09/05/2026
আজ একটু অন্যরকম একটা গল্প বলি।
একটা গল্প সাহসের, ভালোবাসার, আর মানুষ হিসেবে মানুষকে গ্রহণ করার।
প্রায় ৮ মাস আগে Facebook দেখে এক দম্পতি আমার কাছে প্রথমবার appointment নিতে এসেছিলেন। স্বামী-স্ত্রী দুজনেই soft engineer ভালোবেসে বিয়ে করেছেন।আমি যেমন সাধারণভাবে patient history নিই, সেভাবেই কথা শুরু করেছিলাম।আমি জিজ্ঞেস করলাম বিয়ে কতদিন হয়েছে? আর baby নেওয়ার জন্য কতদিন ধরে try করছেন?ওরা একটু চুপ করে থেকে বললেন,
“Sir, আমরা কখনও naturally try করিনি।”
আমি তখন বললাম, ঠিক আছে, কিছু blood test আর USG করাতে হবে। সেখান থেকে বোঝা যাবে কোনো medical issue আছে কিনা।”
হঠাৎ সেই মুহূর্তে husband খুব শান্ত গলায় বললেন —Sir, আপনাকে একটা কথা বলতে চাই… আমি gender transition করেছি। আমি মেয়ে থেকে ছেলে হয়েছি। আমাদের married certificate-ও আছে। আমি লেখা থামিয়ে শুধু ওদের কথা শুনছিলাম। ছেলেটার নাম ঋষি। সে বলল ---- Sir, অনেক surgery, hormone therapy, অনেক লড়াইয়ের পর আজ এখানে দাঁড়িয়ে আছি। আমরা শুধু একটা baby চাই… একটা পরিবার চাই।সত্যি বলতে, ঋষিকে দেখে কোনোভাবেই বোঝার উপায় ছিল না যে সে কোনোদিন মেয়ে ছিল।তার personality, body language, মুখের গঠন, গলার voice সবকিছুতেই সে একজন আত্মবিশ্বাসী পুরুষ হিসেবেই নিজেকে তৈরি করেছে।কিন্তু একজন ডাক্তার হিসেবে আমার কাছে সবচেয়ে বড় বিষয় ছিল — তার মানুষ হিসেবে স্বপ্ন আর অনুভূতি।
সেই মুহূর্তে আমি ওদের চোখে শুধু দুটো জিনিস দেখেছিলাম ভালোবাসা আর স্বপ্ন।
আমি হেসে বলেছিলাম,খুব ভালো কথা। অবশ্যই চেষ্টা করব।”
তারপর শুরু হলো ওদের parenthood journey।
সব সরকারি নিয়ম মেনে donor program-এর মাধ্যমে IVF process শুরু করলাম।
Wife খুব সাহসের সঙ্গে ১০ দিন injection নিলেন। Egg collection হলো।তারপর donor semen নিয়ে embryo তৈরি করা হলো।সব documents, consent, legal process—সবকিছু perfectly complete করেছিলেন ওরা।Embryo transfer-এর দিন দুজনের চোখেই tension ছিল।
কিন্তু সেই tension ধীরে ধীরে আনন্দে বদলে গেল…কারণ treatment successful হলো।
তারপরের pregnancy journey-টাও খুব সুন্দরভাবে কেটেছে। প্রথমদিকে দুজনেই খুব ভয় পেতেন, খুব সাবধানে চলাফেরা করতেন।
প্রতিটা visit-এ আমি বুঝতে পারতাম --- এই baby শুধু একটা সন্তান নয়, এটা ওদের বহু বছরের লড়াই, অপমান, অপেক্ষা আর ভালোবাসার ফল।
আজ delivery date দিয়ে দিয়েছি।
এখন আর মাত্র কয়েকটা দিনের অপেক্ষা।
ডাক্তার হিসেবে আমি অসংখ্য patient দেখি, অসংখ্য গল্প শুনি।কিন্তু কিছু কিছু মানুষ মনে থেকে যায়। কারণ তারা আমাদের শেখায় —
“Parent হওয়ার অনুভূতি gender দেখে আসে না, আসে হৃদয় থেকে। সমাজের কাছে শুধু একটা কথাই বলতে চাই । মানুষকে তার পরিচয় দিয়ে নয়, তার মানবিকতা দিয়ে বিচার করুন।
একজন transgender মানুষও স্বপ্ন দেখে, ভালোবাসে, পরিবার গড়তে চায়, সন্তানের জন্য অপেক্ষা করে।তাদের ভালোবাসা কোনো অংশে কম নয়। আমরা যদি একটু সম্মান, একটু সহানুভূতি আর একটু acceptance দিতে পারি, তাহলে পৃথিবীটা অনেক সুন্দর হয়ে উঠবে।
সব গল্প সবার মতো হয় না।
কিছু গল্প আমাদের মানুষ হিসেবে আরও বড় হতে শেখায়। আজ যে দম্পতির কথা বললাম, তারা শুধু একটা সন্তানের জন্য চিকিৎসা নেননি
তারা লড়েছেন নিজেদের স্বপ্ন, সম্পর্ক আর সমাজের acceptance-এর জন্য।
একজন ডাক্তার হিসেবে আমার কাছে patient-এর gender, religion বা পরিচয় নয় —
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তার অনুভূতি, তার কষ্ট, আর তার পরিবার গড়ার স্বপ্ন।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের উদ্দেশ্যই হলো মানুষকে আশা দেওয়া, পাশে থাকা, আর সম্মানের সঙ্গে চিকিৎসা করা। শেষ পর্যন্ত জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো
ভালো থাকা। ❤️
মানুষ কী বললো, সমাজ কী ভাবলো —
এসবের থেকেও বড় হলো নিজের মানুষদের নিয়ে শান্তিতে বাঁচতে পারা। একটা পরিবার তখনই সম্পূর্ণ হয়,যখন সেখানে ভালোবাসা, সম্মান আর একে অপরের পাশে থাকার সাহস থাকে।
কারণ সত্যিকারের সুখ আসে acceptance থেকে,
আর সত্যিকারের parenthood আসে হৃদয় থেকে।
আমরা সবাই যদি একটু সহানুভূতি, একটু সম্মান আর একটু মানবিকতা দেখাতে পারি,
তাহলে অনেক মানুষ নতুন করে বাঁচার সাহস পাবে।ওদের জন্য অনেক আশীর্বাদ রইলো।
প্রার্থনা করি, ছোট্ট সন্তানটা সুস্থভাবে পৃথিবীতে আসুকআর ওদের পরিবারটা সারাজীবন ভালোবাসায় ভরে থাকুক
হাসিখুশি থাকুক। ❤️
Dr. Indranil Chaudhuri
Akanksha women's hospital
Contact: 9007902000