28/04/2026
মানুষের অসহায়ত্ব কতখানি গভীরে পৌঁছালে সে শ্মশানের নিস্তব্ধতাকে ভেঙে কবরের মাটি খুঁড়তে পারে? ওড়িশার কেউনঝর জেলার পাটনা ব্লকের অন্তর্গত মল্লিপাশি গ্রাম আজ এক এমন ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে রইল, যা শুনলে সভ্য সমাজের শিরদাঁড়া দিয়ে হিমস্রোত বয়ে যায়।
(প্রতিবেদনটি একটু বড় আছে)
এটি কেবল একটি সংবাদ নয়, এটি আধুনিক ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রিতার মুখে এক সজোরে চপেটাঘাত। জিতু মুন্ডা নামের এক নিরক্ষর আদিবাসী প্রৌঢ়, যার কাছে জীবনের সম্বল বলতে ছিল কেবল তার দিদি কালরা মুন্ডার ভালোবাসা। কিন্তু নিয়তির পরিহাসে গত ২৬ শে জানুয়ারি কালরা মুন্ডা ইহলোক ত্যাগ করেন। মৃত্যু মানুষের শরীরকে কেড়ে নেয়, কিন্তু রেখে যায় কিছু জাগতিক দায়বদ্ধতা—যার মধ্যে একটি হলো ব্যাঙ্কে পড়ে থাকা সামান্য কিছু টাকা। কে জানত, সেই ১৯,৩০০ টাকাই একদিন এক ভাইকে বাধ্য করবে তার দিদির পচাগলা কঙ্কালকে কাঁধে তুলে নিতে?
ঘটনার প্রেক্ষাপট শুরু হয় সেই দিন থেকে, যখন কালরা মুন্ডার মৃত্যুর পর জিতু নিজের হাড়ভাঙা খাটুনির অবসাদে একটু আশার আলো দেখতে ওড়িশা গ্রাম্য ব্যাঙ্কের মল্লিপাশি শাখায় যান। একজন দরিদ্র মানুষের কাছে কুড়ি হাজার টাকার মূল্য শহরের মানুষের কল্পনার বাইরে। সেই টাকা দিয়ে হয়তো জিতু তার দিদির শেষ কাজটুকু মর্যাদার সঙ্গে করতে চেয়েছিলেন, কিংবা নিজের একবেলা অন্নের সংস্থান করতে চেয়েছিলেন।
কিন্তু ব্যাঙ্কের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরের ভেতরে বসে থাকা আধিকারিকদের কাছে জিতু ছিলেন কেবল এক ‘কাস্টমার’, যার কাছে সঠিক নথিপত্র নেই। জানা যায়, কালরা মুন্ডার অ্যাকাউন্টে যিনি নমিনি ছিলেন, তিনিও আগেই মারা গিয়েছিলেন। ফলে আইনি জটিলতা পাহাড়ের মতো দাঁড়িয়ে ছিল জিতুর সামনে। ব্যাঙ্কের নিয়ম অনুযায়ী, নমিনি না থাকলে ‘লিগ্যাল হেয়ার’ বা বৈধ উত্তরাধিকারী শংসাপত্র প্রয়োজন। কিন্তু সেই প্রত্যন্ত গ্রামের এক জনজাতিভুক্ত মানুষের কাছে এই শব্দগুলো ছিল কোনো ভিনগ্রহের ভাষার মতো।
বারবার ব্যাঙ্কে গিয়েও জিতু ফিরে এসেছেন শূন্য হাতে। অভিযোগ উঠেছে, ব্যাঙ্কের কর্মীরা তাকে বারবার বলেছেন, "যিনি অ্যাকাউন্ট হোল্ডার, তাকে নিয়ে এসো, তবেই টাকা মিলবে।" একজন মানুষ মারা গেলে যে তার অস্তিত্ব কেবল নথিতে সীমাবদ্ধ হয়ে যায়, সেটা ব্যাঙ্কের যান্ত্রিক নিয়ম হয়তো মেনে নেয়, কিন্তু জিতুর মতো সরল মনের মানুষ সেটা বুঝতে পারেননি।
তার সহজ বুদ্ধি বলে দিচ্ছিল, দিদি নেই বলেই তো তিনি টাকাটা পাচ্ছেন না। আর ব্যাঙ্কের কর্মীরা বলছেন দিদিকে আনতে! এই দ্বন্দ্বে ক্ষতবিক্ষত হতে হতে জিতু এক চরম এবং ভয়ঙ্কর সিদ্ধান্ত নিয়ে বসেন। দীর্ঘ দুই মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পর, যখন কবরের মাটি বসে গিয়েছে এবং কালরা মুন্ডার শরীর প্রকৃতির নিয়মে কঙ্কালে পরিণত হয়েছে, তখন জিতু সেই কবর খুঁড়তে শুরু করেন। এটা কোনো উন্মাদনা ছিল না, ছিল এক চরম অভিমান আর ব্যবস্থার প্রতি এক নীরব প্রতিবাদ।
সেই তপ্ত দুপুরে কেউনঝরের লাল রাস্তা দিয়ে যখন এক জীর্ণকায় মানুষ একটি প্লাস্টিকের বস্তা কাঁধে নিয়ে হাঁটছিলেন, তখন কেউ কল্পনাও করতে পারেনি তার ভেতরে কী রয়েছে। তিন কিলোমিটার পথ হেঁটে জিতু যখন ব্যাঙ্কের দরজায় পৌঁছান, তখন চারপাশ থমকে গিয়েছিল। বস্তা থেকে বেরিয়ে আসে এক বীভৎস দৃশ্য—একটি মানুষের খুলি এবং হাড়গোড়। জিতু নির্বিকার চিত্তে সেই কঙ্কাল ব্যাঙ্কের কাউন্টারের সামনে রেখে দেন। তার চোখে তখন জল নেই, ছিল এক পাথর চাপা ক্ষোভ। তিনি যেন চিৎকার করে বলতে চাইছিলেন, "তোমরা আমার দিদিকে দেখতে চেয়েছিলে? এই দেখো আমার দিদি! এবার কি তোমরা বিশ্বাস করবে যে সে আর বেঁচে নেই?" এই দৃশ্য কেবল উপস্থিত গ্রাহকদের নয়, খোদ ব্যাঙ্ক কর্মীদেরও আত্মার ভেতরে কম্পন ধরিয়ে দিয়েছিল।
একটি মানুষের মৃতদেহের মর্যাদা রক্ষায় ব্যর্থ হওয়া সমাজ কি সত্যিই উন্নত? জিতু মুন্ডার এই কাজ প্রমাণ করে দিল যে, আমাদের ডিজিটাল ইন্ডিয়া আর আধুনিক ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার কত গভীরে পচন ধরেছে। একজন মানুষের মৃত্যু হয়েছে জেনেও কেন তাকে সশরীরে হাজির করার মতো অযৌক্তিক কথা বলা হলো? কেন এক অসহায় আদিবাসীকে আইনি মারপ্যাঁচ বুঝিয়ে দেওয়ার বদলে তাকে বারংবার ফিরিয়ে দেওয়া হলো? এই প্রশ্নগুলো আজ মল্লিপাশির বাতাসে ঘুরে বেড়াচ্ছে। জিতুর এই পদক্ষেপটি কোনো অপরাধ ছিল না, বরং এটি ছিল এক অন্তিম আর্তনাদ। তিনি চেয়েছিলেন তার দিদির টাকা দিয়ে তাকে মুক্তি দিতে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে দিদির মৃতদেহকেই আবার মাটি থেকে খুঁড়ে তুলে আনতে হলো কেবল টাকার প্রমাণ হিসেবে।
এই ঘটনার পর পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন নড়েচড়ে বসে ঠিকই, কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। জিতু মুন্ডা প্রমাণ করে দিয়েছেন যে, দারিদ্র্য মানুষকে কতটা নিষ্ঠুর করে তুলতে পারে। তিনি যখন সেই কঙ্কাল নিয়ে ব্যাঙ্কের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন, তখন সেখানে উপস্থিত মানুষগুলো যেন এক জীবন্ত ট্র্যাজেডি দেখছিলেন। ব্যাঙ্কের কর্মীরা যারা আগে নিয়ম দেখিয়ে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন, তারা তখন ভয়ে আর বিস্ময়ে বাকরুদ্ধ। তারা কি একবারও ভেবেছিলেন যে, তাদের বলা কথাগুলো একজন মানুষের মগজে কী ঝড় তুলতে পারে? এক আদিবাসী ভাই তার বোনের প্রতি কতটা নিষ্ঠাবান হলে এবং ব্যবস্থার প্রতি কতটা বীতশ্রদ্ধ হলে এই কাজ করতে পারেন, তা ভাবলে আজও মানুষের গা শিউরে ওঠে। এর পরের ঘটনাপ্রবাহ আরও জটিল, যেখানে উঠে আসে প্রশাসনিক ব্যর্থতা আর পুলিশের হস্তক্ষেপের কথা।
ব্যাঙ্কের সেই হিমশীতল মেঝের ওপর যখন কালরা মুন্ডার কঙ্কালটি রাখা হলো, তখন যেন চারপাশের সময় থমকে গিয়েছিল। এক অদ্ভুত নৈঃশব্দ্য গ্রাস করেছিল ব্যাঙ্কের ভেতরটা। জিতু মুন্ডা কোনো উগ্র আচরণ করেননি, তিনি কেবল শান্তভাবে দাঁড়িয়ে ছিলেন তার দিদির হাড়গোড়গুলোর পাশে। তার এই শান্ত ভঙ্গিটি ছিল আসলে এক আগ্নেয়গিরির মতো স্তব্ধতা। যে ব্যাঙ্কিং নিয়ম এতদিন দুর্ভেদ্য প্রাচীরের মতো দাঁড়িয়ে ছিল, সেই নিয়মগুলো যেন ওই কঙ্কালের সামনে দাঁড়িয়ে হঠাৎ করেই অত্যন্ত ক্ষুদ্র এবং অর্থহীন হয়ে গেল। উপস্থিত জনতা এবং ব্যাঙ্ক কর্মীরা বুঝতে পারছিলেন যে, তারা কেবল একটি আইনি জটিলতা দেখছেন না, বরং তারা দেখছেন একটি সভ্যতার চরম পরাজয়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পাটনা থানার পুলিশ। ইন্সপেক্টর কিরণ প্রসাদ সাহু এবং তার দল যখন ব্যাঙ্কের ভেতরে প্রবেশ করেন, তখন তারাও এই অভাবনীয় দৃশ্য দেখে থমকে যান। সাধারণত পুলিশ অপরাধী ধরতে অভ্যস্ত, কিন্তু এখানে অপরাধী কে? সেই ভাই, যে তার বোনের দেহাবশেষ নিয়ে ব্যাঙ্কে এসেছে? নাকি সেই ব্যবস্থা, যা একজন মানুষকে এই স্তরে নামিয়ে আনতে বাধ্য করেছে? পুলিশ যখন জিতুকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে, তখন তার সরল স্বীকারোক্তি অফিসারদের চোখে জল এনে দেয়। জিতু বারবার বলছিলেন, "আমি তো মিথ্যা বলিনি। দিদি মরে গেছে। আপনারা না দেখে বিশ্বাস করছিলেন না, তাই নিয়ে এলাম।" এই সারল্যই ছিল ব্যবস্থার গালে সবথেকে বড় চপেটাঘাত। পুলিশ বুঝতে পারে যে, জিতু কোনো আইন ভাঙার উদ্দেশ্যে এটি করেননি; তিনি কেবল তার সীমাবদ্ধ বুদ্ধিতে ব্যাঙ্কের আধিকারিকদের ‘চাহিদা’ পূরণ করার চেষ্টা করেছেন।
তদন্তে উঠে আসে এক আরও করুণ কাহিনী। জানা যায়, কালরা মুন্ডা ছিলেন একজন বিধবা, যার নিজের কোনো সন্তান ছিল না। জিতুই ছিলেন তার জীবনের একমাত্র অবলম্বন। জিতু নিজেও অত্যন্ত দরিদ্র, দিনমজুরির টাকায় কোনোক্রমে দিন গুজরান করেন। দিদির জমানো ওই ১৯,৩০০ টাকা তার কাছে ছিল এক অমূল্য সম্পদ। গ্রামের পঞ্চায়েত বা স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে যদি তাকে একটি মৃত্যু শংসাপত্র (Death Certificate) জোগাড় করে দেওয়ার ক্ষেত্রে সামান্যতম সাহায্য করা হতো, তবে হয়তো এই নজিরবিহীন ঘটনার জন্ম হতো না। কিন্তু আমাদের প্রশাসনিক কাঠামো এমনভাবে তৈরি যে, এখানে দরিদ্রদের জন্য কোনো ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ ব্যবস্থা নেই। একজন আদিবাসী মানুষকে তার হকের টাকা পেতে গেলে যে আমলাতান্ত্রিক গোলকধাঁধায় ঘুরতে হয়, জিতু মুন্ডা সেই গোলকধাঁধার শিকার।
এই ঘটনার পর স্থানীয় ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক (BDO) এবং জেলা প্রশাসন তড়িঘড়ি নড়েচড়ে বসে। যে নিয়ম এতদিন জিতুকে ফিরিয়ে দিয়েছিল, সেই নিয়মই রাতারাতি শিথিল হয়ে গেল। প্রশাসন নির্দেশ দিল যে, কোনো আইনি জটিলতা ছাড়াই অবিলম্বে জিতু মুন্ডাকে তার দিদির জমানো টাকা বুঝিয়ে দিতে হবে। কিন্তু প্রশ্ন ওঠে, এই বোধোদয় হতে কেন একটি মৃতদেহকে কবর থেকে খুঁড়ে আনতে হলো? কেন একজন মানুষের সম্মানের শেষ অবশিষ্টাংশটুকুকে রাস্তার ধুলোয় মিশিয়ে দিতে হলো? স্থানীয় গ্রামবাসীদের মধ্যে এই নিয়ে তীব্র ক্ষোভ দানা বাঁধে। তাদের দাবি, ব্যাঙ্কের কর্মীরা যদি জিতুর সাথে মানবিক আচরণ করতেন এবং তাকে সঠিক পথ দেখিয়ে দিতেন, তবে সমাজকে এই লজ্জার মুখোমুখি হতে হতো না।
পুলিশের হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত কালরা মুন্ডার অবশিষ্টাংশগুলোকে আবার ব্যাগের ভেতর ভরে নেওয়া হয়। জিতু আবার সেই ভারী ব্যাগটি কাঁধে তুলে নেন। এবার তার গন্তব্য ব্যাঙ্ক নয়, বরং সেই নির্জন কবরস্থান, যেখান থেকে তিনি তার দিদিকে নিয়ে এসেছিলেন। পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসনের উপস্থিতিতে কালরা মুন্ডাকে আবার সসম্মানে সমাধিস্থ করা হয়। কিন্তু মাটির নিচে সেই কঙ্কাল ফিরে গেলেও, সমাজের বিবেক কি শান্ত হতে পেরেছে? ডিজিটাল ইন্ডিয়ার যুগে যখন আমরা সেকেন্ডের মধ্যে বিশ্বজুড়ে লেনদেন করছি, তখন ওড়িশার এক আদিবাসী গ্রাম দেখল যে, সামান্য কয়েক হাজার টাকার জন্য একজন মানুষকে তার প্রিয়জনের কঙ্কাল বয়ে বেড়াতে হয়।
এই ঘটনাটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা নয়, এটি একটি বড় ধরনের সতর্কবার্তা। এটি মনে করিয়ে দেয় যে, প্রযুক্তির উন্নতিই যথেষ্ট নয় যদি না তার সাথে মানবিকতার সংযোগ থাকে। ব্যাঙ্কের ম্যানেজারের ঘরে রাখা দামী চেয়ার কিংবা কম্পিউটারের স্ক্রিনে থাকা ডেটাবেস কোনোদিন বুঝতে পারবে না যে, একটি পরিবারের জন্য কুড়ি হাজার টাকা মানে কী। জিতু মুন্ডা হয়তো তার টাকাটা শেষ পর্যন্ত পাবেন, কিন্তু তার বোনের মরদেহের যে অপমান হলো, তার ক্ষতিপূরণ কে দেবে? যে ভাইটি দুই মাস ধরে তার দিদির বিয়োগব্যথা বয়ে বেড়াচ্ছিলেন, তাকে আবার সেই যন্ত্রণাদায়ক স্মৃতির মুখোমুখি হতে হলো।
আজ কেউনঝরের সেই লাল মাটির ওপর আবার ঘাস গজাবে, কালরা মুন্ডার কবরটি হয়তো আবার চেনা চেহারায় ফিরে যাবে। কিন্তু মানুষের মনে যে ক্ষত তৈরি হলো, তা সহজে শুকোনোর নয়। জিতু মুন্ডা হয়তো আবার তার দিনমজুরির জীবনে ফিরে যাবেন, কিন্তু যখনই তিনি ওই ব্যাঙ্কের পাশ দিয়ে হাঁটবেন, তার মনে পড়বে সেই দিনের কথা—যেদিন জীবন্ত মানুষের চেয়ে মৃতদেহের মূল্য বেশি হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এই ঘটনাটি আমাদের শেখায় যে, আইন এবং নিয়ম মানুষের জন্য তৈরি হয়েছে, মানুষ নিয়মের জন্য নয়। যেদিন আমরা নথিপত্রের চেয়ে মানুষের চোখের জলের গুরুত্ব বেশি দিতে শিখব, সেদিনই হয়তো জিতু মুন্ডাদের আর কবর খুঁড়তে হবে না। ওড়িশার এই মাটি আজ এক ভাই ও বোনের এক অদ্ভুত সম্পর্কের সাক্ষ্য বহন করছে, যেখানে মৃত্যুও টাকার লড়াইয়ের কাছে হার মেনেছিল।
তথ্যঋন- সংগৃহীত।