25/02/2026
#বাংলার_হিন্দু_ও_মুসলমান
Madhusree Bandyopadhyay
কয়েক বছর আগেই বলেছিলাম, আমার জিনোম বিশ্লেষণ করে পাওয়া গেছে ১২.৪ শতাংশ চীনা, ভিয়েতনামি ও নেপালি ‘অটোজোমাল ডিএনএ’। বাকি অংশটি ভারতীয় 'অটোজোমাল ডিএনএ'। এই ভারতীয় 'অটোজোমাল ডিএনএ'-এর অর্থ হল আফ্রিকীয়, হরপ্পীয় ও ইন্দো-ইউরোপীয় ডিএনএ-র মিশ্রণ। এই তিনটি মূল পরিযানের মিশ্রণে ভারতীয় তথা দক্ষিণ এশীয় জনগোষ্ঠী ও বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠীগুলি গড়ে উঠেছে। পূর্ব ভারত ও বাংলাদেশে তার সঙ্গে রয়েছে চীন থেকে আগত তিব্বতি-বর্মী জনগোষ্ঠীর কিছু মিশ্রণ। পশ্চিমবঙ্গ থেকে যত পূর্ব দিকে যাবেন তত এই মিশ্রণ পাবার সম্ভাবনা বাড়বে। তবে বর্ণ, জাতি ও অঞ্চল বিশেষে তারতম্য আছে।
বোঝাই যায় আমার পরিবারে তিব্বতি-বর্মী ডিএনএ মিশ্রণ বেশ ভালোভাবেই হয়েছিল।
আমার বাবার আদি নিবাস ছিল ফরিদপুর জেলার ইদিলপুর অঞ্চলে। মায়ের বাড়িও ওই জেলায়। মায়ের মামা বাড়ি বরিশালে। অবশ্য এখন তো জেলা ভাঙ্গাভাঙ্গি হয়েছে, হয়তো নতুন নাম হয়েছে।
দুই পরিবার জাতে কুলীন কায়স্থ। তবে মায়ের মামা বাড়ি কুলীন নয়।
আমার যত আত্মীয় 'মাই হেরিটেজ' সাইট-এ তাঁদের ডিএনএ বিশ্লেষণ করেছেন নিখুঁত ভাবে এই সংস্থা তার সন্ধান আমাকে দিয়েছে। এরাই এখন পৃথিবীতে সর্ববৃহৎ ডিএনএ বিশ্লেষণকারী সংস্থা।
'মাই হেরিটেজ' সাইট-এর দেওয়া তথ্যের মধ্যে রয়েছে আমার কন্যা, আমার দিদার বড়ো দিদির পুত্র সন্তানের পরিবার, আমার ঠাকুমার ছোটো ভাইয়ের পুত্র সন্তানের পরিবার। এরা নিউজিল্যান্ড, ইউরোপ বা মার্কিন দেশে রয়েছেন। তাদের অবস্থান এবং পদবি দেখে আমি আমার দিদা বা ঠাকুমার পরিবারের আধুনিক প্রজন্মদের চিহ্নিত করতে পেরেছি—অবশ্য আগেই এই পরিবারগুলির অবস্থানের কথা আমি জানতাম। তাই এদের চিহ্নিত করা আমার পক্ষে সহজ হয়েছে। অবশ্য মাই হেরিটেজ সাইট আগে থেকে আমার সঙ্গে তাদের আত্মীয়তার কথা জানত না।
এসব ডেটা তারা অনেক আগেই দিয়েছে।.এবারে তারা আরও কিছু ডেটা ডাম্প পাঠিয়েছে। এই ডেটা ৫ বা তার আগের প্রজন্ম আগের জ্ঞাতিদের হতে পারে।
একজনের পদবি গ্রীন, আবাস অস্ট্রেলিয়া। ভাবছি কে হতে পারে! ওমা, তারপরে সেই মহিলার বিবাহ পূর্ব পদবি দেখি, বোস। হতেই পারে, কায়েথের ঘরে ঘোষ-বোসের মধ্যে বিবাহ খুবই প্রচলিত ছিল।
তবে মজা লেগেছে অন্য কোনোখানে। এবারে দেখি, বেশ কিছু আরবি পদবিধারীকে আমার পঞ্চম সম্ভাব্য জ্ঞাতি ভাই/বোন বলা হয়েছে। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে এদের পরিচয় বুঝতে চেষ্টা করলাম। এরা সকলেই মুসলমান (বা নাস্তিক) হবেন। অর্থাৎ অন্তত পঞ্চম প্রজন্ম আগে আমাদের বংশের (মা বা বাবা তা বলা মুশকিল) এক শাখা ধর্মান্তরিত হয়েছিলেন। আজকে অবশ্য তাঁরা বাংলাদেশ থেকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে স্থিতু হয়েছেন।
বারবার বলেছি, লিখেছি, বিজ্ঞানের দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে, এবাড়ির হিন্দু ও পাশের বাড়ির মুসলমানের মধ্যে জিনগত তফাৎ বিশেষ নেই। বাংলার সুন্নি মুসলমান দলে দলে বাইরে থেকে এসেছেন, এমন দাবি বিজ্ঞান নস্যাৎ করে দেয়।
আজকে নিজের ডিএনএ বিশ্লেষণে সেই প্রমাণ আবারও পেলাম।
যে মুসলমান ইংল্যান্ড-এ বসে ডিএনএ বিশ্লেষণ করেছেন, তিনিও নিশ্চয়ই খেয়াল করেছেন, তার বংশের এক হিন্দু শাখা রয়ে গেছে। আর সেই শাখার এক নারী কলকাতাতে বাস করে।
মাত্র ৫ পুরুষ বা তার সামান্য আগে এই সম্ভাব্য ধর্মান্তর হয়েছে। আমাদের রক্ত, আমাদের ডিএনএ, আমাদের হাজার হাজার বছরের পিতৃপুরুষ ও মাতৃনারীতে কোনো তফাৎ নেই।
নিশ্চিত যুক্ত বাংলার ঘরে ঘরে এই ডিএনএ বিশ্লেষণ হলে, হিন্দু মুসলমানের আত্মীয়তার জট খুলে যাবে।
তবুও কি শান্তি আসবে? আত্মজন বলে জড়িয়ে ধরব?
Madhusree Bandyopadhyay
25/02/2026