23/02/2026
অনেকেই লজ্জায় বা অবহেলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাকে চেপে রাখেন বারবার প্রস্রাবের চাপ। দিনে বারবার বাথরুমে যেতে হচ্ছে, হঠাৎ এমন তীব্র চাপ আসছে যে আর ধরে রাখা যাচ্ছে না, কিংবা রাতে ঘুম ভেঙে দুই তিনবার উঠতে হচ্ছে এসবকেই আমরা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলি Overactive Bladder (OAB)। এটি আসলে মূত্রথলির একটি কার্যগত সমস্যা, যেখানে ব্লাডারের পেশি অকারণে বা সময়ের আগেই সংকুচিত হয়ে যায়। ফলে মস্তিষ্কে হঠাৎ তীব্র প্রস্রাবের সিগন্যাল চলে আসে, যদিও ব্লাডার পুরোপুরি ভর্তি নাও থাকতে পারে। অনেক সময় রোগীরা ভাবেন এটি হয়তো শুধু infection (UTI), কিন্তু সব ক্ষেত্রে তা নয়; অনেক সময় কোনো infection ছাড়াই এই উপসর্গ দেখা দেয়।
Overactive Bladder বিভিন্ন কারণে হতে পারে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে ব্লাডারের সংবেদনশীলতা পরিবর্তিত হয়। ডায়াবেটিস, স্নায়বিক সমস্যা (যেমন স্ট্রোক বা স্পাইনাল কর্ডের অসুবিধা), পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রোস্টেটের বৃদ্ধি, মহিলাদের মেনোপজ পরবর্তী হরমোনের পরিবর্তন এসবই ভূমিকা রাখতে পারে। অতিরিক্ত চা, কফি বা ক্যাফেইন গ্রহণ, দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ ও উদ্বেগও ব্লাডারকে অতিরিক্ত উত্তেজিত করে তুলতে পারে। অনেক ক্ষেত্রেই আবার নির্দিষ্ট কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না, কিন্তু উপসর্গগুলো বাস্তব এবং রোগীর দৈনন্দিন জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে।
রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে প্রথমেই গুরুত্বপূর্ণ হলো রোগীর history শোনা। দিনে কতবার প্রস্রাব হচ্ছে, রাতে কতবার উঠতে হচ্ছে, প্রস্রাব ধরে রাখতে পারছেন কি না এসব তথ্য খুব মূল্যবান। পাশাপাশি ইউরিন পরীক্ষা করে সংক্রমণ আছে কি না দেখা হয়, ব্লাড সুগার পরীক্ষা করা হয়, প্রয়োজনে আল্ট্রাসোনোগ্রাফি বা বিশেষ ক্ষেত্রে ইউরোডাইনামিক স্টাডি করা হয়। মূল লক্ষ্য হলো অন্য কোনো জটিল কারণ আছে কি না তা বাদ দেওয়া।
চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রথম ধাপই হলো জীবনযাত্রার পরিবর্তন। একসাথে বেশি জল না খেয়ে সারা দিনে ভাগ করে খাওয়া, সন্ধ্যার পর চা কফি কমানো, ওজন নিয়ন্ত্রণ করা এবং নির্দিষ্ট সময়ে বাথরুমে যাওয়ার অভ্যাস তৈরি করা , এসব সহজ পদক্ষেপ অনেক সময় উল্লেখযোগ্য উন্নতি আনে। ব্লাডার ট্রেনিং এবং কেগেল এক্সারসাইজ বিশেষভাবে উপকারী, বিশেষ করে মহিলাদের ক্ষেত্রে। প্রয়োজনে চিকিৎসক নির্দিষ্ট ওষুধ দেন, যা ব্লাডারের অতিরিক্ত সংকোচন কমাতে সাহায্য করে। তবে নিজে থেকে ওষুধ শুরু করা উচিত নয়। খুব জটিল বা ওষুধে সাড়া না দেওয়া ক্ষেত্রে আধুনিক চিকিৎসা যেমন বোটক্স ইনজেকশন বা Neuromodulation বিবেচনা করা হয়।
এই সমস্যার একটি বড় দিক হলো মানসিক প্রভাব। অনেকেই বাইরে যেতে ভয় পান যদি হঠাৎ বাথরুম পেয়ে যায় ! সামাজিক অস্বস্তি, আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি, এমনকি উদ্বেগ বা ডিপ্রেশনও তৈরি হতে পারে। তাই এটি শুধু শারীরিক নয়, মানসিক স্বাস্থ্যের সাথেও গভীরভাবে জড়িত। মনে রাখতে হবে, দিনে বারবার প্রস্রাব হওয়া বা হঠাৎ তীব্র চাপ অনুভব করা কোনো স্বাভাবিক ব্যাপার নয় যদি তা দৈনন্দিন জীবনকে ব্যাহত করে। Overactive Bladder একটি সাধারণ কিন্তু চিকিৎসাযোগ্য অবস্থা। সময়মতো সঠিক পরামর্শ নিলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নিয়ন্ত্রণ সম্ভব এবং জীবন আবার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে পারে।
✍️ Dr.Saurav Bhakat
📞 070015 26010