Autism Care Center of Bangladesh

Autism Care Center of Bangladesh Autism Care Center Bangladesh is a treatment based home service for Autism Spectrum Disorder (ASD)

09/09/2024
লার্নিং ডিসএবিলিটি (শেষ অংশ)অনেক প্যারেন্টস বলে আমার বাচ্চা স্কুল এ গিয়ে মনোযোগ দেয়না, লিখে না, অংক বুজে না, লেখা পড়ার ক...
03/12/2023

লার্নিং ডিসএবিলিটি (শেষ অংশ)

অনেক প্যারেন্টস বলে আমার বাচ্চা স্কুল এ গিয়ে মনোযোগ দেয়না, লিখে না, অংক বুজে না, লেখা পড়ার ক্ষেত্রে কোনো আগ্রহ নেই। প্রথম পর্বে লার্নিং ডিসএবিলিটি কি? এর সংকেত চিহ্ন গুলো কি কি এবং আপনার শিশু লার্নিং ডিসএবিলিটিতে আক্রান্ত কিনা এ গুলো সম্পর্কে ধারনা দেয়া হয়েছে লার্নিং ডিসএবিলিটি বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। তার মধ্যে প্রধান কয়েকটি লার্নিং ডিসএবিলিটি নিয়ে আলোচনা করবো। একটি বিষয় মনে রাখা দরকার এটেনশন ডেফিসিট হাইপারঅ্যাক্টিভিটি ডিসঅর্ডার (ADHD) এবং অটিজমের বৈশিষ্ট্যগুলো লার্নিং ডিসএবিলিটির সাথে মিল থাকলেও এই সমস্যাগুলো ভিন্ন।

১ .ডিসলেক্সিয়া:
ডিসলেক্সিয়া মূলত শিশুর ভাষাগত প্রক্রিয়াকরণে সমস্যা সৃষ্টি করে। পাশাপাশি এটি শিশুর পড়তে পারা ও লিখতে পারা কঠিন করে তোলে। তাছাড়া এটি ব্যাকরণগত সমস্যা সৃষ্টি ও পড়া বোঝার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি করে। তাছাড়া এই রোগে আক্রান্ত শিশুরা কোনো কথোপকথন চলাকালে নিজেদের মত প্রকাশ করা ও তৎক্ষনাৎ চিন্তাভাবনা করতে জটিলতার মুখোমুখি হয়।
এই সমস্যাটি প্রকাশ পায় মূলত লেখা এবং লিখিত কোনো অংশের পাঠোদ্ধার করার সময় কারণ তার জন্য সঠিকভাবে ধ্বনি ও বর্নের সমন্বয় করা সম্ভব হয় না। খুব সহজ ভাষায় বলতে গেলে, এই সমস্যায় আক্রান্ত ব্যাক্তির (dyslexic) লিখতে ও পড়তে বিশেষ সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। তবে এটি শারীরিক অন্যান্য সমস্যা যেমন চোখ, কিংবা কান অথবা বুদ্ধিমত্বার সাথে সরাসরি সম্পৃক্তম্পৃ নয়।

২.ডিসক্যালকুলিয়া:
এই ব্যাধিতে আক্রান্ত শিশুরা সাধারণত গণিতে সমস্যার সম্মুখীন হয়। যেমন হিসাব করা, গাণিতিক সূত্র ও সমীকরণ বোঝা ও মনে রাখা এবং সময় ও টাকা সংক্রান্ত বিষয় বুঝতে সমস্যায় পড়ে। ডিসক্যালকুলিয়ার লক্ষণগুলি সাধারণত সময়ের সাথে পরিবর্তিত হয়।ছোট শিশুরা হয়তো গণনার ক্ষেত্রে জটিলতায় পড়তে পারে। আবার কিছুটা বড় শিশুরা হয়তো সংখ্যা বা কলাম বা সারি উল্টো-পাল্টা করে ফেলতে পারে। এই রোগে আক্রান্ত শিশুরা বড় হওয়ার পরও গাণিতিক সমস্যা সনাক্ত ও সমাধানে বাঁধা বাঁ র সম্মুখী ম্মু ন হয়। এই ধরনের ডিসএবিলিটি সাধারণত ফাঙ্কশনাল স্কিল যেমন বোর্ড গেইম খেলা, কোনো কিছু পরিমাপ করা এবং টাকা গুণার ক্ষেত্রে সমস্যার মুখোমুখি করতে পারে।

৩.ডিসপ্রাক্সিয়া:
ডিসপ্রাক্সিয়া সাধারণত শিশুর মোটর স্কিল বা অঙ্গ সঞ্চালনকে প্রভাবিত করে। মোটর দক্ষতা আমাদের চলাফেরা এবং সবকিছুর সমন্বয় করতে সহযোগিতা করে। ডিসপ্রাক্সিয়া আক্রান্ত শিশু হয়তো আচমকাই কোনো কিছুর সাথে ধাক্কা খেতে পারে অথবা একটি চামচ বা পেন্সিল ধরে রাখার ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়তে পারে বা নিজের জুতা পড়তে জটিলতায় পড়তে পারে। এসব শিশু পরবর্তীতে লেখা ও টাইপ করার ক্ষেত্রেও সমস্যায় পড়তে পারে। এছাড়া আরো বিভিন্ন রকম সমস্যা দেখা যেতে পারে, যেমন : চোখের মুভমেন্টে সমস্যা। কথা বলার ক্ষেত্রে জটিলতা। আলো, স্পর্শ, স্বাদ ও ঘ্রাণের প্রতি সংবেদনশীলতা।

৪.ডিসগ্রাফিয়া:
ডিসগ্রাফিয়া হচ্ছে লেখার কাজে জটিলতা বোধ করা অর্থাৎ ডিসগ্রাফিয়া শিশুর লেখার ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে। ডিসগ্রাফিয়া আক্রান্ত শিশুর সাধারণত নিম্নলিখিত সমস্যা দেখা যায়। যেমন : বাজে হ্যান্ডরাইটিং। বানান সংক্রান্ত সমস্যা। তার নিজস্ব চিন্তাভাবনা বা পাঠ্যবই থেকে অর্জিত জ্ঞান খাতায় লিখতে না পারা।

৫.সেন্সরি প্রসেসিং ডিসঅর্ডার:
এই ধরনের ডিসেবিলিটি মস্তিষ্কের তথ্য গ্রহণ ক্ষমতা, এর প্রক্রিয়াকরণ এবং কার্যকরী উপায়ে ব্যবহারের ক্ষেত্রে জটিলতার সৃষ্টি করে। লেখক ও থেরাপিস্ট লিন্ডসে বাইয়েল বলেন, “লার্নিং ডিসএবিলিটিতে আক্রান্ত শিশুরা সাধারণত সেন্সরি প্রসেসিং ডিসঅর্ডারে ভোগে যা তাদের সমস্যা আরো জটিল করে তোলে। তিনি আরো বলেন, “অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতা যেমন শব্দের প্রতি অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা , শ্রেণীকক্ষে মাথার উপর আলোর ঝলকানি, এমনকি সহপাঠী বা স্কুলের কারো ঘ্রাণও তাদের মনোযোগ ব্যহত করে”। এই ব্যাধিতে আক্রান্ত শিশুরা প্রায়শই দুটি একই রকমের জিনিস পড়তে বা বুঝতে সমস্যার সম্মুখীন হয়। পাশাপাশি তারা হাত ও চোখের সমন্বয়ও করতে পারেনা সহজে।

৬.অডিটরি প্রসেসিং ডিসঅর্ডার:
এটি মস্তিষ্কের শব্দ প্রক্রিয়াকরণে বাঁধা বাঁ র সৃষ্টিসৃ করে। এই রোগে আক্রান্ত শিশুকে বিভিন্ন রকম সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। যেমন: পড়তে না পারা। দুটো কাছাকাছি ধরণের শব্দ আলাদা করতে না পারা। দিকনির্দেশনা অনুসরণ করতে না পারা। যা শুনেছে তা মনে রাখতে না পারা।

লার্নিং ডিসএবিলিটির কারণ
এটি খুবই দুঃ খজনক ব্যাপার যে স্কুলে যাওয়ার বয়সী প্রায় ৫% শিশু লার্নিং ডিসএবিলিটিতে আক্রান্ত। যদিও বিশেষজ্ঞদের মতে এর কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ নেই। তবে কিছু কিছু বিষয়কে এর জন্য দায়ী মনে করা হয় –

বংশগত ইতিহাস:পরিবারের যে কারো বিশেষ করে বাবা-মা কারো যদি লার্নিং ডিসএবিলিটি থাকে, তাহলে তাদের সন্তানেরও লার্নিং ডিসএবিলিটি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

জন্মের পূর্বে বা পরে অসুস্থতা: জন্মের আগে বা পরে কোনো রকম অসুস্থতা বা আঘাত পাওয়া থেকে লার্নিং ডিসএবিলিটি হতে পারে। গর্ভা বস্থায় কোনো রকম শারীরিক আঘাত, ভ্রূণের ঠিক মত বেড়ে উঠতে না পারা, গর্ভকালীন সময় অ্যালকোহল বা মাদকদ্রব্য সেবন, জন্মের সময় ওজন খুব কম হওয়া, নির্ধারিত সময়ের আগে প্রসব বা দীর্ঘ সময় ধরে প্রসব লার্নিং ডিসএবিলিটির অন্যতম কারণ।

মানসিক আঘাত:শিশু বয়সে কোনো রকম মানসিক আঘাত বা হয়রানি শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে বাঁধা প্রদান করে । এবং সেই সাথে তার লার্নিং ডিসএবিলিটি হওয়ার সম্ভাবনাও অনেক বেড়ে যায়।

শারীরিক আঘাত:জন্মের পরে কোনো গুরুতর ব্যাধি যেমন প্রচণ্ড জ্বর, মাথায় আঘাত পাওয়া, অপুষ্টিজনিত কারণ, নার্ভ সিস্টেমে ইনফেকশন ইত্যাদি কারণে লার্নিং ডিসএবিলিটির সম্ভাবনা থাকে।

পারিপার্শ্বিকর্শ্বি কারণ:দীর্ঘ সময় ধরে কো নো বিষাক্ত পদার্থ যেমন লেড, সিরামিক, রঙ ইত্যাদির সংস্পর্শে থাকলে লার্নিং ডিসএবিলিটির শঙ্কা থাকে।

লার্নিং ডিসএবিলিটির কোনো প্রতিকার রয়েছে কি?
লার্নিং ডিসএবিলিটির কোনো নিরাময় নেই, তবে early intervention অর্থাৎ যত ছোটো বয়সে এই সমস্যা সনাক্ত করা যায়, এবং যত তাড়াতাড়ি প্রফেশ্যানালদের সাহায্য নিয়ে শিশুকে উৎসাহ প্রদান করে, তার অন্যান্য গুনাবলির বিকাশ ঘটিয়ে এবং আক্রান্তদের জন্য সহায়ক বিশেষ উপায়ে প্রশিক্ষণ দেয়ার মাধ্যমে তাকে নিরাময় অযোগ্য এই সমস্যাটির সাথে খাপ খাইয়ে নিয়ে শেখানো শুরু করা যায়, ততই পরবর্তী জীবনে তার সাফল্যের সম্ভবনা বেড়ে যায়।

বাড়তি সহযোগিতা একজন রিডিং স্পেশালিষ্ট (পড়ার পদ্ধতি শেখাতে সাহায্য করেন), একজন গণিতের শিক্ষক অথবা অন্য যেকোনো প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত কর্মী বা শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারেন যিনি বা যারা আপনার শিশুকে বিভিন্ন রকম সহজ ও সাবলীল পদ্ধতিতে পড়াশোনা, প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক দক্ষতার উন্নতিতে সহায়তা করবে।

একক শিক্ষা ব্যবস্থা আপনার সন্তানের যদি স্কুলে বা কোচিংয়ে অনেক শিক্ষার্থীর মাঝে পড়া বুঝতে বা শুনতে কোনো রকম সমস্যা হয় তাহলে তার স্কুলের যেকোনো শিক্ষক বা বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত শিক্ষক তাকে আলা দাভাবে বিষয়গুলো ভালো করে বুঝিয়ে দিতে পারেন। সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি শ্রেণীকক্ষে শিশুকে কিছু বিশেষ সুবিধা দেয়া যেতে পারে, যেমন অ্যাসাইনমেন্ট বা পরীক্ষায় সময় কিছুটা বাড়িয়ে দেওয়া, শিশুকে শিক্ষকের পাশাপাশি বসানো যাতে সে ভালো মতো মনোযোগ দিতে পারে। আবার শিশু কম্পিউটারের সাহায্য নিতে পারে যার মাধ্যমে তার লেখা ও টাইপ করার ক্ষমতা বাড়বে এবং গণিতে র সমাধানেও উপকারী হতে পারে। পাশাপাশি শিশুকে একটি অডিওবুক দিতে পারেন যার মাধ্যমে তার শ্রবণ ক্ষমতা ও পড়ার ক্ষমতা দুটোরই উন্নতি হবে।

থেরাপি এটি মূলত শিশুর লার্নিং ডিসএবিলিটির ধরনের উপর নির্ভরর্ভ শীল। অনেক শিশুরই থেরাপি দেওয়াতে উপকার হতে পারে। যেমন ‘অকুপেশনাল থেরাপি’ শিশুর অঙ্গ সঞ্চালনের উন্নতি ঘটায় যা তার লেখনীর সমস্যা হ্রাস করে। আবার “স্পিচ থেরাপি” তার ভাষা ও কথা বলা সংক্রান্ত সমস্যার বিকাশে সহযোগিতা করে।

ঔষধ শিশুর পরিস্থিতির উপর ভিত্তি করে তার চিকিৎসক হয়তো তাকে ডিপ্রেশন, হতাশা ও অন্যান্য মানসিক সমস্যার ঔষধ দিতে পারেন। এসব ঔষধ তার পড়ালেখার প্রতি মনোযোগী হতে উপকারী হতে পারে। বিকল্প থেরাপি/চিকিৎসা গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে যে নাচ, গান বা ছবি আঁকা লার্নিং ডিসএবিলিটিতে আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে উপকারী হতে পারে।

অনেকে মনে করেন যে ডায়েট বা খাওয়া-দাওয়ার পরিবর্তনর্ত , ভিটামিনের ব্যবহার, চোখের অনুশীলন, প্রযুক্তির ব্যবহার ইত্যাদি বিকল্প চিকিৎসা হিসেবে উপকারী হতে পারে। তবে এসব বিষয়ে বিস্তারিত ও সঠিক ফলাফল জানার জন্য আরো গবেষণা প্রয়োজন। শিশুর সমস্যা যত তাড়াতাড়ি ধরতে পারা যায় আর যত তাড়াতাড়ি চিকিৎসা শুরু করা যায়, ততই ভালো। আর চিকিৎসাকালীন লক্ষ্য করবেন সন্তান চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছে কিনা বা তার উন্নতি হচ্ছে কিনা। যদি না হয়, সেক্ষেত্রে চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মোতাবেক চিকিৎসা পদ্ধতির পরিবর্তনর্ত করতে পারেন।

অভিভাবকগণ কীভাবে ভিন্নভাবে শেখা ও চিন্তা করা সন্তানদের সাহায্য করতে পারেন

এই রোগে আক্রান্ত শিশুদেরকে বিভিন্নভাবেই সহযোগিতা করা যায় যাতে তাদের কাজগুলো সহজে হয়ে আসে। এই ক্ষেত্রে মূল দায়িত্ব পালন করতে পারেন তাদের বাবা-মা। মা-বাবা হিসেবে সবচেয়ে ভালো যে কাজটা আপনি করতে পারেন সেটা হচ্ছে তাদেরকে ভালোবাসুন এবং তা দেরকে সমর্থনর্থ করুন। এছাড়াও তাদেরকে আরো বিভিন্নভাবে আপনি সাহায্য করতে পারেন। যেমন : রোগটি সম্পর্কে সবকিছু জেনে নিন আপনার সন্তানের লার্নিং ডিসএবিলিটি কি ধরনের, কোন পর্যায়ে আছে এবং কীভাবে এটি শেখার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন। তার চিকিৎসকদের সাথে রোগটি নিয়ে কথা বলুন এবং জানুন। পাশাপাশি নিজেও রোগটি সম্পর্কে গবেষণা করুন এবং এতে উপকারী হতে পারে এমন কোনো পদ্ধতি খুঁজে বের করুন। মোটকথা সন্তানের ভালোর বা সুস্থতার জন্য আপনি যা যা করতে পারেন সবই করুন।

তার শক্তির জায়গায় ফোকাস করুন সব শিশুরই এমন কোনো বিষয় বা কাজ রয়েছে যা তার ভালো লাগে এবং যা তার ভালো লাগে না। আপনার সন্তানের পছন্দের ও শক্তিমত্তার জায়গা খুঁজে বের করুন এবং তাকে এগুলো তে আরো উন্নতি করতে সহায়তা করুন। হতে পারে সে ভালো গান করে, নাচে পারদর্শী, খেলাধূলায় ভালো, গণিতে ভালো অথবা ভালো আর্ট করতে পারে। তা কে ভালো কাজ করতে উৎসাহিত করুন এবং প্রতিবার যখন সে কোনো ভালো কাজ করবে তখন অবশ্যই তার প্রশংসা করবেন। আপনার সন্তানের উকিল হন আপনার সন্তানের জন্য একক শিক্ষা পরিকল্পনা (এমন একটি পরিকল্পনা যা শিশুর জন্য একটি কাঙ্খিত লক্ষ্য নির্ধারণ করে এবং সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে সহযোগিতা করে) করতে স্কুল প্রশাসন ও শিক্ষকদের সাথে কাজ করুন এবং তাদের সহযোগিতা করুন।

সন্তানের মানসিক অবস্থার প্রতি মনোযাগী হন লার্নিং ডিসএবিলিটি আপনার সন্তানের আত্নমর্যাদা বোধ ও আত্মসম্মান কমিয়ে দেয়। লক্ষ্য করুন সন্তানের মধ্যে ডিপ্রেশন বা অন্যান্য মানসিক সমস্যার কোনো লক্ষণ দেখতে পান কিনা যেমন – তার স্বাভাবিক কর্মকান্ডে আগ্রহ হারিয়ে ফেলা, মেজাজ অতিরিক্ত খিটখিটে হয়ে যাওয়া, ঘুমের পরিবর্তন হওয়া ইত্যাদি। এই সমস্ত লক্ষণ দেখলে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

লার্নিং ডিসএবিলিটি (প্রথম অংশ )পৃথিপৃবীর অসংখ্য-অগনিত শিশু এই লার্নিং ডিসএবিলিটিতে ভুগছে। এই সমস্ত শিশুর পিতা-মাতারা কেন...
28/10/2023

লার্নিং ডিসএবিলিটি (প্রথম অংশ )

পৃথিপৃবীর অসংখ্য-অগনিত শিশু এই লার্নিং ডিসএবিলিটিতে ভুগছে। এই সমস্ত শিশুর পিতা-মাতারা কেন তাদের সন্তানের এমন হচ্ছে, এখন তাদের করণীয় কী – এগুলো নিয়ে সবসময় চিন্তায় থাকেন। তাদের জন্য আশা করি আজকের এই আর্টিকেলটি কিছুটা হলেও উপকারী হবে।
বলা হয়ে থাকে, শিশুরা কোমলমতি ও ফুলের মতো নিষ্পাপ হয়। তাদের প্রাণ মাতানো, ভুবন ভুলানো হাসি ও দুরন্ত চলাফেরা আমাদের মাঝে আনন্দের খোড়াক যোগায়। কিন্তু খুবই দুঃ খজনক ব্যাপার হচ্ছে কিছু সংখ্যক শিশুকে বিভিন্ন রকম শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধকতা বা ব্যাধির সম্মুখীন হতে হয়। লার্নিং ডিসএবিলিটি বা শেখার অক্ষমতা তেমনই একটি ব্যাধি।

শিশুরা যখন বিভিন্ন দক্ষতামূলক কাজের সাথে পরিচিত হয়, হোক সেটা কিছু পড়তে পারা বা লিখতে পারা বা বুঝতে পারা – সেক্ষেত্রে তাদের কাছে প্রথমদিকে বিষয়গুলো কঠিন মনে হতে পারে বা একজন শিশু যেটা খুব তাড়াতাড়ি বোঝে, আরেকজন শিশুর সেটা বুঝতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। এগুলো স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু বারবার বুঝিয়ে দেওয়ার পরও যদি সে বিষয়গুলো বুঝতে না পারে অথবা বুঝলেও বলতে বা লিখতে না পারলে সেক্ষেত্রে ওই শিশুর লার্নিং ডিসএবিলিটি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

লার্নিং ডিসএবিলিটি কী?
লার্নিং ডিসএবিলিটি হচ্ছে এমন এক ধরনের ডিসঅর্ডার বা ব্যাধি যার কারণে আমাদের মস্তিষ্কে তথ্য প্রক্রিয়াকরণের সময় কিছু তথ্য মস্তিষ্ক ধারণ করতে পারেনা বা বুঝতে পারেনা। লার্নিং ডিসএবিলিটি সাধারণত কোনো কিছু শেখার ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকম বাঁধা ও ব্যাধির সম্মুখীন হওয়া বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। এটি এক ধরনের স্নায়বিক ব্যাধি যা শিশুর মস্তিষ্কের তথ্য সঞ্চালন ও তথ্য বিশ্লেষণ করার ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে। সুতরাং, লার্নিং ডিসএবিলিটি হচ্ছে একটি তথ্য প্রক্রিয়াকরণগত সমস্যা যার দরুন শিশুকে কোনো দক্ষতা শেখা ও সেটি ব্যবহার করতে বাঁধার সম্মুখীন হতে হয়।

লার্নিং ডিসএবিলিটিতে আক্রান্ত শিশুর নিম্নের কোনো একটি বা একাধিক ব্যাপারে সমস্যা থাকতে পারে।
১.পড়তে না পারা।
২.লিখতে না পারা।
৩.কোনো বিষয় অথবা বিষয়ের কোনো প্রসঙ্গ বা আলোচনা না বোঝা।
৪. দিকনির্দেশনা না বোঝা।
৫. উচ্চারণে সমস্যা নতুন শব্দ শিখতে সমস্যা হওয়া ।

উপরের একটি বা একাধিক সমস্যা আপনার শিশুর মধ্যে দেখতে পেলে ধরে নিতে পারেন যে তার লার্নিং ডিসএবিলিটি আছে। শিশুদের জন্য এটি একটি সর্বজর্নীন সমস্যা। যুক্তরাষ্ট্রের ১৮ এর অনূর্ধ্ব প্রায় (৮%-১০%) শিশু লার্নিং ডি সএবিলিটিতে ভোগে। তাছাড়া দেশটিতে লার্নিং ডিসএবিলিটিতে আক্রান্ত প্রায় ১ মিলিয়ন শিশু স্কুলে বিশেষ শিক্ষা গ্রহণ করে।

কীভাবে বুঝবেন আপনার শিশুর লার্নিং ডিসএবিলিটি রয়েছে ….
প্রত্যেক শিশুই নিজের মতো করে কোনো বিষয় বুঝতে বা শিখতে চেষ্টা করে। কিন্তু যদি দেখেন যে আপনার সন্তান সংখ্যা, অক্ষর বা শব্দ চেনা, পড়তে পারা ও লিখতে পারা এবং কথা বলার ক্ষেত্রে ক্রমাগত সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে, তাহলে তার লার্নিং ডিসএবিলিটি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। লার্নিং ডিসএবিলিটিতে আক্রান্ত কোনো শিশু হয়তো কোনো একটি গল্প পড়ে বুঝবে যে এখানে কী বলা হয়েছে, কিন্তু পরবর্তীতে তাকে এই সম্পর্কিতর্কি প্রশ্ন করা হলে সে আর বলতে পারেনা বা লিখতে পারেনা। আবার একটি শিশু হয়তো গড়গড়িয়ে বাংলা বা ইংরেজি বর্ণমালা বা গণিতের কোনো নামতা পড়তে পারবে কিন্তু তাকে যখন কোনো নির্দিষ্ট অক্ষর চিহ্নিত করে জিজ্ঞেস করা হয় বা নামতা র কোনো একটা অংশ যেমন চার পাঁচে কত হয় এই জাতীয় প্রশ্ন করা হয় তখন সে আর বলতে পারেনা, অথচ একটু আগে পুরোটাই সে বলেছে। আবার আরেকটি শিশু হয়তো জুতার বেল্ট লাগানো, শার্ট বা সোয়েটারের বোতাম লাগানো এগুলো ঠিক মতো করতে পারেনা। এই সমস্ত লক্ষণ দেখলে বুঝতে পারবেন আপনার শিশুর লার্নিং ডিসএবিলিটি রয়েছে।

লার্নিং ডিসএবিলিটিতে আক্রান্ত শিশুর বুদ্ধিমত্তা স্বাভাবিক মাত্রার বা তার চাইতে বেশি থাকতে পারে, কিন্তু তারা তাদের অর্জিত জ্ঞানকে প্রকাশ করার ক্ষেত্রে বাঁধার সম্মুখীন হয়। তাদের জন্য সব বিষয়ে পারদর্শী হওয়া খুব কঠিন কাজ। এজন্য তারা সবসময় বিভিন্ন রকম মানসিক অবসাদ, ক্রোধ, হতাশা, আত্মবিশ্বাস ও আত্মমর্যাদা বোধের অভাব বোধ করে। আপনার সন্তান হয়তো বুঝতে পারে যে তাকে কি বলতে হবে করতে হবে বা লিখতে হবে, কিন্তু সেই কাজটা করার সঠিক পদ্ধতি সে খুঁজে পায় না। অথবা সে হয়তো বুঝতেই পারেনা তাকে কি করতে হবে। এই সমস্ত লক্ষণ আপনার শিশুর মধ্যে আছে কিনা ভালো করে খেয়াল করে দেখুন। তাহলে, আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন আপনার সন্তান লার্নিং ডিসএবিলিটিতে আক্রান্ত কিনা।

মনে রাখবেন একটি শিশু কতটা চটপটে, কতটা বুদ্ধিমান – এর সাথে লার্নিং ডিসএবিলিটির কোনো সম্পর্ক নেই। লার্নিং ডিসএবিলিটিতে আক্রান্ত শিশুদের কোনো কিছু দেখা, শোনা বা বোঝা অন্য শিশুদের চেয়ে ভিন্ন হয়। যার কারণে তারা নিত্যদিনের পড়াশো না বিশেষ করে শ্রেণীকক্ষে মনোযোগী থাকা বা পরীক্ষার সময় প্রস্তুতি নিতে সমস্যার মধ্যে পড়ে।

লার্নিং ডিসএবিলিটির সতর্কতা সংকেতগুলি কী কী?
শিশুর লার্নিং ডিসএবিলিটি রয়েছে কিনা তা সাধারণত শিশু অন্তত তিন বছর স্কুলে কাটানোর আগ পর্যন্ত পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায় না। তবে এর কিছু লক্ষণ হয়তো বাবা-মারা আগে থেকেই লক্ষ্য করে থাকতে পারেন। যেমন:
 কথা বলতে দেরী হওয়া (Speech Delay)
 উচ্চারণে সমস্যা নতুন শব্দ শিখতে সমস্যা হওয়া
 বর্ণ, সংখ্যা, দিনগুলোর নাম, রং, আকার ইত্যাদি শিখতে সমস্যা হওয়া।
 মনোযোগ রাখতে না পারা কলম বা পেন্সিল ধরতে সমস্যা হওয়া।
 জামার বোতাম বা জুতা জু র ফিতা লাগাতে না পারা।
 পড়া, লেখা, বানান করা, ও গণিতে আশানুরূপ দক্ষ না হওয়া ।
 একটু আগে বা মাত্রই কী শুনেছে তা মনে রাখতে না পারা।
 দিকনির্দেশনা বোঝা ও অনুসরণের ক্ষেত্রে জটিলতা বোধ করা।
 খেলাধূলা, চলাফেরা যেকোনো দক্ষতামূলক কাজে সমন্বয় করতে না পারা যেমন ফুটবলে কিক মারতে না পারা অথবা কলম ধরে রাখতে না পারা।
 সময় এর ব্যাপারটা বুঝতে না পারা যেমন এখন কয়টা বাজে দশ মিনিট পর কয়টা হবে এসব ব্যাপারে সমস্যার মুখোমুখি হওয়া।

পরের অংশে লার্নিং ডিসএবিলিটির প্রতিকার, কারণ এবং প্রধান কয়েকটি লার্নিং ডিসএবিলিটি নিয়ে আলোচনা করবো।

25/04/2023

মেল্টডাউন হল একটি পূর্ণ-শারীরিক প্রতিক্রিয়া যা বাচ্চাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। এটি সাধারণ রাগ, জিদ বা বদমেজাজ নয়। এটি ইচ্ছাকৃত খারাপ ব্যবহার, দুষ্টুমি, বেয়াদবি বা কিছু আদায়ের জন্য চাপ দেয়া নয়। মেল্টডাউন আবেগ অনুভূতির এক ধরণের তীব্র বহিঃপ্রকাশ। অনেক সময় অটিজম আক্রান্ত মানুষেরা বিভিন্ন পারিপার্শিক কারণে তীব্র আবেগ অনুভব করেন যা তাঁরা ভাষা বা অন্যভাবে প্রকাশ করতে পারেন না এবং যা পরিশেষে মেল্টডাউনের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। মেল্টডাউন ভাষাগত ভাবে (যেমন: চিৎকার, কান্না) বা শারীরিক ভাবে (আক্রমণ/আঘাত করা) বা দুই ভাবেই প্রকাশিত হতে পারে।
এই সময় বাচ্চারা চিৎকার করতে পারে, কান্নাকাটি করতে পারে, মারধর করতে পারে, পালিয়ে যেতে পারে, অথবা ঘরের দরজা বন্ধ করে দিতে পারে। অটিজম আক্রান্ত মানুষের কিছু নিজস্ব স্ব-নিয়ন্ত্র আচরণ (Stimming) থাকে যেমন- সামনে পিছনে দোলা, হাত বা মাথা ঝাঁকানো, হাত দিয়ে কান বা চোখ মুখ ঢেকে ফেলা ইত্যাদি। মেল্টডাউনের আগে তীব্র আকারে প্রকাশ পেতে পারে। মেল্টডাউন বয়সের উপর নির্ভর করে না। অটিজম আক্রান্ত ব্যাক্তির মেল্টডাউন সারা জীবনই হতে পারে।

যখন বাচ্চারা ক্লান্ত হয়ে পড়ে বা যখন তাদের পারিপার্শ্বিক অবস্থার পরিবর্তন হয় বা তারা অনুভব করে তখন মেল্টডাউন বন্ধ হয়ে যায়।

অটিজম আক্রান্ত শিশুর মেল্টডাউনের সময় পাঁচটি করণীয়-

1.সহানুভূতিশীল হওয়া: তাদের সমস্যার কথা শুনুন ও তাদের কষ্ট বুঝার চেষ্টা করুন।ধীরে ধীরে কোমলভাবে বাচ্চাদের গাইড করুন এবং তাকে তার নিজের বা অন্যের প্রতি আগ্রাসী হওয়া ছাড়া নিজেকে প্রকাশ করতে সাহায্য করুন। সে কিছু বলতে চাইলে তা শুনে সে অনুযায়ী সাহায্য করতে চেষ্টা করুন।

2.তাদের নিরাপদ এবং মূল্যবান অনুভব করানো: এই সময়ে তাদের কাছে থেকে তাদের মানসিকভাবে সহায়তা করুন। এই শিশুরা আবেগের মধ্যে এতটাই হারিয়ে যায় যে তারা আমাদের কথা শুনতে পারে না। এই সময়ে উচিত তাদের পাশে থাকা। শুধু পাশে বসে থেকেই শিশুকে নিরাপদ ও কমফোর্ট অনুভূতি দেয়া সম্ভব।

3.সকল প্রকার শাস্তি দেয়া থেকে বিরত থাকা:শাস্তি শিশুদের লজ্জা, উদ্বেগ, ভয় এবং বিরক্তি অনুভব করাতে পারে। অটিজম আক্রান্ত শিশুর মেল্টডাউন তার ইচ্ছাকৃত নয়। তাই তাকে এর জন্য শাস্তি দেওয়া উচিত নয়। তাকে স্বাধীনভাবে কাঁদতে বা আবেগ প্ৰকাশ করতে দেওয়া উচিত, তবে এই সময়ে সে যাতে নিজেকে বা কাউকে আঘাত করে ক্ষতি না করতে পারে সে জন্য কিছু নিরাপত্তা ব্যবস্থা যেমন- নিরাপদ জায়গায় স্থানান্তর করা যেতে পারে।

4.সেন্সরি টুলকিট ব্যবহার করা:
মেল্টডাউনের সময় এর প্রকোপ কমাতে কিছু সেন্সরি টুলকিট বা খেলনা সাথে রাখুন।এক এক শিশুর পছন্দ ভিন্ন, তবে কিছু সাধারণ সরঞ্জাম যেমন- শব্দ নিয়ন্ত্রণে হেডফোন ব্যবহার করে অবাঞ্চিত এবং তীব্র শব্দ থেকে শিশুকে আরাম দেয়া সম্ভব। যদি শিশুর শব্দে সংবেদনশীলতা থাকে বা শব্দের কারণে মেল্টডাউনের সূচনা হয় তবে এটি তার প্রকোপ কমাতে সাহায্য করবে।
শিশুর আলোতে সংবেদনশীলতা থাকলে বা তীব্র আলোতে শিশুর অস্বস্তি হলে অথবা অবাঞ্চিত আলোর কারণে মেল্টডাউন শুরু হলে সানগ্লাস ব্যবহার করে শিশুকে আরাম প্রদান ও মেল্টডাউনের প্রকোপ কমিয়ে আনা যেতে পারে।
কখনও কম্বল বা আরামদায়ক ল্যাপ প্যাড শিশুকে নিরাপদ এবং সুরক্ষিত বোধ করতে সাহায্য করে। কম্বল / ল্যাপ প্যাডগুলির সামান্য চাপ তাদের ধীরে ধীরে শান্ত হতে সহায়তা করতে পারে।
ফিজেট খেলনা যা অটিজম আক্রান্ত শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্ক উভয়েরই স্ট্রেস এবং উদ্বেগ হ্রাস করতে সহায়তা করে। এগুলো মেল্টডাউনের সময় ব্যবহার করলে মেল্টডাউনের তীব্রতা কমে আসতে পারে।
যদি শিশু কোনো গন্ধের প্রতি সংবেদনশীল হয় যা মেল্টডাউন বা তার তীব্রতা বাড়াতে দায়ী হতে পারে তবে তা দূর করতে সাথে শিশুর পছন্দের কোনো সুগন্ধযুক্ত লোশন রাখা যেতে পারেতাকে শান্ত করতে সাহায্য করবে।

5.প্রতিরোধ ব্যবস্থা:
মেল্টডাউনের প্যাটার্ন এবং কিভাবে তা সর্বোত্তমভাবে শান্ত করা গেছে তা একটি ডায়েরিতে লিখে রাখুন। মেল্টডাউন কখন এবং কোথায় ঘটে সে বিষয়ে নোট নেওয়া ভবিষ্যতে তা প্রতিরোধে সহায়তা করবে। এটি পরবর্তী মেল্টডাউনের আগে লক্ষণগুলি চিহ্নিত করা ও মেল্টডাউনের আগেই তা শান্ত করার রুটিন শুরু করতে সহায়তা করবে।

ছোট্ট শিশুরা কেন কাউকে আঘাত করে এবং কিভাবে প্রতিরোধ করবেন ?আপনার শিশু যদি অনেক পরিমাণে আঘাত করে তাহলে বুঝতে হবে সে তার অ...
29/01/2022

ছোট্ট শিশুরা কেন কাউকে আঘাত করে এবং কিভাবে প্রতিরোধ করবেন ?

আপনার শিশু যদি অনেক পরিমাণে আঘাত করে তাহলে বুঝতে হবে সে তার অনুভূতি প্রকাশ করার মাধ্যম খুঁজে পাচ্ছে না। যে শিশুরা খুব কম শব্দ বলতে পারে তাদের জন্য বেশ উদ্বেগজনক।“কামড়ে দেয়া, আঘাত করা অথবা কাউকে ধাক্কা দেয়ার মত কাজগুলো শিশু সাধারণত তখনই করে যখন সে রেগে যায় এবং তার আবেগকে ভাষায় প্রকাশ করতে পারেনা । শিশুরা কখনো নিজেদেরকেও আঘাত করতে পারে। তবে এই সম্পর্কে শিশু বিশেষজ্ঞ ক্যান্ডাল বলেন, “নিজেদের আঘাত করে শিশুরা মাঝে মধ্যে শুধু দেখতে চায় যে এটা করলে কেমন লাগে।” এছাড়াও হতে পারে তার আসলেই বুঝতে পারছেনা রেগে গেলে ঠিক কি করতে হবে তাদের। তাই শিশুর হাত যে কাউকে আঘাত করার জন্য না এমনকি নিজেকেও না, এটা তাকে বোঝানোটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়।ছোট্ট শিশু যখন খুব রেগে যায় অথবা হতাশ হয়ে যায় আর তার অনুভূতি সে মুখে বলে বোঝাতে পারেনা সাধারণত তখনই সে কাউকে আঘাত করে।অনেক সময় কোন শিশু কেবলমাত্র একবার অথবা দুইবার কাউকে আঘাত করে শুধুমাত্র এই আচরণটি কেমন সেটা বোঝার জন্য আবার কোন শিশু এই আঘাত করাকে তার অভ্যাসে পরিণত করে।

শিশুরা আঘাত করে, এটা হয়ত খুব সাধারণ একটা কথা কিন্তু এই আঘাত করার প্রত্যেকটা ঘটনাকে গুরুত্বের সাথে নেয়াটা খুবই জরুরী। শিশু যদি কোন কারণে রেগে যায় তাহলে সেই ঘটনা আরো বাড়তে না দেয়াটাই সবচাইতে ভালো একটি উপায়, তবে অনেক সময়েই এটা করা সম্ভব হয়ে উঠে না।আবার যদি শিশু অন্য কাউকে আঘাত করে বসে তাহলে সেটা তাৎক্ষনিক ভাবে বন্ধ করাটা খুবই জরুরী। শিশুকে আঘাত করা থেকে কীভাবে বিরত রাখবেন অথবা তাকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন এ সম্পর্কে নিম্নে আলোচনা করা হল…

শিশুর প্রতি মনযোগী হনঃ
সবসময় শিশুর সাথে থাকলে আপনি বুঝতে পারবেন আপনার শিশু ঠিক কখন রেগে যাচ্ছে এবং আঘাত করার আগেই বিষয়টা আপনি নিয়ন্ত্রণ করে ফেলতে পারবেন। আপনার শিশু হয়ত অনেকগুলো খেলনা একসাথে পেয়ে অথবা অনেকগুলো খাবার দেখে উত্তেজিত হয়ে উঠতে পারে। আর এ সময় তার সাথে কথা বলে তার আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে ফেলতে পারলে সেটা আপনার এবং শিশুর উভয়ের জন্যই ভালো।যদি আপনার শিশু আরেকটু বড় হয় তাহলে তাকে বুঝাতে পারেন। তাকে এই ধরনের কিছু বলতে পারেন, ‘ওয়াও! তুমি আজকে খাবারের জন্য যেভাবে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেছিলে, সেটা খুবই ভালো ছিল’। ঘুমাতে যাওয়ার সময় এই ধরনের কথা বলাটা, শিশুর আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে অনেক সাহায্য করে।

ভালো আচরণের প্রশংসা করুনঃ
যখন আপনি দেখবেন আপনার শিশু খুব ভালো হয়ে খেলাধুলা করছে তখন তাকে প্রশংসা করুন। এতে করে শিশু বুঝতে পারবে যে, ভালো আচরণের মাধ্যমেই সে আপনার মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারছে, তাই মনোযোগ আকর্ষণ করার জন্য আলাদা করে কাউকে আঘাত করতে হবে না।

বাড়তি খেলনা কিনে দিনঃ
ছোট শিশুদের জন্য তাদের খেলনা শেয়ার করে খেলাটা খুবই কঠিন একটা ব্যাপার। আর তাই যদি একাধিক বাচ্চা একসাথে খেলে তবে এটা খেয়াল রাখতে হবে যেন প্রত্যেকটা শিশুই খেলার জন্য পর্যাপ্ত খেলনা পায়।

অন্য কোন কাজের মাধ্যমে তার মনোযোগ সরিয়ে নিনঃ
যখনই আপনি দেখবেন আপনার শিশুর মুখ লাল হয়ে গেছে অথবা অন্য কোন ভাবে আপনি বুঝতে পারবেন যে আপনার শিশু রেগে যাচ্ছে তখনই আপনি শিশুর দৃষ্টি আকর্ষণ করুন। তার আচরণ এবং মনোযোগ অন্যদিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করুন। এক্ষেত্রে আপনি তাকে বলতে পারেন, “বাহ! তুমি দেখি এখন রেগে গেছ। আসো আমরা লাফালাফি, দৌড়াদৌড়ি অথবা অন্য কিছু করার মধ্য দিয়ে তোমার রাগ কমিয়ে দেই ।

এ ছাড়াও আমরা শিশুটিকে বলতে পারি এসো আদর করা খেলা খেলি যেমন -আমাদের হাত গায়ে আলতোভাবে স্পর্শ করে বলতে পারি আদর, আদর,আদর । কিছুদিন পর দেখবেন শিশুর আঘাত করার প্রবণতা কমে যাবে এবং আদর করা শিখবে ।

কিভাবে বাচ্চার কথা বলা বাড়াতে পারি?বাচ্চা যখন কথা বলা শুরু করেছে তখন বাচ্চার ভকাবুলারি বাড়াতে এবং সঠিক ভাবে কথা বলা শেখা...
28/12/2021

কিভাবে বাচ্চার কথা বলা বাড়াতে পারি?

বাচ্চা যখন কথা বলা শুরু করেছে তখন বাচ্চার ভকাবুলারি বাড়াতে এবং সঠিক ভাবে কথা বলা শেখাতে হলে, বাচ্চার সাথে প্রতিদিন প্রচুর কথা বলতে হবে। এটা হতে পারে যখন বাড়িতে থাকবেন, যখন গাড়িতে থাকবেন, বাচ্চা যখন মাঠে থাকবে তখন, এমন কি সব সময়।এর জন্য আমরা কয়েকটা স্ট্রাটিজি ফলো করতে পারি। যেমন----
1. Self-talk
2. Parallel talk
3. Wait & see
4. Modeling
5. Expansion & recasting
প্রথমে Self-talk নিয়ে আলোচনা করবো । আপনি যা করছেন তাই বলুন। অনেকটা আপনার নিজের সাথে কথা বলার মত। আমরা যখন কোন একটা ইউ টিউব চ্যানেলে রান্না দেখি, সেখানে কিভাবে , কি কি জিনিস দিয়ে, কি মসলা দিচ্ছে তা নিজে থেকেই বলে দিচ্ছে । তেমনি আপনি যা করবেন তা আপনার বাচ্চাকে বলুন গল্পাকারে। যেমন আপনি আপনার বাচ্চার জন্য সুজি রান্না করবেন। আপনার বাচ্চাকে বলুন ,“চল আমরা দুধ নিয়ে আসি সুজি রান্না করি। এখন আমরা হাড়িতে সুজি দেব। একটু লবন দেই। চিনিটাও দিয়ে দেই। এইতো রান্না হয়ে গেল। এসো এবার খাই”।
আপনি এখানে যে যে শব্দগুলো বললেন তা আপনার বাচ্চার ভকাবুলারিতে যোগ হয়ে গেল। এক সময় দেখবেন বাচ্চা ঐ শব্দগুলো রিপিট করবে।

এরপর আসি Parallel talk নিয়ে । এখানে আপনার বাচ্চা সম্পর্কে কথা বলতে হবে। যেমন ধরুন আপনার বাচ্চা একটা গাড়ি নিয়ে খেলছে। আপনি তাকে বললেন, “আমার বাবুটা কি সুন্দর খেলছে। গাড়িটার রঙ দেখছি লাল।এটাত দেখছি একটা স্পিড বোট। বোটটা দেখছি ঊলতে গেল ” ইত্যদি ইত্যদি।এভাবে বাচ্চার কার্যক্রমগুলো বলতে থাকুন।

এখন wait & see নিয়ে আলোচনা করবো । ওয়েট এন্ড সি মানে অপেক্ষা করতে হবে এবং দেখতে হবে। বাচ্চাকে প্রশ্ন করুন। যেমন বাচ্চা খেলছে। আপনি তাকে জিজ্ঞেস করুন, “কি করছ?” এবং অপেক্ষা করুন ৫-১০ সেকেন্ড । তারপর আবার কথপকথন শুরু করুন। আস্তে আস্তে সে কথা বলবে। এক্ষেত্রে তার রেস্পন্সের জন্য আপনাকে অপেক্ষা করতে হবে।

আমাদের চার নং টপিক Modeling। এটা আপনারা বিভিন্ন ভাবে করতে পারেন। আমি একটা খেলার উদাহরন দিচ্ছি। ধরুন আপনার বাচ্চাকে একটা পরিষ্কার জায়গায় বসালেন। তারপর তাকে কিছু খেলনা দিলেন এবং বললেন, “এগুলো বিক্রি কর”। আপনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন এগুলো কি জিনিস , দাম কত ইত্যাদি। বাচ্চা তার উত্তর দিল।
Expansion & recasting এর মধ্যমেও বাচ্চার কথা শেখানো যায়। যেমন আপনার বাচ্চা যে কথা বলবে আপনি তা বড় করে বলুন। ধরুন আপনি বাচ্চাকে নিয়ে বাইরে বেড়াতে গেছেন। আপনার বাচ্চা বললো, “আম্মু দেখ গরু”। আপনি তখন বললেন, “ তুমিতো ঠিকই বলেছ। আসলেইতো এটা একটা গরু। দেখ গরুটার কত বড় শিং, চারটা পা আছে , লম্বা লেজ আছে”। এভাবে কথা বাড়াতে থাকুন।

কথা বলার এই প্রক্রিয়াগুলো আপনাকে প্রতিদিন ফলো করতে হবে। তাহলে দেখবেন এক সময় বাচ্চার কথা বলার জড়তা কেটে যাবে।প্রথম দিকে এটা করতে একটু কষ্ট হবে কিন্তু পরে দেখবেন বাচ্চা এবং আপনি দুইজনেই নেক আনন্দ পাচ্ছেন।

শিশু দেরিতে কথা বললে কী করবেন?অনেক শিশুই যথাসময়ে কথা বলতে শেখে না। অনেকেই ভাবেন, শিশু বুঝি অটিজমে আক্রান্ত। ব্যাপারটি তে...
23/12/2021

শিশু দেরিতে কথা বললে কী করবেন?

অনেক শিশুই যথাসময়ে কথা বলতে শেখে না। অনেকেই ভাবেন, শিশু বুঝি অটিজমে আক্রান্ত। ব্যাপারটি তেমন নাও হতে পারে। কথা দেরিতে বলার অনেক কারণ আছে। আমরা হয়তো অনেকেই জানি না, স্পিচ থেরাপির সহায়তা নিলে শিশুটি দ্রুত কথা বলা শিখতে পারে-

১. যেসব শিশু দেরিতে কথা বলে বা ঠিকমতো কথা বলা শিখছে না তাদের ক্ষেত্রে প্রতিটি কাজে একটি নির্দিষ্ট শব্দের ওপর গুরুত্ব দিয়ে কথা বলতে হবে। যেমন- শিশুকে গোসল করানোর সময় `গোসল` শব্দটির ওপর অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। আবার বাইরে যাওয়ার সময় `যাব` শব্দটি বারবার বলে শিশুকে বোঝাতে হবে।

২. শিশু যদি ইশারার সাহায্যে যোগাযোগ করতে চায়, তবে সেই ইশারার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ এবং অর্থবোধক শব্দ যোগ করে তাকে কথা বলতে উৎসাহিত করুন। যেমন- শিশু বিদায় জানাতে হাত বাড়ালে আপনি বলুন `বাই বাই` অথবা `টা টা`।

৩. শিশুর সবচেয়ে পছন্দের জিনিসটি একটি নির্দিষ্ট উচ্চতায় রেখে (শিশুর নাগালের বাইরে) তাকে জিনিসটি দেখান। যখন সে ওটা নিতে চাইবে বা আপনার হাত ধরে টানবে, তখন আপনি জিনিসটির নাম একটু স্পষ্টভাবে বলুন। যেমন- যদি `গাড়ি` হয় তবে বলুন `ও, তুমি গাড়ি খেলতে চাও?` অথবা `এই যে তোমার গাড়ি।

৪. শিশুর অনুকরণের দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর বেশি গুরুত্ব দিন। যেমন- শিশুর হাসি বা মুখভঙ্গির অনুকরণ করে দেখান। তারপর আপনার সঙ্গে শিশুকে অন্যান্য শারীরিক অঙ্গভঙ্গি যেমন- হাততালি দেওয়া, হাতের উল্টোপিঠে চুমু খাওয়া ইত্যাদি করান। পাশাপাশি উচ্চারণ স্থান দেখিয়ে বিভিন্ন শব্দ অনুকরণের ওপর গুরুত্ব দিন।

৫. বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, শিশু মূল শব্দের আগে অনেক ক্ষেত্রে আগে প্রতীকী শব্দ ব্যবহার শুরু করে। তাই এ ক্ষেত্রে আপনিও প্রাথমিকভাবে প্রতীকী শব্দ ব্যবহারে বেশি গুরুত্ব দিন। যেমন- গাড়ি বোঝাতে পিপ্পিপ্। বেড়াল বোঝাতে মিঁউ মিঁউ ইত্যাদি।

৬. যেসব শিশু মাঝেমধ্যে দু-একটি শব্দ বলছে, তাদের শব্দভাণ্ডার বৃদ্ধির ওপর জোর দিন। যেমন- শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ (মাথা, হাত, পা), বিভিন্ন জিনিসের নাম (বল, গাড়ি, চিরুনি), বিভিন্ন ক্রিয়াবাচক শব্দ (খাব, যাব, ঘুম) ইত্যাদি শেখান।

৭. দুই বছরের বড় শিশুদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে পরিচিত এবং অতি পছন্দের কিছু ছবি নিয়ে একটি বই তৈরি করুন। প্রতিদিন একটু একটু করে বই দেখিয়ে শিশুকে ছবির মাধ্যমে নাম শেখাতে পারেন।

৮. যেসব শিশু চোখে চোখে তাকায় না এবং মনোযোগ কম, আবার কথাও বলছে না, তাদের ক্ষেত্রে আগে চোখে চোখে তাকানো ও মনোযোগ বৃদ্ধির বিভিন্ন কৌশলের ওপর গুরুত্ব দিন। যেমন- লুকোচুরি খেলা, কাতুকুতু দেওয়া, চোখে চোখে তাকিয়ে শিশুর পছন্দের ছড়াগান অঙ্গভঙ্গি করে গাওয়া।

৯. আপনার কথা না বলা শিশুটির সামনে অন্য একটি শিশুর `দাও` বলার পরে পছন্দের জিনিস দিচ্ছেন এমন কৌশল দেখিয়ে তাকে কথা বলার গুরুত্ব বোঝাতে পারেন।

কী করবেন না:
১. কথা বলার জন্য অত্যধিক চাপ যেমন- `বল, বল` ইত্যাদি করা যাবে না।

২. শিশুকে অপ্রাসঙ্গিক অথবা অতিরিক্ত প্রশ্ন করা থেকে বিরত থাকুন।(যেমন এটা কি?গাড়ি, দেখতে কেমন কয়টা চাকা কয়টা সিট্ কি রঙের ইত্যাদি ইত্যাদি )

৩. একসঙ্গে অনেক শব্দ শেখানোর চেষ্টা করবেন না, এতে শিশু কথা বলার আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারে।

অনেক মা-বাবাই ভাবেন, অন্যান্য স্বাভাবিক শিশুর সঙ্গে তাঁদের পিছিয়ে পড়া শিশুর খেলার পরিবেশ করে দিলেই আপনা আপনিই কথা শিখে যাবে। কিন্তু মনে রাখবেন, এমনটা না-ও হতে পারে। তাই নিজেরা বাড়িতে চেষ্টা করুন, প্রয়োজনে স্পিচ থেরাপির সহায়তা নিন। স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি কিছুটা দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ব্যবস্থা। সঠিক সময়ে এই পদ্ধতির কৌশলগত প্রয়োগ হলে শিশু কথা এবং যোগাযোগের অন্যান্য মাধ্যমে উন্নতি করবেই।

SLT বা স্পিচ এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি কি?স্পিচ এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি হচ্ছে ভালো করে মুখের উচ্চারণ বা কথাবার্তা বলতে পার...
17/11/2021

SLT বা স্পিচ এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি কি?

স্পিচ এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি হচ্ছে ভালো করে মুখের উচ্চারণ বা কথাবার্তা বলতে পারেন না তাদের জন্য। যারা কথা বলতে তোতলায়, শব্দ সঠিক না, মুখের শব্দ স্পষ্ট না তাদের জন্য স্পিচ এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি প্রয়োগ করা হয়। একটা বাচ্চা যখন জন্মায় তখন থেকেই সে কথা বলতে পারে না। তাকে আস্তে আস্তে ভাষা শেখাতে হয়। অনেক বাচ্চা আছে যারা একটু বড় হয়ে গেলেও কথা ঠিকভাবে বলতে পারে না অথবা কম কথা বলে। ডাক্তার অথবা মুরুব্বীদের কাছে পরামর্শ নিলে বলেন , বাচ্চার সাথে অনেক কথা বল, সব ঠিক হয়ে যাবে। স্পিচ এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি হচ্ছে বিশেষ এক ধরনের চিকিৎসার ব্যবস্থা, যার সাহায্যে কথা বলতে অক্ষম অথবা স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারে না এমন রোগীদের চিকিৎসা করা হয়। তোতলামি, শিশুদের দেরিতে কথা বলা, কানে কম শোনাজনিত কথা বলার সমস্যা ইত্যাদি নানা কারণে যারা স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারে না, তাদের প্রাণখুলে কথা বলার সুযোগ এনে দিয়েছে স্পিচ এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি। দাঁত, জিহ্বা, তালু, ভোকালকর্ড ইত্যাদি অঙ্গের সম্মিলনে আমরা কথা বলি। এর যে কোনোটির সামান্য সমস্যা হলে স্বাভাবিক কথা বলা সম্ভব হয় না। স্পিচ এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিস্টরা তাই বাকপ্রতিবন্ধীদের কিছু কায়দা-কানুন শিখিয়ে দেন ও চর্চা করান। প্রয়োজনে তারা অপারেশনের সহায়তা নেন।

আজকে আমরা শিশুর কথা না বলার (Speech less) স্বাভাবিক কারণ বা সমস্যা গুলো আলোচনা করবো।

1.জিহ্বা আটকানো বা টাং টাই সমস্যা:
কোনো কোনো শিশুর ক্ষেত্রে জিহ্বা সামনের দিকে টাইয়ের মতো পাতলা মাংস দিয়ে মুখ গহ্বরের সঙ্গে লেগে থাকে। ফলে জিহ্বা স্বাভাবিকভাবে নড়াচড়া করে না। এ ধরনের সমস্যাকে টাং টাই বলে। টাই স্মার্টনেসের প্রতীক হলেও জিহ্বার টাই মোটেও সুখকর নয়। এ ধরনের সমস্যা হলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অপারেশনের প্রয়োজন পড়ে। অপারেশন পরবর্তী সময় স্পিচ এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিস্টদের সহায়তা নেয়া হয়। ফলে শিশু স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারে।

2.ঠোঁট বা তালু কাটাজনিত কথা বলার সমস্যা:
আজকাল প্লাস্টিক সার্জারির কল্যাণে ঠোঁট কাটা বা তালু কাটা রোগীরা স্বাভাবিক সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হচ্ছেন। কিন্তু সমস্যা দেখা যায় অপারেশন পরবর্তী সময়ে কথা বলতে গেলে, কেননা ঠোঁট বা তালু কাটা থাকার কারণে তারা স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে অভ্যস্ত থাকে না। তাই অপারেশন পরবর্তী সময়ে স্পিচ এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিস্টদের সহায়তা নিলে এ ধরনের সমস্যা দ্রুত কাটিয়ে ওঠা যায়।

3.শিশুর দেরিতে কথা বলা সমস্যা:
স্পিচ এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিস্টদের মতে, শিশু প্রথম বছর একটি শব্দ, দ্বিতীয় বছর দুটি শব্দ এবং তৃতীয় বছর পুরো বাক্য বলতে পারবে। এর ব্যতিক্রম হওয়া মানেই শিশু কোনো না কোনো সমস্যায় ভুগছে। এক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত। শিশু বড় হলে সমস্যাটি ঠিক হয়ে যাবে এমন ভাবনা ঠিক নয়।

4.তোতলামি সমস্যা:
তোতলামি সমস্যা সব দেশেই আছে। তবে এ ধরনের রোগীদের জন্য সরাসরি চিকিৎসা ব্যবস্থা পৃথিবীর কোথাও গড়ে ওঠেনি। তোতলামির সঠিক কারণ না থাকলেও প্রায়ই দেখা যায় অতিরিক্ত টেনশন, কথা বলতে গিয়ে নার্ভাস হওয়া, দ্রুত কথা বলার চেষ্টা করা, আত্মবিশ্বাসের অভাব ইত্যাদি কারণে অনেকে তোতলায়। স্পিচ এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিস্টদের সহায়তায় ৫-৬ মাসে এ ধরনের রোগীরা প্রায় সুস্থ হয়ে ওঠে।

5.উচ্চারণগত সমস্যা:
অনেক শিশু আছে যারা বাংলা বর্ণমালাগুলো শুদ্ধরূপে উচ্চারণ করতে পারে না। যেমন ‘ত’ কে সর্বদা ‘প’ উচ্চারণ করা, ‘ল’ কে ‘ড’ উচ্চারণ করা ইত্যাদি। এসব শিশু স্পিচ এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিস্টদের সহায়তায় খুব দ্রুত স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারে।

6.কম শোনাজনিত সমস্যা:
কথা বলার সমস্যাঅনেক রোগী আছে যারা কানে কম শোনার কারণে ঠিকমতো কথা বলতে পারেন না। হেয়ারিং এইডসের (কানে শোনার যন্ত্র) মাধ্যমে এসব রোগীর শোনার ব্যবস্থা করা গেলেও বিড়ম্বনা দেখা দেয় কথা বলার ক্ষেত্রে। স্পিচ এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিস্টরা সহজেই এ ধরনের সমস্যা দূর করতে পারেন। এছাড়াও কণ্ঠস্বর পরিবর্তন, ফ্যাঁসফ্যাঁসে কথা বলা, নাকি সুরে কথা বলা ইত্যাদি সমস্যা দূরীকরণে স্পিচ এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিস্টদের জুড়ি নেই।

7.স্ট্রোক-পরবর্তী কথা বলার সমস্যা:
স্ট্রোকের কারণে দেহের বিভিন্ন অংশের মতো জিহ্বাও প্যারালাইজড হয়ে যায়। ফলে স্বাভাবিকভাবে কথা বলা সম্ভব হয় না। এ ধরনের সমস্যা কাটিয়ে উঠতে স্পিচ এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিস্টদের সাহায্য দরকার।

স্পিচ এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি সাধারণত একটি দীর্ঘমেয়াদী, সময়সাপেক্ষ পদ্ধতি। দ্রুত পুনরুদ্ধারে সাহায্য করার জন্য স্পিচ থেরাপিস্টের সাথে সেশনের পাশাপাশি বাড়িতে স্পিচ থেরাপি অনুশীলন করা গুরুত্বপূর্ণ।

Address

Mirpur
1216

Telephone

+8801568618895

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Autism Care Center of Bangladesh posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to Autism Care Center of Bangladesh:

Share

Share on Facebook Share on Twitter Share on LinkedIn
Share on Pinterest Share on Reddit Share via Email
Share on WhatsApp Share on Instagram Share on Telegram