27/01/2026
বিগত কয়েক বছর ধরে লক্ষ্য করছি, আমার আশেপাশের বন্ধু- বান্ধব, আত্মীয় স্বজন এবং সহপাঠীসহ প্রায় সবারই স্মৃতিশক্তি ও বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে যাচ্ছে! এমনকি কেউই উচ্চতর গভীর চিন্তাভাবনা করতে পারছে না! এমনকি আমি নিজেও!!
অথচ কয়েক বছর আগেও তাদের মধ্যে চিন্তা শক্তি আগের চেয়ে অনেক উন্নত ছিলো! এছাড়াও সবার মধ্যে আরেকটি ব্যাধি মহামারী আকার ধারণ করেছে! সেটা হল, অতি দ্রুত ভুলে যাওয়ার প্রবণতা!
আপনি গতকাল দুপুরে কি দিয়ে ভাত (খাবার) খেয়েছেন, আজ সকালে ফজরের নামাজে ইমাম সাহেব সূরা ফাতেহার সাথে কোন সুরা তেলাওয়াত করেছেন, চার রাকাত নামাজের প্রথম রাকাতে কোন সূরা পড়েছেন সেটাও আপনার মনে থাকছে না! এমনকি পরিচিত অনেকের নামই ভুলে যাচ্ছেন, পরিচিত কন্ঠ গুলোও এখন অপরিচিত মনে হয়, আগের মত খাবারের স্বাদ ও ঘ্রাণ পাচ্ছেন না।
বিশ্বাস করুন! পরিচিত অনেকের চেহারাও আপনার স্পষ্টভাবে এখন মনে নেই! মোবাইল ফোন, চাবির রিং সহ হাতের নাগালের কাছের জিনিসও প্রায়ই ভুলে যাচ্ছেন! আগে অনলাইনে অফলাইনে কাউকে একবার দেখলেই বছরের পর বছর মনে থাকতো! কোনো ব্যক্তির কন্ঠ শুনলেই বোঝা যেত! কিন্তু এ বিষয়গুলো এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে!
সত্যি আমি একটুও বাড়িয়ে বলছি না! আর এটা শুধু আপনার না, এটা প্রায় সবারই হচ্ছে! আরো অনেক বিষয় আছে, বিস্তারিত বলতে গেলে লেখা অনেক বড় হয়ে যায়। তাই বলছি না, তবে নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন?!
এগুলোর গভীরের কারণগুলো নিয়ে বলতে ও আলোচনা করতে চাই না! আপনাদের শর্টকাটে বলি, অত্যাধিক পরিমাণে প্রসেস ফুড গ্রহণ, সিনথেটিক মেডিসিন সেবন, ফরেন বডি (টি:কা) শরীরের প্রবেশ করানো, অতি ইনফরমেশন, মানসিক চাপ, হিংসা, ডিপ্রেশন, সর্বদা অনলাইনে থাকা, অতি আলো, অতি শব্দের মাঝে থাকা প্রভৃতি কারণে আমাদের ভুলে যাওয়ার প্রবণতা মারাত্মক আকারে বাড়ছে।
তাহলে কি এগুলোর কোনোই সমাধান নেই? হ্যাঁ অবশ্যই আছে! সম্পূর্ণ না হলেও এগুলো অনেকটাই মিনিমাইজ করতে পারবেন! এক্ষেত্রে আপনি নিচের আমল এবং কাজগুলো করলে নিঃসন্দেহে অবিশ্বাস্য উপকার পাবেন...
১. সূর্যোদয়ের আগে ঘুম থেকে উঠে মেসওয়াক করুন। (নামাজের পর আবার ঘুমায়েন না!)
২. প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর সাতবার "রাব্বি জিদনি ইলমা", নিয়মিত পড়ুন। [উল্লেখ্য, ফরজ নামাজের পর একবার 'আল্লাহু আকবর' এবং তিনবার 'আস্তাগফিরুল্লাহ' পড়ার পর অন্যান্য আমল করতে হয়।]
৩. প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর তিনবার ক্যাপশনের (ছবিতে আছে) দোয়াটি পড়ুন!
৪. চার মাসের মধ্যে ৩ সেশন হিজামা থেরাপি নিবেন।
৫. নিয়মিত ২-৩ মাস ব্রাহ্মী রসায়ন (রিভার্স নামে আছে আমাদেরটা এবং এটা একটা রিসার্চ প্রোডাক্ট!) সেবন করুন।
এছাড়াও প্রকৃতির সান্নিধ্যে থাকুন, নিয়মিত ব্যায়াম করুন, পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ করুন, কোরআন তেলাওয়াত করুন এবং দুশ্চিন্তা মুক্ত থেকে মানসিক প্রশান্তির চর্চা করুন।
ফাইনালি, অবশ্যই নজরের হেফাজত করুন। এজন্য অনলাইনে নেট চালানো ৮০ ভাগ কমিয়ে দিন, সম্ভব হলে শতভাগ।
Dr. Nazmul Islam Noman