18/04/2026
৬ মাস পূর্ণ হওয়ার পর শিশুদের মায়ের দুধের পাশাপাশি পরিপূরক বা বাড়তি খাবার দেওয়া শুরু করা প্রয়োজন। এই সময়ে শিশুদের দ্রুত শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধির জন্য আয়রন, ক্যালসিয়াম এবং প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার তালিকায় রাখা জরুরি।
৬ মাস থেকে ১ বছর বয়সি শিশুদের জন্য কিছু পুষ্টিকর খাবারের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
# # # ১. শস্যজাতীয় খাবারঃ-
* **খিচুড়ি:** এটি সবচেয়ে আদর্শ খাবার। চাল, ডাল (মুগ বা মসুর), সামান্য তেল এবং বিভিন্ন সবজি (পেঁপে, গাজর, মিষ্টি কুমড়া) দিয়ে নরম করে রান্না করা খিচুড়ি।
* **সুজি বা ওটস:** ঘরে তৈরি সুজি বা ওটস দুধ বা ফলের পিউরির সাথে মিশিয়ে খাওয়ানো যায়।
# # # ২. প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবারঃ-
* **ডিমের কুসুম:** প্রথমে অল্প করে ডিমের কুসুম শুরু করুন। সহ্য হয়ে গেলে ধীরে ধীরে পরিমাণ বাড়ান (১ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে সাধারণত ডিমের সাদা অংশ না দেওয়াই ভালো)।
* **মাছ ও মাংস:** নরম কাঁটাবিহীন মাছের কিমা বা মুরগির মাংস খুব ভালোভাবে সেদ্ধ করে ম্যাশ করে খিচুড়ির সাথে মিশিয়ে দিন।
* **ডাল:** ডাল প্রোটিনের খুব ভালো উৎস, যা খিচুড়িতে যোগ করা সহজ।
# # # ৩. সবজি ও ফলঃ
* **সবজি সেদ্ধ:** গাজর, আলু, মিষ্টি কুমড়া, পেঁপে বা ব্রকলি সেদ্ধ করে চটকে (ম্যাশ করে) খাওয়ানো যায়।
* **ফলের পিউরি:** পাকা কলা, আপেল সেদ্ধ, নাশপাতি বা পাকা পেঁপে চটকে পিউরি তৈরি করে দিন। এতে প্রচুর ভিটামিন ও খনিজ থাকে।
# # # ৪. দুগ্ধজাত খাবারঃ-
* **দই:** টক দই বা মিষ্টি ছাড়া ঘরে পাতা দই হজমের জন্য ভালো এবং ক্যালসিয়ামের উৎস।
* **পনির:** নরম পনির ছোট ছোট টুকরো করে বা গ্রেট করে খাবারে মেশানো যায়।
# # # কিছু জরুরি টিপস:
* **চিনি ও লবণ পরিহার:** ১ বছর বয়স হওয়ার আগ পর্যন্ত শিশুর খাবারে আলাদা করে লবণ বা চিনি যোগ করবেন না। এটি তাদের কিডনি ও লিভারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
* **মায়ের দুধ:** পরিপূরক খাবারের পাশাপাশি অন্তত ২ বছর বয়স পর্যন্ত মায়ের দুধ খাওয়ানো চালিয়ে যেতে হবে।
* **খাবারের ঘনত্ব:** শুরুতে খাবার খুব নরম বা সেমি-লিকুইড হতে হবে। শিশু অভ্যস্ত হয়ে গেলে ধীরে ধীরে দানাদার বা আধা-শক্ত খাবার দিন।
* **মধু ও গরুর দুধ:** ১ বছরের আগে শিশুকে মধু বা গরুর দুধ (সরাসরি পানের জন্য) দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।
* **পরিচ্ছন্নতা:** খাবার তৈরির আগে এবং শিশুকে খাওয়ানোর আগে হাত ও বাসনপত্র ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিন।
বিঃদ্রঃ শিশুর পছন্দ ও হজম ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে ধীরে ধীরে নতুন নতুন খাবারের সাথে পরিচয় করিয়ে দিন। একদিনে একটির বেশি নতুন খাবার শুরু না করাই ভালো, যাতে কোনো খাবারে অ্যালার্জি আছে কি না তা বোঝা যায়।