29/12/2025
পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মিথ্যাগুলোর একটি হচ্ছে, "কোনো মা-ই তার বাচ্চাকে ইচ্ছা করে ডিব্বার দুধ খাওয়ায় না।" কেউ কেউ বাধ্য হয়ে খাওয়ায়, সেটা ভিন্ন কথা। কিন্তু অনেক মা আছে যারা নিজেদের চেহারা সুরত ঠিক রাখতে আর বাচ্চাকে মোটাতাজা করতে কৌটার দুধ গেলায়। মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলো মায়েদের এমনই ব্রেইনওয়াশ করেছে যে, একটা ইমার্জেন্সি খাবারকে অনেক মা বানিয়ে নিয়েছেন রেগুলার খাবার হিসেবে।
ফলশ্রুতিতে আমরা পেতে যাচ্ছি একটা মোটাসোটা অসুস্থ জেনারেশন। কিচ্ছু করার নেই। ডাক্তারদের নিষেধের তোয়াক্কা না করে এমনকি ডাক্তারদের গালাগালি করে হলেও তারা বাচ্চাকে ডিব্বার দুধই খাওয়াবেন। এরপর অসুস্থ বাচ্চাকে নিয়ে হাসপাতাল আর ক্লিনিকে দৌড়াদৌড়ি করবেন।
আমি বারবার বলি, ইমার্জেন্সি সিচুয়েশন (***) ছাড়া কৌটার দুধকে না বলুন। মায়ের বুকের দুধ বাড়ানোর কৌশল শিখুন। নিচের লেখাগুলো মন দিয়ে পড়ুন। অন্যদের সাথে শেয়ার করুন..
🔸যতদ্রুত সম্ভব নবজাতককে বুকের দুধ দেয়া শুরু করা। কমপক্ষে ১ ঘন্টার মধ্যে বুকের দুধ খাওয়ানো শুরু করতে হবে।
🔸নবজাতক ও তার মাকে একই রুমে এবং সম্ভব হলে একই বিছানায় রাখতে হবে। এর ফলে মা নবজাতকের স্পর্শ পাবে, গন্ধ পাবে, শব্দ শুনতে পাবে এবং দুধ বেশি বেশি তৈরি হবে। এবং বেশি বেশি নিঃসরণও হবে।
🔸শিশুকে একপাশের স্তন থেকে একবারে সম্পুর্ণ খাওয়াতে হবে। ফলে, স্তন খালি হবে। দুধকোষ খালি হলে প্রোল্যাকটিন নিঃসরণ বাড়ে এবং বেশি বেশি দুধ তৈরি হয়।
🔸মায়ের পুষ্টি ঠিক থাকতে হবে। যদি মা অপুষ্টির শিকার হন তাহলে অনেক ক্ষেত্রে দুধের পরিমাণ কমে যেতে পারে। একারণে প্রয়োজন ক্ষেত্রে মাকে চিকিৎসা করাতে হবে। একই সাথে মাকে পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে।
সাধারণভাবে বলা যায় গড়পড়তা মানুষের ৩ বেলার বিপরীতে দুগ্ধদায়ী মাকে ৪-৫ বেলা খেতে হবে ( প্রতিদিন ৫০০ ক্যালরি অতিরিক্ত খেতে হবে)।
🔸দুধের পরিমাণ বাড়ানোর জন্য কিছু খাবার (যেমন- লাউ, কালিজিরা ইত্যাদি) উপকার করতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কিছু ঔষধও ব্যবহার করা যেতে পারে।