11/12/2025
১১ ডিসেম্বর, ২০২৫
এমডি/এমএস পাশ করার পর তিন বছরের জন্য সরকারি বন্ড সার্ভিস এই রাজ্যের প্রতিটি তরুণ চিকিৎসকের জন্য এই প্রথা বাধ্যতামূলক। কিন্তু এই ব্যবস্থাকে সরকার এমনভাবে সাজিয়েছে যাতে মানুষ ভুল বোঝে—এটা কোনও সরকারি চাকরি নয়, অথচ সরকার এটিকে সরকারি চাকরি বলে চালিয়ে দিয়ে জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করতে চায়।
এই তিন বছরের সার্ভিসে কে কোথায় কাজ করবেন—শহরের প্রধান মেডিক্যাল কলেজে, নাকি জেলা হাসপাতালে বা গ্রামীণ হাসপাতালে—তা নির্ধারিত হয় কঠোর মেধা-ভিত্তিক কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে।
এই বৈধ, স্বচ্ছ ও নিয়মবদ্ধ প্রক্রিয়াতেই ডা. অনিকেত মাহাতো, আর জি কর আন্দোলনের শীর্ষস্থানীয় তরুণ চিকিৎসক, নিজের মেধার ভিত্তিতে এবং সম্পূর্ণ ন্যায়সংগত নিয়ম মেনে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজকেই নিজের কর্মস্থল হিসেবে বেছে নেন এবং সেই অনুযায়ী পোস্টিংও পান।
এটি ছিল নিয়মমাফিক। ন্যায্য। অখণ্ডযোগ্য।
কিন্তু এখান থেকেই শুরু হয় প্রতিহিংসা।
সরকারের চোখে আন্দোলন মানেই অপরাধ। প্রশ্ন করা মানেই শত্রুতা। এবং সেই শত্রুতার শিকার হন ডা. অনিকেত মাহাতো।
স্বাস্থ্য দফতর ও রাজ্য সরকার বেআইনি, অনৈতিক, রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় ভরা সিদ্ধান্তে তাঁর বৈধ পোস্টিং বাতিল করে তাঁকে জোর করে রায়গঞ্জে পাঠানোর চেষ্টা করে।
এটি শুধু প্রশাসনিক বদলি নয়—এটি ছিল এক স্পষ্ট বার্তা:
“সরকারের বিরুদ্ধে দাঁড়ালে, তোমাকে আমরা দূরে ঠেলে দেব।”
এই অপমান, এই ক্ষমতার অপব্যবহার, এই প্রতিহিংসা শুধু এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে নয়—এটি ছিল পুরো চিকিৎসক সমাজকে ভয় দেখানোর চেষ্টা।
কিন্তু ন্যায়বিচার ও সত্যের শক্তি কখনও চুপ করে থাকে না।
ডা. মাহাতো আদালতের দ্বারস্থ হলে—
🔹 কলকাতা হাই কোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চে সরকার পর্যুদস্ত হয়।
🔹 আপিল করেও লাভ হয়নি—ডিভিশন বেঞ্চেও রাজ্য সরকার আবার পরাজিত হয়।
এর পরেও সরকার শিক্ষা নেয়নি।
করদাতাদের টাকায় আইনজীবীর ফি দিয়ে, সরকারি তহবিল নষ্ট করে, রাজনৈতিক লড়াইকে আদালতে টেনে তারা ছুটে গেল সুপ্রিম কোর্টে—
কিন্তু ফল একই।
আজ সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত রায়ে রাজ্য সরকারের মুখে সরাসরি চপেটাঘাত।
সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে—অনিকেত মাহাতোকে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে তাঁর বৈধ পোস্টিং আর জি কর মেডিক্যাল কলেজেই যোগদান করাতে হবে।
কোর্টের কথায় স্পষ্ট—সরকারের সিদ্ধান্ত ছিল অন্যায়, অযৌক্তিক এবং প্রতিহিংসার রঙে রঞ্জিত।
ন্যায় আবারও জিতল। সত্য আবারও প্রতিষ্ঠিত হল। সরকারের ইচ্ছাধীন প্রতিহিংসা আদালতে টিকলো না—এটি চিকিৎসক সমাজের মর্যাদা ও ন্যায়বোধের জয়।
কিন্তু এখানেই লড়াই থেমে নেই—
একই ধরনের বেআইনি, প্রতিহিংসাপূর্ণ আচরণের শিকার ডা. দেবাশীষ হালদার ও ডা. আশফাকুল্লা নাইয়া—দুজনের ক্ষেত্রেই মামলা বিচারাধীন।
যে দৃষ্টান্ত সুপ্রিম কোর্ট স্থাপন করল, তাতে আমরা আশাবাদী—
ন্যায়বিচারের আলো তাঁদের দিকেও পৌঁছতে বাধ্য।
এ ঘটনাগুলি শুধু তিনজন চিকিৎসকের কাহিনী নয়—
এ রাষ্ট্রের ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে চিকিৎসক সমাজের লড়াই, সত্যের পাশে দাঁড়ানোর সংগ্রাম।
আজকের সিদ্ধান্ত প্রমাণ করল—
যারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ান, ইতিহাস তাঁদের পাশে দাঁড়ায়। আদালত তাঁদের রক্ষা করে। সরকার নয়, ন্যায়বিচারই শেষ কথা বলে।
West Bengal Doctors Forum