Dr. Farzana Islam Shaon

  • Home
  • Dr. Farzana Islam Shaon

Dr. Farzana Islam Shaon MBBS, FCPS (Gynecology & Infertility). Assistant Professor, OBGYN. Specialist in infertility, PCOS, pregnancy & women’s health.

Chamber:
Alliance Hospital, Dhaka: 5 PM –7 PM (Except Tue–Fri)
Kaliakair, Gazipur: Every Tuesday
Maona, Gazipur: Every Friday Welcome to the official page of Dr. Farzana Islam Shaon. MBBS, BCS (Health)
FCPS (Obstetrics & Gynecology)
FCPS (Reproductive Endocrinology & Infertility)
Assistant Professor (Obs & Infertility)

Dr. Farzana Islam Shaon is a highly experienced specialist in women’s health, pregnancy care, reproductive endocrinology, and infertility management. She is dedicated to providing safe, ethical and evidence-based treatment for gynecological problems, hormonal disorders, PCOS, menstrual issues, and infertility.

📍 Chamber Schedule:
Alliance Hospital, Dhaka: 5 PM – 7 PM (Saturday–Thursday)
Kaliakair, Gazipur: Every Tuesday
Maona, Gazipur: Every Friday

Committed to ensuring quality healthcare for women with compassionate and professional service.

07/01/2026

Chocolate cyst (Endometrioma) হলো ডিম্বাশয়ে হওয়া এক ধরনের সিস্ট, যা Endometriosis রোগের কারণে হয়। এতে পুরোনো জমাট বাঁধা রক্ত জমে থাকে, দেখতে চকলেটের মতো হওয়ায় এ নাম। এই সমস্যায় মাসিকের তীব্র ব্যথা, তলপেট ব্যথা ও গর্ভধারণে সমস্যা হতে পারে। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা নিলে জটিলতা এড়ানো সম্ভব। ভিডিওতে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে ।

#নারীস্বাস্থ্য #বন্ধ্যাত্ব #মাসিকেরব্যথা

অনেকেই মনে করেন বন্ধ্যাত্ব একটি নির্দিষ্ট রোগ। বাস্তবে বিষয়টি তা নয়। আমার চিকিৎসা অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, বন্ধ্যাত্ব মূলত শ...
04/01/2026

অনেকেই মনে করেন বন্ধ্যাত্ব একটি নির্দিষ্ট রোগ। বাস্তবে বিষয়টি তা নয়। আমার চিকিৎসা অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, বন্ধ্যাত্ব মূলত শরীরের একাধিক শারীরিক ব্যবস্থার সম্মিলিত ভারসাম্যহীনতার ফল। হরমোন ব্যবস্থা, পরিপাকতন্ত্র, লিভার, রক্ত সঞ্চালন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং মানসিক স্বাস্থ্যের দীর্ঘদিনের সমস্যাই ধীরে ধীরে প্রজনন ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। শরীর যদি দীর্ঘ সময় অপুষ্টি ও বিষাক্ত খাবারের প্রভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই সন্তান ধারণের সক্ষমতা হ্রাস পায়।

বর্তমান সময়ে আধুনিক জীবনযাপন, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস এবং দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপের কারণে নারী ও পুরুষ—উভয়ের মধ্যেই বন্ধ্যাত্বের সমস্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। তাই আমি সব সময় বলি, বন্ধ্যাত্ব সমাধানে সরাসরি ওষুধে যাওয়ার আগে প্রাকৃতিক উপায়ে শরীরকে সন্তান ধারণের উপযোগী করে তোলা জরুরি।

এই ক্ষেত্রে খাদ্যাভ্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত চিনি, প্রক্রিয়াজাত খাবার, ট্রান্স ফ্যাট (ক্ষতিকর কৃত্রিম চর্বি) এবং কৃত্রিম হরমোনযুক্ত খাবার প্রজনন ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। অন্যদিকে শাকসবজি, ফল, সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবার, স্বাস্থ্যকর চর্বি, পর্যাপ্ত প্রোটিন ও আঁশযুক্ত খাবার শরীরকে প্রাকৃতিকভাবে ফার্টাইল হতে সহায়তা করে।

আমি রোগীদের ক্ষেত্রে প্রায়ই দেখি—ফলিক অ্যাসিড, আয়রন, জিঙ্ক, সেলেনিয়াম, ভিটামিন বি–কমপ্লেক্স, ওমেগা–৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ঘাটতি থাকলে গর্ভধারণে সমস্যা হয়। এসব পুষ্টির অভাবে গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়ে এবং ভবিষ্যতে শিশুর জন্মগত সমস্যার সম্ভাবনাও তৈরি হয়।

নারীদের বন্ধ্যাত্বের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি যে সমস্যাগুলো দেখি, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে পিসিওএস (পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম), অনিয়মিত মাসিক, ডিম্বাণু তৈরি না হওয়া, প্রোজেস্টেরন হরমোনের ঘাটতি এবং অতিরিক্ত ইস্ট্রোজেন হরমোন। এসব সমস্যার সমাধান শুধু হরমোনের ওষুধে সীমাবদ্ধ নয়; বরং দীর্ঘদিনের ভুল খাদ্যাভ্যাস ও অস্বাস্থ্যকর জীবনধারাই এসব সমস্যার মূল কারণ হয়ে থাকে।

আরেকটি বিষয় অনেক সময় উপেক্ষিত থেকে যায়—ইস্ট ইনফেকশন (Yeast infection) ও অন্ত্রের স্বাস্থ্য। শরীরে দীর্ঘদিন ক্যান্ডিডা বা ইস্ট জাতীয় জীবাণু অতিরিক্ত বেড়ে গেলে প্রদাহ তৈরি হয়, হরমোন রিসেপ্টর ঠিকমতো কাজ করে না এবং ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর গুণগত মান কমে যায়। অনেক ক্ষেত্রে তথাকথিত ‘কারণহীন বন্ধ্যাত্ব’-এর পেছনেও এই সমস্যা দায়ী থাকে।

পুরুষদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি আলাদা নয়। কম শুক্রাণু সংখ্যা বা দুর্বল শুক্রাণুর পেছনে অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ, প্রযুক্তিনির্ভর জীবনযাপন এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি বড় ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে জিঙ্ক ও সেলেনিয়ামের অভাব পুরুষদের প্রজনন ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়।

আমি আরও লক্ষ্য করেছি, দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ ও পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব সরাসরি প্রজনন হরমোনের ওপর প্রভাব ফেলে। স্ট্রেসের কারণে শরীরে কর্টিসল নামের হরমোন বেড়ে যায়, যা সন্তান ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় হরমোনগুলোকে দমন করে।

তাই আমার পরামর্শ একটাই—শরীরকে আগে প্রাকৃতিকভাবে সুস্থ ও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে হবে। ওষুধের আগে সঠিক খাবার, প্রয়োজনীয় পুষ্টি, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের পরিবর্তনের মাধ্যমে শরীরকে সন্তান ধারণের জন্য প্রস্তুত করাই বন্ধ্যাত্ব মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকর ও নিরাপদ পথ।
#বন্ধ্যাত্ব #সন্তান_ধারণ #নারীর_স্বাস্থ্য #পুরুষের_স্বাস্থ্য

দীর্ঘদিন ধরে মাসিক অনিয়ম, শরীরে পুরুষের মতো অতিরিক্ত লোম, ব্রণ, মাথার চুল পড়া এবং সন্তান না হওয়া—এ ধরনের উপসর্গ থাকলে তা...
28/12/2025

দীর্ঘদিন ধরে মাসিক অনিয়ম, শরীরে পুরুষের মতো অতিরিক্ত লোম, ব্রণ, মাথার চুল পড়া এবং সন্তান না হওয়া—এ ধরনের উপসর্গ থাকলে তা পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (পিসিওস) হতে পারে। সন্তান ধারণের বয়সী নারীদের মধ্যে এই হরমোনজনিত সমস্যা দ্রুত বাড়ছে।

সাধারণ নারীদের প্রায় ৬ থেকে ৮ শতাংশ পিসিওসে আক্রান্ত। বর্তমানে এটি ডিম্বস্ফোটনজনিত বন্ধ্যাত্বের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

পিসিওস এমন একটি অবস্থা, যেখানে নারীদের শরীরে পুরুষ হরমোনের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায় এবং ডিম্বাশয় নিয়মিতভাবে ডিম্বস্ফোটন করতে পারে না। অনেক ক্ষেত্রে আল্ট্রাসাউন্ডে ডিম্বাশয়ে একাধিক ছোট ছোট সিস্টের মতো ফোলিকল দেখা যায়। ১৯৩৫ সালে Stein ও Leventhal প্রথম এই রোগ শনাক্ত করেন।

পিসিওসের মূল কারণ হলো ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স। শরীর ইনসুলিন সঠিকভাবে ব্যবহার করতে না পারলে রক্তে ইনসুলিনের মাত্রা বেড়ে যায়। এই অতিরিক্ত ইনসুলিন ডিম্বাশয়কে বেশি পরিমাণে টেস্টোস্টেরন উৎপাদনে প্ররোচিত করে। গবেষণা অনুযায়ী, পিসিওস আক্রান্ত নারীদের ৮০ শতাংশের বেশি ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সে ভোগেন, ওজন স্বাভাবিক হলেও।

এই রোগের সাধারণ লক্ষণের মধ্যে রয়েছে মাসিক অনিয়ম বা দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা, অনিয়মিত রক্তপাত, মুখ ও শরীরের বিভিন্ন অংশে অতিরিক্ত লোম, ব্রণ, মাথার চুল পড়া এবং গর্ভধারণে সমস্যা। দীর্ঘদিন মাসিক বন্ধ থাকলে জরায়ুতে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

আন্তর্জাতিকভাবে নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী, মাসিক অনিয়ম বা ডিম্বস্ফোটন না হওয়া, শরীরে অতিরিক্ত পুরুষ হরমোনের লক্ষণ এবং আল্ট্রাসাউন্ডে পলিসিস্টিক ওভারি—এই তিনটির মধ্যে অন্তত দুটি থাকলে পিসিওস নির্ণয় করা হয়। একই সঙ্গে থাইরয়েড সমস্যা, প্রোল্যাকটিন বৃদ্ধি ও অন্যান্য হরমোনজনিত রোগ বাদ দেওয়া হয়।

পিসিওসের চিকিৎসা নির্ভর করে রোগীর উপসর্গ ও সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনার ওপর। ওজন নিয়ন্ত্রণকে সবচেয়ে কার্যকর দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা হিসেবে ধরা হয়। ওজন কমলে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স ও পুরুষ হরমোনের মাত্রা কমে আসে। রোগীর অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের ওষুধ প্রয়োগ করেন।

সাম্প্রতিক গাইডলাইনে পিসিওস ব্যবস্থাপনায় কিছু সাপ্লিমেন্টের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ইনোসিটল, ওমেগা–৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন ডি, ম্যাগনেসিয়াম, এন-অ্যাসিটাইল সিস্টেইন (NAC) ও জিঙ্ক ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়াতে এবং অতিরিক্ত টেস্টোস্টেরনের প্রভাব কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এসব সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ না করার পরামর্শ দিয়েছেন।

পিসিওস কোনো সাময়িক সমস্যা নয়; এটি একটি আজীবন চলমান হরমোনজনিত অবস্থা। সময়মতো চিকিৎসা ও জীবনযাত্রার পরিবর্তন না আনলে ভবিষ্যতে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও জরায়ু ক্যানসারের মতো জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই মাসিক অনিয়ম, অতিরিক্ত লোম বা সন্তান ধারণে সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

#পিসিওস #নারীদের_স্বাস্থ্য #মাসিক_অনিয়ম #সন্তান_নেওয়ার_সমস্যা

প্রতি শুক্রবার আমি মাওনা, শ্রীপুরে চেম্বার করে থাকি। সেখানকার এক দম্পতির বিয়ের ১২ বছর পর আল্লাহর রহমতে সন্তান হয়েছে। দীর...
24/12/2025

প্রতি শুক্রবার আমি মাওনা, শ্রীপুরে চেম্বার করে থাকি। সেখানকার এক দম্পতির বিয়ের ১২ বছর পর আল্লাহর রহমতে সন্তান হয়েছে। দীর্ঘদিন চেষ্টা করার পরও যখন সন্তান হচ্ছিল না, তখন তারা আমার কাছে আসেন।

আমি প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রকৃত সমস্যাটি নির্ণয়ের চেষ্টা করি। সমস্যার ধরন অনুযায়ী সঠিক চিকিৎসা শুরু করার পর আল্লাহর কৃপায় সেই রোগী সফলভাবে সন্তান কনসিভ করেন এবং পরবর্তীতে সুস্থভাবে একটি সন্তানের জন্ম হয়।

এ ধরনের সমস্যায় হতাশ না হয়ে সঠিক সময়ে বন্ধ্যাত্ব বিষয়ে অভিজ্ঞ ডাক্তারের কাছে গেলে এবং সঠিক চিকিৎসা নিলে ইনশাআল্লাহ সন্তান লাভ সম্ভব। তাই ধৈর্য হারাবেন না—সময়মতো সঠিক ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়ে চিকিৎসা নিন।

#বন্ধ্যাত্ব #বন্ধ্যাত্বচিকিৎসা

#সন্তানহীনতা #সন্তানলাভ

ঢাকার একজন রোগী বারবার Recurrent Pregnancy Loss (RPL)–এর শিকার হচ্ছিলেন। একাধিকবার গর্ভ নষ্ট হওয়ায় তিনি মানসিকভাবে খুব ভ...
23/12/2025

ঢাকার একজন রোগী বারবার Recurrent Pregnancy Loss (RPL)–এর শিকার হচ্ছিলেন। একাধিকবার গর্ভ নষ্ট হওয়ায় তিনি মানসিকভাবে খুব ভেঙে পড়েছিলেন এবং মনে করতেন—হয়তো কখনোই সন্তানের মুখ দেখতে পারবেন না। গভীর উদ্বেগ ও হতাশা নিয়ে তিনি আমার কাছে আসেন এবং তাঁর সম্পূর্ণ চিকিৎসা ইতিহাস বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।

আমি তাঁকে প্রথমেই হতাশ না হওয়ার আশ্বাস দিই। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে তাঁর সমস্যার প্রকৃত কারণগুলো মূল্যায়ন করে একটি উপযুক্ত চিকিৎসা পরিকল্পনা শুরু করা হয়। নিয়মিত ফলোআপ ও সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে তিনি পরবর্তীতে সফলভাবে কনসিভ করেন এবং আল্লাহর রহমতে সুস্থ সন্তানের মুখ দেখার সৌভাগ্য অর্জন করেন।

বারবার গর্ভপাত হলে আশাহীন হবেন না। সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা ও ধৈর্য থাকলে অনেক ক্ষেত্রেই সফল মাতৃত্ব সম্ভব।

#নারীস্বাস্থ্য

দীর্ঘ দিন যাবৎ ভ্যাজাইনাল ড্রাইনেস, সহবাসে সমস্যা, সহবাসের সময় ব্যথা কিংবা সহবাসের পর রক্তপাত—এ ধরনের উপসর্গে ভুগছেন এমন...
22/12/2025

দীর্ঘ দিন যাবৎ ভ্যাজাইনাল ড্রাইনেস, সহবাসে সমস্যা, সহবাসের সময় ব্যথা কিংবা সহবাসের পর রক্তপাত—এ ধরনের উপসর্গে ভুগছেন এমন নারীর সংখ্যা নেহাত কম নয়। এসব সমস্যা ইস্ট্রোজেন হরমোনের ঘাটতির ফলে হতে পারে, যা বছরের পর বছর অস্বস্তি তৈরি করে এবং ধীরে ধীরে জীবনযাত্রার মানে গুরুতর প্রভাব ফেলে।দীর্ঘদিন এসব লক্ষণ অব্যাহত থাকলে তা ভ্যাজাইনাল অ্যাট্রফির দিকে ইঙ্গিত করতে পারে।

ইস্ট্রোজেন হরমোনের ঘাটতির ফলে যোনির আবরণ, টিস্যু ও স্বাভাবিক কার্যকারিতার ক্রমাগত ক্ষয় ও সংকোচন হওয়াকেই ভ্যাজাইনাল অ্যাট্রফি বলা হয়। এই অবস্থায় যোনির ভেতরের আবরণ পাতলা ও দুর্বল হয়ে যায়, স্বাভাবিক নমনীয়তা কমে আসে এবং যোনি ধীরে ধীরে শুষ্ক ও সংকুচিত হতে শুরু করে। ফলে সহবাসের সময় পর্যাপ্ত লুব্রিকেশন না হওয়ায় ব্যথা, জ্বালা এবং কখনো কখনো রক্তপাত দেখা দেয়।

ভ্যাজাইনাল অ্যাট্রফি সাধারণত মেনোপজ-পরবর্তী নারীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। তবে এটি শুধু মেনোপজেই সীমাবদ্ধ নয়। ডিম্বাশয় অপসারণ, সন্তান জন্মের পর শরীরে ইস্ট্রোজেনের মাত্রা হঠাৎ কমে যাওয়া, দীর্ঘদিন বুকের দুধ খাওয়ানো, কেমোথেরাপি বা রেডিয়েশন থেরাপি গ্রহণ এবং কিছু হরমোনবিরোধী ওষুধ ব্যবহারের কারণেও শরীরে ইস্ট্রোজেনের ঘাটতি তৈরি হতে পারে। এসব পরিস্থিতিতে যোনির স্বাভাবিক গঠন ও কার্যকারিতা ব্যাহত হয়।

ইস্ট্রোজেন কমে গেলে যোনির স্বাভাবিক পরিবেশেও বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে। যোনির ভেতরের অম্লীয় পরিবেশ ধীরে ধীরে ক্ষারীয় হয়ে ওঠে (যোনির সুরক্ষা ব্যবস্থা নষ্ট হয়ে যাওয়া) , উপকারী ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা কমে যায় এবং সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এর ফলে শুধু সহবাসজনিত সমস্যা নয়, প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া, ঘন ঘন প্রস্রাব, ইউরিন ইনফেকশন এবং প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারার মতো জটিলতাও দেখা দিতে পারে।

ভ্যাজাইনাল অ্যাট্রফির উপসর্গগুলো সময়ের সঙ্গে নিজে থেকে ভালো হয় না; বরং চিকিৎসা না নিলে সমস্যা আরও বাড়তে থাকে। অনেক নারী লজ্জা বা সামাজিক সংকোচের কারণে এসব উপসর্গ গোপন রাখেন, ফলে রোগটি নীরবে দীর্ঘস্থায়ী হয়ে ওঠে। অথচ সময়মতো সঠিক চিকিৎসা শুরু হলে এই সমস্যার উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব এবং জীবনযাত্রার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করা যায়।

দীর্ঘদিন ধরে ভ্যাজাইনাল ড্রাইনেস, সহবাসে ব্যথা বা রক্তপাতের মতো সমস্যা থাকলে সেটিকে স্বাভাবিক বয়সজনিত পরিবর্তন ভেবে এড়িয়ে না গিয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ এসব উপসর্গ অনেক ক্ষেত্রে ভ্যাজাইনাল অ্যাট্রফির স্পষ্ট সংকেত হতে পারে।



#যৌনস্বাস্থ্য

যোনিতে চুলকানি, জ্বালা, যৌনমিলন বা প্রস্রাবের সময় ব্যথা এবং দইয়ের মতো ঘন সাদা, দুর্গন্ধহীন স্রাব এসব দেখা দিয়েছে। বিশ্বে...
21/12/2025

যোনিতে চুলকানি, জ্বালা, যৌনমিলন বা প্রস্রাবের সময় ব্যথা এবং দইয়ের মতো ঘন সাদা, দুর্গন্ধহীন স্রাব এসব দেখা দিয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী জীবনের কোনো না কোনো সময়ে এমন সংক্রমণের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন। কিন্তু কেন হয় এবং সংক্রমণ কত ধরনের হতে পারে—তা জানা অত্যন্ত জরুরি। কারণ, সঠিক তথ্য জানা থাকলেই এসব সংক্রমণ প্রতিরোধে রাখা সম্ভব।

যোনি সংক্রমণ মূলত যোনির স্বাভাবিক পরিবেশে ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ফল। যোনিতে স্বাভাবিকভাবে কিছু উপকারী জীবাণু থাকে, যা ক্ষতিকর জীবাণুর বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে রাখে। কোনো কারণে এই ভারসাম্য বিঘ্নিত হলে সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হয়। জীবনযাপনের ভুল অভ্যাস, অপর্যাপ্ত বা অতিরিক্ত পরিচ্ছন্নতা, হরমোনজনিত পরিবর্তন এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যাওয়া—এসব বিষয় এতে বড় ভূমিকা রাখে।

কেন যোনি সংক্রমণ হয়

সুগন্ধযুক্ত সাবান, ইনটিমেট ডিওডোরেন্ট বা কেমিক্যালযুক্ত পণ্য নিয়মিত ব্যবহার যোনির স্বাভাবিক পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। দীর্ঘদিন অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ, ডায়াবেটিস, স্থূলতা, দীর্ঘ সময় ভেজা কাপড় পরা, টাইট ও সিনথেটিক পোশাক ব্যবহার এবং টয়লেট ব্যবহারের পর ভুলভাবে পরিষ্কার করার অভ্যাস যোনি সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়। এছাড়া অনিরাপদ যৌন আচরণও কিছু সংক্রমণের ক্ষেত্রে বড় কারণ হিসেবে কাজ করে।

যোনি সংক্রমণের ধরন

যোনি সংক্রমণকে কয়েকটি প্রধান ভাগে ভাগ করেছেন।

এর মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত হলো ভ্যাজাইনাল ক্যান্ডিডিয়াসিস, যা ছত্রাকজনিত সংক্রমণ। এ অবস্থায় অনেক সময় দইয়ের মতো সাদা স্রাব, তীব্র চুলকানি ও জ্বালার সমস্যা দেখা দেয়।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সংক্রমণ হলো ট্রাইকোমোনিয়াসিস, যা একটি যৌনবাহিত সংক্রমণ। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এ সংক্রমণে আক্রান্ত অনেক নারীই দীর্ঘ সময় কোনো উপসর্গ টের পান না, ফলে অজান্তেই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে।

ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজিনোসিস হয় যোনির স্বাভাবিক ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট হলে। এতে সাধারণত পাতলা ধূসর বা সাদা স্রাব এবং মাছের মতো দুর্গন্ধ লক্ষ্য করা যায়।

এছাড়া ক্ল্যামিডিয়া সংক্রমণ নারীদের জন্য বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। অনেক ক্ষেত্রে উপসর্গ না থাকলেও এটি ভবিষ্যতে বন্ধ্যাত্ব বা গর্ভধারণজনিত জটিলতার কারণ হতে পারে।

গনোকক্কাল ভ্যাজাইনাইটিস আরেকটি যৌনবাহিত সংক্রমণ, যেখানে যোনি স্রাবের রঙ পরিবর্তন, প্রস্রাবের সময় জ্বালা ও তলপেটে ব্যথা দেখা দিতে পারে।

সবশেষে রয়েছে ভাইরাল ভ্যাজাইনাইটিস, যা মূলত হারপিস সিমপ্লেক্স ভাইরাস ও হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাসের মাধ্যমে হয়ে থাকে। এসব সংক্রমণ দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে এবং অনেক সময় বারবার ফিরে আসে।

যোনি সংক্রমণের ক্ষেত্রে সবসময় স্পষ্ট উপসর্গ দেখা যায় না। অনেক নারী কোনো অস্বস্তি ছাড়াই সংক্রমণ বহন করেন, যা পরবর্তীতে জটিল আকার ধারণ করতে পারে। তাই শুধুমাত্র তীব্র সমস্যা দেখা দিলেই সচেতন হওয়া যথেষ্ট নয়; বরং সামান্য পরিবর্তনকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতার ভূমিকা

যোনি সংক্রমণ প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তবে তা হতে হবে সঠিক নিয়মে। অতিরিক্ত পরিষ্কার করার প্রবণতাও ক্ষতিকর হতে পারে। যোনি পরিষ্কারের ক্ষেত্রে মৃদু ও নিরাপদ পদ্ধতি অনুসরণ করা, মাসিকের সময় নিয়মিত প্যাড বা কাপড় পরিবর্তন করা, ভেজা কাপড় দ্রুত বদলানো এবং আরামদায়ক সুতির পোশাক ব্যবহার করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

কখন সতর্ক হবেন

যোনিতে অস্বাভাবিক চুলকানি, জ্বালা, স্রাবের রঙ বা গন্ধে পরিবর্তন, প্রস্রাব বা যৌনমিলনের সময় ব্যথা—এসব লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিলে জটিলতা এড়ানো সম্ভব ।

যোনি সংক্রমণ কোনো লজ্জার বিষয় নয়, বরং এটি নারীদের একটি সাধারণ স্বাস্থ্যসমস্যা। সঠিক তথ্য জানা, সচেতন জীবনযাপন ও নিয়মিত ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণই পারে এই নীরব সমস্যাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে। সচেতনতা বাড়লে যোনি সংক্রমণ প্রতিরোধ করা যেমন সম্ভব, তেমনি নারীদের সামগ্রিক স্বাস্থ্যও আরও নিরাপদ করা যায়।

#নারীরস্বাস্থ্য #সচেতনতা

দিন দিন বাংলাদেশে সিজারিয়ান অপারেশনের সংখ্যা বাড়ছে। তবে চিকিৎসকদের মতে, স্বাভাবিক ডেলিভারি অর্থাৎ যোনিপথে শিশুর জন্ম মা ...
08/12/2025

দিন দিন বাংলাদেশে সিজারিয়ান অপারেশনের সংখ্যা বাড়ছে। তবে চিকিৎসকদের মতে, স্বাভাবিক ডেলিভারি অর্থাৎ যোনিপথে শিশুর জন্ম মা ও শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য বেশি উপকারী।

স্বাভাবিক ডেলিভারিতে মায়ের শরীরে স্বাভাবিকভাবে দুধ তৈরি সহজ হয়। কিন্তু সিজারিয়ান ডেলিভারির ক্ষেত্রে অনেক সময় দুধ তৈরি হতে দেরি হয় বা সমস্যায় পড়েন অনেক মা। কেউ কেউ পর্যাপ্ত দুধই পান না, ফলে বাজারে পাওয়া ফর্মুলা দুধের ওপর নির্ভর করতে হয়। তবে জটিল পরিস্থিতিতে সিজারিয়ান অপারেশন প্রয়োজন হলে এতে কোনো ভয় বা লজ্জার বিষয় নেই। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রসবের সময় মা ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

স্বাস্থ্যবিষয়ক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রায় ৩৩ শতাংশ গর্ভবতী নারী সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করেন। তবে কিছু নিয়ম মেনে চললে স্বাভাবিক ডেলিভারির সম্ভাবনা বাড়ানো যায় বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

গর্ভাবস্থায় মানসিক চাপ কম রাখা জরুরি। অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা অকাল প্রসব এবং কম ওজনের শিশুর ঝুঁকি বাড়ায়। এজন্য নেতিবাচক পরিবেশ এড়িয়ে চলা, মেডিটেশন ও হালকা যোগব্যায়াম উপকারী।

খাদ্যাভ্যাসের দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নিয়মিত ফল, শাকসবজি, শস্য, লিন প্রোটিন ও দুগ্ধজাত খাবার খাওয়া উচিত। গাঢ় সবুজ শাকসবজি যেমন—পালং, ব্রকলি, কেল, ব্লুবেরি, পেঁপে এবং লেবু জাতীয় ফল বেশি করে খাওয়ার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি আয়রনসমৃদ্ধ খাবার এবং প্রেনাটাল ভিটামিন গ্রহণেরও পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। অতিরিক্ত চিনি, অর্গান মিট, কিছু সামুদ্রিক খাবার ও রাস্তার খাবার এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে।

নিয়মিত হালকা ব্যায়ামের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন চিকিৎসকরা। এতে শরীরের সহনশীলতা বাড়ে, পেশি শক্তিশালী হয় এবং শিশুর সঠিক অবস্থান নিশ্চিত করতে সহায়তা করে। নিয়মিত হাঁটা ও হালকা শরীরচর্চা চালিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

প্রসব বিষয়ে আগে থেকেই ধারণা রাখা প্রয়োজন বলেও মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বই পড়া, প্রশিক্ষণ নেওয়া এবং ভয়ানক অভিজ্ঞতার গল্প এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোনো উদ্বেগ থাকলে তা চিকিৎসকের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করতে বলা হয়েছে।

পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করার কথাও বলেছেন চিকিৎসকরা। বাম কাতে শোয়া, বালিশ ব্যবহার, কম আলো ব্যবহার এবং ঘুমের আগে মোবাইল ফোন ব্যবহার কমিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি পরিবার ও জীবনসঙ্গীর সহযোগিতা নিশ্চিত করাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রসবের সময় মানসিকভাবে শক্ত থাকার জন্য কাছের মানুষদের উপস্থিতি সহায়ক ভূমিকা রাখে।

চিকিৎসকের সঙ্গে আগেভাগেই খোলামেলা আলোচনা করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নিজের পছন্দ ও জন্মপরিকল্পনার বিষয়গুলো চিকিৎসককে জানালে সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হয় বলে তারা মত দিয়েছেন।

পর্যাপ্ত পানি পান করাও জরুরি। প্রতিদিন ৮ থেকে ১২ গ্লাস পানি পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় কম পান করার কথাও বলা হয়েছে।

গর্ভাবস্থায় সচেতনতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে স্বাভাবিক ডেলিভারির সম্ভাবনা বাড়ে। তবে যেকোনো পরিস্থিতিতে শেষ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হওয়া উচিত মা ও শিশুর নিরাপদ ও সুস্থ জন্ম।


#মাতৃত্ব

#বাংলাদেশ

অনেক মেয়েরই হঠাৎ করে মাসিক অনিয়ম, মুখে বা শরীরে অতিরিক্ত লোম, ব্রণ বেড়ে যাওয়া, ওজন বৃদ্ধি, চুল পড়ে যাওয়া কিংবা গর্ভধারণে...
06/12/2025

অনেক মেয়েরই হঠাৎ করে মাসিক অনিয়ম, মুখে বা শরীরে অতিরিক্ত লোম, ব্রণ বেড়ে যাওয়া, ওজন বৃদ্ধি, চুল পড়ে যাওয়া কিংবা গর্ভধারণে সমস্যা দেখা দেয়। বেশিরভাগ সময় এসব সমস্যাকে আলাদা আলাদা বিষয় হিসেবে মনে করা হয় এবং গুরুত্ব দেওয়া হয় না। কিন্তু যখন এই উপসর্গগুলো একসঙ্গে দেখা দেয়, তখন তা হতে পারে পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS)—একটি সাধারণ হলেও জটিল হরমোনজনিত সমস্যা।

বিশ্বব্যাপী দ্রুত বাড়ছে পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS)। বর্তমানে এটি নারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যাওয়া হরমোনজনিত সমস্যাগুলোর একটি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি ১০ জন নারীর মধ্যে প্রায় একজন PCOS–এ আক্রান্ত। শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রেই প্রায় ৫০ লাখ নারী এ রোগে ভুগছেন এবং প্রতি বছর PCOS শনাক্তকরণ ও চিকিৎসায় ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশেও একই ধরনের প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, বিশেষ করে কিশোরী, তরুণী ও প্রজননক্ষম বয়সী নারীদের মধ্যে।

PCOS–এ আক্রান্ত নারীদের শরীরে অ্যান্ড্রোজেন নামক পুরুষ হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। এর ফলে মাসিক অনিয়ম, ওভুলেশন সমস্যা, শরীরে অতিরিক্ত লোম, ব্রণ, মাথার চুল পড়ে যাওয়া এবং দ্রুত ওজন বাড়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষায় ডিম্বাশয়ে একাধিক ছোট ছোট সিস্ট দেখা যায়, যা এই রোগের একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য।

অনেক নারী এসব সমস্যাকে গুরুত্ব না দিলেও চিকিৎসকেরা সতর্ক করে বলছেন—এগুলো উপেক্ষা করার মতো নয়। কারণ সময়মতো চিকিৎসা না নিলে ভবিষ্যতে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল বৃদ্ধি এমনকি এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সারের ঝুঁকিও বেড়ে যেতে পারে।

PCOS–এর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি। তবে পরিবারে কারও PCOS থাকা, অতিরিক্ত ওজন, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স এবং হরমোনের ভারসাম্যহীনতা এই সমস্যার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

শারীরবৃত্তীয়ভাবে দেখা যায়, ইনসুলিন ও হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলে শরীরে অতিরিক্ত অ্যান্ড্রোজেন তৈরি হয়, যা ডিম্বাণুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও পূর্ণতা লাভে বাধা সৃষ্টি করে। এর ফলে ওভুলেশন ব্যাহত হয় এবং মাসিক অনিয়মিত হয়ে পড়ে।

চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রথমেই জীবনযাত্রার পরিবর্তনের ওপর জোর দেওয়া হয়। ওজন নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত ব্যায়াম ও সুষম খাদ্য গ্রহণ ইনসুলিনের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে, অ্যান্ড্রোজেন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ধীরে ধীরে মাসিক স্বাভাবিক হতে শুরু করে। গর্ভধারণে সমস্যা থাকলে রোগের মাত্রা ও রোগীর অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসকেরা প্রয়োজনীয় ওষুধ দিয়ে থাকেন।

তবে, PCOS কোনো সাময়িক সমস্যা নয়; এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি। তবে নিয়মিত ফলোআপ, সঠিক চিকিৎসা এবং জীবনযাত্রায় পরিবর্তনের মাধ্যমে এই রোগ সফলভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। অনেক নারী চিকিৎসা নেওয়ার পর স্বাভাবিক মাসিক চক্র ফিরে পেয়েছেন এবং সফলভাবে গর্ভধারণও করেছেন। তাই মাসিক অনিয়ম, অতিরিক্ত লোম গজানো, ব্রণ, দ্রুত ওজন বৃদ্ধি কিংবা গর্ভধারণে সমস্যা দেখা দিলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

#নারীস্বাস্থ্য #পিরিয়ডসমস্যা

শীতকালে গর্ভবতী নারীদের খাদ্য নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে। কেননা খাদ্য শুধু রুচির বিষয় বরং সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে গর্ভের শিশু...
03/12/2025

শীতকালে গর্ভবতী নারীদের খাদ্য নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে। কেননা খাদ্য শুধু রুচির বিষয় বরং সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে গর্ভের শিশুর বিকাশ ও প্রসবের ঝুঁকিতে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, শীত মৌসুমে ভিটামিন-D, ভিটামিন-C, তাজা সবজি ও ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ মাছের গ্রহণ কমে যাওয়ায় বেশ কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়।

শীতে সূর্যালোক কম পাওয়ার কারণে গর্ভবতী নারীদের মধ্যে ভিটামিন-D ঘাটতি বেড়ে যায়। ভিটামিন-D কম থাকলে প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া, প্রি-টার্ম জন্ম ও শিশুর কম ওজন নিয়ে জন্মানোর ঝুঁকি বাড়তে পারে। কিছু র‌্যান্ডমাইজড ট্রায়ালে দেখা গেছে, প্রয়োজন অনুযায়ী ভিটামিন-D সাপ্লিমেন্ট এই ঝুঁকি কিছুটা কমাতে পারে। তবে WHO এই সাপ্লিমেন্ট সব গর্ভবতীকে রুটিন হিসেবে দিতে পরামর্শ দেয় না—ঘাটতি নির্ণীত হলে তবেই গ্রহণের সুপারিশ।

শীত মৌসুমে সবজি ও ভিটামিন-C–সমৃদ্ধ ফলের ব্যবহার কমে গেলেও গবেষকদের মত, সঠিক খাদ্য নির্বাচন করলে ঘাটতি কমানোর সুযোগ থাকে। কমলা, মালটা, পেয়ারা, টমেটো ও লেবুর মতো ফল-সবজি শীতে সহজলভ্য এবং অ্যানিমিয়া প্রতিরোধে কার্যকর ভিটামিন-C সরবরাহ করে।

অন্যদিকে শীতকালে মাছ খাওয়ার প্রবণতা কমে গেলে ওমেগা-৩ (DHA/EPA) গ্রহণ কমে যেতে পারে। Cochrane-এর সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ বলছে, গর্ভাবস্থায় ওমেগা-৩ বেশি পরিমাণে গ্রহণ করলে প্রি-টার্ম জন্ম ও নবজাতকের কম ওজনের ঝুঁকি হ্রাস পায়। গবেষকরা সপ্তাহে অন্তত দুইবার ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ মাছ খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। তবে হাই-মারকিউরি মাছ যেমন শার্ক বা কিং-ম্যাকারেল এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে।

এ সময় আয়রন ও ক্যালসিয়ামের দিকেও সতর্ক থাকতে হবে। শীতে লাল মাংস, শাকসবজি ও ডালজাতীয় খাবার তুলনামূলক কম খাওয়া হলে গর্ভকালীন অ্যানিমিয়া বাড়তে পারে। WHO প্রতিটি গর্ভবতী নারীর জন্য প্রতিদিন ৩০–৬০ মিলিগ্রাম আয়রন ও ৪০০ মাইক্রোগ্রাম ফোলিক অ্যাসিড গ্রহণের সুপারিশ পুনর্ব্যক্ত করেছে। তবে ক্যালসিয়াম ও আয়রন একসঙ্গে খেলে শোষণ বাধাগ্রস্ত হতে পারে—তাই আলাদা সময়ে গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

শীতে এনার্জি-ডেন্স খাবার যেমন বাদাম, খেজুর, দুধ, ডিম ও ওটস প্রয়োজনীয় শক্তি ও পুষ্টি জোগায়। তবে ডায়াবেটিস বা উচ্চঝুঁকি গর্ভাবস্থায় এসব খাবার গ্রহণ অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী করতে হবে।

শীতকালীন ঝুঁকি এড়াতে নিয়মিত ANC-চেকআপ, প্রয়োজন অনুযায়ী রক্ত পরীক্ষা (Vitamin-D, Hb, Iron, Folate) এবং চিকিৎসকের নির্দেশিত সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের ওপর জোর দিয়েছেন চিকিৎসকরা। পাশাপাশি সুষম খাদ্য, ভালোভাবে রান্না করা মাছ-মাংস এবং পর্যাপ্ত পানি পানের অভ্যাস বজায় রাখাও জরুরি বলে জানান তারা।




#গর্ভাবস্থাসতর্কতা #ডায়াবেটিস

28/11/2025
28/11/2025

কোনো প্রোটেকশন ছাড়া টানা এক বছর নিয়মিত সহবাসের পরও গর্ভধারণ না হলে তাকে বন্ধ্যাত্ব বলা হয়।

#বন্ধ্যাত্ব #গর্ভধারণ #গাইনি

Address

Alliance Hospital Limited, 24/3 Khilji Road, Ring Rd

1207

Telephone

+8801912335039

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dr. Farzana Islam Shaon posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

  • Want your practice to be the top-listed Clinic?

Share

Share on Facebook Share on Twitter Share on LinkedIn
Share on Pinterest Share on Reddit Share via Email
Share on WhatsApp Share on Instagram Share on Telegram