16/03/2026
বলছি, গৌরমোহনের দাদু কে মনে আছে? সেই যিনি আমাকে দেখাতে এসে গৌরমোহন আর আমাকে ছয় ছয়টি গোল দিয়ে বেড়িয়ে যান। ওনার নাকি dementia, ওনার নাকি পড়ে যাওয়ার ভয় ছিল, দাদু তো মুখে মুখে তিন ধাপের হিসেবের অংক করে দিলেন, আমরা মোবাইল এ ক্যালকুলেটর দিয়ে মেলালাম, এক পা য়ে ১৫ সেকেন্ড দাঁড়িয়ে রইলেন, আমরাও হতবাক। রোববার জামবাটি করে পাঁঠার মাংস খান শুনে আমি দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। সেই হেনো দাদু এবার একটু বিপাকে পড়েছেন। হটাৎ করে পা পিছলে পরে গিয়ে হাড় টি ভেঙেছেন, সাথে অল্প শ্বাস কষ্ট ছিল বলে ICU তে, ওনাকে দেখতে গিয়ে দেখি, সিস্টার আর dietician র ওপর চোটপাট করছেন, বললাম কি দাদু কি ব্যাপার। বলছেন এ কেমন ব্যাপার তোমাদের বলছে এরা যে টেল টেলে স্যুপ দেবে খেতে আর গলা ভাত, ও খাবার আমার শ্রাদ্ধ হয়ে গেলেও গলা দিয়ে নামবে না। চিকেন দিলে কষা ঝোল লাগবে, নইলে এই ICU র পিক পিক আওয়াজ এ এমনিই তো রোগী পাগল হয়ে যাবে, তায় এরম জঘন্য খাবার। দাদুকে বললাম যে ঠিকাছে আপনি কি খাবেন বলুন, যতটা সম্ভব এনারা চেষ্টা করবেন। দাদু বলছেন সরু চালের ভাত, শুক্ত একটু পোস্ত দিয়ে, সাথে একটু পোস্ত মাখা হলে মন্দ হয়না, সর্ষের তেল দিয়ে খাবো, সাথে বেশি কিছু না, মাংসের ঝাল ঝোল, আর একটু চাটনি, শেষ পাতে দুইখান রসগোল্লা। আমি শুনে হা। বললাম বলেন কি দাদু হাসপাতাল এ কি এসব পাওয়া যায়? আপনি বরং stew খান, একটু গোলমরিচ দিয়ে দেবে ওরা। আর তা ছাড়া ভেবে দেখুন আমি তো নিজেই এই বয়েস এ মিষ্টি খাওয়া ছেড়ে দিয়েছি, পোস্ত ও খাইনা। দাদু একবার জলসাঘরের ছবি বিশ্বাস র মতো চাহনিতে আমায় জরিপ করলেন, তারপর গম্ভীর ভাবে বললেন, খাও না খাও না, তোমরা যদি ICU তে আসার আগেই সারাজীবন ICU তে বসে থাকো, আমি কি করবো। আমি ICU তে থাকলেও জীবন টা কে উপভোগ করবো। গোল্লায় যাক তোমাদের গোলমরিচ র stew, দাও কোন bond এ সই করতে হবে করে দিচ্ছি, আমায় কষা মাংস ই দাও, অনেক দিন এই পৃথিবী তে থেকেছি, day ১ থেকে খাবার সাথে নয় কোনো আপোষ। তোমরা খাও ICU র খাবার, বাঁচতে আর শিখলে কই।
Diet প্ল্যান কে গুলি মেরে নব্বই শিখিয়ে দিলো রসে বশে বাঁচা কাকে বলে।
#রোগীকথা