14/04/2026
নতুন ভারতের মতাদর্শ ভিত্তিক সবচেয়ে বড় ব্যক্তিত্ব ডঃ ভীমরাও রামজি আম্বেদকর বা বাবাসাহেব আম্বেদকরের সঙ্গে পরিচয় করি .........( শেষে মজা )
🔴জন্ম : ১৪ এপ্রিল ১৮৯১ .. মধ্যপ্রদেশের মহুতে /বর্তমানে ড. আম্বেদকর নগর, এক দলিত/অস্পৃশ্য বা untouchable পরিবারে (শূদ্র থেকেও নিচে অবস্থানকারী,গ্রাম এর বাইরে অবস্থানকারী )
ভাইবোন ...বাবা সুবেদার (ব্রিটিশ ভারতের সেনা সদস্য ) রামজি মালোজি সাকপাল এবং মা ভীমাবাইয়ের ১৪তম ও সর্বশেষ সন্তান বাবাসাহেব
🔴শিক্ষা:
সেইসময় যে অল্প কিছু সংখ্যক অস্পৃশ্য শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জন করতে সক্ষম হয় তার মধ্যে ইনি একজন,কারণ তার বাবা ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সদস্য ছিলেন ।
তিনি সেকালের গৎবাঁধা শিক্ষাপদ্ধতিতে মারাঠী এবং ইংরেজিতে ডিগ্রি লাভ করেছিলেন ।
যদিও আম্বেদকর বিদ্যালয়ে যেতেন, তাকে অন্যান্য অস্পৃশ্য শিশুর ন্যায় আলাদা করে দেয়া হত। শিক্ষকগণ তাদের প্রতি অমনোযোগী ছিলেন এবং কোনোরূপ সহযোগিতা করতেন না।
➡️তাদের শ্রেণিকক্ষের ভেতরে বসার অনুমতি ছিলো না 😭।
➡️এমনকি তাদের যদি তৃষ্ণা পেতো উচ্চবর্ণের কোনো একজন এমন উচ্চতা হতে জল পান করাতো, যাতে নিচুজাতের শিক্ষার্থীরা জলের পাত্র স্পর্শ না করতে পারে 😭😡
আম্বেদকরকে বিদ্যালয়ের পিওন জলপান করাতো এবং যদি পিওন না থাকত বা না আসত, তখন সারাদিন জল পান না করেই কাটাতে হতো। (মধ্য ও পশ্চিম ভারতে এখনো প্রচলিত, বিশ্বাস হচ্ছে না ? ঠিক খবর দেখুন....)
আম্বেদকর এই অবস্থাকে এভাবে আখ্যায়িত করেছেন - “পিওন নেই,পানি নেই”
(ছোটবেলায় পড়েছিলাম তার বোনকে নিয়ে জল পান করানোর ইতিহাস। বর্তমান বই থেকে গায়েব করে দেওয়া হয়েছে,কোনো জাদুবলে!!!!)
🔴উচ্চতর শিক্ষা :
১৯১২ সালে, তিনি বোম্বে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি এবং রাজনৈতিক বিজ্ঞানে ডিগ্রি লাভ করেন এবং বারোদা রাজ্যে সরকারি চাকরি গ্রহণ করেন।
এই বড়দা রাজ্যের রাজা তাকে শিক্ষার জন্য বৃত্তি প্রদান করেন এবং বিনিময়ে সেই রাজ্যের জন্য তাকে কাজ করার লিখিত প্রতিশ্রুতি দিতে হয়। (বর্তমানে ডাক্তারদের বন্ড সিস্টেমের মতন)
কিন্তু মজার বিষয় হল এই কাজ চলাকালীন, তার পিয়ন উচ্চবর্ণের হওয়ায় , বিভিন্ন কাজে অসহযোগিতা করতে থাকে । কিছুদিন কাজ করার পর বিভিন্ন জায়গা থেকে অসহযোগিতার ধরুন রাজা তাকে অব্যাহতি দান করে।✅
এরকম একটা শিক্ষিত লোককে শুধুমাত্র বর্ণবৈষম্যের জন্য কি রকমের হেনস্থা হতে হয়েছে....
✅ আম্বেদকর প্রথম ভারতীয় যিনি বিদেশ থেকে অর্থনীতিতে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন।
এছাড়াও তিনি দক্ষিণ এশিয়া মহাদেশের প্রথম পিএইচডি ডিগ্রিধারী, এবং দুবার তিনি এই ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ভারতের প্রথম আইনমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ।
আম্বেদকর সমগ্র পৃথিবীর মধ্যে প্রথম এবং একমাত্র ব্যক্তি যে অর্জন করেছে লন্ডন স্কুল অফ ইকোনমিকস থেকে সমস্ত বিজ্ঞান বিষয়ের উপর ডক্টরেট (DR )ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
❤️কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকানুযায়ী, পৃথিবীর সেরা ১০০ পণ্ডিতের মধ্যে তিনি একজন ❤️
🔴✅✅✅এবার আসুন মূল জায়গায় ......
এই পরিমাণ শিক্ষিত হওয়ার পরেও সমাজ থেকে তিনি যে পরিমাণ বৈষম্যের শিকার হয়েছেন , সেই বৈষম্যকে দূরীভূত করতেই তার লড়াই জারি ছিল আজীবন ....
✅ ১. ১৯২০ সালে, তিনি মুম্বাইয়ের একটি সাপ্তাহিক “মুকনায়ক – মৌনদের নেতা” প্রকাশ করেন ও এই পত্রিকাটিতে হিন্দু মৌলবাদী রাজনীতিবিদদের কঠোর সমালোচনা করেন এবং ভারতের রাজনৈতিক জাতিবৈষম্যের (Caste Discrimination) প্রতি যুদ্ধ করেছিলেন
✅২. ব্রাহ্মণদের বিরুদ্ধে কথা বলায় তিনি মানহানির মামলায় জড়িয়ে পড়েন ।
আম্বেদকর তার মামলা, যুক্তিপূর্ণ তথ্য ও দক্ষতার সাথে উপস্থাপনা করে ১৯২৬ সালের অক্টোবর মাসে বিজয়ী হন।
✅৩. ১৯২৭ সালে আম্বেদকর অস্পৃশ্যতা'র বিরুদ্ধে সক্রিয় আন্দোলন গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি গণ আন্দোলন শুরু করেন এবং সুপেয় পানির উৎস দানে সংগ্রাম চালিয়ে যান (উল্লেখ্য সে সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দিরে নিম্নবর্ণের প্রবেশের অধিকার ছিলো না)
✅৪. প্রসিদ্ধি এবং অস্পৃশ্য সম্প্রদায়ের মধ্যে সমর্থনের কারণে, তাকে ১৯৩২ সালে লন্ডনে দ্বিতীয় গোলটেবিল বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।......কিন্তু মহাত্মা গান্ধী অস্পৃশ্যদের জন্য গঠিত পৃথক নির্বাচকমণ্ডলির প্রচণ্ডভাবে বিরোধিতা করেন, এই বলে যে, তিনি অস্পৃশ্য সম্প্রদায়ের গঠনকৃত নির্বাচকমন্ডলী (separate electorate), হিন্দু সমাজকে ভবিষ্যতে বিভক্ত করবে এবং উচ্চশ্রেণীর ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। মজার ব্যাপার....... 😀😀
➡️ কিন্তু ১৯৩২ সালে যখন ব্রিটিশরা আম্বেদকরের সাথে একমত হন এবং পৃথক নির্বাচকমণ্ডলীর ঘোষণা করেন, তখন মহাত্মা গান্ধী পুনের এরোদা কেন্দ্রীয় কারাগারে উপবাস শুরু করেন।
(ভাবুন.... ভাবুন ...এরা আপনাদের অধিকার কিভাবে ছিনিয়ে নিতে চাইছিল ... )
✅৫. আম্বেদকর সাহেব মূলত এক একটা অস্পৃশ্যের জন্য দুটি ভোটের অধিকার চেয়েছিলেন , একটি ছিল দলিতদের মধ্যে নেতা নির্বাচিত করার জন্য এবং আরেকটি সাধারণ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য । গান্ধীজি মানেনি...😀 ...কিউট ব্যাপার না ?!!!
কিন্তু এসবের দ্বারাই যেটা সবচেয়ে বেশি লাভ হয় সেটা হল SC ST সমাজ নির্ধারিত সংখ্যক আসন পেয়ে থাকে সব নির্বাচনে ।
✅৬. কংগ্রেস ও গান্ধীর অস্পৃশ্যদের প্রতি আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে আম্বেদকর তীব্রভাবে গান্ধী ও কংগ্রেসকে আক্রমণ করেন।
নিউইওর্কে লিখিত গবেষণালব্ধ উপাত্তের ভিত্তিতে একই বছর তিনি তার বই
✍️"দ্য এন্নিহিলেশন অব কাস্ট " প্রকাশ করেন।
নিম্নবর্ণ সৃষ্টির ইতিহাসের উপর আলোকপাত করেন। তিনি এও উল্লেখ করেন,শূদ্র কীভাবে অস্পৃশ্য হতে আলাদা ⏩
✅৭. পরে যখন দেশ স্বাধীন হলো এবং সংবিধান প্রণয়নকারী সদস্য নির্বাচিত শুরু হলো , আইন তৈরি কারী সভায় আম্বেদকর সাহেব প্রবেশ করতে চাইলে তার প্রচন্ড বিরোধিতা করা হয় গান্ধীজীর দ্বারা। পরবর্তীকালে মুম্বাই থেকে ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হতে চাইলে সেখানে তাকে পরাস্ত করা হয় বিভিন্ন মাধ্যমে।
🔴 কিন্তু শেষমেশ পূর্ববঙ্গের (বর্তমান বাংলাদেশ) মুসলিম বহুল জনগণের সমর্থনে নিবার্চিত হলে আইন সভায় বাধ্য হয়ে স্থান দিতে হয়।
তার সমকক্ষ কেউ না থাকাই সেই কমিটির প্রধান বিবেচিত হন (এত পড়াশোনা করেও বঞ্চনা শেষ করা যায়নি .... ব্যক্তি রাজনৈতিক এবং ক্ষমতার অপব্যবহার কারী বিভিন্ন দলের দ্বারা.... এরাই আপনাকে ক্ষমতা দেবে,আপনার ভালো চায়...হে হে .খিক খিক...😀..😀)
🔴🔴🔴🔴✅পরিশেষে বলে রাখি ......
বাবা সাহেবের জন্যই .. .. SC ST OBC অন্যান্য সংখ্যালঘু ,মহিলারা তার সম্মান এবং ভোটাধিকার এবং সব বিষয়ে সমান অধিকার পেয়েছে ।
তিনি শুধুমাত্র মানুষকে মানুষ হিসাবে পরিচিতি এবং তার ক্ষমতায়ন করতে চেয়েছিলেন,তাতেই এত বাধা।
নইলে বর্তমানে মুসলমানরা যে পরিমাণ প্রাতিষ্ঠানিক নিপীড়নের শিকার তার চেয়ে কয়েকশো গুন খারাপ অবস্থা হতো এই মহিলা এবং SC ST সমাজের।✅
⏩শিক্ষাই আপনাকে একমাত্র এবং সর্বোচ্চ সম্মাননা ছিনিয়ে দিতে পারে , এই বৈষম্যমূলক সমাজ ব্যবস্থার মধ্যে , তাই জাতীয় কংগ্রেস থেকে শুরু করে , গান্ধীজী ও তার সাঙ্গ পাঙ্গরা মিলেও এই যুগের মহান মতাদর্শের অধিকারী বাবাসাহেব কে খর্ব করতে পারেনি ।
⏩✅বর্তমানে একটা গোষ্ঠী আছে যারা প্রচারণা চালাচ্ছে বাবাসাহেব নাকি সংবিধান রচনা কারি নন, তাহলে কে ??
তাদের মতে ... B.N .RAO (তিনিও সদস্য ছিলেন) ,কিন্তু কেনো?? ভাবুন ..খুঁজুন.. কোন বিশেষ....
➡️প্রথমে সন্দেহ...তারপর বাতিল করার গল্প...তারপর জনমত ...তারপর বাদ...( সংখ্যা বেশি আপনার, তাই সঠিক জায়গায় ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন)✅
🔴🔴 মৃত্যু: দীর্ঘদিন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়ে ৬ই ডিসেম্বর ১৯৫৬ সালে তার দিল্লীর নিজ বাড়িতে ঘুমন্ত অবস্থায় চির নিদ্রায় শায়িত হন। তার উক্তি ছিল "আমি অচ্ছুত হয়ে জন্মেছি কিন্তু মরবো না" তার শেষকৃত্য বৌদ্ধধর্ম অনুযায়ী সম্পন্ন হয় ।
✅হয়তো এইজন্যই ভারতের ইতিহাসের সবচেয়ে জঘন্যতম অসংবিধানিক কাজ সংবিধান প্রণয়নকারীর মহাপ্রয়াণ দিবস ৬ ডিসেম্বর ঘটানো হয়েছিল......
©️ ✍️ DR Towshif Arif Biswas
at DATE Foundation
📌© All content is original and reviewed from proper sources. kindly Post with () credit.উপরের দেওয়া তথ্য জনস্বার্থে প্রচারিত
#বাবাসাহেব
゚viralシfypシ゚viralシalシ
#সমতা