02/02/2026
সার্জারি বিভাগে নিয়মিত চিকিৎসা সেবা
দিচ্ছেন ডা. গালিব মোহাম্মদ শাওন
সহযোগী অধ্যাপক
আলোচনার বিষয়: পিত্তথলির পাথর
রোগী দেখার সময়:
শনিবার, রবিবার, সোমবার, মঙ্গলবার, বৃহষ্পতিবার
সকাল ৯টা-দুপুর ২টা
পিত্তথলিতে পাথর (Gallstones) হওয়া বর্তমানে একটি সাধারণ সমস্যা। এটি মূলত পিত্তরসে কোলেস্টেরল বা ক্যালসিয়ামের পরিমাণ বেড়ে গিয়ে শক্ত দানা বাঁধার কারণে হয়। আপনার যদি পিত্তথলিতে পাথর ধরা পড়ে, তবে আতঙ্কিত না হয়ে নিচের পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করা জরুরি:
১. বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
সবার আগে একজন গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট বা জেনারেল সার্জনের সাথে দেখা করুন। পাথরটি কোন অবস্থায় আছে এবং এর আকার কেমন, তা আল্ট্রাসনোগ্রাম (USG) রিপোর্টের মাধ্যমে চিকিৎসক যাচাই করবেন।
২. সার্জারি বা অস্ত্রোপচার
চিকিৎসাবিজ্ঞানে পিত্তথলির পাথরের স্থায়ী সমাধান হলো সার্জারি। সাধারণত এটি দুইভাবে করা হয়:
ল্যাপারোস্কোপিক কোলেসিস্টেক্টমি: এটি বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় পদ্ধতি। পেটে ছোট ছিদ্র করে যন্ত্রের সাহায্যে পাথরসহ পিত্তথলিটি অপসারণ করা হয়। এতে রোগী খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন।
ওপেন সার্জারি: পাথরের জটিলতা বেশি থাকলে বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা থাকলে পেট কেটে সার্জারি করা হয়।
জরুরি তথ্য: ওষুধ খেয়ে পিত্তথলির পাথর গলানোর দাবি অনেক সময় করা হয়, তবে এর সাফল্যের হার অত্যন্ত কম এবং পাথর আবার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে ১০০%।
৩. খাদ্যতালিকায় পরিবর্তন
পাথর ধরা পড়ার পর এবং সার্জারির আগে ব্যথা নিয়ন্ত্রণে রাখতে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করা জরুরি:
তৈলাক্ত ও চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন: ভাজাপোড়া, ঘি, মাখন এবং লাল মাংস (গরু/খাসি) পিত্তশূলের ব্যথা বাড়িয়ে দিতে পারে।
আঁশযুক্ত খাবার বাড়ান: শাকসবজি, ফলমূল এবং লাল চালের ভাত খাওয়ার অভ্যাস করুন।
পর্যাপ্ত পানি পান করুন: শরীর হাইড্রেটেড রাখা হজমে সাহায্য করে।
৪. কখন দ্রুত হাসপাতালে যাবেন?
যদি নিচের লক্ষণগুলো দেখা দেয়, তবে দেরি না করে জরুরি বিভাগে যোগাযোগ করুন:
পেটের ওপরের ডানদিকে বা মাঝখানে তীব্র এবং অসহ্য ব্যথা।
ব্যথা পিঠের দিকে বা ডান কাঁধের পেছনে ছড়িয়ে পড়া।
বমি বমি ভাব বা অনবরত বমি হওয়া।
কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসা।
জন্ডিসের লক্ষণ (চোখ বা প্রস্রাব হলুদ হওয়া)।