12/12/2025
নতুন এক গবেষণায় জানা গেছে, আমাদের ঘরোয়া ও পরিচিত একটি ওষুধ—লো-ডোজ অ্যাসপিরিন—হয়তো ক্যান্সারের ছড়িয়ে পড়া কমাতে সাহায্য করতে পারে। ব্যাপারটা শুনতে সাধারণ মনে হলেও, এর পেছনে রয়েছে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্ত করে তোলার এক চমৎকার বিজ্ঞান।
আমরা জানি, ক্যান্সার খুব চালাক। যখন সে শরীরে বাড়তে থাকে, তখন প্লেটলেটকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে নিজের অবস্থান লুকিয়ে ফেলে। প্লেটলেট আবার বিশেষ কিছু রাসায়নিক সংকেত পাঠিয়ে T-cell—যারা ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করা আসল সৈনিক—তাদের দুর্বল করে দেয়। ফলে টিউমার নিঃশব্দে অন্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ পায়।
কিন্তু আশ্চর্য ব্যাপার হল—অ্যাসপিরিন এই সংকেত পাঠানোর প্রক্রিয়াটাকেই থামিয়ে দেয়। এমনকি খুব কম ডোজেও! ফলে T-cell গুলো চুপচাপ হয়ে না থেকে আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে, সতর্ক থাকে, লড়াই চালিয়ে যেতে পারে।
একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ক্যান্সারে আক্রান্ত ইঁদুরদের লো-ডোজ অ্যাসপিরিন দেওয়া হলে তাদের শরীরে কম মেটাস্টেসিস হয়েছে এবং T-cell অনেক বেশি শক্তিশালীভাবে কাজ করেছে। অ্যাসপিরিন ক্যান্সারকে সরাসরি মারে না—বরং আমাদের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে তার কাজ আরও ভালভাবে করতে সাহায্য করে।
এটা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
কারণ আজকের দিনে ইমিউনোথেরাপি ক্যান্সার চিকিৎসার একটি দ্রুত বাড়তে থাকা দিক, যেখানে T-cell এর ভূমিকা সবচেয়ে বড়। সেখানে যদি অ্যাসপিরিনের মতো সহজ আর কম খরচের ওষুধ এই প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করতে পারে—তাহলে সেটা একটি বড় দিশা দেখায়।
গবেষকরা আরও বলছেন—যাদের ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি, ভবিষ্যতে হয়তো তাদের জন্য অ্যাসপিরিন প্রতিরোধমূলক ভূমিকা পালন করতে পারে। তবে এখনও অনেক গবেষণা বাকি।
অবশ্যই, অ্যাসপিরিন সবাই খেতে পারে না। এটি রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে, বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ বা যাদের অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা আছে। তাই কোনওভাবেই নিজে থেকে শুরু করা যাবে না—ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করাই সবচেয়ে নিরাপদ।
সব মিলিয়ে, এই গবেষণা একটা গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়—ছোট ছোট পরিবর্তনও ক্যান্সার চিকিৎসায় বড় ভূমিকা রাখতে পারে। হতে পারে, বহুদিনের পরিচিত একটি ট্যাবলেট ভবিষ্যতে ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নতুন অস্ত্র হয়ে উঠবে।