01/05/2026
মা দুর্গাই হলেন গন্ধেশ্বরী । ইনি ধন সম্পদ রক্ষা করেন । মা লক্ষ্মী রূপে ধন দান করেন । কিন্তু ধন রক্ষা করতে হবে । তাই মা মহামায়া ,গন্ধেশ্বরী রূপে প্রকট হয়েছেন । ধন যিনি দেন , ধনের রক্ষা তিনিই করেন । দেবী গন্ধেশ্বরী বৈশ্য অর্থাৎ বণিক দের পূজিতা । কারন বণিকরা ব্যবসা বাণিজ্য করেন ।
এর পৌরাণিকী কথা
" প্রতি বছর বৈশাখী পূর্ণিমাতে প্রত্যেক গন্ধবণিকের গৃহে শ্ৰীশ্ৰীগন্ধেশ্বরী দেবীর পূজা হয়ে থাকে।
এই গন্ধেশ্বরী দেবী সাক্ষাৎ ভগবতী দুর্গা। চতুর্ভুজা সিংহবাহিনী মূৰ্ত্তিতে ইনি গন্ধেশ্বরী দেবী রূপে আবিভূর্তা হয়ে গন্ধাসুরকে বধ করেন। সেই কারণে এনার নাম গন্ধেশ্বরী হয়।
সুভূতির ঔরসে ও তপতী-নাম্নী রাক্ষসীর গর্ভে গন্ধাসুর মহাদেবের বরে ত্রিভুবনবিজয়ী ও মহাবলশালী হয়ে জন্মগ্রহণ করে। সুভূতি বৈশ্যকন্যা সুরূপাকে হরণ করিতে গিয়ে বৈশ্যগণ দ্বারা অপমানিত তিরস্কৃত ও হৃতসৰ্ব্বস্ব হয় । পিতার সেই অপমানের প্রতিশোধ নেবার জন্য গন্ধাসুর বৈশ্যবংশ ধ্বংস করতে প্রবৃত্ত হয়। তার অনুচরগণ একদিন সুবর্ণবট নামক এক বৈশ্যকে বধ করলে, তার পূর্ণগর্ভা পত্নী চন্দ্রাবতী গর্ভস্থ শিশুকে রক্ষা করবার জন্য অরণ্যে প্রবেশ করেন। পথশ্রমে ক্লান্ত হয়ে তিনি অরণ্য-মধ্যে একটি কন্যা প্রসব করে গতানু হন। সৰ্ব্বজ্ঞ মহর্ষি কশ্যপ ধ্যানযোগে চন্দ্রাবতীর গর্ভে দেবী বসুন্ধরার অংশাবতার জন্মগ্রহণ করিয়াছেন অবগত হয়ে তাঁকে স্বকীয় আশ্রমে আনয়নপূর্ব্বক কন্যানিৰ্ব্বিশেষে প্রতিপালন করতে লাগিলেন। গুণজ্ঞ মহর্ষি সেই দিব্য সৌরভময়ী কন্যার গন্ধবতী নাম রাখিলেন ।
“ যৌবনোন্মুখী গন্ধবতী পিতার নিধন ও অরণ্য মধ্যে মাতার শোচনীয় মৃত্যুর কারণ অসুরগণের বিনাশকামনায় মহামায়ার তপস্যায় প্রবৃত্ত হলেন ।
গন্ধাসুর গন্ধবতীর অলৌকিক রূপ লাবণ্যের কথা জানে গন্ধবতীকে লাভ করবার জন্য সসৈন্যে তার আশ্রমে উপনীত হল। কিন্তু অসুরের চাটুবাদ বা ভীতিপ্রদর্শনে সেই তপোনিমগ্না গন্ধবতীর ধ্যানভঙ্গ হইল না। তখন ক্রুদ্ধ অসুর সবলে গন্ধবতীর কেশাকর্ষণ করিল, কিন্তু অসুরতেজ পরাভূত হল, গন্ধাসুর সেই তপ:কৃশা পঞ্চমবর্ষীয়া বালিকাকে যোগাসন থেকে বিচলিত করতে পারল না ।
“ গন্ধবতী বিচলিত হলেন না বটে, কিন্তু তদীয় হোমকুণ্ডস্থ বহ্নিরাশি বিচলিত হল। সহসা সেই বিচলিত বহ্নিরাশি থেকে এক দিব্য তেজ সমুত্থিত হয়ে সমস্ত তপোবনকে দুর্ণিরীক্ষ্য প্রতাপপুঞ্জে উদ্ভাসিত করল। অসুরপতি বিস্মিত ভীত ও মুগ্ধপ্রায় হয়ে সভয়ে কেশমুষ্টি পরিত্যাগ করে বিদ্যুৎবেগে সুদূরে গিয়ে দণ্ডায়মান হইল :
অত্যুৎকট জ্যোতির প্রভাবে সসৈন্যে অসুররাজ ক্ষণকালের জন্য অন্ধীভূত হলেন। অনন্তর দৃষ্টি প্রসন্ন হলে দেখলেন বিদ্যুৎ-তুল্য প্রতাপময়ী সিংহবাহিনী চতুর্ভুজা এক নারীমূৰ্ত্তি হোমকুণ্ড-সমীপে গন্ধবতীর পুরোভাগে দন্ডায়মান রয়েছেন। আর গন্ধবতী স্বকীয় গলদেশে উত্তরীয়-বল্কল অৰ্পণ করে আনতনয়নে সেই দেবদুর্লভ শ্রীপাদপদ্মের অপূৰ্ব্ব সৌন্দৰ্য্যরাশি দর্শন করছেন।”
অসুর তৎক্ষণাৎ দেবীর সাথে যুদ্ধে প্রবৃত্ত হল। ঘোরতর যুদ্ধের পর দেবী শূলাঘাতে অসুরের প্রাণ বিনাশ করলেন ও তাহার প্রকাণ্ড দেহ সমুদ্ৰ-মধ্যে নিক্ষেপ করলেন। দেবীর ইচ্ছায় সেই দেহ গন্ধদ্রব্যের আকর-ভূমি গন্ধদ্বীপরূপে পরিণত
হল ।
এই গন্ধেশ্বরী দেবীর-একটি উপাখ্যান আছে, তা ভবপুরাণে দেখতে পাওয়া যায়। তাতে গন্ধবতীর কোনও উল্লেখ নেই এবং গন্ধাসুরের বধের কারণও অন্য রূপে বর্ণিত আছে।
সেই উপাখ্যান-ভাগ এইরূপঃ-
“ গন্ধাসুর নারদের মুখে দেবীর অলৌকিক রূপলাবণ্যের কথা শ্রবণ করে মোহিত হয় এবং তাকে পত্নীরূপে লাভের আশা দুরশা ভেবে আশুতোষের কৃপাপ্রার্থী হয়ে কঠোর তপস্যা করে। ভগবান প্রসন্ন হলে, গন্ধাসুর শিবস্বারূপ্য-বর প্রার্থনা করে। আশুতোষ অসুর-রাজের অভিলষিত বরই অর্পণ করলেন । অসুর বরপ্রাপ্তিমাত্র রজতগিরিনিভ চারুচন্দ্রাবতংশ দিব্য শৈব মুৰ্ত্তি পরিগ্রহ করল। কিন্তু প্রকৃতিতে সেই অসুর-ভাবই অক্ষুণ্ণ রইল। তখন অসুর মহাদেবের পরোক্ষে কৈলাসে গমন পূৰ্ব্বক দাক্ষায়ণীকে প্রার্থনা করল। দেবী অসুরের দুরাশা দেখে মনে মনে হাস্য করে যুদ্ধে তার প্রাণ বিনাশ করিলেন । দেবীর ইচ্ছায় গন্ধাসুরের দেহ গন্ধমাদন পৰ্ব্বতরূপে পরিণত হল। দানবের ভিন্ন ভিন্ন অঙ্গ থেকে ভিন্ন ভিন্ন গন্ধদ্রব্যের উৎপত্তি হয়েছিল। অনন্তর দেবগণ দ্বারা দেবী পূজিত হয়ে গন্ধেশ্বরী নামে বিখ্যাত হলেন।”মা দুর্গাই হলেন গন্ধেশ্বরী । ইনি ধন সম্পদ রক্ষা করেন । মা লক্ষ্মী রূপে ধন দান করেন । কিন্তু ধন রক্ষা করতে হবে । তাই মা মহামায়া ,গন্ধেশ্বরী রূপে প্রকট হয়েছেন । ধন যিনি দেন , ধনের রক্ষা তিনিই করেন । দেবী গন্ধেশ্বরী বৈশ্য অর্থাৎ বণিক দের পূজিতা । কারন বণিকরা ব্যবসা বাণিজ্য করেন ।
এর পৌরাণিকী কথা
" প্রতি বছর বৈশাখী পূর্ণিমাতে প্রত্যেক গন্ধবণিকের গৃহে শ্ৰীশ্ৰীগন্ধেশ্বরী দেবীর পূজা হয়ে থাকে।
এই গন্ধেশ্বরী দেবী সাক্ষাৎ ভগবতী দুর্গা। চতুর্ভুজা সিংহবাহিনী মূৰ্ত্তিতে ইনি গন্ধেশ্বরী দেবী রূপে আবিভূর্তা হয়ে গন্ধাসুরকে বধ করেন। সেই কারণে এনার নাম গন্ধেশ্বরী হয়।
সুভূতির ঔরসে ও তপতী-নাম্নী রাক্ষসীর গর্ভে গন্ধাসুর মহাদেবের বরে ত্রিভুবনবিজয়ী ও মহাবলশালী হয়ে জন্মগ্রহণ করে। সুভূতি বৈশ্যকন্যা সুরূপাকে হরণ করিতে গিয়ে বৈশ্যগণ দ্বারা অপমানিত তিরস্কৃত ও হৃতসৰ্ব্বস্ব হয় । পিতার সেই অপমানের প্রতিশোধ নেবার জন্য গন্ধাসুর বৈশ্যবংশ ধ্বংস করতে প্রবৃত্ত হয়। তার অনুচরগণ একদিন সুবর্ণবট নামক এক বৈশ্যকে বধ করলে, তার পূর্ণগর্ভা পত্নী চন্দ্রাবতী গর্ভস্থ শিশুকে রক্ষা করবার জন্য অরণ্যে প্রবেশ করেন। পথশ্রমে ক্লান্ত হয়ে তিনি অরণ্য-মধ্যে একটি কন্যা প্রসব করে গতানু হন। সৰ্ব্বজ্ঞ মহর্ষি কশ্যপ ধ্যানযোগে চন্দ্রাবতীর গর্ভে দেবী বসুন্ধরার অংশাবতার জন্মগ্রহণ করিয়াছেন অবগত হয়ে তাঁকে স্বকীয় আশ্রমে আনয়নপূর্ব্বক কন্যানিৰ্ব্বিশেষে প্রতিপালন করতে লাগিলেন। গুণজ্ঞ মহর্ষি সেই দিব্য সৌরভময়ী কন্যার গন্ধবতী নাম রাখিলেন ।
“ যৌবনোন্মুখী গন্ধবতী পিতার নিধন ও অরণ্য মধ্যে মাতার শোচনীয় মৃত্যুর কারণ অসুরগণের বিনাশকামনায় মহামায়ার তপস্যায় প্রবৃত্ত হলেন ।
গন্ধাসুর গন্ধবতীর অলৌকিক রূপ লাবণ্যের কথা জানে গন্ধবতীকে লাভ করবার জন্য সসৈন্যে তার আশ্রমে উপনীত হল। কিন্তু অসুরের চাটুবাদ বা ভীতিপ্রদর্শনে সেই তপোনিমগ্না গন্ধবতীর ধ্যানভঙ্গ হইল না। তখন ক্রুদ্ধ অসুর সবলে গন্ধবতীর কেশাকর্ষণ করিল, কিন্তু অসুরতেজ পরাভূত হল, গন্ধাসুর সেই তপ:কৃশা পঞ্চমবর্ষীয়া বালিকাকে যোগাসন থেকে বিচলিত করতে পারল না ।
“ গন্ধবতী বিচলিত হলেন না বটে, কিন্তু তদীয় হোমকুণ্ডস্থ বহ্নিরাশি বিচলিত হল। সহসা সেই বিচলিত বহ্নিরাশি থেকে এক দিব্য তেজ সমুত্থিত হয়ে সমস্ত তপোবনকে দুর্ণিরীক্ষ্য প্রতাপপুঞ্জে উদ্ভাসিত করল। অসুরপতি বিস্মিত ভীত ও মুগ্ধপ্রায় হয়ে সভয়ে কেশমুষ্টি পরিত্যাগ করে বিদ্যুৎবেগে সুদূরে গিয়ে দণ্ডায়মান হইল :
অত্যুৎকট জ্যোতির প্রভাবে সসৈন্যে অসুররাজ ক্ষণকালের জন্য অন্ধীভূত হলেন। অনন্তর দৃষ্টি প্রসন্ন হলে দেখলেন বিদ্যুৎ-তুল্য প্রতাপময়ী সিংহবাহিনী চতুর্ভুজা এক নারীমূৰ্ত্তি হোমকুণ্ড-সমীপে গন্ধবতীর পুরোভাগে দন্ডায়মান রয়েছেন। আর গন্ধবতী স্বকীয় গলদেশে উত্তরীয়-বল্কল অৰ্পণ করে আনতনয়নে সেই দেবদুর্লভ শ্রীপাদপদ্মের অপূৰ্ব্ব সৌন্দৰ্য্যরাশি দর্শন করছেন।”
অসুর তৎক্ষণাৎ দেবীর সাথে যুদ্ধে প্রবৃত্ত হল। ঘোরতর যুদ্ধের পর দেবী শূলাঘাতে অসুরের প্রাণ বিনাশ করলেন ও তাহার প্রকাণ্ড দেহ সমুদ্ৰ-মধ্যে নিক্ষেপ করলেন। দেবীর ইচ্ছায় সেই দেহ গন্ধদ্রব্যের আকর-ভূমি গন্ধদ্বীপরূপে পরিণত
হল ।
এই গন্ধেশ্বরী দেবীর-একটি উপাখ্যান আছে, তা ভবপুরাণে দেখতে পাওয়া যায়। তাতে গন্ধবতীর কোনও উল্লেখ নেই এবং গন্ধাসুরের বধের কারণও অন্য রূপে বর্ণিত আছে।
সেই উপাখ্যান-ভাগ এইরূপঃ-
“ গন্ধাসুর নারদের মুখে দেবীর অলৌকিক রূপলাবণ্যের কথা শ্রবণ করে মোহিত হয় এবং তাকে পত্নীরূপে লাভের আশা দুরশা ভেবে আশুতোষের কৃপাপ্রার্থী হয়ে কঠোর তপস্যা করে। ভগবান প্রসন্ন হলে, গন্ধাসুর শিবস্বারূপ্য-বর প্রার্থনা করে। আশুতোষ অসুর-রাজের অভিলষিত বরই অর্পণ করলেন । অসুর বরপ্রাপ্তিমাত্র রজতগিরিনিভ চারুচন্দ্রাবতংশ দিব্য শৈব মুৰ্ত্তি পরিগ্রহ করল। কিন্তু প্রকৃতিতে সেই অসুর-ভাবই অক্ষুণ্ণ রইল। তখন অসুর মহাদেবের পরোক্ষে কৈলাসে গমন পূৰ্ব্বক দাক্ষায়ণীকে প্রার্থনা করল। দেবী অসুরের দুরাশা দেখে মনে মনে হাস্য করে যুদ্ধে তার প্রাণ বিনাশ করিলেন । দেবীর ইচ্ছায় গন্ধাসুরের দেহ গন্ধমাদন পৰ্ব্বতরূপে পরিণত হল। দানবের ভিন্ন ভিন্ন অঙ্গ থেকে ভিন্ন ভিন্ন গন্ধদ্রব্যের উৎপত্তি হয়েছিল। অনন্তর দেবগণ দ্বারা দেবী পূজিত হয়ে গন্ধেশ্বরী নামে বিখ্যাত হলেন।”🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺