19/01/2026
বৃহস্পতিবারের সেই যাত্রাটা আমার কাছে আজও খুব স্পষ্ট। ঢাকা থেকে রাজশাহী পথে একটি প্রাইভেট কারে আমরা কয়েকজন একসাথে যাচ্ছিলাম। কথাবার্তার এক পর্যায়ে একজন MBBS ডাক্তার খুব আত্মবিশ্বাসের সাথে বলতে শুরু করলেন—
“হো-মিওপ্যা-থি তেমন কিছু না, এগুলো কোনো চিকি-ৎসাই না।”
কথাগুলো শুনে আমি চুপ করে থাকতে পারলাম না। ভদ্রভাবেই তাকে একটি সহজ প্রশ্ন করলাম—
“স্যার, A1 মানে কী?”
প্রশ্নটা শুনে তিনি কয়েক সেকেন্ড থেমে গেলেন। এদিক-ওদিক তাকালেন, যেন সময় নিচ্ছেন। আমি আবার বললাম,
“স্যার, কী হলো?”
শেষ পর্যন্ত তিনি বললেন,
“এটা জানা নেই।”
আমি তখন শান্ত গলায় বললাম—
“স্যার, এটা তো ডিকশনারির প্রথম শব্দ। একজন MBBS ডাক্তার হিসেবে আপনি এটা জানেন না—এটা মানতে আমার কষ্ট হচ্ছে।”
তিনি একটু বিরক্ত হয়ে বললেন,
“আরে, এতসব জানা লাগে না।”
আমি তখন আরেকটা প্রশ্ন করলাম—
“স্যার, পরীক্ষার আগের রাতে প্রশ্ন কত টাকা দিয়ে কিনেছিলেন?”
এই প্রশ্নে তিনি ক্ষেপে গেলেন।
“ধুর! ফাজলামি করেন?”—বললেন রাগান্বিত কণ্ঠে।
আমি তখন শান্তভাবেই বললাম—
**“স্যার, ২০২২ আর ২০২৩ সালে MBBS প্রশ্নফাঁসের বিষয় আমরা সবাই টিভি চ্যানেলে দেখেছি। যারা এই কাজ করত, তারা টাকার বিনিময়ে করেছে, জমি কিনেছে, ঢাকায় ফ্ল্যাট কিনেছে—সবকিছুই ভিডিও প্রমাণসহ দেখানো হয়েছে। তাই একজন MBBS ডাক্তার ডিকশনারির প্রথম শব্দের মানে জানেন না—এটা মেনে নেওয়া কঠিন।”
তিনি আরও রেগে গেলেন। স্পষ্ট ভাষায় বললেন—
“তোমাদের হো-মিওপ্যা-থি কোনো চিকি-ৎসাই না, এগুলো চলে না।”
আমি তখন শেষ প্রশ্নটা রাখলাম—
“স্যার, আপনার MBBS ডিগ্রিকে আমি স্যালুট দেব, যদি আপনি আর আপনার সিনিয়রসহ বাংলাদেশের সব MBBS ডাক্তার একসাথে মিলে বিনা অপা-রেশনে একজন মানুষের টিউমার সারাতে পারেন। আমি আজীবন আপনার বাসায় কাজের লোক হয়ে থাকতে রাজি। আমি চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত—আপনাদের দৌড় দেখতে চাই।”
গাড়িতে আরও দুজন ছিলেন। একজন বয়স্ক ভদ্রলোক—তিনি মুচকি হাসছিলেন। আরেকজন ছিলেন স্যারের অ্যাসিস্ট্যান্ট—তিনি উল্টোপাল্টা কথা বলে পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করছিলেন।
কিন্তু প্রশ্নটা থেকেই গেল—
বিনা অপা-রেশনে টিউমার সারানোর ক্ষমতা কি আজ পর্যন্ত এ'লোপ্যা'থি প্রমাণ করতে পেরেছে?
গাড়ির ভেতর হঠাৎ নীরবতা নেমে এলো। কারণ সত্যিটা সবারই জানা—এখনও পর্যন্ত এ'লোপ্যা'থিতে বিনা অপারেশনে টিউমার সারানোর কোনো ওষুধ আবিষ্কৃত হয়নি।
এই কথাগুলো আমি জেনে-বুঝেই বলেছিলাম।
তাই একটা বিষয় পরিষ্কার—কোনো চিকি-ৎসা পদ্ধতিই স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়।
হো-মিওপ্যা-থিতেও অপারেশন বা সা'র্জারি সর্বোচ্চ সমাধান নয়, আবার এ'লোপ্যাথি'তেও সব সমস্যার একমাত্র উত্তর নেই।
এক চিকি-ৎসা পদ্ধতি আরেকটাকে অপমান করা, তুচ্ছ করা—এটা কখনোই সভ্যতার পরিচয় নয়।
দুঃখজনক হলেও সত্য, বাংলাদেশের অনেক MBBS ডাক্তার হো-মিওপ্যা-থির নাম শুনলেই বিরক্ত হন। আবার ওপাশে ভারতের কিছু ডা:ক্তার বাংলাদেশের MBBS ডা:ক্তারদের নিয়ে হাসাহাসি করেন—
“ওরা আবার ডা:ক্তার?”
“রিপোর্ট ছুঁড়ে দেয়, রোগী দেখে না”—এইসব কথা।
অথচ প্রকৃত সত্য হলো—
নিউটনের তৃতীয় সূত্র আজও অটল: প্রত্যেক ক্রিয়ার সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে।
কোনো চিকি-ৎসাই শেষ কথা নয়।
স্বয়ংসম্পূর্ণ যদি কেউ থাকেন—তিনি একমাত্র আল্লাহ।