09/11/2025
নরমাল ডেলিভারি শেষ পাঁচ মিনিটেই হারে—রোগী না, হারে আত্মীয়রা।”
চিল্লাপাল্লা, ভয় আর হুমকি—এই তিনেই হয় সিজার।
ডাক্তার না ভয় পেলে, আজ বাচ্চাটাও নরমাল হতো
“শেষ পাঁচ মিনিটের যুদ্ধ”
নরমাল ডেলিভারি মানে এক রকম যুদ্ধ।
যোদ্ধা একজন—রোগী।
বাকি সবাই সেনা—ডাক্তার, নার্স, আয়্যা, আর কোণে বসা স্বামী যার মুখে এখন একটাই বাক্য—“ডাক্তার সাহেব, আমার বউটারে বাঁচান!”
সব ঠিকঠাক চলছে।
বাচ্চার মাথা নিচে, হৃৎস্পন্দন ভালো, জরায়ু খোলা।
আমরা জানি—আর পাঁচ মিনিটের খেলা।
কিন্তু হঠাৎ রোগী চিৎকার শুরু করল—
“আমি মরতেছি! আমি আর পারব না! এখনই কিছু করেন!”
এই সময়টাতেই সাধারণত পাশের আত্মীয়র চোখ ঘুরে যায়,
মা বলে—“ডাক্তার সাহেব, পেট কেটে দেন!”
স্বামী বলে—“না হলে আমি হসপিটাল ভাঙি!”
তখন ডাক্তারদের জরুরি মিটিং—
মালিক, সার্জন, অ্যানাস্থেটিস্ট সবাই একসাথে এক বাক্য—
“ভাই, এখন সিজার না করলে এরা হইচই করবে, হসপিটাল ভাঙবে!”
তখন আর মেডিক্যাল বই না, সমাজবিজ্ঞান চলে।
তাড়াতাড়ি মেসেজ যায়—“OT ready.”
অ্যানাস্থেটিস্ট আসে, ব্যথা কমে, রোগী শান্ত।
বাচ্চা বের হয়, কান্না শুরু হয়—
সবাই হাসে।
রক্তের ব্যাগ ঝুলে, ডাক্তার নিঃশ্বাস ফেলে ভাবে—
“এই তো, আবারও একটা নরমাল কেস গেল সিজারে…”
---শিক্ষাটা এখানেই:
শেষ পাঁচ মিনিটে প্রায় সব মা বলে—“আমি আর পারব না।”
যারা অভিজ্ঞ, তারা জানে—এই কথাটাই মানে, বাচ্চা নামছে।
কিন্তু যারা প্রথমবার দেখছে, তাদের কাছে মনে হয় মেয়ে মরছে!
আর সেই ভয় থেকেই হয় “Emergency decision।”
এভাবে **ডাক্তারের দোষ নেই**, আছে সমাজের ভয়, অজ্ঞানতা, আর আবেগ।
নরমাল ডেলিভারি মানে শুধু বাচ্চা জন্ম না,
এটা ধৈর্য, বিশ্বাস, আর অভিজ্ঞতার একটা পরীক্ষা।❤️