Medicure Bangla

Medicure Bangla স্বাস্থই আপনার মূল্যবান সম্পদ।

🩺 মোল (Mole / তিল) কী? • মোল হলো ত্বকের ওপর ছোট, সাধারণত বাদামী, কালো বা ত্বকের রঙের দাগ বা গুটি। • এটি Melanocytes নামক...
25/08/2025

🩺 মোল (Mole / তিল) কী?
• মোল হলো ত্বকের ওপর ছোট, সাধারণত বাদামী, কালো বা ত্বকের রঙের দাগ বা গুটি।
• এটি Melanocytes নামক কোষের অতিরিক্ত বৃদ্ধি থেকে হয়। এই কোষগুলো মেলানিন তৈরি করে, যা আমাদের ত্বক ও চুলকে রঙ দেয়।
• তিল জন্মগত হতে পারে, আবার বয়স বাড়ার সাথে সাথে নতুনও হতে পারে।



🔎 কারণ
1. জেনেটিক (বংশগত) – পরিবারের কারও বেশি তিল থাকলে আপনারও হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
2. হরমোনজনিত পরিবর্তন – বিশেষ করে কিশোর বয়সে, গর্ভাবস্থায় বা হরমোনাল পরিবর্তনে নতুন তিল উঠতে পারে।
3. সূর্যের প্রভাব (UV exposure) – সূর্যের আলোতে বেশি থাকলে মেলানিন উৎপাদন বেড়ে তিল বাড়তে পারে।
4. ত্বকের প্রাকৃতিক পরিবর্তন – বয়সের সাথে সাথে নতুন তিল গজাতে পারে বা পুরনো তিলের আকার/রঙ বদলাতে পারে।



⚠️ কখন সতর্ক হবেন?

সব তিল নিরীহ, তবে কিছু ক্ষেত্রে তিল ত্বকের ক্যান্সারের (Melanoma) লক্ষণ হতে পারে। সতর্ক হবেন যদি—
• তিলের আকৃতি হঠাৎ বড় হতে থাকে
• রঙ অসমান হয় (কালো, বাদামী, লাল বা সাদা মিশ্রিত)
• তিলের চারপাশে ব্যথা, চুলকানি বা রক্তপাত হয়
• তিলের কিনারা অনিয়মিত/অস্পষ্ট হয়

এগুলো হলে অবশ্যই চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যেতে হবে।



🏥 চিকিৎসা

👉 চিকিৎসক তিল সাধারণত শুধু সৌন্দর্য বা অস্বস্তির কারণে তুলে দেন, আর ঝুঁকিপূর্ণ তিল হলে ক্যান্সার প্রতিরোধে সরিয়ে ফেলা হয়।
চিকিৎসার পদ্ধতি:
1. Surgical excision (কেটে ফেলা) – পুরো তিল ও আশেপাশের কিছু অংশ কেটে ফেলা হয়।
2. Shave excision – ত্বকের উপরিভাগ থেকে তিল শেভ করে ফেলা হয়।
3. Laser therapy – ছোট তিল লেজারের মাধ্যমে সরানো যায়।



🌿 ঘরোয়া প্রতিকার (শুধু সৌন্দর্য বা নিরীহ তিলের ক্ষেত্রে)

⚠️ মনে রাখবেন, ঘরোয়া প্রতিকার চিকিৎসার বিকল্প নয়। তবে কেউ চেষ্টা করতে চাইলে—
1. রসুনের পেস্ট – তিলে সামান্য লাগালে ধীরে ধীরে ফিকে হতে পারে।
2. আপেল সিডার ভিনেগার – তুলোয় ভিজিয়ে নিয়মিত লাগালে তিল শুকিয়ে যেতে পারে।
3. অ্যালোভেরা জেল – প্রাকৃতিকভাবে ত্বককে হালকা ও শান্ত করে, তিল ফিকে করতে সাহায্য করে।
4. আনারস/লেবুর রস – প্রাকৃতিক অ্যাসিড তিল হালকা করতে পারে।

⚠️ তবে এগুলোতে ত্বকে জ্বালা-পোড়া বা অ্যালার্জি হতে পারে, তাই আগে ছোট জায়গায় টেস্ট করে নিতে হবে।



✅ সংক্ষেপে
• মোল/তিল সাধারণত ক্ষতিকর নয়।
• তবে আকৃতি, রঙ বা সাইজ বদলালে অবশ্যই ডাক্তার দেখাতে হবে।
• চিকিৎসায় কেটে ফেলা, লেজার বা শেভিং ব্যবহার করা হয়।
• ঘরোয়া প্রতিকার সামান্য কাজে লাগতে পারে, কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ তিলে কখনো ব্যবহার করা উচিত নয়।

শিশুকে গরুর দুধ খাওয়ানো নিয়ে সাধারণত অভিভাবকদের মনে নানা প্রশ্ন জাগে।যেমন:1. শিশুকে কখন থেকে গরুর দুধ খাওয়ানো যায়?2. গরু...
07/02/2025

শিশুকে গরুর দুধ খাওয়ানো নিয়ে সাধারণত অভিভাবকদের মনে নানা প্রশ্ন জাগে।
যেমন:

1. শিশুকে কখন থেকে গরুর দুধ খাওয়ানো যায়?

2. গরুর দুধ নবজাতকের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে কি?

3. গরুর দুধ কি বুকের দুধের বিকল্প হিসেবে দেওয়া যায়?

4. শিশুর জন্য গরুর দুধ কি বিশেষভাবে প্রস্তুত করা উচিত, নাকি সরাসরি দেওয়া যায়?

5. গরুর দুধ শিশুর পুষ্টির চাহিদা মেটাতে সক্ষম কি?

6. শিশুর গ্যাস্ট্রিক সমস্যা বা অ্যালার্জি হলে কি গরুর দুধ দেওয়া ঠিক হবে?

7. গরুর দুধ শিশুর হজমে সমস্যা তৈরি করতে পারে কি?

8. গরুর দুধ থেকে শিশুর আয়রনের ঘাটতি বা রক্তশূন্যতা হওয়ার ঝুঁকি আছে কি?

9. গরুর দুধ কি শিশুর ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণ করতে পারে?

10. গরুর দুধের বিকল্প হিসেবে কী দেওয়া যেতে পারে?

আপনি যদি এসব প্রশ্নের বিশদ উত্তর চান, তাহলে ভিডিও টি দেখতে পারেন। 👇

https://youtu.be/Rh97rOjnxfw?si=aRAciK6cUgPEX6f5

19/12/2024

নলেন গুড়ের সাতকাহন | Nolen Gur Explained | Miyanur Alam

⭕️ কখনো ভেবে দেখেছেন যে আপনার চিকিত্সক কেন আপনাকে ইনসুলিনের পরিবর্তে বিভিন্ন রকমের ডায়াবেটিসের বড়ি প্রেসক্রাইব করছেন?আপ...
30/12/2021

⭕️ কখনো ভেবে দেখেছেন যে আপনার চিকিত্সক কেন আপনাকে ইনসুলিনের পরিবর্তে বিভিন্ন রকমের ডায়াবেটিসের বড়ি প্রেসক্রাইব করছেন?

আপনি কী কখনো ভেবে দেখেছেন যে আপনার ওষুধটি আসলে কীভাবে আপনার রক্ত শর্করার স্তর নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করছে? যদি আপনি সেটি নিয়ে ভেবে থাকেন, তাহলে আজকের লেখাটা আপনার জন্যে।

আপনার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য হয়তো আপনাকে ইনসুলিন বা ডায়াবেটিসের ওষুধ নিতে হতে পারে, সাথে স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার অভ্যাসগুলিও বজায় রাখতে হতে পারে। আপনার কী ধরনের ডায়াবেটিস ও রক্ত শর্করার স্তর রয়েছে তার উপরে আপনার ওষুধের নির্বাচন নির্ভর করবে।

#টাইপ 1 ডায়াবেটিস:
টাইপ 1 ডায়াবেটিস থাকা মানুষজনকে ইনসুলিন নিতেই হয় কারণ তাঁদের শরীরে প্রাকৃতিকভাবে পর্যাপ্ত পরিমাণে ইনসুলিন উত্পাদিত হয় না।

#টাইপ 2 ডায়াবেটিস:
যদিও টাইপ 2 ডায়াবেটিস থাকা ব্যক্তিদের শরীরে ইনসুলিন তৈরী হয়, তাহলেও তাঁদের শরীর এটি ব্যবহার করতে অক্ষম হয়। টাইপ 2 ডায়াবেটিস থাকা কিছু ব্যক্তি ডায়েট ও শরীরচর্চা করে তাঁদের রক্ত শর্করার স্তর নিয়ন্ত্রণ করেন বটে, কিন্তু অন্যদের মুখে ওষুধ গ্রহণ করার প্রয়োজন হয়। কিছু ব্যক্তির ইনসুলিনও লাগে।

#গর্ভাবস্থাকালীন ডায়াবেটিস:
কিছু মহিলাদের হয়তো প্রথমবার গর্ভবতী হয়ে পড়ার পরে ডায়াবেটিস ধরা পড়তে পারে। এইরকম ক্ষেত্রে, নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ ও স্বাস্থ্যকর ডায়েটই রক্ত শর্করার স্তর নিয়ন্ত্রণের পক্ষে পর্যাপ্ত হতে পারে। যাইহোক, রক্ত শর্করার মাত্রা যদি শারীরিক কার্যকলাপ ও ডায়েটে নিয়ন্ত্রিত না হয়, তাহলে হয়তো ইনসুলিন বা কিছু ডায়াবেটিসের ওষুধ দেওয়া হতে পারে।

⭕️ ইনসুলিন:
শরীরে শক্তির প্রধান উত্স হল গ্লুকোজ। খাবার থেকে প্রাপ্ত গ্লুকোজ ইনসুলিনের সহায়তায় শরীরে ব্যবহৃত হয়ে যায় বা শরীরে সংরক্ষিত হয়, এই প্রাকৃতিক হরমোনটি অগ্ন্যাশয় থেকে ক্ষরিত হয়। ইনসুলিনকে আমাদের কোষের দরজা খোলার চাবি হিসাবে তুলনা করা যায় যে চাবির সাহায্যে গ্লুকোজ কোষগুলিতে ঢুকতে পারে। টাইপ 1 ডায়াবেটিস থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে অগ্ন্যাশয় ইনসুলিন তৈরী করে না। কাজেই শরীরে গ্লুকোজ প্রক্রিয়াকরণের জন্য ইনসুলিন ইঞ্জেকশনের দরকার হয়।

⭕️ মুখে গ্রহণের ওষুধ:
টাইপ 2 ডায়াবেটিস থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে ধারাবাহিকভাবে খুব বেশি রক্ত শর্করার স্তর নিয়ন্ত্রণের প্রথম সারির চিকিত্সা হল মুখে গ্রহণের ওষুধ দেওয়া। এমনকি শরীরে ইনসুলিন তৈরী হলেও, রক্ত শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য আপনার চিকিত্সক মুখে গ্রহণের ওষুধ নিতে বলতে পারেন, যেহেতু শরীর উত্পন্ন ইনসুলিনেও সাড়া দিচ্ছে না।

⭕️ ডায়াবেটিসের জন্য যে বিভিন্ন শ্রেণীর ওষুধগুলি ব্যবহার করা হয় সেগুলির কাজের মাধ্যমসহ তালিকা নীচে দেওয়া হল:

1. বাইগুয়ানাইডস:
এই শ্রেণীর ওষুধগুলি (যেমন, মেটফর্মিন) গ্লুকোজকে আরও কার্যকরভাবে কোষের মধ্যে যেতে সাহায্য করে রক্ত শর্করার মাত্রা কমায়। এগুলি যকৃতকে অত্যধিক গ্লুকোজ তৈরী করা থেকেও আটকায়।

2. ডোপামাইন রিসেপ্টর অ্যাগোনিস্ট:
এই ওষুধগুলি (যেমন, ব্রমোক্রিপ্টিন) খাবার খাওয়ার পরে রক্ত শর্করার মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। এগুলি কোষে রাসায়নিক ডোপামাইনের স্তরকে প্রভাবিত করে।

3. মেগ্লিটিনাইডস:
এই ওষুধগুলি (যেমন, নাটেগ্লিনাইড এবং রিপাগ্লিনাইড) অগ্ন্যাশয়কে খাবার খাওয়ার সময়ে আরও বেশি করে ইনসুলিন তৈরী করতে সাহায্য করে।

4. সালফোনাইলিউরিয়াস:
মেগ্লিটিনাইডসের মত এই ওষুধগুলি, অগ্ন্যাশয়কে আরও বেশি করে ইনসুলিন তৈরী করতে উদ্দীপিত করে (যেমন, গ্লিমেপিরাইড, গ্লাইব্যুরাইড, ক্লোরপ্রোপামাইড, গ্লিপিজাইড, টোলবুটামাইড এবং টোলাজামাইজ)।

5. আলফা-গ্লুকোসিডেজ ইনহিবিটর্স:
এই ওষুধগুলি (যেমন, মিগ্লিটোল এবং অ্যাকার্বোজ) পাস্তা, আলু, পাঁউরুটি ও সাধারণ চিনির মত স্টার্চকে অন্ত্রের মধ্যে ভেঙ্গে শর্করার হজম হওয়া ধীর করে দেয়।

6.ডাইপেপটাইডিল পেপটিডেজ-4 (DPP-4) ইনহিবিটর্স:
আমাদের শরীর GLP-1 নামক একটি যৌগ তৈরী করে, যা শরীরে রক্ত শর্করা কমিয়ে দেয়। যাইহোক, যেহেতু GLP-1 খুব তাড়াতাড়ি ভেঙ্গে যায়, তাই DPP-4 ইনহিবিটর্সগুলি ব্যবহার করে এগুলির ভেঙ্গে যাওয়া রোধ করা হয় ও শরীরে এগুলি বেশিক্ষণ ধরে টিকে থাকা নিশ্চিত করা হয়। এই ওষুধগুলি রক্ত শর্করার মাত্রা কমাতে সাহায্য করে (যেমন, সিটাগ্লিপ্টিন, স্যাক্সাগ্লিপ্টিন, অ্যালোগ্লিপ্টিন এবং লিনাগ্লিপ্টিন)।

7. সোডিয়াম-গ্লুকোজ ট্রান্সপোর্টার 2 (SGLT2) ইনহিবিটর্স:
রক্তে থাকা গ্লুকোজ বৃক্কের মধ্যে দিয়ে সংবাহিত হয়, যেখানে এটি মূত্রের মাধ্যমে শরীর থেকে বেরিয়ে যায় বা আবার রক্তপ্রবাহে শোষিত হয়। SGLT2 বৃক্কের মধ্যে গ্লুকোজের রক্তে পুনর্প্রবেশের সুবিধা করে। SGLT2 ইনহিবিটর্সগুলি (যেমন, ডাপাগ্লিফ্লোজিন, কানাগ্লিফ্লোজিন, এম্প্যাগ্লিফ্লোজিন ও এর্টুগ্লিফ্লোজিন) SGLT2-র কার্যকলাপকে বাধা দিয়ে রক্তপ্রবাহে গ্লুকোজের পুনর্বার শোষিত হওয়া আটকায় এবং মূত্রের মাধ্যমে গ্লুকোজ বেরিয়ে যাওয়াতেও সুবিধা করে।

8. থিয়াজোলিডিনেডিওন:
এই ওষুধগুলি আপনার শরীরের কোষগুলিকে আরও ভালোভাবে গ্লুকোজের সদ্ব্যবহারে সাহায্য করে রক্ত শর্করার স্তর কমায় (যেমন, রোজিগ্লিটাজোন, পিওগ্লিটাজোন)।

9. ওরাল কম্বিনেশন থেরাপি:
যদি কোন একটি ওষুধ কার্যকরভাবে আপনার রক্ত শর্করার মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণ না করতে পারে, তাহলে আপনার চিকিত্সক হয়তো এই ওষুধগুলির একটি বা একাধিকের মিশ্রণ নিতে বলতে পারেন।

আপনার চিকিত্সক যে ওষুধই নেওয়ার পরামর্শ দিন না কেন, আপনার ডায়াবেটিস সর্বাধিক নিয়ন্ত্রণ করার জন্য স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রাও অবলম্বন করুন।

⭕️ ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ ও চিকিৎসা, ডেঙ্গু প্রতিরোধের উপায় সমূহ:শীতে লার্ভা অবস্থায় এডিস মশা অনেক দিন বেঁচে থাকতে পারে। বর...
21/12/2021

⭕️ ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ ও চিকিৎসা, ডেঙ্গু প্রতিরোধের উপায় সমূহ:

শীতে লার্ভা অবস্থায় এডিস মশা অনেক দিন বেঁচে থাকতে পারে। বর্ষার শুরুতে সেগুলো থেকে নতুন করে ডেঙ্গু ভাইরাসবাহিত মশা বিস্তার লাভ করে।

⭕️ চলুন ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণগুলো জেনে নিই-

ক্লাসিক্যাল ডেঙ্গুর সংক্রমণের ফলে সাধারণত তীব্র জ্বর ও সে সঙ্গে শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা (বিশেষ করে হাড়, কোমর, পিঠসহ অস্থিসন্ধি ও মাংসপেশিতে তীব্র ব্যথা) হয়। জ্বর ১০৫ ফারেনহাইট পর্যন্ত হয়। অনেক সময় ব্যথা এত তীব্র হয় মনে হয় যেন হাঁড় ভেঙে যাচ্ছে। তাই এ জ্বরের আরেক নাম ‘ব্রেক বোন ফিভার’।

জ্বর হওয়ার চার বা পাঁচদিনের মধ্যে সারা শরীরজুড়ে অনেকটা অ্যালার্জি বা ঘামাচির মতো দেখতে স্কিন র‍্যাশ হয়। র‍্যাশের ফলে রক্তচাপ কমে যেতে পারে। এর সঙ্গে বমি বমি ভাব দেখা দেয়। জ্বরের ফলে রোগী অতিরিক্ত ক্লান্তিবোধ করে এবং খাওয়ার রুচি কমে যায়।

অনেকসময় শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে রক্ত পড়া শুরু হয়; যেমন : চামড়ার নিচে, নাক ও মুখ দিয়ে, মাড়ি ও দাঁত থেকে, কফের সাথে, রক্ত বমি, পায়খানার সঙ্গে তাজা রক্ত বা কালো পায়খানা, চোখের মধ্যে এবং চোখের বাইরে রক্ত পড়তে পারে। মেয়েদের বেলায় অসময়ে ঋতুস্রাব বা রক্তক্ষরণ শুরু হলে এটি অনেক দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

ডেঙ্গু জ্বরের ভয়াভহ রূপ হলো ডেঙ্গু শক সিনড্রোম। ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভারের সঙ্গে সার্কুলেটরি ফেইলিউর হয়ে ডেঙ্গু শক সিনড্রোম হয়।

•এর ফলে-

নাড়ির স্পন্দন অত্যন্ত ক্ষীণ ও দ্রুত হয়ে পড়ে।
শরীরের হাত-পা ও অন্যান্য অংশ ঠান্ডা হয়ে যায়।
প্রস্রাব কমে যায়।
হঠাৎ করে রোগী জ্ঞান হারিয়ে ফেলতে পারে।



⭕️ ডেঙ্গু জ্বরের পরীক্ষাঃ

ডেঙ্গু জ্বরের রোগনিরূপণ মাইক্রোবায়োলজিক্যাল টেস্টিং-এর মাধ্যমে সম্ভব। জ্বর হওয়ার শুরুর দিকে রক্তের সিবিসি (কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট) ও ডেঙ্গু এনএসওয়ান পরীক্ষা দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি শ্বেতরক্তকণিকা, হিমাটোক্রিট, অণুচক্রিকা, রক্তের অ্যালবুমিন, যকৃতের এনজাইম এসজিপিটি, এলকালাইন ফসফাটেজ
ইত্যাদি টেস্ট করানোরও প্রয়োজন পড়ে ।

রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশের ক্ষেত্রে ডেঙ্গু হওয়া সত্ত্বেও এই পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ হতে পারে। সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণকে গুরুত্ব দিতে হবে৷



⭕️ ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসাঃ
ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত বেশির ভাগ রোগী সাধারণত পাঁচ থেকে ১০ দিনের মধ্যে নিজে নিজেই ভালো হয়ে যায়। তবে এসময় রোগীকে অবশ্যই চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী চলতে হবে।

ডেঙ্গু জ্বরের ফলে প্লাজমা লিকেজ বা রক্তের তরল অংশ কমে যায়। এতে রোগীর ব্লাড প্রেশার কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এজন্য রোগীকে নির্দিষ্ট বিরতিতে প্রচুর পরিমাণে ডাবের জল ওরাল স্যালাইন, লেবুর শরবত খাওয়ান। ডাবের জলে খনিজ বা ইলেট্রোলাইটস আছে, যা ডেঙ্গু জ্বরে খুবই দরকারি।

⭕️ বাড়িতে থাকাকালীন-

পর্যাপ্ত বিশ্রামে (জ্বর চলাকালীন এবং জ্বরের পর এক সপ্তাহ) থাকতে হবে
গ্লুকোজ, ভাতের মাড়, বার্লি, বাসায় তৈরি ফলের রস, স্যুপ ইত্যাদি খাওয়ান।
প্যারাসিটামল ট্যাবলেট-

পূর্ণবয়স্কদের জন্য ২টি করে প্রতি ৬/৮ ঘণ্টা পর পর।
সতর্কতা-

ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে গায়ে ব্যথার জন্য অ্যাসপিরিন জাতীয় ঔষধ খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। কারণ এতে আকস্মিক রক্তক্ষরণের আশঙ্কা রয়েছে।

চিকিৎসা চলাকালীন রোগীকে দিনরাত সব সময় মশারির ভেতরে থাকতে হবে।

⭕️ এছাড়া-

১. খুব জ্বর এলে হালকা গরম জল দিয়ে স্নান করে নিতে পারেন। জলের তাপমাত্রা আপনার শরীরের তাপমাত্রার চেয়ে দুই ডিগ্রি কম হবে। বাথটাবে বা ঝরনার ধারায় স্নান করা ভালো। তবে ১৫ থেকে ২০ মিনিটের বেশি ভিজবেন না। গোসল সেরে দ্রুত শুকনো তোয়ালে দিয়ে জল মুছে নিন।

২. স্নান করা সম্ভব না হলে শরীরের ত্বক স্পঞ্জ করতে পারেন। পরিষ্কার সুতির পাতলা কাপড় গামলার জলে ভিজিয়ে চিপে নিন। জলের তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকবে (গরম বা বরফ-ঠান্ডা নয়)। এবার এই ভিজে কাপড় দিয়ে সারা শরীর মুছে নিন। ভেজা কাপড় দিয়ে মোছার পর শুকনো কাপড়ের সাহায্যে জল মুছে নিন।

⭕️ ডেঙ্গু জ্বরের প্রাথমিক উপসর্গ দেখা দিলে ঘরোয়াভাবে যেসব খাবার খাবেন-

১. জ্বরের মধ্যে হারবাল ও গ্রিন চা বেশ উপকারি। চায়ের মধ্যে এক টুকরো আদা, এলাচি, লবঙ্গ বা খানিকটা মধু মিশিয়ে এই হারবাল চা তৈরি করা যেতে পারে। এক কাপ পানিতে দুই চামচ আপেল সিডার ভিনেগার ও এক চামচ মধু মিশিয়ে দিনে দু-তিনবার পান করুন। এটি শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে অত্যন্ত সহায়ক।

২. জ্বর হলে শরীরের বিপাকক্রিয়া বাড়ে। এতে বাড়তি ক্যালরির প্রয়োজন পড়ে। তাই এসময় সহজপাচ্য খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। ফলের রস বা ফল খেতে চেষ্টা করুন। বিশেষ করে ভিটামিন সি-যুক্ত ফল, যেমন: কমলা, লেবু, জাম্বুরা, আনারস ইত্যাদি। ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করবে।

৩. নানা ধরনের ভেষজ খাবারের উপকারিতা আছে; যেমন পেঁপে পাতা অণুচক্রিকা বাড়াতে সাহায্য করে বলে ডেঙ্গু নিরাময়ে দারুণ উপকারি। এছাড়া পেঁপে পাতায় থাকে প্রচুর পরিমাণে কমপ্লেক্স ভিটামিন রয়েছে যা জীবাণু বহনকারী মশার লার্ভা ধংস করে। পেঁপে পাতার রস সেবনে প্লাটিলেটের সংখ্যা প্রথম দিনেই বৃদ্ধি পেয়ে দ্বিগুণ হয়ে যায় এবং ৫ দিনেই প্লাটিলেটের সংখ্যা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।

••ডেঙ্গু নিরাময়ের জন্য পেঁপে পাতার রস কীভাবে তৈরি করবেন-

পেঁপে পাতার রস বানানোর জন্য কচি পেঁপে পাতা ধুয়ে শিরা থেকে তা ছাড়িয়ে নিতে হবে ।
তারপর তা পিষে রস বের করতে হবে।
২৫ মিলিলিটার বা ৫ চা চামুচ পাতার রস এক গ্লাস জলে মিশিয়ে প্রতিদিন দুই বেলা ( সকালে ও সন্ধ্যায়) দুই চামচ করে সেবন করতে হবে।

৪. নিম পাতা ভেজানো জল পান করুন। এর ফলে প্লেটলেট এবং সাদা রক্ত কণিকার পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। এটি ইমিউনিটি সিস্টেমকেও অধিক কার্যক্ষম করে তোলে।

৫. এসময় ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তিকে প্রচুর পরিমাণে গাজর, টমেটো, শসা ইত্যাদি সবজি খেতে দিন। কেননা এতে জলীয় অংশ বেশি থাকে। ব্রকোলি ভিটামিন ‘কে’ এর অন্যতম উৎস, যা ডেঙ্গুতে রক্তপাতের ঝুঁকি কমায়।

৬. ডেঙ্গু রোগীকে প্রতিদিন নানা ধরনের স্যুপ; যেমন সবজির স্যুপ, টমেটোর স্যুপ, চিকেন স্যুপ বা কর্ন স্যুপ দিন। এতে পানির চাহিদা পূরণ হবে, পাশাপাশি পুষ্টিও নিশ্চিত হবে। এ ছাড়া নরম সেদ্ধ করা খাবার, জাউ, পরিজ ইত্যাদি খাওয়ান।

৭. ডেঙ্গুর সংক্রমণের ফলে যকৃতে এসজিপিটি (SGPT: Serum glutamic pyruvic transaminase) বেড়ে যায়। তাই অতিরিক্ত মসলা ও চর্বি তেলযুক্ত খাবার খাওয়া পরিহার করুন। তবে খাদ্যতালিকায় প্রয়োজনীয় আমিষ থাকতে হবে।

⭕️ যাদের জন্য ডেঙ্গু জটিল হতে পারে

শিশু, বৃদ্ধ ও গর্ভবতী মায়েদের ক্ষেত্রে ডেঙ্গু রোগ জটিল হয়ে উঠতে পারে। আগে যারা আক্রান্ত হয়েছে, তারা দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হলে জটিলতা বেশি হয়। এ রকম রোগীরা সহজে ডেঙ্গু শক সিনড্রোমে আক্রান্ত হতে পারে। তাই শিশু, বৃদ্ধ ও গর্ভবতী মায়েদের জন্য দরকার বিশেষ সতর্কতা। তবে মনে রাখবেন, মাতৃদুগ্ধ পানের মাধ্যমে ডেঙ্গু ছড়ায় না।

⭕️ ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধে করণীয় কি কিঃ
বাড়ির আশপাশের ঝোঁপঝাড়, জঙ্গল, জলাশয় ইত্যাদি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন।

এডিস মশা মূলত জমে থাকা স্বচ্ছ জলে ডিম পাড়ে। তাই ফুলদানি, অব্যবহৃত কৌটা, পরিত্যক্ত টায়ার, প্লাস্টিকের পাত্র, প্লাস্টিকের ড্রাম, মাটির পাত্র, টিনের কৌটা, ডাবের পরিত্যক্ত খোসা, কন্টেইনার, মটকা, ব্যাটারির শেল, পলিথিন, চিপসের প্যাকেট ইত্যাদি নির্দিষ্ট স্থানে ফেলুন।

খেয়াল রাখুন, যাতে অ্যাকুয়ারিয়াম, ফ্রিজ বা এয়ারকন্ডিশনারের নিচেও জল জমে না থাকে।

এডিস মশা সাধারণত সকালে ও সন্ধ্যায় কামড়ায়। তাই এসময় শরীরে ভালোভাবে কাপড় ঢেকে বের হোন। প্রয়োজনে মসকুইটো রিপেলেন্ট ব্যবহার করুন। ঘরের দরজা-জানালায় নেট ব্যবহার করুন।

দিনের বেলায় মশারি টাঙ্গিয়ে অথবা কয়েল জ্বালিয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করুন।

বিভিন্ন রাস্তার আইল্যান্ডে সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য ফুলের টব, গাছপালা, জলাধার ইত্যাদি দেখা যায়। এখানে বৃষ্টির জল জমে থাকতে পারে। এসব জায়গায় মশার বংশবিস্তারের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন।

সম্ভব হলে শরীরে মশা নিরোধক ক্রিম ব্যবহার করুন।

জানালার পাশে তুলসীগাছ লাগান। এ গাছের ভেষজ উপাদান মশা তাড়ানোর জন্য খুবই উপযোগী।

মশা তাড়াতে কর্পূরও দারুণ কার্যকর। দরজা-জানালা বন্ধ করে কর্পূর জ্বালিয়ে রুমের ভেতর রাখুন। ২০ মিনিট পর দেখবেন মশা একেবারেই চলে গেছে।

⭕️ শিশুদের ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসাঃ
শিশুদের ক্ষেত্রে ডেঙ্গুর সংক্রমণের ফলে চোখ লাল হয়ে যাওয়া, কাশি বা শ্বাসকষ্ট হওয়া ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দেয়। ডেঙ্গুর কারণে শিশুর শক সিনড্রোম হলে পেট ফুলে যেতে পারে বা শরীরের বিভিন্ন স্থান থেকে রক্তক্ষরণ হতে পারে, যেমন রক্তবমি, পায়খানার সাথে রক্ত যাওয়া ইত্যাদি।

শিশুর মধ্যে ডেঙ্গুর প্রাথমিক লক্ষণগুলো দেখা দিলে চিকিৎসকরা সাধারণত কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট (সিবিসি), এনএস ওয়ান অ্যান্টিজেন, এফজিপিটি এবং এফজিওটি ইত্যাদি টেস্ট করানোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

পরিস্থিতি গুরুতর হলে রক্ত পরীক্ষার পাশাপাশি বুকের এক্স রে, পেটের আলট্রাসনোগ্রাফি, ইলেক্ট্রোলাইটের মাত্রা পরিমাপ করা হয়। এছাড়া প্রস্রাব না হলে ক্রিয়াটিনিনের মাত্রা পরীক্ষা করা হয়। এ সময় শিশুদের হাত-পা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ঠান্ডা হয়ে যাওয়া কিংবা অজ্ঞান হয়ে শরীর নিস্তেজ হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থাতে চিকিৎসক বা হাসপাতালের তত্ত্বাবধানে থাকা খুব জরুরি।

যদি শরীরে প্লাজমা লিকেজের কারণে ফ্লুয়িড জমতে থাকে, তাহলে স্যালাইনের মাধ্যমে শরীরে অ্যালবোমিন প্রয়োগ করা হয়। রোগী শক সিনড্রোমে চলে গেলে এই চিকিৎসা দেয়া হয়ে থাকে।

শিশুর রক্তে প্লেটলেট যদি ৫,০০০ থেকে ১০,০০০ এর নীচে চলে আসে বা রক্তরক্ষণ হয়, তাহলে শিশুকে আইসিইউ-তে রেখে প্লেটলেট দেয়ার প্রয়োজন হয়।

ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে বাড়তি সতর্কতা হিসেবে শিশুদের ফুল হাতা ও ফুল প্যান্ট পরিয়ে রাখুন। যদি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকে, তাহলে বাড়িতে রেখেও নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে শিশুকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে তোলা সম্ভব।

সুস্থ আগামীর জন্যই আমাদের শিশুদের সুস্থতা জরুরি।

 #গর্ভকালীন ডায়াবেটিস (Gestational Diabetes): মহিলারা সাধারনতঃ দুই ভাবে ডায়াবেটিসে ভোগেন। ১। গর্ভ সঞ্চারের আগে থেকেই ড...
03/12/2021

#গর্ভকালীন ডায়াবেটিস (Gestational Diabetes):


মহিলারা সাধারনতঃ দুই ভাবে ডায়াবেটিসে ভোগেন।

১। গর্ভ সঞ্চারের আগে থেকেই ডায়াবেটিস
২। শুধুমাত্র গর্ভকালীন সময়ে ডায়াবেটিস।

গর্ভকালীন ডায়াবেটিস সাধারণত সন্তান জন্মদানের পর সেরে যায়। কিন্তু পরবর্তিতে মায়ের টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেকগুণ বেড়ে যায়। প্লাসেন্টা বা গর্ভফুল থেকে উৎপন্ন কয়েক ধরণের হরমোনের কারনে গর্ভবতী মায়েদের গর্ভকালীন ডায়াবেটিস দেখা দেয়। এসময় মায়ের শরীরে বিভিন্ন হরমোনের ভারসাম্যহীনতাই এই রোগের জন্য দায়ী।

গর্ভকালীন সময়ে মায়ের রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশী থাকলে তা গর্ভকালীন ডায়াবেটিস (Gestational Diabetes Mellitus/GDM) হিসেবে গন্য হবে। অর্থাৎ সকালে খালি পেটে রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা ১১০ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার বা তার চেয়ে বেশী অথবা ৭৫ গ্রাম গ্লুকোজ খাওয়ার ২ ঘণ্টা পরে ১৪০ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার বা তার চেয়ে বেশী হলে তাকে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস হিসেবে সনাক্ত করতে হবে। এই পদ্ধতিকে বলা হয় OGTT (Oral Glucose Tolerance Test)। আরেকটি পদ্ধতি আছে, তাকে বলে GCT (Glucose Challenge Test)। সেটা হলঃ দিনের যে কোনও সময়ে (খালি বা ভরা পেট জানা লাগবে না) ৫০ গ্রাম গ্লুকোজ খাওয়ার ১ ঘণ্টা পরে ১৪০ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার) বা তার চেয়ে বেশী হলে তাকে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস হিসেবে ধরে নিতে হবে। GCT পজিটিভ হলে অবশ্যই OGTT পরীক্ষা করতে হবে। গড়ে ৪% গর্ভবতী মায়েরা গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হন।

প্লাসেন্টা বা গর্ভফুল থেকে উৎপন্ন কর্টিসল, প্রজেস্টেরন, হিউম্যান প্লাসেন্টাল ল্যাকটোজেন, প্রোল্যাকটিন, এস্ট্রাডিওল ইত্যাদি হরমোন রক্তের ইনসুলিন হরমোনকে তার কাজে বাঁধা দেয়। এতে, ইনসুলিন রক্তের গ্লুকোজকে শরীরের বিভিন্ন কোষে পর্যাপ্ত পরিমানে স্থানান্তরিত করতে পারেনা। ফলে রক্তে গ্লুকোজের পরিমান অনেক বেশী থাকে। এটাই গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের মূল কারণ। আর একারণেই গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে ইনসুলিন ইঞ্জেকশান দিতে হয়।

#লক্ষনঃ গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে সাধারণত তেমন কোন লক্ষণ দেখা যায় না তবে কোনও কোনও ক্ষেত্রে ঝাপসা দৃষ্টি, ক্লান্তি, ঘন ঘন মুত্রথলি, যোনিপথ ও চামড়ার সংক্রমণ, অতিরিক্ত তৃষ্ণা, অতিরিক্ত মূত্রত্যাগ, বমি বমি ভাব এবং বমি, ক্ষুধা বৃদ্ধি সত্ত্বেও ওজন কমে যাওয়ার মত কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

#গর্ভকালীন ডায়াবেটিস থাকলে মায়ের জটিলতাঃ গর্ভপাত, গর্ভস্থ ভ্রূণের মৃত্যু, প্রি-এক্লাম্পশিয়া, এক্লাম্পশিয়া, গর্ভস্থ পানির পরিমান বেড়ে যাওয়া, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ হতে না চাওয়া, গর্ভ সঞ্চারের আগের চোখ বা কিডনির সমস্যা থকলে তা বেড়ে যেতে পারে।

#গর্ভকালীন ডায়াবেটিস থাকলে বাচ্চার জটিলতাঃ অসাভাবিক বেশী ওজনের বাচ্চার জন্ম (৪ কেজির উপরে), কোনও কোনও ক্ষেত্রে গর্ভস্থ ভ্রূণের বৃদ্ধি কম হওয়া, জন্মের সাথে সাথে বাচ্চার গ্লুকোজের মাত্রা অস্বাভাবিক নীচে নেমে যাওয়া (বাচ্চার হাইপোগ্লাইসেমিয়া), রক্তের লোহিত কণিকার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, জন্ডিস, রক্তের ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম কমে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, জন্মগত অঙ্গবিকৃতি ইত্যাদি।

#কাদের গর্ভকালীন ডায়াবেটিস হতে পারেঃ যাদের পূর্বে এক বা একাধিক গর্ভপাত হয়েছে, দীর্ঘদিন বন্ধ্যাত্ব ছিল, আগে মৃত সন্তান জন্ম দিয়ে থাকলে, বয়স ২৫ বা তার বেশী হলে, বাবা-মা-ভাই-বোন কারো ডায়াবেটিস থাকলে, কায়িক পরিশ্রমের অভ্যাস না থাকলে, অতিরিক্ত ওজন থাকলে (BMI ৩০ কেজি/বর্গমিটার এর উপরে), যাদের পেটের বেড়ের মাপ নিতম্বের বেড়ের মাপের চেয়ে বেশী, পুর্বে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস থাকলে বা পূর্বে ৪ কেজির উর্ধে বাচ্চা প্রসব করে থাকলে। উচ্চ রক্তচাপ, ধুমপায়ী মা এবং পলিসিস্টিক ওভারী সিনড্রোম থাকলেও গর্ভকালীন ডায়াবেটিস হতে পারে বলে কোনও কোনও গবেষণায় দেখা গেছে।

গর্ভকালীন ডায়াবেটিস হয়েছে কিনা জানার জন্য ১২-১৪ সপ্তাহের সময় একবার এবং ২৪-২৮ সপ্তাহের সময় আরেকবার রক্তের গ্লুকোজ পরীক্ষা (OGTT বা GCT) করাতে হবে।

#চিকিৎসাঃ

– গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় শুধুমাত্র ইনসুলিন ইঞ্জেকশান ব্যাবহার করতে হবে। ডায়াবেটিসের মুখে খাওয়ার ঔষধ ব্যাবহার করবেন না।

– যাদের গর্ভসঞ্চারের আগে থেকেই ডায়াবেটিস ছিল এবং মুখে খাওয়ার ঔষধ চলাকালীন গর্ভসঞ্চারের কথা জানতে পেরেছেন, তাদেরও খাওয়ার ঔষধ বন্ধ করে ইনসুলিন শুরু করতে হবে।

– যে সব ডায়াবেটিক মায়েরা গর্ভধারন করতে ইচ্ছুক তারা মুখে খাওয়ার ঔষধ সেবন করলেও, তাদের খাওয়ার ঔষধ বন্ধ করে ইনসুলিন শুরু করতে হবে।

– অনেক মহিলার ক্ষেত্রে কোনও ঔষধ লাগে না, শুধুমাত্র খাদ্য পরিমার্জন এবং মাঝারি ধরণের শারীরিক ব্যায়ামের মাধ্যমেই সুস্থ্য থাকা সম্ভব।

গর্ভবতীর ক্যালোরি চাহিদাঃ আদর্শ শরীরিক ওজন (IBW) অনুপাতে প্রথম ৩ মাস ৩০ কিলো ক্যালোরি/কেজি, পরবর্তি ৩ মাস ৩৬ কিলো ক্যালোরি/কেজি, শেষ ৩ মাস ৩৮ কিলো ক্যালোরি/কেজি হিসেবে মা’কে খাবার খাওয়াতে হবে। খাদ্যে শর্করা (কার্বহাইড্রেট) ৫০%-৬০%, চর্বি (ফ্যাট) ৩০%, আমিষ (প্রোটিন) ১০%-২০% থাকতে হবে। সাথে প্রয়োজনীয় আয়রন, ফলিক এসিড, ক্যালসিয়াম সরবরাহ করতে হবে। ধরা যাক একজন মহিলার আদর্শ শরীরিক ওজন ৫২ কেজি। গর্ভসঞ্চারের প্রথম ৩ মাসে তার প্রতিদিনের ক্যালরী প্রয়োজন ৫২X৩০=১৫৬০ কিলোক্যালরি। তাহলে দৈনিক শর্করা জাতীয় খাবার লাগবে ১৫৬০X৫০%=৭৮০ কিলোক্যালরি, চর্বি জাতীয় খাবার লাগবে ১৫৬০X৩০%=৪৬৮ কিলোক্যালরি, আমিষ জাতীয় খাবার লাগবে ১৫৬০X২০%=৩১২ কিলোক্যালরি। এভাবে পরবর্তি মাসগুলোর জন্য দৈনিক ক্যালোরির হিসাব করতে হবে।

এসময় মাকে প্রচুর পরিমানে ফাইবার যুক্ত খাদ্য যেমনঃ ফল, শাক-শব্জি খাওয়াতে হবে।

#গর্ভকালীন ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনের লক্ষ্যমাত্রাঃ

সকালের নাস্তার আগে রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা ৬.০ মিলিমোল/লিটার (১১০ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার) এর নীচে, খাওয়ার পরে ৬.০ মিলিমোল/লিটার (১১০ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার) এর নীচে রাখতে হবে। HbA1c ৬.৫% এর নীচে রাখতে হবে। Blood Pressure (BP) ১৩০/৮০ এর নীচে রাখতে হবে। গর্ভকালীন ওজন বৃদ্ধি ১০-১৫ কেজি পর্যন্ত হয়েছে কিনা লক্ষ্য রাখতে হবে।

সব ধরণের ডায়াবেটিসের রোগীরা বাসায় নিজে নিজে গ্লুকোমিটার দিয়ে রক্তের গ্লুকোজ মাপতে শিখে নেওয়া জরুরী। GDM patients নিয়মিত ভাবে গ্লুকোজ পরিমাপ করবেন। কোনও সমস্যা দেখা দিলে সাথে সাথে আপনার চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন।

ডেলিভারী, মা ও শিশুঃ গর্ভকালীন ডায়াবেটিস রোগীর সাভাবিক ডেলিভারী হতে কোনও বাধা নেই। যদি মায়ের অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, দীর্ঘস্থায়ী কোনও জটিলতা থেকে থাকে, প্রি-এক্লাম্পশিয়া, বড় আকারের বাচ্চা অথবা গর্ভস্থ ভ্রূণের বৃদ্ধি কম হওয়ার মত কোনও সমস্যা হয় তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিস্ট সময়ের ১-২ সপ্তাহ পূর্বেই নরমাল বা সিজারের মাধ্যমে ডেলিভারি করে ফেলা উচিৎ। ডেলিভারির সময় মায়ের রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা ৪.৫-৫ মিলিমোল/লিটার (৮০-৯০ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার) রাখতে হবে, না হলে বাচ্চার গ্লুকোজের মাত্রা অস্বাভাবিক নীচে নেমে গিয়ে বিপর্যয় ঘটাতে পারে।

বাচ্চা জন্মের আধা ঘন্টা/এক ঘন্টার মধ্যে বাচ্চার পায়ের গোড়ালি থেকে রক্ত নিয়ে পরীক্ষা করে দেখতে হবে বাচ্চার গ্লুকোজের মাত্রা ঠিক আছে কিনা। যদি গ্লুকোজের মাত্রা ২.২ মিলিমোল/লিটার (৪০ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার) এর নীচে নেমে যায় তাহলে দ্রুত বাচ্চাকে নিওনেটাল আইসিইউতে স্থানান্তর করে চিকিৎসা শুরু করতে হবে। মায়ের গর্ভকালীন ডায়াবেটিস থাকলে সেই বাচ্চার পরবর্তিতে স্থুলকায় এবং টাইপ ২ ডায়াবেটিসের সম্ভাবনা থাকে।

ডেলিভারির ৬ সপ্তাহ পর মায়ের রক্তের OGTT পরীক্ষা করতে হবে। স্বাভাবিক থাকলে প্রতি বছর কমপক্ষে ১ বার করে OGTT পরীক্ষা করতে হবে। গবেষণায় দেখা গেছে, একবার গর্ভকালীন ডায়াবেটিস হলে পরবর্তি ৭-১০ বছরের মধ্যে ২৫%-৩০% মহিলা এবং ৫০%-৬০% মহিলা পরবর্তি জীবনে টাইপ ২ ডায়াবেটিস মেলাইটাস রোগে আক্রান্ত হতে পারেন।

গর্ভকালীন ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনের মুখে খাওয়ার ঔষধ খেলে কি হবে? এখনও গর্ভকালীন ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রন করতে খাওয়ার ঔষধের নিরাপত্তার বিষয়ে গবেষণালব্ধ ফলাফল সম্পুর্নরূপে প্রমানিত হয়নি। তবে যতটুকু জানা গেছে, মুখে খাওয়ার ঔষধ সাধারণত সফলভাবে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রন করতে পারে না। খাওয়ার ঔষধের পাশাপাশী ইনসুলিন দেয়া লাগতে পারে। তবে ইনসুলিন দিয়ে চিকিৎসা করলে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস চমৎকার ভাবে নিয়ন্ত্রন করা যায় এবং স্বাভাবিক ওজনের বাচ্চার জন্ম হয়, এছাড়াও বাচ্চার জন্মের সাথে সাথে বাচ্চার মারাত্মক হাইপোগ্লাইসেমিয়া রোধ করা সম্ভব হয়। গর্ভকালীন ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রন করতে ইনসুলিন নিলে পরবর্তি ৫ বছরের মধ্যে মায়ের টাইপ ২ ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা অনেকাংশে কমে যায়।

👉To get more post and updates like, comment and share our post as well as invite your friends to like our PAGE.

🔴  #আমের উপকারিতা:আমকে বলা হয় ফলের রাজা। মিষ্টি স্বাদ ছাড়াও আমের উপকারিতা অগণিত। এটি শরীরে ভিটামিনের অভাব পূরণের পাশাপাশ...
02/12/2021

🔴 #আমের উপকারিতা:
আমকে বলা হয় ফলের রাজা। মিষ্টি স্বাদ ছাড়াও আমের উপকারিতা অগণিত। এটি শরীরে ভিটামিনের অভাব পূরণের পাশাপাশি কর্মশক্তি যোগায়। ফল হিসেবে খাওয়ার পাশাপাশি আম থেকে মজাদার চাটনি, আমসত্ত্ব, মোরব্বা ও জেলি তৈরি করা যায়।
আমের বিভিন্ন জাত

পৃথিবীতে অসংখ্য জাতের আম রয়েছে। এর মধ্যে ফজলি, ল্যাংড়া, গোপালভোগ, খিরসা, অরুনা,ক্ষীরভোগ, মোহনভোগ, রাজভোগ, রানিভোগ, চিনি মিছরি, জগৎমোহিনী, রাঙ্গাগুড়ি, মিশ্রিকান্ত, বোম্বাই, পাহাড়িয়া, কাকাতুয়া, চম্পা, সূর্যপুরি, কাঁচামিঠা, আশ্বিনা, আম্রপালি, শ্যামলতা, বাগানপল্লি, দুধসর, কোহিতুর, মিশ্রিদানা, নিলাম্বরী, কালীভোগ, আলফানসো, কারাবাউ, গোপাল খাস, কেন্ট,পাহুতান, ত্রিফলা, হাড়িভাঙ্গা, লখনা, কলাবতী ইত্যাদি বিখ্যাত। একেক জাত, একেক মন ভোলানো ঘ্রাণ, স্বাদের ভিন্নতা এবং বৈশিষ্ট্যের জন্য আমাদের কাছে প্রিয়। মিষ্টতা ও স্বাদে হিমসাগর বা ক্ষীরশাপাতি অনন্য।
পুষ্টি উপাদান

আমে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, সি, বি৬, কে, ফলিক অ্যাসিড, প্রোটিন ও ফাইবার রয়েছে। এছাড়াও আম ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন, ক্যালসিয়াম, কপার, বিটা ক্যারোটিন ইত্যাদি খনিজে ভরপুর। প্রতি ১০০ গ্রাম আমে ৭০ কিলোক্যালরি কার্বোহাইড্রেট, ০.৫ গ্রাম চর্বি, ১.৮০ গ্রাম ফোলেট, ০.১২৪ মিলিগ্রাম রাইবোফ্লোভিন, ০.০৫৭ মিলিগ্রাম থায়ামিন, ১০ মিলিগ্রাম কপার, এবং ৯ মিলিগ্রাম ম্যাঙ্গানিজ বিদ্যমান।

🔴 কাঁচা আমের উপকারিতা
গ্রীষ্মকালীন ফল আম। গরমে দাবদাহে এক ফালি কাঁচা আম মনে নিয়ে আসে প্রশান্তি। কাঁচা আমের জুস এবং আচার খুবই মুখরোচক। এমনকি ডালের সঙ্গে রান্না করেও খাওয়া যায় কাঁচা আম। কেউ আবার কাঁচা আমের ভর্তা খুব পছন্দ করেন। আমে প্রচুর পরিমাণ এনজাইম রয়েছে, যা শরীরের প্রোটিনের অণু গুলো ভেঙে ফেলতে সাহায্য করে। ফলে হজম শক্তি বৃদ্ধি পায়। গর্ভাবস্থায় কাঁচা আমের উপকারিতা অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের সকালে উঠার পর বমি বমি ভাব হয়। কাঁচা আম গর্ভবতী মহিলাদের মর্নিং সিকনেসের সমস্যা দূর করে। গর্ভাবস্থায় মায়েরা কাঁচা আম খেলে গর্ভের সন্তানের অ্যান্টিবায়োটিক ক্ষমতা বেশি থাকে। ফলে জন্মানোর পর খুব কমই রোগে আক্রান্ত হয় শিশুরা। মেনোপোজ হওয়া নারীর আয়রনের ঘাটতি পূরণেও কাঁচা আম বেশ উপকারি। ঘামাচির সমস্যা দূর করতে গরমের সময় ঘামাচির সমস্যা সমাধানে সবচেয়ে ভালো উপায় কাঁচা আম খাওয়া। কাঁচা আম সানস্ট্রোকও প্রতিরোধ করে। লিভারের সমস্যা প্রতিরোধে যকৃতের রোগ নিরাময়ে কাঁচা আম খুব উপকারি। কাঁচা আম শরীরে পটাসিয়ামের অভাব পূরণ করে লিভার ভালো রাখে। এটি বাইল এসিড নিঃসরণ বাড়ায় এবং অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণও প্রতিরোধ করে। অ্যানিমিয়া প্রতিরোধে কাঁচা আম রক্তস্বল্পতার সমস্যা দূর করে। এটি রক্তনালীসমূহের স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি করে এবং নতুন রক্ত কনিকা গঠনে সাহায্য করে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কাঁচা আম খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। আমে উচ্চ মাত্রায় প্রোটিন রয়েছে, যা জীবাণু থেকে দেহকে সুরক্ষা দেয়। কাঁচা আম স্কার্ভি প্রতিরোধ করে ও মাড়ির রক্ত পড়া কমায়। কাঁচা আম কিডনির সমস্যা প্রতিরোধেও সাহায্য করে এবং অ্যাসিডিটি নিয়ন্ত্রণ করে। ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাসে কাঁচা আম রক্তে ক্ষতিকারক কোলেস্টেলের মাত্রা কমায় এবং ক্যান্সার কোষকে মেরে ফেলতে সাহায্য করে। এটি কোলন, প্রোস্টেট, ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমিয়ে আমাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা দেয়। যৌনশক্তি বাড়াতে কাঁচা আম যৌনশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে এবং শরীর ফিট রাখে। কাঁচা আম খাওয়ার ফলে পুরুষের শুক্রাণুর গুণগত মান উন্নত হয় এবং সেক্স ক্রোমজোমের কর্মক্ষমতা বাড়ে। ত্বকের যত্নে কাঁচাআম কাঁচা আমক্লিনজার হিসেবে ত্বকের উপরিভাগে ব্যবহার করা হয়। এটি লোমকূপ পরিষ্কার করে এবং ব্রণ দূর করে। বার্ধক্যের ছাপ রোধে আমের রস বেশ কার্যকর। এটি চুল ও ত্বককে উজ্জ্বল রাখতে সাহায্য করে। অবসাদ দূর করতে গরমে স্বাভাবিকভাবে ঝিমুনি ভাব দেখা দেয়। দুপুরের খাওয়ার পরে কয়েক টুকরা কাঁচা আম খেলে এ ক্লান্তিভাব দূর হবে। নিশ্বাসের দুর্গন্ধ প্রতিরোধেও কাঁচা আম অনেক কার্যকর। দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধিতে কাঁচা আম রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে। চোখের চারপাশের শুষ্কভাবও দূর করে। শরীর গঠনে কাঁচা আমের উপকারিতা প্রতিদিন আম খেলে দেহের ক্ষয় রোধ হয় ও স্থূলতা কমে যায়। এটি শরীরে অক্সিজেনের সরবরাহ বাড়াতেও অনেক সহায়ক। শরীরে লবণের ঘাটতি দূর করে গরমে অতিরিক্ত ঘামে শরীর থেকে সোডিয়াম ক্লোরাইড ও লৌহ বের হয়ে যায়। কাঁচা আমের জুস শরীরের এই ঘাটতি দূর করবে।

🔴 পাকা আমের স্বাস্থ্যগুণ:
উচ্চরক্তচাপের রোগীদের জন্য পাকা আম খুব উপকারি। চলুন, দেখে নিই পাকা আম কিভাবে আমাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা দেয়- ক্যানসার প্রতিরোধ করে পাকা আমে বিদ্যমান উচ্চমাত্রায় পেকটিন আঁশ কিডনির ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করে। পাকা আম আমাদের শরীরের রক্ত পরিষ্কারেও সহায়তা করে। ওজন বাড়াতে সাহায্য করে ওজন বাড়াতে পাকা আম বেশ উপকারি। পাকা আমে থাকা বায়োটিক উপাদান যেমন স্টার্চ, এলডিহাইড ইত্যাদি ক্ষুধা বাড়াতে সাহায্য করে। নিয়মিত পাকা আমের জুস, মিল্কশেক, খেলে ওজন বাড়ে। ত্বকের যত্নে পাকা আম পাকা আম কোলাজেন প্রোটিন তৈরি করতে সহায়তা করে। মুখের ও নাকের উপর তৈরি হওয়া ব্ল্যাকহেড দূর করতেও পাকা আম দারুণ কার্যকর। নিয়মিত ১০০ গ্রাম পাকা আম খাওয়ার ফলে আপনার মুখের এ কালো দাগ দূর হয়ে যাবে ইনশা’আল্লাহ। পাকা আম ত্বকে মাস্ক হিসেবে ব্যবহার করলে লোমকূপে জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার হয়। এটি ত্বক উজ্জ্বল, সুন্দর ও মসৃণ করে। অ্যাজমা প্রতিরোধে উচ্চ মাত্রায় বিটা ক্যারোটিন থাকার ফলে পাকা আম অ্যাজমা প্রতিরোধে সহায়ক। স্মৃতিশক্তি বাড়াতে পাকা আমে বিদ্যমান গ্লুটামিক অ্যাসিড মস্তিষ্কের কোষগুলোকে উজ্জীবিত করে মনোযোগ বাড়িয়ে দেয়। তাই পরীক্ষার সময় ও মস্তিষ্কের চাপ যখন বেশি থাকে, তখন আম খাওয়ার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা। রসালো ফল আম দেখতে যেমন সুন্দর খেতেও তেমন মিষ্টি। তাই এর প্রতি বরাবরই মানুষের আকর্ষণ বেশি। পরিমিত পরিমাণ আম খেলে শরীরে শর্করার মাত্রা ঠিক থাকে। আমের আঁটির উপকারিতা সাধারণত আমরা আম খেয়ে আঁটিকে অকেজো মনে করে ফেলে দেই। কিন্তু এই আঁটির উপকারিতা জানলে আপনাকে অবাক হতে হবে। আসুন জেনে নেই আমের আঁটির যত গুণ- চুলের যত্নে খুশকির সমস্যা সমাধানে আমের আঁটি খুব উপকারি। আমের আঁটি শুকিয়ে গুঁড়ো করে পানিতে মিশিয়ে তা স্ক্যাল্পে লাগান। এটি মাথার ত্বককে শুষ্ক রাখতে সাহায্য করবে। ফলে চুল ওঠার সমস্যাও দূর হয়ে যাবে। ওজন কমাতে অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা থাকলে কাঁচা আমের আঁটি খেতে পারেন। ফ্যাট বার্ন প্রতিরোধে আমের আঁটি অত্যন্ত কার্যকর। ডায়রিয়ার প্রতিকারে ক্রনিক ডায়রিয়া সারাতে আমের আঁটি দারুণ উপকারি। আমের আঁটি শুকিয়ে নেয়ার পর গুঁড়া করে নিন। ১ বা দুই গ্রাম এই গুঁড়া পানি বা দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে খেতে পারেন। নিয়মিত সেবনে দ্রুত ফল পাবেন ইনশা’আল্লাহ। এছাড়া কাঁচা আমের আঁটি ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতেও সাহায্য করে। ব্লাড সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণেও কাঁচা আমের আঁটি খেতে পারেন।

♦️আম পাতার ঔষধি গুণ:
আম পাতায় মেঞ্জিফিরিন নামক সক্রিয় উপাদান থাকে যা অপরিমেয় স্বাস্থ্য উপকারিতায় ভরপুর। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কচি আম পাতা রান্না করে খাওয়া হয়। আম পাতার স্বাস্থ্য উপকারিতাগুলো সম্পর্কে জেনে নিই-
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আম পাতা হাইপারটেনশনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত রক্তনালীকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। প্রতিদিন ১ কাপ আম পাতার চা পান করলে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা লাঘব হবে। আম গাছের পাতা পরিষ্কার করে সারারাত পানিতে রাখুন। পরের দিন ঐ পানি ছেঁকে পান করুন। এতে ব্লাড সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে থাকবে। শ্বসনতন্ত্রের সমস্যা নিরাময়ে নিয়মিত আম পাতার ফুটানো পানি পান করলে ঠান্ডা, ব্রংকাইটিস ইত্যাদি বিভিন্ন সমস্যা দূর হয়। ডায়াবেটিস প্রতিরোধে আমের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (৪১-৬০) কম। আম পাতায় ট্যানিন এবং অ্যান্থোসায়ানিন থাকে যা ডায়াবেটিস নিরাময়ে সাহায্য করে। ৫-৬টি আম পাতা ধুয়ে একটি পাত্রে সেদ্ধ করে ঐ পান করলে ইনসুলিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকবে। কান ব্যথা উপশমে কানের ব্যথা নিরাময়ে আম পাতার রস খুব ভালো প্রাকৃতিক প্রতিষেধক। আম পাতায় হালকা তাপ দিয়ে কানের ছিদ্রের উপর লাগান। এতে ব্যথা কমে যাবে। কিডনির পাথর দূর করে আম পাতা শুকিয়ে গুঁড়ো করে নিন এবং পানির সাথে মিশিয়ে সকালে পান করুন। এর ফলে কিডনি পাথর খুব সহজেই শরীর থেকে বের হয়ে যাবে। গলা ব্যথা দূর করে গলার ব্যথা দূর করতে সাহায্য করে আম পাতা। কিছু আম পাতা পোড়ান এবং এর থেকে উৎপন্ন ধোঁয়া শ্বাসের সাথে গ্রহণ করুন। এতে আপনার গলা ব্যথার সমস্যা কমবে। গেঁটে বাত নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কার্যকর আম পাতা। কিছু কচি আম পাতা পানিতে দিয়ে পাতার বর্ণ হলুদ হয়ে যাওয়া পর্যন্ত ফুটিয়ে নিন। নিয়মিত সেবনে ভালো ফল পাবেন। কিছু আম পাতা পানি মিশিয়ে ব্লেন্ড করে পেস্ট তৈরি করুন। আঁচিলের উপরে এটি প্রতিদিন লাগালে আঁচিল দূর হবে। আঘাত প্রাপ্ত স্থানে রক্ত পড়া বন্ধ করার জন্যও এই পেস্ট ব্যবহার করা যায়। আম পাতার ছাই দাঁত ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।

♦️আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় আমের ব্যবহার:
কচি আম পাতা ও জাম পাতার রস (২/৩ চা চামচ) একটু গরম করে খেলে আমাশয় সেরে যায়। আমের শুকনো মুকুল বেটে খেলে পাতলা পায়খানা, পুরনো এবং প্রস্রাবের জ্বালা-যন্ত্রণা উপশম হয়। কচি আমপাতা চিবিয়ে তা দিয়ে দাঁত মাজলে অকালে দাঁত পড়ার আশঙ্কা থাকে না। আমের কুশি থেঁতো করে পানিতে ভিজিয়ে ছেঁকে এই পানি শুষ্কচুলের গোড়ায় লাগালে চুল পরাকমে। তবে ঐ সময় মাথায় তেল ব্যবহার না করাই ভালো। জ্বর, বুকের ব্যথা, বহুমূত্র রোগের জন্য আমের পাতার চূর্ণ ব্যবহৃত হয়।

♦️আম খাওয়ার ক্ষতিকর দিক:
অতিরিক্ত পরিমাণে কাঁচা আম খেলে ডায়রিয়া হওয়ার আশঙ্কা থাকে৷ কাঁচা আমের কষ মুখে লাগলে অথবা পেটে গেলে মুখ, গলা ও পেটে সংক্রমণ হতে পারে। আম অনেকের দেহে অ্যালার্জি সৃষ্টি করে। কাঁচা আম পাকাতে অনেক সময় ক্যালসিয়াম কার্বাইড নামক রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করা হয়, যা আমের খোসায় রয়ে যায়। অনেক সময় এটিও অ্যালার্জির কারণ হতে পারে। উচ্চ মাত্রায় চিনি থাকায়, পাকা আম রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এজন্য ডায়াবেটিস রোগীদের অতিরিক্ত পরিমাণে পাকা আম খাওয়া পরিহার করা উচিৎ। রসনার পরিতৃপ্তি, শরীরের পুষ্টি যোগান, এবং জাতীয় অর্থনীতিতে আমের অবদান অনস্বীকার্য। আম উৎপাদনকারী এলাকায় মৌমাছির আনাগোনা বেড়ে যায়। এ সময় বেশি মধু আহরণের দারুণ সুযোগ সৃষ্টি হয়। আমের উপকারিতার কারণে, গ্রীষ্ম প্রধান দেশে ফলের মধ্যে আম সবার সেরা।

Address

BP Township, Patuli
Kolkata
700094

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Medicure Bangla posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to Medicure Bangla:

Share