Dr. Rajib Bhattacharjee, Cancer Specialist, MD, ECMO

Dr. Rajib Bhattacharjee, Cancer Specialist, MD, ECMO I am a medical oncologist. Oncology, however, remains its core focus.

This page started with the aim of spreading cancer awareness, and gradually became a platform to discuss health issues important to the common public.

কেমোথেরাপি দিতে গিয়ে আমরা একটা জিনিস প্রায়ই দেখি—রক্ত কমে যাওয়া, মানে অ্যানিমিয়া। বাইরে থেকে ছোট ব্যাপার মনে হলেও, রোগীর...
26/04/2026

কেমোথেরাপি দিতে গিয়ে আমরা একটা জিনিস প্রায়ই দেখি—রক্ত কমে যাওয়া, মানে অ্যানিমিয়া। বাইরে থেকে ছোট ব্যাপার মনে হলেও, রোগীর ওপর এর প্রভাব অনেক।

অনেক রোগী বলেন—
“আগের মতো হাঁটতে পারছি না, একটু কাজ করলেই হাঁপিয়ে যাচ্ছি, সবসময় ক্লান্ত লাগছে।”
এই ক্লান্তিটা অনেক সময় শুধু রোগের জন্য নয়, রক্ত কমে যাওয়ার জন্যও হতে পারে।

কেমোথেরাপি শরীরের রক্ত তৈরির প্রক্রিয়াকেও একটু চাপ দেয়। ফলে ধীরে ধীরে হিমোগ্লোবিন কমে যেতে পারে।
দুদিন আগে এই বিষয়টা নিয়েই আমরা কয়েকজন সহকর্মী মিলে আলোচনা করছিলাম—কীভাবে এই সমস্যাটাকে আরও ভালোভাবে সামলানো যায়।

সবচেয়ে পরিচিত উপায় হলো রক্ত দেওয়া (ব্লাড ট্রান্সফিউশন)। যখন খুব কমে যায়, তখন এটা দ্রুত আরাম দেয়। কিন্তু বারবার রক্ত দেওয়া সবসময় ভালো না।

কেন?
কারণ একটা বিষয় আছে—ট্রান্সফিউশন ইনডিউসড ইমিউনোমডুলেশন।
সহজ করে বললে, বাইরে থেকে রক্ত দিলে শরীরের নিজের ইমিউন সিস্টেম একটু “শান্ত” হয়ে যেতে পারে।
এখন যদি রোগী ইমিউনোথেরাপি নিচ্ছেন, তখন তো আমরা চাই শরীরের ইমিউন সিস্টেমটা বেশি সক্রিয় থাকুক, যাতে ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়তে পারে।

এই জায়গায় বারবার ট্রান্সফিউশন দিলে সেই ইমিউন প্রতিক্রিয়াটা কিছুটা কমে যেতে পারে—ফলে ইমিউনোথেরাপির কার্যকারিতাও কমে যেতে পারে।

তাই এখন আমরা শুধু ট্রান্সফিউশন-এর ওপর নির্ভর না করে অন্য দিকগুলোও দেখি।

যদি আয়রনের ঘাটতি থাকে, তাহলে আয়রন ইনফিউশন দিয়ে শরীরকে নিজে রক্ত তৈরি করতে সাহায্য করা যায়।

কিছু ক্ষেত্রে গ্রোথ ফ্যাক্টর (যেমন ডার্বাপোয়েটিন) ব্যবহার করা যায়, যা শরীরকে রক্ত বানাতে উৎসাহ দেয়।

তবে মনে রাখতে হবে—সব রোগীর জন্য এক নিয়ম নয়। কার ক্ষেত্রে কী উপযুক্ত, সেটা রোগীর অবস্থা দেখে ঠিক করতে হয়।

শেষ কথা—কেমোথেরাপির সময় অ্যানিমিয়া হওয়া বেশ কমন, কিন্তু সেটা ঠিকভাবে সামলানো খুব জরুরি।

আমাদের লক্ষ্য শুধু হিমোগ্লোবিন বাড়ানো নয়—সঠিকভাবে, বুদ্ধিমানের মতো, এমনভাবে চিকিৎসা করা যাতে রোগীর ভালোও থাকে, আর মূল চিকিৎসাটাও ভালোভাবে কাজ করে।

গতকাল ক্যান্সার সহায়ের ডাঃ রাকেশ রায়ের আমন্ত্রণে একটা খুব সুন্দর আলোচনা-ডিবেটে অংশ নেওয়ার সুযোগ হয়েছিল। আমার বিপরীতে ছিল...
25/04/2026

গতকাল ক্যান্সার সহায়ের ডাঃ রাকেশ রায়ের আমন্ত্রণে একটা খুব সুন্দর আলোচনা-ডিবেটে অংশ নেওয়ার সুযোগ হয়েছিল। আমার বিপরীতে ছিলেন আমার খুব কাছের বন্ধু—ডাঃ দেবপ্রিয় মন্ডল, যিনি নিজেও একজন খ্যাতনামা মেডিক্যাল অনকোলজিস্ট। বিষয়টা ছিল—সলিড টিউমারে লো ডোজ ইমিউনোথেরাপি দেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত।

আমি লো ডোজের পক্ষে, আর দেবপ্রিয় বলছিল—“না, স্ট্যান্ডার্ড ডোজ-ই ঠিক।” তর্কটা ছিল, কিন্তু একেবারে বন্ধুত্বপূর্ণ। আমি বরং ওকে একটু খোঁচা দেওয়ার চেষ্টা করছিলাম, বন্ধুবান্ধবদের মধ্যে যেমন হয়ে থাকে আর কি। মাঝে মাঝে মনে হচ্ছিল আমরা যেন কনফারেন্স হলে না, বরং চায়ের দোকানে বসে আড্ডা মারছি—শুধু চারপাশে এক গাদা লোক আমাদের তর্কটা শুনছে আর উপভোগ করছে!

এবার আসি আসল কথায়।

ইমিউনোথেরাপি কী করে? খুব সহজভাবে বললে—এটা আমাদের শরীরের নিজের প্রতিরোধ ক্ষমতাকে (ইমিউন সিস্টেম) ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়তে সাহায্য করে। অনেক ক্যান্সার কোষ একটা “ছদ্মবেশ” পরে থাকে, যাতে শরীর তাকে চিনতে না পারে। ইমিউনোথেরাপি সেই ছদ্মবেশ খুলে দেয়।

এখন প্রশ্ন—এই কাজটা করতে কত ডোজ দরকার?

কেমোথেরাপিতে আমরা সাধারণত বেশি ডোজ দিয়ে ক্যান্সার কোষ মারার চেষ্টা করি। কিন্তু ইমিউনোথেরাপিতে বিষয়টা একটু আলাদা। এখানে লক্ষ্য হলো শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে “অন” করা।

গবেষণায় দেখা গেছে—PDL1 এবং PD-1 নামে যে রিসেপ্টরটাকে টার্গেট করা হয়, সেটা অনেক কম ডোজেই প্রায় পুরোপুরি স্যাচুরেট হয়ে যায়। মানে, খুব বেশি ডোজ না দিলেও ওষুধ তার কাজ শুরু করে দিতে পারে। এখান থেকেই লো ডোজ ইমিউনোথেরাপির ধারণা এসেছে।

এই বিষয়ে ডাঃ বিজয় পাতিল এবং তাঁর সহকর্মীদের কাজ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। মুখ ও গলার ক্যান্সারে ওনারা দেখিয়েছেন যে কম ডোজের ইমিউনোথেরাপি ব্যবহার করেও অনেক ক্ষেত্রে ভালো রেসপন্স পাওয়া যেতে পারে—বিশেষ করে আমাদের দেশের মতো জায়গায়, যেখানে খরচ একটা বড় বাধা।

আর একটা জায়গায় আমরা খুব ভালো ফল দেখেছি—হজকিন্স লিম্ফোমা। এই রোগে ইমিউনোথেরাপি কম ডোজেও দারুণ কাজ করতে পারে—এটা আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় যে কম ডোজ সবসময় খারাপ হবে, তা নয়।

তাহলে লো ডোজের সুবিধা কী?

প্রথমত—খরচ অনেক কমে যায়। এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আমাদের দেশে অনেক রোগী আছেন যারা স্ট্যান্ডার্ড ডোজ অ্যাফোর্ড করতে পারেন না।

দ্বিতীয়ত—যারা পুরো ডোজ নিতে পারছেন না, তাদের জন্য একটা বাস্তবসম্মত বিকল্প তৈরি হয়। “না নেওয়ার থেকে কিছু নেওয়া”—এই জায়গাটা অনেক সময় খুব গুরুত্বপূর্ণ। নাই মামার থেকে কানা মামা ভালো।

তৃতীয়ত—কিছু ছোট স্টাডি এবং বাস্তব অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে যে রেসপন্স একেবারে খারাপও না।

কিন্তু সমস্যা কোথায়?

সবচেয়ে বড় সমস্যা—স্ট্রং এভিডেন্স-এর অভাব।

মানে, বড় র‌্যান্ডোমাইজড ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল নেই যেগুলো নিশ্চিতভাবে বলবে যে লো ডোজ আর স্ট্যান্ডার্ড ডোজ সমান কার্যকর।

আরেকটা বিষয় হলো—সব রোগী একরকম না। কার শরীরে কম ডোজে কাজ হবে, কার ক্ষেত্রে বেশি ডোজ দরকার—এইটা আগে থেকে নিশ্চিত করে বলা কঠিন।

তাই একটা অনিশ্চয়তা থেকেই যায়।

কিন্তু দুঃখের হলেও সত্যি—আমাদের দেশে এখনও অনেক রোগী আছেন, যাদের কাছে ইমিউনোথেরাপি একেবারেই নাগালের বাইরে—শুধু খরচের জন্য। সেখানে লো ডোজ অনেক সময় একটা কম্প্রোমাইজ, কিন্তু অনেক সময় সেটাই একমাত্র পথ।

তাই আমার ব্যক্তিগত মতামত—যেখানে স্ট্যান্ডার্ড ডোজ দেওয়া সম্ভব, সেখানে সেটাই দেওয়া উচিত।

কিন্তু যেখানে সেটা সম্ভব না, সেখানে লো ডোজ ইমিউনোথেরাপি একটি যুক্তিযুক্ত বিকল্প হতে পারে, অবশ্যই রোগীকে সবটা বুঝিয়ে নিয়ে।

শেষে একটা কথা বলি—মেডিসিন শুধু বইয়ের নিয়মে চলে না, বাস্তবের সাথেও তাল মিলিয়ে চলতে হয়।

লো ডোজ ইমিউনোথেরাপি—এটা একটা আশাজাগানো ধারণা, এর পেছনে বৈজ্ঞানিক যুক্তি আছে, কিছু ভালো অভিজ্ঞতাও আছে। কিন্তু এখনও অনেক প্রশ্নের উত্তর বাকি।

আর ডিবেটের শেষে? আমরা দুই বন্ধু একসাথে ডিনার করলাম, বাকি আরও বন্ধু ও সহকর্মীদের সাথে।

কারণ তর্ক যতই হোক—বন্ধুত্বটা কিন্তু লো ডোজ না, সবসময়ই ফুল ডোজ-এ থাকা উচিত।

কেন আমি পিয়ারলেসের বিজ্ঞাপন করি? আমার কৈফিয়ত !গতকাল আমি পিয়ারলেস হাসপাতালের নতুন ক্যান্সার হাব নিয়ে পোস্ট করেছিলাম। ত...
23/04/2026

কেন আমি পিয়ারলেসের বিজ্ঞাপন করি? আমার কৈফিয়ত !

গতকাল আমি পিয়ারলেস হাসপাতালের নতুন ক্যান্সার হাব নিয়ে পোস্ট করেছিলাম। তাতে আমার এক বন্ধু ইংরেজিতে কমেন্ট করেছেন, “আপনি তো দেখছি এই প্ল্যাটফর্মে নিজের অ্যাড দিচ্ছেন। কোথায়, টাটা ক্যান্সার হাসপাতালের ডাক্তারদের তো অ্যাড দিতে হয় না?”

সত্যি তো! টাটার ডাক্তাররা তো কোনো বিজ্ঞাপন করেন না। তাহলে আমরা কেন করছি? এটা একদম সঙ্গত প্রশ্ন। আমরা যদি ভালো কাজ করি, তাহলে আলাদা করে বিজ্ঞাপন কেন দিতে হবে?

গুরুতর অভিযোগ—এই রইলো আমার স্বীকারোক্তি। এবার আপনারাই বিচার করবেন যে আমি ঠিক না ভুল।

টাটা ক্যান্সার হাসপাতাল শুরু হয়েছিল ২০১১ সালে। তখন আর কোনো ভালো ক্যান্সার হাসপাতাল ছিল না। বম্বের টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতাল একটি গভর্নমেন্ট হাসপাতাল। অনেকেই কলকাতার টাটাকে বম্বে টাটার ব্রাঞ্চ ভাবতে শুরু করেন। নাম দুটোও প্রায় এক—বম্বেতে Tata Memorial Centre (TMC), আর কলকাতায় Tata Medical Centre (TMC)। আমার নিজেরই মাঝে মাঝে গুলিয়ে যেত।

আসলে বম্বে টাটা আর কলকাতা টাটা এক নয়। কলকাতার টাটা সম্পূর্ণ একটি প্রাইভেট হাসপাতাল, টাটা ট্রাস্ট এটি চালায়। চিকিৎসার খরচও প্রাইভেট হাসপাতালের মতোই। কিন্তু মানুষের মধ্যে একটা ধারণা তৈরি হয়েছিল যে এটা বুঝি গভর্নমেন্ট হাসপাতাল। ফলে কলকাতা টাটায় রোগীর ভিড় বাড়তেই থাকে। টাটার নামের ব্র্যান্ড ভ্যালু এত বেশি যে তাদের আলাদা করে বিজ্ঞাপন দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। তার উপর তখন কলকাতায় বিশ্বমানের ক্যান্সার হাসপাতালও খুব একটা ছিল না।

কঠোর পরিশ্রম, দক্ষ ম্যানেজমেন্ট, ভালো ডাক্তার ও স্টাফ—সব মিলিয়ে কলকাতা টাটা পূর্ব ভারতের এক নম্বর ক্যান্সার হাসপাতাল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। আজও সেখানে রোগীর ভিড় এত বেশি যে দু’সপ্তাহ পর না করে অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়াও কঠিন। তারা বিজ্ঞাপন দিতে যাবে কোন দুঃখে?

এবার আসি আমার কথায়। আমি মেডিক্যাল অনকোলজিতে DrNB (সুপারস্পেশালাইজেশন) করে এখন পিয়ারলেস হাসপাতালে কনসালট্যান্ট হিসেবে কাজ করছি। একেবারে অজ্ঞাতকুলশীল বললে ভুল হবে না। ক’জনই বা জানেন রাজীব ভট্টাচার্যকে? রোগীরা আমার কাছে আসবেন কেন? আর আমার ঢাকটা আমি নিজে ছাড়া আর কে-ই বা পেটাবে বলুন?

এখন আমি কেমন ডাক্তার, ঠিকঠাক রোগীর চিকিৎসা করি কিনা—সেটা আমি নিজে কী করে বলবো? সেটা আপনারাই বলতে পারবেন।

পিয়ারলেস হাসপাতালের ক্যান্সার ইউনিট সম্পর্কে এখনও অনেকেই জানেন না। বিশাল একটা নতুন বিল্ডিং হয়েছে, অত্যাধুনিক পরিকাঠামো এসেছে। কিন্তু তার থেকেও বড় কথা—এখানে একটা ভালো সিস্টেম তৈরি করার চেষ্টা চলছে, অনেকটা টাটার ধাঁচেই।

আমাদের ডিরেক্টর ডাঃ ভি. আর. রমনন—যিনি কলকাতা টাটা গড়ে তোলার সময় প্রথম থেকেই যুক্ত ছিলেন, তিনি পিয়ারলেসকেও সেই একই মডেলে গড়ে তুলতে চান।

পিয়ারলেসের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তার integrity এবং ethics। এখানে রোগীই সবার আগে। সত্যি বলছি, এখানে কাজ করার পরিবেশ অসাধারণ। আমরা সবসময় চেষ্টা করি রোগীরা যেন সেরা চিকিৎসা পান। আর এখানে ডাক্তার এবং স্টাফদের মধ্যে বোঝাপড়া খুব ভালো। কাজ করতে ভালো লাগে।

পিয়ারলেসের একটা দিক হলো—তারা মার্কেটিংয়ে খুব আগ্রহী নয়। বলুন তো, কতগুলো ব্যানার বা হোর্ডিং দেখেছেন পিয়ারলেসের? তাদের বিশ্বাস—ভালো কাজ করলে রোগী নিজে থেকেই আসবে।

আমি নিজেও সেই কথায় বিশ্বাস করি।

কিন্তু যদি রোগীরা জানতেই না পারেন যে এখানে ভালো চিকিৎসা হচ্ছে, তাহলে তারা আসবেন কীভাবে?

ফাঁকা OPD-তে আমি যদি গলায় আমার উচ্চশিক্ষার ডিগ্রি ঝুলিয়ে, একটা জ্ঞানের ডিপো হয়ে বসে থাকি, তাতে কি কোনো লাভ আছে? যে জ্ঞান মানুষের কাজে আসে না, তা সম্পূর্ণ অর্থহীন বলে আমার মনে হয়।

তাই এই পেজে মাঝে মাঝে “বিজ্ঞাপন” দেখবেন।

আর হ্যাঁ—এই লেখাগুলো কিন্তু কোনো অ্যাড এজেন্সি বানায় না। আমি নিজে সময় দিয়ে লিখি। এর সঙ্গে আমার পরিশ্রম আর ভালোবাসা জড়িয়ে আছে।

আশা করি, আপনাদেরও ভালো লাগবে।

22/04/2026

গিলতে কষ্ট? অবহেলা নয়, পরীক্ষা করুন

খাদ্যনালীর ক্যান্সার অনেক সময় চুপচাপ বাড়তে থাকে। শুরুতে তেমন কোনো সমস্যা বোঝা যায় না, পরে ধীরে ধীরে লক্ষণ দেখা দেয়—যেমন গিলতে কষ্ট হওয়া, হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া, বা গলায় অস্বস্তি লেগে থাকা।

কিন্তু এখানে গুরুত্বপূর্ণ কথা হল—এর অনেকটাই আমাদের নিয়ন্ত্রণে। তামাক ব্যবহার, অ্যালকোহল, আর অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস—এইগুলোই প্রধান ঝুঁকির কারণ, এবং এর বেশিরভাগই এড়ানো সম্ভব। তাই একটু সচেতন হোন—তামাককে না বলুন, অ্যালকোহল সীমিত করুন, আর প্রতিদিনের খাবারে বেশি করে ফল ও শাকসবজি রাখুন।

সবচেয়ে জরুরি—নিজের শরীরের কথা শুনুন। শরীরে কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন লাগলে অবহেলা করবেন না। যত তাড়াতাড়ি খেয়াল করবেন, তত বেশি বাঁচার সম্ভাবনা বাড়বে। নিজের স্বাভাবিক অবস্থাটা চিনুন, সেটার উপর ভরসা রাখুন, আর প্রয়োজনে দেরি না করে পরীক্ষা করান।

22/04/2026

কি? দেখে মনে হচ্ছে এটা একটা রোবট? ঠিকই ধরেছেন। এটা একটা রেডিওথেরাপি দেওয়ার রোবট। এর নাম Varian TrueBeam। তবে এটা কোনো কল্পবিজ্ঞান নয়। পিয়ারলেস হাসপাতালে এই মেশিন বসে গেছে। এখন শুধু রোগীর চিকিৎসা শুরু করার অপেক্ষা। পিয়ারলেস হাসপাতালের নতুন সংযোজন — Varian TrueBeam।

নামটা একটু জটিল শোনালেও কাজটা খুব সহজ করে বলি। ধরুন, অন্ধকারে একটা ছোট্ট জায়গায় টর্চের আলো ফেলতে হবে। যদি আলো ছড়িয়ে যায়, তাহলে আশেপাশের ভালো জায়গাগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কিন্তু যদি ঠিক ওই টার্গেটটাতেই আলো ফেলা যায়—তাহলেই তো আসল কাজটা ঠিকঠাক হবে।

TrueBeam ঠিক সেটাই করে।
খুব নিখুঁতভাবে শুধু ক্যান্সারের জায়গায় রেডিয়েশন দেয়, আশেপাশের সুস্থ টিস্যুকে যতটা সম্ভব বাঁচিয়ে রাখে।

আর একটা মজার ব্যাপার—
এই মেশিনটা রোগীর শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথেও তাল মিলিয়ে কাজ করতে পারে। মানে ফুসফুস বা লিভারের মতো জায়গায়, যেখানে টার্গেট একটু নড়ে, সেখানেও খুব নির্ভুলভাবে রেডিয়েশন দেওয়া যায়।

চিকিৎসার সময়ও কম লাগে, রোগীর কষ্টও কম হয়।

পিয়ারলেস হাসপাতালে এখন এমন একটা প্রযুক্তি আছে, যেখানে কম ক্ষতি, বেশি নির্ভুলতা, আর রোগীর জন্য বেশি আরাম—এই তিনটাকে একসাথে রাখা যায়।

তবে মেশিন যতই আধুনিক হোক না কেনো, তার সাথে যদি যত্ন আর মানবিকতা না থাকে, তাহলে চিকিৎসা সম্পূর্ণ হয় না।
সেই জায়গাটা আমরা আগেও রেখেছি, এখনও রাখার চেষ্টা করছি।

আজ পিয়ারলেস হাসপাতালে একটা বিশেষ দিন ছিল।SRIOS — Dr. S. K. Roy Institute of Oncology Services-এর উদ্বোধন হল। নতুন এই এক...
21/04/2026

আজ পিয়ারলেস হাসপাতালে একটা বিশেষ দিন ছিল।
SRIOS — Dr. S. K. Roy Institute of Oncology Services-এর উদ্বোধন হল। নতুন এই এক্সটেনশনের দরজা খুলল, কিন্তু আমাদের মূল দর্শনটা একটুও বদলায়নি—মানবিকতা আর নৈতিকতার উপর ভর করে চিকিৎসা।

নতুন পরিকাঠামো নিঃসন্দেহে অত্যাধুনিক।
Varian TrueBeam-এর মতো স্টেট-অফ-দ্য-আর্ট রেডিয়েশন মেশিন, আধুনিক ব্র্যাকি থেরাপি ইউনিট, সর্বশেষ PET-CT—সবই এখন এক ছাদের নিচে। খুব শীঘ্রই রোবোটিক সার্জারি-ও শুরু হতে চলেছে SRIOS-এ।

কিন্তু একটা কথা আমরা জোর দিয়ে বলতে চাই—
আমরা শুধু “ওয়ার্ল্ড ক্লাস ইনফ্রাস্ট্রাকচার” নিয়ে গর্ব করতে চাই না।
কারণ কংক্রিট আর রোবট কখনও রোগীকে সুস্থ করে না।

যা সত্যিই রোগীকে সুস্থ করে, সেটা হলো—
একটা ভরসার হাত,
একটু সহানুভূতি,
আর সৎ, নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা।

পিয়ারলেস সবসময় সেই জায়গাটাই হয়ে থাকতে চেয়েছে—যেখানে ডাক্তার আর স্টাফরা শুধু চিকিৎসা করেন না, মানুষের পাশে দাঁড়ান।

SRIOS-এ আমরা শুধু আধুনিক যন্ত্রপাতি আনিনি,
আমরা সেই একই মানবিক পরিষেবাকেই আরও বড় করে তুলতে চাই।

এক কথায়—
এখানে শুধু world class logistics নয়, world class human service-ই হবে মূল কেন্দ্রবিন্দু।

SRIOS হয়তো নতুন রূপ পেয়েছে,
কিন্তু তার ভেতরে যে হৃদস্পন্দন—
সেটা এখনও সেই পুরোনো পিয়ারলেস হাসপাতালেরই,
যেখানে সবকিছুর আগে থাকে—রোগীর ভালো হওয়া, ভালো থাকা।

“ডাক্তারবাবু, অ্যানুয়াল প্রিভেন্টিভ হেলথ চেকআপে ক্যান্সার ডিটেকশনের জন্য কী কী টেস্ট করা উচিত? প্রতি বছর ‘ফুল বডি চেকআপ’...
21/04/2026

“ডাক্তারবাবু, অ্যানুয়াল প্রিভেন্টিভ হেলথ চেকআপে ক্যান্সার ডিটেকশনের জন্য কী কী টেস্ট করা উচিত? প্রতি বছর ‘ফুল বডি চেকআপ’ করালেই কি ক্যান্সার ধরা পড়ে?”—আমার আগের পোস্টে প্রত্যয় ভট্টাচার্য বাবু এই প্রশ্নটা করেছিলেন।

অনেকেই আমাকে এই প্রশ্নটা করেন। আমি তখন উল্টে একটা প্রশ্ন করি—“আপনি কি সব তালার জন্য একই চাবি ব্যবহার করেন?”

ক্যান্সারের ক্ষেত্রেও ঠিক তাই। সব ক্যান্সার একরকম না, তাই সবার জন্য একই টেস্টও নয়।

অনেক হাসপাতালে “ক্যান্সার হেলথ চেকআপ” নামে অনেক প্যাকেজ থাকে, যার অধিকাংশ টেস্টের খুব একটা প্রয়োজন হয় না। তাহলে কোন কোন টেস্ট সত্যিই কাজে লাগে? আসুন জেনে নিই।

প্রথমেই একটা ভুল ভাঙি। অনেকে ভাবেন—PET-CT করালেই যেন সব ক্যান্সার ধরা পড়ে যাবে, বা টিউমার মার্কার করলেই নিশ্চিন্ত। বাস্তবে এগুলো রুটিন স্ক্রিনিং টেস্ট না। অযথা করলে অনেক সময় এমন কিছু রিপোর্ট আসে যা আসলে ক্যান্সার না, কিন্তু ভয় বাড়িয়ে দেয়, আবার অপ্রয়োজনীয় টেস্টও বাড়ায়।

তাহলে কী করবো?

আমরা খুঁজি সেই ক্যান্সারগুলো, যেগুলো আগে ধরা পড়লে সত্যিই লাভ হয়।

ধরুন একজন ৪৫ বছরের মহিলা আমার কাছে এলেন। আমি বলি—“আপনি কি কখনো ম্যামোগ্রাফি করিয়েছেন?”
কারণ এই বয়সে ব্রেস্ট ক্যান্সার আগেভাগে ধরা পড়লে চিকিৎসা অনেক সহজ হয়, অনেক সময় পুরোপুরি ভালো হয়ে যায়। স্ক্রিনিং মানেই হচ্ছে একেবারে প্রাথমিক স্টেজে ক্যান্সার ধরা, যাতে সেটা সম্পূর্ণ নির্মূল করা যায়।

আবার একজন মহিলাকে হয়তো জিজ্ঞেস করি—“প্যাপ স্মিয়ার করেছেন?”
কারণ সার্ভিকাল ক্যান্সার এমন একটা রোগ, যা ক্যান্সার হওয়ার আগেই ধরা যায়। ঠিক সময় পরীক্ষা করলে আমরা ক্যান্সার হতেই দিই না।

৫০ বছর পার হলে আমি দেখি পায়খানার সঙ্গে রক্ত আসছে কিনা—মানে কোলন ক্যান্সারের জন্য স্টুল টেস্ট বা প্রয়োজন হলে কোলোনোস্কোপি। অনেক সময় ছোট পলিপ ধরা পড়ে, যেগুলো সরিয়ে দিলে ভবিষ্যতের কোলনের ক্যান্সার আটকানো যায়।

যদি কেউ অনেক বছর ধূমপান করে থাকেন, সেক্ষেত্রে লো ডোজ CT স্ক্যান কাজে লাগে। যদিও কলকাতায় খুব কম জায়গাতেই লো ডোজ CT স্ক্যানের ব্যবস্থা আছে। আর সাধারণ CT স্ক্যান দিয়ে স্ক্রিনিং করা ঠিক নয়। ইচ্ছে হলো, নিজে গিয়ে একটা CT স্ক্যান করিয়ে নিলাম—এটা না করাই ভালো। এতে উল্টো ক্ষতি হতে পারে।

পুরুষদের ক্ষেত্রে মাঝে মাঝে PSA নিয়ে প্রশ্ন আসে।
আমি বলি—“এটা করা যায়, কিন্তু সবার জন্য না। আগে আলোচনা করি, তারপর সিদ্ধান্ত নিই।” PSA-র আরেকটা নাম কিন্তু “Prostate Specific Anxiety”—জানেন তো?

আর একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ কথা—অনেক সময় রোগী বলেন, “সব রিপোর্ট তো নরমাল, তাহলে আমি নিশ্চিন্ত?”
আমি বলি—“রিপোর্ট ভালো মানেই সব শেষ না। শরীর কী বলছে সেটাও শুনতে হবে।”
অকারণে ওজন কমে যাওয়া, দীর্ঘদিন কাশি, অস্বাভাবিক রক্তপাত, শরীরে নতুন গাঁট—এসব হলে কোনো টেস্টের জন্য অপেক্ষা না করে সরাসরি ডাক্তারের কাছে যেতে হবে।

শেষে একটা কথা বলি—“যত বেশি টেস্ট, তত বেশি সেফ”—এটা ঠিক না।
বরং “সঠিক মানুষে, সঠিক বয়সে, সঠিক টেস্ট”—এইটাই আসল। আর একজন ভালো ডাক্তার আপনাকে শুধুমাত্র সেই টেস্টই দেবেন, যেটা আপনার সত্যিই কাজে লাগবে।

কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে যখন এমবিবিএস করছিলাম, তখন আমাদের এক বন্ধু ছিল ভীষণ উৎসাহী। সব কাজেই প্রয়োজনের থেকে বেশি উৎসাহ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ত—অনেক সময় অর্ধেক কথা না শুনেই। এতে লাভের থেকে ক্ষতিই বেশি হতো। ওর এই স্বভাবের জন্য আমরা ওকে ডাকতাম “এন্থু সোনা” বলে।

নিজে থেকে হাসপাতালে গিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে স্ক্রিনিং নয়—আগে ডাক্তারকে দেখান, তারপর সিদ্ধান্ত নিন। নিজের শরীর সম্পর্কে সচেতন হন, জানুন, পড়ুন, শিখুন—কিন্তু “এন্থু সোনা” হবেন না। তাতে বিভ্রাট বাড়বে বই কমবে না।

গতকাল একটা সুন্দর অভিজ্ঞতা হলো।ডাঃ জয়দীপ ঘোষের আমন্ত্রণে মেটাস্ট্যাটিক লাং ক্যান্সারে ইমিউনোথেরাপি নিয়ে কথা বলতে গেছিলাম...
19/04/2026

গতকাল একটা সুন্দর অভিজ্ঞতা হলো।

ডাঃ জয়দীপ ঘোষের আমন্ত্রণে মেটাস্ট্যাটিক লাং ক্যান্সারে ইমিউনোথেরাপি নিয়ে কথা বলতে গেছিলাম। হল ভরা ছিল অনেক নামী-দামী অনকোলজিস্টে। আমার কাজ ছিল শুধু একটা লেকচার দেওয়া।

মাইকে দাঁড়িয়ে হঠাৎ মনে হলো—“শুধু আমি বলেই গেলে লাভ কী? একটু কথা বলা যাক না! না হলে শুধু আমিই বকে যাবো আর সবাই চুপ করে শুনবে, ব্যাপারটা অত্যন্ত বোরিং হয়ে যাবে।”

তাই লেকচার না দিয়ে আলোচনা শুরু করলাম। বেশিরভাগ সময় আমিই প্রশ্ন করলাম, ওনাদেরও বলার সুযোগ দিলাম। ডাঃ মধুচ্ছন্দা কর মিটিংয়ের চেয়ারপারসন ছিলেন। ডাঃ বিভাস বিশ্বাস লাং ক্যান্সারের একজন অথরিটি, তাঁর কাছ থেকে আমি এখনও শিখি। ডিসকাশনের এই সুযোগ ছাড়ি কী করে? শেষে দেখি—এই ফরম্যাটটাই সবাই বেশি উপভোগ করলেন।

আমি প্রথমেই জিজ্ঞেস করলাম—“লাং ক্যান্সার নিয়ে আমাদের ভয়টা এত বেশি কেন?”
উত্তরটা আমরা সবাই জানি—ভারতে এটা খুব কমন, আর খুব মারাত্মকও। কিছু বছর আগেও স্টেজ ৪ মানেই প্রায় শেষ কথা। একটা ডেথ ওয়ারেন্ট!

কিন্তু এখন?
এখন আমরা দেখছি—অনেক রোগী, প্রায় এক-তৃতীয়াংশ, ৫ বছর বা তার বেশি সময় বেঁচে থাকছেন। ভাবতে পারছেন, কয়েক বছর আগেও যে রোগে আমরা বলতাম ৬ মাস থেকে ১ বছর আয়ু, সেখানেই এইরকম একটা বৈপ্লবিক পরিবর্তন! একে নিঃশব্দ বিপ্লব ছাড়া অন্য কিছু বলা যায় কি?

কিন্তু প্রশ্ন হলো—“এই বদলের পেছনে কে?”
অন্যান্য অনেক কারণের সাথে একটা বড় উত্তর হলো—ইমিউনোথেরাপি।

এরপর PD-L1 নিয়ে কথা হলো। আমি একটু সহজ করে বললাম—
“ক্যান্সার কোষ অনেক সময় মুখোশ পরে থাকে, যাতে শরীর তাকে চিনতে না পারে। PD-L1 সেই মুখোশ।”

তখন প্রশ্ন এল—“তাহলে ওষুধ কী করে?”
আমি বললাম—“মুখোশ খুলে দেয়। তারপর শরীর নিজেই কাজটা করে নেয়।” PD-L1 পরীক্ষা করা হয় বায়োপসির ওপর। যদি এটা বেশি হয়, তাহলে ইমিউনোথেরাপির কাজ করার সম্ভাবনা বেশি।

এই জায়গায় আমরা বিশেষ করে Pembrolizumab নিয়ে আলোচনা করলাম। তবে শুধু এটুকুই না—Nivolumab, Atezolizumab, Durvalumab—এসব নিয়েও কথা হলো।

শেষে আমি একটা কথাই বললাম—
“একই চিকিৎসা সবার জন্য না। আগে বুঝতে হবে—রোগটা কেমন, শরীর কী বলছে, তারপর চিকিৎসা। কোথাও শুধু ইমিউনোথেরাপির সাথে কেমো দিতে হবে, কোথাও আবার শুধু ইমিউনোথেরাপিই যথেষ্ট। আমরা মেডিক্যাল অনকোলজিস্টরা সব দিক ভেবে তারপরই চিকিৎসা ঠিক করি।”

সেশন শেষ হওয়ার পর মনে হলো—আজকে শুধু লেকচার হয়নি, সত্যিই একটা আলোচনা হলো। একজনের একটানা বকবকানি, সে যতই ভালো হোক না কেন, তার তুলনায় এটা অনেক বেশি উপকারী।

আর সবচেয়ে ভালো লাগার কথা—
আজকের দিনে লাং ক্যান্সার মানেই আর শেষ নয়।
লড়াইটা কঠিন ঠিকই, কিন্তু এখন আর অন্ধকার না—আশার আলো বেশ স্পষ্ট।

কেমো নয়, স্মার্ট লড়াই—ওরাল ক্যান্সারে নতুন গেমচেঞ্জারমুখের ক্যান্সার যখন ছড়িয়ে যায় বা আবার ফিরে আসে, তখন চিকিৎসা একটু কঠ...
18/04/2026

কেমো নয়, স্মার্ট লড়াই—ওরাল ক্যান্সারে নতুন গেমচেঞ্জার

মুখের ক্যান্সার যখন ছড়িয়ে যায় বা আবার ফিরে আসে, তখন চিকিৎসা একটু কঠিন হয়ে পড়ে। সবাই শক্ত কেমোথেরাপি নিতে পারেন না—বিশেষ করে বয়স বেশি হলে বা শরীর দুর্বল থাকলে। এই জায়গায়—মেট্রোনমিক থেরাপি আর লো ডোজ নিভোলুম্যাব ভালো কাজ করতে পারে।

নিভোলুম্যাব হলো ইমিউনোথেরাপি—এটা শরীরের নিজের প্রতিরোধ ক্ষমতাকে জাগিয়ে তোলে, যাতে শরীর নিজেই ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়তে পারে। কিছু ক্ষেত্রে কম ডোজেও ব্যবহার করা যায়, যাতে খরচ কমে এবং শরীরও ভালোভাবে সহ্য করতে পারে। এতে অনেক সময় রোগ বেশ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

এবার আসি মেট্রোনমিক থেরাপিতে। এখানে সাধারণত ব্যবহার হয়—সপ্তাহে একদিন মেথোট্রেক্সেট, প্রতিদিন এরলোটিনিব, আর দিনে দুইবার সেলেকক্সিব নামের এই তিনটে ওষুধ। সবকটাই ট্যাবলেট হিসেবে পাওয়া যায়। তাই মুমূর্ষু রোগীকে হাসপাতালে টেনে আনার দরকার পড়ে না। রোগী বাড়িতে থেকেও চিকিৎসা নিতে পারেন। নিভোলুম্যাব নেওয়ার জন্য মাসে একদিন হাসপাতালে ডে কেয়ারে এলেই চলে।

এই কম ডোজের চিকিৎসা ক্যান্সারের “রক্তের নতুন রাস্তা” (ব্লাড সাপ্লাই) তৈরি হওয়ার প্রক্রিয়াকেও ধীরে ধীরে থামিয়ে দেয়। ফলে ক্যান্সার কোষ ঠিকমতো খাবার পায় না, আর বাড়তেও পারে না।

এই দুই পদ্ধতির সবচেয়ে বড় সুবিধা—
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তুলনামূলক কম, জীবনযাত্রার মান কিছুটা ভালো থাকে। আর দাম সাধ্যের মধ্যে থাকে।

তবে মনে রাখতে হবে—এগুলো সব রোগীর জন্য নয়। রোগীর অবস্থা বুঝে, অনকোলজিস্টের পরামর্শ অনুযায়ীই সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

ওরাল ক্যান্সার যেখানে পুরোপুরি সারানো সম্ভব না, সেখানে লক্ষ্য হয় রোগকে নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং রোগীর জীবনকে যতটা সম্ভব স্বাভাবিক রাখা। এই জায়গাতেই লো ডোজ নিভোলুম্যাব আর মেট্রোনমিক থেরাপি কিছু রোগীর জন্য আশার আলো নিয়ে আসতে পারে।

কোকা কোলা খান, ক্যান্সারকে দূর ভাগান!ডোনাল্ড ট্রাম্প আবার এক নতুন “মেডিক্যাল থিওরি” দিলেন—ডায়েট সোডা নাকি ক্যান্সার মেরে...
17/04/2026

কোকা কোলা খান, ক্যান্সারকে দূর ভাগান!

ডোনাল্ড ট্রাম্প আবার এক নতুন “মেডিক্যাল থিওরি” দিলেন—ডায়েট সোডা নাকি ক্যান্সার মেরে ফেলে। যুক্তিটাও শুনুন—ঘাসে ঢাললে ঘাস মরে যায়, তাই শরীরের ভেতরেও ক্যান্সার সেল মারা উচিত।

ডাঃ মেহমেত ওজ এই কথাটা জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের সাথে এক ইন্টারভিউতে। ডক্টর ওজ একজন কার্ডিওথোরাসিক সার্জন। ট্রাম্পের খুব কাছের লোক।

ওজ বলেন, “তোমার বাবা মনে করেন ডায়েট সোডা তার জন্য ভালো, কারণ এটা ঘাসের ওপর ঢাললে ঘাস মরে যায়—তাই শরীরের ভেতরেও এটা ক্যান্সার সেল মেরে ফেলবে।”

আরও একটা মজার ঘটনা তিনি শেয়ার করেন। “সেদিন আমরা এয়ার ফোর্স ওয়ানে ছিলাম। উনি আমাকে ডেকেছিলেন কথা বলার জন্য। আমি গিয়ে দেখি, টেবিলে একটা কমলা রঙের সফট ড্রিংক—ফ্যান্টা রাখা। আমি বললাম, ‘আপনি সিরিয়াস?’ তখন উনি একটু লজ্জা পেয়ে হেসে বললেন, ‘জানেন তো, এই জিনিসটা আমার জন্য ভালো—এটা ক্যান্সার সেল মেরে ফেলে।’”

এই যুক্তি যদি মানি, তাহলে তো ব্লিচিং পাউডার খেলে পেটের ভেতরের সব জীবাণু একেবারে পরিষ্কার হয়ে যাওয়ার কথা! কিংবা ফেনাইল খেলেই শরীর জীবাণুমুক্ত!—কিন্তু আমরা কেউই এমনটা করার কথা ভাবি না। কারণ আমরা কেউ ট্রাম্পের মতো পাগলা নই, আর আমরা জানি—শরীর কোনো মেঝে না, আর ক্যান্সার কোনো আগাছা না।

আসলে এই পুরো কথাটার মধ্যে একটা বড় ভুল আছে, যেটা কিন্তু আমরাও অনেকেই মাঝে মাঝে বিশ্বাস করে ফেলি—
বাইরে যা কাজ করে, শরীরের ভেতরেও সেটা একইভাবে কাজ করবে—এই ধারণা একেবারেই ভুল।

মানুষের শরীর একটা অত্যন্ত জটিল সিস্টেম। আপনি যা খান, সেটা হজম হয়, ভেঙে যায়, বদলে যায়। ডায়েট সোডা গিয়ে সরাসরি “ক্যান্সার খুঁজে মেরে ফেলবে”—এটা সিনেমার গল্প হতে পারে, বাস্তব না।

আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা—আজ পর্যন্ত কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই যে ডায়েট সোডা ক্যান্সার সারায় বা মারে।
কোনো বড় গবেষণা না, কোনো চিকিৎসা গাইডলাইন না—কোথাও এই কথা নেই।

বরং উল্টো— এই ধরনের পানীয় নিয়মিত খাওয়া খুব ভালো অভ্যাসও না। শরীরের জন্য খুব দরকারি কিছু এতে নেই।

উল্টো দিক থেকে এমন প্রশ্ন তোলা যায়—“ডায়েট” সোডা কি নিরাপদ? এতে কি ক্যান্সার হওয়ার মতো কিছু আছে?

এই প্রশ্নটা খুব স্বাভাবিক। ডায়েট সোডায় সাধারণত চিনি থাকে না, তার বদলে থাকে কৃত্রিম মিষ্টি (যেমন অ্যাসপারটেম, সুক্রালোজ ইত্যাদি)।

এর থেকে কি ক্যান্সারের ঝুঁকি আছে?

এখন পর্যন্ত মানুষের ওপর হওয়া বড় গবেষণাগুলো স্পষ্ট করে দেখাতে পারেনি যে ডায়েট সোডা সরাসরি ক্যান্সার করায়। তবে কিছু উপাদান (যেমন অ্যাসপারটেম) নিয়ে সন্দেহ আছে—ডব্লিউএইচও এটাকে “সম্ভবত ক্যান্সারের সাথে সম্পর্ক থাকতে পারে” বলেছে।

মানে—প্রমাণ খুব জোরালো না, কিন্তু পুরোপুরি নিশ্চিন্তও বলা যাচ্ছে না।

তাহলে কি একেবারে খাওয়া যাবে না?
মাঝেমধ্যে খেলে সাধারণত সমস্যা হয় না। কিন্তু নিয়মিত অভ্যাস করে ফেলাটা ভালো নয়।

কারণ—এটা শরীরের জন্য দরকারি কোনো পুষ্টি দেয় না, মিষ্টির প্রতি আসক্তি বাড়াতে পারে, ওজন ও মেটাবলিজমের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, আর ওজন খুব বেড়ে গেলে দেখা গেছে যে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়।

মানে বাস্তবতার থেকে ট্রাম্পের ধারণা ১৮০ ডিগ্রি উল্টো। ডায়েট কোক খেলে ক্যান্সার কমে তো না বটেই, বরং ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা বাড়তে পারে।

“ডায়েট” মানেই কি হেলদি? এটাই আসল ভুল ধারণা। আসলে এটাও একটা মার্কেটিং গিমিক। “ডায়েট” মানে শুধু কম ক্যালোরি—কিন্তু সেটাই স্বাস্থ্যকর হওয়ার প্রমাণ না। তার মধ্যে ক্ষতিকর জিনিস তো থাকেই।

ক্যান্সারকে ভয় দেখাতে হলে কোকের বোতল না, নিজের লাইফস্টাইল বদলান।
নিয়মিত ব্যায়াম করুন, সুষম খাবার খান, ধূমপান এড়িয়ে চলুন, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন, স্ট্রেস কমান।
এই জিনিসগুলোই সত্যিকারের “অ্যান্টি-ক্যান্সার” অভ্যাস।

বাকি “ঘাস মারা তত্ত্ব”—ওগুলো ট্রাম্পের মতো ভাঁড়ের মুখেই ভালো শোনায়, চিকিৎসায় নয়।

সুদূর কাশ্মীর থেকে এই দিদা আমার কাছে এসেছে ক্যান্সারের চিকিৎসা করার জন্য। দিদার ছেলে এখানে শাল বিক্রি করে। ব্রেস্ট ক্যান...
16/04/2026

সুদূর কাশ্মীর থেকে এই দিদা আমার কাছে এসেছে ক্যান্সারের চিকিৎসা করার জন্য। দিদার ছেলে এখানে শাল বিক্রি করে। ব্রেস্ট ক্যান্সার হয়েছে। বায়োপসিতে এসেছে ট্রিপল নেগেটিভ। প্রথম যেদিন আমার কাছে আসেন, সেদিন প্রচণ্ড ভয়ে ছিলেন। বারবার জিজ্ঞেস করছিলেন, “বাঁচবো তো?”

ট্রিপল নেগেটিভ ব্রেস্ট ক্যান্সার—এটা আবার কী বস্তু?

দেখুন, আমরা যখন ব্রেস্ট ক্যান্সারের বায়োপসি করি, তখন দেখি ক্যান্সার কোষে তিনটা “চিহ্ন” বা তালা আছে কিনা—ইস্ট্রোজেন, প্রোজেস্টেরন আর HER2। এটা জানা যায় ইমিউনোহিস্টোকেমিস্ট্রি বা আইএইচসি নামের একটা পরীক্ষায়। যদি এগুলোর কোনোটা থাকে, তাহলে সেই অনুযায়ী “চাবি” দিয়ে টার্গেট করে চিকিৎসা করা যায়।

কিন্তু ট্রিপল নেগেটিভে এই তিনটার একটাও থাকে না—মানে তিনটে দরজাই আছে, কিন্তু কোনো তালা নেই। তাই নির্দিষ্ট চাবি ব্যবহার করার সুযোগ কম, আর তখন ভরসা করতে হয় কেমোথেরাপির ওপর।

এর ভালো দিক হলো—এই ধরনের ক্যান্সার অনেক সময় কেমোতে ভালো সাড়া দেয়, তাই সময়মতো চিকিৎসা শুরু করলে ভালো ফল পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

আগে এই ধরনের ব্রেস্ট ক্যান্সারে আমরা কী করতাম?
সোজা অপারেশন।

কিন্তু এখন চিকিৎসার ধরন বদলেছে। আমরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আগে কেমোথেরাপি দিই, তারপর অপারেশন করি। একে বলা হয় নিওঅ্যাডজুভ্যান্ট অ্যাপ্রোচ—কিন্তু নামটা মনে রাখার দরকার নেই, ধারণাটা বোঝাই গুরুত্বপূর্ণ।
আমরা আগে টিউমারটাকে একটু ছোট করি, তারপর অপারেশন করলে কাজটা সহজ হয়, আর অনেক সময় পুরোটা সাফও হয়ে যেতে পারে।

কিন্তু এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ আমরা শুরুতেই করি—
টিউমারের জায়গায় একটা ছোট মার্কার বা ক্লিপ বসিয়ে দিই।

কেন?

কারণ কেমোথেরাপি যদি খুব ভালো কাজ করে, তাহলে টিউমার এতটাই ছোট হয়ে যেতে পারে বা একেবারে মিলিয়েও যেতে পারে, যে পরে অপারেশনের সময় ঠিক জায়গাটা খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে যায়।

এই ক্লিপটা আমাদের জন্য “ল্যান্ডমার্ক”—
মানে, ক্যান্সার যতই কমে যাক, আমরা জানি ঠিক কোথায় ছিল, কোথা থেকে অপারেশন করতে হবে।

এখন আসি সবচেয়ে আশার জায়গায়।
এই ধরনের ক্যান্সারে অনেক সময় কমপ্লিট প্যাথোলজিকাল রেসপন্স পাওয়া যায়—মানে অপারেশনের পর দেখা যায়, আর কোনো জীবিত ক্যান্সার কোষ নেই। এই ধরনের রোগীদের রোগ ফিরে আসার সম্ভাবনা কমে (যদিও ১০০ শতাংশ বলা সম্ভব নয়)।

আর একটা বড় পরিবর্তন হয়েছে আমাদের ভাবনায়। আগে শুধু লক্ষ্য ছিল—ক্যান্সার সারানো।

এখন লক্ষ্য আরও বড়— ক্যান্সার সারাবো, কিন্তু শরীরটাকেও যতটা সম্ভব অক্ষত রাখবো।

মানে— পুরো ব্রেস্ট না কেটে, অনেক সময় ব্রেস্ট কনজারভেশন করা যায়।
এমনকি অ্যাক্সিলা (বগলের লিম্ফ নোড) ক্ষেত্রেও অযথা বেশি কিছু না করে, যতটা দরকার ততটাই করি। সে ক্ষেত্রে রেডিওথেরাপির প্রয়োজন পড়তে পারে।

মনে রাখবেন, ব্রেস্ট ক্যান্সারের চিকিৎসা কিন্তু একজন একা করতে পারে না। এর জন্য প্রয়োজন একটা টিম—যেখানে মেডিক্যাল অনকোলজিস্ট, রেডিয়েশন অনকোলজিস্ট, ব্রেস্ট অনকোসার্জন, অনকোপ্যাথোলজিস্ট এবং ভালো ব্রেস্ট রেডিওলজিস্ট থাকেন। মলিকিউলার জেনেটিসিস্টেরও ভূমিকা আছে, তবে সেটা আর বিস্তারিত বললাম না, লেখা অনেক বড় হয়ে যাবে।

কাশ্মীরের দিদার কথায় ফিরি। দিদাকে আমরা কেমোথেরাপি শুরু করেছি। ৩টে সাইকেল নিয়ে নিয়েছেন। বাকি কেমো দিদা শ্রীনগরে নেবেন। সেখানকার ডাক্তারের সাথে ফোনে আলোচনা করে নিয়েছি। তিনি বাকি ৫টা কেমো নিয়ে আবার আমাদের কাছে ফিরবেন অপারেশনের জন্য।

একটু ভদ্র ব্যবহার আর সহযোগিতা—এইটুকুতেই মানুষ আপ্লুত হয়ে যায়। দিদা বারবার আমার হাতে চুমু খেয়ে বলছেন, “ভগবান তোমার ভালো করুন, খুব বড় হও।” ঠিক আমার ঠাকুমার মতো। আসলে সব দেশের দিদা-ঠাকুমারা একই রকম—শুধু মুখের ভাষা আলাদা, ভালোবাসা একেবারেই এক।

Address

242, AJC Bose Road
Kolkata

Opening Hours

Monday 9am - 5pm
Tuesday 9am - 5pm
Wednesday 9am - 5pm
Thursday 9am - 5pm
Friday 9am - 5pm
Saturday 9am - 5pm

Telephone

+919674446399

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dr. Rajib Bhattacharjee, Cancer Specialist, MD, ECMO posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to Dr. Rajib Bhattacharjee, Cancer Specialist, MD, ECMO:

Share

Category