01/03/2026
গর্ভবতী মায়েদের জন্য জিন ও নজর থেকে বাঁচার গুরুত্বপূর্ণ কিছু আমল এবং নাসিহাহ।
গর্ভাবস্থা একজন নারীর জীবনের অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি সময়। এই সময়ে মা ও শিশু উভয়েরই আধ্যাত্মিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি।
ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে জিন ও বদনজর থেকে বাঁচতে গর্ভবতী মায়েরা নিচের বিষয়গুলো মেনে চলতে পারেন:
শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের এই সময়ে শয়তানের কুমন্ত্রণা বা জিনের উপদ্রব থেকে বাঁচতে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো ওজু এবং জিকির।
চেষ্টা করতে হবে যতটুকু সম্ভব ওজু অবস্থায় থাকার এবং সারাদিন জিহ্বাকে আল্লাহর জিকিরে সিক্ত রাখা।
বিশেষ করে সকাল এবং সন্ধ্যার মাসনুন দোয়াগুলো কোনোভাবেই মিস করা যাবে না, কারণ এগুলো একজন মুমিনের জন্য ঢাল স্বরূপ।
বদনজর বা নজর লাগা একটি সত্য বিষয়, যা গর্ভবতী মায়েদের ক্ষেত্রে বেশি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই এই সময়ে নিজের গর্ভাবস্থা বা শারীরিক অবস্থার কথা সবার কাছে প্রকাশ না করাই উত্তম।
বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় বেবি বাম্প বা গর্ভাবস্থার ছবি শেয়ার করা থেকে পুরোপুরি বিরত থাকা উচিত। কারণ হিতাকাঙ্ক্ষী ছাড়াও মানুষের মনে হিংসা বা কুদৃষ্টি থাকতে পারে যা মা ও শিশুর ক্ষতি করতে পারে।
ঘরকে আধ্যাত্মিকভাবে সুরক্ষিত রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যে ঘরে নিয়মিত সুরা বাকারা তেলাওয়াত করা হয়, সেখান থেকে শয়তান দূরে থাকে।
তাই ঘরে নিজেরা কোরআন তেলাওয়াত করুন অথবা অন্তত রেকর্ড চালিয়ে রাখুন। এছাড়া মাগরিবের সময় অর্থাৎ সূর্যাস্তের ঠিক আগে এবং পরে কিছুক্ষণ ঘরের জানালা ও দরজা বন্ধ রাখা এবং সন্তানদের ঘরের ভেতরে রাখা সুন্নাহসম্মত।
এই সময়ে জিন-শয়তানের বিচরণ বেশি থাকে।
টয়লেটে প্রবেশ এবং বের হওয়ার সময় নির্দিষ্ট দোয়া পড়া অত্যন্ত জরুরি, কারণ অপবিত্র জায়গাগুলো জিনের আবাসস্থল।
এছাড়া গর্ভাবস্থায় মনকে প্রফুল্ল রাখতে এবং অহেতুক ভয়ভীতি দূর করতে বেশি বেশি সুরা মারইয়াম ও সুরা ইউসুফ তেলাওয়াত করা যেতে পারে। ঘুমের আগে আয়াতুল কুরসি এবং তিন কুল (সুরা ইখলাস, ফালাক ও নাস) পড়ে হাতে ফুঁ দিয়ে পুরো শরীরে মুছে নেওয়া একটি শক্তিশালী সুরক্ষা ব্যবস্থা।
সবশেষে, যদি মা অস্বাভাবিক স্বপ্ন দেখেন, খুব বেশি আতঙ্কিত বোধ করেন বা কোনো কারণ ছাড়াই দীর্ঘক্ষণ অসুস্থ থাকেন, তবে অভিজ্ঞ কোনো আলেম বা রুকইয়াহ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। তবে কোনোভাবেই কোনো কবিরাজ বা তান্ত্রিকের কাছে যাওয়া যাবে না যারা শিরকি তাবিয বা কুফরি উপায়ে চিকিৎসা করে।
গর্ভাবস্থায় মা ও সন্তানের শারীরিক ও আধ্যাত্মিক সুরক্ষার জন্য নিচের কোরআনিক দোয়া ও আমলগুলো অত্যন্ত কার্যকর। এগুলো নিয়মিত পাঠ করলে আল্লাহ তাআলা জিন, শয়তান এবং বদনজর থেকে হিফাজত করেন:
১. সন্তান ও নিজের সুরক্ষার জন্য বিশেষ দোয়া
হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও আম্বিয়া কেরাম নিজ সন্তানদের জন্য এই দোয়াগুলো করতেন।
আপনিও নিয়মিত পড়তে পারেন:
رَبِّ هَبْ لِي مِن لَّدُنكَ ذُرِّيَّةً طَيِّبَةً ۖ إِنَّكَ سَمِيعُ الدُّعَاءِ
(রাব্বি হাবলি মিল্লাদুনকা যুররিয়্যাতান ত্বাইয়্যিবাতান, ইন্নাকা সামিউদ দুআ)
অর্থ: হে আমার পালনকর্তা! আপনার পক্ষ থেকে আমাকে পুত-পবিত্র সন্তান দান করুন। নিশ্চয়ই আপনি প্রার্থনা শ্রবণকারী। (সুরা আলে ইমরান: ৩৮)
رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا
(রাব্বানা হাবলানা মিন আযওয়াজিনা ওয়া যুররিয়্যাতিনা কুররাতা আ’ইউনিউ ওয়াজআলনা লিল মুত্তাকিনা ইমামা)
অর্থ: হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের স্ত্রীদের পক্ষ থেকে এবং আমাদের সন্তানদের পক্ষ থেকে আমাদের জন্যে চোখের শীতলতা দান করুন এবং আমাদের মুত্তাকীদের জন্যে আদর্শস্বরূপ করুন। (সুরা ফুরকান: ৭৪)
২. সকাল-সন্ধ্যার শক্তিশালী সুরক্ষা (তিন কুল)
প্রতিদিন ফজর ও মাগরিবের পর সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক এবং সুরা নাস ৩ বার করে পাঠ করবেন। বিশেষ করে সুরা ফালাক ও নাস জিন ও মানুষের অনিষ্ট এবং হিংসুকদের নজর থেকে বাঁচার শ্রেষ্ঠ উপায়।
৩. আয়াতুল কুরসি
প্রতি ফরজ নামাজের পর এবং রাতে ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি পাঠ করা অত্যন্ত জরুরি। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি রাতে এটি পাঠ করবে, আল্লাহর পক্ষ থেকে তার জন্য একজন প্রহরী নিযুক্ত করা হয় এবং শয়তান তার কাছে আসতে পারে না।
৪. বদনজর থেকে বাঁচার বিশেষ দোয়া
রাসুলুল্লাহ (সা.) হাসান ও হুসাইন (রা.)-কে এই দোয়াটি পড়ে ফুঁ দিতেন। গর্ভবতী মায়েরা নিজের পেটে হাত রেখে এটি পড়তে পারেন:
أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَامَّةٍ
(আউজু বি-কালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন কুল্লি শায়ত্বানিও ওয়া হাম্মাহ, ওয়া মিন কুল্লি আইনীল লাম্মাহ)
অর্থ: আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালিমাসমূহের উসিলায় প্রত্যেক শয়তান, বিষাক্ত প্রাণী এবং প্রত্যেক ক্ষতিকর বদনজর থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। (সহিহ বুখারি)
গর্ভাবস্থায় কিছু ছোট পরামর্শ:
সুরা মারইয়াম ও সুরা ইউসুফ: এই সুরাগুলো নিয়মিত তেলাওয়াত করলে মন শান্ত থাকে এবং প্রসবকালীন জটিলতা কমাতে সাহায্য করে।
বিসমিল্লাহ বলে কাজ শুরু করা: ঘর থেকে বের হওয়া, খাবার খাওয়া বা কাপড় পরিবর্তন করার সময় 'বিসমিল্লাহ' বললে জিনের কুদৃষ্টি থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
অহেতুক ভয় না পাওয়া: মনে রাখবেন, আল্লাহর হুকুম ছাড়া কোনো জিন বা শয়তান আপনার বিন্দুমাত্র ক্ষতি করতে পারবে না। সবসময় আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল (ভরসা) রাখুন।
আপনি জ্বিন যাদুর কোনো রকম সমস্যার সম্মুখীন হোন, তাহলে দ্রুত অভিজ্ঞ রাক্বীদের মাধ্যমে ডায়াগনোসিস করে চেক করুন সমস্যা আসলে কী.? জ্বী*ন যা*দু বা বদনজরের কোনো ইফেক্ট আছে কি না, তা নিশ্চিত হোন।
ডায়াগনোসিস রুকইয়াহ করতে হোয়াটসঅ্যাপ: 01711-753835
বিস্তারিত জানতে ফলো করুন : Saleheen Life