08/12/2025
আমাদের দাদী নানীদের ১০-১২ জন করে বাচ্চা ছিল,আর আমাদের জেনারেশন এর এই অবস্থা কেন?
আগে তো এত সমস্যা ছিল না, এখন ঘরে ঘরে PCOS কেন?
চলুন দেখে নেই, ৫০-৬০ বছর আগে নারীদের লাইফস্টাইল কেমন ছিল?
✅ডায়েট :
আগেকার সময়ে সবাই যা খেত, ফ্রেশ খেত।
খাবারের প্রাচুর্য ছিল না, ফ্রিজ ছিলনা। তাই চাইলেই যখন তখন ইচ্ছামত খাওয়া যেত না।
এখনকার মত এত বাহারি প্রসেসড ফুড, packaged food ছিল না।
মাটি ছিল উর্বর, কেমিক্যাল ফার্টিলাইজার ইউজ করতে হত না বললেই চলে। শাকসবজি, শস্য সবকিছুর মধ্যেই নিউট্রিশনাল কন্টেন্ট এখনকার চেয়ে অনেক বেশি ছিল।
আর আমাদের জেনারেশন বড়ই হয়েছে unhealthy diet এর মধ্য দিয়ে।
Commercial biscuit, instant noodles, শিঙ্গাড়া - সমুচা, এগুলো ছোটবেলা থেকেই আমাদের নিত্যদিনের খাবার।
অতিরিক্ত সার - কীটনাশক use করার ফলে আমাদের শাকসবজি, শস্য তে এখন আর আগের মতো নিউট্রিশন নেই।
✅ফিজিক্যাল একটিভিটি:
ঘরে বাইরের কাজ নিয়ে মেয়েরা প্রচণ্ড এক্টিভ থাকত।
ঢেঁকি তে ধান ভানা, কলসী কাখে পানি নিয়ে আসা, মশলা বাটা , পুকুরে সাঁতার কাটা , গাছে চড়া এগুলো strenous একটিভিটি।
ফিজিক্যাল একটিভিটি যে শরীরের জন্য কত দরকার, তা বলে শেষ করা যাবেনা আসলে।
আর আমাদের জেনারেশন ছোটবেলা থেকেই ঘরবন্দী।
ফিজিক্যাল একটিভিটি মানেই "Gym করা" হয়ে দাঁড়িয়েছে, কি একটা অবস্থা!
✅স্লিপ সাইকেল:
ইলেক্ট্রিসিটি ছিল না, টিভি - মোবাইল ছিল না। সূর্য ডুবে গেলেই, কাজ শেষ করে সবাই ঘুমিয়ে যেত এবং পরদিন সূর্য উঠলেই আবার একটিভিটি স্টার্ট হত।
আর আমাদের? রাতেই যত কাজ! রাত ১-২ টা না বাজলে ঘুম আসেনা।
প্রকৃতির সাথে কোনো synchronization নেই আমাদের। Body clock confused থাকে সবসময়!
✅স্ট্রেস :
তখন কার সমাজ টা খুব সুন্দর ছিল। বিশাল FAMILY, পাড়া প্রতিবেশী দের মধ্যেও খুব ভাল সম্পর্ক থাকত। এই ধরনের রিলেশনশিপ এবং সোশ্যাল acitivities স্ট্রেস কমাতে খুব হেল্প করে।
সেই সাথে nature এর মধ্যেই দিনের অধিকাংশ সময় পার হত। বড় বড় উঠান, গাছপালা, পুকুর এগুলোর কাছাকাছি থাকা হত, স্ট্রেস রিলিভ হত।
✅রেডিয়েশন:
গ্যাজেটস ছিল না বলে এক্সট্রা কোন রেডিয়েশন ছিল না।
আর আমরা এখন বাস করছি 5G এর যুগে।
সবার হাতে হাতে মোবাইল ফোন, বাসায় WIFI রাউটার। এগুলো থেকে নির্গত রেডিয়েশনে শরীরের ক্ষতি হচ্ছে।
✅XENOESTROGEN chemicals:
তখন ছিল না হাজার রকমের কসমেটিকস।
সাজসজ্জা বলতে বাসায় বানানো কাজল আর ঠোঁট রাঙানো হত পান খেয়ে।
আর আমাদের এখন ঘর ভর্তি কসমেটিকস।
এই কসমেটিকস গুলো থেকে harmful xenosestrogen শরীরে ঢুকে যাচ্ছে, ক্ষতি করছে আমাদের হরমোনাল হেলথ এর।
হ্যাঁ, সেই যুগের অনেক অনেক challenges ছিল, তবে তাদের হেলথ ভাল থাকার, ফার্টিলিটি ভাল থাকার পেছনে উপরের কারণ গুলোই রেসপনসিবল।
তারা বেঁচে ছিল প্রকৃতি করে আলিঙ্গন করে, তাই সুস্থ থাকতে পারতেন।
আর আমাদের লাইফস্টাইল টা এখন এত্ত বেশি messed up! আমরা প্রতিনিয়ত প্রকৃতির বিরুদ্ধে যেয়ে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছি।
তাই এখন সময় আমাদের লাইফস্টাইল টা ঠিক করে নিয়ে আসার, নিজেদের শরীরকে ঠিক করে নিয়ে আসার।
আগের যুগের লাইফস্টাইল এ হয়ত আমরা পুরোপুরি ফিরে যেতে পারব না, তবে
👉Early ঘুমাতে পারব,
👉harmful processed খাবার গুলো avoid করতে পারব,
👉intentionally nutritious food গুলো খেতে পারব
👉 ফিজিক্যাল একটিভিটি বাড়াতে পারব
👉 আরো বেশি nature এর কাছাকাছি থাকার চেষ্টা করতে পারব।
👉 Xeno estrogen chemicals avoid করতে পারব।
👉 ডিভাইস কম ইউজ করতে পারব।
এখনই যদি নিজেদের লাইফস্টাইল ঠিক করে নিয়ে না আসি, জীবনের বড় একটা সময় চলে যাবে হাসপাতাল এ দৌড়াতে দৌড়াতে আর ওয়ালেট ফাঁকা হয়ে যাবে ওষুধ- সাপ্লিমেন্ট এর পিছনেই।
তাই এখন সময় আমাদের লাইফস্টাইল টা ঠিক করে নিয়ে আসার, নিজেদের শরীরকে ঠিক করে নিয়ে আসার।
নিজেদের সময়, এনার্জি ইনভেস্ট করতে হবে ভাল থাকার পেছনে, ইন শা আল্লাহ। ♥️
Written By,
Dr-Tasfina Haque Toma ,