11/05/2026
রুকইয়াহ কী?
অনেকে'ই রুকইয়াহ শব্দের সঙ্গে পরিচিত না হলেও ঝাড়-ফুঁক শব্দটির সঙ্গে বেশ পরিচিত।
রুকইয়াহ হলো সুন্নাহভিত্তিক একটি চিকিৎসা পদ্ধতি এবং আল্লাহ তা'য়ালার কাছে প্রার্থনার এক বিশেষ নিয়ম। বদনজর
জ্বিনের আছর
যাদু-টোনা
কুফরী
বান
ব্লাক ম্যাজিক
বিয়ে বন্ধ বা আটকে রাখা
স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ সৃষ্টির যাদু
শারীরিক ও মানসিক ইত্যাদি ইত্যাদি সমস্যার জন্য সম্পূর্ণ কুফর-শির্ক মুক্ত কোরআন সুন্নাহ অনুযায়ী একটি চিকিৎসা পদ্ধতির নাম হলো রুকইয়াহ শরঈয়্যাহ।
রুকইয়াহ কীভাবে করতে হয়?
রুকইয়াহ চিকিৎসা নেওয়ার দুইটা পদ্ধতি রয়েছে
১. সরাসরি
২. সেল্ফ রুকইয়াহ
সরাসরি রুকইয়াহ হলো—
রোগী রাক্বীর সামনে বসে থাকবে আর রাক্বী সাহেব রোগীর কানের কাছে বা উঁচু আওয়াজে কোরআনের রুকইয়াহ'র আয়াত ও হাদীসে বর্ণিত দোয়া ইত্যাদি জায়েজ দোয়াগুলো তেলাওয়াত করতে থাকবেন। রোগীর যদি জ্বিনের সমস্যা থাকে তাহলে হয়তো জ্বিন হাজির হবে অথবা পালিয়ে যাবে। জ্বিন হাজির হলে রাক্বী সাহেব জ্বিন কে চলে যেতে বলবেন। যদি সহজে যেতে না চায় তাহলে আল্লাহ'র সাহায্যে চলে যেতে বাধ্য করবেন। আর যদি হাজির না হয়ে পালিয়ে যায় তবে আলহামদুলিল্লাহ্ কারণ শত্রুর মোকাবেলা না করাই ভালো। জ্বিন শয়তান হচ্ছে মানুষের প্রকাশ্য শত্রু।
আর যদি জ্বিনের সমস্যা না থাকে শুধু জটিল যাদু টোনার সমস্যা থাকে তাহলে তো আর জ্বিন হাজির হবেনা। তখন শুধু যাদু ও গিট/বান ধ্বংসের বা কাটার জন্য রুকইয়াহ করবে।
রুকইয়াহ করা পড়া পানি, মধু, তেল, কালোজিরা ইত্যাদি নিয়ম অনুযায়ী ব্যবহার করতে হবে এতেই আস্তে আস্তে যাদুটোনা ধ্বংস হয়ে যাবে আল্লাহর রহমতে ইনশাআল্লাহ। হয়তো বমিও হতে পারে যদি চুল, গোস্তের টুকরো, লাল, কালো ইত্যাদি ইত্যাদি বমি হয়ে যায় তাহলে আলহামদুলিল্লাহ এতে দ্রুত সুস্থ হওয়া যায়। এরপরও সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়া পর্যন্ত সেল্ফ রুকইয়াহ চালিয়ে যেতে হবে।
সেল্ফ রুকইয়াহ হলো—
সেল্ফ (self) একটি ইংরেজি শব্দ। যার অর্থ হল নিজ/নিজে। সুতরাং সেল্ফ রুকইয়াহ অর্থ হলো নিজে নিজে রুকইয়াহ করা। নিজের জন্য নিজে যে রুকইয়াহ অথবা দুআ অথবা ঝাড়ফুঁক করা হয় তাকেই সেল্ফ রুকইয়াহ বলে। সুতরাং সেল্ফ রুকইয়াহ মানে রাক্বী/চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিজে নিজে রুকইয়াহ বা আমল করা।
সেল্ফ রুকইয়াহ'তে যা প্রয়োজন হয় বা যা পালন করতে হয়—
দৈনিক নিয়মিত দুই আড়াই ঘন্টা কিছু অডিও শোনা। তিলাওয়াত করা, পড়া পানি খাওয়া, পড়া পানি দিয়ে গোসল করা, বাড়িতে পানি ছিটিয়ে দেওয়া, বরই পাতার গোসল করা, ডিটক্স রুকইয়াহ করা, মধু, কালোজিরা ইত্যাদি খাওয়া।
প্রথমে কোন সমস্যার জন্য
রুকইয়াহ করবেন—
যেকোনো রুকইয়াহ'র শুরুতে বদনজর, হাসাদের রুকইয়াহ দিয়ে শুরু করতে হবে। তারপর জ্বিন, যাদুটোনা, ব্লাক ম্যাজিকের জন্য এরপর অন্যান্য সমস্যার জন্য রুকইয়াহ করবেন।
সরাসরি রুকইয়াহ একবার করলেই কি ভালো হয়ে যাবেন?
জ্বিন, যাদু-টোনার বিষয়টা হলো ক্যান্সারের মতো। দিন যতই যায় রোগ ততই ছড়ায়। আর রোগ যতই ছড়ায় সময়, সিডিউল ও সেশনও তত'ই বেশি লাগে। রোগ/সমস্যা বেশি থাকলে বা জটিল হলে একবারে ভালো না হলে আরো দুই একবার বা দুই এক সেশন সরাসরি রুকইয়াহ করা লাগতে পারে। তাই সরাসরি রুকইয়াহ কত সেশন লাগতে পারে এটা নির্ভর করে সম্পূর্ণই রোগীর অবস্থার উপর। পাশাপাশি সেল্ফ রুকইয়াহ চালিয়ে যেতে হবে সম্পুর্ণ সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত। তাহলে ইনশাআল্লাহ্ অচিরেই আল্লাহর রহমতে সুস্থ হওয়া সম্ভব। শুধু যাদুর সমস্যা থাকলে সেল্ফ রুকইয়াহ এর পাশাপাশি সরাসরি রুকইয়াহ ২/৩ সেশন'ই যথেষ্ট হতে পারে ইনশাআল্লাহ। জ্বিন ও যাদুর সমস্যার জন্য অবশ্যই সরাসরি রুকইয়াহ প্রয়োজন। ৯০/৯৫% জ্বিন ও যাদুর সমস্যার জন্য শুধু সেল্ফ রুকিয়াহ করে সুস্থ হওয়া প্রায় অসম্ভব।
আর শুধু যাদুর সমস্যা জন্য শুধু সেল্ফ রুকইয়াহ করলে সুস্থ হতে তিন, চার মাস বা পাঁচ মাসের মতো লাগতে পারে। এর মধ্যে যাদের বিয়ে হচ্ছে না বা বিয়ে বন্ধ ও আটকে রাখা হয়েছে বা স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বিচ্ছেদের যাদু করা হয়েছে তাদের জন্য বিয়ে বা সম্পর্ক ঠিক রাখা ও সুন্দর করার রুকইয়াহ'ও থাকবে। আপনি সুস্থ হলে যাদু কেটে গেলে ইনশাআল্লাহ সম্পর্ক সুন্দর ও ভালো হবে। খুব দ্রুতই বিয়ে হবে আল্লাহর রহমতে ইনশাআল্লাহ। এর পাশাপাশি দ্রুত বিয়ের জন্য অতিরিক্ত কিছু আমলও করবেন। তবে মনে রাখতে হবে অনেক সময় যাদুর সমস্যার জন্য বা দ্রুত সুস্থ হতে আল্লাহর উপর ভরসা করে সেল্ফ রুকইয়াহ এর পাশাপাশি সরাসরি রুকইয়াহ'ও করতে হয়।
যেসব সমস্যার জন্য রুকইয়াহ করা হয়—
বদনজর
ওয়াসওয়াসা
জ্বিনের আছর
যাদুটোনা
জ্বিন যাদু সংক্রান্ত সকল প্রকার সমস্যার জন্য। যেমন পাগল বানানোর যাদু, পড়ালেখা নষ্ট করার যাদু, বিবাহ বন্ধের যাদু, বিবাহ বিচ্ছেদের যাদু, বান মারা বা মেরে ফেলার যাদু, অসুস্থ বানানোর যাদু, অনিয়মিত পিরিয়ড এর যাদু, সহবাসে অক্ষম করার যাদু, বাচ্চা না হওয়া বা বন্ধ্যাত্বের যাদু, আসক্ত বা বশ করার যাদু, আর্থিক আয় উন্নতি বন্ধের যাদু ও অলসতা, অবসন্নতা, অশান্তি ও অস্থিরতা ইত্যাদি এবং শারীরিক মানসিক সমস্ত সমস্যার জন্যেও রুকইয়াহ করা জরুরী।
সতর্কতা—
১) রাক্বী বা অভিজ্ঞদের পরামর্শ ব্যতীত রুকইয়াহ না করার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এতে সমস্যা আরো জটিল আকার ধারণ করতে পারে।
২) জ্বিন এবং যাদুর সমস্যায় সরাসরি রুকইয়াহ এর বিকল্প নেই। আপনি যদি জ্বিন বা যাদুতে আক্রান্ত হয়ে থাকেন তাহলে অতিদ্রুত একজন রাক্বীর তত্ত্বাবধানে থেকে রাক্বীর পরামর্শ অনুযায়ী রুকইয়াহ চিকিৎসা গ্রহণ করুন।
৩) কাউকে নিজেদের নাম, ঠিকানা, ছবি, ব্যবহৃত কোনকিছু, ডিম, হাস, মুরগী, লাউ ইত্যাদি ইত্যাদি কিছু দিবেন না। যতই বড় হুজুর হোক এগুলো দিবেন না। ওসব রুকইয়াহ নয়। শিরকি চিকিৎসা। তাই এ বিষয়ে খুবই সাবধান।
01974-151654
আশ-শিফা রুকইয়াহ পয়েন্ট