Dr. Rajib Bhattacharjee, Cancer Specialist, MD, ECMO

Dr. Rajib Bhattacharjee, Cancer Specialist, MD, ECMO I am a medical oncologist. This page is for cancer awareness generation

“অপারেশন আগে না কেমো? গ্যাস্ট্রিক ক্যান্সারের চিকিৎসায় বড় বদল”ক্যান্সারের চিকিৎসা গত এক দশকে সত্যিই আকাশ-পাতাল বদলে গে...
28/03/2026

“অপারেশন আগে না কেমো? গ্যাস্ট্রিক ক্যান্সারের চিকিৎসায় বড় বদল”

ক্যান্সারের চিকিৎসা গত এক দশকে সত্যিই আকাশ-পাতাল বদলে গেছে। একসময় যেভাবে আমরা রোগটাকে দেখতাম, এখন সেই ধারণাই বদলে গেছে—আর তার প্রভাব পড়েছে চিকিৎসার পদ্ধতিতেও।

একটু গ্যাস্ট্রিক ক্যান্সারের কথাই ভাবুন। আগে কী হতো? পাকস্থলীতে ক্যান্সার ধরা পড়লেই প্রথম কাজ ছিল অপারেশন—পাকস্থলীর সেই অংশ কেটে বাদ দেওয়া। তারপর প্রয়োজনে কেমোথেরাপি। একটাই নিয়ম ছিল—আগে অপারেশন, তারপর কেমো।

কিন্তু এখন আমরা বুঝেছি, চোখে যে টিউমারটা দেখা যাচ্ছে, সেটাই পুরো রোগ নয়। তার বাইরেও শরীরের ভেতরে অদৃশ্যভাবে ক্যান্সার কোষ ছড়িয়ে থাকতে পারে। শুধু অপারেশন করলে সেই কোষগুলো রয়ে যায়, আর কিছুদিন পর সেগুলোই আবার ফিরে আসে—মেটাস্টাসিস হয়ে।

এই জায়গাতেই বড় পরিবর্তন আসে। FLOT-AIO4 ট্রায়াল দেখায়, অপারেশনের আগে ও পরে নির্দিষ্ট ধরনের কেমোথেরাপি (FLOT) দিলে রোগ অনেক ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং বেঁচে থাকার সম্ভাবনাও বাড়ে। আগে কেমো দিলে টিউমার ছোট হয়, অপারেশন আরও নিখুঁতভাবে করা যায়, আর শরীরের অদৃশ্য ক্যান্সার কোষগুলোকেও শুরুতেই আঘাত করা যায়।

অর্থাৎ চিকিৎসা এখন শুধু “কেটে ফেলা” নয়—আগে থেকেই পুরো শরীরকে লক্ষ্য করে লড়াই।

এরপর এসেছে আরও নতুন তথ্য। MATTERHORN ট্রায়াল দেখিয়েছে, এই কেমোথেরাপির সাথে ইমিউনোথেরাপি (durvalumab) যোগ করলে রোগ ফেরার ঝুঁকি আরও কমে এবং চিকিৎসার ফলাফল আরও উন্নত হয়। অর্থাৎ এখন চিকিৎসা শুধু কেমোথেরাপির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়—শরীরের নিজের প্রতিরোধ ব্যবস্থাকেও কাজে লাগানো হচ্ছে।

আজকের দিনে তাই গ্যাস্ট্রিক ক্যান্সারের চিকিৎসার মূল কথা বদলে গেছে।

এখন আর “আগে অপারেশন” নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে আগে কেমোথেরাপি (এবং কখনও ইমিউনোথেরাপি), তারপর অপারেশন—এই পথটাই বেশি কার্যকর।

গ্যাস্ট্রিক ক্যান্সারের চিকিৎসা এখন আর একধাপের নয়। এটা ধাপে ধাপে, ভেবে-চিন্তে এগোনোর লড়াই—যেখানে প্রতিটি ধাপই গুরুত্বপূর্ণ।

বামপন্থী না দক্ষিণপন্থী? – ক্যানসারেরও ডান-বাম রাজনীতি!ভোটের দামামা বেজে গিয়েছে। রাজ্য রাজনীতি এখন সরগরম তৃণমূল, বিজেপি...
27/03/2026

বামপন্থী না দক্ষিণপন্থী? – ক্যানসারেরও ডান-বাম রাজনীতি!

ভোটের দামামা বেজে গিয়েছে। রাজ্য রাজনীতি এখন সরগরম তৃণমূল, বিজেপি, সিপিএম নিয়ে। ডান পন্থা না কি বাম পন্থা—কোনটা আপনার পছন্দ?

তবে অনেকেই পার্টি পলিটিক্সের ওপর মহা ক্ষেপা। তারা বলেন পলিটিক্স ক্যানসারের মতো সমাজকে ভেতর থেকে শেষ করে দিচ্ছে। আপনিও কি তাই মনে করেন?

আচ্ছা, ক্যানসারেরও কি ডানপন্থী, বামপন্থী আছে নাকি? আলবাত আছে। আর ক্যানসারের এই ডান বা বাম-এর চরিত্রও ঠিক ওই তৃণমূল বা বিজেপি বা সিপিএম-এর মতোই আলাদা।

এই ডান-বাম প্রভেদটা সব থেকে বেশি বোঝা যায় যে ক্যানসারে, সেটা হলো কোলন বা বৃহদন্ত্রের ক্যানসার—দেখুন, কোলনটা লম্বা একটা নল। এর ডান দিক আর বাম দিক—দুই জায়গার ক্যানসার একরকম নয়। বাইরে থেকে নাম একই, কিন্তু ভেতরের আচরণ আলাদা।

ডান দিক (রাইট কোলন)-এ আছে সিকাম, অ্যাসেন্ডিং কোলন আর বাম দিক (লেফট কোলন)-এ আছে ডিসেন্ডিং কোলন, সিগময়েড কোলন।

কোলনের ডান দিকটা একটু চওড়া আর ফাঁকা জায়গা। এখানে যদি ক্যানসার হয়, সেটা অনেকদিন ধরে চুপচাপ বড় হতে পারে। রোগী টেরই পান না। ধীরে ধীরে শরীরে রক্ত কমে যায়, দুর্বল লাগে, হাঁটলেই হাঁপ ধরে—এইসব উপসর্গ নিয়ে তিনি আসেন। অনেক সময় পায়খানায় রক্তপাত হলেও সেটা চোখে পড়ে না। তাই ডান দিকের ক্যানসার অনেক সময় একটু দেরিতে ধরা পড়ে। তার বিপদ এই যে এটা একটু অ্যাডভান্সড স্টেজ-এ ধরা পড়ে।

অন্যদিকে, কোলনের বাম দিকটা তুলনামূলক সরু। এখানে যদি ক্যানসার হয়, সেটা দ্রুতই পথ আটকে দিতে পারে। তখন রোগী বুঝতে পারেন—পায়খানার অভ্যাস বদলে গেছে, পেট ঠিক মতো পরিষ্কার হচ্ছে না, কখনো রক্তও দেখা যাচ্ছে। কখনো আবার পেট ব্যথা বা বাধার মতো সমস্যা হয়। তাই বাম দিকের ক্যানসার অনেক সময় তুলনামূলক আগে ধরা পড়ে।

কিন্তু শুধু উপসর্গেই পার্থক্য শেষ নয়। ভেতরের “স্বভাব” বা বায়োলজি-ও আলাদা।

ডান দিকের ক্যানসার অনেক সময় এমন ধরনের হয় যেখানে কোষের ভেতরের মেরামতির ব্যবস্থা ঠিকমতো কাজ করে না। একে বলে মাইক্রোস্যাটেলাইট ইনস্ট্যাবিলিটি। অনেক সময় খারাপ ধরনের একটা মিউটেশন হয় যেটাকে বলে BRAF মিউটেশন। ফলে টিউমারটা একটু আলাদা ভাবে বাড়ে এবং কিছু ক্ষেত্রে একটু বেশি আক্রমণাত্মক আচরণ করে।

আবার বাম দিকের ক্যানসার সাধারণত অন্য ধরনের পথে (যেমন KRAS মিউটেশন) তৈরি হয়, যেটা তুলনামূলকভাবে বেশি পরিচিত এবং চিকিৎসার প্রতিক্রিয়াও অনেক সময় বেশি পূর্বানুমান করা যায়।

এই পার্থক্যগুলো চিকিৎসার ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলে। অপারেশন দুই ক্ষেত্রেই দরকার হতে পারে, কিন্তু জায়গা অনুযায়ী অপারেশনের ধরন আলাদা হয়। কেমোথেরাপি অনেক ক্ষেত্রেই দেওয়া হয়।

তবে টার্গেটেড থেরাপির ক্ষেত্রে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে—বাম দিকের ক্যানসারে কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ (যেমন সেটুক্সিম্যাব বা প্যানিটুমুম্যাব) খুব ভালো কাজ করে, কিন্তু একই ওষুধ ডান দিকের ক্যানসারে ততটা কার্যকর নাও হতে পারে।
আবার ডান দিকের কিছু ক্যানসারে ইমিউনোথেরাপি খুব ভালো কাজ করতে পারে।

প্রগনোসিস বা ভবিষ্যৎ ফলাফল নিয়েও একটু পার্থক্য থাকে।

সাধারণভাবে বাম দিকের ক্যানসারের ফলাফল একটু ভালো হয়, কারণ তা আগে ধরা পড়ে এবং চিকিৎসার প্রতিক্রিয়াও অনেক সময় ভালো হয়।

ডান দিকের ক্যানসার অনেক সময় দেরিতে ধরা পড়ে বলে একটু জটিল হতে পারে। তবে এটাও ঠিক, সব রোগী একরকম নন—অনেক ব্যতিক্রম থাকে, আর এখন চিকিৎসা অনেক উন্নত হয়েছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সময়মতো লক্ষণগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া। পায়খানার অভ্যাস বদলালে, অকারণে রক্তশূন্যতা হলে, বা রক্ত দেখা গেলে দেরি না করে পরীক্ষা করান। কারণ কোলন ক্যানসার যদি প্রথম দিকে ধরা পড়ে, অনেক ক্ষেত্রেই সম্পূর্ণ ভালো করা সম্ভব।

দেখুন, এইসব ডান-বাম রাজনৈতিক পার্টির ওষুধ আমার কাছে নেই। কিন্তু কোলন ক্যানসার, সে বামপন্থী হোক বা ডানপন্থী, তাকে সায়েস্তা করার অনেক ব্যবস্থা কিন্তু বিজ্ঞান আমাদের দিয়ে রেখেছে।

পিঠে ব্যথা… ‘মাসল পেইন’? নাকি কিডনি টিউমারের সংকেত?অনেকেই চেম্বারে এসে বলেন—“ডাক্তারবাবু, কোমরে ব্যথা হচ্ছে… হ্যাঁচকা টা...
26/03/2026

পিঠে ব্যথা… ‘মাসল পেইন’? নাকি কিডনি টিউমারের সংকেত?

অনেকেই চেম্বারে এসে বলেন—
“ডাক্তারবাবু, কোমরে ব্যথা হচ্ছে… হ্যাঁচকা টান লেগেছে মনে হয়।”

বেশিরভাগ সময় সেটাই সত্যি। কিন্তু খুব অল্প কিছু ক্ষেত্রে এই ব্যথার পেছনে অন্য কারণও থাকতে পারে—যেমন কিডনির সমস্যা, এমনকি কিডনি টিউমার।

চলুন সহজ করে বোঝা যাক—এই ব্যথাটা আলাদা কীভাবে।

সাধারণ কোমর ব্যথা কেমন হয়?
আমরা যে ব্যথাটা বেশি দেখি, সেটা মাংসপেশি বা হাড়ের সমস্যা থেকে হয়।
এই ব্যথা সাধারণত হঠাৎ শুরু হয়,
নড়াচড়া করলে বাড়ে, বিশ্রাম নিলে কমে।
কখনও ঝুঁকলে বা ভার তুললে বেশি লাগে।
কিছুদিন ওষুধ আর বিশ্রামে ভালোও হয়ে যায়।

কিডনি-সংক্রান্ত ব্যথা একটু অন্যরকম...

কিডনির ব্যথা সাধারণত কোমরের একটু ওপরে, পাশের দিকে অনুভূত হয়—যেটাকে অনেকে “সাইডে ব্যথা” বলেন।

এই ব্যথার কিছু বৈশিষ্ট্য—
এটা খুব একটা নড়াচড়ার সঙ্গে বাড়ে-কমে না,
ধীরে ধীরে বাড়তে পারে,
একটানা থাকে, মাঝে মাঝে বিরক্তিকর টান টান অনুভূতি দেয়।

কিডনি টিউমারের ক্ষেত্রে ব্যথা অনেক সময় খুব স্পষ্টও নাও হতে পারে।
বরং অন্য কিছু ইঙ্গিত থাকতে পারে—
যেমন প্রস্রাবে রক্ত, অকারণে ওজন কমে যাওয়া,
ক্ষুধা কমে যাওয়া, বা অদ্ভুত ক্লান্তি।

অনেকে বলেন—
“ব্যথাটা ঠিক যাচ্ছে না… কিন্তু খুব তীব্রও না।”
এই ধরনের দীর্ঘদিনের অস্বস্তিকে হালকাভাবে নেওয়া ঠিক নয়।

তাহলে কী পরীক্ষা দরকার?
যদি এই ধরনের ব্যথা থাকে এবং সন্দেহ হয়, তখন কিছু সহজ পরীক্ষা করা হয়—

প্রথমে সাধারণ ইউরিন টেস্ট—প্রস্রাবে রক্ত আছে কিনা দেখার জন্য।
তারপর আল্ট্রাসাউন্ড (USG)—এটা খুব সহজ, ব্যথাহীন পরীক্ষা, কিডনির গঠন বোঝা যায়।

যদি কিছু সন্দেহজনক দেখা যায়, তখন সিটি স্ক্যান (CT scan) করা হয়—এটা কিডনির টিউমার আছে কিনা, থাকলে কতটা ছড়িয়েছে, সেটা পরিষ্কারভাবে বোঝায়।

সব ক্ষেত্রে সব পরীক্ষা দরকার হয় না—ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ধাপে ধাপে করা হয়।

সব পিঠের ব্যথা কি কিডনির জন্য?

একেবারেই না।

১০ জনের মধ্যে ৯ জনেরই ব্যথা সাধারণ কারণেই হয়।

কিন্তু যেটা গুরুত্বপূর্ণ— যদি ব্যথা ২–৩ সপ্তাহেও না কমে, অথবা সঙ্গে অন্য উপসর্গ থাকে, তাহলে একবার পরীক্ষা করে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

শেষ কথা
আমরা অনেক সময় নিজের শরীরের সংকেতকে “স্বাভাবিক” ভেবে এড়িয়ে যাই।
কিন্তু শরীর মাঝে মাঝে ইশারা দেয়—
শুধু একটু খেয়াল করতে হয়।

সব ব্যথা ভয়ের নয়,
কিন্তু সব ব্যথাকে অবহেলাও করা উচিত নয়।

সময়মতো পরীক্ষা—এই ছোট্ট পদক্ষেপটাই অনেক বড় সমস্যাকে আগেই ধরে ফেলতে সাহায্য করে।

কীভাবে ভালো অনকোলজিস্ট চিনবেন?ক্যান্সার চিকিৎসা শুধু ওষুধ বা অপারেশনের বিষয় নয়—এটা একটি দীর্ঘ পথচলা। এই পথে একজন ভালো ...
25/03/2026

কীভাবে ভালো অনকোলজিস্ট চিনবেন?

ক্যান্সার চিকিৎসা শুধু ওষুধ বা অপারেশনের বিষয় নয়—এটা একটি দীর্ঘ পথচলা। এই পথে একজন ভালো অনকোলজিস্ট শুধু চিকিৎসক নন, তিনি আপনার গাইড, সহযাত্রী এবং অনেক সময় ভরসার জায়গা। তাই “ভালো ডাক্তার” চেনা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

প্রথমত, একজন ভালো অনকোলজিস্ট সবসময় প্রমাণভিত্তিক (evidence-based) চিকিৎসা করেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানে প্রতিনিয়ত নতুন তথ্য আসছে, নতুন গবেষণা হচ্ছে। ভালো ডাক্তার সেই অনুযায়ী নিজেকে আপডেট রাখেন এবং রোগীকেও সহজ ভাষায় বোঝান—কেন একটি নির্দিষ্ট চিকিৎসা বেছে নেওয়া হচ্ছে।

দ্বিতীয়ত, তিনি যোগাযোগে স্বচ্ছ ও ধৈর্যশীল। আপনি যত প্রশ্নই করুন, তিনি বিরক্ত হন না। বরং সময় নিয়ে বোঝান—চিকিৎসার সুবিধা-অসুবিধা, সম্ভাব্য ঝুঁকি, বিকল্প অপশন। কারণ ক্যান্সারের চিকিৎসায় সিদ্ধান্তটা একসাথে নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তৃতীয়ত, একজন ভালো অনকোলজিস্ট নৈতিকভাবে দায়িত্বশীল (ethical)। সবকিছু করা যায় বলে সবকিছু করেন না। অপ্রয়োজনীয় টেস্ট বা চিকিৎসা এড়িয়ে চলেন এবং যেটা রোগীর জন্য সত্যিই দরকার, সেটাই প্রস্তাব করেন।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—তিনি সহানুভূতিশীল (empathetic)। ক্যান্সার শুধু শরীরের রোগ নয়, এটি মানসিক ও সামাজিকভাবেও প্রভাব ফেলে। একজন ভালো ডাক্তার রোগীর ভয়, দুশ্চিন্তা এবং পরিবারের অবস্থাও বোঝার চেষ্টা করেন।

সবশেষে, একজন ভালো অনকোলজিস্ট আপনাকে কখনোই অন্ধভাবে সিদ্ধান্ত নিতে বলেন না। তিনি আপনাকে তথ্য দেন, বোঝান, এবং আপনার মতামতকে গুরুত্ব দেন। প্রয়োজনে সেকেন্ড ওপিনিয়ন নিতেও উৎসাহ দেন।

তাই ভালো ডাক্তার চেনার সহজ সূত্র—
যিনি যুক্তি দিয়ে বোঝান, প্রমাণের উপর দাঁড়ান, প্রশ্নকে স্বাগত জানান এবং রোগীকে মানুষ হিসেবে দেখেন—তিনিই একজন ভালো অনকোলজিস্ট।

ডাঃ সুজয় দাশগুপ্ত লিখছেনআমাদের ফেসবুকের পোস্টগুলি মানুষের কাজে লাগছে—এটা দেখলে সত্যিই ভাল লাগে।শুধু সাধারণ মানুষ বা রোগ...
25/03/2026

ডাঃ সুজয় দাশগুপ্ত লিখছেন

আমাদের ফেসবুকের পোস্টগুলি মানুষের কাজে লাগছে—এটা দেখলে সত্যিই ভাল লাগে।

শুধু সাধারণ মানুষ বা রোগীরা নন, অনেক সহকর্মী ডাক্তারও বলেন—এই পোস্টগুলো থেকে তাঁরা নতুন কিছু জানতে পারেন, আপডেটেড থাকতে পারেন। এই কথাগুলো আমাদের আরও দায়িত্বশীল করে তোলে।

সম্প্রতি ভুবনেশ্বরে একটি সিএমই-তে গিয়েছিলাম।
একজন সিনিয়র গাইনেকোলজিস্ট খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা প্রশ্ন করেছিলেন—
“আপনার পেজ আমি ফলো করি। কিন্তু এত তথ্য দিলে রোগীরা কি বিভ্রান্ত হন না?
চিকিৎসা বা টেস্টের সুবিধা-অসুবিধা, ঝুঁকি—এসব জেনে কি তাঁরা দুশ্চিন্তায় পড়েন না?
তার ওপর তো অনেকেই গুগল থেকে ভুল তথ্য পড়ে আসেন… সেগুলো কীভাবে সামলান?”

প্রশ্নটা খুবই প্রাসঙ্গিক।

আমাদের মনে হয়—
তথ্য জানার অধিকার সবারই আছে। আজকের দিনে কাউকে তথ্য থেকে দূরে রাখা সম্ভবও নয়, উচিতও নয়।
আমরা চিকিৎসক হিসেবে শুধু গাইড করতে পারি—কোনটা সঠিক তথ্য, কোনটা নয়, কোথা থেকে জানলে নির্ভরযোগ্য হবে।

কারণ শেষ পর্যন্ত, নিজের শরীর নিয়ে সিদ্ধান্তটা রোগীকেই নিতে হয়।
আমরা সেই সিদ্ধান্তটা যেন সঠিক তথ্যের উপর ভিত্তি করে হয়—সেটা নিশ্চিত করার চেষ্টা করি।

এই জায়গায় “মডার্ন মেডিসিন”-এর তিনটি খুব গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ আছে—

১. এভিডেন্স (প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসা) — আপডেট থাকা কেন জরুরি?
চিকিৎসা বিজ্ঞান কখনো স্থির নয়।
আজ যা সত্য, কাল নতুন গবেষণায় তা বদলাতেও পারে।

একটা ওষুধ বা টেস্ট একসময় খুব জনপ্রিয় ছিল, পরে দেখা গেল তেমন উপকার নেই—এমন উদাহরণ অনেক।
আবার নতুন নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি আসছে, যা আগে ছিল না।

তাই “আমি বহু বছর ধরে এটা করছি”—এই যুক্তি যথেষ্ট নয়।
প্রশ্ন হওয়া উচিত—
“এটার পক্ষে এখনকার বৈজ্ঞানিক প্রমাণ কী বলছে?”

আমাদের কাজ হল সেই প্রমাণ অনুযায়ী নিজেকে আপডেট রাখা এবং রোগীকেও সহজ ভাষায় সেটা বোঝানো।

---

২. কমিউনিকেশন (যোগাযোগ) — একসাথে সিদ্ধান্ত নেওয়া
আগে একটা ধারণা ছিল—ডাক্তার যা বলবেন, সেটাই চূড়ান্ত।
এটাকে বলা হয় প্যাটার্নালিস্টিক অ্যাপ্রোচ।

এখন ধীরে ধীরে আমরা সেখান থেকে সরে এসে
পেশেন্ট-সেন্ট্রিক বা রোগীকেন্দ্রিক চিকিৎসার দিকে যাচ্ছি।

এখানে “ক্যাফেটেরিয়া অ্যাপ্রোচ” খুব গুরুত্বপূর্ণ—
মানে, আমরা বিভিন্ন অপশন সামনে রাখি, প্রতিটির সুবিধা-অসুবিধা, ঝুঁকি বুঝিয়ে দিই।

তারপর রোগী (এবং তাঁর পরিবার) নিজের পরিস্থিতি, আর্থিক অবস্থা, মানসিক প্রস্তুতি—সবকিছু ভেবে সিদ্ধান্ত নেন।
এটাই ইনফর্মড ডিসিশন।

এই পুরো প্রক্রিয়ায় পরিষ্কার, সৎ এবং সহজ ভাষায় যোগাযোগ অত্যন্ত জরুরি।
কারণ অর্ধেক তথ্য অনেক সময় ভুল সিদ্ধান্তের দিকে নিয়ে যেতে পারে।

---

৩. এথিক্স (নৈতিকতা) — কী করা উচিত, কী না
সবকিছু করা যায় বলে সবকিছু করা উচিত—এটা কিন্তু নয়।

কোন টেস্ট সত্যিই দরকার?
কোন চিকিৎসা কাজ করে?
কোনটার পক্ষে এখনও শক্ত প্রমাণ নেই?
কোনটায় ক্ষতির সম্ভাবনা বেশি?

এই প্রশ্নগুলোর সৎ উত্তর দেওয়াটাই চিকিৎসার নৈতিক দায়িত্ব।

অনেক সময় “আরও একটু কিছু করা যাক”—এই মানসিকতা থেকে অপ্রয়োজনীয় টেস্ট বা চিকিৎসা হয়ে যায়।
কিন্তু সবসময় “মোর” মানেই “বেটার” নয়।

আমাদের চেষ্টা থাকে—
যেটা রোগীর জন্য সত্যিই উপকারী, সেটাই করা।
অপ্রয়োজনীয় বা ক্ষতিকর কিছু থেকে তাঁকে যতটা সম্ভব দূরে রাখা।

---

শেষে একটা কথাই বলব—
আমরা যা লিখি বা বলি, সেটা নিখুঁত—এটা কখনোই দাবি করি না।
কিন্তু চেষ্টা করি—সঠিক তথ্য সহজভাবে পৌঁছে দিতে।

যদি তাতে সাধারণ মানুষ একটু সচেতন হন,
আর সহকর্মীরা মনে করেন এটা কাজে লাগছে—
তাহলেই আমাদের এই ছোট্ট প্রচেষ্টা সার্থক।

মা হওয়ার পর এই পরিবর্তনগুলো কি সত্যিই ‘নরমাল’?অনেক সময়ে এমন হয়। চেম্বারে কোনো এক নতুন মা আসেন। কোলে ছোট্ট বাচ্চা। মুখ...
25/03/2026

মা হওয়ার পর এই পরিবর্তনগুলো কি সত্যিই ‘নরমাল’?

অনেক সময়ে এমন হয়। চেম্বারে কোনো এক নতুন মা আসেন। কোলে ছোট্ট বাচ্চা। মুখে ক্লান্তি, চোখে দুশ্চিন্তা। একটু পরে ধীরে ধীরে বলেন, “ডাক্তারবাবু, বাচ্চা হওয়ার পর থেকে বুকটা কেমন শক্ত লাগছে… কোথাও যেন একটা গিঁটের মতো… কিন্তু ভাবছিলাম, হয়তো স্বাভাবিকই… বলব কি বলব না বুঝতে পারছিলাম না।”

এই “বলব কি বলব না”—এই জায়গাটাই খুব গুরুত্বপূর্ণ।

মা হওয়ার পর একজন মহিলার জীবনে হঠাৎ সবকিছু বদলে যায়। নিজের শরীর, নিজের ঘুম, নিজের আরাম—সবকিছু যেন সেকেন্ডারি হয়ে যায়। প্রথম হয়ে যায় শুধু সন্তান। এই নতুন দায়িত্ব, ভালোবাসা আর চিন্তার ভিড়ে অনেক সময় নিজের শরীরের ছোট ছোট সংকেতগুলো চাপা পড়ে যায়। নিজের ব্যথা, অস্বস্তি, অদ্ভুত পরিবর্তন—সবকিছুই অনেক সময় চেপে রাখা হয়। মনে হয়, “এগুলো তো স্বাভাবিক… মা হয়েছি, এসব হবেই।”

প্রসবের পর স্তনে পরিবর্তন হওয়া খুবই স্বাভাবিক। শরীর তখন দুধ তৈরির জন্য প্রস্তুত হয়। ফলে স্তন ফুলে যায়, শক্ত লাগে, ব্যথা হতে পারে, কোথাও কোথাও গিঁটের মতোও লাগতে পারে। অনেক সময় দুধ জমে যাওয়া (এনগর্জমেন্ট) বা দুধের পথ আটকে যাওয়ার (ব্লকড ডাক্ট) কারণে এমন হয়। এমনকি হালকা সংক্রমণও (মাস্টাইটিস) হতে পারে। এগুলো সাধারণত দুধ খাওয়ানোর পর কিছুটা কমে যায়।

কিন্তু সমস্যা হয় তখন, যখন এই স্বাভাবিক পরিবর্তনের আড়ালে অন্য কিছু লুকিয়ে থাকে। আর সেই “অন্য কিছু”টা আমরা অনেক সময় দেখতে পাই না—কারণ আমরা দেখতে চাই না। মা হওয়ার পর একটা মানসিকতা তৈরি হয়—“আমার কিছু হবে না, এখন শুধু বাচ্চাটার কথা ভাবতে হবে।” এই ভাবনাটাই অনেক সময় বিপদ ডেকে আনে।

সব গিঁটই ক্ষতিকর নয়, কিন্তু সব গিঁটকে হালকাভাবে নেওয়াও ঠিক নয়।

যেগুলো সাধারণত নিরীহ—সেগুলো নরম হয়, দুধ খাওয়ানোর পর ছোট হয়, ব্যথা থাকতে পারে, আর অনেক সময় একাধিক জায়গায় হয়।

আর যেগুলো নিয়ে সতর্ক হওয়া দরকার—সেগুলো শক্ত, পাথরের মতো, ধীরে ধীরে বড় হয়, দুধ খাওয়ালেও কমে না, ত্বক টান টান হয়ে যায় বা নিপলের চেহারায় পরিবর্তন আসে।

সবচেয়ে বড় কথা, এই পরিবর্তনগুলো সবসময় নাটকীয়ভাবে আসে না। খুব নিঃশব্দে আসে। আর আমরা ব্যস্ত থাকি—ডায়াপার, খাওয়ানো, ঘুম, না-ঘুমের মধ্যে।

অনেক মা-ই বলেন, “আমি তো বাচ্চাকে দুধ খাওয়াচ্ছি, আমার আবার কী সমস্যা হবে!”—এই বিশ্বাসটাই অনেক সময় দেরির কারণ হয়। কারণ মাতৃত্বের এই সময়টায় নিজের শরীরের দিকে তাকানোর সময়ই যেন থাকে না।

তাই খুব সহজ কিছু অভ্যাস জরুরি। মাঝে মাঝে নিজে নিজে স্তন পরীক্ষা করা, নতুন কিছু হাতে লাগলে খেয়াল করা, ২–৩ সপ্তাহেও না কমলে দেরি না করে ডাক্তার দেখানো। দুধ খাওয়ানো চালিয়ে যাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ—এটা অনেক সমস্যাই কমায়।

অনেক মা-ই এটা ভুলে যায় যে মা হওয়া মানে নিজের শরীরকে ভুলে যাওয়া নয়। বরং নিজের যত্ন নেওয়াটাও সন্তানের যত্নেরই অংশ।

কারণ, একজন সুস্থ মা-ই তার সন্তানের সবচেয়ে বড় আশ্রয়।

সেদিন আমার এক ফেসবুকের বন্ধু প্রশ্ন করলেন “ডাক্তারবাবু, আমার লাং ক্যান্সারের রিপোর্টে লেখা আছে MET exon 14 skipping… এটা...
23/03/2026

সেদিন আমার এক ফেসবুকের বন্ধু প্রশ্ন করলেন “ডাক্তারবাবু, আমার লাং ক্যান্সারের রিপোর্টে লেখা আছে MET exon 14 skipping… এটা আবার কী? এটা নিয়ে আপনি কিছু লিখুন”

কিন্তু এই মিউটেশনটা এতটাই রেয়ার যে যিনি প্রশ্ন করেছেন তিনি ছাড়া হয়তো আর কারও কাজে লাগবে না। তাই ভাবলাম ডিরেক্টলি ওইটা নিয়ে না লিখে বরং আমার পেশাদারি জীবনের একটা ঘটনা শেয়ার করা যাক।

তখন আমি সদ্য পিয়ারলেসে জয়েন করেছি। এক রাতে ইমার্জেন্সি তে এক বয়স্ক ভদ্রলোক এলেন হাঁপাতে হাঁপাতে। প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল ওনার। আইসিইউ তে ভর্তি করতে হলো ওনাকে। এক্স-রে করে দেখা গেল একদিকের বুক পুরো সাদা। জল জমেছে বুকে। জল বের করা হলো, দিন কয়েক যমে মানুষে টানাটানি করার পর ভদ্রলোককে কিছুটা ধাতস্থ করা গেল।

যে জলটা বেরিয়েছিল, সেটাকে সেন্ট্রিফিউজ করে শক্ত করে একটা সেল ব্লক বানিয়ে বায়োপসি করলাম। রিপোর্ট এল লাং ক্যান্সার। এর পর ওই ব্লক টা কে পাঠিয়ে দিলাম জেনেটিক টেস্ট এর জন্য যাতে জানতে পারি কোন মিউটেশন এর জন্য এই ক্যান্সার টা হয়েছে। কিছু মিউটেশন যেমন ইজিএফআর, এএলকে, বা আরওএস মিউটেশন এর খুব ভালো ওষুধ আছে আমাদের হাতে। এই সব মিউটেশন এ ট্যাবলেট খেয়েই রোগী বহু বছর ভালো থাকতে পারে।

রিপোর্ট আসতে ৩-৪ সপ্তাহ লেগে যাবে। এর মধ্যে ওনার সাপ্তাহিক কেমোথেরাপি শুরু করলাম। খুব ক্রিটিকাল কন্ডিশন এ ছিলেন, প্রথম কেমো টা আইসিইউ তেই দেওয়া হলো। আস্তে আস্তে রিকভার করলেন। ছুটি হলো। তার পর আরও দু সপ্তাহ কেমো নিলেন। কেমো নিয়ে সম্পূর্ণ সুস্থ তখন। হেঁটে হেঁটে ওপিডি তে আসতেন ছেলের সাথে।

এর মধ্যে জেনেটিক টেস্ট এর রিপোর্ট এল—MET exon 14 skipping। ছেলে এসে আমায় জিজ্ঞেস করল “ডাক্তারবাবু এই যে মিউটেশন এসেছে এটার কোনও ট্যাবলেট নেই? এটা কিরকম মিউটেশন?”

সহজ করে বলি। আমাদের শরীরের কোষে কিছু “নির্দেশ” থাকে, যেগুলো বলে দেয় কোষ কীভাবে বড় হবে, কখন থামবে। এই নির্দেশগুলো থাকে জিনের মধ্যে। MET এমনই একটি জিন, যা কোষের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
এখন “exon 14 skipping” মানে কী?
ভাবুন একটা বইয়ের একটা গুরুত্বপূর্ণ পৃষ্ঠা হঠাৎ বাদ পড়ে গেল। ফলে বইয়ের নির্দেশ বদলে গেল। ধরুন আপনি পায়েস রান্নার রেসিপি পড়ছেন। ১৪ নম্বর পৃষ্ঠায় লেখা আছে “এই জিনিসগুলো করবেন না”, পরের পৃষ্ঠায় লেখা—একমুঠো নুন দিয়ে দিন দুধে। যদি ১৪ নম্বর পেজ টা আপনি স্কিপ করে যান তাহলে আপনার পায়েসটা পুরোপুরি খারাপ হয়ে যাবে।

ঠিক তেমনই MET জিনের exon 14 অংশটি বাদ পড়লে কোষের উপর নিয়ন্ত্রণ কমে যায়। ফলে কোষ অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে শুরু করে—এটাই ক্যান্সারের দিকে নিয়ে যায়।

এই পরিবর্তনটা খুব বেশি দেখা যায় না—প্রায় ৩–৪% নন-স্মল সেল লাং ক্যান্সার রোগীর মধ্যে এই মিউটেশন পাওয়া যায়। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ কারণ এর জন্য আলাদা চিকিৎসার পথ আছে।

চিকিৎসার ক্ষেত্রে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—
প্রথম লাইনে (ফার্স্ট-লাইন) সাধারণত আমরা কেমোথেরাপিই ব্যবহার করি।

যদি রোগ বাড়ে বা ফিরে আসে, তখন দ্বিতীয় লাইনে (সেকেন্ড-লাইন) আমরা টার্গেটেড ওষুধ, ট্যাবলেট আকারে ব্যবহার করতে পারি—যেমন টেপোটিনিব বা ক্যাপম্যাটিনিব। এই ওষুধগুলো সরাসরি ওই অস্বাভাবিক MET সিগন্যালকে ব্লক করে।
ফলে অনেক ক্ষেত্রে টিউমার ছোট হয়, উপসর্গ কমে, এবং রোগ কিছুটা সময়ের জন্য নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

আমি ওনার ছেলে কে সেটাই বললাম যে দেখুন, এই মিউটেশন টার বিরুদ্ধে যে ট্যাবলেট গুলো আছে এখনও সেগুলো প্রথমেই ব্যবহারযোগ্য নয়। আপনার বাবা কেমোথেরাপি তে এত ভালো আছেন, সম্পূর্ণ হাঁটাচলা করছেন, সেটাই কন্টিনিউ করুন। এর পর রোগ বাড়লে আমরা ওই টেপোটিনিব বা ক্যাপম্যাটিনিব ট্যাবলেট স্টার্ট করবো।

কিন্তু ছেলের সে কথা পছন্দ হলো না। তিনি তার বাবা কে কলকাতার সব থেকে বড় ক্যান্সার হসপিটাল নিয়ে গেলেন যেখানে কেমোথেরাপি বন্ধ করে তাকে ওই ক্যাপম্যাটিনিব ট্যাবলেট শুরু করা হয়। আমার কথা তার পছন্দ হয়নি।

দুঃখের বিষয় মাস তিনেক পর উনি আবার আমার কাছে ফিরে আসেন ঠিক প্রথমবারের মতো তীব্র শ্বাসকষ্ট নিয়ে। না, ক্যাপম্যাটিনিব কাজ করেনি।

আজকের দিনে লাং ক্যান্সার ধরা পড়লে শুধু “ক্যান্সার” বলা যথেষ্ট নয়। জিনগত পরীক্ষা করে দেখা জরুরি—কোন পরিবর্তনটা আছে। কারণ সেই অনুযায়ী চিকিৎসার ধাপ বদলে যায়। কিন্তু কোন রোগীকে কেমোথেরাপি দেওয়া উচিত আর কোন রোগীকে ট্যাবলেট দিয়ে চিকিৎসা করা উচিত সেটা কিন্তু মেডিক্যাল অনকোলজিস্টই নির্ণয় করতে পারবেন। সব ট্যাবলেট সমান ক্ষমতার নয়। সেটা বুঝতে হবে।

লাং ক্যান্সার এখন একরকম রোগ নয়। ছোট ছোট জিনগত পার্থক্যের উপর নির্ভর করে চিকিৎসার পথ নির্ধারিত হয়। আর MET exon 14 skipping সেই গুরুত্বপূর্ণ পথগুলোর একটি। এখনও টেপোটিনিব বা ক্যাপম্যাটিনিব এর সেরা চিকিৎসা নয়। কিন্তু ভবিষ্যতে হয়তো আমরা আরও ভালো ভালো ওষুধ পাবো যা দিয়ে এই মিউটেশন টাকেও কব্জা করা যাবে।

শ্রী সাগ্নিক সিনহা লিখছেন....." স্যার, আগে ভালো ছিলাম। ওই বছর পাঁচেক আগে ভ্যাকসিন নেওয়ার পরেই হার্টের রোগ ধরা পড়ল""ডাক...
22/03/2026

শ্রী সাগ্নিক সিনহা লিখছেন.....

" স্যার, আগে ভালো ছিলাম। ওই বছর পাঁচেক আগে ভ্যাকসিন নেওয়ার পরেই হার্টের রোগ ধরা পড়ল"

"ডাক্তারবাবু, জীবনে কোনোদিন ওষুধ খাইনি। কেন মরতে কি কুক্ষণে ওই করোনা ভ্যাকসিন নিলাম, তারপর থেকে সেই যে ব্যথায় ধরল, হাঁটু কোমর আর সোজা করতে পারিনা মোটে"

ছোট্ট দুটো উদাহরণ। ক্লিনিকে প্রত্যেকদিনই অন্তত একজন হলেও রোগী থাকে যে তার আপাত স্বাভাবিক বয়সজনিত পরিবর্তন বা ক্রনিক রোগের উৎপত্তি অর্থাৎ প্যাথোজেনেসিস ব্যাখ্যা করে ফেলে কোভিশিল্ড বা কোভ্যাক্সিন দিয়ে। অথচ কেউ ভাবে না, তাহলে এই যে কোটি কোটি মানুষ গোটা দেশে,এবং বিলিয়ন বিলিয়ন মানুষ গোটা দুনিয়ায় ভ্যাকসিন নিল সবারই কেন হার্টের রোগ, কিডনির রোগ, বাতের ব্যথা, নার্ভের অসুখ ধরল না? ভ্যাকসিন কি বেছে বেছে বানানো হয়েছিল কিছু লোকের জন্যে ?

ব্যাপারটা আসলে কিছুটা নতুন জিনিসের প্রতি মানুষের স্বাভাবিক ভীতি এবং hesitation, যেটা সম্প্রতি cervical cancer এর প্রতিরোধে চালু করা HPV ভ্যাকসিনেশনের ক্ষেত্রেও বিরাট মাত্রায় দেখা গেছে, এমনকি "উন্নত, বিজ্ঞান সচেতন দেশ" আমেরিকাতেও ভ্যাকসিন বিরোধী আন্দোলন হয়েছে!!!

অথচ, WHO, CDC, FDA সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক নামকরা স্বাস্থ্য সংস্থা বারবার দেখিয়ে দিয়েছে যে এই টিকাগুলি বাজারে ছাড়ার আগে তাদের সমস্ত সাইড ইফেক্ট খতিয়ে দেখেই নিশ্চিন্ত হয়ে সুরক্ষার ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মানুষ গবেষণালব্ধ তথ্যের চেয়ে "পাশের বাড়ির ওর হয়েছিল" বা " সেদিন ফোনে দেখছিলাম" জাতীয় তথ্য বেশি ভালোবাসে।

আর বাকিটা?

Diagnostic phalacy বা যাকে বইয়ের ভাষায় বলে বার্কসোনিয়ান বায়াস এবং detection bias...

অর্থাৎ খুঁজেছি তাই পেয়েছি, পেয়েছি তাই জেনেছি, না খুঁজতে এলে জানতেই পারতাম না। এই bias টি , একটি কগনিটিভ বায়াস, কারণ এর সৃষ্টি আমাদের মনে, চেতনায়, কল্পনায়।

আমাদের চারিদিকে সর্বত্র। আমাদের জীবনের অনেক বড় বড় সিদ্ধান্তে এই bias এসে কলকাঠি নাড়ছে। বিষয়টা সোজা। আপনি হাসপাতালে গেলেই আপনার মনে হবে, " বাবারে বাবা এত্ত অসুখ চারিদিকে! রোগের ডিপো যাকে বলে। বেঁচে থেকে লাভটা কি? সবাইকে তো ওষুধ দিয়ে জিইয়ে রাখা হয়েছে যেন!", একজায়গায় সব অসুখকে হঠাৎ দেখছেন বলেই আচমকা আপনার ভীতি এবং সচেতনতা মারাত্মক ট্রিগার করে যাবে। অনেকেই হাসপাতালে কোনও কারণে ভর্তি হলে, বাড়ি ফেরার পর থেকে বিশেষ ভাবে স্বাস্থ্য সচেতন হয়ে পড়েন। সেটা স্রেফ বুদ্ধি জেগে ওঠার ফলে হয় না, হাসপাতালের ভীতিপ্রদ অভিজ্ঞতার কারণেই বেশি হয়।

কোনো বিষয়ের সত্যতা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে যদি আপনি সমীক্ষা করেন তাহলে সেই জিনিসটি উপস্থিত আছে এমন জায়গায় যেমন ঘুরতে হবে তেমনি, জিনিসটি আদৌ নেই তেমন জায়গাগুলোতেও ঘুরে দেখতে হবে। তবেই বোঝা যাবে, বিষয়টি সত্যি থাকার সম্ভাবনা কতটা।

কোভিড ভ্যাকসিনের সাথে যাঁরা রোগের সম্পর্ক আবিষ্কার করেছেন, তাঁদের সম্ভাব্য ইতিহাসটা হয় এইরকম।

1. ব্যস্ত মানুষ, নিজের প্রতি মনোযোগ দেওয়ার সময় নেই বা ইচ্ছে নেই। বাড়ির লোকের শরীর খারাপ নিয়ে হয়তো তাও ব্যতিব্যস্ত থাকেন কিন্তু নিজের ছোট খাটো উপসর্গ থাকলে সেগুলো চেপে যান, উড়িয়ে দেন। স্বাস্থ্যের প্রায়োরিটি বলতে কিছু নেই তাঁর কাছে। স্বাস্থ্যখাতে পয়সা খরচ করাটা বেকার টাকা জলে ঢালা মনে করেন, তাই ভুলেও ডাক্তারের কাছে যান না।

2. করোনা আক্রান্ত হওয়ার ফলে নাভিশ্বাস ওঠায় বাধ্য হয়েই ডাক্তার দেখাতে হল, বা দুর্ভাগ্যবশত হাসপাতালে ভর্তি হতে হল।

3. করোনার চিকিৎসার খাতিরেই এবার যাবতীয় রক্ত পরীক্ষা, প্রস্রাব পরীক্ষা, স্ক্যান সবই হল, ডাক্তারবাবু শরীরের ক্লিনিকাল পরীক্ষা নিরীক্ষা করলেন। এবং রোগী জানতে পারলেন যে উপরে ফিট দেখালে কি হবে, ভিতরে ভিতরে তাঁর কলকব্জা খুব একটা সুবিধের জায়গায় নেই।

4. নিজের গাফিলতি এবং অবহেলা স্বীকার করা খুব মুশকিল, নিজেকে বোকা দেখানো কেউ পছন্দ করে না। ফলে রোগ ধরা পড়ার পিছনে কারোর একটা ঘাড়ে দোষ চাপানো দরকার। কার্যকারণ সম্পর্ক খুঁজতে গিয়ে মাথায় এল, তাই তো, আমার করোনা হয়েছিল তারপরই এইসব ধরা পড়ল। আর করোনার আগেই/ ওই সময় ভ্যাকসিন নিয়েছিলাম, সেই ভ্যাকসিন নিয়ে লোকে কত কি বলছিল, ফেসবুকে কি সব লিখছিল। তার মানে, হ্যাঁ, একদম জলের মতো পরিষ্কার।

কোভিড ভ্যাকসিনই আসলে মানুষ মারে। এটা হচ্ছে temporal association, অর্থাৎ একই সময় ঘটে যাওয়া দুটো ঘটনাকে ব্যাখ্যা করতে না পারলে ওই দুটোই একটার থেকে আরেকটা হয়েছে বলে জুড়ে দেওয়া।

কিন্তু বাস্তবে কি হয়?

1. হার্টব্লক ও অন্যান্য হার্টের অসুখ, কিডনির পাথর, নার্ভের অসাড় ভাব/ শিরশিরানি, প্রেশার, সুগার, হাঁটু কোমরের বাত, শিরদাঁড়ার ক্ষয়, ঘাড়ে ব্যথা এইসবই প্রত্যেকটা ক্রনিক অর্থাৎ দীর্ঘমেয়াদি ধীর গতির অসুখ। বহু বছর ধরে একাধিক ক্ষতিকর ফ্যাক্টরের জটিল interaction এর কারণে একটু একটু করে শরীরের স্বাভাবিক কার্যকলাপ পাল্টে গিয়ে এইসব অসুখ ডেকে আনে। চিকিৎসা না করলে ছোটোখাটো পরিবর্তন গুলো ক্রমশ বড় ধাক্কা হয়ে ওঠে, এবং হঠাৎ একদিন মারাত্মক উপসর্গ নিয়ে রোগীকে শুইয়ে ফেলে।

2. কোভিডের সময় কোভিড আক্রান্ত হওয়ার কারণেই হোক বা ওই সময়ে হঠাৎ বেড়ে যাওয়া স্বাস্থ্যভীতি, মৃত্যুভয়ের কারণে বহু মানুষ নিয়মিত ডাক্তার দেখানো, রুটিন টেস্ট করা ইত্যাদি শুরু করেন। ফলে এতদিন ঘাপটি মেরে থাকা অসুখ চোখের সামনে এসে।

3. যেকোনো সংক্রমণ আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বেশ ভালোমত নাড়া দিয়ে যায়। বিশেষ করে ভাইরাস সংক্রমণের পর post viral inflammation অর্থাৎ সংক্রমণ পরবর্তী প্রদাহ দেখা যায়। ভাইরাসকে নির্মূল করতে শরীর যে প্রচুর প্রতিরক্ষামূলক রাসায়নিক এবং ঘাতক কোষ তৈরি করে তাদেরই collateral damage এইটা (মারামারি থামাতে গিয়ে নিজেই মাঝখানে পড়ে চড় থাপ্পড় খেয়েছেন কখনও? তাহলে বুঝতে পারবেন)। এর কারণে শরীরে প্রতিটি অঙ্গ প্রত্যঙ্গে অস্বাভাবিক চাপ পড়ে এবং ইতিমধ্যেই ঘাঁটি গেড়ে বসে থাকা ওইসব ক্রনিক রোগের ট্রিগারের মত কাজ করে। ফলে, সাময়িক উপসর্গ জেগে ওঠে। হার্টের রোগীর বুকে চাপ লাগা, শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। বয়স্ক মানুষের হাঁটাচলা করতে গেলে হঠাৎ বেশিই ব্যথা করে হাঁটু, কোমর (post viral arthritis) ইত্যাদি। এই পোস্ট ভাইরাল ট্রিগার খুব বেশি হয়ে গেলে সেটা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্যে নির্দিষ্ট ওষুধ, চিকিৎসা আছে।

কিন্তু এটা নিজে অসুখ ডেকে আনছে না। এর সাইড ইফেক্ট অনেকটা ফায়ার অ্যালার্মের মত, অর্থাৎ আপনার বাড়িতে কোথাও সবে গ্যাস লিক শুরু হচ্ছিল কিন্তু আপনি জানতেনই না, হঠাৎ করে কেউ দেশলাই জ্বালিয়ে ফেলল। খানিক হাত পুড়ল বটে কিন্তু প্রাণে বেঁচে গেলেন।

এবং এই ট্রিগার কিন্তু অসুখটার কারণেই বেশি, ভ্যাকসিন থেকে তত বেশি না।

বরং এভাবে ভাবুন, ভ্যাকসিন থেকেই হোক বা কোভিড থেকে, রোগটা অন্তত সামনে তো এল! ওষুধপত্র শুরু করা গেল, আপনি সাবধান হয়ে গেলেন। কে বলতে পারে, নাহলে একেবারে পঙ্গু করে দেওয়ার পর্যায়ে গিয়ে হঠাৎ আবিষ্কার করতেন, আপনি গত বিশ বছর ধরে অসুস্থ।

আর ভ্যাকসিনটা না নিলে আজকে আদৌ এইসব কথা ভাবার বা পড়ার জন্যে জীবিত থাকতাম আমরা এইটাই বা কে গ্যারান্টি দেবে? সেই ভয়াবহ মৃত্যুমিছিলের স্মৃতি তো সবার মনেই এখনও দগদগে টাটকা।

মোদ্দা কথা হচ্ছে, শরীরের যত্ন নিন।

নিজেকে সুপারম্যান বা ওয়ান্ডার ওম্যান ভাবা বন্ধ করুন, "আমার কিছু হয় না" এই delusion থেকে বেরিয়ে আসুন সত্ত্বর।

চল্লিশ পেরনোর পর বিশেষ করে খেয়াল রাখুন, ছোটোখাটো পরিবর্তন বা উপসর্গও হেসে উড়িয়ে দেবেন না। সুস্থ আছেন মনে হলেও preventive measure হিসেবেই বছরে একবার দুবার ডাক্তার দেখান, একটা দুটো সামান্য রুটিন টেস্ট করান চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে। জল, খাবার, হাঁটাচলা নিয়ে যত্নবান হন। এইটুকুই।

©DrSagnik.

মাছ খেলে ক্যান্সার হয়! সত্যি?গতকাল একজনের কমেন্ট পড়ে সত্যিই চমকে গেলাম। তিনি প্রশ্ন করেছেন— “মাছ খেলে কি ক্যান্সার হয়...
22/03/2026

মাছ খেলে ক্যান্সার হয়! সত্যি?

গতকাল একজনের কমেন্ট পড়ে সত্যিই চমকে গেলাম। তিনি প্রশ্ন করেছেন— “মাছ খেলে কি ক্যান্সার হয়?”

“মাছ খাবো না আমরা? খাবো না আমরা মাছ?”

আমি হতভম্ব হয়ে ভাবলাম—আমরা তো মাছেভাতে বাঙালি। মাছ না খেলে বাঙালি বাঁচবে কী করে!
আসলে আমরা একটা কাজ খুব সহজে করি—যে জিনিসটা রোজ খাই, ক্যান্সার ধরা পড়লেই তার ওপর দোষ চাপাই। আর সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে এইসব কথা খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

এই “মাছ খেলে ক্যান্সার” ধারণার পেছনে একটু ইতিহাসও আছে।

চীনের কিছু অঞ্চলে দেখা গিয়েছিল, যারা নিয়মিত নোনা করে রাখা বা প্রসেসড মাছ খেতেন, তাদের মধ্যে নাক-গলার এক ধরনের ক্যান্সার, ন্যাসোফ্যারিনক্সের ক্যান্সার, বেশি দেখা যায়। পরে গবেষণায় বোঝা যায়, সমস্যাটা মাছ নয়—মাছ সংরক্ষণের পদ্ধতিতে। ওই প্রসেসড মাছের মধ্যে কিছু রাসায়নিক পদার্থ তৈরি হয়, যেগুলো দীর্ঘদিন বেশি খেলে সমস্যা করতে পারে।

যখন খাবার দীর্ঘদিন রাখার জন্য লবণ, ধোঁয়া, রাসায়নিক বা সংরক্ষণকারী ব্যবহার করা হয়, তখন খাবারের ভেতরে কিছু পরিবর্তন হয়। এই পরিবর্তনের সময় এমন কিছু পদার্থ তৈরি হতে পারে, যেগুলো দীর্ঘদিন বেশি পরিমাণে খেলে শরীরের কোষে ক্ষতি করতে পারে।

যেমন— খুব বেশি নোনা বা সংরক্ষিত খাবারে কিছু ক্ষতিকর রাসায়নিক তৈরি হতে পারে।
ধোঁয়ায় শুকানো খাবারে এমন কিছু উপাদান থাকতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর।
বারবার ভাজা বা পুড়িয়ে ফেলা খাবারেও কিছু ক্ষতিকর পদার্থ তৈরি হয়।
এই জিনিসগুলোকে সহজভাবে বললে—শরীরের জন্য ক্ষতিকর পদার্থ, যা দীর্ঘদিন ধরে জমতে জমতে সমস্যা তৈরি করতে পারে।

কিন্তু এখানেই একটা বড় ভুল হয়। এই তথ্য শুনে অনেকেই ভাবেন—সব মাছই খারাপ।
আসলে তা নয়।

তাজা মাছ, যেটা আমরা বাড়িতে কিনে রান্না করি, সেটা সম্পূর্ণ আলাদা জিনিস।
মাছ আসলে শরীরের জন্য খুবই উপকারী। এতে ভালো প্রোটিন আছে, আছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, যা হৃদযন্ত্রের জন্য ভালো। অনেক গবেষণায় তো উল্টো দেখা গেছে—নিয়মিত মাছ খাওয়া কিছু ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যরক্ষায় সাহায্য করে। সমস্যা মাছের মধ্যে নয়, প্রসেসিং বা সংরক্ষণের পদ্ধতিতে।

তাহলে সমস্যা কোথায় হতে পারে?

সমস্যা হতে পারে যদি— খুব দূষিত জায়গার মাছ নিয়মিত খাওয়া হয়।
বা খাবারটা ঠিকমতো রান্না না হয়।

কিন্তু সেটা মাছের দোষ নয়, পরিবেশ আর খাবার অভ্যাসের বিষয়।

শেষে একটা সহজ কথা— মাছ খেলে ক্যান্সার হয়—এটা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নয়।
তাই ভয় পেয়ে মাছ ছেড়ে দেওয়ার দরকার নেই। বরং ভালো জায়গা থেকে, ভালোভাবে রান্না করে খাওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ।

নইলে একদিন দেখবেন— মাছ, ডিম, ভাত—সবকিছুতেই ক্যান্সারের দোষ চাপিয়ে আমরা শেষমেশ কী খাব, সেটাই বুঝতে পারব না!

করোনা ভ্যাকসিন কি ক্যান্সার করে?বেশ কয়েকবছর আগের কথা। নোটবন্দি নিয়ে সারা দেশ সরগরম। তখন আমি এমডি করছি এসএসকেএমে। সেদিন...
21/03/2026

করোনা ভ্যাকসিন কি ক্যান্সার করে?

বেশ কয়েকবছর আগের কথা। নোটবন্দি নিয়ে সারা দেশ সরগরম। তখন আমি এমডি করছি এসএসকেএমে। সেদিন পাড়ার চায়ের দোকানে আড্ডা জমে উঠেছে—একজন জেঠু বললেন, “বুঝলে শুনছি, ২০০০ টাকার নোটে নাকি চিপ আছে! স্যাটেলাইট দিয়ে ট্র্যাক করা যাবে! হু হু বাবা, কালো টাকা আর লুকিয়ে রাখা যাবে না” আরেকজন সঙ্গে সঙ্গে বললেন, “হ্যাঁ হ্যাঁ, হোয়াটসঅ্যাপে শুনেছি ১২০ মিটার নিচে মাটিতে পুঁতে লুকোলেও স্যাটেলাইট ধরে নেবে!” আমি হেসে বললাম, “তাহলে এত যে নোট ঘুরছে, কেউ কি কোনও চিপ দেখল?” জেঠু একটু থেমে বললেন, “ওটা তোর মোবাইলের চিপ নয়, মাইক্রোচিপ, তাই ধরা যায় না।” পাশ থেকে দোকানদার বললেন, “রিজার্ভ ব্যাঙ্ক তো বলেছিল—কোনও চিপ নেই, এটা গুজব।” জেঠু হাত নেড়ে বললেন, “হুঁহ্‌, ওরা সব বলে নাকি!” আমি বললাম, “তাহলে যেটা প্রমাণসহ সামনে বলা হচ্ছে সেটা ভুল, আর ফরোয়ার্ড মেসেজটাই ঠিক?” কয়েক সেকেন্ড চুপচাপ, তারপর দোকানদার চা বাড়িয়ে দিয়ে বললেন, “দেখুন দাদা, গুজবটা সিনেমার মতো—রোমাঞ্চ আছে, রহস্য আছে। আর সত্যিটা? একদম সোজা, তাই কেউ শুনতে চায় না।” সত্যিই—চিল কান নিয়ে গেছে শুনলে আমরা চিলের পেছনে দৌড়ই, একবার নিজের কানে হাত দেওয়ার কথা ভাবি না।

একটা গুজব খুব ঘুরছে ফেসবুকে, যেটার সম্পর্কে সত্যি বলতে আমি কোনও দিন ভাবিইনি। অনেকেই আমায় প্রশ্ন করছেন—“ডাক্তারবাবু, কোভিড ভ্যাকসিন নেওয়ার পর অনেকের নাকি ক্যান্সার হচ্ছে। কোভিডের mRNA ভ্যাকসিন নাকি ক্যান্সার করে?… আমার মাকে ভ্যাকসিন দেওয়ার পরই মায়ের ক্যান্সার ধরা পড়লো। আমি কি ভ্যাকসিন নিয়ে ভুল করেছি?”

এই প্রশ্নটা এখন খুব সাধারণ। কারণ আমরা সবাই এমন একটা সময় পার করেছি, যখন প্রতিদিন নতুন নতুন তথ্য, গুজব আর অর্ধসত্য শুনেছি। তাই পরিষ্কারভাবে বিষয়টা বোঝা দরকার।

প্রথমেই সরাসরি উত্তর—এখন পর্যন্ত কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই যে করোনা ভ্যাকসিন ক্যান্সার সৃষ্টি করে।

এবার একটু ধীরে ধীরে বোঝা যাক কেন এই কথাটা বলা যায়।

করোনার mRNA ভ্যাকসিন আসলে শরীরকে শেখায় কীভাবে ভাইরাসকে চিনতে হয়। আমাদের শরীরকে একটা শহর ভাবুন, আর ইমিউন সিস্টেমকে সেই শহরের নিরাপত্তা রক্ষী। নতুন কোনও চোর এলে যদি গার্ড তাকে না চেনে, সে সহজেই ঢুকে পড়ে। ভ্যাকসিন ঠিক সেই চোরের একটা ছবি আগেই দেখিয়ে দেয়। ফলে পরে সত্যিকারের ভাইরাস এলে শরীর তাকে চিনে ফেলে এবং দ্রুত লড়াই শুরু করে।

“কিন্তু এই mRNA ভ্যাকসিন তো শরীরে ঢুকে ডিএনএ বদলে দিতে পারে! তখন তো জিনের পরিবর্তন হয়ে ক্যান্সার হতে পারে?”

না। কোভিড ভ্যাকসিন আপনার শরীরের ভেতরে থাকা ডিএনএ-এর সাথে দেখা করার সুযোগই পায় না। দাঁড়ান, একটা উদাহরণ দিয়ে বোঝাই।

চলুন, শরীরটাকে একটা বাড়ি ভেবে দেখি—তাহলেই সব পরিষ্কার হবে।

আমাদের শরীরের প্রতিটা কোষকে একটা ছোট বাড়ি ভাবুন। এই বাড়ির ভেতরে দুটো গুরুত্বপূর্ণ অংশ আছে।

একটা হলো নিউক্লিয়াস—এটা যেন বাড়ির ভেতরের লকার বা সেফ রুম, যেখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র রাখা থাকে। এই কাগজপত্রটাই হলো ডিএনএ, যেখানে আমাদের শরীরের সব নিয়ম লেখা থাকে।

আরেকটা হলো সাইটোপ্লাজম—এটা হলো বাড়ির বাকি খোলা জায়গা, যেখানে রান্না, কাজকর্ম, সবকিছু হয়।

এবার দেখুন ভ্যাকসিন কী করে। করোনার mRNA ভ্যাকসিন শরীরে ঢোকার পর এই “বাড়ির” ভেতরে আসে ঠিকই, কিন্তু সেটা নিউক্লিয়াসে ঢোকে না। মানে, সেফ রুমে ঢোকার কোনও ক্ষমতাই তার নেই। এটা থাকে শুধু সাইটোপ্লাজমে—অর্থাৎ বাড়ির খোলা কাজের জায়গায়। সেখানে গিয়ে mRNA একটা ছোট্ট নির্দেশ দেয়—“এই রকম দেখতে একটা প্রোটিন বানাও।” এই প্রোটিনটা হলো করোনার স্পাইক প্রোটিনের মতো দেখতে, কিন্তু নিজে কোনও ক্ষতি করে না। আমাদের কোষ সেই প্রোটিনটা বানায় সাইটোপ্লাজমেই, কারণ প্রোটিন তৈরি করার জন্য নিউক্লিয়াসে ঢোকার কোনও প্রয়োজন হয় না। তারপর ইমিউন সিস্টেম এই প্রোটিনটা দেখে চিনে ফেলে—“এই চেহারাটাই শত্রুর।”

এরপর শরীর অ্যান্টিবডি তৈরি করে, আর কিছু বিশেষ কোষ তৈরি করে, যারা ভবিষ্যতে ভাইরাস এলে দ্রুত আক্রমণ করতে পারে। কাজ শেষ হলে সেই mRNA নিজে থেকেই ভেঙে যায়। এটা কোথাও জমে থাকে না, আর নিউক্লিয়াসে গিয়ে ডিএনএ-কে ছোঁয় না।

এবার আসি ক্যান্সারের কথায়। ক্যান্সার শুরু হয় কোথায়? সেই নিউক্লিয়াসেই—যেখানে ডিএনএ থাকে। মানে, সেই সেফ রুমের ভেতরের কাগজপত্রে যখন ধীরে ধীরে ভুল জমতে থাকে, তখন সমস্যা শুরু হয়। এই ভুলগুলোকে আমরা বলি জেনেটিক পরিবর্তন বা মিউটেশন। এই পরিবর্তন একদিনে হয় না। অনেক বছর ধরে ধীরে ধীরে জমে। যখন এই ভুলগুলো এত বেশি হয়ে যায় যে কোষ আর নিয়ম মানে না—তখনই ক্যান্সার তৈরি হয়।

আবার বাড়ির উদাহরণে ফিরি। ভ্যাকসিন কাজ করছে বাড়ির বাইরের অংশে (সাইটোপ্লাজমে), আর ক্যান্সারের সমস্যা শুরু হয় ভেতরের সেফ রুমে (নিউক্লিয়াসে)। যেখানে ভ্যাকসিন ঢুকতেই পারে না, সেখানে গিয়ে কীভাবে কোনও পরিবর্তন করবে?

এই কারণেই বিজ্ঞানীরা স্পষ্টভাবে বলেন—mRNA ভ্যাকসিন ডিএনএ-কে বদলায় না, কারণ এটা নিউক্লিয়াসে প্রবেশই করে না। আর যেহেতু ক্যান্সার শুরু হয় ডিএনএ-র পরিবর্তন দিয়ে, তাই এই ভ্যাকসিন থেকে ক্যান্সার হওয়ার কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

দেখুন, ক্যান্সার একদিনে হয় না। আজ ভ্যাকসিন নিলাম, আর কাল ক্যান্সার হয়ে গেল—এভাবে ক্যান্সার তৈরি হয় না। সাধারণত বহু বছর ধরে শরীরের কোষে ছোট ছোট জেনেটিক পরিবর্তন জমতে জমতেই ক্যান্সার তৈরি হয়। তাই যদি কারও ভ্যাকসিন নেওয়ার কিছুদিন পর ক্যান্সার ধরা পড়ে, সেটার মানে এই নয় যে ভ্যাকসিনই কারণ। বরং রোগটা আগে থেকেই তৈরি হচ্ছিল—শুধু তখন গিয়ে ধরা পড়েছে।

তাহলে মানুষ কেন মনে করছে ক্যান্সার বেড়েছে?

এর একটা বড় কারণ হলো ডিটেকশন বা ধরা পড়ার সংখ্যা বেড়ে যাওয়া। করোনার সময় এবং তার পরে মানুষ অনেক বেশি হেলথ চেক-আপ, সিটি স্ক্যান, ব্লাড টেস্ট করিয়েছেন। ফলে আগে যেগুলো অজানা ছিল, সেগুলোও এখন ধরা পড়ছে। এতে অনেকের মনে হয়েছে—“ক্যান্সার হঠাৎ বেড়ে গেছে।” কিন্তু বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে ডায়াগনোসিস বেড়েছে, রোগ নয়। বিশ্বজুড়ে বড় বড় ডাটাবেস বিশ্লেষণ করে কোথাও দেখা যায়নি যে ভ্যাকসিন নেওয়ার পর ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়েছে।

ভ্যাকসিন কি ইমিউনিটি কমিয়ে দেয়? না, বরং উল্টোটা—ভ্যাকসিন ইমিউন সিস্টেমকে সক্রিয় করে।

তাহলে আসল সমস্যাটা কোথায়? মহামারির সময় অনেক মানুষ হাসপাতালে যেতে ভয় পেয়েছেন, অনেকের চিকিৎসা দেরিতে হয়েছে, স্ক্রিনিং বন্ধ ছিল। ফলে অনেক ক্যান্সার দেরিতে ধরা পড়েছে, এবং সেই কারণেই রোগের অবস্থা খারাপ হয়েছে। অর্থাৎ—সমস্যার মূল কারণ ভ্যাকসিন নয়, বরং মহামারির পরিস্থিতি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো কী বলছে? ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন, সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন, ন্যাশনাল ক্যান্সার ইনস্টিটিউট, ইউরোপিয়ান মেডিসিনস এজেন্সি—এই সব বড় সংস্থাগুলো নিয়মিত ভ্যাকসিনের সেফটি মনিটর করেছে। তাদের রিপোর্টে কোথাও করোনা ভ্যাকসিনকে ক্যান্সারের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি।

নতুন কিছু এলেই সন্দেহ হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু সেই সন্দেহের উত্তর খুঁজতে হবে বিজ্ঞানের কাছে, গুজবের কাছে নয়।

ক্যান্সার একটি জটিল রোগ—এর পেছনে বহু কারণ কাজ করে। কিন্তু আজ পর্যন্ত যা প্রমাণ আছে, তা খুব স্পষ্টভাবে বলছে—করোনা ভ্যাকসিন সেই কারণগুলোর মধ্যে পড়ে না।

না, করোনা ভ্যাকসিন ক্যান্সার করে না।

Address

242, AJC Bose Road
Kolkata

Opening Hours

Monday 9am - 5pm
Tuesday 9am - 5pm
Wednesday 9am - 5pm
Thursday 9am - 5pm
Friday 9am - 5pm
Saturday 9am - 5pm

Telephone

+919674446399

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dr. Rajib Bhattacharjee, Cancer Specialist, MD, ECMO posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to Dr. Rajib Bhattacharjee, Cancer Specialist, MD, ECMO:

Share

Share on Facebook Share on Twitter Share on LinkedIn
Share on Pinterest Share on Reddit Share via Email
Share on WhatsApp Share on Instagram Share on Telegram

Category