12/01/2026
08/01/2026
ওজিএসবি ও প্রথম আলো আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা এমন অভিমত
দেশে প্রতিবছর নতুন করে জরায়ুমুখ ক্যানসারে আক্রান্ত হন ৯ হাজারের বেশি নারী। নতুন–পুরোনো মিলিয়ে প্রতিবছর জরায়ুমুখ ক্যানসারে মৃত্যু হয় প্রায় ছয় হাজার নারীর। অথচ এইচপিভি (হিউম্যান পেপিলোমা ভাইরাস) টিকা দেওয়ার মাধ্যমে এই রোগ প্রতিরোধ সম্ভব। আর আক্রান্ত হলেও শুরুতে শনাক্ত করে দ্রুত চিকিৎসার মাধ্যমে সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়া যায়। এ জন্য নির্দিষ্ট মেয়াদে স্ক্রিনিং করাতে সচেতনতা বাড়াতে হবে। শুধু কিশোরী নয়, বিবাহিত নারীদেরও এইচপিভি টিকা দেওয়া দরকার।
স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সংগঠন অবসটেট্রিক্যাল অ্যান্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশ (ওজিএসবি) ও প্রথম আলো আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে এ কথাগুলো উঠে আসে। ‘জরায়ুমুখ ক্যানসার নির্মূল: ২০৩০–এর পথে অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জ’ শিরোনামে বৈঠকটি গতকাল বুধবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বৈজ্ঞানিক অংশীদার ছিল ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড।
বিশেষজ্ঞরা জানান, স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে কোনো নারী জরায়ুমুখ ক্যানসারে আক্রান্ত কি না, তা আগে থেকেই শনাক্ত করা সম্ভব। সরকারিভাবে ৩০ থেকে ৬০ বছর বয়সী মাত্র ২১ শতাংশ নারীকে গত ১২ বছরে স্ক্রিনিংয়ের আওতায় আনা গেছে। বাল্যবিবাহের মাধ্যমে কম বয়সে যৌন সম্পর্কে যুক্ত হওয়া, কম বয়সে বেশি সন্তান জন্ম দেওয়া, অপরিচ্ছন্ন থাকা, যেসব নারী ও পুরুষের একাধিক যৌনসঙ্গী থাকে (পুরুষদের একাধিক যৌনসঙ্গী থাকলে তাঁর মাধ্যমে তাঁর স্ত্রী বা নারীসঙ্গী আক্রান্ত হতে পারেন)—তাঁরা জরায়ুমুখ ক্যানসারের ঝুঁকিতে থাকেন। আর জরায়ুমুখ ক্যানসারের লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে গন্ধযুক্ত সাদা স্রাব, সহবাসের পর রক্তক্ষরণ হওয়া, অনিয়মিত মাসিক, রজঃনিবৃত্তির পর আবার রক্ত যাওয়া ইত্যাদি।
বৈঠকে বলা হয়, জরায়ুমুখ ক্যানসার নির্মূলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ২০৩০ সালের মধ্যে ৯০-৭০-৯০ সংখ্যাটিকে অনুসরণ করে লক্ষ্য অর্জন করতে বলেছে। অর্থাৎ ২০৩০ সালের মধ্যে ১৫ বছরের কম বয়সী কিশোরীদের ৯০ শতাংশকে টিকার আওতায় আনা, ৩০ থেকে ৪৫ বছর বয়সী নারীদের ৭০ শতাংশকে স্ক্রিনিংয়ের আওতায় আনা এবং ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপের প্রতিরোধ ও ক্যানসার–পূর্ববর্তী চিকিৎসাব্যবস্থা নেওয়া।
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্ম সচিব (জনস্বাস্থ্য অধিশাখা) মো. শিব্বির আহমেদ ওসমানী বলেন, সরকার ২০২৩ সাল থেকে ১০ বছর বয়সী কিশোরীদের জন্য এইচপিভি টিকা বিনা মূল্যে দিচ্ছে। ২০২৫ সাল থেকে এই টিকা রুটিন কাজে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এবার এইচপিভি টিকার আওতায় এসেছে প্রায় ৮৯ ভাগ কিশোরী। সচেতনতা ও স্ক্রিনিং ছাড়া ২০৩০ সালের মধ্যে লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে।
ওজিএসবির সভাপতি অধ্যাপক ফিরোজা বেগম বলেন, যে গোষ্ঠীগুলো জরায়ুমুখ ক্যানসারের ঝুঁকিতে রয়েছে, তাদের টার্গেট করে ঝুঁকি মোকাবিলায় কাজ করতে হবে। ভায়া বা ভিআইএ টেস্ট, প্যাপ স্মেয়ার ও এইচপিভি–ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে স্ক্রিনিং করা যায়। এইচপিভি–ডিএনএ সবচেয়ে কার্যকর হলেও এই পরীক্ষা দরিদ্রদের জন্য ব্যয়বহুল (আড়াই হাজার টাকা, সরকারি হাসপাতালে)। ডব্লিউএইচও নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর জন্য ভিআইএ স্ক্রিনিং সুপারিশ করেছে।