Healing Quran রুকইয়াহ

Healing Quran রুকইয়াহ Faith • Cure • Protection

রুকইয়াহ
মোবাইলঃ 01616783326
ই মেইলঃ mm5687776@gmail
ঠিকানাঃ লাকসাম বাইপাস,হাউজিং মসজিদের পুর্ব উত্তর পার্শে। লাকসাম কুমিল্লা

আমাদের সেবাঃ
কুরআনের আয়াত এবং হাদীসে বর্ণিত দোয়ার মাদ্ধমেঃ

১।জিনের চিকিৎসা।
২।যাদুটোনার চিকিৎসা।
৩।বান মারা রুগির চিকিৎসা।
৪। শারীরিক জটিল রোগের চিকিৎসা।
৫। মানুষিক জটিল রোগের চিকিৎসা।

#রুকইয়াহ

এই লক্ষণগুলো থাকলে জ্বীন এর সমস্যার সম্ভাবনা থাকতে পারেইসলামের আলোকে জ্বীন মানুষের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। কোরআন ও সহীহ হ...
30/01/2026

এই লক্ষণগুলো থাকলে জ্বীন এর সমস্যার সম্ভাবনা থাকতে পারে
ইসলামের আলোকে জ্বীন মানুষের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। কোরআন ও সহীহ হাদীসে জ্বীন দ্বারা কষ্ট পাওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত। তবে মনে রাখতে হবে, সব সমস্যাই জ্বীন সংক্রান্ত নয়। আবার কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণ আছে যেগুলো বারবার একসাথে দেখা গেলে জ্বীন সমস্যার আশঙ্কা করা হয়।
কারণ ছাড়াই প্রচণ্ড ভয় অনুভব করা, বিশেষ করে রাতে
নামাজ পড়তে বা কোরআন শুনতে গেলে অস্বস্তি লাগা
হঠাৎ অতিরিক্ত রাগ, কান্না বা মন খারাপ হয়ে যাওয়া
ঘুমের মধ্যে ভয়ংকর স্বপ্ন দেখা বা চিৎকার করে ওঠা
একাকীত্ব পছন্দ করা এবং মানুষের কাছ থেকে দূরে থাকা
শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্যথা, কিন্তু মেডিকেল রিপোর্ট স্বাভাবিক
নামাজ, দোয়া বা যিকিরের সময় মাথা ভার লাগা বা বুক ধড়ফড় করা
কোরআনের আয়াত শুনলে অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হওয়া
আল্লাহ তাআলা কোরআনে বলেন,
আমি কোরআন নাযিল করেছি যা মুমিনদের জন্য শিফা ও রহমত
সূরা বনী ইসরাঈল
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেও রুকইয়াহ করেছেন এবং সাহাবাদের রুকইয়াহ করার অনুমতি দিয়েছেন। তিনি কোরআনের আয়াত ও সহীহ দোয়ার মাধ্যমে চিকিৎসা করতেন।
রুকইয়াহ হলো কোরআন ও সুন্নাহ ভিত্তিক চিকিৎসা পদ্ধতি। এতে কোন শিরক, তাবিজ বা অবৈধ কাজ নেই। আল্লাহর কালামের মাধ্যমেই শিফা আসে, রাক্বী শুধুমাত্র মাধ্যম।
যদি উপরোক্ত লক্ষণগুলো বেশি মনে হয়, তাহলে দেরি না করে অভিজ্ঞ রাক্বীর সাথে যোগাযোগ করা উচিত।
সমস্যা বেশি মনে হলে আমাদের অভিজ্ঞ রাক্বীর সাথে যোগাযোগ করুন।

সচেতনতার জন্য সদকায়ে জারিয়্যাহ এর নিয়তে শেয়ার করুন।
সরাসরি সিরিয়াল বুক করুন-
01616-783326
01577267460

28/01/2026

জ্বীন কেন মেয়েদের বেশি আক্রমণ করে
অনেকেই প্রশ্ন করেন, জ্বীনের আক্রমণ বা প্রভাব কেন মেয়েদের ক্ষেত্রে বেশি শোনা যায়। ইসলামের আলোকে বিষয়টি বুঝতে হলে আগে জানতে হবে, জ্বীন মানুষকে আক্রমণ করে আল্লাহর অনুমতিতে এবং মানুষের কিছু দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে। এখানে পুরুষ বা নারী হওয়াই মূল কারণ নয়, বরং কিছু বাস্তব বিষয় এর পেছনে কাজ করে।

প্রথমত, আবেগ ও মানসিক দুর্বলতা
সাধারণভাবে মেয়েরা আবেগপ্রবণ হয়। দুঃখ, ভয়, একাকীত্ব, কষ্ট এগুলো তারা গভীরভাবে অনুভব করে। অতিরিক্ত ভয়, হতাশা বা মানসিক চাপ জ্বীনের জন্য একটি সুযোগ তৈরি করে। হাদীসে এসেছে, শয়তান মানুষের দুর্বল জায়গা থেকেই ওয়াসওয়াসা দেয়।

দ্বিতীয়ত, পর্দা ও নিরাপত্তার অভাব
যখন পর্দা ঠিকভাবে রক্ষা হয় না, শরীর খোলা থাকে বা অশালীন পরিবেশে চলাফেরা করা হয়, তখন শয়তান ও জ্বীনের প্রভাব সহজ হয়। আল্লাহ তাআলা পর্দার নির্দেশ দিয়েছেন মূলত মানুষের হেফাজতের জন্য।

তৃতীয়ত, যিকির ও ইবাদতে অবহেলা
অনেক মেয়ে নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, সকাল সন্ধ্যার যিকিরে অবহেলা করে থাকেন। অথচ যিকির হলো মুমিনের দুর্গ। যেখানে আল্লাহর স্মরণ থাকে, সেখানে শয়তান ও জ্বীন অবস্থান করতে পারে না।

চতুর্থত, একাকীত্ব ও ভয়
অনেক সময় একা থাকা, অন্ধকারে ভয় পাওয়া, রাতে দেরি করে জাগা বা ঘুমের অনিয়ম জ্বীনের প্রভাব বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে ভয়ের সময় মানুষ আল্লাহর উপর ভরসা না করে আতঙ্কে থাকলে সমস্যা বাড়ে।

পঞ্চমত, হরমোনজনিত ও শারীরিক দুর্বলতা
মেয়েদের জীবনে বিভিন্ন সময় শারীরিক ও হরমোনজনিত পরিবর্তন আসে। এসব সময় শরীর ও মন দুর্বল থাকে, যা জ্বীনের জন্য একটি সুযোগ হতে পারে।

৬ষষ্ঠতম নারীরা বেশি যাদু করে থাকে- কোন মহিলা যখন যাদু করে তখন আরেকজন নারীকেই টার্গেট করে থাকে।

তবে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে মনে রাখা জরুরি, সব সমস্যাই জ্বীনের কারণে হয় না। অনেক সমস্যা মানসিক বা শারীরিক কারণেও হতে পারে। ইসলাম কখনো অযৌক্তিক ভয় শেখায় না, বরং সচেতনতা ও আল্লাহর উপর ভরসা শেখায়।
কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে নিজেকে হেফাজতে রাখার সবচেয়ে উত্তম উপায় হলো নিয়মিত নামাজ আদায় করা, কোরআন তিলাওয়াত করা, সকাল সন্ধ্যার যিকির পড়া এবং সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন যাপন করা।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে শয়তান ও জ্বীনের অনিষ্ট থেকে হেফাজত করুন। আমীন

অনেকেই আমলের উপরে থাকলেও জিন-যাদুর সমস্যা হতে পারে।
এই রকম পরিস্থিতিতে বসে না অভিজ্ঞ রাকীর মাধ্যমে রুকইয়াহ চিকিৎসা নিন।

সচেতনতার জন্য সদকায়ে জারিয়্যাহ এর নিয়তে শেয়ার করুন।
সরাসরি সিরিয়াল বুক করুন-
01616-783326
01577267460

জ্বীন মানুষের শরীরে ঢুকলে কী করেইসলামের দৃষ্টিতে জ্বীন একটি সৃষ্টি। আল্লাহ তাআলা মানুষকে যেমন সৃষ্টি করেছেন, তেমনি আগুন ...
28/01/2026

জ্বীন মানুষের শরীরে ঢুকলে কী করে
ইসলামের দৃষ্টিতে জ্বীন একটি সৃষ্টি। আল্লাহ তাআলা মানুষকে যেমন সৃষ্টি করেছেন, তেমনি আগুন থেকে জ্বীন সৃষ্টি করেছেন। কোরআন ও সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত যে জ্বীন মানুষের উপর প্রভাব ফেলতে পারে, এমনকি আল্লাহর ইচ্ছায় মানুষের শরীরে প্রবেশও করতে পারে।
আল্লাহ তাআলা কোরআনে বলেন,
যারা সুদ খায় তারা কিয়ামতের দিন উঠবে ঐ ব্যক্তির মতো যাকে শয়তান স্পর্শ করে পাগল করে দিয়েছে
সূরা বাকারা
এই আয়াত থেকে অনেক আলেম প্রমাণ গ্রহণ করেছেন যে শয়তান বা জ্বীন মানুষের শরীরে প্রভাব ফেলতে পারে।
জ্বীন যখন মানুষের শরীরে প্রবেশ করে, তখন বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। মানুষের আচরণ, চিন্তা ও অনুভূতিতে পরিবর্তন আসতে পারে। অনেক সময় মানুষ নিজেই বুঝতে পারে না তার ভেতরে কী হচ্ছে।
জ্বীন মানুষের শরীরে ঢুকলে যেসব পরিবর্তন দেখা যেতে পারে
হঠাৎ করে অতিরিক্ত রাগ বা অস্বাভাবিক আচরণ
নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ কমে যাওয়া
নামাজ পড়তে বা কোরআন শুনতে গেলে অস্বস্তি লাগা
কথাবার্তার ধরণ বদলে যাওয়া
ঘুমের মধ্যে চিৎকার করা বা ভয়ংকর স্বপ্ন দেখা
কারণ ছাড়াই বুক ধড়ফড় করা বা মাথা ভার লাগা
একাকীত্ব পছন্দ করা এবং মানুষের কাছ থেকে দূরে থাকা
মাঝে মাঝে এমন কথা বলা যা নিজের স্বভাবের সাথে মেলে না
হাদীসে এসেছে, শয়তান মানুষের রক্তনালীর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়। অর্থাৎ মানুষের শরীর ও মনকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা তার রয়েছে, তবে সবকিছুই আল্লাহর ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল।
তবে মনে রাখতে হবে, সব শারীরিক বা মানসিক সমস্যাই জ্বীনের কারণে হয় না। অনেক সমস্যা মেডিকেল বা মানসিক কারণেও হতে পারে। তাই হিকমাহর সাথে বিষয়টি বুঝা জরুরি।
রুকইয়াহ হলো কোরআন ও সুন্নাহ ভিত্তিক চিকিৎসা পদ্ধতি। এতে কোরআনের আয়াত ও সহীহ দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে শিফা চাওয়া হয়। প্রকৃত শিফা একমাত্র আল্লাহই দান করেন।
যদি মনে হয় সমস্যাটি স্বাভাবিক নয় বা লক্ষণগুলো দিন দিন বাড়ছে, তাহলে অভিজ্ঞ রাক্বীর মাধ্যমে রুকইয়াহ করানো যেতে পারে।
সমস্যা বেশি মনে হলে আমাদের অভিজ্ঞ রাক্বীর সাথে যোগাযোগ করুন।

সচেতনতার জন্য সদকায়ে জারিয়্যাহ এর নিয়তে শেয়ার করুন।
সরাসরি সিরিয়াল বুক করুন-
01616-783326
01577267460

27/01/2026

সুন্নাহর আলোয় মা হওয়ার স্বপ্ন: নিয়ম, আদব ও সঠিক গাইডলাইন
সন্তান কেবল বংশবৃদ্ধির মাধ্যম নয়, বরং এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এক পবিত্র আমানত এবং আপনার জন্য পরকালের সদকায়ে জারিয়া। স্বামী-স্ত্রীর পবিত্র মিলন যখন সুন্নাহ মোতাবেক হয়, তখন তা ইবাদতে পরিণত হয়। নিচের নিয়ম ও আদবগুলো আপনার পথচলাকে বরকতময় করবে।
সুন্নাহসম্মত নিয়ম ও আদব
১. নিয়তকে পরিশুদ্ধ করা: মিলনের আগে মনে মনে নিয়ত করুন যে আল্লাহ যেন এমন এক নেক সন্তান দান করেন, যে ইসলামের খেদমত করবে।
২. রাসূলুল্লাহ (সা.) নির্দেশিত দুয়া: মিলনের শুরুতে এই দুয়াটি পাঠ করলে শয়তান আপনার অনাগত সন্তানের কোনো ক্ষতি করতে পারবে।
বিসমিল্লাহি আল্লাহুম্মা জান্নিবনাশ শাইত্বানা ওয়া জান্নিবিশ শাইত্বানা মা রাযাক্বতানা
৩. গোপনীয়তা ও পর্দা: সম্পূর্ণ উলঙ্গ না হয়ে চাদর ব্যবহার করা এবং গোপনীয়তা বজায় রাখা সুন্নাহ।
৪. নিষিদ্ধ সময় বর্জন: পিরিয়ড বা সন্তান প্রসব পরবর্তী রক্তপাত চলাকালীন মিলন ইসলামে হারাম।
৫. পবিত্রতা অর্জন: মিলনের পর দ্রুত গোসল করা উত্তম। সময় কম থাকলে অন্তত ওযু করুন, যা রহমতের ফেরেশতাদের আকর্ষণ করে।
আল্লাহর কাছে নবীদের আকুতি (কুরআনি দুয়া)
নামাজের সিজদায় ও নিভৃতে এই দুয়াগুলো বেশি বেশি পাঠ করুন:
হে আমার প্রতিপালক! আমাকে নেক সন্তান দান করুন।
হে আমার রব! আপনার পক্ষ থেকে আমাকে পবিত্র সন্তান দান করুন।
কনসিভ করতে সমস্যা ও কার্যকর সমাধান
দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও যদি সন্তান লাভে বিলম্ব হয়, নিচের বিষয়গুলো খেয়াল করুন:
ওভ্যুলেশন চেনা: সন্তান লাভের জন্য পিরিয়ড শুরুর ১০ম থেকে ২০তম দিনের মধ্যবর্তী সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে একদিন অন্তর অন্তর মিলন করলে কনসিভ করার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
মানসিক প্রশান্তি: অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা হরমোনের ক্ষতি করে। তাই মানসিক চাপমুক্ত থেকে ঘনিষ্ঠ মুহূর্তগুলো উপভোগ করুন।

বিশেষ সতর্কতা (রুকইয়াহ টিপস)
শারীরিক সমস্যা ছাড়াও অনেক সময় বদনজর, কালো জাদু বা জিন চালান ও জিনের আছরের কারণে সন্তান লাভে বাধা বা বারবার গর্ভপাত হতে পারে। যদি আপনি অস্বাভাবিক কোনো লক্ষণ অনুভব করেন, তবে দেরি না করে শরিয়াহসম্মত রুকইয়াহ গ্রহণ করুন।
আমল ও সুন্নাহর সাথে আপনার প্রচেষ্টাকে পূর্ণ করুন। ইনশাআল্লাহ, আল্লাহ আপনার কোল আলোকিত করবেন।

সচেতনতার জন্য সদকায়ে জারিয়্যাহ এর নিয়তে শেয়ার করুন।
সরাসরি সিরিয়াল বুক করুন-
01616-783326
01577267460

মহিলাদের উপর জ্বীন আক্রমণের সম্ভাব্য লক্ষণসমূহইসলামের আলোকে জ্বীন মানুষের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। কোরআন ও সহিহ হাদিসে জ্ব...
26/01/2026

মহিলাদের উপর জ্বীন আক্রমণের সম্ভাব্য লক্ষণসমূহ
ইসলামের আলোকে জ্বীন মানুষের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। কোরআন ও সহিহ হাদিসে জ্বীনের অস্তিত্ব এবং মানুষের ওপর তাদের কুমন্ত্রণা বা আছরের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। আল্লাহ তায়ালা কোরআনে বলেন, যারা সুদ খায় তারা কিয়ামতের দিন এমনভাবে উঠবে, যেন শয়তান তাদের স্পর্শ করে পাগল করে দিয়েছে। এই আয়াত থেকে বোঝা যায় শয়তান বা জ্বীনের স্পর্শ মানুষের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
অভিজ্ঞ রাক্বীদের পর্যবেক্ষণ এবং কোরআন-সুন্নাহর আলোকে মহিলাদের ক্ষেত্রে কিছু লক্ষণ বেশি দেখা যায়। যেমন অকারণ ভয়, বুক ধড়ফড় করা, রাতে ঘুম না আসা বা দুঃস্বপ্ন দেখা, একা থাকতে অস্বস্তি লাগা, আজান বা কোরআন তিলাওয়াত শুনলে অস্বাভাবিক রাগ বা অস্থিরতা অনুভব করা। অনেক সময় নামাজে মন বসে না, ইবাদতে হঠাৎ বিরক্তি আসে।
কিছু মহিলার ক্ষেত্রে শরীরে হঠাৎ ব্যথা অনুভূত হয় যার কোনো ডাক্তারি কারণ পাওয়া যায় না। মাথা ভার লাগা, চোখ ঝাপসা দেখা, বারবার কান্না পাওয়া, নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারানোর অনুভূতি, রাগ বা আচরণে হঠাৎ পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। স্বামী বা পরিবারের সদস্যদের প্রতি অকারণ ঘৃণা তৈরি হওয়াও একটি লক্ষণ হতে পারে।
কিছু ক্ষেত্রে রুকইয়াহ পড়ার সময় শরীর কাঁপা, বমি ভাব, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, বা প্রচণ্ড অস্বস্তি দেখা দেয়। এগুলো অনেক সময় জ্বীন আছরের ইঙ্গিত হিসেবে ধরা হয়, যদিও সব সমস্যাই যে জ্বীনের কারণে হবে এমন নয়। তাই শরীয়াহসম্মত রুকইয়াহর পাশাপাশি প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শও নেওয়া জরুরি।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে রুকইয়াহ করেছেন এবং সাহাবাদের রুকইয়াহ করতে অনুমতি দিয়েছেন, যতক্ষণ তা কোরআন, দোয়া এবং শিরকমুক্ত হয়।
সমস্যা বেশি মনে হলে আমাদের অভিজ্ঞ রাক্বীর সাথে যোগাযোগ করুন।

সচেতনতার জন্য সদকায়ে জারিয়্যাহ এর নিয়তে শেয়ার করুন।
সরাসরি সিরিয়াল বুক করুন-
01616-783326
01577267460

রাত তখন দুইটা বাজে। রাশেদা হঠাৎ ঘুম থেকে উঠে বসে পড়ে। ঘরের ভেতর অস্বাভাবিক একটা চাপা ভাব, নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। কয়েক...
26/01/2026

রাত তখন দুইটা বাজে। রাশেদা হঠাৎ ঘুম থেকে উঠে বসে পড়ে। ঘরের ভেতর অস্বাভাবিক একটা চাপা ভাব, নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। কয়েক মাস ধরেই এমন হচ্ছে। রাতে ভয় পায়, দুঃস্বপ্ন দেখে, কখনো নিজের নাম ভুলে যায়। কোরআন পড়া শুরু হলেই শরীর শক্ত হয়ে যায়, চোখ লাল হয়ে ওঠে, কখনো এমন কণ্ঠে কথা বলে যেটা তার নিজের না।
এই ধরনের ঘটনা শুধু গল্প নয়, বাস্তবেও বহু মানুষের জীবনে ঘটছে। কোরআনে আল্লাহ তাআলা জিনের অস্তিত্বের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। সূরা জ্বিনে বলা হয়েছে, জিনদের মধ্যেও মুমিন আছে এবং অবাধ্য আছে। আবার সূরা বাক্বারায় বলা হয়েছে, শয়তান মানুষের উপর প্রভাব বিস্তার করে তাকে বিভ্রান্ত করে।
রুকইয়াহ শুরু হলে অনেক সময় দেখা যায়, আক্রান্ত ব্যক্তি অস্বস্তি অনুভব করে, চিৎকার করে, অজ্ঞান হয়ে যায় বা কোরআনের আয়াত সহ্য করতে পারে না। এগুলো সাধারণ অসুখের লক্ষণ নয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে রুকইয়াহ করেছেন এবং সাহাবাদেরও রুকইয়াহ করার অনুমতি দিয়েছেন। তিনি সূরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসি, সূরা ফালাক ও সূরা নাস পড়ে দম করতেন এবং বলেছেন, শিরকমুক্ত রুকইয়াহ বৈধ এবং এতে আল্লাহ শিফা দান করেন।
রুকইয়াহ কোনো জাদু বা তান্ত্রিক কাজ নয়। এটি কোরআন ও সহিহ দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া। অনেক সময় দুনিয়াবি চিকিৎসায় কাজ না হলে রুকইয়াহর মাধ্যমে প্রকৃত কারণ প্রকাশ পায় এবং আল্লাহর ইচ্ছায় আরোগ্য আসে।
সব সমস্যাই যে জিন বা যাদুর কারণে হয়, তা নয়। কিন্তু যখন সমস্যাগুলো অস্বাভাবিক হয়ে যায়, বারবার ফিরে আসে এবং ইবাদতের পথে বাধা সৃষ্টি করে, তখন কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে রুকইয়াহ একটি গুরুত্বপূর্ণ সমাধান।
সমস্যা বেশী মনে হলে আমাদের অভিঞ্জ রাক্বীর সাথে যোগাযোগ করুন।

সচেতনতার জন্য সদকায়ে জারিয়্যাহ এর নিয়তে শেয়ার করুন।
সরাসরি সিরিয়াল বুক করুন-
01616-783326
01577267460

25/01/2026

অস্থায়ী সুস্থতা ও স্থায়ী শিফার গল্প
গ্রামের নাম ছিল চাঁদপুর। সেই গ্রামে একজন বিখ্যাত কবিরাজ ছিল—নাম হাশেম কবিরাজ। দূর–দূরান্ত থেকে মানুষ তার কাছে আসত। কেউ বলত, “হাশেম কবিরাজের হাতে জ্বীন আছে”, কেউ বলত, “সে চোখের পলকে রোগ সারায়।”
আর হাশেম কবিরাজ এই কথাগুলো শুনে মুচকি হাসত—কারণ সে জানত, এটাই তার ব্যবসার মূল শক্তি।
একদিন রহিম নামে এক যুবক তার কাছে এল। রহিম কয়েক বছর ধরে অদ্ভুত অসুস্থতায় ভুগছিল—মাথা ভার, বুক ধড়ফড়, রাতে ঘুমাতে পারত না, নামাজে মন বসত না। ডাক্তার দেখিয়েছে, কিন্তু তেমন ফল পায়নি।
হাশেম কবিরাজ রহিমকে দেখে বলল,
“তোর ওপর বড় জ্বীনের আছর আছে। তবে ভয় নাই, আমি আছি।”
সে ধূপ জ্বালাল, অদ্ভুত মন্ত্র পড়ল, কাগজে কিছু আঁকিবুঁকি করে পানিতে ফুঁ দিল। রহিম কয়েকদিনের মধ্যেই সত্যিই ভালো অনুভব করতে লাগল। ঘুম হলো, শরীর হালকা লাগল।
রহিম ভাবল, আলহামদুলিল্লাহ, আমি ভালো হয়ে গেছি।
কিন্তু কিছুদিন পর আবার সেই একই সমস্যা—বরং আগের চেয়েও বেশি। এবার ভয়, অস্থিরতা, রাগ—সব একসাথে।
রহিম আবার কবিরাজের কাছে গেলে কবিরাজ বলল,
“জ্বীনটা আবার শক্ত হয়েছে। আরও টাকা লাগবে, আরও কাজ করতে হবে।”
তখনই রহিমের মনে প্রশ্ন জাগল—
যদি সুস্থতাই হয়, তাহলে বারবার কেন ফিরতে হয়?
হতাশ হয়ে একদিন রহিম গ্রামের মসজিদের ইমামের কাছে গেল। ইমাম সাহেব সব শুনে শান্তভাবে বললেন,
“বাবা, যেখানে জ্বীন ব্যবহার হয়, সেখানে সুস্থতা কখনো স্থায়ী হয় না। কারণ শয়তান শয়তানই—সে উপকারের ভান করে ক্ষতি করে। এটা চিকিৎসা নয়, এটা ব্যবসা।”
তিনি রহিমকে কুরআন ও সহীহ হাদীসভিত্তিক রুকইয়াহ শেখালেন—
সূরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসি, সূরা ইখলাস, ফালাক, নাস—
নিয়মিত নামাজ, তাওবা, আল্লাহর ওপর ভরসা।
কোনো তাবিজ নয়, কোনো গোপন মন্ত্র নয়—
শুধু আল্লাহর কালাম।
ধীরে ধীরে রহিমের ভেতরে পরিবর্তন আসতে লাগল। এবার সুস্থতার সাথে সাথে মনে শান্তি, ইবাদতে মনোযোগ, ভয় কমে যাওয়া—সবই একসাথে।
মাসের পর মাস কেটে গেল, কিন্তু অসুস্থতা আর ফিরে এলো না—আল্লাহর ইচ্ছায়।
একদিন রহিম বুঝল—
👉 কবিরাজ সুস্থতা বিক্রি করে না, সে ভয় বিক্রি করে।
👉 জ্বীন দিয়ে চিকিৎসা নয়, সেটা কুফরির পথে করা এক ধরনের প্রতারণামূলক ব্যবসা।
👉 আর রুকইয়াহ কোনো ব্যবসা নয়—এটা আল্লাহর ওপর ভরসা।
গ্রামের মানুষও ধীরে ধীরে বুঝতে শুরু করল। কবিরাজের বাড়িতে ভিড় কমতে লাগল, আর মসজিদে কুরআনের তিলাওয়াত বাড়তে লাগল।
কারণ—
অস্থায়ী স্বস্তি শয়তান দিতে পারে,
কিন্তু স্থায়ী শিফা শুধু আল্লাহই দেন।

সচেতনতার জন্য সদকায়ে জারিয়্যাহ এর নিয়তে শেয়ার করুন।
সরাসরি সিরিয়াল বুক করুন-
01616-783326
01577267460

রমজান মাস আল্লাহ তায়ালার বিশেষ রহমত ও মাগফিরাতের মাস। এই মাসে আসমানের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ ...
25/01/2026

রমজান মাস আল্লাহ তায়ালার বিশেষ রহমত ও মাগফিরাতের মাস। এই মাসে আসমানের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়। বান্দার জন্য এর চেয়ে বড় সুযোগ আর কী হতে পারে, যখন অল্প আমলেই বড় সওয়াব পাওয়া যায়।
রমজান আমাদের শেখায় সংযম, ধৈর্য ও তাকওয়া। রোজা শুধু পানাহার থেকে বিরত থাকার নাম নয়, বরং চোখ, কান, জিহ্বা ও মনকে গুনাহ থেকে রক্ষা করার শিক্ষা দেয়। এই মাসে কোরআন নাজিল হয়েছে, তাই কোরআনের সাথে সম্পর্ক বাড়ানো, বেশি বেশি তিলাওয়াত ও বুঝে পড়ার চেষ্টা করা আমাদের দায়িত্ব।
যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা ও ইবাদত করে, তার পূর্বের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। তাই আসুন, এই পবিত্র মাসে তওবা করি, নামাজে মনোযোগী হই, দোয়া ও ইস্তিগফার বাড়াই এবং মানুষকে কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকি।
রমজান আমাদের জীবনে পরিবর্তন আনার এক অনন্য সুযোগ। আল্লাহ যেন এই মাহে রমজানকে আমাদের গুনাহ মাফের মাধ্যম বানান এবং আমাদের সবাইকে নেক আমল করার তাওফিক দান করেন।

সচেতনতার জন্য সদকায়ে জারিয়্যাহ এর নিয়তে শেয়ার করুন।
সরাসরি সিরিয়াল বুক করুন-
01616-783326
01577267460

প্রায় সময় দেখা যায় বাচ্চাদের অসুস্থতা বাড়তে থাকে,অথবা কিছুদিন পর পর অসুস্থতা লেগেই থাকে।মনে রাখা ভাল বদনজরের কারনেও অসুস...
24/01/2026

প্রায় সময় দেখা যায় বাচ্চাদের অসুস্থতা বাড়তে থাকে,অথবা কিছুদিন পর পর অসুস্থতা লেগেই থাকে।
মনে রাখা ভাল বদনজরের কারনেও অসুস্থতা হতে পারে।
আমরা শত শত বাচ্চাকে দেখেছি- বদনজরের কারনে অসুস্থতা লেগেই থাকে। অন্য কারনেও রোগ হতে পারে!
অনেক সময় ই আমাদের বাচ্চাদের ওষুধ খাওয়াতে হয়।
ওষুধ খাওয়ানোর পুর্বে ৭ বার করে দুরুদ শরীফ, আয়াতুল কুরসি, সুরা ফাতিহা,সুরা ইখলাস,সুরা ফালাক্ব ও সুরা নাস পড়ে ফু দিন। তারপর খাইয়ে দিন।
ইনশাআল্লাহ রোগের পাশাপাশি বদনজর ও কাটবে।
বার বার অসুস্থ হতে থাকলে - অবশ্যই ডাক্তারের পাশাপাশি অভিজ্ঞ রাকির কাছে নিয়ে যান। ভাল করে ডায়াগনোসিস করে দেখুন বদনজর অথবা অন্য কোন প্যারানরমাল সমস্যা আছে কিনা!

সচেতনতার জন্য সদকায়ে জারিয়্যাহ এর নিয়তে শেয়ার করুন।
সরাসরি সিরিয়াল বুক করুন-
01616-783326
01577267460

24/01/2026
অন্যের কাছে রুকইয়াহ চাইলে কি ‘বিনা হিসাবে জান্নাতে যাওয়া যাবে না?রুকইয়ার হাদিস সম্পর্কে শাইখ ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারি...
24/01/2026

অন্যের কাছে রুকইয়াহ চাইলে কি ‘বিনা হিসাবে জান্নাতে যাওয়া যাবে না?

রুকইয়ার হাদিস সম্পর্কে শাইখ ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়ার মনগড়া ব্যাখ্যা ও অজ্ঞতা প্রসূত ফতোয়ার দালিলিক খণ্ডন।

সম্প্রতি শাইখ ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া একটি ভিডিওতে দাবি করেছেন যে, “রুকইয়াহর পিছে যারা দৌড়ায় না, তারা বিনা হিসাবে জান্নাতে যাবে” অর্থাৎ, অন্যের কাছে রুকইয়াহ চাইলে বিনা হিসাবে জান্নাতে যাওয়া যাবে না। তিনি এ বিষয়ে সহীহ মুসলিমের একটি হাদিসকে দলিল হিসেবে পেশ করেছেন।

কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, শাইখের এই বক্তব্যটি হাদিসের প্রকৃত ব্যাখ্যা এবং সালাফদের ফিকহ সম্পর্কে তার অজ্ঞতা বা ভুল বুঝাবুঝির বহিঃপ্রকাশ। আসুন, দলিল ও যুক্তির আলোকে বিষয়টির সত্যতা যাচাই করি।

১. শাইখের ভুল ব্যাখ্যার উৎস: এবং হাদিসটির প্রকৃত অর্থ কী?

শাইখ যে হাদিসটি দলিল হিসেবে এনেছেন, সেটি হলো:

عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ ... قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ: يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مِنْ أُمَّتِي سَبْعُونَ أَلْفًا بِغَيْرِ حِسَابٍ... هُمُ الَّذِينَ لَا يَسْتَرْقُونَ وَلَا يَتَطَيَّرُونَ وَلَا يَكْتَوُونَ وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ.

অর্থ: “আমার উম্মতের ৭০ হাজার লোক বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে... তারা হলো ওই সকল লোক যারা (অন্যের কাছে) রুকইয়াহ চায় না, কুলক্ষণ বিশ্বাস করে না, আগুনের দাগ দিয়ে চিকিৎসা করে না এবং তারা কেবল তাদের রবের ওপরই ভরসা করে।”

(সূত্র: সহীহ মুসলিম: ২১৮/৩৭৪)

বিভ্রান্তি:

শাইখ মনে করেছেন, এই হাদিসের ‘লা ইয়াস্তারকুনা’ (তারা অন্যের নিকট রুকইয়াহ চায় না) কথাটি সাধারণ বা আম (General)। অর্থাৎ, শরীয়তসম্মত রুকইয়াহ চাইলেও বুঝি জান্নাতের এই মর্যাদা পাওয়া যাবে না!

খণ্ডন:

যদি এই ব্যাখ্যা সঠিক হয়, তবে নবীজি ﷺ এবং সাহাবায়ে কেরামও (নাউযুবিল্লাহ) এই ফযিলত থেকে বঞ্চিত হবেন! কারণ:

১. নবীজির আমল: আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, নবীজি ﷺ নিজে অসুস্থ হলে জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) তাকে রুকইয়াহ করেছেন। (সহীহ মুসলিম: ২১৮১)

২. সাহাবীদের আমল: আসমা বিনতে উমাইস (রাদিয়াল্লাহু আনহা) নবীজিকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, “জাফরের সন্তানদের বদনজর লাগে, আমি কি তাদের জন্য রুকইয়াহ চাইব?” নবীজি বললেন: “হ্যাঁ”। (সুনানে তিরমিযি: ২০৫৯)

৩. উম্মে সালামার ঘটনা: নবীজি ﷺ এক বালিকাকে দেখে নির্দেশ দিয়েছিলেন: “তার জন্য রুকইয়াহ তালাশ করো”। (সহীহ বুখারী: ৫৭৩৯)

যদি রুকইয়াহ চাইলেই বিনা হিসাবে জান্নাত না পাওয়া যায়, তবে কি নবীজি ﷺ তাঁর উম্মতকে এমন কাজের নির্দেশ দিলেন যা তাদের জান্নাতের মর্যাদা কমিয়ে দিবে? অসম্ভব!

২. হাদিসের সঠিক ব্যাখ্যা: ইমাম নববী (রহিমাহুল্লাহ) কী বলেন?

এই হাদিসের সঠিক ব্যাখ্যা সম্পর্কে ইমাম নববী (রহিমাহুল্লাহ) সহীহ মুসলিমের ব্যাখ্যাগ্রন্থে (শরহু সহীহ মুসলিম) বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। সেখানে তিনি রুকইয়াহ করা এবং না করার হাদিসগুলোর মধ্যে চমৎকার সমন্বয় করেছেন।

ইমাম নববী (রহিমাহুল্লাহ)-এর মূল বক্তব্য:

قَوْلُهُ : ( إِنَّ جِبْرِيلَ رَقَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ) ، وَذَكَرَ الْأَحَادِيثَ بَعْدَهُ فِي الرُّقَى ، وَفِي الْحَدِيثِ الْآخَرِ فِي الَّذِينَ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ بِغَيْرِ حِسَابٍ ( لَا يَرْقُونَ وَلَا يَسْتَرْقُونَ وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ ) فَقَدْ يُظَنُّ مُخَالِفًا لِهَذِهِ الْأَحَادِيثِ ، وَلَا مُخَالَفَةَ ، بَلِ الْمَدْحُ فِي تَرْكِ الرُّقَى الْمُرَادُ بِهَا الرُّقَى الَّتِي هِيَ مِنْ كَلَامِ الْكُفَّارِ ، وَالرُّقَى الْمَجْهُولَةُ ، وَالَّتِي بِغَيْرِ الْعَرَبِيَّةِ ، وَمَا لَا يُعْرَفُ مَعْنَاهَا ، فَهَذِهِ مَذْمُومَةٌ لِاحْتِمَالِ أَنَّ مَعْنَاهَا كُفْرٌ ، أَوْ قَرِيبٌ مِنْهُ ، أَوْ مَكْرُوهٌ .
وَأَمَّا الرُّقَى بِآيَاتِ الْقُرْآنِ ، وَبِالْأَذْكَارِ الْمَعْرُوفَةِ ، فَلَا نَهْيَ فِيهِ ، بَلْ هُوَ سُنَّةٌ .
وَمِنْهُمْ مَنْ قَالَ فِي الْجَمْعِ بَيْنَ الْحَدِيثَيْنِ إِنَّ الْمَدْحَ فِي تَرْكِ الرُّقَى لِلْأَفْضَلِيَّةِ وَبَيَانِ التَّوَكُّلِ .
وَالَّذِي فَعَلَ الرُّقَى ، وَأَذِنَ فِيهَا لِبَيَانِ الْجَوَازِ ، مَعَ أَنَّ تَرْكَهَا أَفْضَلُ ، وَبِهَذَا قَالَ ابْنُ عَبْدِ الْبَرِّ ، وَحَكَاهُ عَمَّنْ حَكَاهُ .
وَالْمُخْتَارُ الْأَوَّلُ ، وَقَدْ نَقَلُوا بِالْإِجْمَاعِ عَلَى جَوَازِ الرُّقَى بِالْآيَاتِ ، وَأَذْكَارِ اللَّهِ تَعَالَى .
قَالَ الْمَازِرِيُّ : جَمِيعُ الرُّقَى جَائِزَةٌ إِذَا كَانَتْ بِكِتَابِ اللَّهِ ، أَوْ بِذِكْرِهِ ، وَمَنْهِيٌّ عَنْهَا إِذَا كَانَتْ بِاللُّغَةِ الْعَجَمِيَّةِ ، أَوْ بِمَا لَا يُدْرَى مَعْنَاهُ ، لِجَوَازِ أَنْ يَكُونَ فِيهِ كُفْرٌ .

বক্তব্যের বিশ্লেষণধর্মী অনুবাদ:

আপাতবিরোধ নিরসন:

হাদিসে এসেছে— ‘জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) নবীজি ﷺ-কে রুকইয়াহ করেছেন’ এবং এরপরে রুকইয়াহ সম্পর্কিত আরও কিছু হাদিস উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ অন্য হাদিসে যারা বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে তাদের বর্ণনায় বলা হয়েছে—‘তারা (নিজেরা) রুকইয়াহ করে না, (অন্যের কাছে) রুকইয়াহ চায় না এবং তাদের রবের ওপরই ভরসা করে’। আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে যে, এই দুই ধরণের হাদিস পরস্পর বিরোধী; কিন্তু আসলে এতে কোনো বিরোধ নেই।

নিষিদ্ধ রুকইয়াহর পরিচয়:

বরং রুকইয়াহ বর্জন করার যে প্রশংসা হাদিসে এসেছে, তা মূলত ওইসব রুকইয়াহর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য—
১. যা কাফেরদের কালাম বা মন্ত্র দ্বারা করা হয়।
২. যা অজানা বা অস্পষ্ট মন্ত্র দ্বারা করা হয়।
৩. যা অনারবি ভাষায় হওয়ায় তার অর্থ বোঝা যায় না।
এই ধরণের রুকইয়াহ নিন্দনীয়, কারণ এতে কুফর বা কুফরের কাছাকাছি কিছু থাকা অথবা মাকরুহ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

বৈধ রুকইয়াহর বিধান:

কিন্তু কুরআনের আয়াত ও পরিচিত জিকির-আযকার দ্বারা রুকইয়াহ করার ক্ষেত্রে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই; বরং এটি সুন্নাহ।

অন্যান্য আলেমদের মত:

কোনো কোনো আলেম এই দুই ধরণের হাদিসের মধ্যে সমন্বয় করতে গিয়ে বলেছেন, রুকইয়াহ বর্জন করার প্রশংসার বিষয়টি উত্তমতা (আফযালিয়্যাত) এবং তাওয়াক্কুল বা আল্লাহর ওপর ভরসার বহিঃপ্রকাশ। আর নবীজি ﷺ যে রুকইয়াহ করেছেন এবং অনুমতি দিয়েছেন, তা জায়েজ বা বৈধতা বোঝানোর জন্য—যদিও তা বর্জন করা উত্তম। ইবনে আবদিল বার (রাহিমাহুল্লাহ) এই মত পোষণ করেছেন।

ইমাম নববীর সিদ্ধান্ত (রাজীহ মত):

তবে প্রথম মতটিই (অর্থাৎ পরিচিত জিকির দ্বারা রুকইয়াহ করা সুন্নাহ—এটিই) গ্রহণযোগ্য। কারণ, উলামায়ে কেরাম ইজমা (ঐকমত্য) পোষণ করেছেন যে, কুরআনের আয়াত এবং আল্লাহর জিকির দ্বারা রুকইয়াহ করা জায়েজ।

ইমাম মাজিরির সমর্থন:

ইমাম মাজিরি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: “সমস্ত রুকইয়াহ বৈধ, যদি তা আল্লাহর কিতাব বা জিকির দ্বারা হয়। আর তা নিষিদ্ধ, যদি তা অনারবি বা অজানা ভাষায় হয়, কারণ এতে কুফর থাকার আশঙ্কা থাকে।”

(সূত্র: শরহু সহীহ মুসলিম: ১৪/৩৪১)

৩. নিজের রুকইয়াহ নিজে করা কি নিষিদ্ধ?

শাইখের যুক্তি অনুযায়ী অন্যের কাছে রুকইয়াহ চাওয়া যাবে না। কিন্তু সহীহ মুসলিমের আরেকটি বর্ণনায় এসেছে:

(هُمُ الَّذِينَ لَا يَرْقُونَ وَلَا يَسْتَرْقُونَ)

অর্থ: “তারা হলো ওই সকল লোক যারা (নিজেও) রুকইয়াহ করে না এবং (অন্যের কাছেও) চায় না।”

(সহীহ মুসলিম: ২২০/৩৭৫)

এখন শাইখের ব্যাখ্যা নিলে তো কেউ ‘নিজের রুকইয়াহ নিজে করলেও’ বিনা হিসাবে জান্নাতে যেতে পারবে না! অথচ নবীজি ﷺ প্রতি রাতে ঘুমানোর আগে নিজের ওপর রুকইয়াহ করতেন (৩ কুল পড়ে ফুঁ দিতেন)। তাহলে কি নবীজি ﷺ নিজেই এই ফযিলত থেকে বাদ? (নাউযুবিল্লাহ)।

এ থেকেই বোঝা যায়, হাদিসের নিষেধাজ্ঞাটি ‘বৈধ বা শরয়ী রুকইয়াহ’-র ক্ষেত্রে নয়, বরং ‘অবৈধ বা শিরকি রুকইয়াহ’-র ক্ষেত্রে। অথবা এমন রুকইয়াহর ক্ষেত্রে যেখানে বান্দা আল্লাহর ওপর ভরসা ছেড়ে দিয়ে কেবল রুকইয়াহর ওপরই নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।

৪. শাইখ আবু বকর যাকারিয়ার অজ্ঞতা ও আমাদের নসিহত:

শাইখ আবু বকর যাকারিয়া হাদিসের এই সূক্ষ্ম পার্থক্য না বুঝেই ঢালাওভাবে ফতোয়া দিচ্ছেন যে—রুকইয়াহর পেছনে দৌড়ালে বিনা হিসাবে জান্নাত পাওয়া যাবে না। এটি মূলত হাদিসের ভুল ব্যাখ্যা এবং সালাফদের মানহাজ বিরোধী।

শাইখের প্রতি আমাদের উদাত্ত আহ্বান ও অনুরোধ থাকবে—

তিনি যেন পর্যাপ্ত তাহকিক ও পড়াশোনা না করে রুকইয়াহর মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে ‘ভুলভাল তথ্য’ প্রচার না করেন। প্রাজ্ঞ সালাফদের ব্যাখ্যাকে পাশ কাটিয়ে নিজের ‘মনগড়া ব্যাখ্যা’ এবং ‘জাহালত’ (অজ্ঞতা)-প্রসূত ফতোয়া দিয়ে উম্মাহকে বিভ্রান্ত করা থেকে তিনি যেন বিরত থাকেন।

শরীয়তসম্মত উপায়ে, আল্লাহর ওপর পূর্ণ তাওয়াক্কুল রেখে, রোগমুক্তির জন্য ‘রাকী’ (চিকিৎসক) তালাশ করা বা রুকইয়াহ চাওয়া—এটি সুন্নাহ এবং এটি তাওয়াক্কুলের পরিপন্থী নয়। যেমন ওষুধ খাওয়া তাওয়াক্কুলের পরিপন্থী নয়।

সম্মানিত পাঠক! শাইখের এই বিভ্রান্তিকর কথায় কান দেবেন না। সমস্ত দলিল পর্যালোচনা করে এ বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত হলো-

১. শিরকমুক্ত শরয়ী রুকইয়াহ চাওয়া বা করা—উভয়টিই জায়েজ এবং সুন্নাহ।

২. এর কারণে ‘বিনা হিসাবে জান্নাত’ পাওয়ার ফযিলত নষ্ট হবে না, ইনশাআল্লাহ।

৩. হাদিসে নিষেধাজ্ঞাটি কেবল জাহেলি বা শিরকি রুকইয়াহর জন্য খাস।

আল্লাহ আমাদের সঠিক ইলম অর্জন করার এবং আলেমদের ভুল বিচ্যুতি থেকে বেঁচে থাকার তৌফিক দিন। আমীন।

Raqi Abdul malek vai

23/01/2026

রাতে যে কান্নার শব্দ আসতো, দিনে কেউ বিশ্বাস করতোনা।

দিনের আলোয় মানুষ ভাবতো সব ঠিক আছে, কিন্তু রাত নামলেই অজানা ভয়, বুক ধড়ফড়, কান্না আর অস্থিরতা ঘিরে ধরতো। অনেকেই এটাকে মানসিক চাপ বা কল্পনা বলে উড়িয়ে দেয়। অথচ কোরআন ও হাদিস আমাদের জানায়, মানুষের জীবনে এমন কিছু সমস্যা আসে যা শুধু চোখে দেখা যায় না।

আল্লাহ তাআলা কোরআনে বলেন, মানুষের উপর এমন কিছু কষ্ট আসে যা সে নিজেও ঠিকভাবে প্রকাশ করতে পারে না। সূরা বাকারা ২:২৮৬ আয়াতে আল্লাহ আশ্বাস দিয়েছেন, তিনি কাউকে তার সাধ্যের বাইরে কষ্ট দেন না। কিন্তু সেই কষ্টের সময় মানুষ একা হয়ে পড়ে, বিশেষ করে রাতে। জিনের কুমন্ত্রণা, শয়তানের ওয়াসওয়াসা, হিংসা বা নজরের প্রভাব অনেক সময় রাতে বেশি অনুভূত হয়, কারণ তখন মানুষ দুর্বল থাকে।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেও অসুস্থতা, কষ্ট ও অদৃশ্য আঘাত থেকে শিফার জন্য কোরআনের আয়াত পড়ে দোয়া করতেন। সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে বর্ণিত আছে, তিনি সূরা ফালাক ও সূরা নাস পড়ে নিজের উপর এবং পরিবারের উপর ফুঁ দিতেন। এটি প্রমাণ করে যে রুকইয়াহ কোনো নতুন কিছু নয়, বরং কোরআন ও সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত একটি ইবাদত।

যখন রাতে অকারণে কান্না আসে, ঘুম ভেঙে যায়, বুক ভারী লাগে, নামাজে মন বসে না বা ভয় কাজ করে, তখন বিষয়টাকে হালকা ভাবে নেওয়া ঠিক না। কারণ প্রতিটি সমস্যার যেমন দুনিয়াবি কারণ আছে, তেমনি রুহানী কারণও থাকতে পারে। কোরআন হচ্ছে মুমিনদের জন্য শিফা ও রহমত, যেমন সূরা বনি ইসরাইল ১৭:৮২ আয়াতে আল্লাহ স্পষ্ট করে বলেছেন।

সমস্যা বেশি মনে হলে আমাদের অভিজ্ঞ রাক্বীর সাথে যোগাযোগ করুন।

সচেতনতার জন্য সদকায়ে জারিয়্যাহ এর নিয়তে শেয়ার করুন।
সরাসরি সিরিয়াল বুক করুন-
01616-783326
01577267460

Address

Laksham

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Healing Quran রুকইয়াহ posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to Healing Quran রুকইয়াহ:

Share

Share on Facebook Share on Twitter Share on LinkedIn
Share on Pinterest Share on Reddit Share via Email
Share on WhatsApp Share on Instagram Share on Telegram