25/07/2023
-----------------------মনের যত্ন কিভাবে নেব?----------------
======================================
🖋️ আব্দুল্লাহ জিয়াদ
এম এস (ক্লিনিক সাইকোলজি, ঢাবি)
এম এস (সাইকোলজি, ঢাবি)
বি এস (সাইকোলজি, ঢাবি)
==========================
মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া সামগ্রিক সুস্থতা এবং সুখের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চলুন আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যকে ভালো রাখার জন্য এখানে কিছু ব্যবহারিক টিপস জেনে নেয়া যাক:
১. পেশাদারের সাহায্য নেয়া: যদি আপনি মনে করেন আপনার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা সত্বেও আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি হচ্ছে, তাহলে অবিলম্বে একজন মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিতে দ্বিধা করবেন না। একজন পেশাদার মনোবিজ্ঞানী অথবা মনোচিকিৎসক আপনার মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় সহায়তা, নির্দেশনা এবং উপযুক্ত চিকিৎসা প্রদান করতে পারেন।
২. সম্পর্কের পরিচর্যা করা: পরিবার, আত্মীয়-স্বজন এবং বন্ধুদের সাথে সুস্থ সম্পর্ক বজায় রাখুন। তাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করুন। সুস্থ সামাজিক সম্পর্ক আমাদের মানসিক চাপ মোকাবেলা করতে এবং একাকীত্বের অনুভূতি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
৩. সেলফ কেয়ার অনুশীলন করা: এমন কার্যক্রমে নিজেকে জড়িত করুন যা আপনাকে নিরাপদ রেখে আনন্দের অনুভূতি দেয় এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে আপনাকে শিথিল করে। এর মধ্যে যেকোনো শখের কাজ, ব্যায়াম, বই পড়া, ধ্যান বা অন্য যেকোন কিছু অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
৪. নিয়মিত ব্যায়াম করা: শারীরিক কার্যকলাপ শুধুমাত্র আপনার শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্যই নয়, আপনার মানসিক সুস্থতার জন্যও উপকারী। নিয়মিত ব্যায়াম এন্ডোরফিন নিঃসরণ করে, যা আপনার মাঝে ভালো অনুভূতি তৈরি করতে পারে এবং চাপ কমাতে পারে।
৫. পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা: প্রতি রাতে পর্যাপ্ত ঘুম অগ্রাধিকার দিন। প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর অভ্যাস তৈরি করুন। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব আপনার মানসিক স্বাস্থ্য এবং সামগ্রিক কার্যকারিতাকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে।
৬. স্ট্রেস মোকাবিলা করা: আপনার জীবনে স্ট্রেসের উৎসগুলো সনাক্ত করুন এবং সেগুলো মোকাবিলা করার জন্য স্বাস্থ্যকর উপায়গুলো অনুসন্ধান করুন৷ এর মধ্যে টাইম ম্যানেজমেন্ট, ডেইলি এক্টিভিটি সিডিউলিং, প্রবলেম সলভিং বা রিলাক্সেশন এর ব্যায়াম ইত্যাদি কৌশল অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
৭. মাইন্ডফুলনেস অনুশীলন করা: মাইন্ডফুলনেস আপনাকে বর্তমানে উপস্থিত থেকে একটি নির্দিষ্ট কাজে পূর্ণ মনোনিবেশ করতে এবং উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করতে পারে। এছাড়াও মাইন্ডফুলনেস আপনার মনোযোগের মাত্রাকে বাড়িয়ে আপনাকে আরো বেশি প্রোডাক্টিভ করতে পারে।
৮. মাদক পরিহার করা: যে কোন নেশা জাতীয় দ্রব্যের অপব্যবহার আপনার মস্তিষ্কের ফাংশনাল পরিবর্তন ঘটিয়ে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যাকে বাড়িয়ে তুলতে পারে। মাদক আপনাকে সাময়িকভাবে কিছু প্রশান্তি দিতে পারলেও দীর্ঘদিন ব্যবহারে এগুলো আপনাকে গুরুতর মানসিক রোগের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
৯. বাস্তববাদী লক্ষ্য নির্ধারণ করা: নিজের জন্য কিছু স্বল্প মেয়াদী এবং দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নির্ধারণ করুন যেগুলো পরিমাপ যোগ্য, অর্জন যোগ্য এবং আপনার সাথে সম্পর্কিত। বড় লক্ষ্যগুলোকে ছোট ছোট লক্ষে ভাগ করুন। ছোট ছোট লক্ষ্যগুলো পূরণের সাফল্যকে উপভোগ করুন বড় লক্ষ্য পূরণের দিকে এগিয়ে যান।
১০. নেতিবাচক চিন্তাকে চ্যালেঞ্জ করা: নিজের নেতিবাচক চিন্তা গুলোকে চিহ্নিত করার চেষ্টা করুন, সেগুলোকে লিখে রাখুন, এবং সেগুলোর পক্ষে ও বিপক্ষে যুক্তি খোঁজার মাধ্যমে সেগুলোকে চ্যালেঞ্জ করুন। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শও নিতে পারেন। নিজের সাথে ইতিবাচক কথোপকথন করুন এবং নিজের সাথে দয়ালু থাকুন।
১১. নতুন কিছু শেখা: ক্রমাগত নতুন কিছু শেখার এবং জানার চেষ্টা অব্যাহত রাখুন। এটি আপনার ব্যক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আপনাকে আত্মপরিপূর্ণতার অনুভূতি প্রদান করবে।
১২. স্ক্রিন টাইম সীমিত করা: প্রযুক্তির প্রচুর সুবিধা থাকলেও অতিরিক্ত স্ক্রীন টাইম আপনার মানসিক স্বাস্থ্যকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। স্ক্রিন থেকে নিয়মিত বিরতি নিন এবং নন স্ক্রিন কার্যকলাপে জড়িত হওয়ার চেষ্টা করুন। বিশেষ করে ঘুমের আগে ডিভাইসের স্ক্রিন থেকে নিজেকে দূরে রাখুন।
১৩. অন্যদের সাহায্য করা: স্বেচ্ছাসেবী কাজে নিজেকে নিয়োজিত করতে পারেন বা প্রয়োজনে অন্যদের সাহায্য করার চেষ্টা অব্যাহত রাখতে পারেন। এটি আপনাকে একটি আত্মতৃপ্তির অনুভূতি প্রদান করবেন যা আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য খুবই কার্যকরী।
১৪. প্রকৃতির সাথে সময় কাটানো: গতানুগতিক যান্ত্রিক জীবনের বাইরে এসে প্রকৃতির সাথে কিছু নিবিড় সময় কাটাতে পারেন। প্রকৃতির মাঝে লুকায়িত ছোট ছোট সৌন্দর্যগুলো আবিষ্কার করার চেষ্টা করতে পারেন। হতে পারে সেটা সকাল বেলায় পাখিদের কিচিরমিচির অথবা সন্ধ্যাবেলায় পশ্চিম আকাশে লাল সূর্যের অস্ত যাওয়া।
১৫. আত্মসমালোচনা করা: প্রতিদিন ঘুমের আগে নিজের সাথে নিজের কিছু বোঝাপড়া করে নিতে পারেন। অন্যের সাথে নিজেকে তুলনা না করে বরং নিজের সাথেই নিজের তুলনা করা যেতে পারে। একটু ভেবে দেখতে পারি আজকের দিনটি আমার কেমন ছিল, কি কি করা যেত, কি হলে আরো ভালো হতো, আগামী দিনটি আমি কেমন করে সাজাতে চাই, কি হলে আমার আগামীকালের দিনটি আজকের তুলনায় তুলনামূলক তৃপ্তিদায়ক হবে।
মনে রাখা শ্রেয় যে, আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া একটি চলমান প্রক্রিয়া। নিজের সাথে দয়ালু থেকে, ধৈর্য ধরে, সময়ের সাথে ধীরে ধীরে উন্নতি করা হতে পারে এই প্রক্রিয়ার মূল মন্ত্র। প্রতিটি মানুষই আলাদা, তাদের গন্তব্যও আলাদা, তাদের জীবন চলার পথও আলাদা। তাই আপনার জন্য সবচেয়ে ভাল কাজটি খুঁজে বের করুন এবং আপনার মঙ্গলকে অগ্রাধিকার দিন।
=============
আপনার যেকোন মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় সাইকোথেরাপি সেবা নিতে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।
আমাদের সাথে যোগাযোগের নাম্বার-
📞 +8801684-340534
আমাদের ঠিকানা-
আহবান সাইকোথেরাপি এন্ড কাউন্সেলিং সেন্টার
🏪 ব্লক-এ, রোড ৪, বাসা ১১, শাহ্জালাল উপশহর, সিলেট।
📬 Email: aahban.org@gmail.com
🌐 www.aahban.org
https://www.facebook.com/aahbancounselingcenter/
(অ্যাপয়েন্টমেন্ট এর জন্য উক্ত নাম্বারে SMS করতে পারেন অথবা what's app এ ম্যাসেজ পাঠাতে পারেন)