04/05/2025
অস্টিওআর্থ্রাইটিস: হাঁটুর ব্যথার নীরব ঘাতক....................................
— আপনি বুঝতে না বুঝতেই ক্ষয়ে যাচ্ছে হাঁটুর জয়েন্ট!
আমাদের আশেপাশে অনেকেই আছেন, যারা বলেন—
“হাঁটুটা মাঝে মাঝে ব্যথা করে, কিন্তু আবার ঠিক হয়ে যায়।”
“সিঁড়ি উঠতে কষ্ট হয়, মনে হয় হাঁটুতে শক্তি নেই।”
“অনেকক্ষণ বসে থাকলে উঠে দাঁড়াতে পারি না ঠিকমতো।”
এসব আসলে অস্টিওআর্থ্রাইটিসের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। এটি হলো হাঁটুর জয়েন্টের একটি ধীরে ধীরে ক্ষয় হয়ে যাওয়া অসুখ, যা আমরা অনেক সময় অবহেলা করি।
# অস্টিওআর্থ্রাইটিস কি? ..................................
এই রোগে হাঁটুর জয়েন্টে থাকা কার্টিলেজ (জয়েন্টের কুশন) ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যায়। ফলে হাড়ের সঙ্গে হাড় ঘষা খায় এবং ব্যথা, শক্ত ভাব, চলাচলে সমস্যা দেখা দেয়।
# কেন হয় এই রোগ?
√ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে
অতিরিক্ত ওজন (ওজন বাড়লে হাঁটুর উপর চাপ বাড়ে)।
√ আগের কোনো আঘাত বা ফ্র্যাকচার।
√ দীর্ঘদিন দাঁড়িয়ে বা বসে কাজ।
√ পারিবারিক ইতিহাস (জেনেটিক ফ্যাক্টর)।
# লক্ষণগুলো কি ?...........................
√ হাঁটুতে ব্যথা, বিশেষ করে সকালে বা অনেকক্ষণ বসে থাকার পর।
√ সিঁড়ি উঠা-নামায় কষ্ট।
√ হাঁটুতে শক্ত ভাব বা বেঁকে যাওয়া।
√ মাঝে মাঝে ‘খট’ শব্দ হওয়া।
√ হাঁটু ফুলে যাওয়া।
# চিকিৎসা ও প্রতিকার:..................................
√ ভয়ের কিছু নেই, তবে অবহেলা নয়।
প্রাথমিক পর্যায়ে:
√ ওজন কমানো।
√ নিয়মিত ব্যায়াম (ডাক্তার অনুমোদিত)।
√ সাপোটি'ভ জুতা ও হাঁটার স্টিক।
√ ওষুধ ও ফিজিওথেরাপি।
# অবস্থার অবনতি হলে:....................................
√ ইনজেকশন থেরাপি (যেমন হায়ালুরোনিক অ্যাসিড অথবা স্টেরয়েড)।
√ জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট সার্জারি — আধুনিক ও নিরাপদ।
#কি করা উচিত? ..........................
√ প্রতিদিন ৩০ মিনিট হাটাহাটি করা।
√ বসে থাকার সময় মাঝে মাঝে উঠে দাঁড়ানো।
√ হাঁটুর ওপর চাপ পড়ে এমন কাজ এড়িয়ে চলা।
# "হাঁটু ব্যথার ভুল ধারণা" (Myth vs Truth)....................................
"হাঁটুর জন্য উপকারী খাবার:"
√ ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন D যুক্ত খাবার (দুধ, ডিম)।
√ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড (মাছ, বাদাম)।
√এন্টি-ইনফ্ল্যামেটরি খাবার (হলুদ, আদা, সবুজ শাকসবজি)।
শেষ কথা:................
অস্টিওআর্থ্রাইটিস ধীরে ধীরে আপনার হাঁটু “খেয়ে ফেলে” — তাই আগেভাগে সচেতন হন।
প্রাথমিক লক্ষণ দেখলেই একজন অর্থোপেডিক চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। কারণ, সময়মতো ব্যবস্থা নিলে অপারেশনের প্রয়োজনই নাও হতে পারে!
ডা: বিপুল চন্দ্র ঘোষ
সিনিয়র কনসালটেন্ট
(অথো'পেডিক সাজা'রি)