23/03/2026
ছবি গুলো দেখতে ভালো লাগবে না জানি, কিন্তু তোমাদের সাথে সবটা শেয়ার করে নেওয়ার অভ্যাস আর প্রয়োজন অগত্যা|
এই যে ছোট্ট শিশু ম্যাডাম এর কোলে, ও হলো এক যোধ্যা মা-এর সন্তান| আজ তোমাদের পৌলমীর সংঘর্ষের কথা জানতে আসা, ৩০ বছরের পৌলমীর ১০ বছরের দাম্পত্ব জীবন, সন্তান সুখের জন্য আকুল ওরা ছুটে এলো ম্যাডাম এর কাছে|
প্রথম দিন যখন তিনি আমাদের আইভিএফ ক্লিনিকে এসেছিলেন, খুব বেশি কিছু বলেননি—শুধু চুপচাপ বসে ছিলেন। কিন্তু ওর চোখই সব কথা বলে দিচ্ছিল।
আমরা ধীরে ধীরে ওর কেসটা বুঝলাম। দেখলাম, ওর ডিম্বাণু খুবই কম। এই ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো করলে ফল ভালো হয় না। তাই ম্যাডাম ওকে বোঝালেন “আমাদের একটু সময় নিতে হবে, ধৈর্য রাখতে হবে।”
ও মাথা নেড়ে বলেছিল , “আপনি যেটা ভালো মনে করেন, সেটাই করুন।”
তারপর শুরু হলো আমাদের লম্বা পথ চলা—“এমব্রিও পুলিং”| একবারে নয়, বারবার চেষ্টায় আমরা অল্প অল্প করে এমব্রিও সংগ্রহ করলাম। প্রতিটা ধাপেই ছিল অপেক্ষা, টেনশন, আবার নতুন করে আশা।
অবশেষে এল সেই দিন—এমব্রিও ট্রান্সফার। আমরা সবাই একটু নার্ভাস ছিলাম, কিন্তু ভিতরে ভিতরে একটা বিশ্বাসও ছিল ম্যাডাম এর উপর|
আর তারপর… রিপোর্টে যখন পজিটিভ এল, পৌলমী শুধু চুপ করে কেঁদে ফেলেছিলেন। সেই কান্না ছিল আনন্দের, স্বস্তির, বিশ্বাসের।
সময়মতো তাঁর একটি ফুটফুটে ২.৮ কেজির পুত্রসন্তানের জন্ম হলো। আমরা সবাই ভাবলাম বাহ! এই রূপকথা এখানেই সুন্দরভাবে শেষ।
কিন্তু জীবন সবসময় এত সহজ হয় না।
অপারেশন টেবিলেই হঠাৎ করে দেখা দিল সমস্যা—“অ্যাটোনিক ইউটেরাস”, অর্থাৎ গর্ভাশয় সংকুচিত হচ্ছিল না, আর রক্তক্ষরণ বাড়ছিল। একের পর এক ওষুধ দেওয়া হলেও অবস্থার অবনতী সবাইকে চিন্তিত করে তুলেছিল|
সেই সময় আমাদের ম্যাডাম এর অভিজ্ঞতা জাদুর ছড়ির মত সব সুন্দর ভাবে বদলে দিল| খুব শান্তভাবে, কিন্তু অত্যন্ত দ্রুত সিদ্ধান্ত নিলেন। তিনি ব্যবহার করলেন একটি বিশেষ সেলাই পদ্ধতি—“B-Lynch স্যুচার”।
এই টেকনিকটা শুধু বইয়ে পড়লেই হয় না, এর জন্য লাগে বছরের পর বছর অভিজ্ঞতা আর ঠান্ডা মাথা।
সেই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় কথা ছিল—পৌলমীর জীবন বাঁচানো, আর যদি সম্ভব হয়, তাঁর গর্ভাশয়টাও বাঁচানো।
আর ঠিক সেটাই হলো।
পরবর্তীতে তাঁকে আইটিইউ-তে রাখা হলো, রক্ত দেওয়া হলো, FFP দেওয়া হলো। কয়েকটা দিন ছিল খুব টেনশনের… কিন্তু ধীরে ধীরে তিনি সুস্থ হয়ে উঠলেন।
আজ যখন তিনি বাড়ি ফিরছেন, কোলে তাঁর ছোট্ট ছেলে—তাঁর মুখের হাসিটা সত্যিই ভাষায় বোঝানো যায় না।
তিনি শুধু বলেছিলেন, “আমি ভাবিনি, কোনোদিন এই দিনটা দেখব…”
আমাদের জন্য, এটা শুধু একটা কেস নয়। এটা একটা সম্পর্ক, একটা বিশ্বাস, আর একজন অভিজ্ঞ ডাক্তারের সেই নির্ভরযোগ্য হাত—যেখানে কঠিনতম মুহূর্তেও সঠিক সিদ্ধান্ত একটা পুরো জীবনের গল্প বদলে দেয়।