09/10/2023
১০.১০.২০২৩
জন্ডিস কি এবং জন্ডিস কেনো হয়..?
এক নজরে জেনে নেই, নিজে জানুন এবং অন্যকে জানান..
লিভারের নিচেই পিত্তথলি অবস্থান করে, পিত্তথলি হতে পিত্তনালি দিয়ে পিত্তরস ডিওডেনামে অবস্থিত খাদ্যেবস্তুর সাথে মিশ্রিত হয়।
যদি কেনো কারণে পিত্তনালিতে বাঁধা সৃষ্টি হয় তাহলে পিত্তরস পিত্তনালিতে জমে বৃদ্ধি পেতে থাকে, এবং সময় সময় শরীরের প্রবাহমান রক্তের সাথে মিশ্রিত হয়।
ফলে রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে যায়, এ অবস্থায় হাত, পা মুখমন্ডল, জিহবা, চোঁখ, নখ, ত্বক এমনকি প্রস্রাব পর্যন্ত হলুদ বর্ণ ধারন করে, এটাই হলো জন্ডিস, এটা কোনো রোগের নাম নয়, রোগের লক্ষণ মাত্র।
★রক্তে অতিরিক্ত বিলিরুবিন সঞ্চিত হয়ে জন্ডিসের সৃষ্টি হয়, প্রতি ১০০ মিলি লিটার সিরাম বিলিরুবিনের স্বাভাবিক মাত্রা ০.৩-১.২ মিলিগ্রাম, এ মাত্রা ২ মিলি গ্রামের উপরে উঠলে চোঁখের সাদা অংশ হলুদ হয়।
★জন্ডিস ৩ প্রকার এগুলো কি কি,
১. লিভার এর কৌষিক জন্ডিস (Hepatocellular Jaundice)/ সংক্রমণ জনিত জন্ডিস (Infective Jaundice)
২. পিত্তবাহী নালীবদ্ধতাজনিত জন্ডিস (Obstructive Jaundice)
৩. লৌহিত রক্ত কণিকা বিন্যাস জনিত জন্ডিস (Haemolytic Jaundice)
১. লিভার এর কৌষিক জন্ডিস (Hepatocellular Jaundice)/ সংক্রমণ জনিত জন্ডিস (Infective Jaundice) লিভারের কোষ নষ্ট হয়ে গেলে তখন লিভার বিলিরুবিনকে পিত্তথলিতে পাঠিয়ে দিতে পারেনা ফলে জন্ডিস দেখা দেয়, একে যকৃত কৌষিক (Hepatocellular Jaundice) জন্ডিস বা সংক্রমণ জনিত জন্ডিস বলে।
এই জন্ডিস ২ ধরনের হতে পারে:
১. একিউট হেপাটাইটিস ও
২. ক্রনিক হেপাটাইটিস।
★কারণ:
১. হেপাটাইটিস ভাইরাস সমূহ- একিউট হেপাটাইটিসের জন্য দায়ী ভাইরাসগুলো,
২. ঔষধ যেমন- হ্যালোথেন, আইসোনিয়াজিড, প্যারাসিটামল, অ্যানাবোলিক স্টেরয়েড, মেথোট্রেক্সেট, গতৃনিরোধক বড়ি, ইস্ট্রাজেন, এন্ড্রোজেন ইত্যাদি।
৩. মদ- দীর্ঘ দিন মদ পান করলে,
৪. ক্রনিক বা দীর্ঘ মেয়াদী লিভার সংক্রমণ/ হেপাটাইটিস।
৫. সিরোসিস অব লিভার,
৬. দীর্ঘকাল পাকস্থলী সংক্রান্ত বা লিভার সংক্রান্ত রোগে ভূগা।
৭. লিভারের লৌহিত রক্ত কণিকা হতে পিত্ত তৈরীতে ত্রুটি হলে,
২. পিত্তবাহী নালীবদ্ধতা জনিত জন্ডিস (Obstructive Jaundice) পিত্তরসের গতি কোনো কারণে বাঁধা প্রাপ্ত হলে জন্ডিস হয় একে পিত্তবাহী নালীবদ্ধতা জনিত জন্ডিস বা কলেস্টাটিক জন্ডিস (Cholestatic Jaundice) বলে।
কারণ,
১. ঔষধ যেমন- ক্লোরপ্রোমাজিন (লারগ্যাকটিল/অপসোনিল)
২. মদ্যপান
৩. ভাইরাল হেপাটাইটিস বা ক্রনিক হেপাটাইটিস।
৪. সিরোসিস অব লিভার
৫. গুরুতর ব্যাকটেরিয়া প্রদাহ।
৬. অপারেশনের পরে
৭. হজকিন্স লিমফোমা।
৮. গর্ভধারণ
৯. অটোইস্মিউন হেপাটাইটিস।
১০. বিলিয়ারি অবস্টাকশন,
যেমন:- পিত্তথলিতে পাথর, সিমটিক ফাইব্রোসিস, প্যারাসাইট, প্রদাহ, প্যানক্রিয়াসে ক্যান্সার, বাইলডাক্টে ক্যান্সার, বিলিয়ারি টিউমার, মেটাস্টাটিক টিউমার, এমপোলারি করাসিনোমা।
১১. পিত্তনালি সরু হলে,
৩. লৌহিত রক্ত কণিকা বিন্যাস জনিত জন্ডিস (Haemolytic Janudice) কোনো কারণে রক্তের লৌহিত কনিকা ভেঙ্গে বিলিরুবিন এর মাত্রা বেড়ে গেলে যে জন্ডিস দেখা দেয় থাকেই লৌহিত রক্ত কণিকা বিন্যাস জনিত জন্ডিস (Haemolytic Janudice) বলে। এক্ষেত্রে মৃদু জন্ডিস দেখা দেয়, কারণ:-
১. অ্যানজাইম গ্লাইকোলাইসিস কমে গেলে বা না থাকলে।
২. স্ফোরোসাইটোসিস।
৩. হিমোগ্লোবিনোপ্যাথি, যেমন- থেলাসেমিয়া।
৪. পুঁড়ে গেলে।
৫. ঔষধ যেমন, Dapsone।
৬. ম্যালেরিয়া জ্বর।
৭. কোনো গুরুতর প্রবাহ কিংবা টিউমার এগুলোর সাথে জড়িত বিষাক্ত পদার্থ।
৮. ইনফেকটিভ ইরাইথ্রোপয়েসিস।
৯. এরিথ্রোব্লাস্টোসিস ফিটালিস।
১০. কোনো কারণে পিত্ত বেশী পরিমাণে নিঃশ্বরণ হলে।
১১. পিত্তের স্বাভাবিক পরিবর্তনের ত্রুটি হলে।
★লক্ষণ,
১. মুখ, চোঁখ, নখ, থুথু এবং ত্বক হলুদ হয়।
২. মুত্র সরিষার তেলের মতো আবার কখনো হলুদ রঙ্গের হয়।
৩. বমি বমি ভাব এবং বমি হয়।
৪. পেট ফাঁপা, পাতলা পায়খানা এবং অরুচি থাকে।
৫. মলে পিত্ত থাকেনা ফলে মল ফ্যাকাশে হয়।
৬. দীর্ঘদিন ভূগলে রোগী নিলাভ হয়ে যায় এবং বমি বেশী হয়।
৭. শরীরে জ্বালা পোঁড়া এবং চুলকানি থাকতে পারে।
৮. প্লীহা বড় হয়ে যেতে পারে।
৯. ওজন কমবে।
১০. পেটে ব্যথা ও জ্বর থাকতে পারে।
১১. রক্তস্বল্পতা দেখা দিবে।
★পরামর্শ:
পূর্ণ বিশ্রামে থাকবেন, প্রচুর পরিমাণে পানি, তাজা ফলের রস, বাতাবিলেবু, আনার (ডালিম), ডাবের পানি, গ্লুকোজ, আখের রস, ছোট মাছ ও মুরগীর ঝোল, পেঁপে, পটল ও করলার তরকারি খাবেন।
তৈলাক্ত ও চর্বিযুক্ত খাদ্য দ্রব্যাদি পরিহার করতে হবে, লবণ খাওয়ার পরিমাণ কমিয়ে দিতে হবে, রৌদ্রতাপ এড়িয়ে চলতে হবে, বাসি, খোলা খাবার ও অফুটানো পানি বর্জন করুন, কোমল পানিয় (Cold Drinks) পরিত্যাজ্য এবং নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শে থাকুন, এবং জন্ডিস জাতীয় কোনো সমস্যা দেখা দিলে দেরী না করে দূত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
আজকে এই পর্যন্ত, সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ্য থাকুন, সুন্দর থাকুন, ভালোবাসা অবিরাম..