30/08/2025
এআইজি হাসপাতাল, হায়দ্রাবাদ ভ্রমণ নির্দেশিকা (দ্বিতীয় পর্ব)
(বরাক উপত্যকা, আসাম ও ত্রিপুরার মানুষের জন্য)
প্রথম পর্বে আমি প্রস্তুতি থেকে শুরু করে হায়দ্রাবাদ পৌঁছানো পর্যন্ত বিস্তারিত লিখেছি। আশা করি সেটা পড়েছেন। যদি না পড়ে থাকেন, চিন্তার কিছু নেই—নিচে কমেন্টে দেওয়া লিংকে গিয়ে প্রথম পর্ব পড়ে নিতে পারবেন।
আজকের এই দ্বিতীয় পর্বে আলোচনা করব—হাসপাতালে পৌঁছে ধাপে ধাপে কীভাবে এগোতে হবে।
ধাপে ধাপে করণীয়
১| Registration (রেজিস্ট্রেশন)
হাসপাতালে ঢোকার পরই প্রথম ধাপ হলো রেজিস্ট্রেশন।
ভিড় এড়াতে সম্ভব হলে সকাল সকাল যাওয়া ভালো।
সাধারণত গ্রাউন্ড ফ্লোরেই রেজিস্ট্রেশন হয়।
লাগবে রোগীর আধার কার্ড বা অন্য কোনো বৈধ পরিচয়পত্র।
নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর ইত্যাদি লিখে ₹100 ফি জমা দিলেই রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন।
রোগীর নামে একটি Hospital ID Card/ফাইল তৈরি হয়। এটি ভবিষ্যতে টেস্ট, অ্যাপয়েন্টমেন্ট বা ভর্তি—সব কিছুর জন্য প্রয়োজন।
এই আইডি দিয়েই অনলাইনে রিপোর্টও দেখা যায়।
প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ:
রেজিস্ট্রেশনের পর নার্স/স্টাফ কিছু প্রশ্ন করেন—
কী সমস্যা, কতদিন ধরে
পূর্বে কোনো অপারেশন হয়েছে কিনা, আগের চিকিৎসার ইতিহাস
ওজন ও ব্লাড প্রেশার এসব তথ্য লিখে রোগীকে একটি ফর্ম ও ফাইল দেওয়া হয়। সেটি নির্দিষ্ট ক্লাস্টারে জমা দিয়ে ডাক্তার ডাক দেওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।
২| Doctor Appointment (ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট)
রেজিস্ট্রেশনের সময় জিজ্ঞেস করা হয় কোন ডাক্তার দেখাতে চান।
যদি আগে থেকে ডাক্তার ঠিক করা থাকে তবে সরাসরি বিলিং হয়।
না থাকলে, রোগীর সমস্যার ধরন অনুযায়ী হাসপাতাল নিজেই ডাক্তার সাজেস্ট করে।
হাসপাতাল বিশাল, তাই আলাদা আলাদা ক্লাস্টার (Cluster A, B ইত্যাদি) রয়েছে।
রশিদে স্পষ্ট লেখা থাকে কোন ফ্লোর ও কোন ক্লাস্টারে যেতে হবে।
প্রতিটি ক্লাস্টারের ভেতরে ওয়েটিং এরিয়া আছে।
অনেক সময় প্রথমে জুনিয়র ডাক্তার দেখে টেস্ট দেন, রিপোর্ট আসার পর মূল ডাক্তার পরামর্শ দেন।
৩| Diagnostic Tests (টেস্ট)
ডাক্তার টেস্ট দিলে আগে বিলিং কাউন্টারে টাকা জমা দিতে হয়।
টেস্টের ধরন অনুযায়ী আলাদা ফ্লোর বা বিল্ডিংয়ে যেতে হতে পারে।
সাধারণ টেস্ট: রক্ত পরীক্ষা, এক্স-রে, আল্ট্রাসাউন্ড, সিটি স্ক্যান, এমআরআই, এন্ডোস্কপি, কোলনোস্কপি ইত্যাদি।
রিপোর্ট অনলাইনে ও প্রিন্ট—দুটোই পাওয়া যায়।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পরের দিন বা দুই -তিন পর ডাক্তারকে রিপোর্ট দেখাতে হয়।
৪| Billing & Payment (বিলিং ও পেমেন্ট)
প্রতিটি ধাপেই আলাদা বিলিং—ডাক্তার ফি, টেস্ট ফি, ওষুধ, ভর্তি ইত্যাদি।
রশিদে স্পষ্ট লেখা থাকে পরবর্তী গন্তব্য।
হাসপাতালের পুরো সিস্টেম ডিজিটাল, তাই ভুল হওয়ার সুযোগ খুব কম।
পেমেন্টের জন্য ক্যাশ/কার্ড/অনলাইন—সব ব্যবস্থা আছে।
৫| Pharmacy (ফার্মেসি)
হাসপাতালের ভেতরেই বড় ফার্মেসি আছে।
প্রেসক্রিপশন জমা দিলেই সঙ্গে সঙ্গেই ওষুধ পাওয়া যায়। তবে বাইরে থেকে কিনলে সাধারণত ২০% পর্যন্ত ডিসকাউন্ট মেলে।
তাই, সাধারণ ও সহজলভ্য ওষুধ বাইরে থেকে কেনা সাশ্রয়ী। কিন্তু জরুরি বা কমন না এমন ওষুধ হাসপাতালের ফার্মেসি থেকেই নেওয়া ভালো।
৬| Admission (ভর্তি হওয়া)
ডাক্তার ভর্তি হতে বললে রেজিস্ট্রেশন ফাইল নিয়ে অ্যাডমিশন কাউন্টারে যেতে হয়।
কক্ষের ধরন (জেনারেল, শেয়ার্ড, প্রাইভেট, ডিলাক্স) অনুযায়ী অগ্রিম টাকা জমা দিতে হয়।
ভর্তি হলে খাবার, নার্সিং, চিকিৎসা—সবই হাসপাতাল সরবরাহ করে।
প্রতিটি কক্ষই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক।
তবে সাধারণত ডাক্তাররা রোগীকে আউটডোর চিকিৎসাতেই রাখেন, ভর্তি করার প্রয়োজনীয়তা না থাকলে।
সবশেষে একটা কথা—যদি কয়েকজন ভালো ডাক্তার সম্বন্ধে জানতে চান, তাহলে কমেন্টে জানাতে পারেন। আমি আমার অভিজ্ঞতা থেকে কিছু নাম সাজেস্ট করব—যা আপনার অনেক কাজে আসবে।
আপনাদের সুবিধার্থে কিছু টেস্ট এর খরচ লিখে দিলাম:
নতুন এআইজি ক্ষেত্রে:
সনোগ্রাপী : ১২০০ টাকা
এন্ডোস্কোপি: ২৮০০ টাকা
কোলোনস্কোপি : ৩৫০০ টাকা
সিটি স্ক্যান/ MRI : ৯০০০-১২০০০ টাকা
অবশ্য মনে রাখবেন, পুরোনো এআইজি শাখায় অনেক কম টাকায় এই টেস্ট করা যায়।(কলমে তাজ উদ্দিন)