02/04/2026
ইদানিং কম বয়সী থেকে বেশি বয়সী নারী ও পুরুষ যে কারো যেকোনো সময় হার্টের রোগ দেখা দিচ্ছে। তাই হার্টের রোগে খাদ্যাভাস এবং প্রতিরোধ সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরি।
১| রাত তিনটা থেকে সকাল নয়টা--এই সময়টুকুতে হার্ট এটাক ও স্ট্রোক হবার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে।
২| বুকে তীব্র ব্যথা কিংবা এমন বুকে চাপ যেন বুকের ওপর একটা পাথর বসে আছে, ব্যথা/চাপ কিছুতেই কমে না, ব্যথা ছড়িয়ে যাচ্ছে চোয়ালে, গলায়, বাহুতে, পিঠে, পেটের উপরিভাগে সাথে প্রচণ্ড ঘাম দিচ্ছে শরীর, খুব বমি বমি ভাব কিংবা বমি হয়ে গেছে, শ্বাসকষ্ট হচ্ছে, আগে বুকে ব্যথা উঠলে বিশ্রাম নিলে বা জিহবার নিচে স্প্রে দিলে কমে যেতো আজ কিছুতেই কমছে না, মনে হচ্ছে মারাই যাবে। এগুলো সবই হার্ট এটাকের লক্ষণ।
৩| এমন লক্ষণ দেখা দিলে প্রথম কাজটিই হবে, সময়ক্ষেপণ না করে যতো দ্রুত সম্ভব হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে গিয়ে একটি ইসিজি করা এবং চিকিৎসক এর পরামর্শ নেয়া। হার্ট এটাক হবার পর যতো সময় যায়, ততো হার্টের মাংসপেশি নষ্ট হয়ে যেতে থাকে।
৪| প্রাইমারি পিসিআই বা থ্রম্বোলাইটিক বারো ঘন্টার বেশি সময় পেরিয়ে গেলে সাধারণভাবে দেওয়া যায় না।
সময়মতো আসতে পারলে ক্যাথ ল্যাবে রোগীকে নিয়ে ব্লক থাকলে তা খুলে দেওয়া/রিং স্থাপন করাও সম্ভব।
তাই যতো তাড়াতাড়ি চিকিৎসা শুরু করা যায়, ততোই সফলতার সম্ভাবনা বাড়ে এবং জটিলতা তৈরি হবার সম্ভাবনা কমে।
৫| হার্টের রোগ থেকে বাঁচতে ডায়াবেটিস, হাই প্রেশার, অতিরিক্ত কোলেস্টেরল এবং অতিরিক্ত ওজনের যথাযথ চিকিৎসা নিতে হবে।
৬| কম বয়সী এবং আপনার না আছে ডায়াবেটিস, না আছে হাই ব্লাড প্রেশার, না আছে রক্তে অত্যধিক কোলেস্টেরল, না অতিরিক্ত ওজন, না অপরিশ্রমী। তবুও হার্ট এটাক হতে পারে যার মূল কারণ ধূমপান। ধূমপান ছাড়ার কোনো বিকল্প নেই।ধূমপান ছাড়ার দুই বছরের মধ্যে হৃদরোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসে।
৭| হার্টের রোগীরা পরিমিত মাত্রায় কুসুমসহ ডিম খেতে পারবে। হার্টের রোগীরা অল্প পরিমানে গরু ও খাসির মাংস খেতে পারবে তবে ঝোল যতোটা সম্ভব কম খেতে হবে।যে বেলায় রেড মিট খাবে, সে বেলায় চিনি/মিষ্টিজাতীয় খাবার পরিহার করতে হবে। হার্টের রোগীদের জন্য যেসব খাবারে অতিরিক্ত লবণ থাকে যেমন : চিপস, ফাস্ট ফুড, কাঁচা লবণ, পাকা লবণ, ভাজা লবণ, টালা লবণ--সব লবণই ক্ষতিকর।রান্নায় কম লবণ ব্যবহার করতে হবে। পাতে আলাদা করে লবণ খাবার অভ্যেস পরিহার করতে হবে। চিনিকে বলা হয় হোয়াইট পয়জন। এটি খাওয়ার পরিমাব কমাতে হবে। অতিরিক্ত ভাত, রুটি, নুডলস, পাস্তা খাবার প্রবণতা কমাতে হবে।
৮| এক সপ্তাহে কমপক্ষে ১৫০ মিনিট হাঁটতে হবে। প্রতিদিন ৩০ মিনিট করে হাঁটলে সপ্তাহে ৫ দিন হাঁটতে হবে। ১ দিন পরপর হাঁটলে ৫০ মিনিট করে হাঁটতে হবে।একসাথে টানা দুদিন বা ৪৮ ঘণ্টা হাঁটা বন্ধ করে দেওয়া যাবে না। সকালে ঘুম থেকে উঠে শরীরকে এডজাস্ট হবার সময় না দিয়ে সাথেসাথেই হাঁটা শুরু করা যাবে না। এতে হার্ট এটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে। কেউ যদি ৩০ মিনিট হাঁটে, তাহলে প্রথম ৫-৭ মিনিট ওয়ার্ম আপ করে নেবে, তারপরের ১৫-২০ মিনিট জোরে জোরে হাঁটবে, আবার তারপরের ৫-৭ মিনিট ধীরে ধীরে গতি কমিয়ে নিয়ে আসবে। সকালের চেয়ে বিকেল/সন্ধ্যায় হাঁটাবেশি উপকারী।
#হার্টঅ্যাটাক #হার্টঅ্যাটাকেকরণীয় #বুকব্যথা #হঠাৎবুকব্যথা #শ্বাসকষ্ট #অতিরিক্তঘাম #বামহাতেব্যথা #হার্টেরসমস্যা #জরুরিচিকিৎসা #জরুরিসেবা #এমারজেন্সি #হাসপাতালে_নিন #দেরিকরবেননা #জীবনবাঁচান #হার্টস্বাস্থ্য #সচেতনতা #স্বাস্থ্যতথ্য #ডাক্তারবলছে