04/01/2026
বদনজর কীভাবে নারী, পুরুষ, বাচ্চাদের সৌন্দর্য নষ্ট করে,
এর থেকে বাঁচার উপায়।
(যখন নজর আপনার চেহারার উপর আঘাত করে)
(১) বদনজর প্রথমে সরাসরি মুখে আসে না
বদনজর শুরু হয় মুখের চারপাশের অদৃশ্য আভা বা প্রভাব থেকে।
অত্যধিক সুন্দর হওয়াও জরুরি নয়-
কেউ যদি মনে মনে হিংসা বা বিরক্তি নিয়ে তাকায়,
সেই দৃষ্টির প্রভাব ধীরে-ধীরে এই আভায় আঘাত করে
এবং হঠাৎ করেই ত্বকের উজ্জ্বলতা হারিয়ে যেতে পারে।
(২) মুখের রক্ত সঞ্চালনে বাধা সৃষ্টি করে
বদনজরের প্রভাবে মুখে রক্ত চলাচল কমে যেতে পারে।
ফলে-
ত্বক ফ্যাকাশে লাগে
চোখের নিচে কালচে দাগ পড়ে
গালের স্বাভাবিক রঙ হারায়
খাওয়া-দাওয়া ঠিক থাকলেও মুখে আর আগের সতেজতা থাকে না।
(৩) ত্বক সবসময় অসুস্থ দেখায়
ত্বকের স্বাভাবিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়।
ফলে-
অকালেই বলিরেখা দেখা যায়
লোমকূপ বড় হয়ে যাওয়া
ত্বক হঠাৎ শুকিয়ে যাওয়া বা অকারণে ফুলে যাওয়া
সব মিলিয়ে মনে হয় যেন বয়স হঠাৎ অনেক বেড়ে গেছে।
(৪) নারীত্বের স্বাভাবিক কোমলতা কমে যায়
চেহারার গড়ন কিছুটা রুক্ষ মনে হতে পারে।
কখনো স্বরে অস্বাভাবিকতা,
কখনো অনাকাঙ্ক্ষিত স্থানে লোম গজানো-
এসবের মাধ্যমে নারীর স্বাভাবিক সৌন্দর্য ঢেকে দেওয়ার চেষ্টা হয়,
যাতে সে নিজেই ভেঙে পড়ে।
(৫) চুলের উপরও মারাত্মক প্রভাব পড়ে
ত্বকের মতো চুলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়-
অতিরিক্ত চুল পড়া
ফাঁকা জায়গা তৈরি হওয়া
হঠাৎ রুক্ষতা
পরিষ্কার থাকা সত্ত্বেও অদ্ভুত গন্ধ
যা নারীর গর্বের জায়গা ছিল, সেটাই অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
(৬) আত্মবিশ্বাস ভেঙে দেয়
আয়নায় তাকিয়ে মনে হয়-
“আমি আগের মতো সুন্দর নেই”
“আমার চেহারা বদলে গেছে”
এই আত্মঅবিশ্বাসই বদনজরের অন্যতম উদ্দেশ্য-
নিজেকে অপছন্দ করতে বাধ্য করা।
(৭) এমনকি মেকআপও কাজ করে না
মেকআপ দিলেও মুখ আরও নিস্তেজ লাগে।
যেন ত্বক কোনোভাবেই সাড়া দিচ্ছে না।
কারণ মুখের চারপাশে থাকা নেতিবাচক প্রভাব
স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা বের হতে বাধা দেয়।
(৮) অন্যদের চোখে বিকৃতভাবে ধরা পড়ে
কেউ আপনাকে স্বাভাবিক দেখলেও
কেউ কেউ আপনাকে অদ্ভুত বা খারাপভাবে দেখতে পারে।
এর কারণ-
বদনজরের প্রভাব অন্যের দৃষ্টিতেও বিভ্রান্তি তৈরি করে।
(৯) শরীর যেন নিজের মনে হয় না
আগের পোশাক হঠাৎ অস্বস্তিকর লাগে।
মনে হয় শরীরের গঠন বদলে গেছে।
নিজের সাথেই একধরনের অমিল অনুভব হয়।
(১০) সবচেয়ে ভয়ংকর বিকৃতি-নিজের চোখে
সবচেয়ে বিপজ্জনক হলো,
যখন আপনি নিজেই নিজেকে বিকৃত মনে করতে শুরু করেন।
ভালো দিকগুলো উপেক্ষা করে শুধু ত্রুটিই চোখে পড়ে।
এ থেকে একধরনের মানসিক অবসাদ তৈরি হয়।
চিকিৎসা: সমন্বিত কয়েকটি ধাপে রুকইয়াহ প্রয়োজন
কারণ এই ধরনের বদনজর
শুধু শরীর নয়-মন, আত্মবিশ্বাস ও মানসিক অবস্থাকেও প্রভাবিত করে।
(১) প্রতিদিনের শরিয়াহসম্মত সুরক্ষা
সকাল ও সন্ধ্যায় পড়ুন-
সূরা ফাতিহা
আয়াতুল কুরসি
সূরা ইখলাস
সূরা ফালাক
সূরা নাস
সূরা বাক্বারার শেষ আয়াতসমূহ
বিশেষ করে এই যিকিরটি নিয়মিত পড়ুন-
أعوذ بكلمات الله التامات من شر ما خلق
আউযুবি কালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন শাররিমা খালাখ।
মাঝে মাঝে সূরা ইউসুফ পড়ুন-
এটি মুখে নূর ও গ্রহণযোগ্যতা ফিরিয়ে আনে।
(২) রুকইয়াহ করা পানিতে গোসল
পানির উপর পড়ুন-
সূরা ফাতিহা
সূরা বাক্বারা (সম্পূর্ণ)
ইখলাস, ফালাক, নাস
বদনজরের আয়াতসমূহ
টানা ৭ দিন প্রতিদিন গোসল করুন।
ঘরের কোণায় ও শরীরে (বিশেষ করে মুখ ও মাথায়) এই পানি ছিটান।
(৩) অলিভ অয়েল দিয়ে মুখে মালিশ
প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে-
রুকইয়াহ পড়া অলিভ অয়েল দিয়ে মুখে হালকা মালিশ করুন
নূরের আয়াত ও সৌন্দর্য সম্পর্কিত আয়াত পড়ুন
এটি বদনজরের প্রভাব নষ্ট করতে সহায়ক।
(৪) ভেতরের মানসিক পরিচ্ছন্নতা
নিজেকে অন্যের সাথে তুলনা করা এড়িয়ে চলুন
আয়নায় তাকিয়ে বলুন:
“মা শা আল্লাহ, লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ”
বেশি বেশি ইস্তিগফার করুন-এটি নেতিবাচক প্রভাব দূর করে।
(৫) খাবার ও বিশ্রাম
প্রচুর পানি পান করুন
মধু, খেজুর, ডুমুর, অলিভ অয়েল গ্রহণ করুন
রাত জাগা কমান
অজু অবস্থায় ঘুমান-ঘুমের সময় শরীর নিজেকে মেরামত করে।
(৬) প্রয়োজনে বিশেষ রুকইয়াহ সেশন
মুখ ও মানসিক প্রভাবের উপর ফোকাস করে
অভিজ্ঞ রাক্বির মাধ্যমে রুকইয়াহ করালে
বাকি থাকা প্রভাবও দূর হতে সাহায্য করে।
(৭) নিয়মিত অনুসরণ
বদনজর বারবার লাগতে পারে-
তাই ধারাবাহিকতা সবচেয়ে জরুরি।
হঠাৎ ফ্যাকাশে ভাব, ক্লান্তি বা চেহারায় পরিবর্তন টের পেলে
সঙ্গে সঙ্গে আবার রুকইয়াহ ও যিকিরে ফিরে আসুন।
আস সুন্নাহ হিজামা এন্ড রুকিয়াহ সেন্টার।
শাহ মোস্তফা রোড, সুলতানপুর পয়েন্ট, মৌলভীবাজার।
📞01856- 992217