22/10/2025
প্ল্যান্টার ফ্যাসাইটিস :
প্ল্যান্টার ফ্যাসাইটিস (Plantar fasciitis) হলো পায়ের গোড়ালির নিচের অংশে তীব্র ব্যথা হওয়ার একটি সাধারণ কারণ। পায়ের পাতার নিচের দিকে গোড়ালি থেকে আঙুলের গোড়া পর্যন্ত যে মোটা টিস্যু বা পর্দা থাকে, তাকে প্ল্যান্টার ফ্যাসিয়া বলে। এই পর্দায় কোনো কারণে প্রদাহ বা জ্বালা হলে তাকেই প্ল্যান্টার ফ্যাসাইটিস বলা হয়।
লক্ষণ
সকালে ঘুম থেকে উঠে মাটিতে প্রথম পা ফেলার সময় গোড়ালিতে তীব্র ব্যথা হয়।
কিছুক্ষণ হাঁটার পর ব্যথা কিছুটা কমে আসে।
দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে বা হাঁটাচলা, দৌড়ানোর সময় ব্যথা আবার বেড়ে যায়।
গোড়ালির নিচের অংশে ফুলে যাওয়া বা লালচে ভাব দেখা দিতে পারে।
কারণ
অতিরিক্ত চাপ: অতিরিক্ত দৌড়ানো, লাফানো বা অন্যান্য খেলাধুলা, যা পায়ের উপর প্রচুর চাপ সৃষ্টি করে।
অতিরিক্ত ওজন: দেহের ওজন বেশি হলে পায়ের উপর চাপ বাড়ে।
ত্রুটিপূর্ণ জুতো: যে জুতোয় পর্যাপ্ত সাপোর্ট বা কুশন থাকে না, অথবা অতিরিক্ত উঁচু বা ফ্ল্যাট হিলের জুতো পরলে এই সমস্যা হতে পারে।
দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা: যে পেশার কারণে দীর্ঘ সময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, তাতে প্ল্যান্টার ফ্যাসাইটিসের ঝুঁকি বাড়ে।
বয়স: বয়স বাড়ার সাথে সাথে পেশী এবং লিগামেন্টের স্থিতিস্থাপকতা কমে যায়।
পায়ের গঠন: সমতল পা বা অতিরিক্ত উঁচু খিলানযুক্ত পায়ের ক্ষেত্রে ফ্যাসিয়ার উপর অসম চাপ তৈরি হয়।
কিছু রোগ: বাত বা ডায়াবেটিসের মতো কিছু রোগ থাকলে এর ঝুঁকি বেড়ে যায়।
চিকিৎসা
বিশ্রাম: দীর্ঘক্ষণ হাঁটা বা দাঁড়িয়ে থাকা থেকে বিরত থাকা।
ঠান্ডা সেঁক: বরফের প্যাক দিয়ে ব্যথাযুক্ত স্থানে ১৫ মিনিটের মতো সেঁক দিলে আরাম পাওয়া যায়।
সঠিক জুতো: নরম বা কুশনযুক্ত জুতো ব্যবহার করা। অতিরিক্ত ফ্ল্যাট বা উঁচু হিলের জুতো পরিহার করা।
স্ট্রেচিং এক্সারসাইজ: বাছুরের পেশী এবং প্ল্যান্টার ফ্যাসিয়ার নিয়মিত স্ট্রেচিং করলে ব্যথা কমে এবং নমনীয়তা বাড়ে।
শারীরিক থেরাপি: একজন বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে ফিজিওথেরাপি গ্রহণ করা।
বিশেষ ব্যবস্থা: কিছু ক্ষেত্রে বিশেষ ধরনের জুতার সোল (Orthotic inserts) ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
ঔষধ: প্রদাহ কমানোর জন্য চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যথানাশক ওষুধ গ্রহণ।
ইনজেকশন: গুরুতর ব্যথা হলে কর্টিকোস্টেরয়েড ইনজেকশন দেওয়া হতে পারে।