30/01/2026
নিউরন যখন উল্টোপাল্টা:
এক অদ্ভুত প্রেমের প্রেসক্রিপশন
গল্পটা শুরু হয়েছিল হাসপাতালের ক্যাফেটেরিয়ায়। তিনি ছিলেন একজন অভিজ্ঞ সাইকিয়াট্রিস্ট, যার কাজই হলো মানুষের মনের জট খোলা। আর মেয়েটি ছিল এক মেডিকেল স্টুডেন্ট, যার চোখের নিচে ডার্ক সার্কেল দেখে মনে হচ্ছিল সে শেষ কবে ঘুমিয়েছে, সেটা খোদ ডার্ক সার্কেলও ভুলে গেছে।
প্রথম 'সেশন'
একদিন মেয়েটি যখন ২৪ ঘণ্টার শিফট শেষ করে কড়া কফি খাচ্ছিল, সাইকিয়াট্রিস্ট সাহেব চশমাটা ঠিক করে পাশে গিয়ে বসলেন। গম্ভীর মুখে বললেন, "জানেন তো, এই যে আপনি ঘুমাচ্ছেন না, এতে আপনার মেমোরি রি-অর্গানাইজড হচ্ছে না। আপনার ব্রেইন এখন দরকারি তথ্যের বদলে আবর্জনা জমাচ্ছে।"
মেডিকেল স্টুডেন্ট মেয়েটি একবার তার দিকে তাকিয়ে হাই তুলে বলল, "চুপ করেন তো ভাই! এখন যদি জিজ্ঞেস করেন 'আপনার কেমন লাগছে', তবে আমার এই কফির মগটা আপনার মাথায় ল্যান্ড করবে। জাস্ট ঘুমাতে দেন!"
ব্যস! সাইকিয়াট্রিস্ট সাহেব তখনই বুঝে গেলেন—এটাই সেই মেয়ে, যে তার পেশাদার ধৈর্যের পরীক্ষা নেবে।
অদ্ভুত প্রেম আর আজব লজিক
তাদের রিলেশনশিপটা কোনো রোমান্টিক সিনেমার মতো ছিল না, ছিল অনেকটা সাইকোলজি টেক্সটবুকের মতো।
• ছেলেটি রোমান্টিক হতে চেয়ে বলল: "তোমাকে না দেখলে কেমন যেন লাগে, আই মিস ইউ।"
• মেডিকেল স্টুডেন্ট উত্তর দিল: "আরেহ ধুর! এটা স্রেফ নিউরোট্রান্সমিটারের খেলা। ডোপামিন লেভেল বাড়ছে আপনার। যান, ঘুমান গে, সব ঠিক হয়ে যাবে।"
যখনই ছেলেটি একটু ইমোশনাল হওয়ার চেষ্টা করত, মেয়েটি তখনই তাকে একটা 'সাইকিয়াট্রিস্ট' লেখা দরজার মিম পাঠিয়ে বলত—"আপনার আসলে একজন ভালো ডাক্তার দেখানো দরকার।"
সেই বিখ্যাত ১২ দিনের চ্যালেঞ্জ
একবার তাদের মধ্যে ঝগড়া হলো। ছেলেটি বলল, "তুমি আমাকে একদমই গুরুত্ব দাও না।"
মেয়েটি নির্বিকার মুখে রিপ্লাই দিল, "টেনশন নিয়েন না। ঠিক ১২ দিন ওয়েট করেন। আমাদের ব্রেইন সেলগুলো ১২ দিন পর এমনিতেই নতুন ইনফরমেশন নিতে শুরু করবে, আপনি আমাকে ভুলে যাবেন। গ্যারান্টিড!"
ছেলেটি ১২ দিন তো দূরের কথা, ১২ ঘণ্টাও টিকতে পারল না। , "মেমোরি তো রি-অর্গানাইজড হচ্ছে না, উল্টো প্রোফাইল লিংক খুজছে।"
সাইকিয়াট্রিস্ট সাহেব ভাবলেন একটু সরাসরি অফার দেবেন। তিনি বললেন, "শোনো, মানুষ আসলে পলিগ্যামাস হতে পারে, কিন্তু আমি তোমার সাথেই 'অ্যাসেক্সুয়াল রিলেশনশিপ'-এ থাকতে রাজি আছি। প্রেম করবা?"
মেয়েটি স্রেফ একটা ইমোজি পাঠিয়ে বলল, "নাহহহহহ!"
ছেলেটি হাল ছাড়ল না। "আমি তোমাকে স্যাটিসফাই করতে পারব... মানসিকভাবে। আর ওই যে নেকলেসটা দেখেছিলে, ওটা তোমার ল্যাব কোটের সাথে খুব মানাবে।"
মেয়েটি উত্তরে বলল, "আপনি তো বুইড়া (বড়)! আপনার চুলে কি পাক ধরেছে? সাদা চুল না থাকলে ঠিক ফিল আসে না।"
তাদের এই প্রেম কোনোদিনও স্বাভাবিক হবে না। একজন সারাক্ষণ মনের চিকিৎসা করতে চায়, আর অন্যজন বলে—সবই শরীরের কেমিক্যাল লোচা। তারা এখনো একে অপরকে ব্লক করার ভয় দেখায়, ১২ দিনের ডেডলাইন দেয়, আর দিনশেষে একে অপরকে পচিয়ে মিম শেয়ার করে।
কারণ ডাক্তাররা জানে—পাগলামি যদি সারানো না যায়, তবে পাগলের সাথেই সংসার করা ভালো!
©️সজীব আবেদিন