10/10/2025
আজ বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস
২০২৫ সালের বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসের প্রতিপাদ্য হলো “Access to Services – Mental Health in Catastrophes and Emergencies” (দুর্যোগ ও জরুরি অবস্থায় মানসিক স্বাস্থ্য সেবার প্রবেশযোগ্যতা)
অর্থাৎ, যখন মানুষ যুদ্ধ, প্রাকৃতিক বিপর্যয়, মহামারি, শরণার্থী সংকট বা আগুন, বন্যা, ভূমিধ্বস ইত্যাদি জরুরি পরিস্থিতির মুখোমুখি হয় — তখন মানসিক স্বাস্থ্য সেবা সবাইকে পৌঁছানো জরুরি।
এই থিম আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে শুধু শারীরিক সেবা ও খাদ্য-পানিই যথেষ্ট নয়, মন ও মনের সুস্থতার জন্য সহায়তা ও মানসিক সেবা অত্যাবশ্যক — বিশেষ করে ক্রাইসিস বা বিপর্যয়ের সময়।
মানসিক স্বাস্থ্য ও পুষ্টির সম্পর্ক
শরীর সুস্থ রাখতে যেমন খাবারের দরকার, ঠিক তেমনই মনকে সুস্থ রাখতে দরকার সঠিক পুষ্টি ও ইতিবাচক মানসিক পরিবেশ।
মানসিক স্বাস্থ্য মানে শুধু দুশ্চিন্তা না থাকা নয় — বরং নিজের অনুভূতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারা, ইতিবাচকভাবে চিন্তা করা এবং জীবনের প্রতিটি পরিস্থিতিতে স্থির থাকা। আর এই মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখতে আমাদের খাবার একটি বড় ভূমিকা রাখে।
বিজ্ঞানীরা বলেন, আমাদের অন্ত্র (gut) কে বলা হয় “দ্বিতীয় মস্তিষ্ক” কারণ অন্ত্রে প্রায় ৯০% সেরোটোনিন তৈরি হয় — আনন্দ, শান্তি ও সুখের হরমোন।
হজম প্রক্রিয়া মস্তিষ্কের সাথে সংযুক্ত — যাকে বলা হয় gut–brain axis।
যখন আমরা মানসিকভাবে অস্থির থাকি, তখন শরীর থেকে স্ট্রেস হরমোন কর্টিসল বেড়ে যায়।
এর ফলে:
-- হজমে সমস্যা হয়,
-- ক্ষুধা নষ্ট হয়,
--ঘুমের সমস্যা হয়,
--গ্যাস্ট্রিক, কোষ্ঠকাঠিন্য বা পেট ব্যথা হতে পারে।
অন্যদিকে,দীর্ঘদিন মানসিক চাপ বা উদ্বেগ থাকলে তা থেকে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ,হৃদরোগ, আইবিএস, এমনকি ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে।
তাহলে করণীয় কী?
1. নিয়মিত সুষম খাবার খেতে হবে।
2. মানসিক চাপ কমাতে নামাজ, প্রার্থনা, বা ধ্যান করা যেতে পারে।
3. প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম করতে হবে।
4. পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম নিতে হবে।
5. মনের কষ্ট বা দুশ্চিন্তা নিজের মধ্যে না রেখে, বিশ্বস্ত কারো সাথে শেয়ার করতে হবে।
শরীর ও মনের সম্পর্ক একে অপরের সাথে বাঁধা।
সুস্থ মন ছাড়া সুস্থ শরীর হয় না — আর সঠিক খাবার ছাড়া সুস্থ মন হয় না।