12/03/2021
Rhythm of the night 2
ইভান : 😳😳
নৌড়া : আপনি জানেন কি করেছেন?? আমার এতো দিন এর স্বপ্ন পুরোন করেছেন, আমার ইচ্ছা ছিলো এভাবে কেউ তুলে নিয়ে আসুক😁
ইভান : Seriously??
নৌড়া : ইয়াহ, বাই দা রাস্তা you are so joss, I am totally crush on you, and your voice মাশ আল্লহ, hey omg your eyse blue is it real??
ইভান : রিয়াল
নৌড়া : crush এর ঠেলায় নৌড়া জ্ঞান হারালো....এতো সুন্দর ছেলেটা যার দিকে তাকালেই অজানা অনুভূতি জেগে ওঠে।
ইভান ঘাবড়ে যায় নৌড়া অজ্ঞান হওয়ায়, ও নিজেই ডক্টর সেটা ভুলে গেছে।
ডক্টর কে কল করবে ভাবতেই মাথায় আসে আমি নিজেই তো ডক্টর. … চেক আপ করে বুঝতে পারে না খেয়ে আছে, আর কিছুতে শক খেয়েছে তাই জ্ঞান হারিয়েছে.... চোখে মুখে পানির ছিটা দিলো.... পিটপিট করে তাকালো নৌরা.... আধো চোখে চেয়ে ক্ষিন সরে বলে উঠলো আমি স্বপ্ন দেখছিলাম না?? এটা সত্যি?
ইভান : হুম সত্যি
নৌড়া হুরমুর করে উঠে বসে, এই কয়টা বাজে??
ইভান : বিকাল ৩ টা
নৌড়া : তাহলে বাসার সবাই জেনে গেছে, আমার ফোন কোথায়??
ইভান : রিলেক্স, আমি দেখছি এদিক টা... তার আগে যাও ফ্রেশ হয়ে আসো, লাঞ্চ করতে হবে...
নৌড়া ওয়াসরুমে চলে যায়।
এদিকে...
নাহিন রহমান : কি বলছো?? ও বাসায় ফেরেনি এখনো??
বডিগার্ড হেড : No sir, car park করা কলেজ কেম্পাছেই কিন্তু মেম কোথাও নেই।
নাহিন রহমান : আচ্ছা, আমি আসছি বাসায়।
রিদিমা রহমান বাসায় বসে কাদছে, না জানি কোথায় কিভাবে আছে মেয়েটা। আমারই ভুল হয়েছে বডিগার্ড দের ছাড়া যেতে দেয়া ঠিক হয়নি
নাহিন রহমান : কিহ?? আজ ও বডিগার্ড ছাড়া গিয়েছে মানে??
রিদিমা রহমান : গত ১ মাস ধরে মেয়েটা ঘুরতে যেতে চাচ্ছে, তুমি যাওয়ার পর খুব রেগে যায় ও। তাই গার্ডদের বলেছিলাম একটু পর যেতে ওর পিছে।
নাহিন : Wow, How irresponsible you are stupid women
রিদিমা রহমান মাথা নিচু করে চোখের অশ্রু ফেলছেন। আর নাহিন রহমান থানায় কল দিচ্ছেন।
ইভান : ৭ দিন আপাতত থাকুক আমার কাছে, তারপর আমি জানাবো ততদিন Handle করুন আপনি।
S.P : Ok sir.
ইভান বাকা হাসে,
নৌরা : এই এমন ভিলেন মার্কা হাসি দিলেন কেনো??
ইভান : তোমাকে আমার কাছে কিছুদিন রাখার ব্যাবস্থা করলাম
নৌরা : 😱 কিভাবে করলেন এমন মিরাকল? আমি জন্মের পর মাম্মা বাবাই ছাড়া থাকিনি,
ইভান : আভি তো বাছ শুরু হেয়, আগে আগে দেখো হোতা হ্যায় কেয়া
নৌরা : okay..
ইভান নৌরার মুখের সামনে খাবার ধরলো..
নৌরা অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে, ঠোঁটের কোনে মৃদু হাসি, চোখের কার্নিশে পানি চিকচিক করছে।
ইভান : কি হলো নাও?? এভাবে তাকিয়ে আছো কেনো?? ওহ সরি, তুমি নিজের হাতে খাবে তো, আচ্ছা...
ইভান হাত নামাতে নিলে নৌরা টেনে মুখে পুরে নেয় খাবার টুকু। চোখ বন্ধ করে চিবোতে থাকে। আর চোখের কোনার পানি গুলো ঝড়ে পরে বন্ধ পাপরির ভাড়ে।
ইভান : কাঁদছো কেনো তুমি?? খাবার ঝাল হয়েছে? পানি এগিয়ে দিলো
নৌরা : আরে রিলেক্স, আসলে শেষ কবে কেউ খাইয়ে দিয়েছে মনে নেই। আগে কাজের লোক খাইয়ে দিতো, যখন নিজের হাতে খেতে শিখেছি তারপর থেকে একাই খাই।
ইভান ঃ নৌরার চোখের কোন থেকে পানি মুছে দিয়ে বললো, কেনো তোমার বাবা মা?
নৌরা : parents?? they are too busy for me🙂 আমার সাথে ২ মিনিট কথা বলারই সময় নেই তাদের আর তুনুতুনু করে খাইয়ে দিবে?? হাহাহা
নৌরার এই হাসির মাঝে তিব্র কষ্ট লুকিয়ে আছে, যেটা নৌরার জ্বল জ্বল করা চোখ বলে দিচ্ছে।
ইভান : এখন থেকে আমি প্রতিদিন খাইয়ে দিবো তোমাকে , ঠিক আছে?
নৌরা জবাবে কিছু বললো না মিষ্টি করে হাসি দিলো।
ইভান নৌরা কে খাইয়ে দিচ্ছে, আর নৌরা ইভান কে চোখ দিয়ে পারলে গিলে খায় ভাব নিয়ে দেখছে।
ইভান : কি দেখো?
নৌরা : My Dream Prince charming
ইভান : What?
নৌরা : ক কিছু না,, স্যুপ টা খুব ইয়াম্মি
ইভান : হুম I know
নৌরা বারান্দায় যেয়ে দেখলো অনেক বড় একটা গার্ডেন....
একরকম ছুটে রুমে এলো... ইভান ল্যাপটপ নিয়ে বসে ছিলো....
ইভান : সমস্যা কোনো??
নৌরা : গার্ডেনে যাবো।
ইভান : এখন তো রোদ, আর একটু পর যাও??
নৌরা : না এক্ষুনি যাবো, মন খারাপ করে বললো।
ইভান : আরে মন খারাপ করো কেনো? চলো
নৌরা নিচে যেয়ে পাগোল হওয়ার অবস্থা হয়ে যাচ্ছে, একদম ওর মনের মত বাগান টা
একপাশে বিভিন্ন প্রজাতির ফুল গাছ, গোলাপই বেশী, হাত দিয়ে ছুয়ে দেখছে, মুখের কাছে গাল ছুইয়ে ঘ্রাণ নিচ্ছে
এই ওই যে বকুল ফুল আর শিউলি ফুল গাছ না??
ইভান : হুম
নৌরা দৌড়ে গেলো, নিচে ফুল পরে আছে অনেক, পাশে আরও বড় কিছু ফুল গাছ আছে, কামিনী, হাসনাহেনা.....
অন্য আর একটা পাশে বেশ কিছু ফল গাছ। লিচু গাছে বড় লাল লাল লিচু ঝুলছে, নৌরা নিজেকে সামলাতে পারলো না, জিভ দিয়ে লাল ঝরবে এখনই গাছ থেকে লিচু ছিড়ে খাওয়া ধরলো, ২ প্রজতির জামরুল, আম, জাম, পেয়ারা, সফেদা, ডালিম,আতা ফল, জলপাই... আরও বিভিন্ন ধরনের গাছ, আর সব গাছেই ফল আছে
আর একটা সাইড, এটা অনেক বড় সারপ্রাইজ নৌরার জন্য.. খাচার মধ্যে অনেক ধরনের পাখি, পশু আছে
ময়ূর ময়ূরী ১ জোড়া, খরগোশ অনেক গুলা সব গুলোই সাদা, হরিণ, বানর, হাতির পরিবার, বাচ্চা টা অনেক কিউট
বাগানের মাঝে একটা ফাউন্টেন, আর তার পাশে বসার জায়গা।
নৌরা দৌড়ে দৌড়ে সব দেখছে, আমি পাগোল হয়ে যাবো একদম, মনে হচ্ছে আমি আমার Dream Prince charming এর সাথে Dream land এ এসেছি।
ইভান : আস্তে আস্তে, পড়ে যাবা তো
নৌরা : এখানে বৃষ্টি তে ভিজতে কত মজা হবে, প্রকৃতির গভীরে আছি মনে হচ্ছে, আমি কোথাও যাবো না, এখানেই সারাজীবন কাটিয়ে দিবো আচ্ছা আপনার এই বাংলো টা আমার কাছে বেচে দিন, আমি আপনাকে অনেক টাকা দিবো।
ইভান : তুমি চাইলে এই রাজ্যের রানী হয়ে থাকতে পারো, আমার কোনো সমস্যা নেই তবে এর জন্য তোমাকে যে এই রাজ্যের রাজাকে বিয়ে করতে হবে🤗
নৌরা : কিহ??
ইভান : আরে মন খারাপ করো কেনো?? এটা এখন থেকে তোমারই..((আমি জানিতো তোমার এসব কতটা পছন্দ আর তাই এই বাংলো টা তিলে তিলে গড়েছি আমি))
নৌরা : সত্যি??
ইভান : yess
রোদের তাপে নৌরার সাদা মুখটা লাল হয়ে আছে, অনেক কিউট লাগছে, ইভান নৌরার দু গাল টেনে দেয়।
নৌরা হাত ছাড়িয়ে দেয় দৌড়, পেছনে ইভান ও দৌড়াচ্ছে। দুজনের হাসির শব্দে বাগান টা রুনরুন করে উঠেছে, মনে হচ্ছে বাগান টা প্রান ফিরে পেলো।
সন্ধায় ..
নৌরা : আপনার পরিবার এর লোকেরা কোথায়?
ইভান : ওরা তো ঢাকাতে আছে।
নৌরা : আমরা কোথায় আছি তাহলে?? অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো
ইভান : আমার বাংলো তে, যেটা এখন তোমার...
নৌরা কিছু বলতে যাবে তখন ইভান এর ফোনে কল আসে, তাই উঠে চলে যায়..
ইমাদ আহমেদ : সব ঠিক আছে তো বাবা?
ইভান : সব তো আপাতত ঠিক আছে ড্যাড, কিন্তু রাতে আমি কিভাবে থাকবো?? যদি...( অস্থির হয়ে)
ইমাদ আহমেদ : oh my son, Don't be panic. তোমার ড্যাড সব ব্যাবস্থা করেই বলছে।
so Don't worry, and take care of her properly .
ইভান ফুরফুরে মনে রুমে গেলো..যেয়ে দেখে নৌরা আপন মনে একুরিয়াম এর মাছ গুলোর সাথে খেলছে।
ইভান : পছন্দ হয়েছে তোমার?
নৌরা : আমার নিমোর কথা মনে পরছে,
ইভান : নিমো কে??
নৌরা : My favourite Fish Nimo..
ইভান : ও, তোমার প্রকৃতি খুব পছন্দ তাই না?
নৌরা : হুম অনেক, এই কয়টা বাজে??
ইভান : ৭.৩০
নৌরা :Oh sh*t😱😱 আজকে তো Sunday... ইভান কে সরিয়ে দৌড়ে চলে গেলো ড্রইং রুমের দিকে।
ইভান ও পিছু পিছু গেলো, চিন্তিতো হয়ে.... যেয়ে যা দেখলো আশ্চর্য হয়ে তাকিয়ে রইলো নৌরার দিকে...