09/12/2025
আধুনিক কর্পোরেট কৃষির সবচেয়ে বড় এক শত্রু কোনটা বলুন তো?
ঘাস!
ঘাসকে কর্পোরেট কৃষি নাম দিয়েছে আগাছা! আর মানুষকে ব্রেইনওয়াশ করেছে– এই আগাছা যেখানেই দেখবে পোড়া বি/ষ মেরে সাফ করে ফেলতে হবে!
ঘাসকে কেন শত্রু বানানো হলো?
ঘাস তো কোনো ক্ষতিকর উদ্ভিদ না!
বরং ঘাস হচ্ছে আল্লাহর বানানো সবচেয়ে উত্তম প্রাকৃতিক পশুখাদ্য!
ঘাস পৃথিবীর সবচেয়ে প্রচুর ও দ্রুত জন্মানো উদ্ভিদ!
এদেশে দেখবেন প্রচুর ঘাস জন্মায়। সেচ লাগেনা, রাসায়নিক লাগেনা, যত্ন লাগেনা; অথচ সারাবছর বাঁচে, পোকায় ধরেনা, রোগেও ধরেনা!
এমনকি পোড়া বি/ষ মেরেও এই ঘাস দমন করা যায়না! জমিতে বি/ষ মারে, কয়দিন পর আবার ঘাস গজায় যায়!
প্রকৃতিতে ঘাসের এই রকম হবার রহস্য কি?
অবশ্যই এর কারণ আছে।
গরু-ছাগল-ভেড়া-মহিষ এরা ঘাস খেয়ে বাড়ে।
আল্লাহ প্রকৃতিতে এত ঘাস দিচ্ছেন এর কারণ মানুষ যাতে সহজে পশুপালন করতে পারে!
হাজার হাজার বছর মানুষ ঘাসভিত্তিক পশুপালন করে এসেছে।
ঘাস বিনামূল্যে জন্মায়!
ঘাসভিত্তিক পশুপালন মানে আমাদের জন্য সস্তা, সহজলভ্য, সেরামানের মাংস।
এভাবে আমরা প্রাকৃতিকভাবেই সবচেয়ে উত্তম খাদ্য মাংস ও চর্বি পেয়ে যেতাম। মাংস খেয়ে জাতির সব অপুষ্টি দূর হয়ে যেত!
অথচ জাতিকে শেখানো হয়েছে– লাল মাংস খায়োনা, পশু চর্বি খায়োনা! লাল মাংস সবচেয়ে খারাপ! বি/ষ মেরে প্রাণ-প্রকৃতির সর্বনাশ করে শাকসবজি, গম, ভুট্টা, সয়াবিন উৎপাদন করো! এগুলোই সবচেয়ে পুষ্টিকর, বেশি বেশি খাও!
আর এর ফলে দেখা দিয়েছে অপুষ্টি, হরমোন সমস্যা, দুর্বলতা, রোগপ্রতিরোধ কম, চুল-ত্বক সমস্যা ইত্যাদি!
আর ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয় তো আছেই!
জনগণ আদতে ন্যারেটিভ মানছে, সাইন্স না!
লাল মাংস সবচেয়ে খারাপ –এটা কঞ্জিউমার ক্যাপিটালিজমের এক নিকৃষ্ট ন্যারেটিভ! প্রপাগান্ডা!
মানুষের শরীর মূলত প্রাণিজ পুষ্টির জন্যই ডিজাইন করা রয়েছে!
তা না হলে উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে পুষ্টি কনভার্ট ও এবজর্ব করায় জটিলতা কেন?
বায়োঅ্যাভেইলেবিলিটিই প্রমাণ করে মানুষ অ্যানিমাল-প্রিডমিন্যান্ট ইটার। মানে মূল খাদ্য হলো প্রাণিজ, আর সহায়ক খাদ্য হলো ফল, মূল, সামান্য শাকসবজি।
পুষ্টি পেতে শাকসবজি বেশি বেশি খাও –এটা কঞ্জিউমার ক্যাপিটালিজমেরই একটা ন্যারেটিভ!
এদেশের বেশিরভাগ মানুষ প্রোটিনের মারাত্মক ঘাটতিতে আছে!
মানুষ প্রোটিন খাওয়াকে মনে করে ভালোমন্দ খাওয়া। মানে ২ পিস মাংস আর একটু ঝোল হলে ৩ প্লেট ভাত খেয়ে নেয়া যায় এটুকুই!
অথচ যাদের শরীর বেড়ে উঠছে যেমন শিশু, গর্ভবতী নারী বা স্তন্যদানকারী মা, তাদের শরীরে নতুন টিস্যু তৈরি হয় বলে পর্যাপ্ত প্রোটিন দরকার হয়।
গড়পড়তা প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য প্রতি কেজি ওজনে ০.৮ গ্রাম প্রোটিন প্রয়োজন প্রতিদিন।
এটা শরীরের ন্যূনতম চাহিদা মেটানোর জন্য।
উদাহরণস্বরুপ- ৭০ কেজি ওজনের একজন মানুষের দিনে প্রোটিন প্রয়োজন হতে পারে প্রায় ৭০×০.৮= ৫৬ গ্রাম।
বয়স ৪০–৫০ বছরের বেশি হলে এই বয়সে সারকোপেনিয়া ঠেকাতে প্রতিদিন ন্যূনতম ১–১.২ গ্রাম প্রতি কেজি ওজনে প্রোটিন দরকার।
নিয়মিত ব্যায়াম করলে প্রতি কেজি ওজনে প্রয়োজন ১.২–২ গ্রাম প্রোটিন।
খাবারে শুধু প্রোটিন থাকে না; এর সঙ্গে পানি, চর্বি, খনিজ আর ভিটামিনও থাকে। তাই যখন বলা হয় কারো ৬০ গ্রাম প্রোটিন দরকার, তখন এর মানে হলো সারাদিনে এমনভাবে খাবার খেতে হবে যাতে সব খাবার মিলিয়ে শরীরে মোট ৬০ গ্রাম প্রোটিন পৌঁছায়।
লাল মাংস দিয়ে এই প্রোটিনের চাহিদা খুবই উত্তমভাবে পূরণ করা যায়! ধরা যাক, কারো দৈনিক প্রয়োজন ৬০ গ্রাম প্রোটিন। প্রতিদিন প্রায় ২৫০ গ্রাম রান্না করা গরু/খাসি/ভেড়ার মাংস খেলেই প্রায় ৬০ গ্রাম প্রোটিন পাওয়া যায়!
তাই প্রতিদিন ২৫০–৩০০ গ্রাম রান্না করা লাল মাংস খেলে অনেকেরই দৈনিক প্রোটিনের চাহিদা পূরণ হয়ে যাবে।
এই মাংস খেতে হবে পানিতে অল্প তাপে দীর্ঘক্ষণ (২-৩ ঘন্টা) সিদ্ধ করে। এভাবে মাংসের কোলাজেন, মিনারেল, অ্যামিনো অ্যাসিড ভালোভাবে বের হয়, খুবই নরম হয়, হজম সহজ হয়, শরীরে উত্তমরূপে শোষিত হয়।
সাথে হালকা কিছু শাক-সবজি, সম্পূর্ণ শস্য খাওয়া যেতে পারে।
স্বাস্থ্যের দিক থেকে লাল মাংস খাওয়ার সবচেয়ে উত্তম পদ্ধতি এটাই!
জনগণের কালেক্টিভ এগ্রিমেন্ট যদি কনজিউমার ক্যাপিটালিজমের ন্যারেটিভে আটকা থাকে, তবে প্রাকৃতিক খাদ্য কখনোই জনগণের কাছে পৌঁছাবে না!
বি/ষ মেরে ঘাস ধ্বংস করে শাকসবজি, শস্যের ম্যাস প্রোডাকশন হচ্ছে।
গবাদিপশু ঘাস না পেলে সেখানে কর্পোরেটদের কন্ট্রোল থাকে।
বিনামূল্যের ঘাস বাদ দিয়ে কৃত্রিম খাদ্য খাইয়ে, এন্টিবায়োটিক, হরমোন দিয়ে পশুপালন হচ্ছে, ফলে মাংসের দামও কমছেনা, জনগণ অপুষ্টিতে ভুগছে!
ওরা বলে– ঘাস জমির উৎপাদনশীলতা নষ্ট করে!
বাস্তবে ঘাস মাটিকে উর্বর করে, ক্ষয় রোধ করে, পানি ধরে রাখে, জীববৈচিত্র্য বাড়ায়, জমি পুনরুজ্জীবিত করে!
যতক্ষণ জাতি বিশ্বাস করবে– 'লাল মাংস খারাপ', 'উদ্ভিজ্জ খাবারই সবচেয়ে পুষ্টিকর', ততক্ষণ স্বাস্থ্য ও পরিবেশের সর্বনাশ ঠেকানো অসম্ভব!
উদ্ভিজ্জ খাদ্যের জায়গাটা পুষ্টির উৎস নয়, বরং সাপ্লিমেন্টারী হিসেবে রাখতে হবে। মূল পুষ্টি আসতে হবে প্রাণিজ খাদ্য থেকেই!
ঘাসভিত্তিক পশুপালন হলে মাংস সহজলভ্য হয়ে যাবে। মাংস খেলে জাতির আর বি/ষ মেরে শাকসবজি, শস্য উৎপাদন করা লাগবেনা। কৃষি প্রাকৃতিকভাবে হবে শুধু মৌসুমী শাকসবজি-ফলমূল, বৈচিত্র্যময় দেশি শস্য উৎপাদনের জন্য।
ক্যাপ্টেন গ্রিন