ভক্তি ধারা।।

ভক্তি ধারা।। Bhakti Dhara is a platform for religious inspirations.

মা দুর্গাই হলেন গন্ধেশ্বরী । ইনি ধন সম্পদ রক্ষা করেন । মা লক্ষ্মী রূপে ধন দান করেন । কিন্তু ধন রক্ষা করতে হবে । তাই মা ম...
01/05/2026

মা দুর্গাই হলেন গন্ধেশ্বরী । ইনি ধন সম্পদ রক্ষা করেন । মা লক্ষ্মী রূপে ধন দান করেন । কিন্তু ধন রক্ষা করতে হবে । তাই মা মহামায়া ,গন্ধেশ্বরী রূপে প্রকট হয়েছেন । ধন যিনি দেন , ধনের রক্ষা তিনিই করেন । দেবী গন্ধেশ্বরী বৈশ্য অর্থাৎ বণিক দের পূজিতা । কারন বণিকরা ব্যবসা বাণিজ্য করেন ।
এর পৌরাণিকী কথা
" প্রতি বছর বৈশাখী পূর্ণিমাতে প্রত্যেক গন্ধবণিকের গৃহে শ্ৰীশ্ৰীগন্ধেশ্বরী দেবীর পূজা হয়ে থাকে।
এই গন্ধেশ্বরী দেবী সাক্ষাৎ ভগবতী দুর্গা। চতুর্ভুজা সিংহবাহিনী মূৰ্ত্তিতে ইনি গন্ধেশ্বরী দেবী রূপে আবিভূর্তা হয়ে গন্ধাসুরকে বধ করেন। সেই কারণে এনার নাম গন্ধেশ্বরী হয়।
সুভূতির ঔরসে ও তপতী-নাম্নী রাক্ষসীর গর্ভে গন্ধাসুর মহাদেবের বরে ত্রিভুবনবিজয়ী ও মহাবলশালী হয়ে জন্মগ্রহণ করে। সুভূতি বৈশ্যকন্যা সুরূপাকে হরণ করিতে গিয়ে বৈশ্যগণ দ্বারা অপমানিত তিরস্কৃত ও হৃতসৰ্ব্বস্ব হয় । পিতার সেই অপমানের প্রতিশোধ নেবার জন্য গন্ধাসুর বৈশ্যবংশ ধ্বংস করতে প্রবৃত্ত হয়। তার অনুচরগণ একদিন সুবর্ণবট নামক এক বৈশ্যকে বধ করলে, তার পূর্ণগর্ভা পত্নী চন্দ্রাবতী গর্ভস্থ শিশুকে রক্ষা করবার জন্য অরণ্যে প্রবেশ করেন। পথশ্রমে ক্লান্ত হয়ে তিনি অরণ্য-মধ্যে একটি কন্যা প্রসব করে গতানু হন। সৰ্ব্বজ্ঞ মহর্ষি কশ্যপ ধ্যানযোগে চন্দ্রাবতীর গর্ভে দেবী বসুন্ধরার অংশাবতার জন্মগ্রহণ করিয়াছেন অবগত হয়ে তাঁকে স্বকীয় আশ্রমে আনয়নপূর্ব্বক কন্যানিৰ্ব্বিশেষে প্রতিপালন করতে লাগিলেন। গুণজ্ঞ মহর্ষি সেই দিব্য সৌরভময়ী কন্যার গন্ধবতী নাম রাখিলেন ।
“ যৌবনোন্মুখী গন্ধবতী পিতার নিধন ও অরণ্য মধ্যে মাতার শোচনীয় মৃত্যুর কারণ অসুরগণের বিনাশকামনায় মহামায়ার তপস্যায় প্রবৃত্ত হলেন ।
গন্ধাসুর গন্ধবতীর অলৌকিক রূপ লাবণ্যের কথা জানে গন্ধবতীকে লাভ করবার জন্য সসৈন্যে তার আশ্রমে উপনীত হল। কিন্তু অসুরের চাটুবাদ বা ভীতিপ্রদর্শনে সেই তপোনিমগ্না গন্ধবতীর ধ্যানভঙ্গ হইল না। তখন ক্রুদ্ধ অসুর সবলে গন্ধবতীর কেশাকর্ষণ করিল, কিন্তু অসুরতেজ পরাভূত হল, গন্ধাসুর সেই তপ:কৃশা পঞ্চমবর্ষীয়া বালিকাকে যোগাসন থেকে বিচলিত করতে পারল না ।
“ গন্ধবতী বিচলিত হলেন না বটে, কিন্তু তদীয় হোমকুণ্ডস্থ বহ্নিরাশি বিচলিত হল। সহসা সেই বিচলিত বহ্নিরাশি থেকে এক দিব্য তেজ সমুত্থিত হয়ে সমস্ত তপোবনকে দুর্ণিরীক্ষ্য প্রতাপপুঞ্জে উদ্ভাসিত করল। অসুরপতি বিস্মিত ভীত ও মুগ্ধপ্রায় হয়ে সভয়ে কেশমুষ্টি পরিত্যাগ করে বিদ্যুৎবেগে সুদূরে গিয়ে দণ্ডায়মান হইল :
অত্যুৎকট জ্যোতির প্রভাবে সসৈন্যে অসুররাজ ক্ষণকালের জন্য অন্ধীভূত হলেন। অনন্তর দৃষ্টি প্রসন্ন হলে দেখলেন বিদ্যুৎ-তুল্য প্রতাপময়ী সিংহবাহিনী চতুর্ভুজা এক নারীমূৰ্ত্তি হোমকুণ্ড-সমীপে গন্ধবতীর পুরোভাগে দন্ডায়মান রয়েছেন। আর গন্ধবতী স্বকীয় গলদেশে উত্তরীয়-বল্কল অৰ্পণ করে আনতনয়নে সেই দেবদুর্লভ শ্রীপাদপদ্মের অপূৰ্ব্ব সৌন্দৰ্য্যরাশি দর্শন করছেন।”
অসুর তৎক্ষণাৎ দেবীর সাথে যুদ্ধে প্রবৃত্ত হল। ঘোরতর যুদ্ধের পর দেবী শূলাঘাতে অসুরের প্রাণ বিনাশ করলেন ও তাহার প্রকাণ্ড দেহ সমুদ্ৰ-মধ্যে নিক্ষেপ করলেন। দেবীর ইচ্ছায় সেই দেহ গন্ধদ্রব্যের আকর-ভূমি গন্ধদ্বীপরূপে পরিণত
হল ।
এই গন্ধেশ্বরী দেবীর-একটি উপাখ্যান আছে, তা ভবপুরাণে দেখতে পাওয়া যায়। তাতে গন্ধবতীর কোনও উল্লেখ নেই এবং গন্ধাসুরের বধের কারণও অন্য রূপে বর্ণিত আছে।
সেই উপাখ্যান-ভাগ এইরূপঃ-
“ গন্ধাসুর নারদের মুখে দেবীর অলৌকিক রূপলাবণ্যের কথা শ্রবণ করে মোহিত হয় এবং তাকে পত্নীরূপে লাভের আশা দুরশা ভেবে আশুতোষের কৃপাপ্রার্থী হয়ে কঠোর তপস্যা করে। ভগবান প্রসন্ন হলে, গন্ধাসুর শিবস্বারূপ্য-বর প্রার্থনা করে। আশুতোষ অসুর-রাজের অভিলষিত বরই অর্পণ করলেন । অসুর বরপ্রাপ্তিমাত্র রজতগিরিনিভ চারুচন্দ্রাবতংশ দিব্য শৈব মুৰ্ত্তি পরিগ্রহ করল। কিন্তু প্রকৃতিতে সেই অসুর-ভাবই অক্ষুণ্ণ রইল। তখন অসুর মহাদেবের পরোক্ষে কৈলাসে গমন পূৰ্ব্বক দাক্ষায়ণীকে প্রার্থনা করল। দেবী অসুরের দুরাশা দেখে মনে মনে হাস্য করে যুদ্ধে তার প্রাণ বিনাশ করিলেন । দেবীর ইচ্ছায় গন্ধাসুরের দেহ গন্ধমাদন পৰ্ব্বতরূপে পরিণত হল। দানবের ভিন্ন ভিন্ন অঙ্গ থেকে ভিন্ন ভিন্ন গন্ধদ্রব্যের উৎপত্তি হয়েছিল। অনন্তর দেবগণ দ্বারা দেবী পূজিত হয়ে গন্ধেশ্বরী নামে বিখ্যাত হলেন।”মা দুর্গাই হলেন গন্ধেশ্বরী । ইনি ধন সম্পদ রক্ষা করেন । মা লক্ষ্মী রূপে ধন দান করেন । কিন্তু ধন রক্ষা করতে হবে । তাই মা মহামায়া ,গন্ধেশ্বরী রূপে প্রকট হয়েছেন । ধন যিনি দেন , ধনের রক্ষা তিনিই করেন । দেবী গন্ধেশ্বরী বৈশ্য অর্থাৎ বণিক দের পূজিতা । কারন বণিকরা ব্যবসা বাণিজ্য করেন ।
এর পৌরাণিকী কথা
" প্রতি বছর বৈশাখী পূর্ণিমাতে প্রত্যেক গন্ধবণিকের গৃহে শ্ৰীশ্ৰীগন্ধেশ্বরী দেবীর পূজা হয়ে থাকে।
এই গন্ধেশ্বরী দেবী সাক্ষাৎ ভগবতী দুর্গা। চতুর্ভুজা সিংহবাহিনী মূৰ্ত্তিতে ইনি গন্ধেশ্বরী দেবী রূপে আবিভূর্তা হয়ে গন্ধাসুরকে বধ করেন। সেই কারণে এনার নাম গন্ধেশ্বরী হয়।
সুভূতির ঔরসে ও তপতী-নাম্নী রাক্ষসীর গর্ভে গন্ধাসুর মহাদেবের বরে ত্রিভুবনবিজয়ী ও মহাবলশালী হয়ে জন্মগ্রহণ করে। সুভূতি বৈশ্যকন্যা সুরূপাকে হরণ করিতে গিয়ে বৈশ্যগণ দ্বারা অপমানিত তিরস্কৃত ও হৃতসৰ্ব্বস্ব হয় । পিতার সেই অপমানের প্রতিশোধ নেবার জন্য গন্ধাসুর বৈশ্যবংশ ধ্বংস করতে প্রবৃত্ত হয়। তার অনুচরগণ একদিন সুবর্ণবট নামক এক বৈশ্যকে বধ করলে, তার পূর্ণগর্ভা পত্নী চন্দ্রাবতী গর্ভস্থ শিশুকে রক্ষা করবার জন্য অরণ্যে প্রবেশ করেন। পথশ্রমে ক্লান্ত হয়ে তিনি অরণ্য-মধ্যে একটি কন্যা প্রসব করে গতানু হন। সৰ্ব্বজ্ঞ মহর্ষি কশ্যপ ধ্যানযোগে চন্দ্রাবতীর গর্ভে দেবী বসুন্ধরার অংশাবতার জন্মগ্রহণ করিয়াছেন অবগত হয়ে তাঁকে স্বকীয় আশ্রমে আনয়নপূর্ব্বক কন্যানিৰ্ব্বিশেষে প্রতিপালন করতে লাগিলেন। গুণজ্ঞ মহর্ষি সেই দিব্য সৌরভময়ী কন্যার গন্ধবতী নাম রাখিলেন ।
“ যৌবনোন্মুখী গন্ধবতী পিতার নিধন ও অরণ্য মধ্যে মাতার শোচনীয় মৃত্যুর কারণ অসুরগণের বিনাশকামনায় মহামায়ার তপস্যায় প্রবৃত্ত হলেন ।
গন্ধাসুর গন্ধবতীর অলৌকিক রূপ লাবণ্যের কথা জানে গন্ধবতীকে লাভ করবার জন্য সসৈন্যে তার আশ্রমে উপনীত হল। কিন্তু অসুরের চাটুবাদ বা ভীতিপ্রদর্শনে সেই তপোনিমগ্না গন্ধবতীর ধ্যানভঙ্গ হইল না। তখন ক্রুদ্ধ অসুর সবলে গন্ধবতীর কেশাকর্ষণ করিল, কিন্তু অসুরতেজ পরাভূত হল, গন্ধাসুর সেই তপ:কৃশা পঞ্চমবর্ষীয়া বালিকাকে যোগাসন থেকে বিচলিত করতে পারল না ।
“ গন্ধবতী বিচলিত হলেন না বটে, কিন্তু তদীয় হোমকুণ্ডস্থ বহ্নিরাশি বিচলিত হল। সহসা সেই বিচলিত বহ্নিরাশি থেকে এক দিব্য তেজ সমুত্থিত হয়ে সমস্ত তপোবনকে দুর্ণিরীক্ষ্য প্রতাপপুঞ্জে উদ্ভাসিত করল। অসুরপতি বিস্মিত ভীত ও মুগ্ধপ্রায় হয়ে সভয়ে কেশমুষ্টি পরিত্যাগ করে বিদ্যুৎবেগে সুদূরে গিয়ে দণ্ডায়মান হইল :
অত্যুৎকট জ্যোতির প্রভাবে সসৈন্যে অসুররাজ ক্ষণকালের জন্য অন্ধীভূত হলেন। অনন্তর দৃষ্টি প্রসন্ন হলে দেখলেন বিদ্যুৎ-তুল্য প্রতাপময়ী সিংহবাহিনী চতুর্ভুজা এক নারীমূৰ্ত্তি হোমকুণ্ড-সমীপে গন্ধবতীর পুরোভাগে দন্ডায়মান রয়েছেন। আর গন্ধবতী স্বকীয় গলদেশে উত্তরীয়-বল্কল অৰ্পণ করে আনতনয়নে সেই দেবদুর্লভ শ্রীপাদপদ্মের অপূৰ্ব্ব সৌন্দৰ্য্যরাশি দর্শন করছেন।”
অসুর তৎক্ষণাৎ দেবীর সাথে যুদ্ধে প্রবৃত্ত হল। ঘোরতর যুদ্ধের পর দেবী শূলাঘাতে অসুরের প্রাণ বিনাশ করলেন ও তাহার প্রকাণ্ড দেহ সমুদ্ৰ-মধ্যে নিক্ষেপ করলেন। দেবীর ইচ্ছায় সেই দেহ গন্ধদ্রব্যের আকর-ভূমি গন্ধদ্বীপরূপে পরিণত
হল ।
এই গন্ধেশ্বরী দেবীর-একটি উপাখ্যান আছে, তা ভবপুরাণে দেখতে পাওয়া যায়। তাতে গন্ধবতীর কোনও উল্লেখ নেই এবং গন্ধাসুরের বধের কারণও অন্য রূপে বর্ণিত আছে।
সেই উপাখ্যান-ভাগ এইরূপঃ-
“ গন্ধাসুর নারদের মুখে দেবীর অলৌকিক রূপলাবণ্যের কথা শ্রবণ করে মোহিত হয় এবং তাকে পত্নীরূপে লাভের আশা দুরশা ভেবে আশুতোষের কৃপাপ্রার্থী হয়ে কঠোর তপস্যা করে। ভগবান প্রসন্ন হলে, গন্ধাসুর শিবস্বারূপ্য-বর প্রার্থনা করে। আশুতোষ অসুর-রাজের অভিলষিত বরই অর্পণ করলেন । অসুর বরপ্রাপ্তিমাত্র রজতগিরিনিভ চারুচন্দ্রাবতংশ দিব্য শৈব মুৰ্ত্তি পরিগ্রহ করল। কিন্তু প্রকৃতিতে সেই অসুর-ভাবই অক্ষুণ্ণ রইল। তখন অসুর মহাদেবের পরোক্ষে কৈলাসে গমন পূৰ্ব্বক দাক্ষায়ণীকে প্রার্থনা করল। দেবী অসুরের দুরাশা দেখে মনে মনে হাস্য করে যুদ্ধে তার প্রাণ বিনাশ করিলেন । দেবীর ইচ্ছায় গন্ধাসুরের দেহ গন্ধমাদন পৰ্ব্বতরূপে পরিণত হল। দানবের ভিন্ন ভিন্ন অঙ্গ থেকে ভিন্ন ভিন্ন গন্ধদ্রব্যের উৎপত্তি হয়েছিল। অনন্তর দেবগণ দ্বারা দেবী পূজিত হয়ে গন্ধেশ্বরী নামে বিখ্যাত হলেন।”🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺🌺

বাঙালি উৎসবপ্রিয় একটা জাতি। ঋতুর পালাবদলের মতোই বাঙালিদের জীবনে উৎসব আসে একের পর এক। তাই তো কথায় আছে, “বারো মাসে তেরো পা...
19/04/2026

বাঙালি উৎসবপ্রিয় একটা জাতি। ঋতুর পালাবদলের মতোই বাঙালিদের জীবনে উৎসব আসে একের পর এক। তাই তো কথায় আছে, “বারো মাসে তেরো পার্বণ”! প্রকৃতি, ধর্ম, সংস্কৃতি ও লোকাচারের মেলবন্ধনে এই পার্বণগুলো বাঙালির জীবনকে রঙিন করে তোলে।
বাঙালি মানেই সব জায়গায় পৌঁছতে লেট! বাঙালি মানেই অলস, বাঙালি মানেই ঘরকুনো— আরও কত্ত কী! আর সেই বাঙালি যখন উৎসবের মরসুম আসে, তখন হয়ে যায় সবচেয়ে চনমনে। আসলে বাঙালি উৎসবপ্রিয় একটা জাতি। ঋতুর পালাবদলের মতোই বাঙালিদের জীবনে উৎসব আসে একের পর এক। তাই তো কথায় আছে, “বারো মাসে তেরো পার্বণ”! প্রকৃতি, ধর্ম, সংস্কৃতি ও লোকাচারের মেলবন্ধনে এই পার্বণগুলো বাঙালির জীবনকে রঙিন করে তোলে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, এই তেরো পার্বণ ঠিক কোন কোন উৎসবকে বোঝায়।
১) বাংলা নববর্ষ –
বাঙালির বারে মাসে তেরো পার্বণের প্রথমেই যেটা আসে পয়লা বৈশাখে, বাংলা নববর্ষ। এদিন দেখা যায় দোকানে দোকানে হালখাতা, বাড়িতে ঐতিহ্যবাহী রান্না, আর সবার মুখে হাসি। এ যেন বাঙালিয়ানার এক প্রকৃত প্রতিচ্ছবি।
২) জামাই ষষ্ঠী –
জ্যৈষ্ঠ মাসের শুক্ল পক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে ষষ্ঠী পুজো করা হয়। এই দিন শাশুড়িরা জামাইকে বাড়িতে ডেকে নানা খাবার পেটপুরে খাওয়ায় এবং আশীর্বাদ করেন।
৩) রথযাত্রা –
আষাঢ় মাসে হয় রথযাত্রা। প্রথমে হয় সোজা রথ। আর তার ৮দিন পর হয় উল্টোরথ। পুরী তে তো বটেই, সেইসঙ্গে মাহেশ ও আরও নানা জায়গায় রথযাত্রা ধুমধাম করে পালিত হয়।

৪) শিব পুজো –
গোটা শ্রাবণ মাসজুড়ে শিবের ভক্তরা বিশেষ করে শিব পুজো করে থাকেন। সকলের বিশ্বাস এই মাসে মহাদেবের পুজো করলে জীবনে বিরাট পরিবর্তন হয়। জীবনে সুখ-সমৃদ্ধি আসে।

৫) মনসা পুজো –
গ্রাম বাংলায় এই পুজো মহাসমারোহে হয়। মাটির মূর্তি, মনসা গাছ বা মনসার থানে পুজো হয়। ঘট স্থাপন করা হয়। মনসা সাপের দেবী। তাই তাঁর আরাধনা করে সর্পদংশন এড়ানোর কামনা করেন অনেকে।

৬) জন্মাষ্টমী –
হিন্দুদের এক জনপ্রিয় উৎসব জন্মাষ্টমী। এদিনটি ভগবান বিষ্ণুর অবতার কৃষ্ণের জন্মদিন হিসেবে পালন করা হয়। ভাদ্রমাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে জন্মাষ্টমী।

৭) দুর্গাপুজো –
বাঙালিদের শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো। যা বারো মাসে তেরো পার্বণের মধ্যে অন্যতম। কমবেশি সারা দেশজুড়েই এই উৎসব পালিত হয়।

৮) কালীপুজো –
দশমহাবিদ্যার প্রথম মহাবিদ্যা কালী। কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথিতে বাঙালিরা কালীপুজো উদযাপন করেন। যা দীপান্বিতা কালী পুজো বলেও পরিচিত। দেশের নানা প্রান্তে এই দিনটিতে আলোর উৎসব দীপাবলিও পালিত হয়।

৯) ভাইফোঁটা –
বাঙালিরা যে উৎসবকে ভাইফোঁটা বলে, তা দেশের নানা প্রান্তে ‘ভাইদুজ’ বলেও পরিচিত। এ ছাড়া এই দিনকে ভ্রাতৃদ্বিতীয়ও বলা হয়। কার্তিক মাসের শুক্লা দ্বিতীয়া তিথিতে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।

১০) অঘ্রানে নবান্ন –
গ্রাম বাংলায় এই উৎসবের বিরাট গুরুত্ব রয়েছে। অগ্রহায়ণ মাসে নতুন ধান ওঠার সময় এই উৎসব পালিত হয়। সকলেই প্রার্থনা করেন, যেন অধিক শস্য লাভ হয়।

১১) পিঠেপুলি উৎসব –
পৌষ মাসে বাঙালিরা পিঠেপুলি উৎসবে মেতে ওঠে। এই সময় অনেকে নতুন গুড়, চাল দিয়ে নানারকম সুস্বাদু পিঠেপুলি তৈরি করে থাকেন।

১২) সরস্বতী পুজো –
মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের পঞ্চমী তিথিতে বিদ্যাদেবীর আরাধনা করা হয়। স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটিতে তো বটেই, পাশাপাশি অনেকে বাড়িতে সরস্বতী পুজো করে থাকেন।

১৩) দোলযাত্রা –
বসন্ত কাল মানেই রঙের খেলা, রঙের মেলা দোলযাত্রা। বৈষ্ণবদের বিশ্বাস ফাল্গুনী পূর্ণিমা বা দোল পূর্ণিমার দিন বৃন্দাবনে শ্রীকৃষ্ণ রঙ (আবির বা গুলাল) নিয়ে রাধারাণী ও অন্য গোপীদের সঙ্গে খেলায় মেতেছিলেন।

বৈষ্ণব এবং শৈব সংস্কৃতির এক অনন্য মিলনস্থল হল "শ্রীখণ্ড"  বা "শ্রীপাট শ্রীখণ্ড"। পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়া মহকুমার শ্র...
13/04/2026

বৈষ্ণব এবং শৈব সংস্কৃতির এক অনন্য মিলনস্থল হল "শ্রীখণ্ড" বা "শ্রীপাট শ্রীখণ্ড"। পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়া মহকুমার শ্রীখণ্ড হল একটা গ্রাম। এই গ্রামেই অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী "ভূতনাথ মন্দির", প্রায় ১২৫০ বছরের পুরোনো একটি শিব মন্দির। এটি একটি প্রাচীন জাগ্রত শিবলিঙ্গ। জনশ্রুতি অনুযায়ী, এক রাজা স্বপ্নাদেশ পেয়ে জঙ্গলের মধ্যে থেকে এই শিবলিঙ্গ আবিষ্কার করেছিলেন। এখানে তান্ত্রিক মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে নিত্যপূজা হয়। এখানকার বিখ্যাত 'ভূতনাথ গাজন' বাংলার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান।
বর্ধমান-কাটোয়া লাইনের শ্রীপাট শ্রীখণ্ড স্টেশনে নেমে সহজেই এখানে পৌঁছানো যায়।
#ভূতনাথবাবা

স্থানীয়দের দাবি, গোটা কলকাতায় এত বড় শিবলিঙ্গ আর নেই। বিশালাকৃতি এই শিবলিঙ্গের জন্যই তাঁর নাম হয়েছে ‘মোটা মহাদেব’। শি...
12/04/2026

স্থানীয়দের দাবি, গোটা কলকাতায় এত বড় শিবলিঙ্গ আর নেই। বিশালাকৃতি এই শিবলিঙ্গের জন্যই তাঁর নাম হয়েছে ‘মোটা মহাদেব’। শিবলিঙ্গের মাথায় জল ঢালতে ভক্তদের লোহার সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতে হয়। প্রতিদিন দূর দূরান্ত থেকে বহু মানুষ আসেন মহাদেবের আশীর্বাদ পেতে। শিবরাত্রিতে এখানে উপচে পড়ে ভিড়, কারও হাতে দুধ, কারও হাতে গঙ্গাজল, কারও হাতে বেলপাতা।
শিবকে আমরা চিনি ভোলানাথ নির্লিপ্ত, মুক্তির দেবতা হিসেবে। সেই মহাদেবকেই যদি শিকল দিয়ে বেঁধে রাখতে হয়! ভাবলেই কেমন এক শিহরণ জাগে তাই না? অথচ উত্তর কলকাতায় এমনই এক প্রাচীন মন্দির আছে, যেখানে প্রায় তিনশো বছর ধরে ভক্তদের বিশ্বাস—মহাদেবকে শিকল দিয়ে বেঁধে না রাখলে তিনি নাকি নিজেই গঙ্গায় চলে যান। প্রায় ১০ ফুট উঁচু ‘মোটা মহাদেব’ এর গল্প জানেন?
স্থানীয়দের দাবি, গোটা কলকাতায় এত বড় শিবলিঙ্গ আর নেই। বিশালাকৃতি এই শিবলিঙ্গের জন্যই তাঁর নাম হয়েছে ‘মোটা মহাদেব’। শিবলিঙ্গের মাথায় জল ঢালতে ভক্তদের লোহার সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতে হয়। প্রতিদিন দূর দূরান্ত থেকে বহু মানুষ আসেন মহাদেবের আশীর্বাদ পেতে। শিবরাত্রিতে এখানে উপচে পড়ে ভিড়—কারও হাতে দুধ, কারও হাতে গঙ্গাজল, কারও হাতে বেলপাতা।
মন্দিরটির নাম ‘দুর্গেশ্বর মোটা মহাদেব মন্দির ‘ ইতিহাস ঘাঁটলে জানা যায়, আঠারো শতকের শেষ দিকে, আনুমানিক ১৭৯৪ সালের কাছাকাছি সময়ে হাটখোলার দত্ত পরিবার এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। স্থাপত্যশৈলী আটচালা ধাঁচের এই মন্দির। বাইরে থেকে দেখলে আজ জরাজীর্ণ, পলেস্তারা খসে পড়েছে, বটগাছের ঝুরি নেমে এসেছে দেয়াল বেয়ে। তবু ভেতরে ঢুকলেই এক অন্য আবহ।
এই মন্দিরকে ঘিরে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়—লোহার মোটা শিকল। জনশ্রুতি বলছে, বহু বছর আগে একদিন গর্ভগৃহের দরজা খুলে দেখা যায়, শিবলিঙ্গ নাকি স্থানচ্যুত। পরে গঙ্গা থেকে উদ্ধার করা হয়। এরপর থেকেই মহাদেবকে শিকল দিয়ে ‘বেঁধে’ রাখা হয়, যাতে তিনি আর না যেতে পারেন। ভক্তদের বিশ্বাসে আজও ৩০০ বছর ধরে মহাদেব এই মন্দিরে বিরাজ করছেন।

মন্দিরের পুরোহিতরা অবশ্য একে অলৌকিক ঘটনা বলে মানতে নারাজ। তাঁদের মতে, এটি লোকমুখে ছড়িয়ে পড়া কাহিনি। তবে মন্দির প্রাঙ্গণে বহু পুরনো বিশাল লোহার শিকল আজও পড়ে থাকতে দেখা যায়, যা রহস্যকে আরও ঘনীভূত করে। ঐতিহাসিক প্রমাণ না মিললেও ভক্তদের বিশ্বাস আজও অটুট।

আরও একটি প্রশ্ন বহু ভক্তের—মন্দিরের দরজা তুলনায় ছোট, অথচ শিবলিঙ্গ বিশাল। এত বড় বিগ্রহ ভেতরে এল কীভাবে? অনেকের ধারণা, শিবলিঙ্গটি আগে থেকেই সেখানে ছিল, পরে তাকে ঘিরেই মন্দির গড়ে ওঠে। যদিও এ নিয়ে লিখিত প্রমাণ খুব সীমিত।

শিবরাত্রিতে এখানে ভোর থেকে শুরু হয় বিশেষ পূজা। মঙ্গলারতি, ভোগ আরতি, সন্ধ্যা আরতি সব মিলিয়ে দিনভর ভক্তদের আনাগোনা। স্থানীয়দের কাছে এই মন্দির শুধু ধর্মীয় স্থান নয়, প্রায় তিনশো বছরের ঐতিহ্যের সাক্ষী।☘️☘️☘️☘️☘️

সমুদ্রের অতল জলে হারিয়ে গেল এক দীপ্তিমান প্রাণ, এক উজ্জ্বল প্রতিভা।রাহুল, ঢেউয়ের ওপারেও তুমি বেঁচে থাকবে সকলের হৃদয়ের...
30/03/2026

সমুদ্রের অতল জলে হারিয়ে গেল এক দীপ্তিমান প্রাণ, এক উজ্জ্বল প্রতিভা।
রাহুল, ঢেউয়ের ওপারেও তুমি বেঁচে থাকবে সকলের হৃদয়ের গভীরে। 🙏🏻🙏🏻🙏🏻 Rahul Arunoday Banerjee (Fan page)

‘ভারতচন্দ্র ও অন্নদামঙ্গল’– রানা চক্রবর্তীরায় গুণাকর ভারতচন্দ্র শুধুমাত্র বাংলা সাহিত্যের একজন শ্রেষ্ঠ কবি নন, তিনি নিজে...
25/03/2026

‘ভারতচন্দ্র ও অন্নদামঙ্গল’
– রানা চক্রবর্তী

রায় গুণাকর ভারতচন্দ্র শুধুমাত্র বাংলা সাহিত্যের একজন শ্রেষ্ঠ কবি নন, তিনি নিজেই যেন একটা সমগ্র যুগের প্রতিনিধি। তিনি খৃষ্টীয় অষ্টাদশ শতাব্দীর বাংলার নবজাগ্রত বিদগ্ধ নাগরিক সমাজের একজন ঐতিহাসিক প্রতিনিধি। সেই সমাজে যেমন শিক্ষা, সংস্কৃতি ও আভিজাত্যের অপরূপ সমন্বয় ঘটেছিল, তেমনি তাতে সরলতা, অকপটতা ও আদর্শনিষ্ঠার যে যথেষ্ট পরিমাণে অভাব ছিল — সে বিষয়ে ঐতিহাসিকদের মনে কোন ধরণের সন্দেহ নেই। ভারতচন্দ্রের ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যে সেই সমাজের ছাপটি পুরোপুরিভাবে পড়েছিল। তাই ভাষার লাবণ্যে, ছন্দের নৈপুণ্যে ও শ্লোকের চাতুর্য্যে অন্নদামঙ্গল কাব্য যেমন তুলনারহিত, তেমনি তাতে অনুভূতির গভীরতা ও আন্তরিকতাটুকুও প্রায় অনুপস্থিত রয়েছে বলে দেখতে পাওয়া যায়। এই প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছিলেন —
“রাজসভাকবি রায়গুণাকরের অন্নদামঙ্গল গান রাজকণ্ঠের মণিমালার মতো, যেমন তাহার উজ্জ্বলতা, তেমনি তাহার কারুকার্য।”
তাঁর এই উক্তির মধ্যে যেমন ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গলের চরম প্রশংসা রয়েছে, তেমনি সেই ক্যব্যের অপূর্ণতাটুকুও উদ্‌ঘাটিত হয়েছে। মণিমালার সৌন্দর্য্য ও গঠনচাতুর্য যতই অপূর্ব হোক না কেন বা যতই বহুমূল্য হোক না কেন — বাস্তবে সেটা ফুলের মালার অপার্থিব সৌরভ থেকে বঞ্চিতই থাকে। অনুভূতির গভীরতা ও অকপটতাই যেকোন কাব্যের সৌরভ হয়, ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গলে কিন্তু সেটা নেই। তবুও ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল নিজের অপরূপ লাবণ্যে প্রায় দু’শো বছরের বেশি সময় ধরে বাঙালীকে মুগ্ধ করে রেখেছে। সাহিত্য গবেষকদের মতে — এই কাব্যটি রচিত হওয়ার পরে শতাধিক বর্ষ পর্যন্ত — গুণ বা জনপ্রিয়তা — কোন দিক থেকেই বাংলা ভাষায় এটির প্রতিদ্বন্দ্বী দ্বিতীয় কোন কাব্য সৃষ্টি হতে পারেনি। তবে বর্তমানে অবশ্য এই কাব্যটির সেই অপ্রতিদ্বন্দ্বী শ্রেষ্ঠত্ব আর অক্ষুণ্ণ নেই; কারণ— অতীতে মধুসূদন দত্ত, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, রমেশচন্দ্র দত্ত প্রভৃতি মনীষীদের বিরূপ সমালোচনার ফলে শিক্ষিত বাঙালী সমাজে এই কাব্যটির জনপ্রিয়তাও সাময়িকভাবে খর্ব হয়েছিল। কিন্তু কাব্যটি নিয়ে পরবর্তীযুগের সমালোচকদের দৃষ্টি-ভঙ্গীর পরিবর্তন ঘটবার ফলে ভারতচন্দ্র পুনরায় তাঁর নিজের পূর্ণ মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলেন।
সাধারণভাবে ১৬৭৪ শকাব্দ বা ১৭৫২-৫৩ খৃষ্টাব্দকে ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গলের রচনাকাল বলা হয়ে থাকে —

“বেদ লয়ে ঋষি রসে ব্রহ্ম নিরূপিলা। সেই শকে এই গীত ভারত রচিলা॥”

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত সর্বপ্রথম ভারতচন্দ্রের জীবনকাহিনী সংগ্রহ করে প্রকাশিত করেছিলেন। তারপর থেকে সকলেই তাঁর প্রচারিত সেই জীবনকাহিনীর সবকথা সত্যি বলে বিশ্বাস করে আসছেন। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ভারতচন্দ্রের জীবনকাহিনীটি সরাসরিভাবে তাঁর পৌত্রের কাছ থেকে শুনেছিলেন। সুতরাং তাঁর বর্ণিত ঘটনাগুলি মোটামুটিভাবে সত্যি হওয়াই সম্ভব। তবে ঈশ্বরচন্দ্র কথিত ভারতচন্দ্রের জীবনের বিভিন্ন ঘটনার পারম্পর্য কিন্তু নিখুঁত নয়। বরং সেটার মধ্যে ইতিহাসগত দিক থেকে যথেষ্ট কালবৈষম্যের নিদর্শন পাওয়া যায়। একটি উদাহরণ দেওয়া যাক।
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত কর্তৃক প্রকাশিত ভারতচন্দ্রের জীবনকাহিনীতে পাওয়া যায় যে, রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সান্নিধ্যে আসবার পরে তাঁরই অনুরোধে ভারতচন্দ্র অন্নদামঙ্গল কাব্যটি রচনা করেছিলেন, এবং তারপরে একদিন কৃষ্ণচন্দ্র কবির প্রার্থনা অনুসারে তাঁকে গঙ্গাতীরের মূলাজোড় গ্রামটি ইজারা দিয়েছিলেন। এরপরে বাংলায় যখন বর্গী হাঙ্গামার ঘটনা ঘটেছিল, তখন বর্ধমানরাজ তিলকচন্দ্রের মা বর্গী আক্রমণে বিধ্বস্ত হয়ে যাওয়া বর্ধমান ছেড়ে চলে এসে মূলাজোড়ের পাশের গ্রামে নিজের বসতি স্থাপন করেছিলেন। অতঃপর বর্ধমানরাজের জননী কৃষ্ণচন্দ্রের কাছ থেকে মূলাজোড় গ্রামটি ইজারা নিয়েছিলেন, এবং কৃষ্ণচন্দ্র তখন ভারতচন্দ্রকে অন্যত্র বসবাস করবার জন্য জমি দিলেও মূলাজোড়বাসীদের অনুরোধে ভারতচন্দ্র শেষপর্যন্ত সেখানেই থেকে গিয়েছিলেন।
তাহলে এই বিবরণ থেকে পাওয়া যাচ্ছে যে, ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল রচিত হওয়ার পরে বাংলায় বর্গী হাঙ্গামার ঘটনাটি ঘটেছিল। কিন্তু ভারতচন্দ্র নিজেই তাঁর অন্নদামঙ্গল কাব্যে জানিয়েছিলেন যে, ১৬৬৪ শকাব্দে বা ১৭৪২ খৃষ্টাব্দে বাংলায় বর্গী হাঙ্গামার ঘটনাটি ঘটেছিল, এবং সেই সময়ে আলীবর্দী খাঁ কৃষ্ণচন্দ্রকে বন্দী করেছিলেন। সেই বন্দীদশায় কৃষ্ণচন্দ্র একদিন স্বপ্নে দেবী অন্নদার আদেশ পেয়েছিলেন, যেটার ফলে তাঁর অনুরোধে ভারতচন্দ্র তাঁর অন্নদামঙ্গল কাব্যটি রচনা করেছিলেন। তাই অন্নদামঙ্গলের রচনাকাল হল ১৬৭৪ শকাব্দ বা ১৭৫২ খৃষ্টাব্দ। কিন্তু ইতিহাস বলে যে, ১৭৫০ খৃষ্টাব্দেই বঙ্গদেশে বর্গী হাঙ্গামার পরিসমাপ্তি ঘটে গিয়েছিল। সুতরাং— ঐতিহাসিক ঘটনাবলীর পারম্পর্য উল্লেখ করবার বিষয়ে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত এখানে ভুল করেছিলেন বলে দেখা যাচ্ছে। অবশ্য এবিষয়ে তিনি ভুল সংবাদও পেয়ে থাকতে পারেন।
ভারতচন্দ্রের জন্ম-সাল সম্বন্ধে ঈশ্বরচন্দ্র লিখেছিলেন —
“এই বিশ্ববিখ্যাত ভারতচন্দ্র রায় গুণাকর মহাশয় ১৬৩৪ শকে শুভক্ষণে অবনীমণ্ডলে অবতীর্ণ হয়েন।”
কিন্তু এরপরে অন্য একজায়গায় তিনি যা লিখেছিলেন, তাতে ভারতচন্দ্রের জন্ম-সাল নিয়ে কিছু গোলযোগের সৃষ্টি হয়েছিল। ভারতচন্দ্রের লেখা দুটি সত্যপীরের পাঁচালীর মধ্যে একটিতে — ‘সনে রুদ্র চৌগুণা’ — বলে সালের উল্লেখ করা হয়েছিল। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত এর অর্থ করেছিলেন — ১১৩৪ বঙ্গাব্দ বা ১৭২৭ খৃষ্টাব্দ। তিনি — ‘কতিপয় প্রামাণ্য ব্যক্তির’ — কাছ থেকে শুনেছিলেন যে, ভারতচন্দ্র মাত্র ১৫ বছর বয়সে সেই পাঁচালীটি রচনা করেছিলেন। এরপরে গুপ্তকবি লিখেছিলেন —
“তৎকালে ভারতের বয়স ১৫ বৎসর উত্তীর্ণ হয় নাই, কারণ শকের সহিত সালের গণনা করাতেই নির্দিষ্ট হইল তিনি বাঙ্গালা ১১১৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন।”
কিন্তু— বর্তমান সময়ের গবেষকদের মতে ‘সনে রুদ্র চৌগুণা’ = ১১৩৪ বঙ্গাব্দ হতে পারে না। কারণ— ‘চৌ’ শব্দটি একটি স্বতন্ত্র শব্দ হিসেবে ভারতচন্দ্রের সময়কার বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হত না, এবং অতীতের কোন বাঙালি কবিই একই অঙ্কের অর্ধেক বামা গতিতে এবং অর্ধেক দক্ষিণা গতিতে লেখেন নি। তাই বর্তমান সময়ের গবেষকদের মতে— ‘সনে রুদ্র চৌগুণা’—র একমাত্র সঙ্গত অর্থ হল — ১১৪৪ বঙ্গাব্দ বা ১৭৩৭ খৃষ্টাব্দ। সেক্ষেত্রে গুপ্তকবি প্রদত্ত তথ্যানুসারে ভারতচন্দ্রের জন্ম-সাল হয় ১৭২২ খৃষ্টাব্দ এবং ১৭৬০ খৃষ্টাব্দে মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল প্রায় ৩৮ বছর। কিন্তু ভারতচন্দ্র যে কমপক্ষে ৪০ বছর বয়স পর্যন্ত জীবিত ছিলেন, সেকথার প্রমাণ তাঁর ‘নাগাষ্টক’ কাব্য থেকেই পাওয়া যায়। উক্ত কাব্যটি রচনা করবার সময়ে তাঁর বয়স যে ৪০ বছর ছিল, ভারতচন্দ্র সেকথা নিজেই জানিয়েছিলেন। সুতরাং— মাত্র ১৫ বছর বয়সে ভারতচন্দ্রের ‘সত্যপীরের পাঁচালী’ রচনা করবার কথাটি, ইতিহাসগতভাবে সত্যি নয়। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত যদি সত্যপীরের পাঁচালীর রচনাকাল সম্বন্ধে তাঁর ধারণার উপরে নির্ভর করে ভারতচন্দ্রের জন্ম-সাল ঠিক করে থাকেন, তাহলে সেটাকে অন্ততঃ ইতিহাসের খাতিরে গ্রহণ করা চলে না। তবে তিনি স্বতন্ত্র কোন ঐতিহাসিক সূত্র থেকেও এই সালটি পেয়ে থাকতে পারেন। সুতরাং বিষয়টিকে সাবধানে ইতিহাসের কষ্টিপাথরে পরীক্ষা করবার দরকার রয়েছে।
ভারতচন্দ্রের জন্ম-সাল নির্ধারণ করতে হলে প্রথমেই ঠিক করতে হবে যে, তিনি কবে নাগাষ্টক কাব্যটি রচনা করেছিলেন। অতীতে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র ভট্টাচার্য অভিমত প্রকাশ করেছিলেন যে, ভারতচন্দ্রের নাগাষ্টক কাব্যটি ১৭৪৫ থেকে ১৭৫০ খৃষ্টাব্দের মধ্যে রচিত হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ের গবেষকদের মতে উক্ত কাব্যটি ১৭৪৫ খৃষ্টাব্দের পরে রচিত হয়েছিল বলে স্বীকার করা গেলেও ১৭৫০ খৃষ্টাব্দের মধ্যেই সেটার রচনা শেষ হয়ে গিয়েছিল — একথা স্বীকার করা সম্ভব নয়। এই প্রসঙ্গে দীনেশচন্দ্র ভট্টাচার্য জানিয়েছিলেন —
“১৭৫০ খ্রীঃ পরে বর্গীর হাঙ্গামার অবসানে নাগাষ্টক রচিত হওয়ার কথা নহে।”
অন্যদিকে ইতিহাস বলছে যে, বাংলায় বর্গী হাঙ্গামা চলবার সময়ে বর্ধমানের মহারাণী রামদেব নাগের নামে মূলাজোড় গ্রামটি ইজারা নিয়েছিলেন। এরপরে রামদেব নাগের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে ভারতচন্দ্র তাঁর নাগাষ্টক কাব্যটি লিখেছিলেন, কিন্তু কত পরে লিখেছিলেন — সে সম্বন্ধে ইতিহাস থেকে কিছু জানা যায় না। নাগাষ্টক কাব্যটি রচনা করবার সময়ে বাংলায় যে বর্গী হাঙ্গামা চলছিল, একথা কোন ঐতিহাসিক সূত্র থেকেই জানতে পারা যায় না। সুতরাং— ১৭৫০ খৃষ্টাব্দের পরে নাগাষ্টক কাব্যটি রচিত হয়েছিল বলে মনে করলে, ইতিহাসের দিক থেকে কোন অসঙ্গতি হয় না।
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত কথিত ভারতচন্দ্রের জীবনকাহিনীতে পাওয়া যায় যে, রামদেব নাগের নামে মূলাজোড় গ্রামটি ইজারা দেওয়ার পরে কৃষ্ণচন্দ্র ভারতচন্দ্রকে আনারপুর অঞ্চলে বসতি স্থাপন করবার জন্য কিছু জমি দান করেছিলেন। সাম্প্রতিক অতীতে ঐতিহাসিকেরা সেই জমিদানের দলিলটিও উদ্ধার করেছিলেন। সেটির প্রতিলিপি নিম্নরূপ —

“শ্রীশ্রীদুর্গা
শরণং

শ্রীতরঙ্গ
নকল
শ্রীযুক্ত ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
সদুদার চরিতেষু শ্রীকৃষ্ণচন্দ্র শর্ম্মণো
নমস্কারঃ শিবং বিজ্ঞাপনঞ্চ বিশেষঃ

সপরিবারে অধিকারস্থ হইয়া আনাওরপুর চাকলায় বসতি করিয়াছ অতএব চাকলা মজকুরে বেওয়ারেশ গরজমাই উজ্জট বাস্তু ও লায়েক বাগাতি জঙ্গলভূমি ২১ একইশ বিঘা এবং বেলায়তি সমেত পতিত জঙ্গলভূমি ৫১ একাওন্ন বিঘা ও একুনে ৭২/০ বাওত্তর বিঘা বৃত্তি দিলাম বাস্তুতে সপরিবারে বসতি করিয়া বাগাতি জমিতে বাগিচা করিয়া জঙ্গলভূমি নিজ জোতে ভোগ করহ।
ইতি সন ১১৫৬ ছাপ্পান্ন ১ আগ্রহায়ণ।”

উপরোক্ত দলিলের সঙ্গে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত প্রদত্ত ভারতচন্দ্রের জীবনকাহিনীর দুটি বিষয়ে পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়।
প্রথমতঃ, তিনি লিখেছিলেন যে, রাজা কৃষ্ণচন্দ্র ভারতচন্দ্রকে আনারপুরে জমি দিলেও ভারতচন্দ্র সেখানে যাননি, তিনি মূলাজোড়েই থেকে গিয়েছিলেন। কিন্তু উপরের সনদে স্পষ্টভাবেই লেখা হয়েছিল —
“সপরিবারে অধিকারস্থ হইয়া আনাওরপুর চাকলায় বসতি করিয়াছ।”
এর থেকে মনে হয় যে, তিনি তখনকারমত আনারপুরে চলে গেলেও পরে আবার কোন কারণে মূলাজোড়ে ফিরে এসেছিলেন। এবং ফিরে যে এসেছিলেন — সেবিষয়ে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই, কারণ— তাঁর বংশধরেরা বরাবরই মূলাজোড়েই বাস করেছিলেন।
দ্বিতীয়তঃ, উপরোক্ত দলিলটিতে ভারতচন্দ্রকে ৭২ বিঘা জমি দানের কথা বলা হলেও ঈশ্বরচন্দ্র লিখেছিলেন যে, কৃষ্ণচন্দ্র তাঁকে আনারপুর অঞ্চলের ১০৫ বিঘা জমি দান করেছিলেন।
যাই হোক, বর্তমান সময়ের গবেষকদের মতে ভারতচন্দ্র ১৭৪৯ খৃষ্টাব্দে আনারপুরে জমি পেয়েছিলেন, এবং সেই জমি পাওয়ার বেশ কিছুদিন পরেই তিনি তাঁর নাগাষ্টক কাব্যটি রচনা করেছিলেন। সুতরাং— জমি পাওয়ার মাত্র এক বছর পরে, অর্থাৎ ১৭৫০ খৃষ্টাব্দে তাঁর নাগষ্টক কাব্যটি রচিত হয়েছিল বলে ধরলে ভারতচন্দ্রের জন্ম-সাল ১৭১০ খৃষ্টাব্দ হয়।
অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র ভট্টাচার্য জানিয়েছিলেন যে, নাগাষ্টক কাব্যের —
“তৃতীয় শ্লোকে আছে:

‘পিতা বৃদ্ধঃ পুত্রঃ শিশুরহহ নারী বিরহিণী।’

অর্থাৎ তখন তাঁহার পিতা জীবিত এবং তাঁহার তিন পুত্রের মধ্যে প্রথমটির মাত্র জন্ম হইয়াছে।”
সুতরাং— নাগাষ্টক কাব্যটি যে ভারতচন্দ্রের মৃত্যুর অন্ততঃ পাঁচ বছর আগেই রচিত হয়েছিল, সেবিষয়ে সন্দেহ কোন অবকাশ থাকে না। সেক্ষেত্রে নাগাষ্টক কাব্যটি ১৭৫৫ খৃষ্টাব্দে রচিত হয়েছিল বলে ধরলেও ভারতচন্দ্রের জন্মসাল ১৭১৫ খৃষ্টাব্দ হয়। অতএব— ভারতচন্দ্র যে, ১৭১০ থেকে ১৭১৫ খৃষ্টাব্দের মধ্যেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন, সেটা নিয়ে বর্তমান সময়ের গবেষকদের মনে কোন ধরণের সন্দেহ নেই। আর ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের দেওয়া ভারতচন্দ্রের জন্মসাল — ১৬৩৪ শকাব্দ বা ১৭১২-১৩ খৃষ্টাব্দ — এরই মধ্যে পড়ে বলে এই সালকে গ্রহণ করতে এখন আর কোন বাধা নেই।
এবারে ইতিহাস বিশ্লেষণ করে দেখা যাক যে, ভারতচন্দ্র ঠিক কোন সময়ে প্রথমবারের জন্য রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সংস্পর্শে এসেছিলেন। ঐতিহাসিকদের মতে ১৭৩৭ খৃষ্টাব্দে তিনি পূর্বোল্লিখিত সত্যপীরের পাঁচালীটি রচনা করেছিলেন, এবং তারপরে সম্ভবতঃ আরও একটি সত্যপীরের পাঁচালী লিখেছিলেন। এরপরে নানা জায়গায় ঘোরাফেরা করবার পরে তিনি রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের কাছে আশ্রয় পেয়েছিলেন। সেই ঘোরাফেরা করতে তাঁর কমপক্ষে বছর তিনেক সময় লেগেছিল বলে ধরা যেতে পারে, সেটার কম সময় ধরা চলে না। কারণ— ১৭৪২ খৃষ্টাব্দের অল্প পরেই কৃষ্ণচন্দ্র ভারতচন্দ্রকে অন্নদামঙ্গল রচনা করবার আদেশ করেছিলেন বলে ইতিহাস থেকে জানা যায়। সুতরাং— ১৭৪২ খৃষ্টাব্দের অন্ততঃ দু’বছর আগে থেকেই ভারতচন্দ্র কৃষ্ণচন্দ্রের আশ্রয়ে ছিলেন বলে ধরতে হয়। তাহলে ১৭৪০ খৃষ্টাব্দের মত সময়ে কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে মহাকবি ভারতচন্দ্রের প্রথম সাক্ষাৎ ঘটেছিল বলে অনুমান করা চলে।
ভারতচন্দ্রের অনুবাদ কাব্য — ‘রসমঞ্জরী’ — সম্ভবতঃ রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আশ্রয়ে লেখা তাঁর প্রথম কোন রচনা ছিল। সেই কাব্যে ভারতচন্দ্রের — ‘রায় গুণাকর’ — উপাধির কোন উল্লেখ পাওয়া যায় না, কিন্তু উপরে ১৭৪৯ খৃষ্টাব্দের যে দলিলটি দেওয়া হয়েছে — তাতে তাঁর এই উপাধির উল্লেখ দেখতে পাওয়া যায়। অতএব— ১৭৪০ থেকে ১৭৪৯ খৃষ্টাব্দের মধ্যেই ভারতচন্দ্র তাঁর ‘রসমঞ্জরী’ রচনা করেছিলেন বলে সিদ্ধান্ত করা যেতে পারে। #তিলোত্তমাkolkata

ফাল্গুনেতেই মা আসেন চার ছেলেমেয়ে নিয়ে,আবার বাবার সাথে মায়ের বিয়েও হবে ঘটা করে,রানাঘাটের ৩৫০ বছরের প্রাচীন শ্রী শ্রী মহিষ...
02/03/2026

ফাল্গুনেতেই মা আসেন চার ছেলেমেয়ে নিয়ে,আবার বাবার সাথে মায়ের বিয়েও হবে ঘটা করে,রানাঘাটের ৩৫০ বছরের প্রাচীন শ্রী শ্রী মহিষমর্দিনী মায়ের আরাধনায় প্রচলন আছে এমনই কিছু আনন্দের নিয়ম।
আজ থেকে প্রায় ৩৫০ বছর আগে থাকতেই রানাঘাটের চৌধুরী বংশে এই পুজোর সূচনা হয়েছিল, তারপর থেকেই সেই বংশের কূলদেবতা হিসাবে পূজিত হয়ে আসতেন দেবী মহিষমর্দিনী। কালের পরিবর্তনে পুজোর স্থান পরিবর্তন হয়েছে। পরবর্তীতে রানাঘাটের বড়বাজারের ব্যবসায়ীরা এই পুজোর হাল ধরেন। দেবী মহিষমর্দিনীর আরাধনায় রয়েছে জানা অজানা কত না কাহিনী।
জানা গিয়েছে, কয়েক শতাব্দী আগে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে দেবীর কাঠামো জলে ভেসে চলে যায় নদীতে, সেই কাঠামো পূর্ব বর্ধমানের কালনার এক ব্যবসায়ী জল থেকে তুলে নিলে তাঁকে স্বপ্নাদেশ দেন দেবী। এরপর শুরু হয় কালনার ঐতিহ্যমণ্ডিত দেবী মহিষমর্দিনীর আরাধনা।
অতি প্রাচীন রানাঘাটের মহিষমর্দিনীর পুজো প্রত্যেক বছর শিবরাত্রি তিথির পরে সপ্তমী তিথিতে শুরু হয়। এরপর ষষ্ঠী, সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী মহাসমারোহে দেবী আরাধনায় ব্রতী হন গোটা রানাঘাটবাসী। বিশেষ করে নবমীতে থাকে এক অন্য নিদর্শন। শিব-পার্বতীকে ঘটা করে বিয়ে দিয়ে দশমীতে দেবী নিরঞ্জনের পালা।
কথিত রয়েছে,নবমীর তিথিতে শিব-পার্বতীর বিয়ের পর মহাদেব পার্বতীকে নিয়ে কৈলাসে ফিরে যান। আর এই চিরাচরিত নিয়ম মেনেই এখনও মহিষমর্দিনীর আরাধনা করে আসছেন বর্তমান প্রজন্মের পুজো উদ্যোক্তারা। পুজোর পাঁচ দিন থাকে মহাভোগের ব্যবস্থা থাকে। দূর-দূরান্ত থেকে অসংখ্য ভক্তদের ঢল নামে দেবী দর্শনে। পুজো উদ্যোক্তাদের কথায়, নবমীর তিথিতে শিব-পার্বতীর বিয়ের আগে গোটা রানিবাঁধবাসিকে নেমন্তন্ন করতে যান মানুষরূপী নারদ মুনি। একপ্রকার বলাই বাহুল্য, অকাল মহিষমর্দিনী পুজো যেন গোটা রানাঘাটবাসীর তো বটেই তাছাড়াও আমাদের কাছে প্রত্যেক বছরের অপেক্ষা অবসান।

সংগৃহীত

#তিলোত্তমাkolkata

স্বয়ং শ্রীরামকৃষ্ণ বলতেন, এই মন্দিরে রয়েছেন 'জাগ্রত ভোলানাথ'। আর, সেই ভোলানাথের দর্শন করতে তিনি ছুটে আসতেন এখানে। তাঁর প...
14/02/2026

স্বয়ং শ্রীরামকৃষ্ণ বলতেন, এই মন্দিরে রয়েছেন 'জাগ্রত ভোলানাথ'। আর, সেই ভোলানাথের দর্শন করতে তিনি ছুটে আসতেন এখানে। তাঁর প্রধান শিষ্যরাও তাঁকে অনুসরণ করেছেন। স্বামী বিবেকানন্দ থেকে স্বামী ব্রহ্মানন্দরা ছুটে এসেছেন। দর্শন করেছেন 'জাগ্রত ভোলানাথ' আর কষ্টিপাথরের দেবী সিদ্ধেশ্বরীকে। গুরুর দেখানো পথেই 'জাগ্রত ভোলানাথ'-এর কাছে প্রার্থনা করেছেন। সেই রীতি আজও বজায় রেখেছে বেলুড় মঠ। প্রথা মেনে বেলুড় মঠ থেকে স্বামাজিরা আজও আসেন এই মন্দিরে পুজো দিতে।
বালির কল্যাণেশ্বর মন্দির নিয়ে অনেক রহস্য। কথিত আছে, প্রায় সাতশো বছর আগে এখানে জঙ্গলের মধ্যে শিবলিঙ্গ দেখতে পাওয়া যায়। সেই শিবলিঙ্গের মাথায় ছিল এক অমূল্য মণি। যেটা নিতে গিয়ে মৃত্যু হয় এক সাধুর। যদিও সেই মণির সন্ধান আর পাওয়া যায়নি। তৎকালীন বালির ছয় আনি রাজা ও উত্তরপাড়ার দশ আনি রাজা স্বপ্নাদেশ পেয়ে এখানে মন্দির প্ৰতিষ্ঠা করেন।
স্বয়ং রামকৃষ্ণদেব এখানে এসে পুজো করেছিলেন। পুজোর সময় ঠাকুরের মাথায় ফুল পড়েছিল। বিগ্রহকে তিনি জ্যান্ত শিব বলেছিলেন। এমনকি স্বামী বিবেকানন্দের সভাপতিত্বে এখানে কালীমন্দির প্ৰতিষ্ঠা হয়েছিল।
শিবরাত্রির চতুর্দশীতে এই মন্দিরে প্রচুর ভক্তসমাগম হয়। রামকৃষ্ণ মঠ ও বেলুড় মঠের সন্ন্যাসী মহারাজেরাও এদিন এখানে এসে পুজো দেন। আজও এসেছিলেন। আজ এসেছিলেন রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী গৌতমানন্দজী। আসেন রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ রায়। পুণ্যার্থীরা জানান, ভীষণ জাগ্রত এই দেবতা। সবার মনস্কামনা পূর্ণ করেন। বছরের এই দিনটির অপেক্ষায় থাকেন সবাই। আর মহারাজেরা জানান, মহাদেব হলেন ত্যাগের প্রতীক, সন্ন্যাসের প্রতীক। সেই পথ ঠাকুর রামকৃষ্ণদেব দেখিয়েছেন। যে কারণে এই স্থান মহাতীর্থ।
*এখানকার প্রধান উৎসব শিবরাত্রি, যা এখানে প্রচুর আড়ম্বরপূর্ণ ও উদ্দীপনার সাথে পালিত হয়। অন্যান্য উৎসবগুলি হলো নীল ষষ্ঠী এবং চরক। চরক উৎসব চলাকালীন এখানে একটি মেলাও অনুষ্ঠিত হয় এবং "ঝাঁপ" হয়। "ধুনো পোড়ানো" এখানে একটি বিশেষ আকর্ষণ।
দূর দূরান্ত থেকে বহু লোক কল্যাণেশ্বরে পূজা দিতে আসেন। ( হাওড়া জেলার কথা) ভোগ সকালে এবং সন্ধ্যায় ভগবান শিবকে দেওয়া হয়। সন্ধ্যা চলাকালীন সন্ধ্যা আরতি করা হয়।
*সিদ্ধেশ্বরী কালী : শিব মন্দির ছাড়াও এখানে সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দিরও রয়েছে, এছাড়া বাসুদেব, নারায়ণ, গণেশ আছেন। বহু লোক এখানে অন্যান্য দেবদেবীদের পূজা দিতে আসেন। সন্ধ্যায় কাঁসর ঝন্তের (পুজোর সময় এক ধরণের ঘণ্টা বাজানো) আওয়াজ শোনা যাবে। কালের বর্তমান মূর্তিটি কষ্ঠী পাথর (টাচস্টোন) দিয়ে তৈরি। মূলত প্রতিমাটির সাথে পুরানো মন্দিরটি ১৮৬৫ সালে একটি ভয়ঙ্কর ঝড়ের মধ্যে ধ্বংস হয়।(হাওড়া জেলার কথা) বর্তমান মূর্তিটি পঞ্চমুন্ডির আসনে কালী পূজার দিনে (চতুর্থ কার্তিক, ১৩১৭) স্থাপন করা হয়েছে এবং এটি এক শতাব্দীরও বেশি পুরানো।( হাওড়া জেলার কথা) নিয়মিত পূজা এখানে করা হয়।মন্দির প্রাঙ্গনে বাবার মন্দির ছাড়াও মা সিদ্ধেশ্বরীর মন্দির, রাধাকৃষ্ণ মন্দির এবং সঙ্কটমোচন হনুমানজীর মন্দির আজও ইতিহাস কে সঙ্গী করে বিরাজমান |
☘️☘️☘️☘️☘️☘️☘️☘️☘️☘️☘️☘️☘️☘️☘️☘️☘️☘️

09/02/2026

🪷১৫ ফেব্রুয়ারি রবিবার ২০২৬ মহাশিবরাত্রি
🔱 সূর্যাস্ত - 15 ই ফেব্রুয়ারি 5:50 pm
🪷প্রথম প্রহর - 5:50 pm থেকে 8:59 pm
🪷দ্বিতীয় প্রহর - 8:59 pm থেকে 12:09 am
🪷তৃতীয় প্রহর - 12:09 am থেকে 03:18 am
🪷চতুর্থ প্রহর - 03:18 am থেকে 6:27 am
🪷 সূর্যোদয় - 16 ফেব্রুয়ারি 6:27 am

☘️☘️☘️☘️☘️☘️☘️☘️☘️☘️☘️☘️☘️☘️

একইসঙ্গে তৈরি হয়েছিল তিনটি মূর্তি, একটি রাধাবল্লভজিউয়ের, যা রয়েছে বল্লভপুরে। দ্বিতীয়টি শ্যামসুন্দরজিউয়ের, যা রয়েছে খড়দহ...
01/02/2026

একইসঙ্গে তৈরি হয়েছিল তিনটি মূর্তি, একটি রাধাবল্লভজিউয়ের, যা রয়েছে বল্লভপুরে। দ্বিতীয়টি শ্যামসুন্দরজিউয়ের, যা রয়েছে খড়দহের মন্দিরে।খুব বেশি বিখ্যাত নয়। কিন্তু, এই বাংলায় এমন বহু মন্দির আছে, যেখানে গিয়ে ভক্তরা দু'দণ্ড শান্তি পান। অনুভব করেন, আসলেই কেন যেন মনটা শান্ত হয়ে যায়। হয়তো জনে জনে সেসব বলা সম্ভব হয় না। তবে, অতি ঘনিষ্ঠদের কাছে তাঁরা সেকথা মন খুলে বলেও দেন। এমনই এক মন্দির হল উত্তর ২৪ পরগনার সাইবনার নন্দদুলালজিউয়ের মন্দির।
সাধারণত, এই বাংলায় মন্দির বলতে আমরা চূড়ো থাকবে, এমন কিছকে বুঝি। সাইবনার এই মন্দিরের ছবিটা অবশ্য সেই তুলনায় অনেকটাই আলাদা। এর ছাদ সমতল, দালান পূর্বমুখী। গর্ভগৃহে কাঠের মঞ্চে রাধার ধাতব মূর্তি আর কৃষ্ণের কষ্টিপাথরের মূর্তি রয়েছে। এই মূর্তি নাকি অতি প্রাচীন, ভক্তদের দাবি ষোড়শ শতকের। এখানেই আলাদা আসনে জগন্নাথ, সুভদ্রা, বলভদ্রের দারুবৃক্ষের মূর্তি রয়েছে।

কথিত আছে গৌড়ের রাজপ্রাসাদ থেকে শিলা সংগ্রহ করে এই মূর্তি তৈরি হয়েছিল। শুধু এটিই নয়। সঙ্গে, কৃষ্ণের আরও দুটি মূর্তিও তৈরি হয়। তার একটি মূর্তি রাধাবল্লভজিউয়ের। যা রয়েছে বল্লভপুরে। দ্বিতীয় মূর্তিটি শ্যামসুন্দরজিউয়ের। যা রয়েছে খড়দহের মন্দিরে। ভক্তদের বিশ্বাস, একদিনে এই তিন মূর্তি দর্শন করলে আর পুনরায় জন্ম নিতে হয় না। সঙ্গে, সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্তের মধ্যে উপবাস থেকে দর্শন করলে গৌরাঙ্গ, নিত্যানন্দ ও অদ্বৈত মহাপ্রভুর দর্শন হয়। এখানে নাটমন্দির-সহ গোটা মন্দির চত্বর পাঁচিল দিয়ে ঘেরা রয়েছে। মন্দির চত্বরে প্রবেশের পর ডান দিকে রয়েছে দুটি আটচালা মন্দির। যেখানে রয়েছে শিবলিঙ্গ।
সাইবনার এই মন্দিরে নন্দদুলালজিউ নিত্য পুজো পান। এছাড়া রথযাত্রার সময় মন্দিরে জগন্নাথদেবের বিশেষ পুজোর রীতি রয়েছে। সেই সময় জগন্নাথ, সুভদ্রা ও বলভদ্রকে রথে চাপিয়ে ঘোরানো হয়। মাঘী পূর্ণিমায় বেশ বড় করে উৎসব হয়। ফাল্গুনের পূর্ণিমায় হয় দোল উৎসব। সেই সময় রাধাকৃষ্ণের মূর্তি দোলায় চাপিয়ে মন্দির চত্বরেই দোলমঞ্চে রাখা হয়। সেখানেই চলে দেবদোলপর্ব। এই সব উৎসবে যোগ দিতে দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তরা সাইবনার মন্দিরে আসেন।
🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🪷

Address

Kolkata
700050

Telephone

+919874057334

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when ভক্তি ধারা।। posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to ভক্তি ধারা।।:

Share