19/05/2022
ত্রিফলা
আয়ুর্বেদে ত্রিফলা উল্লেখযোগ্য তার রাসায়নিক গুণাবলীর জন্য যার অর্থ এটি আমাদের শরীরস্বাস্থ্য ও জীবনীশক্তি বজায় রাখতে এবং রোগ থেকে আমাদের দূরে রাখতে সাহায্য করে। আমাদের অতি পরিচিত বিস্ময়কর ঔষধি গুণসম্পন্ন এটি। আসলে ত্রিফলা এত এত গুনসম্পন্ন যা বলে শেষ করা যাবেনা।
ত্রিফলার কিছু উপকারিতা
⏺️ক্যান্সারঃ
ত্রিফলায় থাকা গ্যালিক অ্যাসিড ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করে। নিয়মিত খালি পেটে এই মিশ্রণটি সেবন করলে শরীরের ভেতরে এমন কিছু পরিবর্তন হতে শুরু করে যার ফলে ক্যান্সার সেল জন্ম নেওয়ার সুযোগই পায় না। আর একবার যদি জন্ম নিয়েও ফেলে তাহলে তার বৃদ্ধি আটকে যায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই এই মরণ রোগ ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারে না। এছাড়া কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধেও ত্রিফলা বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
⏺️ডায়াবেটিসঃ
ত্রিফলায় থাকা আমলকীর মধ্যে যে ক্রোমিয়াম থাকে, তা অগ্ন্যাশয়ের জন্য খুবই উপকারী। ফলে ইনসুলিন এবং শর্করার মাত্রাও সঠিক পরিমাণে বজায় থাকে। যা ব্লাড সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে রেখে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।
⏺️গ্যাস্ট্রিক সমস্যার সমাধানঃ
ত্রিফলা গ্যাস্ট্রিক সমস্যার সমাধানে খুবই কার্যকর। ত্রিফলায় থাকা আমলকি হজমে সাহায্য করে ও স্টমাক অ্যাসিগে ব্যালেন্স বজায় রাখে। গবেষণায় দেখা গেছে, ত্রিফলা গ্যাস্ট্রিক ও আলসার হওয়ার প্রবণতা অনেক কমিয়ে দেয়।
⏺️যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধি করেঃ
প্রজননতন্ত্রের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধিতে ত্রিফলা খুবই উপকারী। এটি প্রজনন অঙ্গগুলোর pH লেভেল নিয়ন্ত্রণ করে, প্রজনন অঙ্গকে শক্তিশালী করে। তাই প্রজননতন্ত্রের সমস্যায় ত্রিফলার ব্যবহার খুবই ফলপ্রসূ।
⏺️প্রেশার নিয়ন্ত্রণ করেঃ
দেশে ১০-২০ শতাংশ মানুষ উচ্চ রক্তচাপে ভুগছে। এ রোগের কারনে মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ, হার্ট আ্যাটাক, কিডনি বিকল ও চোখের রেটিনা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ত্রিফলার লাইনোলিক অ্যাসিড শরীরে প্রবেশ করা মাত্র সহজেই রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে পারে।
⏺️কিডনি সবল রাখেঃ
ত্রিফলা আমাদের রেচনতন্ত্রের (কিডনি) কার্যাবলিতে সহায়তা করে। ফলে অন্ত্র পরিমাণমতো পানির সরবরাহ পায়, ত্রিফলা মূত্র সংবহনতন্ত্রের কর্মক্ষমতা বাড়ায়। অন্ত্র, মূত্র সংবহনতন্ত্র ও রেচন তন্ত্রের ভারসাম্যপূর্ণ স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য দেহ শীতল থাকে এবং উচ্চ তাপমাত্রায় হিট স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি কমে।
⏺️কোষ্ঠকাঠিন্য ও পাইলস সমস্যা সমাধান করেঃ
নিয়মিত সেবনে ত্রিফলা কোষ্টকাঠিন্য দূর করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে সৃষ্ট রোগ পাইলস বা ফিস্টুলার ঝুঁকি কমায়। শুধু তাই নয়, কোলোনকে পরিশুদ্ধ করার মধ্যে দিয়ে আরও নানা ধরনের রোগের আশঙ্কা কমাতেও ত্রিফলার বিকল্প হয় না বললেই চলে।
⏺️ওজন কমাতে সাহায্য করেঃ
অতিরিক্ত ওজনের কারণে যদি চিন্তায় থাকেন, তাহলে ডায়েট কন্ট্রোলের পাশাপাশি আপনার প্রথম পছন্দ হওয়া উচিত ত্রিফলা চূর্ণ। কারণ নিয়মিত এই প্রাকৃতিক উপাদানটি গ্রহণ করলে বাওয়েল মুভমেন্টের উন্নতি ঘটে। সেই সঙ্গে হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটার কারণে শরীরে মেদ জমার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ওজন কমতে শুরু করে।
⏺️খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়ঃ
হার্টের ভিতরে যাতে কোন ভাবেই প্রদাহ সৃষ্টি না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই যেকোন ধরণের করনারি আর্টারি ডিজিজে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বহুলাংশে হ্রাস পায়।
⏺️শ্বাসকষ্ট দূর করেঃ
ত্রিফলা আমাদের শ্বাসনালী থেকে শ্লেষ্মা নিঃসরণ করে এবং আমাদের শ্বাসনালীর কর্মক্ষমতা স্বাভাবিক রাখে। এটি দেহে ও শ্বাসনালীতে অ্যালার্জির প্রকোপ কমায়, ফলে অ্যাজমা রোগে খুবই উপকারী ভূমিকা পালন করে। এটি আমাদের সাইনাস থেকে শ্লেষ্মা বের করে দেয় ফলে সাইনোসাইটিসজনিত মাথাব্যথা প্রতিহত করে।
⏺️দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখেঃ
আমলকির রস দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়াও চোখের বিভিন্ন সমস্যা যেমন চোখের প্রদাহ, চোখ চুলকানি বা পানি পড়ার সমস্যা থেকে রেহাই দেয়। আমলকি চোখ ভাল রাখার জন্য উপকারী। এতে রয়েছে ফাইটো-কেমিক্যাল যা চোখের সঙ্গে জড়িত ডিজেনারেশন প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।
⏺️বয়সের ছাপ প্রতিরোধ করেঃ
ত্রিফলা সমগ্র শরীরে রক্ত সরবরাহ বৃদ্ধির মাধ্যমে সারাদেহে পুষ্টি যোগায়। ত্রিফলায় থাকা এন্টি অক্সিডেন্ট, বুড়িয়ে যাওয়া ও সেল ডিজেনারেশনের অন্যতম কারন ফ্রি- র্যাডিক্যালস ধ্বংশ করে, মৃত কোষ কমায়। ত্রিফলার নিয়মিত ব্যবহার ত্বকের বলিরেখা,বাধ্যর্কের ছাপ, মলিনতা দূর করে চেহারায় লাবণ্য ধরে রেখে আপনাকে করে তোলে আকর্ষণীয় ও তারুণ্যদীপ্ত।
⏺️চুলের উজ্জ্বলতা বাড়ায়ঃ
নিয়মিত ত্রিফলা সেবনে দেহ বিষমুক্ত হয়, হালকা ও প্রাণবন্ত হয়। ত্রিফলায় থাকা ভিটামিন সি চুলের গোড়ায় পুষ্টি জোগায়। চুলের অকাল পক্কতা দূর করে। ত্রিফলার পেস্ট বানিয়ে হেয়ার প্যাক হিসেবেও নিয়মিত ব্যবহার করতে পারেন।
⏺️ক্ষত সারতে কার্যকরঃ
অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটারি এবং অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদানে ঠাসা হওয়ার কারণে এই মিশ্রনটি খাওয়া শুরু করলে শরীরের এমন কিছু পরিবর্তন হতে শুরু করে যে ক্ষত সারতে সময় লাগে না। এই কারণেই তো ছোট বাচ্চাদেরও নিয়মিত এই আয়ুর্বেদিক মিশ্রনটি খাওয়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।
ত্রিফলা সেবনের মাত্রা ত্রিফলা পণ্যটির কার্যকারিতা অনুযায়ী এবং চেহারার ধরণ ও দেহতত্ত্ব অনুযায়ী পাল্টায়। সেই কারণে যদি আপনি এই আয়ুর্বেদিক চূর্ণটির বিশেষ আরোগ্যকারী কোনও সুবিধা পেতে চান, সেই ক্ষেত্রে জেনে নিন আপনার ক্ষেত্রে ত্রিফলার সঠিক পরিমাণ।