15/12/2025
কিডনির একটি রোগ নেফ্রাইটিস। নেফ্রাইটিস আসলে কী?
কিডনি একটি ছাঁকনি, এর মাধ্যমে ১৮০ লিটার ফিল্টার তৈরি হয়ে, দেড় লিটার প্রস্রাব তৈরি হচ্ছে এবং শরীরের যে খারাপ জিনিসগুলো বেরিয়ে যাচ্ছে। শরীরে বিভিন্ন কার্যক্রম করার জন্য এই ছাঁকনিটি প্রধান। এই ছাঁকনির যদি কোনো প্রদাহ হয়, এটি সরাসরি ব্যাকটেরিয়া দিয়ে তৈরি হবে, ভাইরাস দিয়ে হতে পারে। তবে সরাসরি হয় না। প্রদাহের পর প্রোটিন লিক করে। রক্তের অ্যালবুমিনের মাত্রাটা বেড়ে যায়। শরীরে পানি আসে। একে আমরা বলি একিউট গ্লুমেরুলো নেফ্রাইটিস। কিডনির হঠাৎ প্রদাহ। আর যখন ধীরে ধীরে হয়, একে আমরা বলি নেফ্রোটিক সিনড্রম। এই নেফ্রাইটিসটা পাঁচটি ভাগে আমাদের কাছে উপস্থিত হতে পারে। হঠাৎ করে মুখে পানি, পায়ে পানি এলো। রক্তচাপ বেড়ে গেল। বাচ্চার প্রস্রাব হচ্ছে না, লাল প্রস্রাব হচ্ছে। এটি একিউট। আরেকটি হলো ধীরে ধীরে বাচ্চা ফুলছে। আস্তে আস্তে ফুলে যাচ্ছে, ফুলে যাচ্ছে। প্রস্রাব হচ্ছে, হচ্ছে না। ধীরে ধীরে ছয় মাস পরে ফুলে যাচ্ছে। সেটা হলো নেফ্রোটিক সিনড্রম। আরেকটি ধরন ছিল হঠাৎ করে যে প্রস্রাব বন্ধ হয়ে গেল, কিডনি অকার্যকর হয়ে গেল। অনেক দিন সমস্যাটি থাকে, আমরা জানি না। হঠাৎ করে সমস্যা ধরা পড়ে। ১৫ বছর বা ২০ বছরে। ক্রনিক রেনাল ফেইলিউর হয়ে গেল। অর্থাৎ কিডনি তখন আর কাজই করে না। আরেকটি হলো প্রোটিন যাচ্ছে বা আরবিসি যাচ্ছে। তবে এটা পর্যবেক্ষণে রাখতে হয়। এই পাঁচটা ধরনের নেফ্রাইটিস উপস্থাপন হয়।
তাহলে প্রশ্ন আসতে পারে এই ঝুঁকির মধ্যে কি শুধু বাচ্চারাই আছে? না বাচ্চা বা প্রাপ্তবয়স্ক দুটো ক্ষেত্রেই এটি ঝুঁকিপূর্ণ। তবে বাচ্চাদের যে একিউট গ্লুমেরুলো নেফ্রাইটিস হয়, এটি কিন্তু একটি সংক্রমণের পরে হয়। যেমন খোস পাঁচড়া থেকে হতে পারে। গলাব্যথা থেকে হতে পারে। অথবা যেকোনো ধরনের সংক্রমণ থেকে হতে পারে। তবে এটা কিন্তু প্রতিরোধযোগ্য এবং যদি ভালো চিকিৎসা হয় সম্পূর্ণ ভালো হয়ে যাবে। তবে আরেকটি যেটি আছে নেফ্রোটিক সিনড্রম সেটা কিন্তু পুরোপুরি আলাদা। একটি স্টেরয়েড হরমোন লাগবে, সারতেও একটু কষ্ট লাগবে। বাচ্চাদের যদি চিকিৎসা সঠিকভাবে করা হয়, সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যাবে।
তাহলে কি ভাবে জানা যাবে, এই রোগটি হয়েছে, কিডনির রোগ আছে কি না সেটা জানার জন্য একটি পরীক্ষাই যথেষ্ট। ইউরিনে অ্যালবুমিন যাচ্ছে কি না। একটু কথা আছে, সব অ্যালবুমিন যে গ্লুমেরুলো নেফ্রাইটিস সেটি নয়। যেমন ইউটিআইতেও প্রোটিন যেতে পারে। পাথর থাকলে প্রোটিন যেতে পারে। অন্য সংক্রমণও হতে পারে। ওষুধের জন্যও প্রোটিন যেতে পারে। জ্বর হলেও প্রোটিন যেতে পারে। ব্যায়াম বেশি করলেও প্রোটিন যেতে পারে। খিঁচুনি হলেও প্রোটিন যেতে পারে। হার্ট ফেইলিউরেও প্রোটিন যেতে পারে। এই কারণগুলো সরিয়ে, যদি প্রোটিন বেশি যায়, তাহলেই কিন্তু নেফ্রাইটিস। প্রোটিনের সঙ্গে আরবিসি যাবে। এটিও কিন্তু খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাহলে প্রোটিন আর আরবিসি যদি নিয়মিত থাকে, এটা পরীক্ষা করেই আমরা ধরতে পারি। আর সঙ্গে একিউট গ্লুমেরুলো নেফ্রাইটিসে রক্তচাপ বেড়ে যাবে। মুখটা ফুলে গেল, পা ফুলে গেল, প্রস্রাব কমে গেল। উচ্চ রক্তচাপ পরীক্ষা করলেন, প্রস্রাব করলেন। এই ধারণাটি থাকতে হবে।
চিকিৎসকের কাছে কখন যাওয়া জরুরি - একটি বাচ্চা যখন হঠাৎ করে প্রস্রাব বন্ধ হয়ে গেল। ওই দিন হয়তো সে পানি কম খেয়েছে, কিন্তু দ্বিতীয় দিনে পানিও খাচ্ছে, প্রস্রাব হচ্ছে না। অন্য দিকে দেখা যায় মুখটা ফুলে যাচ্ছে, তখনই ডাক্তারের (জিপি) কাছে যাওয়া উচিৎ। ডাক্তার চিকিৎসা দিয়ে দিতে পারবেন। এর জন্য শহরে আসতে হবে না। কিন্তু এটা যদি ধীর করে, এটি খারাপ পর্যায়ে যায়, সে ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক লাগবে।
খারাপ পর্যায়ে গেলে ১০ থেকে ২০ ভাগ ক্রনিক গ্লুমেরুলো নেফ্রাইটিস হয়। আর অনেক সময় এর সঙ্গে কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায়। সেটা কিন্তু ব্যবস্থাপনা করতে হবে। সেটা কিন্তু ক্যানসারের মতো।
একিউট গ্লুমেরুলো নেফ্রাটাইটিস আর নেফ্রাটিক সিনড্রম এ দুটোর মধ্যে চিকিৎসকরা কীভাবে পার্থক্য করে থাকেন সেটা জানতে চেষ্টা করব। আমরাও অনেক সময় বিষয়টি নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত থাকি। যেটা হঠাৎ করে হলো মুখ ফুলে গেল, পায়ে পানি এলো, রক্তচাপ বেড়ে গেল, সেটি হলো একিউট গ্লুমেরুলো নেফ্রাইটিস। আর যেটা ধীরে ধীরে হবে, আস্তে আস্তে পানি আসবে, ধীরে ধীরে যাবে, প্রস্রাব সাধারণত নেফ্রাটিক সিনড্রমে আরবিসি যায় না। মানে লাল হয় না। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে সাধারণত উচ্চ রক্তচাপ থাকে না। প্রাপ্তবয়স্কদের থাকতে পারে। দুটো জায়গায় প্রোটিন যাবে। আমরা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলিযদি ২৪ ঘণ্টার ভেতর ৩ দশমিক ৫ গ্রাম, প্রোটিন লিক করে, সেটাকে নেফ্রাটিক সিনড্রম বলি।
একিউট গ্লুমেরুলো নেফ্রাইটিসে প্রস্রাবের প্রোটিন লিক করবে। তবে রক্তের প্রোটিনটা ঠিক থাকবে। কিন্তু নেফ্রোটিক সিনড্রমে রক্তের প্রোটিন কমে যাবে, তবে শরীরে পানি এসে পড়বে।
নেফ্রাটিক সিনড্রমের চিকিৎসা অন্যরকম। এমন একটা ওষুধ দিতে হবে, ওই যে ছাঁকনির যে প্রোটিনটা লিক করবে, সেটি বন্ধ করতে হবে। সেই ক্ষেত্রে আমরা স্টেরয়েড ব্যবহার করি। স্টেরয়েডের একটি ডোজ আছে, সেটি সবাই ঠিকমতো ব্যবহার করতে পারে না। স্টেরয়েডের এই ডোজটি খুব গুরুত্বপূর্ণ।
বাচ্চাদের এই ডোজ দিই ছয় সপ্তাহ, কিছুদিন বন্ধ করে আবার দিই। প্রথমবার ডোজ দিয়ে বন্ধ করার পর শিশুর সমস্যাটি আবার হতে পারে। তখন ভেঙে পড়লে চলবে না। আবার আসতে হবে। এর ধর্মই এটা। এটা পুরোপুরি নিরাময় হয় না। ১৫ থেকে ২০ ভাগ ভালো হয়। ৮০ ভাগ ক্ষেত্রে আবার হতে পারে। এই সময় আমরা এই ওষুধের সঙ্গে আরেকটি ওষুধ যোগ করি। তবে একিউট গ্লুমেরুলো নেফ্রাইটিস পুরোপুরি সুস্থ হয়ে যায়। এটার জন্য এত চিন্তা করা উচিত নয়।
নিম্নে উল্লেখিত সার্জারি বা চিকিৎসার জন্য আমাদের সাথে যোগাযোগ করুনঃ
১) #পস্রাবের রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা, #জ্বালা পোড়া, #রক্ত যাওয়া #মূত্রাশয় সংক্রমণে বা #পস্রাব লিকেজ সংক্রান্ত চিকিৎসা করা হয়।
২) যন্ত্রের সাহায্যে(PCNL, ESWL and icpl methods ) #মুত্রাশয়, #কিডনী, ও #পিত্ত থলিতে পাথর অপসারণ।
৩ #)মলদ্বারের স্থানচ্যুতি, #মলদ্বার স্পিঙ্কটার(sphincter) আঘাত অত্যাধুনিক যন্ত্রের সাহায্যে সার্জারি করা হয়।
৪) #প্রসব জনিত ফিস্টুলা প্রতিস্থাপনের সার্জারি।
ডাঃ তাজকেরা সুলতানা চৌধুরী, সহযোগী অধ্যাপক, শহীদ সহরওয়ার্দ্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল।
চেম্বারঃ ইস্টার্ন দোলন, ১৫২/২ - এইচ (৬ষ্ঠ তলা), বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান স্মরনী, পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা -১২০৫। এপয়নটমেনট নিতে ফোন করুন 01921503847 ও 01989997180 এই নম্বরে দুপুর দুইটা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত। চেম্বার লোকেশনঃ https://goo.gl/maps/HP1zctovRkmT3XPc9