Specialized Ruqyah and Cupping Center

Specialized Ruqyah and Cupping Center Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Specialized Ruqyah and Cupping Center, Health & Wellness Website, Institute of Child and Mother, Dhaka, Dhaka-1216.
(1)

আমাদের রয়েছে
✅ চিকিৎসক
✅ রুক্বইয়াহ বিষয়ক পরামর্শ
✅ হিজামা
✅ কাউন্সেলিং

বদনজর, হিংসা, জিনের আসর, জাদু-আক্রান্ত, আত্মিক ও মানসিক রোগীরা অবশ্যই যোগাযোগ করবেন।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার, রাক্বী ও হিজামা থেরাপিষ্ট এর Schedule নিতে যোগাযোগ করুন:
01621-241503

29/01/2026

এই আর্টিকেলে জানতে পারবেন জীন-যাদুর বাস্তবতা?

জ্বীনের আছর, বদনজর, হাসাদ ও কালো যাদু: কুরআন–হাদীসের আলোকে বাস্তবতা, লক্ষণ, প্রতিকার

ভূমিকা

বর্তমান যুগে শারীরিক ও মানসিক রোগের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। অনেক সময় রোগীরা ডিপ্রেশন, অ্যাংজাইটি, প্যানিক অ্যাটাক, ঘুমের সমস্যা, অতিরিক্ত ভয়, পরিবারে অশান্তি, বা হঠাৎ বিপর্যয়ের সম্মুখীন হন এবং কারণ খুঁজে পান না। এই অবস্থায় অনেকেই সন্দেহ করেন—জ্বীনের আছর, বদনজর, হাসাদ বা কালো যাদুর প্রভাব আছে কি না।

ইসলাম এই চারটি বিষয়ের বাস্তবতা অস্বীকার করেনি; বরং পথ দেখিয়েছে। তবে ইসলাম কখনো অন্ধবিশ্বাস বা অতিরঞ্জন সমর্থন করে না। তাই বিষয়টি ভারসাম্যপূর্ণভাবে বোঝা জরুরি—কোন লক্ষণগুলো সত্যিই রুহানী সমস্যা হতে পারে, আর কোনগুলো মেডিক্যাল/সাইকোলজিক্যাল সমস্যা হতে পারে।

---

জ্বীনের আছর (Possession)

জ্বীন আছর বাস্তব কি?

কুরআন স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যে জ্বীন মানুষের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

কুরআনের দলিল

“যারা সুদ খায় তারা সেইভাবে দাঁড়াবে যেভাবে আছরগ্রস্তকে শয়তান স্পর্শ করে।”
— সূরা বাক্বারাহ ২:২৭৫
➤ এখানে “শয়তান স্পর্শ করা” শব্দটি জ্বীন-আছরের বাস্তবতা প্রমাণ করে।

“আমি মানুষের বুকে কুমন্ত্রণা দিই সে শয়তানের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই।”
— সূরা নাস

হাদীস

এক সাহাবী শিশু জ্বীনের আছরে আক্রান্ত হলে রাসুল ﷺ তার মাথায় হাত রেখে রুকইয়াহ পড়তেন।
— মুসনাদ আহমাদ

সম্ভাব্য লক্ষণ

বর্তমান যুগের ক্লিনিক্যাল পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, জ্বীন আছর সন্দেহ হলে সাধারণত দেখা যায়:

হঠাৎ অকারণে প্রচণ্ড রাগ, ভয় বা কান্না

শরীর অবশ হয়ে যাওয়া, শ্বাস আটকে আসা

বুক ভারী লাগা, কারণ ছাড়া দুঃস্বপ্ন

কুরআন শুনলে বিরক্তি, অথবা মোচড়ানো ব্যথা

হঠাৎ কোনো স্থানে যেতে ভয়, মানুষের সাথে কথা বলতে অনীহা

মনে হয় কেউ পাশেই আছে বা দেখছে

চিকিৎসা করেও কারণহীন ব্যথা না কমা

সতর্কতা: এগুলো সবসময় জ্বীনের আছর না-ও হতে পারে। এগুলো অনেকসময় মানসিক চাপ, ট্রমা, নিউরো–ইমব্যালেন্স, থাইরয়েড বা ভিটামিন D/B12 ঘাটতির কারণেও হয়। এজন্য ইসলাম চিকিৎসাকে অস্বীকার করেনি।

---

বদনজর (Evil Eye)

ইসলাম কি বদনজরকে স্বীকার করে?

হ্যাঁ, বদনজর বাস্তব।

হাদীসের প্রমাণ

রাসুল ﷺ বলেন: “বদনজর সত্য।”
— সহীহ মুসলিম

অন্য হাদীসে তিনি বলেন:
“বেশিরভাগ মানুষ বদনজরের কারণে কবরে যায়।”
— সহীহ বুখারী (আল-আদবুল মুফরদ)

সম্ভাব্য লক্ষণ

বর্তমান যুগের রোগীদের মধ্যে বদনজরের সাধারণ লক্ষণ:

হঠাৎ শরীর দুর্বল হয়ে যাওয়া

কোনো কাজ ঠিকমতো চলছিল, হঠাৎ নষ্ট হয়ে যাওয়া

অতিরিক্ত মাথাব্যথা

চোখের চারপাশে ভারী ভাব

কোনো শিশু হঠাৎ কান্না করা বা দুধ না খাওয়া

একজনের সৌন্দর্য বা সফলতা দেখে অন্যের ঈর্ষা হলে সেই প্রভাবে ক্ষতি হওয়া

নোট: এটা অতি প্রাকৃতিক ঘটনা নয়—হাদীস অনুযায়ী ঈর্ষা ও নেতিবাচক দৃষ্টি বাস্তব ক্ষতি করে।

---

হাসাদ (Jealousy/Evil Jealousy)

হাসাদ বা ঈর্ষা মানসিক এবং রুহানী—দুইভাবেই ক্ষতি করে।

কুরআনের প্রমাণ

“আমি আশ্রয় চাই হিংসুকের অনিষ্ট থেকে, যখন সে হিংসা করে।”
— সূরা ফালাক, আয়াত ৫

হাদীস

রাসুল ﷺ বলেন:
“হাসাদ ভালো কাজগুলো পুড়িয়ে ফেলে যেমন আগুন কাঠ পুড়িয়ে ফেলে।”
— সুনান আবু দাউদ

হাসাদের লক্ষণ

ব্যক্তির ওপর ধারাবাহিক দুর্ভাগ্য

কাজের বরকত চলে যাওয়া

পরিবারে হঠাৎ অশান্তি

মন খারাপ, অকারণে কান্না

আগে যা আনন্দ দিত, এখন তা আর ভালো না লাগা

নিজেকে মূল্যহীন মনে হওয়া

---

কালো যাদু (Sihr / Black Magic)

কালো যাদু কি সত্য?

হ্যাঁ, কুরআনে যাদুর প্রমাণ আছে।

কুরআন

“তারা শিখতো সেই জাদু, যা হারুত–মারুতের উপর নাজিল হয়েছিল… মানুষ স্বামী–স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানোর মতো জাদু শিখতো।”
— সূরা বাক্বারাহ ২:১০২

➤ এখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে, যাদু পরিবার ভাঙতে পারে, সম্পর্ক নষ্ট করতে পারে।

হাদীস

নবী ﷺ স্বয়ং লবাধিকের যাদুর শিকার হয়েছিলেন।
— সহীহ বুখারী

তিনি অসুস্থ বোধ করতেন, মনে হতো কাজ করলেও করেননি—এটি যাদুর পরিচিত লক্ষণ।

সম্ভাব্য লক্ষণ

স্বামী–স্ত্রীর মধ্যে তীব্র ঝগড়া

একে অপরকে দেখলেই রাগ

ব্যবসা বারবার নষ্ট হওয়া

ঘুমের সমস্যা

দুঃস্বপ্ন দেখা

চুল, রক্ত, নোংরা জিনিস ঘরে পাওয়া (কখনো হয়, বেশিরভাগ সময় প্র্যাকটিক্যালি দেখা যায় না)

ভালো চিকিৎসা সত্ত্বেও অকারণে অসুখ

---

রুহানী সমস্যা বনাম মেডিক্যাল সমস্যা: কিভাবে বুঝবেন?

একজন রোগীকে ৩ভাবে পরীক্ষা করা উচিত—

১) মেডিক্যাল মূল্যায়ন

রক্ত পরীক্ষা

থাইরয়েড

ভিটামিন D/B12

স্লিপ ডিসঅর্ডার

মানসিক চাপ
বেশিরভাগ “জ্বীন–বদনজর” ধারণার ৫০–৬০% আসলে এগুলোর কারণে হয়।

২) মানসিক/সাইকোলজিক্যাল মূল্যায়ন

ডিপ্রেশন

প্যানিক ডিসঅর্ডার

PTSD

ট্রমা

রিলেশনশিপ স্ট্রেস
এসব থাকলে চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।

৩) রুহানী মূল্যায়ন

যখন—

ডাক্তার কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না

চিকিৎসা নিচ্ছেন, উন্নতি হচ্ছে না

কুরআন শুনলে অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া

দুঃস্বপ্ন, অদ্ভুত ভয়, হঠাৎ শক্তিহীনতা
তখন রুকইয়া করা যায়।

---

রুকইয়া (Ruqyah): ইসলামিক চিকিৎসা

কুরআন–হাদীস সমর্থিত রুকইয়া

১) সূরা ফাতিহা

নবী ﷺ এক আক্রান্ত ব্যক্তিকে শুধু সূরা ফাতিহা পড়ে সুস্থ করেছিলেন।
— সহীহ বুখারী

২) সূরা বাক্বারাহ

“বাক্বারাহ পড়লে ঘরে শয়তান প্রবেশ করতে পারে না।”
— সহীহ মুসলিম

৩) আয়াতুল কুরসি

ঘুমের আগে পড়লে শয়তানকে দূরে রাখে।
— সহীহ বুখারী

৪) সূরা ফালাক + সূরা নাস

যাদু, বদনজর, জ্বীন থেকে সুরক্ষার সবচেয়ে শক্তিশালী আমল।

৫) রুকইয়া দুয়া

“আল্লাহুম্মা রাব্বান-নাস, আদহিবিল-বা’স…”

“বিসমিল্লাহি আরকীক…”

---

রুকইয়া করার সহজ পদ্ধতি (প্রতিদিন)

১. হাত দুটোতে ফুঁ দিয়ে

সূরা ফালাক

সূরা নাস

আয়াতুল কুরসি

সূরা ফাতিহা
পড়ুন এবং পুরো শরীরে মাসেহ করুন।

2. পানি পড়ে পান করুন:

ফালাক

নাস

ইখলাস

ফাতিহা

3. ঘুমের আগে:

আয়াতুল কুরসি

আমানা রাসুলু (বাক্বারাহ ২:২৮৫–২৮৬)

4. ঘর থেকে ছবি/মূর্তি/সংগীত বাদ দিন
— এগুলো শয়তান আকর্ষণ করে (সহীহ মুসলিম)

5. প্রতি শুক্রবার বাক্বারাহের কিছু অংশ পড়ুন।

---

কখন রুকইয়া দরকার? (চেকলিস্ট)

একই দুঃস্বপ্ন বারবার

কুরআন শুনলে ভয়ের অনুভূতি

চিকিৎসা নিলেও কোনো উন্নতি নেই

শরীর ভারী, বুক চাপ

অকারণে কান্না

পরিবারে অশান্তি

হঠাৎ কর্মজীবনে বিপর্যয়

মাথায় চাপ বা আগুন–আগুন লাগা অনুভূতি

তবে অতিরিক্ত সন্দেহবাতিকতা থেকেও বিরত থাকুন।

---

রুগীর জন্য বাস্তব পরামর্শ (আপডেটেড)

১) কুরআন + মেডিক্যাল দুইটাই নিন

ইসলাম চিকিৎসা নিতে নিষেধ করে নাই।

2) জীবনযাত্রা পরিবর্তন

পর্যাপ্ত ঘুম

নিয়মিত দোয়া–যিকির

স্ক্রিন টাইম কমানো

হারাম থেকে বাঁচা

পরিচ্ছন্নতা

পরিবারের সাথে সময় কাটানো

3) মানসিক স্বাস্থ্য

অনেক রোগী আসলে PTSD, ডিপ্রেশন, ট্রমায় ভোগেন। এগুলো রুকইয়ার সাথে থেরাপি নিলে খুব দ্রুত ভালো হয়।

4) NLP/মাইন্ডফুলনেস + রুকইয়া

অনেক রোগীর ক্ষেত্রে (বিশেষত আপনি যেমন কোচিং করতে চান):

Calm breathing

Anchor technique

Cognitive reframing

Thought replacement
এসব রুকইয়ার সাথে দিলে ফল চমৎকার হয়।

---

ভুল ধারণা ও সতর্কতা

ঝাড়–ফুঁক, আগুন–ধোঁয়া, তাবিজ–কবচ — হারাম

কবরের পানি, গাছের ডাল, পীরের তেল— হারাম

নাম না জানা কোনো রুকইয়া/কোড শব্দ পড়া— বিডআত

অতি সন্দেহ— মানসিক রোগ তৈরি করে

---

উপসংহার

জ্বীনের আছর, বদনজর, হাসাদ ও কালো যাদুর বাস্তবতা ইসলামের দৃষ্টিতে প্রমাণিত। তবে বর্তমান যুগে এগুলো নিয়ে অতি ভয়, অন্ধবিশ্বাস ও ভুল চিকিৎসা বাড়ছে। এজন্য একজন সচেতন মুসলিমকে তিনটি পথে চলতে হবে:

১) শরয়ি রুকইয়া
২) মেডিক্যাল ও সাইকোলজিক্যাল চেকআপ
৩) আল্লাহর ওপর ভরসা ও নিয়মিত যিকির

রোগের ধরন শারীরিক, মানসিক বা রুহানী—যাই হোক না কেন, কুরআন–হাদীসের নির্দেশনা মেনে চললে সমাধান অবশ্যই পাওয়া যায়।

আমাদের কাছে রুক্বইয়াহ করতে যোগাযোগ করুন নিচে দেওয়া নাম্বারে
০১৬২১-২৪১৫০৩

29/01/2026

আমরা নিয়মিত কাপিং ও রুক্বইয়াহ করছি,
আমাদের চেম্বার খোলা আছে।
মোবাইল: ০১৬২১-২৪১৫০৩
ঠিকানা: মেডিকেল রোড, শহীদনগর, মাতুয়াইল, ঢাকা।

আমরা নিয়মিত কাপিং করছি,আমাদের চেম্বার খোলা আছে।মোবাইল: ০১৬২১-২৪১৫০৩ঠিকানা: মেডিকেল রোড, শহীদনগর, মাতুয়াইল, ঢাকা।
10/01/2026

আমরা নিয়মিত কাপিং করছি,
আমাদের চেম্বার খোলা আছে।
মোবাইল: ০১৬২১-২৪১৫০৩
ঠিকানা: মেডিকেল রোড, শহীদনগর, মাতুয়াইল, ঢাকা।

শয়তানের নিকটতম হওয়ার জন্য যাদুকর যেসব কুকর্মের আশ্রয় নেয়যাদু (Sihr) একটি বাস্তব অথচ ভয়াবহ সত্য, যার অস্তিত্ব ইসলাম স্বীক...
10/01/2026

শয়তানের নিকটতম হওয়ার জন্য যাদুকর যেসব কুকর্মের আশ্রয় নেয়

যাদু (Sihr) একটি বাস্তব অথচ ভয়াবহ সত্য, যার অস্তিত্ব ইসলাম স্বীকার করে, কিন্তু একই সঙ্গে একে কুফরি ও ধ্বংসাত্মক কাজ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। কুরআনুল কারিমে যাদুর উল্লেখ এসেছে সতর্কবার্তা হিসেবে, কোনো প্রশংসা বা অনুমোদন হিসেবে নয়। যাদু এমন একটি মাধ্যম, যার মাধ্যমে মানুষ শয়তান ও জ্বিনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ চুক্তিতে আবদ্ধ হয়।

এই চুক্তির মূল শর্ত হলো—আল্লাহর অবাধ্যতা এবং শয়তানের প্রতি আনুগত্য।

কুরআন–হাদীস, ইসলামী আকিদা ও আধুনিক মনোবৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের আলোকে বিষয়টি সংক্ষিপ্ত আকারে তুলে ধরা হলো:

১. যাদু ও শয়তানের সম্পর্ক: তাত্ত্বিক ভিত্তি
ইসলামী আকিদা অনুযায়ী, শয়তান এমন এক সৃষ্টিজাত, যে আল্লাহর অবাধ্যতার কারণে অভিশপ্ত হয়েছে। শয়তান মানুষের ইবাদত চায় না; বরং চায় মানুষের ঈমান ধ্বংস করতে। যাদু এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের অন্যতম কার্যকর অস্ত্র।
কুরআনে বর্ণিত হয়েছে:
“তারা শয়তানদের অনুসরণ করেছিল, যারা সুলাইমানের রাজত্বকালে যাদু শিক্ষা দিত।”
— (সূরা আল-বাকারা: ১০২)
এই আয়াত স্পষ্ট করে দেয়—যাদুর উৎস মানবিক নয়; বরং শয়তানি।

২. আল্লাহর ইবাদত পরিত্যাগ: প্রথম ও মৌলিক শর্ত
যাদুকর হওয়ার পথে প্রথম শর্ত হলো তাওহীদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা। অধিকাংশ যাদুকরকে শয়তান যে নির্দেশগুলো দেয়, তার মধ্যে রয়েছে:
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ত্যাগ
কুরআন অবমাননা (মাটিতে ফেলা, উল্টো করে রাখা)
পবিত্রতা বজায় না রাখা
আল্লাহর নাম উচ্চারণে বিরক্তি অনুভব করা
মনোবৈজ্ঞানিকভাবে এটি একটি ডিসেনসিটাইজেশন প্রক্রিয়া, যেখানে ব্যক্তি ধীরে ধীরে পবিত্রতার প্রতি সংবেদনশীলতা হারিয়ে ফেলে।

৩. নাপাক ও বিকৃত কাজের মাধ্যমে শয়তানের সন্তুষ্টি অর্জন
শয়তান পবিত্রতা অপছন্দ করে। তাই যাদুকরদের বলা হয়—
অপবিত্র স্থানে আমল করতে (টয়লেট, কবরস্থান)
ঋতুস্রাব, রক্ত, মৃত প্রাণীর অংশ ব্যবহার করতে
দুর্গন্ধযুক্ত বস্তু সংগ্রহ করতে
অপবিত্র অবস্থায় নির্দিষ্ট মন্ত্র পাঠ করতে
এসব কাজ ধর্মীয়ভাবে হারাম এবং মানসিকভাবে বিকৃত আচরণের উদাহরণ। গবেষণায় দেখা যায়, দীর্ঘদিন এ ধরনের আচরণে লিপ্ত ব্যক্তিদের মধ্যে moral disengagement এবং psychopathic traits বৃদ্ধি পায়।

৪. কুফরি বাক্য ও শিরকি চুক্তি
যাদু কার্যকর হওয়ার জন্য যাদুকরকে প্রায়ই শয়তানের নামে কসম করতে হয় অথবা নির্দিষ্ট শিরকি বাক্য উচ্চারণ করতে হয়। এর মধ্যে :
আল্লাহ ছাড়া অন্য সত্তার কাছে সাহায্য চাওয়া
জ্বিনকে “মুর্শিদ” বা “রক্ষক” মানা
কুরআনের আয়াত উল্টো করে লেখা
আল্লাহর গুণাবলি বিকৃতভাবে ব্যবহার
ইসলামী ফিকহ অনুযায়ী, এসব কাজ সরাসরি কুফর।

৫. নিষিদ্ধ উপকরণ ব্যবহার ও টার্গেটেড
যাদুগুলো শুধু ব্যক্তিগত সাধনা নয়; প্রায়শই অন্যের ক্ষতির উদ্দেশ্যে করা হয়। যাদুকররা ব্যবহার করে—
মানুষের চুল, নখ, রক্ত
ব্যবহৃত কাপড়
কবরের মাটি
পুতুল বা প্রতিকৃতি
এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট ব্যক্তির ওপর মানসিক, শারীরিক বা সামাজিক ক্ষতি আরোপ করা হয়। সমাজবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা যায় malicious intentional harm।

৬. ফিতনা ছড়ানো: শয়তানের বৃহত্তরলক্ষ্য

হাদীসে এসেছে—
“ইবলিস তার সিংহাসন পানির উপর স্থাপন করে এবং তার সেনাদের পাঠায় ফিতনা সৃষ্টির জন্য।”
— (সহিহ মুসলিম)
তাই যাদুকরদের দিয়ে করানো হয়—
স্বামী–স্ত্রীর বিচ্ছেদ
পরিবারে সন্দেহ সৃষ্টি
ব্যবসায় ক্ষতি
সামাজিক বিভাজন
এভাবে যাদু ব্যক্তিগত সমস্যা থেকে সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়।

৭. যাদুকরের মানসিক ও আত্মিক পরিণতি (একাডেমিক কেস স্টাডিতে) দেখা যায়—
অধিকাংশ যাদুকর শেষ জীবনে মারাত্মক উদ্বেগ, প্যারানয়া ও হ্যালুসিনেশনে ভোগে
আত্মিক শূন্যতা ও আত্মহত্যার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়
সামাজিক বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়
কারণ, শয়তান প্রতিশ্রুতি দিলেও কখনো প্রকৃত শান্তি দেয় না।

৮. শারীয়াহ সম্মত প্রতিকার: রুকইয়াহ ও তাওহীদের ভূমিকা

ইসলামী শারীয়াহ তে যাদুর বিপরীতে সমাধান —
বিশুদ্ধ আকিদা
নিয়মিত নামাজ
কুরআন তিলাওয়াত
সকাল–সন্ধ্যার যিকির
শরীয়াহসম্মত রুকইয়াহ
রুকইয়াহ কোনো বিকল্প শক্তি নয়; বরং এটি আল্লাহর কালামের মাধ্যমে শিফা প্রার্থনা।

যাদু মূলত শয়তানের সাথে একটি ধ্বংসাত্মক চুক্তি, যার মূল্য দিতে হয় ঈমান, মানসিক সুস্থতা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার মাধ্যমে। যাদুকর যত বেশি কুকর্মে লিপ্ত হয়, সে তত বেশি শয়তানের নিকটবর্তী হয়—এবং আল্লাহ থেকে দূরে সরে যায়।
অতএব, যাদুর মোকাবেলায় ভয় নয়—প্রয়োজন জ্ঞান, ঈমান ও সচেতনতা।

কুরআনই সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা,
বিশুদ্ধ আক্বীদাহই সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়।

এই লেখার বেশকিছু অংশ AI থেকে নেয়া।

শয়তান ও যাদুকরের চুক্তি: বাস্তবতা, পদ্ধতি ও ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গিবর্তমান যুগে “যাদু”, “বদনজর”, “জিনের আছর” ইত্যাদি বিষয় নিয়...
28/12/2025

শয়তান ও যাদুকরের চুক্তি: বাস্তবতা, পদ্ধতি ও ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি

বর্তমান যুগে “যাদু”, “বদনজর”, “জিনের আছর” ইত্যাদি বিষয় নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। অনেকেই একে কুসংস্কার বলে উড়িয়ে দেন, আবার অনেকেই অযথা ভয় পেয়ে যান। কিন্তু ইসলাম এই বিষয়গুলোকে neither অস্বীকার করে nor অতিরঞ্জিত করে—বরং বাস্তবতা, সীমা ও প্রতিকার স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করে দিয়েছে। শয়তান ও যাদুকরের মধ্যে যে চুক্তির কথা বলা হয়, তা কল্পকাহিনি নয়; বরং কুরআন, হাদিস ও বহু বাস্তব রুকইয়াহ অভিজ্ঞতায় প্রমাণিত একটি বিষয়।
যাদু কি সত্যিই বাস্তব?

কুরআনে স্পষ্টভাবে যাদুর অস্তিত্বের কথা এসেছে। সূরা বাকারা (২:১০২) আয়াতে হারুত-মারুতের ঘটনা উল্লেখ করে আল্লাহ বলেন—মানুষ এমন জিনিস শিখত যা দিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বিচ্ছেদ ঘটানো হয়। অর্থাৎ যাদু বাস্তব এবং এর প্রভাব সামাজিক ও পারিবারিক জীবনে ভয়াবহ হতে পারে। তবে একই আয়াতে এটাও পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে—আল্লাহর অনুমতি ছাড়া যাদু কারও ক্ষতি করতে পারে না।
শয়তান ও যাদুকরের চুক্তি কীভাবে হয়?

এই চুক্তির কয়েকটি সাধারণ দিক হলো:

ইবাদত ত্যাগ ও অবমাননা
যাদুকরকে নামাজ ছেড়ে দিতে হয়, পবিত্রতা নষ্ট করতে হয়, কখনো কুরআনের আয়াত উল্টো করে লিখতে হয় বা নাপাক স্থানে রাখতে হয়।

হারাম কাজের মাধ্যমে আনুগত্য প্রমাণ
ব্যভিচার, মদ্যপান, পশু বা পাখি কুরবানি দিয়ে রক্ত অপবিত্রভাবে ব্যবহার, কিংবা নির্দিষ্ট দিনে নির্দিষ্ট পাপ করা—এসবের মাধ্যমে শয়তানের প্রতি আনুগত্য দেখানো হয়।

শিরক ও কুফরি বাক্য
অনেক ক্ষেত্রে যাদুকরকে আল্লাহ ছাড়া অন্য শক্তির কাছে সাহায্য চাইতে হয়, জিনকে সিজদা করতে হয় বা শিরকি মন্ত্র পাঠ করতে হয়।

এর বিনিময়ে শয়তান বা অধীনস্থ জিনেরা যাদুকরকে তথ্য দেয়, মানুষের দুর্বলতা জানায়, ভয় সৃষ্টি করে বা যাদুর কাজ বাস্তবায়নে সহায়তা করে।

শয়তান কেন সহযোগিতা করে?
শয়তানের মূল লক্ষ্য একটাই—মানুষকে শিরক ও কুফরের দিকে নিয়ে যাওয়া। যাদুকর যখন নিজের ঈমান বিসর্জন দেয়, তখন সে শয়তানের জন্য সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার হয়ে ওঠে। কুরআনে শয়তান সম্পর্কে বলা হয়েছে—সে মানুষকে মিথ্যা আশ্বাস দেয়, ধীরে ধীরে ধ্বংসের পথে ঠেলে দেয়।

বাস্তবে দেখা যায়, যাদুকররা শুরুতে কিছু “সাফল্য” পেলেও শেষ পরিণতি হয় ভয়াবহ—মানসিক ভারসাম্যহীনতা, পরিবার ধ্বংস, অস্বাভাবিক মৃত্যু কিংবা চরম দারিদ্র্য।
যাদুর প্রভাব কাদের ওপর পড়ে?

যাদু সাধারণত পড়ে—
ঈমান দুর্বল ব্যক্তির ওপর
নিয়মিত নামাজ ও যিকিরহীন জীবনে
দীর্ঘদিন গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তির ওপর
ভয় ও কুসংস্কারে আক্রান্ত মানুষের ওপর

তবে শক্ত ঈমানদার মানুষও পরীক্ষা হিসেবে আক্রান্ত হতে পারে—যেমন নবী মুহাম্মদ ﷺ–এর ওপর লাবিদ ইবনুল আসাম যাদু করেছিল। কিন্তু আল্লাহ তাঁকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে দেন এবং উম্মতকে শিক্ষা দেন।
যাদু, বদনজর ও জিনের আছরের লক্ষণ
রুকইয়াহ অভিজ্ঞতায় সাধারণ কিছু লক্ষণ দেখা যায়—
হঠাৎ অকারণ ভয়, দুঃস্বপ্ন
নামাজে অস্বস্তি, কুরআন শুনলে রাগ
দাম্পত্য কলহ, যৌন অনীহা
চিকিৎসায় ধরা না পড়া শারীরিক সমস্যা
একাকীত্ব, আত্মহত্যার চিন্তা
সব সমস্যাই যে যাদু—এমন নয়। তবে লক্ষণগুলো একত্রে থাকলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

ইসলামে এর প্রতিকার ?
ইসলাম কখনো যাদু দিয়ে যাদুর চিকিৎসা করতে বলে না। বরং কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। সঠিক প্রতিকার হলো—
তাওহিদ ও তাওবার দিকে ফেরা
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ প্রতিষ্ঠা
সকাল-সন্ধ্যার যিকির
সূরা ফালাক, নাস, আয়াতুল কুরসি নিয়মিত পাঠ
বিশুদ্ধ কুরআনভিত্তিক রুকইয়াহ
বিশ্বাসযোগ্য, আকিদা-সহিহ রুকইয়াহ প্র্যাকটিশনারের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে—যিনি শিরক, তাবিজ ও গোপন আচার থেকে মুক্ত।

উপসংহার
শয়তান ও যাদুকরের চুক্তি কোনো রূপক গল্প নয়—এটি ঈমান ধ্বংসের এক বাস্তব ষড়যন্ত্র। তবে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। কারণ শয়তান যত শক্তিশালীই হোক, আল্লাহর কালাম তার চেয়েও শক্তিশালী। যে ব্যক্তি কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরে, তার ওপর কোনো যাদু স্থায়ীভাবে কাজ করতে পারে না।

সচেতনতা, সঠিক জ্ঞান ও আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসাই হলো এই অদৃশ্য যুদ্ধের সবচেয়ে বড় অস্ত্র।

#রুক্বইয়াহ

ফখরুদ্দীন আর-রাযী বলেনঃ শরীয়তের পরিভাষায় যাদু প্রত্যেক এমন নির্ধারিত বিষয়কে বলা হয় যার কারণ গোপন রাখা হয় এবং এর বাস...
28/12/2025

ফখরুদ্দীন আর-রাযী বলেনঃ শরীয়তের পরিভাষায় যাদু প্রত্যেক এমন নির্ধারিত বিষয়কে বলা হয় যার কারণ গোপন রাখা হয় এবং এর বাস্তবতার বিপরীত কিছু প্রদর্শন করা হয়। আর তা ধোকা ও মিথ্যার আশ্রয়ভুক্ত। (আল মিসবাহুল মুনীরঃ ২৬৮)

#রুক্বইয়াহ

যাদু হল এক গিরা-বন্ধন, মন্ত্র ও এমন কথা যা যাদুকর পড়ে অথবা লিখে অথবা এমন কোন কাজ করে যার মাধ্যমে যাদুকৃত ব্যক্তির শরীর,...
28/12/2025

যাদু হল এক গিরা-বন্ধন, মন্ত্র ও এমন কথা যা যাদুকর পড়ে অথবা লিখে অথবা এমন কোন কাজ করে যার মাধ্যমে যাদুকৃত ব্যক্তির শরীর, মন ও মস্তিষ্কের উপর পরোক্ষভাবে প্রভাব ফেলে। আর তার বাস্তবক্রিয়া রয়েছে। সুতরাং এর দ্বারা মানুষকে হত্যা করা হয়, অসুস্থ করা হয়, স্বামী-স্ত্রীর সহবাসে বাধা সৃষ্টি করা হয় এবং উভয়ের বিচ্ছেদ ঘটানো হয় এবং পরস্পরের মধ্যে বিদ্বেষ সৃষ্টি বা পরস্পরের মধ্যে প্রেম লাগিয়ে দেয়া হয়। (আল-মুগনীঃ ১০/১০৪)

-ইবনে কুদামা

#রুক্বইয়াহ

রাসুলুল্লাহ সাঃ সুস্থ্যতার জন্য হিজামা করেছেন, এই উম্মাহকে হিজামার ব্যপারে তিনি তাগিদ দিয়েছেন। যখন তিনি মেরাজে গমন করেন,...
28/12/2025

রাসুলুল্লাহ সাঃ সুস্থ্যতার জন্য হিজামা করেছেন, এই উম্মাহকে হিজামার ব্যপারে তিনি তাগিদ দিয়েছেন।

যখন তিনি মেরাজে গমন করেন, আসমানের ফেরেশতারা তাকে বলছিলো যে আপনি আপনার উম্মাতকে অবশ্যই হিজামার নির্দেশ দিবেন।

এর কারন "হিজামাতে শিফা রয়েছে"

যারা বদনজর, হাসাদ, জীনের আসর, যাদু ও স্বাভাবিক অসুস্থতায় রুক্বইয়াহ এর পাশাপাশি হিজামার করার সিদ্ধান্ত হতে পারে আপনার সৌভাগ্য ও সুস্থ্যতার কারন।

এবং এই সব বিষয়ে অবহেলা করে মানুষ কখনো কখনো অজানা-অদেখা এক বৃত্তের মাঝে ঘুরতে থাকে জীবন যৌবন সব খুইয়ে ফেলে কিন্তু সুস্থ্যতার হদিসও সে পায় না।

তাই, পাশাপাশি আপনি আপনি নিয়মিত সঠিক খাবার খাবেন, সময়মতো ঘুমাবেন, মাসনুন আমলগুলো সঠিকভাবে করবেন। ইনশাআল্লাহ আশা করা যায় আপনি কখনোই জটিল কঠিন রোগের ঝুকিতে পরবেন না।

পরবর্তী পোস্টের জন্য আমাদের পেজ ফলো করুন এবং পোষ্টটি শেয়ার করুন।

শহীদনগর, মাতুয়াইল, ঢাকা।
27/12/2025

শহীদনগর, মাতুয়াইল, ঢাকা।

শহীদনগর, মাতুয়াইল, ঢাকা
27/12/2025

শহীদনগর, মাতুয়াইল, ঢাকা

26/12/2025

Address

Institute Of Child And Mother, Dhaka
Dhaka-1216
1217

Opening Hours

Monday 10:00 - 20:00
Tuesday 10:00 - 20:00
Wednesday 10:00 - 20:00
Thursday 15:00 - 20:30
Friday 10:00 - 20:00
Saturday 10:00 - 20:00
Sunday 10:00 - 20:00

Telephone

+8801634394263

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Specialized Ruqyah and Cupping Center posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to Specialized Ruqyah and Cupping Center:

Share

Share on Facebook Share on Twitter Share on LinkedIn
Share on Pinterest Share on Reddit Share via Email
Share on WhatsApp Share on Instagram Share on Telegram