24/04/2021
১) পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে করোনা ভাইরাসের অধিক সংক্রমনের পিছনে দুটো নতুন ভেরিয়েন্ট সনাক্ত করা হয়েছে, যারা হচ্ছে B.1.167 এবং B.1.168 (Bengal Variant)। ভারতীয় মিডিয়াসহ অনেকেই এই দুটো ভেরিয়েন্টকে যথাক্রমে “ডাবল মিউটেন্ট” এবং “ট্রিপল মিউটেন্ট” নামে আখ্যা দিয়ে প্রচার প্রকাশনা করছে। তবে এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত এই নামকরনগুলো বিজ্ঞানসম্মত নয় (scientifically inaccurate)।
এর কারন সংক্ষেপে দুটো ভেরিয়েন্টে প্রথমে সনাক্ত হওয়া চীনের উহান প্রদেশের করোনা ভাইরাসের গঠনের সাথে ন্যূনতম ভাবে হলেও ১৫ জায়গায় পার্থক্য/মিউটেসন পরিলক্ষিত হয়েছে। তবে B.1.167 ক্ষেত্রে দুটো জায়গায় (E484Q and L452R) এবং B.1.168 এর ক্ষেত্রে তিনটি জায়গায় পার্থক্য/মিউটেসন (E484Q, L452R and V382L) বিশেষভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, B.1.168 (Bengal Variant) এর অতিরিক্ত মিউটেসন V382L আমেরিকার কিছু সংক্রমনের ক্ষেত্রেও পরিলক্ষিত হয়েছে তবে সেই ক্ষেত্রে এটাকে গুরুতর/বিপদজনক হিসাবে চিহ্নিত করা হয়নি। তবে দুই ভেরিয়েন্টের E484Q and L452R এই দুই মিউটেসন করোনা ভাইরাসের অধিকতর সংক্রমন এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ফাঁকি দেয়ার ক্ষমতা অর্জনের পিছনে দায়ী বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।
তাই এই ভেরিয়েন্টগুলোকে শুধুমাত্র “ডাবল মিউটেন্ট” এবং “ট্রিপল মিউটেন্ট” নামে আখ্যা দিয়ে প্রচার প্রকাশনা যুক্তিসঙ্গত নয় বলেই এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত।
সূত্রঃ https://twitter.com/TejSowpati/status/1385299920920346624
২) অতিসম্প্রতি একটি বহুল প্রচলিত সংবাদপত্রিকা অনলাইনে প্রকাশ করেন যে, করোনা বায়ুবাহিত রোগ এবং প্রচলিত সকল ধ্যানধারনা ভুল। করোনা হাঁচি কাশির মাধ্যমে ছড়ায় না, লকডাউন ভুল সিদ্ধান্ত, ঘরে থাকা যাবেনা ইত্যাদি! সেখানে বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল লেন্সেট-এর প্রকাশনার সূত্র দেখানো হয়।
এখানে উল্লেখ্য, মুল বৈজ্ঞানিক প্রকাশনাটি বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল লেন্সেট-এ এই মাসের ১৫ তারিখে প্রকাশিত হয়। এখানে কয়েকজন গবেষক তাঁদের বিচার বিশ্লেষণ এবং যুক্তির মাধ্যমে এটাই বুঝাতে চেয়েছেন, করোনা সংক্রমন পদ্ধতি হিসাবে বর্তমান “ড্রপ্লেট ইনফেকসন” এর সাথে সাথে বায়ুবাহিত/এরোসল ফর্মেও করোনা সংক্রমণ হচ্ছে বলে তাঁরা ধারনা করছেন।
এর মর্মার্থ এই দাড়ায় বাতাসের মাধ্যমে করোনা ছড়াতে পারে। তাই বলে পূর্বের কোন ধ্যান ধারনার আমূল পরিবর্তন করে দেয়া হয়েছে, বিষয়টি সেরকম নয়। মোটকথা করোনা ভাইরাস শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমেই ছড়ায়, তবে আমাদের আরো সচেতন হওয়া প্রয়োজন কারন বাতাসের মাধ্যমে সেটা আগের প্রচলিত গণ্ডির বাইরে আর দূরেও সংক্রমণশীল ক্ষমতার অধিকারী বলে ক্রমাগত বিজ্ঞানসম্মত প্রমান পাওয়া যাচ্ছে।
লেন্সেটের প্রকাশনা থেকে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে পূর্বের ধারনা “মাস্ক পরুন, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন” এর সাথে যদি অন্তরে নতুন কিছু যুক্ত করার ইচ্ছেই থাকে, তাহলে সেটি হবে “ঘরে/অফিসে পর্যাপ্ত আলো বাতাস প্রবেশের ব্যবস্থা রাখুন”। প্রকাশনাতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে এই ভেন্টিলেসনের দিকেই জোর দিতেই বলেছেন প্রকাশনার সাথে জড়িত গবেষকগন।
যাই হোক, সংবাদপত্রটি আশা করছি তাঁদের ভুল অনুধাবন করতে পেড়েছেন। কারন প্রকাশনাটি ইতিমদ্ধে সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
৩) কোভিশিল্ডের সাউথ আফ্রিকান ভেরিয়েন্টের বিরুদ্ধে কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও বিশেষজ্ঞরা ইন্ডিয়ান ভেরিয়েন্ট B.1.167 এর বিরুদ্ধে কার্যকারিতা দেখতে পাচ্ছেন। এই বিষয়ে প্রাথমিক গবেষণায় দেখা গেছে, ভেক্সিনপ্রাপ্ত রোগীর রক্তের সেরামে “ভাইরাল আরএনএ” এর পরিমান তুলনামুলকভাবে কম। তাই ভেক্সিনের উপকারিতা আছে। ভেরিয়েন্ট ভেদে কম কিংবা বেশি, সেটা নিয়ে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই।
সূত্রঃ https://twitter.com/3RakeshMishra/status/1385245798544207875
ভাইরাস ক্রমশই পরিবর্তনশীল। সেই সাথে তথ্যগুলোও। তাই কোন তথ্যকে খুব দ্রুত একশতভাগ সঠিক সেটা বলা সম্ভব নয়। তবে তথ্যগুলো প্রচারের দায়িত্বে যারা থাকেন, তাঁদের পরিবর্তিত তথ্য যথাযথভাবে যাচাই বাছাই পূর্বক প্রয়োজনে স্থানীয়/আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে প্রকাশ করাই উত্তম।
এছাড়া আমাদেরও এই তথ্যগুলো বৃহত্তর সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে শেয়ার করার পূর্বে নিজস্ব বিচার বিবেচনা প্রদর্শনের প্রয়োজন রয়েছে।।