09/11/2025
শিশু ওয়ার্ডে পা ফেলার জায়গা নেই। প্রতি বিছানায় ২-৩-৪ টা করে রোগী। অধিকাংশই জ্বর, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়ার বাচ্চা। শীতের শুরুতেই সতর্কতা গ্রহণ করলে আর রেজিস্টার্ড ডাক্তারের পরামর্শ নিলে প্রতি শীতে এমন ভয়াবহ কষ্ট ভোগ করতে হতোনা বাচ্চাদের।
কিছু পরামর্শ লিখছি। মেনে চলুন। অনেকটা উপকার পাবেন ইনশাআল্লাহ।
১.শীতের শুরুতেই বাচ্চাদের পোশাক ঠিকমতো সাজিয়ে দিন। বুক-পিঠ-পা যেন ঢাকা থাকে। হালকা শীতেও বাচ্চার শরীর গরম রাখতে হবে।
২. ধুলাবালি, ধোঁয়া, আগুনের ধোঁয়া, ইটভাটা, গ্যারেজ, কন্সট্রাকশন এরিয়া থেকে বাচ্চাকে দূরে রাখুন।
৩. ঘরে সবার হাত ধোয়ার অভ্যাস তৈরি করুন। বাইরের জিনিসে বারবার হাত দিলে বা বাইরে থেকে আসলে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া জরুরি।
৪. পরিষ্কার পানি পান করানো, হাত ধোয়া এবং খাবার ঢেকে রাখার অভ্যাস ডায়রিয়া অনেক কমায়।
৫. অপ্রয়োজনে ঠান্ডা পানি, আইসক্রিম, ফ্রিজের পানি, টক-ঝাল-জাংক ফুড এবং রাস্তার খাবার যতটা সম্ভব কমিয়ে দিন।
৬. শীতের শুরুতেই ভিটামিন এ, জিঙ্ক সমৃদ্ধ খাবার, মৌসুমি ফল, ঘরে রান্না করা পুষ্টিকর খাবার বাড়িয়ে দিন। পেট ভালো থাকলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বেশি থাকে।
৭. রাতে ঘুমের সময় অতি ঠান্ডা রুমে ফ্যান/এসি চালিয়ে রাখবেন না। গরম-ঠান্ডা গরম-ঠান্ডা – এই ফ্লাকচুয়েশন নিউমোনিয়ার রিস্ক বাড়ায়।
৮. বাচ্চা দীর্ঘ সময় ভেজা থাকলে, ঘেমে গেলে বা ভেজা পোষাক পরে রাখলে দ্রুত চেঞ্জ করে দিন।
৯. ফ্লু ভ্যাক্সিন, নিউমোকক্কাল ভ্যাক্সিন, রোটাভাইরাস ভ্যাক্সিন সময়মত দেয়া থাকলে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার জটিলতা অনেকটা কমে।
এই কথাগুলো বারবার বলে আসছি। তবুও কেন জানি কেউ গায়ে লাগায় না। ফলাফল চোখের সামনে। যাহোক, সচেতনতার উদ্দেশ্যে যারা আমাকে ফলো করেন, লেখাটি শেয়ার করুন। নিজে মানার পাশাপাশি আশেপাশের মানুষজনকেও সচেতন করুন।
শিশু চিকিৎসক ডাঃ মোঃ মাহফুজার রহমান বাঁধন