26/04/2026
কেমোথেরাপি দিতে গিয়ে আমরা একটা জিনিস প্রায়ই দেখি—রক্ত কমে যাওয়া, মানে অ্যানিমিয়া। বাইরে থেকে ছোট ব্যাপার মনে হলেও, রোগীর ওপর এর প্রভাব অনেক।
অনেক রোগী বলেন—
“আগের মতো হাঁটতে পারছি না, একটু কাজ করলেই হাঁপিয়ে যাচ্ছি, সবসময় ক্লান্ত লাগছে।”
এই ক্লান্তিটা অনেক সময় শুধু রোগের জন্য নয়, রক্ত কমে যাওয়ার জন্যও হতে পারে।
কেমোথেরাপি শরীরের রক্ত তৈরির প্রক্রিয়াকেও একটু চাপ দেয়। ফলে ধীরে ধীরে হিমোগ্লোবিন কমে যেতে পারে।
দুদিন আগে এই বিষয়টা নিয়েই আমরা কয়েকজন সহকর্মী মিলে আলোচনা করছিলাম—কীভাবে এই সমস্যাটাকে আরও ভালোভাবে সামলানো যায়।
সবচেয়ে পরিচিত উপায় হলো রক্ত দেওয়া (ব্লাড ট্রান্সফিউশন)। যখন খুব কমে যায়, তখন এটা দ্রুত আরাম দেয়। কিন্তু বারবার রক্ত দেওয়া সবসময় ভালো না।
কেন?
কারণ একটা বিষয় আছে—ট্রান্সফিউশন ইনডিউসড ইমিউনোমডুলেশন।
সহজ করে বললে, বাইরে থেকে রক্ত দিলে শরীরের নিজের ইমিউন সিস্টেম একটু “শান্ত” হয়ে যেতে পারে।
এখন যদি রোগী ইমিউনোথেরাপি নিচ্ছেন, তখন তো আমরা চাই শরীরের ইমিউন সিস্টেমটা বেশি সক্রিয় থাকুক, যাতে ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়তে পারে।
এই জায়গায় বারবার ট্রান্সফিউশন দিলে সেই ইমিউন প্রতিক্রিয়াটা কিছুটা কমে যেতে পারে—ফলে ইমিউনোথেরাপির কার্যকারিতাও কমে যেতে পারে।
তাই এখন আমরা শুধু ট্রান্সফিউশন-এর ওপর নির্ভর না করে অন্য দিকগুলোও দেখি।
যদি আয়রনের ঘাটতি থাকে, তাহলে আয়রন ইনফিউশন দিয়ে শরীরকে নিজে রক্ত তৈরি করতে সাহায্য করা যায়।
কিছু ক্ষেত্রে গ্রোথ ফ্যাক্টর (যেমন ডার্বাপোয়েটিন) ব্যবহার করা যায়, যা শরীরকে রক্ত বানাতে উৎসাহ দেয়।
তবে মনে রাখতে হবে—সব রোগীর জন্য এক নিয়ম নয়। কার ক্ষেত্রে কী উপযুক্ত, সেটা রোগীর অবস্থা দেখে ঠিক করতে হয়।
শেষ কথা—কেমোথেরাপির সময় অ্যানিমিয়া হওয়া বেশ কমন, কিন্তু সেটা ঠিকভাবে সামলানো খুব জরুরি।
আমাদের লক্ষ্য শুধু হিমোগ্লোবিন বাড়ানো নয়—সঠিকভাবে, বুদ্ধিমানের মতো, এমনভাবে চিকিৎসা করা যাতে রোগীর ভালোও থাকে, আর মূল চিকিৎসাটাও ভালোভাবে কাজ করে।