক্ষ্য করা যায়।

খাদ্যঃ
মানুষসহ অন্য প্রাণীরা যেমন খাওয়াদাওয়া করে, তদ্রূপ জিনরাও খাওয়াদাওয়াসহ অন্য প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণ করে থাকে। আল্লাহর নামে জবাইকৃত পশুর হাড়-হাড্ডিই হলো জিনের খাবার। একদা জিনের একটি দল নবীজি (সা.)-কে তাদের এলাকায় নিয়ে গেল। সেখানে নবীজি তাদের কোরআন তিলাওয়াত করে শোনালেন। অতঃপর তারা জিজ্ঞেস করল, আমাদের হালাল খাবার কী? নবীজি (সা.) বলেন, ‘প্রত্যেক ওই পশুর হাড়, যা আল্লাহর নামে জবাই করা হয় (সেগুলোই জিনদের খাবার)।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৩২৫৮)

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত আছে, রাসুল(সঃ) বলেছেন-

“জ্বীনদের একজন আমাকে একদিন ডাকলে আমি তাঁর সাথে যাই। সেখানে আরো জ্বীন ছিল এবং আমি তাদের জন্য পবিত্র কুরআন পাঠ করি। তারা তাদের খাবারের বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে আমি বলি- আল্লাহর নাম পড়ে খাওয়া হয়েছে এমন যে কোন হাড় তোমাদের সামনে এলে তা মাংসে পরিনত হয়ে যাবে। একইভাবে গোবর তোমাদের পশুদের খাবার হয়ে যাবে। তাই, ভারমুক্ত (টয়লেট করার পরে) হওয়ার পরে তোমাদের কেউ যাতে এই বস্তুগুলোকে (শুকনো হাড়, গোবর) দিয়ে নিজেকে পরিষ্কার না করে। কারণ তা হলো তোমাদের ভাইদের খাবার। (মুসলিম, ৪৫০)

ধর্মঃ

জ্বীনরা মানুষের মত মুসলিম ও অমুসলিম জাতিতে বিভক্ত।

জ্বীন ও অন্যান্য প্রাণীর মধ্যে সম্পর্কঃ

মানুষ ছাড়াও অন্যান্য কিছু প্রাণী জ্বীনের উপস্থিতি সম্পর্কে জানতে পারে। হাদীসে বলা হয়েছে, আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত আছে, রাসুল(সঃ) বলেছেন-

“যখন তোমরা গাধার চিত্কার শুনতে পাও, তখন আল্লাহর কাছে শয়তানের থেকে আশ্রয় প্রার্থনা কর. কারণ শয়তানকে দেখতে পাবার কারণেই তারা চিত্কার করে।” (বুখারী, ৬/৩৫০. মুসলিম ১৭/৪৭)

জ্বীনদের চলাচলের সময়ঃ

জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত আছে, রাসুল(সঃ) বলেছেন-

“যখন রাত নামে (সন্ধ্যার শুরুতে) তোমাদের সন্তানদের ঘরের বাইরে যেতে বারণ কর। কারণ শয়তান এই সময়ে বের হয়। এক ঘণ্টা পার হলে সন্তানদের যেতে দিও এবং আল্লাহর নাম নিয়ে ঘরের দরজাগুলো বন্ধ কর। কারণ শয়তান বন্ধ দরজা খুলতে পারে না। তারপর আল্লাহর নাম নিয়ে পানির পাত্রের মুখ বন্ধ কর। এরপরে আল্লাহর নাম নিয়ে খাবারের পাত্রগুলো ঢেকে রাখো। যদি ঢেকে রাখার কিছু না পাওয়া যায়, তবে অন্তত অন্য কিছু উপরে দিয়ে রাখো (কাঠ/বই ইত্যাদি)। এবং রাতে শোবার সময়ে কুপি বাতি নিভিয়ে শুতে যেও।” (বুখারী, ১০/৮৮. মুসলিম ১৩/১৮৫)

বিয়েশাদি এবং সন্তান প্রজননঃ

জিন জাতি বিবাহ করে এবং তাদের স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে। তবে তারা কিভাবে বিবাহ করে ও সন্তান-সন্ততি হয় তা অজ্ঞাত। আল্লাহ বলেন, ‘তবে কি তোমরা আমার পরিবর্তে তাকে (শয়তান) ও তার বংশধরগণকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করেছ? অথচ তারা তোমাদের শত্রু (কাহফ ১৬/৫০)। অত্র আয়াতে স্পষ্টভাবে জিনদের সন্তানের কথা বলা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, সেখানে রয়েছে আনতনয়না রমণীগণ, যাদেরকে তাদের পূর্বে কোন মানুষ বা জিন স্পর্শ করেনি’ (আর-রহমান ৫৫/৫৬)। ইবনু হাজার হায়তামী বলেন, এ আয়াত দ্বারা বুঝা যায় যে, জিনদের স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি রয়েছে (আল-ফাতাওয়াল হাদীছিইয়াহ ৬৬ পৃ:)। ইবনু কাছীর (রহঃ) বলেন, অত্র আয়াতে দলীল রয়েছে যে, ঈমানদার জিনেরা জান্নাতে প্রবেশ করবে। যামরাহ বিন হাবীবকে জিজ্ঞেস করা হ’ল, জিন কি জান্নাতে প্রবেশ করবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। সেখানে তারা নারী জিনকে বিবাহ করবে। যেমন ঈমানদার পুরুষেরা তাদের নারীদের বিবাহ করবে’ (ইবনু কাছীর)।.................চলবে

জ্বিন জাতি সম্পর্কে কিছু কথা...............।। জ্বিন জাতির পরিচয় জ্বিন আল্লাহ তাআলার একটি সৃষ্টি। যেমন তিনি ফেরেশ্‌তা, ম...
10/10/2021

জ্বিন জাতি সম্পর্কে কিছু কথা...............।।
জ্বিন জাতির পরিচয়

জ্বিন আল্লাহ তাআলার একটি সৃষ্টি। যেমন তিনি ফেরেশ্‌তা, মানুষ সৃষ্টি করেছেন তেমনি সৃষ্টি করেছেন জ্বিন । তাদের বিবেক, বুদ্ধি, অনুভূতি শক্তি রয়েছে। তাদের আছে ভাল ও মন্দের মধ্যে পার্থক্য করার ক্ষমতা। তাদের মধ্যে আছে ভাল ও মন্দ জ্বিন। আল কুরআনে জ্বিনদের বক্তব্য উল্লেখ করে বলা হয়েছে:

আর নিশ্চয় আমাদের কতিপয় সৎকর্মশীল এবং কতিপয় এর ব্যতিক্রম। আমরা ছিলাম বিভিন্ন মত ও পথে বিভক্ত। (সূরা আল জিন : ১১)

এ গোষ্ঠির নাম জ্বিন রাখা হয়েছে, কারণ জ্বিন শব্দের অর্থ গোপন। আরবী জ্বিন শব্দ থেকে ইজতিনান এর অর্থ হল ইসতেতার বা গোপন হওয়া। যেমন আল কুরআনে আল্লাহ বলেছেন :

فَلَمَّا جَنَّ عَلَيْهِ اللَّيْلُ

অতঃপর যখন রাত তার উপর আচ্ছন্ন হল … (সূরা আল আনআম : ৭৬)

এখানে জান্না অর্থ হল, আচ্ছন হওয়া, ঢেকে যাওয়া, গোপন হওয়া।

তারা মানুষের দৃষ্টি থেকে গোপন থাকে বলেই তাদের নাম রাখা হয়েছে জ্বিন । যেমন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন:

নিশ্চয় সে ও তার দলবল তোমাদেরকে দেখে যেখানে তোমরা তাদেরকে দেখ না। (সূরা আল আরাফ : ২৭)

জ্বিনদের সৃষ্টি করা হয়েছে আগুন দিয়ে। মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ বলেন:

আর ইতঃপূর্বে জ্বিনকে সৃষ্টি করেছি উত্তপ্ত অগ্নিশিখা থেকে। (সূরা আল হিজর : ২৭)

এ আয়াত দ্বারা আমরা আরো জানতে পারলাম যে, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মানুষ সৃষ্টি করার পূর্বে জ্বিন সৃষ্টি করেছেন। ইরশাদ হয়েছে:

আর অবশ্যই আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি শুকনো ঠনঠনে, কালচে কাদামাটি থেকে। আর এর পূর্বে জ্বিনকে সৃষ্টি করেছি উত্তপ্ত অগ্নিশিখা থেকে। (সূরা আল হিজর : ২৬-২৭)

আল্লাহ তাআলা যে উদ্দেশ্যে মানুষ সৃষ্টি করেছেন সে-ই উদ্দেশ্যেই জ্বিনকে সৃষ্টি করেছিলেন। তিনি বলেন:

আর জ্বিন ও মানুষকে কেবল এজন্যই সৃষ্টি করেছি যে, তারা আমার ইবাদাত করবে। (সূরা আয যারিয়াত : ৫৬)

জ্বিনদের কাছেও তিনি নবী ও রাসূল প্রেরণ করেছিলেন। তিনি বলেন:

হে জ্বিন ও মানুষের দল, তোমাদের মধ্য থেকে কি তোমাদের নিকট রাসূলগণ আসেনি, যারা তোমাদের নিকট আমার আয়াতসমূহ বর্ণনা করত এবং তোমাদের এই দিনের সাক্ষাতের ব্যাপারে তোমাদেরকে সতর্ক করত? তারা বলবে, আমরা আমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলাম। আর দুনিয়ার জীবন তাদেরকে প্রতারিত করেছে এবং তারা নিজেদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে যে, তারা ছিল কাফির। (সূরা আল আনআম : ১৩০)

এ আয়াত দ্বারা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়, বিচার দিবসে মানুষের যেমন বিচার হবে তেমনি জ্বিন জাতিকেও বিচার ও জবাবদিহিতার সম্মুখীন হতে হবে।

তারা বিবিধ রূপ ধারণ করতে পারে বলে হাদীসে এসেছে। এমনিভাবে দ্রুত এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে পারে বলে আল কুরআনের সূরা আন নামলে উল্লেখ করা হয়েছে।

আসমানী কিতাবে যারা বিশ্বাসী-ইহুদী, খৃষ্টান ও মুসলমান- তারা সকলে জ্বিনর অস্তিত্বে বিশ্বাস করে। তারা কেউ জ্বিনর অস্তিত্ব অস্বীকার করে না। পৌত্তলিক, কতিপয় দার্শনিক, বস্তুবাদী গবেষকরা জ্বিনর অস্তিত্ব সরাসরি অস্বীকার করে না। দার্শনিকদের একটি দল বলে থাকে, ফেরেশ্‌তা ও জ্বিন রূপক অর্থে ব্যবহার করা হয়। সুন্দর চরিত্রকে ফেরেশ্‌তা আর খারাপ চরিত্রকে জ্বিন বা শয়তান শব্দ দিয়ে বুঝানো হয়। অবশ্য তাদের এ বক্তব্য কুরআন ও সুন্নাহর সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

জ্বিনের প্রকারভেদ

লিঙ্গ অনুযায়ী

জ্বীন জাতি মানুষের মত পুরুষ ও স্ত্রী জাতিতে বিভক্ত।

আমি আল্লাহর নিকট অপবিত্র পুরুষ ও নারী জ্বিন থেকে আশ্রয় চাই।

খারী ১/৪৫, নং ১৪২; মুসলিম ১/২৮৩, নং ৩৭৫। শুরুতে অতিরিক্ত ‘বিসমিল্লাহ্‌’ উদ্ধৃত করেছেন সা‘ঈদ ইবন মানসূর। দেখুন, ফাতহুল বারী, ১/২৪৪।

“যে এই আয়াত (আয়াতুল কুরসী) পড়বে, আল্লাহ তা’আলা তার জন্য একজন প্রহরী নিযুক্ত করে দিবেন এবং কোন পুরুষ এবং নারী জ্বীন-শয়তান তার কাছে আসতে পারবে না।” (সহিহ বুখারী, ৫০১০)

গঠন অনুযায়ী

গঠন অনুযায়ী জ্বীন তিন ধরনের হয়ে থাকে। এক হাদীসে বলা হয়েছে, রাসুল(সঃ) বলেছেন-

জ্বিন তিন প্রকার। এক. যারা শূন্যে উড়ে বেড়ায়। দুই. কিছু সাপ ও কুকুর। তিন. মানুষের কাছে আসে ও চলে যায়।

নাম ও কাজ অনুযায়ী
ইবলিস: এই জ্বীন আদম আঃ কে সিজদা করতে অস্বীকার করেছিল বলে কুরআনে বর্ণিত হয়েছে। মুসলিমরা বিশ্বাস করে, এই জ্বীন জান্নাতে থাকাকালে আদম আঃ কে আল্লাহর আদেশ অমান্য করতে প্ররোচিত করেছিল এবং পৃথিবীতেও সে মানুষদেরকে পথভ্রষ্ট করে।

খানজাব: এই জ্বীন সালাতরত মানুষের মনে নানারকম চিন্তা ঢুকিয়ে নামাজ থেকে অমনোযোগী ও উদাসীন করে তুলে।

ওলহান: এরা হচ্ছে একপ্রকার শয়তান জ্বীন যারা মানুষকে সালাতের সময় ওয়াসওয়াসা দেয়।

ক্বারীন: ক্বারিন অর্থ হচ্ছে সংগী, প্রত্যেক মানুষের সাথেই শয়তান জ্বীন লেগে থাকে, সংগী হিসেবে। এরা সবসময় বান্দার অন্তরে খারাপ চিন্তা ঢুকিয়ে দিয়ে পাপ কাজ করতে উৎসাহিত করে।
ইফ্রিত: এই জ্বীন অত্যান্ত শক্তিশালী এবং বদ মেজাজের হয়ে থাকে। আমাদের সমাজে যাদের আমরা ভূত বলে মনে করি এরাই সেই ইফ্রিত জ্বিন ।

একজন মুসলিমকে অবশ্যই জ্বিনর অস্তিত্ব স্বীকার করতে হবে। যদি সে জ্বিনর অস্তিত্ব অস্বীকার করে, তাহলে সে মুমিন থাকবে না। জ্বিনর অস্তিত্ব স্বীকার ঈমান বিল গাইব বা অদৃশ্যের প্রতি ঈমান আনার অন্তর্ভূক্ত। জ্বিনজাতির সৃষ্টি, সৃষ্টির উদ্দেশ্য, তাদের ইসলাম গ্রহণ, মানুষের পূর্বে তাদের সৃষ্টি করা, সূরা আর রাহমানে জ্বিন ও মানুষকে এক সাথে সম্বোধন, নবী সুলাইমান আলাহিসসালাম এর আমলে জ্বিনদের কাজ-কর্ম করা, তাদের মধ্যে রাজমিস্ত্রী ও ডুবুরী থাকার কথা, তাদের রোজ হাশরে বিচার শাস্তি ও পুরস্কারের সম্মুখীন হওয়া ইত্যাদি বহু তথ্য আল কুরআনে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন উল্লেখ করেছেন। তাদের সম্পর্কে বলতে যেয়ে সূরা আল- জ্বিন নামে একটি পূর্ণাঙ্গ সূরা নাযিল করেছেন। তাই কোন মুসলমান জ্বিনর অস্তিত্বকে অস্বীকার করে আল্লাহর কালামকে অস্বীকার করার মত কাজ করতে পারে না। তেমনি জ্বিনকে রূপক অর্থে ব্যবহার করার কথাও ভাবতে পারে না। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আকীদা এটাই। বিভ্রান্ত ও বিলুপ্ত মুতাযিলা ও জাহমিয়্যা সমপ্রদায় জ্বিনের অস্তিত্ব স্বীকার করে না।

চলবে...............।।

20/02/2021

বাংলাদেশের রহস্যঘেরা ১০ টি স্থান...............।।

আমাদের মাঝে হঠাৎ কোন অস্বাভাবিক বা অলৌকিক ঘটনার অবতারনা হলে এলাকার মুরব্বীরা বিজ্ঞের মত মাথা নাড়িয়ে বলে সবই  আল্লাহর ইচ্...
20/02/2021

আমাদের মাঝে হঠাৎ কোন অস্বাভাবিক বা অলৌকিক
ঘটনার অবতারনা হলে এলাকার মুরব্বীরা বিজ্ঞের মত মাথা নাড়িয়ে বলে সবই আল্লাহর ইচ্ছা আবার অনেকে বলে জ্বীন ভূতের কারবার। শিক্ষিত সমাজ বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের মধ্যে সমাধান খোজেন, ব্যর্থ হলে রহস্য বা গুজব বলে উড়িয়ে দেন। সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে এই বিশ্বঅস্তিতের আদি অন্তের কোন কিছুই সংগঠিত হয় নাহ এটি মেনে নিলেও সকল অস্বাভাবিক ঘটনাক্রমের পিছনে যে জ্বীন ভুতের হাত রয়েছে বা সকল ঘটনার সত্যতা যাচাইর একমাত্র কষ্ঠিপাথর যে বিজ্ঞান এটা মেনে নেওয়া কোন বুদ্ধীমানের কাজ নয়।

বিজ্ঞান হলো কোন বিষয়ে গবেষনালব্ধ জ্ঞান। আমরা এটা প্রায় সকলেই জানি যে, এই মহাবিশ্বের সবকিছুর ব্যাখ্যা বিজ্ঞান এখনো
দিতে পারেনি এমনকি মানব মনকেও এখনো পর্যন্ত নির্দিষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করতে পারেনি। তাহলে কি এতে এটি প্রমানীত হয় যে মানুষের মন বলে কিছু নাই।

আপনার বাড়ীর পাশে কেউ একজন এতদিন যাবৎ স্বাভাবিকতার সাথে দিন অতিবাহিত করছিল একদিন হঠাৎ তার ভিতর অনেক অস্বাভাবিকতা দেখা যায়, যেমন একা একা কথা বলা, কাউকে চিনতে না পারা, গালিগালাজ করা ইত্যাদি। এগুলা দেখে আমাদের সমাজে অনেক মানুষই বলবে তার উপর জ্বীনের আছর হয়েছে। আসলেই কি তাই না মানুষটি মানসিক রোগে আক্রান্ত?

এখন উপরোল্লেখিত ব্যাক্তিটিকে যদি একজন কবিরাজের কাছে নিয়ে যাওয়া হয় তাহলে রোগীর কোন উপকার হোক বা না হোক কবিরাজ সাহেবের পোয়াবারো কারন বর্তমান সময়ে অধিকাংশ কবিরাজই ভন্ড। তাদের কাছে সব রোগীই হয় জ্বীনে ধরা না হয় জাদুগ্রস্ত। তারা চিকিৎসার নাম করে রোগীর পরিজনদের কাছ থেকে বড় অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।

আবার যদি একজন মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের
কাছে নেওয়া হয় তাহলে ডাক্তার সাহেব তার জ্ঞান অনুযাই চিকিৎসা সেবা প্রদান করবেন এবং রোগী যদি মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন তবে আশা করা যায় আরোগ্য লাভ করবে।
কিন্তু এখন প্রশ্ন হলো আপনি কিভাবে বুঝবেন যে রোগীর মানসিক সমস্যা নাকি সত্যিই কোন জ্বীন বা জাদু দ্বারা আক্রান্ত।
আপনাদের সমস্যা সমাধানের লক্ষে বাংলাদেশে এই প্রথম আমাদের প্যারানরমাল ইনভেস্টিগেটিং সেন্টার “পিস এণ্ড প্রিভেনশন” তাদের কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে।
আমাদের এখানে অস্বাভাবিক আচরনরত ব্যাক্তিকে দক্ষতার সাথে পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে সে আসলেই জ্বীন কিংবা জাদু দ্বারা আক্রান্ত নাকি মানসিকভাবে অসুস্থ।
যদি মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে থাকেন তবে তাকে মানসিক রোগের
চিকিৎসকের নিকট প্রেরন করা হয় আর যদি তিনি জ্বীন অথবা জাদু দ্বারা আক্রান্ত হন তবে আমাদের প্রতিষ্ঠানেই কোরাআন ও সুন্নাহর আলোকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়।

এই পোষ্টটি শুধুমাত্র তাদের জন্য যারা জ্বীন অথবা জাদুতে বিশ্বাস
রাখেন কিন্তু বুঝে উঠতে পারছেন না তাদের বাসাতে অসুস্থ আপন মানুষটি কোন অতিপ্রাকৃতিক শক্তির প্রভাবে আক্রান্ত নাকি মানসিক ব্যাধিগ্রস্ত।

আর যারা এসবে বিশ্বাস রাখেন নাহ তাদের জন্যেও আগামীতে আরো অনেক পোষ্ট দেওয়া হবে। ধন্যবাদ।

বি দ্রঃ কোন বাড়িতে যদি কোন অপশক্তির প্রভাব আছে বলে মনে করেন তবে আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।আমরা কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করে থাকি।

Peace and PreventionParanormal Investigating and Mysteries Research Centerজ্বীন ও জাদুগ্রস্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদান...
14/02/2021

Peace and Prevention
Paranormal Investigating and Mysteries Research Center

জ্বীন ও জাদুগ্রস্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়।

Contact +8801855-799134

Self service health station · Dargah Para1st Lane

Address

Dargah Para1st Lane
Khulna
9201

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Peace and Prevention posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share