30/04/2026
ক্যান্সারযোদ্ধাদের একটা সাধারণ প্রশ্ন থাকে কি খাবো কি খাবো না? তাদের কথা মাথায় রেখেই কষ্ট করে লেখাটি লেখলাম।
দয়া করে সবাই পড়বেন। প্রাত্যহিক জীবনে মেনে চললে উপকার পাবেন আশা করি।
#ক্যান্সার_রোগীর_খাদ্যতালিকাঃ
ক্যান্সার রোগীদের খাবার তালিকা মূলত তাদের শরীরের শক্তি বজায় রাখা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো এবং চিকিৎসার (যেমন কেমোথেরাপি বা রেডিওথেরাপি) পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সামলানোর ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা উচিত।
#প্রয়োজনীয়_খাদ্য_উপাদানসমূহঃ
১। প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার: টিস্যু মেরামত ও পেশি ক্ষয় রোধ করতে প্রোটিন খুব জরুরি।
মাছ, মুরগির মাংস এবং ডিম।
ডাল, শিমের বিচি, মটরশুঁটি ও বাদাম।
দুগ্ধজাত খাবার যেমন—পনির বা ছানা (যদি হজমে সমস্যা না থাকে)।
২। শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট: শক্তির প্রধান উৎস হিসেবে এগুলো গ্রহণ করা উচিত।
লাল চালের ভাত, ওটস বা লাল আটার রুটি।
মিষ্টি আলু বা সাধারণ আলু।
৩। ফল ও সবজি: ভিটামিন, মিনারেল এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের জন্য প্রতিদিন রঙিন ফল ও সবজি রাখা উচিত।
পেঁপে, গাজর, পালং শাক, ব্রোকলি এবং লাউ।
ভিটামিন-সি যুক্ত ফল যেমন—লেবু, কমলা বা পেয়ারা।
#খাবার_প্রস্তুতকরনঃ
টাটকা খাবার (সবজি, মাছ,মাংস) ভালোভাবে ধুয়ে নিবেন> তারপর বড় বড় পিস করে কাটবেন> ৭০থেকে ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ভালোভাবে সিদ্ধ করে জীবাণুমুক্ত করে খাবেন> খাবার রান্না করার পর ২ ঘন্টার মধ্যে খেয়ে নিবেন।>রান্না করা খাবার ফ্রিজে রেখে বা বার বার জ্বাল দিয়ে খাবেন না।
যাদের রক্তে লবনের পরিমান কমে যায় তারা একটু বেশি লবন দিয়ে রান্না করতে পারেন।
(উপায় না থাকলে ফ্রিজের কাচা মাছ, মাংস, সবজি রান্না করে খাওয়া যেতে পারে। খাবারে যথাসম্ভব কম তেল ও মসলা ব্যবহার করলে ভালো হয়। তবে রুচিকর করে তোলার জন্য ক্যান্সার রোগীর পছন্দ ও শারীরিক কন্ডিশন অনুযায়ী কিছু পরিবর্তন করা যেতে পারে।)
#বমিভাব_ও_অরুচিতে_কিভাবে_খাবেনঃ
১। অল্প অল্প করে বারবার খাওয়া:
একসাথে অনেক বেশি না খেয়ে সারাদিনে ৫-৬ বার অল্প করে পুষ্টিকর খাবার খাওয়া ভালো। এতে হজমে সুবিধা হয় এবং দুর্বলতা কম লাগে।
২। তরল খাবার:
শরীর হাইড্রেটেড রাখতে পর্যাপ্ত পানি, ডাবের পানি, তাজা ফলের রস বা স্যুপ পান করা উচিত।
৩। খাবারের স্বাদ ও গন্ধ:
চিকিৎসার কারণে অনেক সময় খাবারের স্বাদ তেতো লাগতে পারে। সেক্ষেত্রে খাবারে সামান্য লেবুর রস বা মশলা (যেমন আদা বা এলাচ) মিশিয়ে রুচি বাড়ানো যেতে পারে।
দুধ খেতে না ইচ্ছে করলে পুডিং বানিয়ে খান।
#পানি_কতটুকু_খাবেন?
একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মতো ক্যান্সার রোগীদেরও সাধারণত দৈনিক ২ থেকে ৩ লিটার (প্রায় ৮-১২ গ্লাস) তরল পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
তবে যদি বমি বা ডায়রিয়া থাকে, তবে এই পরিমাণ আরও বাড়াতে হতে পারে। তাছাড়া পানিশূন্যতা, গরম আবহাওয়া, কেমোথেরাপি, রেডিও থেরাপি চলাকালীন বেশি পানি খাওয়া দরকার হতে পারে। যতক্ষণ তৃষ্ণা থাকে ততক্ষণ পানি খাবেন, তাতে কোনো সমস্যা নেই।
#খেতে_মানাঃ
অর্ধসেদ্ধ বা কাঁচা মাছ-মাংস ও ডিম (সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে), সালাদ।
অতিরিক্ত ঝাল, চর্বিযুক্ত বা বাইরের ভাজাপোড়া খাবার।
অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় বা প্রসেসড ফুড।
বাসি খাবার
ফরমালিন যুক্ত ফলঃ বিশেষ করে আঙুর, আপেল।
অ্যালার্জি রয়েছে বা অন্য রোগের কারনে নিষেধ আছে সেই খাবার পরিহার করতে হবে।
#বিশেষ_সতর্কতাঃ
ক্যান্সারের ধরন এবং রোগীর বর্তমান শারীরিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে পুষ্টির চাহিদা ভিন্ন হয়। তাই কোনো নির্দিষ্ট ডায়েট চার্ট অনুসরণ করার আগে আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।
বিশেষ কোনো সমস্যা (যেমন—মুখের ঘা বা বমি ভাব) হচ্ছে যা খাবার গ্রহণে বাধা দিচ্ছে? মূলত লক্ষণের ওপর ভিত্তি করে খাবারের ধরন পরিবর্তন করলে বেশি উপকার পাওয়া যায়।
ডাঃ মোঃ তৌছিফুর রহমান
এমবিবিএস, এমডি (অনকোলজি)
ক্লিনিক্যাল অনকোলজিস্ট
টিএমএসএস ক্যান্সার সেন্টার, বগুড়া।
চেম্বারঃ ইবনে সিনা কন্সালটেশন সেন্টার,কানজগাড়ি, বগুড়া রুম ৬০৬ (শনিবার থেকে বুধবার বিকাল ৫.৩০ থেকে রাত ৮.৩০)
সনো কনসাল্টেসন সেন্টার ২
কলেজ মোড়, কুষ্টিয়া (প্রতি শুক্রবার সারাদিন)
যোগাযোগের জন্যঃ ০১৫২১২৫৮৬৬৪ (হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজের জন্য)