07/04/2026
Why are you ageing fast nowadays? Just after 40!!
আজকালের জীবনে যৌবন এত ছোট হয়ে যাচ্ছে কেন ?
৪০ বছর পেরোলেই আমরা নিজেদের বৃদ্ধ গোষ্ঠীতে ফেলছি কেন? এর মধ্যেই সব শেষ কেন ?
আমরা এক সমাজে বাস করি যেখানে আমাদের মাথার চুলের রং, হাঁটার প্রকৃতি, খাওয়া দাওয়ার অভ্যাস এগুলো মোটামুটি এম বয়স দিয়ে ঠিক করে নিই। কিন্তু চিন বা জাপানে এটা হয় না। এর একটা বড় কারন হল: আমাদের কে শিশু অবস্থায় যতটা না পড়াশোনা এবং নম্বরের ভুখা করে তোলা হয় তার চেয়ে অনেক অনেক কম জীবনযাপন শেখানো হয় সঠিক খাওয়া ও ঘুমের অভ্যাস, সঠিক জীবনধারণ পদ্ধতি, সঠিক জীবনচর্যা পদ্ধতি। তাই এগুলো যখন প্রয়োজন মনে করি ততদিনে আমরা বুড়ো হয়ে যাই মানসিক, শারীরিক ও ইমোশনালি।
কিন্তু দ্রুত বার্ধক্য এবং প্রায় 40 বছরের পর ধরে নিই যে জীবন আমাদের প্রায় সব শেষ। নতুন কিছুই এ হওয়ার নেই। আমাদের কে 40 বছর বয়সের মধ্যে উপার্জন ও করতে হবে, সম্পদশালী ও হতে হবে, সন্তান বড় করতে হবে জীবনের শখ ও পূরণ করতে হবে! এ এক বিষম জ্বালা। সম্প্রতি, অন্নপূর্ণা বেস ক্যাম্প ট্রেক করতে গেছিলাম। সেখানে সব মিলিয়ে 15-16 দেশের মানুষজনের সাথে আলাপ হল ,গল্প হলো ক্ষণিকের হলেও। তাতে মিশে ছিলেন 81 বছরের বৃদ্ধ(যুবক) মানুষ, 75 এর তন্বী, সমবয়সী বন্ধুদের সাথে 14 এর বিদেশিনী কে নেই। গল্প করে বেরিয়ে আসার পরের মুহূর্তে মনে মনে কত ছবি আসছিল। 40 পেরোনো বয়সের ভারে ন্যুব্জ বন্ধু বা সহকর্মী থেকে শুরু করে বছর 35 এর সম্পূর্ণ মানসিক নতজানু হয়ে ওঠা আমার কোনো বন্ধু বা বোন বা সহকর্মী যখন ট্রেক এর নাম শুনে আতঙ্কিত হয় বয়স হয়েছে আর সম্ভব নয় বলে! যদিও আমি নিজেই মাত্র দুবছর হল শুরু করেছি।
কেন এরকম হয়? সাধারণত মানুষ ভাবে শরীরের শক্তি কমে গেলে সেটা বয়সের কারণে হয়। কিন্তু বাস্তব সত্যটা সম্পূর্ণ আলাদা। শরীরের শক্তি, যৌবনের তেজ , আত্মবিশ্বাস , সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এই সব কিছুর মূল চাবিকাঠি লুকিয়ে থাকে শরীরের ভিতর একটি অদৃশ্য সিস্টেম এ। যেটাকে আমরা সাধারণত নিউরোকেমিক্যাল সিস্টেম বলি। এর মধ্যে খুশি, আনন্দ, দুঃখ, ঘুম, যন্ত্রণা, কষ্ট এর নিউরোকেমিক্যাল এবং হরমোন থাকে। এরা কেউই একা একা কাজ করে না, একজনের কাজের সাথে আরেকজনের কাজের সংযোগ আছে। এখানে মোট তিনটি অংশ একসাথে কাজ করে।
১)ব্রেন
২)Gut বা পাচনতন্ত্র
৩) নিউরো কেমিক্যাল
এই তিনটের মধ্যে সম্পর্ক নষ্ট হলেই শুরু হয় অল্প বয়সে যৌবন ফুরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া। বর্তমানের জীবনযাত্রায়
প্রতিদিন সূক্ষ্ম যোগাযোগগুলো একটু একটু করে ভেঙে যাচ্ছে।
যেমন: রাত জেগে মোবাইল দেখা ,
অনিয়মিত ঘুম ,
সারাক্ষণ মানসিক চাপ ,
স্পাইসি খাবার ,
অনিয়মিত খাওয়ার সময়,
অতিরিক্ত চিনি,
কৃত্রিম তেলের অতিরিক্ত ব্যবহার,
অ্যালকোহল সেবন ইত্যাদি।
এই সবকিছু একসাথে পেটের ভিতরের ভালো ব্যাকটেরিয়া গুলোকে ধ্বংস করতে শুরু করে। আর এই ব্যাকটেরিয়া গুলো নষ্ট হলেই প্রথম আঘাত টা লাগে হরমোনের উপর। শরীর তখন আর ঠিক ভাবে টেস্টোস্টেরন, ইস্ট্রোজেন, ডোপামিন , সেরেটোনিন, এপিনেফ্রিন ইত্যাদি নিউরোকেমিক্যাল ও হরমোন তৈরি করতে পারে না। এর ফল খুব ধীরে আসে তাই মানুষ টের পায় না। প্রথমে শুধু একটু ক্লান্ত লাগে , তারপর সকালে উঠতে ইচ্ছে করে না , তারপর মনোযোগ কমে যায় , তারপর আত্মবিশ্বাসে ফাটল ধরে , তারপর একটা সময়ে এসে মানুষ ভাবে আমি আগের মতো নেই কেন? কিন্তু তখন অনেক দেরি হয়ে যায়। কারণ, শরীর অবিশ্বাস্য রকমের বুদ্ধিমান।
শরীরের চাহিদা কি?
শরীরের প্রথম চাহিদা শক্তি নয় , শরীরের প্রথম চাহিদা হলো ভারসাম্য। যখন ভারসাম্য নষ্ট হয় তখন শরীর সব শক্তি বাঁচিয়ে রাখতে চায়। সে তখন যৌন শক্তি কমিয়ে দেয়, পেশী বাড়ানো বন্ধ করে দেয় , ফ্যাট জমাতে শুরু করে , তার কাছে তখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বেঁচে থাকা। এই অবস্থায় তুমি যতই চেষ্টা করো না কেন শরীর তোমার কথা শুনবে না। এই কারনেই মানুষের পেট বের হয়ে যায় , মুখে ক্লান্তির ছাপ বসে যায় , চোখে আলো কমে যায় আর মনের ভিতরে একটা অদ্ভুত শূন্যতা তৈরি হয়। এটা অলসতা নয় , এটা চরিত্রের দুর্বলতা নয় , এটা শরীরের একটা সংকেত , সে সংকেত দিচ্ছে, যে তার ভিতরের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে। আর সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার হলো এই সংকেত গুলো আমরা প্রতিদিন উপেক্ষা করি। আমরা সকালে ক্লান্ত থাকা কে স্বাভাবিক ধরে নিই , দুপুরে ঘুম পেলে সেটাকে কাজের চাপ বলে উড়িয়ে দিই, আসলে এই সকলে এক সাথে একটা গল্পো বলছে , তোমার শরীর আর তোমার life style একে অপরের সাথে লড়াই করছে, মনে রাখবেন শরীর কখনোই হঠাৎ ভেঙে পড়ে না , সে ধাপে ধাপে ভাঙে , প্রথমে নষ্ট হয় ঘুমের ছন্দ , তারপর নষ্ট হয় ক্ষুধার সংকেত , তারপর নষ্ট হয় আনন্দের অনুভূতি , তারপর আত্মবিশ্বাস । একদিন হঠাৎ আয়নায় নিজেকে দেখে মনে হয় আমি কি সত্যিই এমন ছিলাম , তখন মানুষ শুধু বাইরের চেহারা দেখে ভিতরের কারন টা বোঝে না। এখানেই আসে পেট আর মস্তিষ্কের সেই অদৃশ্য সংযোগ। পেটের ভিতরের ব্যাকটেরিয়া গুলো শুধু খাবার হজম করে না , তারা মস্তিষ্কে বার্তা পাঠায় , তারা বলে শরীর নিরাপদ আছে নাকি বিপদে আছে । যখন ভুল খাবার , অতিরিক্ত চিনি , অতিরিক্ত মদ্যপান , অতিরিক্ত নেশা জাতীয় দ্রব্য সেবন , অনিয়মিত ঘুম আর দীর্ঘ মানসিক চাপ এই ব্যাকটেরিয়া গুলো কে ধ্বংস করে , তখন মস্তিষ্ক সবসময় বিপদের সংকেত পেতে থাকে। আর বিপদের সংকেত মানেই হরমোন বন্ধ। এই অবস্থায় মানুষ যতই চেষ্টা করুক না কেন সে আগের মতো feel করতে পারে না। সমস্যা টা তার ইচ্ছায় নয় , সমস্যা টা তার শরীরের ভিতরের পরিবেশে। যতদিন তুমি শরীরকে নিরাপদ অনুভব করাতে না পারবে ততোদিন সে তোমাকে শক্তি দেবে না।
তাকে যদি সঠিক পরিবেশ দেওয়া যায় সে নিজেই নিজেকে ঠিক করতে শুরু করে। শুধু দরকার বোঝার ক্ষমতা কোথায় ভুল হচ্ছে , আর কোথা থেকে ঠিক করা শুরু করতে হবে। আমাদের প্রথম পরিবর্তন টা শুরু হয় পেট থেকে । প্রথমেই শরীর নিজেকে ঠিক করার চেষ্টা করে কিভাবে? প্রথমে শরীরের কাজ হল নিজেকে বাঁচানো। তখন সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার হলো এই অবস্থাতে শরীর বেঁচে থাকে ঠিকই কিন্তু ভিতর থেকে সে আর শক্তিশালী থাকে না। বাইরে থাকে হাসি ভিতরে ভিতরে নিজেকে ফাঁপা লাগে কিন্তু বাড়ির লোক কে এবং কোনো কোনো সময় নিজেকে যেন দেখানোর একটা জেদ চেপে যায়। তখন নিজেকে সুপার ফার্স্ট ক্লাস আছি সেটা দেখানোতে মরিয়া হয়ে উঠি। বাইরে থাকে স্বাভাবিক, হাসিখুশি, ভিতরে ভিতরে থাকে ক্লান্ত । এই অবস্থা তে অনেকেই অবসাদ ভেবে ভুল করে । আসলে এটা অনেক সময় হরমোনাল ক্র্যাশ বা নিউরো কেমিক্যাল ক্র্যাশ । খাদ্যের ক্ষেত্রে একটা অমর উক্তি হল :Healthy foods are not so tasty but tasty foods are not healthy এগুলো বেহসিরভাগ ক্ষেত্রে শক্তির আধার কিন্তু পুষ্টি মাত্রা অনেক অনেক কম।
এবার আসি পেটের সাথে বা gut এর সাথে যোগাযোগের অক্ষ নিয়ে। Gut কে আমরা দ্বিতীয় ব্রেন বলে চিনি নিউরোসায়েন্স এ। Gut brain এক্সিস নিয়ে প্রথম পড়ি Super Gut বইটি। সেখানে একটা বক্তব্য আমাকে খুব টানে। উইলিয়াম ডেভিস একজায়গায় এসে বলছেন মানুষের নিজের দায়িত্ব বোঝাতে: স্বাস্থ্যের ব্যাপারে মানুষকে নিজেকেই ব্যক্তিগত দায়িত্ব হিসেবে নিতে হবে কারণ ওষুধ আসলে আমাদের আসল কারণের দিকে নজর দেয় না যা আমাদেরকে দিতেই হবে। "......." personal responsibility" for their health, as conventional medicine often focuses on prescriptions rather than the root causes found in the gut." যখন পেট ঠিক ঠাকে না , তখন মস্তিষ্ক সংকেত পায় না। মস্তিষ্ক যখন বিভ্রান্ত হয় তখন হরমোন গ্ৰন্থি গুলো ভুল সিদ্ধান্ত নেয় । তখন শরীর সারাক্ষণ survival mood এ চলে যায় , এই mood এ শরীর বলে আগে বাঁচি পরে শক্তি দেখাবো।
ফলে যৌবনের শক্তি , পেশীর শক্তি , মানসিক তেজ , সবকিছু ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যায়। এটাই কারণ আজ এতো কম বয়সে মানুষ নিজেকে দুর্বল মনে করে। সে বুঝতে পারে না সমস্যা তার ইচ্ছে শক্তি তে নয় , সমস্যা তার ভিতরের যোগাযোগ ব্যবস্থায়। এভাবেই জীবনপদ্ধতি আপনার যৌবন শেষ করে দিচ্ছে দ্রুত।
তাহলে উপায় কী নেই? আছে তো। নিশ্চিত আছে।
কারণ পেট বা পাচনতন্ত্র হলো এই সিস্টেমের ফাউন্ডেশন । যখন পেটের ভিতরের পরিবেশ পরিষ্কার হয় তখন মস্তিষ্ক পরিষ্কার ভাবে কাজ করে। তখন হরমোন আবার নিজের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে শুরু করে।
কিন্তু আপনি কি সত্যিই চান যে যৌবন থাকুক অনেক কাল? তাহলে তো একদিনের মধ্যে সেটা হবে না কিন্তু যেদিন শুরু হয় সেদিন শরীর ভিতর থেকে শক্ত হতে থাকে এবং শরীর উত্তর দিতে শুরু করে। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো এই প্রক্রিয়াটি তে কোনো ম্যাজিক নেই কোন কালা জাদু ও নেই। যারা এটা বুঝে নেয় তারা এই হারানো শক্তি টা আবার ফিরে পায়। যারা বোঝে না তারা শুধু ভাবতেই থাকে আমার সাথে এমন হচ্ছে কেন , এই কারণেই আজ এই এতো জরুরি কথা গুলো জানালাম। এই কারণেই এখনও যদি তুমি অল্প বয়সে থাকো তবে এটা তোমার জন্য সতর্কবার্তা , আর যদি মনে করো তুমি অল্প বয়স পেরোতে না পেরোতেই মাঝবয়সে গিয়ে পড়েছো ,আর তুমি আগের মতো নেই, তাহলে তোমার জন্য এটা ফিরে আসার দরজা।
তবে এখন তুমি বুঝে ফেলেছো আসল সমস্যা টা কোথায় ? এখন শুধু একটাই প্রশ্ন এই ভাঙা অবস্থা থেকে শরীর কি আবার ফিরে আসতে পারে ? , তাকে পূর্ণতা দিতে পারো ? উত্তর টা হলো হ্যাঁ। অবশ্যই শরীর ফিরে আসতে পারে , যদি তাকে আবার নিরাপদ মনে করানো যায়। তাই শরীরকে নিরাপদ বোঝাতে হলে সকালে চোখ খুলেই ফোনের আলো , তাড়াহুড়ো , চিন্তা , তাহলে শরীর বুঝে নেয় আজও বিপদ। তাই তাকে ভালো সংকেত দিতে হবে , তাকে বোঝাতে হবে তুমি নিরাপদ । কিন্তু দিনের শুরু টা যদি শান্ত , প্রকৃতির আলোয় ভরা হয় , তাহলে শরীর ভালো সংকেত পায়। সূর্যের আলো চোখে পড়া মানে , শুধু মাত্র ভিটামিন নয় এটি হরমোনের ঘড়ি ঠিক করে। সূর্যের আলো চোখে পড়লেই শরীর বুঝতে পারে কখন জাগতে হবে কখন কাজ করতে হবে , কখন বিশ্রাম নিতে হবে , এই অভ্যাস টা ঘুমের হরমোন তৈরি করে। আর ঘুম ঠিক হলেই শরীরের অর্ধেক কাজ হয়ে যায়। আর নিয়মিত সময় খাবার খাওয়া , তখন শরীর আবার নিজেকে নিরাপদ মনে করে। তখন আবার যৌবনের হরমোন , শক্তির হরমোন , মস্তিষ্কের স্বচ্ছতা সব আবার ধীরে ধীরে ফিরতে থাকে। শরীর বিশ্বাসে চলে আর বিশ্বাস চলে ধারাবাহিকতায়। একদিন করলে হবে না , প্রতিটি দিন করতে হবে। তাই শরীরের সাথে সম্পর্ক ঠিক করা , সামঞ্জস্য রাখা আগে প্রয়োজন । এতো দিন তুমি তার প্রতি অবহেলা করেছো , এখন সময় এসেছে তাকে সহযোগী বানানোর । এই সহযোগিতার ফল ধীরে হলেও গভীর।
সকলে আবার যৌবন ফিরে পান, ধীরে ধীরে নিজের হারিয়ে যাওয়া আমি কে আবিষ্কার করুন।
Shyamal Maiti
Life Coach