Dr. Suchisree Saha

Dr. Suchisree Saha HEALTH ( A complete physical, mental, & social wellbeing)

বাচ্চাকে জোর করে খাওয়াচ্ছেন, কিন্তু জোর করে ঘুম পাড়াতে পারছেন না? আপনি তার সবচেয়ে বড় ক্ষতিটা করছেন! 🌙❌মায়েরা প্রায়ই বলেন...
25/12/2025

বাচ্চাকে জোর করে খাওয়াচ্ছেন, কিন্তু জোর করে ঘুম পাড়াতে পারছেন না? আপনি তার সবচেয়ে বড় ক্ষতিটা করছেন! 🌙❌

মায়েরা প্রায়ই বলেন, "আমার বাচ্চা খায় না, তাই ও বড় হচ্ছে না।" কিন্তু বিজ্ঞান বলছে ভিন্ন কথা। বাচ্চা খাবার টেবিলে বড় হয় না, বাচ্চা বড় হয় বিছানায় - গভীর ঘুমের মধ্যে।

কেন রাত ১০টার মধ্যে ঘুমানো বাধ্যতামূলক? আর কেনই বা সে ঘুমাতে চায় না? আসুন বিজ্ঞানটা বুঝি।

📏 ১. উচ্চতা বৃদ্ধির ফ্যাক্টরি (Growth Hormone): মানুষের শরীর লম্বা হওয়ার জন্য যে HGH (Human Growth Hormone) প্রয়োজন, তার ৭৫% নিসৃত হয় ঘুমের মধ্যে। এর 'পিক টাইম' হলো রাত ১০টা থেকে রাত ২টা। বাচ্চা যদি ১১টায় ঘুমায়, তবে ও ডিপ স্লিপে যেতে যেতে ১২টা বেজে যাবে। অর্থাৎ, ও তার গ্রোথ হরমোনের সবচেয়ে ভাইটাল সময়টা মিস করলো।

🧠 ২. ব্রেইন ডিটক্স (The Glymphatic System): ঘুমের মধ্যে মস্তিষ্কের "Glymphatic System" বা ঝাড়ুদার চালু হয়, যা সারাদিনের জমে থাকা টক্সিন পরিষ্কার করে। এটি না হলে বাচ্চার মেধা এবং মনোযোগ কমে যায়।

🤯 বাচ্চা কেন ঘুমাতে চায় না? (The "Second Wind" Trap) আপনি কি খেয়াল করেছেন, রাত ৯টার দিকে বাচ্চার একটু ঝিমুনি আসে, কিন্তু সেটা পার হয়ে গেলে ১০টার পর সে হঠাৎ হাইপার-অ্যাক্টিভ হয়ে যায়? একে বলা হয় "Second Wind"। বাচ্চা যখন তার নির্দিষ্ট 'স্লিপ উইন্ডো' মিস করে, তখন শরীরকে জাগিয়ে রাখতে তার ব্রেইন Cortisol এবং Adrenaline (স্ট্রেস হরমোন) রিলিজ করে। ফলে সে আর ঘুমাতে পারে না, বরং আরও চঞ্চল হয়ে ওঠে।

বাচ্চা নিজ থেকে ঘুমাবে না, আপনাকেই পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
১. Dim the Lights: সূর্যাস্তের পর থেকেই বাসার আলো কমিয়ে দিন। উজ্জ্বল আলো বাচ্চার ব্রেইনকে সিগন্যাল দেয় - "এখনো দিন আছে, জেদ করো!"
২. The Boredom Rule: শোবার ঘরকে 'বোরিং' বানান। কোনো খেলনা বা স্ক্রিন থাকবে না।
৩. Catch the Window: বাচ্চার প্রথম হাই তোলা বা চোখ ডলুনি দেখলেই বিছানায় নিন। ওই সময়টা মিস করলেই কিন্তু 'যুদ্ধ' শুরু হবে!

আজ থেকে ডিনার আর্লি, স্লিপও আর্লি!
©

ডিম খুবই জনপ্রিয় ও পুষ্টিকর একটি খাবার। তবে ডিম নিয়ে অনেকের কিছু কমন প্রশ্ন থাকে। আজ সেগুলোর উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করছি।🔹ড...
18/12/2025

ডিম খুবই জনপ্রিয় ও পুষ্টিকর একটি খাবার। তবে ডিম নিয়ে অনেকের কিছু কমন প্রশ্ন থাকে। আজ সেগুলোর উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করছি।

🔹ডিমে কী কী উপাদান থাকে?
ডিমে প্রধানত উচ্চমানের প্রোটিন থাকে, যা শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
ডিমের কুসুমে থাকে তিন ধরনের ফ্যাট— স্যাচুরেটেড ফ্যাট, মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট ও পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট

এর মধ্যে মনো ও পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট শরীরের জন্য উপকারী।
একটি ডিমে স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে প্রায় ১.৫ গ্রাম।
একজন সুস্থ মানুষ প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২২ গ্রাম, আর হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তি ১৫ গ্রাম পর্যন্ত স্যাচুরেটেড ফ্যাট গ্রহণ করতে পারেন।

🔹 প্রতিদিন কয়টি ডিম খাওয়া যায়?
এর উত্তর ব্যক্তিভেদে আলাদা।
যদি কোলেস্টেরল, হৃদরোগ বা স্ট্রোকের সমস্যা না থাকে, তাহলে দিনে ১–২টি ডিম খাওয়া যায়।
এসব সমস্যা থাকলে প্রতিদিন ১টি সিদ্ধ বা অল্প তেলে ভাজা ডিম খাওয়া নিরাপদ।
🔹 ডিম কুসুমসহ খাবো নাকি ছাড়া?
সুস্থ ব্যক্তিরা কুসুমসহ ডিম খেতে পারেন।
যাদের কোলেস্টেরল, হৃদরোগ বা স্ট্রোক আছে, তারা কুসুম ছাড়া খেতে পারেন।
তবে কুসুমে থাকা অল্প পরিমাণ স্যাচুরেটেড ফ্যাট সাধারণত সমস্যা তৈরি করে না।

🔹 ডিম ভেজে খাবো নাকি সিদ্ধ?
সিদ্ধ ডিম সবচেয়ে ভালো।
তবে সামান্য তেল দিয়ে ভাজা ডিমও খাওয়া যেতে পারে।
ভাজা ডিমে ক্যালোরি তুলনামূলক বেশি থাকে।

🔹 হাই প্রেসারের রোগীরা কি ডিম খেতে পারবেন?
অবশ্যই পারবেন। প্রতিদিন ১টি সিদ্ধ বা অল্প তেলে ভাজা ডিম খেলে সাধারণত কোনো সমস্যা হয় না।

ডাঃ রতীন্দ্র নাথ মন্ডল
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ

18/12/2025

মাস্ক ব্যবহারের জন্য অনুরোধ!!!!

শীতকালে লম্বা সময় ধরে দেশে বৃষ্টি হয়না। এরফলে বাতাসে ধুলোবালি সহ দূষনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। যা নিশ্বাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে মানুষকে অসুস্থ করে দেয়।

শীতকালে এমন সুন্দর আবহাওয়া দেখে আমরা অনেকেই আবহাওয়া বা বায়ুদূষণের দিকে ঠিকমতো খেয়াল রাখিনা। আর এই সুযোগেই দূষিত বায়ু আমাদের ফুসফুসের মারাত্মক ক্ষতি করে।

তাই এই অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষতি কিছুটা হলেও কমিয়ে আনতে বাইরে বের হলেই সবসময় মাস্ক ব্যবহার করবেন। মনে রাখবেন আপনার সচেতনতাই আপনাকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করবে।

ধন্যবাদ
BWOT

কেন ছোট মাছ খাবেন—আপনি জানেন না কারণটা!⭐ ১) প্রাকৃতিক ক্যালসিয়ামের সেরা উৎসছোট মাছ কাঁটাসহ খেলে শরীর ৫–১০ গুণ বেশি ক্যাল...
05/12/2025

কেন ছোট মাছ খাবেন—আপনি জানেন না কারণটা!

⭐ ১) প্রাকৃতিক ক্যালসিয়ামের সেরা উৎস
ছোট মাছ কাঁটাসহ খেলে শরীর ৫–১০ গুণ বেশি ক্যালসিয়াম পায়।
➡ হাড়–জোড়া মজবুত হয়
➡ অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি কমে

⭐ ২) ভিটামিন–A সমৃদ্ধ
মলা, পুঁটি, ঢেঁইচা—এগুলো চোখের জন্য দারুণ উপকারী।
➡ রাতকানা প্রতিরোধ
➡ দৃষ্টি সুরক্ষা

⭐ ৩) মস্তিষ্কের জন্য প্রয়োজনীয় Omega-3
কাঁটা সমৃদ্ধ ছোট মাছের ওমেগা-৩ বড় মাছের চেয়েও ঘনভাবে থাকে।
➡ স্মৃতিশক্তি উন্নতি
➡ ব্রেইন ডেভেলপমেন্ট ভালো

⭐ ৪) আয়রনে সমৃদ্ধ – রক্তস্বল্পতা কমায়
বিশেষ করে কাঁচকি ও মলা মাছ।
➡ হিমোগ্লোবিন দ্রুত বাড়ে
➡ ক্লান্তি কমে

⭐ ৫) সহজ হজম ও কম কোলেস্টেরল
ছোট মাছের ফ্যাট হেলদি ও সহজে হজমযোগ্য।
➡ হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়

03/12/2025

একজন মানুষের নিজের সম্পর্কে যা জানতে হবে
১)ওজন কত? কত থাকতে হবে।
২) ব্লাড প্রেসার কত? কত থাকতে হবে।
৩)ব্লাড গ্লুকোজ কত? কত থাকতে হবে।
৪)রক্তে কোলেস্টেরল কত? কত থাকতে হবে।

আমাদের শরীরের কিডনী, লিভার, হার্ট এবং ব্রেন এর যত খারাপ খারাপ রোগ আছে সবগুলোই হয় উপরের কোন একটির বা সবগুলোর সমস্যার জন্য।

উপরের ৪ টি যার স্বাভাবিক আছে তার বড় ধরনের রোগ হবার সম্ভবনা খুব কম।

এই ৪ টির সাথে ২ টি জিনিস অত্যাত্ন গুরুত্তপূর্ণ
১) খাওয়া দাওয়া-তেল-চর্বি কম খাওয়া; ধুমপান, তামাক (হারাম) পরিহার করা।
২) প্রতিদিন ৩০ মিনিট হাঁটা।

ডাঃ রতীন্দ্র নাথ মণ্ডল

19/11/2025

এগারোটি দেশের ১৭টি গবেষণার পর্যালোচনায় বিড়াল পোষা এবং সিজোফ্রেনিয়ার ঝুঁকির মধ্যে একটি সম্পর্ক পাওয়া গেছে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, বিড়ালের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের সিজোফ্রেনিয়া হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় দ্বিগুণ, বিশেষ করে যারা অল্প বয়সে বিড়ালের সাথে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে ছিলেন। এর মূল কারণ হিসেবে 'টক্সোপ্লাজমা গন্ডি' নামক পরজীবীর ভূমিকা উল্লেখ করা হয়েছে, যা বিড়ালের মাধ্যমে ছড়াতে পারে।

—Prof. Dr. Saifuddin Ekram

06/11/2025
05/11/2025

WHICH ORGAN LOVES WHICH HABIT?

1. Brain – Loves 7–8 hours of sleep

2. Heart – Loves daily walks

3. Lungs – Love deep breathing

4. Liver – Loves less alcohol & clean eating

5. Skin – Loves hydration

6. Stomach – Loves mindful eating

7. Kidneys – Love enough water

8. Muscles – Love regular movement

9. Eyes – Love screen breaks

10. Gut – Loves fiber-rich foods

গবেষণায় দেখা গেছে যে রাতে সামান্য আলোও (যেমন নাইট লাইট বা স্ক্রিনের আলো) ঘুমের গুণগত মানকে ব্যাহত করতে পারে এবং সার্কাড...
28/10/2025

গবেষণায় দেখা গেছে যে রাতে সামান্য আলোও (যেমন নাইট লাইট বা স্ক্রিনের আলো) ঘুমের গুণগত মানকে ব্যাহত করতে পারে এবং সার্কাডিয়ান রিদম (শরীরের প্রাকৃতিক ঘড়ি) নষ্ট করতে পারে।

অন্ধকার না থাকলে মস্তিষ্ক পর্যাপ্ত পরিমাণে মেলাটোনিন তৈরি করতে পারে না, যা ঘুম আসার জন্য প্রয়োজনীয় একটি হরমোন। বিশেষ করে স্ক্রিন থেকে আসা নীল আলো মেলাটোনিন নিঃসরণে বিশেষভাবে বাধা দেয়।

আলো গভীর ও আরামদায়ক ঘুমের পর্যায়ে যেতে বাধা দিতে পারে, যার ফলে ঘুম হয় খন্ডিত।

দীর্ঘমেয়াদী ঘুমের ব্যাঘাতের সাথে বিষণ্নতা , মেজাজ পরিবর্তন, হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি এবং স্থূলতার ঝুঁকির যোগসূত্র পাওয়া গেছে।

তাই, মস্তিষ্ককে সম্পূর্ণরূপে সুস্থ হওয়ার এবং মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞ ঘুমের সময় সম্পূর্ণ অন্ধকার বা যতটা সম্ভব কম আলো রাখার পরামর্শ দেন।

যদি আলো একেবারেই এড়ানো সম্ভব না হয়, তবে কিছু কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে লাল বা অ্যাম্বার (কমলা-হলুদ) রঙের মৃদু আলো ঘুমের উপর নীল আলোর তুলনায় কম নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
©️

⭕Allergy Panel Test কি?Allergy Panel Test হলো এক ধরনের রক্ত পরীক্ষা, যার মাধ্যমে শরীরে কোনো নির্দিষ্ট পদার্থের (allergen...
14/10/2025

⭕Allergy Panel Test কি?

Allergy Panel Test হলো এক ধরনের রক্ত পরীক্ষা, যার মাধ্যমে শরীরে কোনো নির্দিষ্ট পদার্থের (allergen) প্রতি অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া আছে কিনা তা জানা যায়। এই পরীক্ষায় শরীরের IgE (Immunoglobulin E) অ্যান্টিবডির মাত্রা মাপা হয়। যদি কোনো allergen-এর জন্য IgE বেশি থাকে, তবে বোঝা যায় শরীর ঐ পদার্থটির প্রতি সংবেদনশীল বা অ্যালার্জিক।

⭕কেন বাচ্চাদের এই টেস্ট করা হয়

বাচ্চাদের মধ্যে নিচের লক্ষণগুলো দেখা গেলে সাধারণত Allergy Panel Test করার পরামর্শ দেওয়া হয়—

1️⃣শ্বাসযন্ত্র সংক্রান্ত সমস্যা:
ঘন ঘন হাঁচি, নাক বন্ধ বা নাক দিয়ে পানি পড়া
হাঁপানির মতো শ্বাসকষ্ট
রাতে কাশি বেড়ে যাওয়া

2️⃣খাদ্যসংক্রান্ত সমস্যা:
নির্দিষ্ট খাবার খাওয়ার পর বমি, পেট ব্যথা, ডায়রিয়া
ত্বকে র‍্যাশ, চুলকানি, ফোলা

3️⃣ত্বকজনিত সমস্যা:
একজিমা বা অ্যাটোপিক ডার্মাটাইটিস
চুলকানি বা হাইভস

4️⃣চোখ ও নাকের অ্যালার্জি:
চোখ লাল হওয়া বা চুলকানো
নাক চুলকানো বা বন্ধ থাকা

⭕এই টেস্ট থেকে যা জানা যায়

🍀শরীরে কোন কোন জিনিসে অ্যালার্জি আছে, যেমন:

ধুলাবালি, পরাগরেণু (pollen)
পশুর লোম
ডিম, দুধ, গম, বাদাম, সয়াবিন, মাছ, চিংড়ি ইত্যাদি খাবার
ছত্রাক বা ফাঙ্গাস

🪴অ্যালার্জির মাত্রা কতটুকু (কম, মাঝারি বা বেশি)

🌿কোন ধরনের অ্যালার্জি প্যাটার্ন আছে (খাদ্যজনিত, ধুলাবালিজনিত, মৌসুমী ইত্যাদি)

🍁টেস্টের ফলাফল কীভাবে কাজে লাগে

কোন খাবার বা পরিবেশগত জিনিসগুলো এড়িয়ে চলতে হবে তা বোঝা যায়

ডাক্তারের জন্য চিকিৎসা পরিকল্পনা করা সহজ হয়

অযথা ওষুধ খাওয়া বা অকারণে খাবার বাদ দেওয়া থেকে বাঁচা যায়।

ডাঃ মাহাদী হাসান

ভাত না রুটি? কোনটা স্বাস্থ্যের জন্য বেশি ভালো? এই প্রশ্নটা আমাদের অনেকের মনেই ঘুরপাক খায়। বিশেষ করে যারা ওজন কমানো বা স্...
14/10/2025

ভাত না রুটি? কোনটা স্বাস্থ্যের জন্য বেশি ভালো? এই প্রশ্নটা আমাদের অনেকের মনেই ঘুরপাক খায়। বিশেষ করে যারা ওজন কমানো বা স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন নিয়ে ভাবছেন, তাদের জন্য এই দ্বন্দ্ব বেশ পুরোনো। চলুন, আজ এই বিষয়ে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক!
পুষ্টিগুণের তুলনা
পুষ্টি উপাদান | ২টি গমের রুটি | ১০০ গ্রাম ভাত
কার্বোহাইড্রেট | ৩০ গ্রাম | ৩০ গ্রাম
প্রোটিন | ৬ গ্রাম | ৩ গ্রাম
ফ্যাট | ৪ গ্রাম | ০.৩ গ্রাম
ক্যালরি | ১৬৫ | ১৪০

বিশ্লেষণ
ক্যালরি: ১০০ গ্রাম ভাতের চেয়ে দুটি গমের রুটিতে ক্যালরির পরিমাণ কিছুটা বেশি। তবে অন্যান্য সূত্র মতে, ভাত ও রুটির ক্যালরির পরিমাণে খুব বেশি পার্থক্য নেই।
প্রোটিন ও ফাইবার: রুটিতে ভাতের চেয়ে বেশি প্রোটিন ও ফাইবার থাকে। ফাইবার বেশি থাকায় রুটি হজম হতে বেশি সময় নেয় এবং পেট অনেকক্ষণ ভরা থাকে, ফলে সহজে খিদে পায় না। যারা ওজন কমাতে চান, তাদের জন্য এটি বেশ উপকারী।
খনিজ উপাদান: রুটিতে ফসফরাস, আয়রন, পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়ামের মতো খনিজ পদার্থ ভাতের চেয়ে বেশি পরিমাণে থাকে।
কার জন্য কোনটা বেশি উপকারী?
ওজন কমাতে: যারা ওজন কমাতে চাইছেন, তাদের জন্য রুটি একটি ভালো বিকল্প হতে পারে। কারণ রুটিতে ফাইবার বেশি থাকায় পেট ভরা থাকে এবং বারবার খাওয়ার প্রবণতা কমে। তবে পরিমাণ মতো খেলে ভাতও খাওয়া যেতে পারে। সেক্ষেত্রে লাল চালের ভাত বেছে নেওয়া ভালো, কারণ এতে ফাইবার বেশি থাকে।
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য: ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ভাতের চেয়ে রুটি বেশি উপকারী হতে পারে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ভাতের পরিবর্তে রুটি খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।
হজমের সমস্যায়: যাদের বদহজমের সমস্যা আছে, তাদের জন্য রুটির চেয়ে ভাত খাওয়া বেশি ভালো, কারণ ভাত দ্রুত হজম হয়। আবার কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় রুটি বেশি উপকারী।
কিছু জরুরি তথ্য
সাদা চালের ভাত বা সাদা আটার রুটির চেয়ে লাল চালের ভাত বা লাল আটার রুটি বেশি স্বাস্থ্যকর।
রুটিতে গ্লুটেন নামক একটি উপাদান থাকে, যা অনেকে হজম করতে পারেন না। তাদের ক্ষেত্রে ভাতের কোনো বিকল্প নেই।
শেষ কথা
ভাত বা রুটি, কোনোটিই একেবারে খারাপ নয়। দুটোই আমাদের শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় কার্বোহাইড্রেটের উৎস।আপনার শারীরিক অবস্থা, হজমশক্তি এবং খাদ্যাভ্যাসের ওপর নির্ভর করে আপনি কোনটি খাবেন তা ঠিক করতে পারেন। পরিমিত পরিমাণে খেলে দুটিই আপনার স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে।

01/10/2025

১. বাংলাদেশসহ এই উপমহাদেশীয় অঞ্চলের মানুষের প্রথম হার্ট এটাক হওয়ার বয়স সাধারণত ৫১/৫২ বছর। অথচ ইউরোপ-এমেরিকায় সাধারণত এটি ৬৫ বছরের আশাপাশে গিয়ে হয়।

২. সাধারণ মানুষ তো বটেই হার্টের রোগীরাও ডিম খেতে পারবে। কুসুমসহই খাবে। ডিমের সাদা অংশে থাকে প্রোটিন, কুসুমে থাকে ভালো ফ্যাট। দুটোই স্বাস্থ্যের পক্ষে উপকারী ও প্রয়োজনীয়। তবে পরিমিত মাত্রায় খেতে হবে।

৩. হার্টের রোগীদের গরু ও খাসির মাংস খাওয়া যাবে। তবে অল্প পরিমাণে খেতে বলা হয়। ঝোল যতোটা সম্ভব কম খেতে হবে। অনেকে বলে থাকে, আমি মাংস খাই না, শুধু মাংসের ঝোল দিয়ে রুটি খাই। এটা বরং আরও ক্ষতির কারণ হতে পারে। যে বেলায় রেড মিট খাবে, সে বেলায় চিনি/মিষ্টিজাতীয় খাবার পরিহার করতে হবে।

৪. হার্টের রোগীদের লবণ পরিমিত মাত্রায় খেতে হবে। রান্নায় কম লবণ ব্যবহার করতে হবে। পাতে আলাদা করে লবণ খাবার অভ্যেস পরিহার করতে হবে। যেসব খাবারে অতিরিক্ত লবণ থাকে যেমন : চিপস, ফাস্ট ফুড ইত্যাদির ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। কাঁচা লবণ, পাকা লবণ, ভাজা লবণ, টালা লবণ--সব লবণই ক্ষতিকর।

চিনিকে বলা হয় হোয়াইট পয়জন। এটি যতো কম খাওয়া যাবে ততোই মঙ্গল। অতিরিক্ত ভাত, রুটি, নুডলস, পাস্তা খাবার প্রবণতা কমাতে হবে। এগুলো ডায়াবেটিস ডেকে আনতে পারে।

৫. সেদিন সিসিউতে রাউন্ডে গিয়ে দেখি ২৫, ২৮ ও ৩০ বছর বয়সী ৩ জন পুরুষ একইদিনে গুরুতর হার্ট এটাক নিয়ে শুয়ে আছে। এমন কম বয়সী হার্ট এটাকের রোগী অহরহই পাওয়া যাচ্ছে। এদের না আছে ডায়াবেটিস, না আছে হাই ব্লাড প্রেশার, না আছে রক্তে অত্যধিক কোলেস্টেরল, না অতিরিক্ত ওজন, না অপরিশ্রমী। তাহলে কেন এমন বড়ো হার্ট এটাক? এর মূল কারণ ধূমপান। ধূমপান যে কী ভয়ানক পরিণতি ডেকে আনা তা কল্পনাই করা যায় না।

ধূমপান ছাড়ার কোনো বিকল্প নেই। ধূমপান ছাড়ার দুই বছরের মধ্যে হৃদরোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসে।

৬. এক সপ্তাহে কমপক্ষে ১৫০ মিনিট হাঁটতে হবে।

-তার মানে হচ্ছে কেউ যদি ৩০ মিনিট করে হাঁটে, তবে সপ্তাহে ৫ দিন হাঁটতে হবে।

-১ দিন পরপর হাঁটলে ৫০ মিনিট করে হাঁটতে হবে।

-একসাথে টানা দুদিন বা ৪৮ ঘণ্টা হাঁটা বন্ধ করে দেওয়া যাবে না।

- একনাগাড়ে কমপক্ষে ১০ মিনিট না হাঁটলে সাধারণত সেটাতে কোনো উপকার হয় না।

একটা বিষয় খেয়াল রাখতে হবে, হাঁটা শুরু করার সাথে সাথেই খুব জোরে হাঁটা শুরু না করতে বলা হয়ে থাকে। কেউ যদি ৩০ মিনিট হাঁটে, তাহলে প্রথম ৫-৭ মিনিট ওয়ার্ম আপ করে নেবে, তারপরের ১৫-২০ মিনিট জোরে জোরে হাঁটবে, আবার তারপরের ৫-৭ মিনিট ধীরে ধীরে গতি কমিয়ে নিয়ে আসবে।

সকালে ঘুম থেকে উঠে শরীরকে এডজাস্ট হবার সময় না দিয়ে সাথেসাথেই হাঁটা শুরু করা যাবে না। এতে হার্ট এটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে। সকালের চেয়ে বিকেল/সন্ধ্যায় হাঁটাকে অনেক গবেষণা বেশি উপকারী হিসেবে বিবেচনা করে।

রিসেন্ট গাইডলাইনগুলোতে রেজিস্ট্যান্স ট্রেনিং-এর ব্যাপারটি আলাদা করে উঠে এসেছে। কম সময়ে খুব ভালো বেনিফিট দিতে পারে এটি।

৭. রাত তিনটা থেকে সকাল নয়টা--এই সময়টুকুতে হার্ট এটাক ও স্ট্রোক হবার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে।

৮. বুকে তীব্র ব্যথা,

কিংবা এমন বুকে চাপ যেন বুকের ওপর একটা পাথর বসে আছে,

ব্যথা/চাপ কিছুতেই কমে না,

ব্যথা ছড়িয়ে যাচ্ছে চোয়ালে, গলায়, বাহুতে, পিঠে, পেটের উপরিভাগে।

প্রচণ্ড ঘাম দিচ্ছে শরীর।

খুব বমি বমি ভাব কিংবা বমি হয়ে গেছে।

শ্বাসকষ্ট হচ্ছে।

আগে বুকে ব্যথা উঠলে বিশ্রাম নিলে বা জিহবার নিচে স্প্রে দিলে কমে যেতো আজ কিছুতেই কমছে না।

মনে হচ্ছে মারাই যাবে। এগুলো সবই হার্ট এটাকের লক্ষণ।

এমন লক্ষণ দেখা দিলে প্রথম কাজটিই হবে, যতো দ্রুত সম্ভব হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে গিয়ে একটি ইসিজি করা। এর-ওর সঙ্গে নানা পরামর্শ করে সময়ক্ষেপণ করা, মনে হচ্ছে গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা ঠিক হয়ে যাবে এই ভেবে শুয়ে থাকা, এমনকি চিকিৎসকের প্রাইভেট চেম্বারে গিয়েও সময় নষ্ট করা উচিত না। সরাসরি ইমার্জেন্সি ডিপার্টমেন্টে।

৯. টাইম ইজ মাসেল। হার্ট এটাক হবার পর যতো সময় যায়, ততো হার্টের মাংসপেশি নষ্ট হয়ে যেতে থাকে।

যতো তাড়াতাড়ি চিকিৎসা শুরু করা যায়, ততোই সফলতার সম্ভাবনা বাড়ে এবং জটিলতা তৈরি হবার সম্ভাবনা কমে। দেরি করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে অনেকক্ষেত্রেই ভালো চিকিৎসা অপশনের সুযোগ কমে আসে। যেমন: প্রাইমারি পিসিআই বা থ্রম্বোলাইটিক বারো ঘন্টার বেশি সময় পেরিয়ে গেলে সাধারণভাবে দেওয়া যায় না।

সময়মতো আসতে পারলে সর্বাধুনিক চিকিৎসা হচ্ছে সঙ্গে সঙ্গে ক্যাথ ল্যাবে রোগীকে নিয়ে ব্লক থাকলে তা খুলে দেওয়া/রিং স্থাপন করে ফেলা। বাংলাদেশের খুব কম হসপিটালেই এটি সম্ভব।

সেক্ষেত্রে থ্রম্বোলাইটিকস-ই প্রধান চিকিৎসা হয়ে ওঠে। টেনেকটিপ্লেজ সেক্ষেত্রে প্রাধান্য পাবে রোগীর সামর্থ্য থাকলে। উন্নত বিশ্বে নানা কারণে স্ট্রেপটোকাইনেজ এখন আর ব্যবহৃত হয় না।

১০. হার্টের রোগ থেকে বাঁচতে ডায়াবেটিস, হাই প্রেশার, ডিজলিপিডেমিয়া (অতিরিক্ত কোলেস্টেরল) ও ওবেসিটির যথাযথ চিকিৎসা করতে হবে।

আজ বিশ্ব হার্ট দিবস। সবার সুস্বাস্থ্য কামনা করি।

ডা. মারুফ রায়হান খান
কার্ডিওলজিস্ট

Address

Maulvi Bazar

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dr. Suchisree Saha posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Share on Facebook Share on Twitter Share on LinkedIn
Share on Pinterest Share on Reddit Share via Email
Share on WhatsApp Share on Instagram Share on Telegram