WBJDF - West Bengal Junior Doctors' Front

  • Home
  • WBJDF - West Bengal Junior Doctors' Front

WBJDF - West Bengal Junior Doctors' Front This is the official page of West Bengal Junior Doctors' Front (WBJDF). All the official updates and announcements will be notified here.
(2)

মেধাভিত্তিক কাউন্সেলিং উপেক্ষা করে বেআইনি ভাবে ডা: অনিকেত মাহাতোর পোস্টিং পরিবর্তন মামলায় সুপ্রিম থাপ্পড় খেল রাজ্য সরক...
11/12/2025

মেধাভিত্তিক কাউন্সেলিং উপেক্ষা করে বেআইনি ভাবে ডা: অনিকেত মাহাতোর পোস্টিং পরিবর্তন মামলায় সুপ্রিম থাপ্পড় খেল রাজ্য সরকার!

ডা. অনিকেত মাহাতোকে নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আজকের রায় এই রাজ্যের অপদার্থ, প্রতিহিংসাপরায়ণ, ক্ষমতালোভী প্রশাসনের গালে একেবারে জোরালো, জ্বলন্ত চপেটাঘাত যা ঐতিহাসিক হয়ে থাকবে!

‘অভয়া’ আন্দোলনে ন্যায় বিচারের দাবিতে সত্যের পাশে দাঁড়ানোর অপরাধে, হ্যাঁ সত্যের পাশে দাঁড়ানোই এই সরকারের চোখে অপরাধ! একজন সৎ চিকিৎসককে হেনস্তা, অপমান, প্রতিহিংসা দিয়ে কোণঠাসা করার নোংরা খেলা চালিয়েছে রাজ্য! সিঙ্গেল বেঞ্চে হার, ডিভিশন বেঞ্চে হার, তারপরও জনতার রক্ত ঘাম ঝরানো ট্যাক্সের টাকা উড়িয়ে ভুয়ো যুক্তি সাজিয়ে সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে সবচেয়ে অপমানজনক চড় খেল এই স্বার্থপর, নির্লজ্জ সরকার!

আর আজ সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিল, হাইকোর্টের রায় বহাল। ডা: অনিকেত মাহাতোর আরজি কর মেডিকেল কলেজে পোস্টিং দিতে হবেই। দুই সপ্তাহের মধ্যেই। তাহলে এবার রাজ্যের পালানোর সব দরজা বন্ধ।

এখন প্রশ্ন, জনগণের টাকা পুড়িয়ে এত নাটক, এত প্রতিহিংসা, এত কাদা ছোড়া, লাভ কী হলো? কার মুখে আজ কালো কালি লেপে গেল? প্রশাসনের গায়ে কি লজ্জা বলে কিছু আছে? নাকি লজ্জা আগেই বিক্রি হয়ে গেছে?

আদালতকে বারবার চ্যালেঞ্জ, আর সত্যকে মাটির নিচে চাপা দেওয়ার অমানবিক চেষ্টা… এই নৈতিক পচনের দায় কার? এই প্রশাসনিক লজ্জাহীনতার দায় কে নেবে? এটা এতটাই লজ্জার যে সামান্য একটা পোস্টিং এর মামলার জন্য রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনতে হয়।

রাজ্যের পক্ষে আজ সুপ্রিম কোর্টে দাঁড়িয়েছিলেন সিনিয়র এডভোকেট কপিল সিব্বাল। যার একবার কোর্ট অ্যাপিয়ারেন্সের গড় ফি প্রায় ১০ থেকে ১৬ লাখ। কী এমন লড়াই লড়ছিল রাজ্য সরকার যে দুই মিনিট বিচারকের ধমক খাওয়ার জন্য লাখ লাখ টাকা খরচ করে এমন হেভিওয়েট আইনজীবীকে দাঁড় করাতে হলো? এই টাকা কোথা থেকে আসছে? সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকা ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে লড়াই করছে রাজ্য সরকার?

আর স্বাস্থ্য সচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগম, অভয়া আন্দোলনের সময় স্বাস্থ্য ভবনের অজস্র দুর্নীতি ফাঁস হয়েছিল যা সরাসরি আপনার মদতে ঘটেছে। সেই ক্ষোভে আন্দোলনকারীদের বেছে বেছে অনৈতিকভাবে পোস্টিং পরিবর্তন করা হয়েছে, মেধাভিত্তিক কাউন্সেলিংকে অবজ্ঞা করে।আবার সেই নিয়ে কথা বলতে গেলে ঔদ্ধত্য ভরে বলেছিলেন যে ' সরকার চাইলে যা খুশি করতে পারে ' আজ এত গুলো থাপ্পড় এর পরেও আপনার আই আই টি মস্তিষ্কে ঢুকেছে তো যে নিয়মের উর্ধ্বে কেউ নয়? এমনকি সরকার ও? অবশ্য মনে হয়না এতগুলো চপেটাঘাত খেয়েও সামান্য লজ্জাবোধ ও হয়েছে, যদি হতো, যদি ন্যূনতম আত্মসম্মান থাকতো তাহলে মাথা নীচু করে আজ ই পদত্যাগ করতেন।

আর দু টাকার আইটি সেলের অশিক্ষিত ভাইটিরা, যারা কমেন্ট বক্সে এসে ঘেউ ঘেউ করবেন যে "চাকরি করতে হলে যেখানে খুশি পোস্টিং দিতে পারে সরকার", তাদের বলব বিচারকদের ফেসবুক প্রোফাইল খুঁজে বার করুন, ওখানে গিয়ে আপনাদের অমূল্য মন্তব্য করে আসুন।

সবশেষে বলার, আজকের এই জয় ব্যক্তি অনিকেত মাহাতো বা ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্টের নয়, অভয়া আন্দোলনে প্রথম দিন থেকে যারা আপোসহীন ভাবে রয়েছেন তাদের সকলের সম্মিলিত জয় আজকের সুপ্রিম কোর্টের এই রায়। প্রতিহিংসার রাজনীতির বিরুদ্ধে ঋজু মেরুদন্ডের সাহসিকতার লড়াই, নিজেকে সর্বশক্তিমান ভেবে বসে থাকা দুর্নীতিপরায়ণ সরকারের বিরুদ্ধে আপাত-দুর্বল সাধারণ মানুষের অসম লড়াই, সর্বোপরি অভয়ার ন্যায়বিচারের লড়াই চলবে শেষতক!

04/12/2025

আজ, ০৪/১২/২৫ তারিখের কিছু বিশেষ আইনি পর্যালোচনার বিবরণ:

১) কলকাতা হাইকোর্ট অনিকেত মাহাত নিয়োগ সংক্রান্ত মামলায় রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরকে নির্দেশ দিয়েছিল পূর্ব নির্ধারিত মেরিট লিস্ট অনুযায়ী আর জি কর মেডিকেল কলেজেই তাঁকে নিয়োগ করতে হবে। এই ছিলো ৬ই নভেম্বর ডিভিশন বেঞ্চ এর রায়। আদালতের নির্দেশকে উপেক্ষা করে নানান টালবাহানার মাধ্যমে এই নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আটকে রেখেছে স্বাস্থ্য দফতর। আজ তারই ভিত্তিতে সরকারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ জানিয়েছি আমরা। কিন্তু হাস্যকর বিষয় হলো এই মামলা দায়ের করতে গিয়ে আমরা জানতে পারি হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চ ও ডিভিশন বেঞ্চে ডাক্তারদের নিয়োগ দুর্নীতির জন্যও ভর্ৎসিত হয়ে ক্ষান্ত হয়নি রাজ্য সরকার, তাদের দুর্নীতিকে সর্বভারতীয় স্বীকৃতি দিতে ও সর্বোচ্চ ন্যায়লয় থেকেও আইনি থাপ্পড় খেতে সাধারণ মানুষের করের টাকায় সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেছে রাজ্য সরকার। আমরাও এই লড়াই এর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।

২) অপরদিকে অভয়ার বিচারের দাবিতে আন্দোলন ও অনশন চলাকালীন নানাবিধ প্রতিবাদ কর্মসূচির বিরুদ্ধে হেয়ার স্ট্রিট থানা ও বউবাজার থানা থেকে মোট ১৯ টি চার্জশিট ব্যাঙ্কশাল কোর্টে দায়ের করার কথা আমরা আইনজীবীদের মারফত জানতে পারি। আজকে চার্জশিট আনতে এসে আমরা জানতে পারি আন্দোলনকারী ডাক্তার ও ডাক্তারি পড়ুয়াদেরকে যারা বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে এখনও কর্মরত বা প্রশিক্ষণরত তাদের “পলাতক” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রত্যাশিত ভাবেই আদালত থেকে তাদের জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে। আইনজীবীদের পরামর্শ অনুযায়ী এই সবকটি মামলাকে খারিজ করার জন্য হাইকোর্টের দারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা।

আইনি পথে লড়াই চলছে এবং আমরা জানি এই সমস্ত মামলার আসল উদ্দেশ্য আন্দোলনকারীদের অপদস্থ করা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে প্রশাসন ঠিক কী কী ভাবে হেনস্থা করতে পারে স্বাস্থ্যক্ষেত্রের সাথে যুক্ত ও বৃহত্তর সমাজের মানুষের কাছে তার দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাইছে। আদালতের লড়াই চলবে কিন্তু আমরা জানি রাজপথ ও জনপদের লড়াই একমাত্র এই অব্যবস্থার অবসান ঘটাতে পারে। সেই লড়াই চলবে সুবিচার আমরা ছিনিয়ে আনবোই।

A brief update from today, 04.12.25, on two important legal developments:

1) The appointment case of Dr Aniket Mahato:
In the case concerning the appointment of Dr Aniket Mahato, the Calcutta High Court had clearly directed the State Health Department to appoint him to RG Kar Medical College as per the declared merit list. This order was delivered by the Division Bench on 6 November. Instead of complying, the Health Department stalled the process through repeated delays and excuses.
Based on this continued violation, we filed a contempt petition today. While filing the case, we were stunned to learn that the State Government, already reprimanded by both the Single Bench and the Division Bench for corruption in medical recruitment, has still not stepped back. Using public money, the State has now moved the Supreme Court in an attempt to validate its corruption and brace itself for yet another legal blow from the highest court. We are preparing for this legal fight as well.

2) The cases related to the Justice for Abhaya movement:
Through our lawyers, we came to know that Hare Street Police Station and Bowbazar Police Station have filed a total of 19 charge sheets in the Bankshall Court against various protest programmes held during last year’s agitation and hunger strike demanding justice for Abhaya.
When we went to collect the charge sheets today, we discovered that many protesting doctors and medical students, who are currently working or training in government hospitals, have been labelled as “absconded.” As expected, the court granted them bail immediately. On legal advice, we have now decided to approach the High Court to seek quashing of all these cases.

Our legal battle is ongoing, and we know very clearly that the real purpose of these cases is to harass, discredit and intimidate those who protested against injustice. The administration wants to send a message to the healthcare community and to society at large about how dissent will be punished.
The courtroom fight will continue, but we know that only the struggle on the streets and among the people can end this entrenched misrule. That struggle will continue and we will fight till our last breath to secure justice.

WBJDF congratulates all the newly qualified MD MS and Diploma doctors on clearing your final examinations with flying co...
28/11/2025

WBJDF congratulates all the newly qualified MD MS and Diploma doctors on clearing your final examinations with flying colours.

You have proven extraordinary strength. Even while standing with us in the long struggle for justice for Abhaya, even while navigating a tougher and more unpredictable examination system, you never gave up. Your success is a testament to your courage, dedication and relentless hard work.

Today you step into the medical profession not just as degree holders but as ethical young doctors whose conscience has already been tested in fire. The people of Bengal need professionals like you who can uphold dignity, accountability and humanity in healthcare.

Our best wishes for your journey ahead. May you heal with compassion. May you practise with integrity. May you carry forward the spirit of justice that you have already shown.

Warm congratulations once again.

~ West Bengal Junior Doctors' Front

আপনারা সকলেই জানেন, উলুবেড়িয়া মেডিক্যাল কলেজে কর্তব্যরত মহিলা চিকিৎসকের উপর হওয়া শারীরিক হেনস্থা ও তাঁর প্রতি অশালীন ...
25/11/2025

আপনারা সকলেই জানেন, উলুবেড়িয়া মেডিক্যাল কলেজে কর্তব্যরত মহিলা চিকিৎসকের উপর হওয়া শারীরিক হেনস্থা ও তাঁর প্রতি অশালীন মন্তব্যের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, কোর্টে তার শুনানি চলছিল। নির্ধারিত সময়ে চার্জশিট দাখিল না হওয়ায় আজ তাঁদের জামিন মঞ্জুর হয়ে গেল।

খুবই পরিচিত একটা রাজনৈতিক খেলা আবারও চোখের সামনেই নির্লজ্জভাবে সংঘটিত হল।
অভয়া কাণ্ডের ক্ষেত্রেও যেমন আমরা দেখেছি এতদিন পেরিয়ে গেলেও সিবিআই অতিরিক্ত কোনও চার্জশিট দাখিল করতে পারেনি, এখানেও সেই একই রকম ছবি দেখা গেল। রাজ্য ও কেন্দ্রীয় দুই সরকারের এই নীরব নীতি এবং দায়সারা মনোভাব প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, স্বাস্থ্যকর্মী নিরাপত্তা অন্তত তাঁদের অগ্রাধিকারের তালিকায় নেই।

এই পদ্ধতিগত বিলম্ব, বিচারপ্রক্রিয়াকে ঠেকিয়ে দেওয়ার এই অপচেষ্টা সব মিলিয়ে এক গভীর ষড়যন্ত্রের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। দোষীদের সুকৌশলে মুক্তি দিয়ে ঘটনা চাপা দেওয়া ও তদন্তকে নস্যাৎ করার অপপ্রয়াসই এখানে স্পষ্ট। আবার, আজ ই খবরে প্রকাশ, কসবা ল কলেজের ক্ষেত্রে নির্যাতিতার বাবা কে অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্যে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। মহিলাদের জন্য "নিরাপদতম" শহরেই যদি এই ঘটনাক্রম ঘটে চলে অনায়াসে, তাহলে বলার আর কিছু বাকি থাকেনা।

এই প্রসঙ্গেই রাজ্যের স্বাস্থ্যপরিসরে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক তিনটি ঘটনা আলাদা আলাদা ভাবে শিরোনামে উঠে এসেছে তার উল্লেখ প্রয়োজন। ঘটনা তিনটে হলেও এদের উৎসের অন্ধকার একটাই, যেখানে ক্ষমতার দম্ভ, প্রশাসনিক পচন এবং রাজনৈতিক আগ্রাসন মিলে কর্মক্ষেত্রকে মেয়েদের জন্য বিপজ্জনক, ছাত্রছাত্রীদের জন্য অপমানজনক, আর স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য অসহনীয় করে তুলেছে। অভয়া আন্দোলন যে অস্বস্তিকর সত্যি টাকে প্রকাশ্যে এনেছিল, সেই সত্যই আজ আরও নির্লজ্জভাবে সামনে দাঁড়িয়ে আছে।

প্রথম ঘটনাটি হাওড়ার আমতার মহিলা BMOH এর লিখিত অভিযোগ ও স্বাস্থ্য দপ্তরের নিষ্ক্রিয়তার খবর প্রকাশ্যে আসা। তিনি জানিয়েছেন যে কুকুরের ডায়ালিসিস থেকে শুরু করে টোসলিজুমাব চুরি অবধি অসংখ্য কীর্তির "নায়ক" তৃণমূলের কুখ্যাত ডাক্তার নেতা নির্মল মাজি তাকে নিয়মিত হেনস্থা করতেন, ভয় দেখাতেন, ডিউটির ঘর থেকে ব্যক্তিগত চেম্বারে ডেকে নিতেন এবং প্রশাসনিক দায়িত্বকে রাজনৈতিক ইচ্ছেমতো চালাতে চাপ দিতেন। একজন নির্বাচিত প্রতিনিধির পাশে ডাক্তার লেখা থাকলেই কি স্বাস্থ্যপরিসরকে ব্যক্তিগত সাম্রাজ্য বানানোর অধিকার পাওয়া যায়? স্বচ্ছ তদন্ত এবং দোষ প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করা এই রাজ্যে বাতুলতা হয়তো। কিন্তু তারপরেও চিকিৎসক সমাজ ও সাধারণ মানুষ একজোট হয়ে এর বিরুদ্ধে পথে না নামলে ক্রমাগত আরও নর্মালাইজ হতে থাকবে এ ধরনের ঘটনা।

দ্বিতীয় ঘটনাটি সাগর দত্ত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের। সংবাদমাধ্যম থেকে আমরা জানতে পেরেছি সেখানকার বিভিন্ন মহিলা নিরাপত্তা কর্মীদের বক্তব্য। তাঁরা জানিয়েছেন যে হাসপাতালের নিরাপত্তা ইন চার্জ তাঁদের চাকরি বাঁচানোর শর্ত হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনৈতিক প্রস্তাব দিচ্ছিল। এই অভিযোগ সত্যি হলে তা নিছক যৌনহেনস্থা নয়, এটা একটা সরকারি হাসপাতালের সুরক্ষাকে সম্পূর্ণভাবে ভেঙে দেওয়া এক নোংরা ক্ষমতা ব্যবস্থার প্রতিচ্ছবি। যেখানে নিরাপত্তারক্ষীর ইউনিফর্ম পরে ডিউটিতে দাঁড়াতে গিয়ে নিজেকেই চরম নিরাপত্তাহীনতার মুখে কাজ করতে হয়, সেই ব্যবস্থাকে আর স্বাস্থ্যব্যবস্থা বলা যায় না। এখানেও প্রয়োজন দ্রুত, স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযোগ সত্যি প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তির।

তৃতীয় ঘটনার অকুস্থল কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, যদিও এই ঘটনার ফলাফল অন্যান্য জায়গার মত নিরাশাজনক নয়। অ্যানাটমি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান এর বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময় ধরে চাপা পড়ে থাকা বিভিন্ন অভিযোগ হঠাৎ করেই প্রকাশ্যে এসেছে যখন একজন প্রথম বর্ষের ছাত্রী তার বিরুদ্ধে অশালীন স্পর্শের অভিযোগ এনে প্রতিবাদে রুখে দাঁড়ায়। এবং তখনই অতীতের একই রকম আরও অভিযোগ এর কথা বিভিন্ন ছাত্রীদের কাছে জানতে পারা যায়। কলকাতা মেডিকেল কলেজের ছাত্রছাত্রীরা প্রতিবাদে ফেটে পড়ে, দ্রুত ICC এর মাধ্যমে তদন্তের দাবি ও তদন্ত চলাকালীন ওই বিভাগীয় প্রধানের ইস্তফার দাবিতে বিক্ষোভরত ছাত্রছাত্রীরা কর্তৃপক্ষকে ঘেরাও করে। অবশ্য এরকম ঘটনা ঘটবে কিন্তু শাসক দলের কোনো অপভূমিকা থাকবে না, তা তো হতেই পারেনা। সেই ধারা বজায় রেখেই শাসকদলের ডাক্তার সংগঠনের সভাপতি যে কিনা অ্যানাটমি বিভাগের PGT ছাত্রছাত্রীদের মুখ বন্ধ রাখার হুমকি দেয়, কিন্তু ছাত্রছাত্রীদের প্রতিরোধের মুখে পড়ে সেদিনই তার কাছে নিশ্চয়ই স্পষ্ট হয়ে গেছে যে মেডিকেল শক্ত ঘাঁটি, হুমকির রাজনীতি MCK তে অন্তত চলবে না। শেষ আপডেট অনুযায়ী ওই বিভাগীয় প্রধান ইস্তফা দিতে বাধ্য হয়েছেন, ICC গঠিত হয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং 'নেতাগিরি' দেখাতে আসা তৃণমূলী দালাল আপাতত লেজ গুটিয়ে ক্ষান্ত দিয়েছে।
এটাই প্রমাণ করে যে সংগঠিত প্রতিরোধই অন্যায়ের সবচেয়ে বড় প্রতিষেধক।

এই ঘটনাগুলোকে পাশাপাশি রাখলে স্পষ্ট বোঝা যায় যে এগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়। এগুলো আসলে ক্ষমতার দৌরাত্ম্যকে প্রতিষ্ঠানের নীরবতায় লুকিয়ে রাখার রাজনীতি। অভয়া আন্দোলন রাজ্য সরকারকে প্রশ্নের মুখোমুখি করেছিল যে, স্বাস্থ্যপরিসরে স্বাস্থ্যকর্মী থেকে শুরু করে ছাত্রছাত্রী বা রোগী - তারা নিরাপদ তো? রোজ ঘটতে থাকা এই ঘটনাগুলোই জবাব দিচ্ছে।

তাই দাবিও আজ আগের মতই স্পষ্ট। প্রতিটি ক্ষেত্রে দ্রুত, স্বচ্ছ, রাজনৈতিক পক্ষপাতহীন এবং প্রকাশ্য তদন্ত জরুরি। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি জরুরি। হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নিরাপত্তাকে রাজনৈতিক দয়ার উপর নয়, সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। সবশেষের বার্তাটাও বেশ সহজ। এই লড়াই কারুর একার লড়াই নয়। সংগঠিত প্রতিরোধ ভয় ভাঙে, আর ভয় ভাঙলেই ক্ষমতার দম্ভ ভেঙে পড়ে। তাই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগঠিত হওয়াই এই মুহূর্তে সময়ের দাবি।

আপনারা অনেকেই ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টর ফ্রন্টের সোশ্যাল মিডিয়া পেজে বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন করেছেন, সুপ্রিম কোর্ট, হাই...
19/11/2025

আপনারা অনেকেই ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টর ফ্রন্টের সোশ্যাল মিডিয়া পেজে বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন করেছেন, সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট বা শিয়ালদা কোর্টে অভয়ার ন্যায়বিচার সংক্রান্ত বিচার বিভাগীয় তদন্তের গতিপ্রকৃতি কী এবং আমরা নিয়মিত ভাবে তার আপডেট দিচ্ছিনা কেন? অনেকে হয়তো এই সন্দেহও প্রকাশ করেছেন যে অভয়ার ন্যায়বিচারের আন্দোলন থেকে কি আমরা পিছিয়ে এসেছি?

আপনাদের অবগতির জন্য জানিয়ে রাখা প্রয়োজন, আন্দোলনের শুরু থেকে এখনও অবধি সুপ্রিমকোর্ট, হাইকোর্ট, শিয়ালদা কোর্ট সহ প্রতিটি স্তরে অভয়ার ন্যায়বিচারের জন্য বাবা-মা অথবা জুনিয়র ডাক্তারদের পক্ষ থেকে যে লড়াই হয়েছে, হচ্ছে তার সার্বিক আর্থিক খরচ ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট বহন করে চলেছে। শুধু আর্থিক খরচই নয় তার প্রত্যেক মুহূর্তের আইনি তদারকি এবং পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করে চলেছে ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট! কিন্তু শেষ কয়েক মাস ধরে তদন্ত ও বিচার বিভাগীয় প্রক্রিয়া ন্যূনতম অগ্রসর হয়নি এবং চরম হতাশার সাথে আমরা লক্ষ্য করেছি সিবিআই-আদালত সবকিছু মিলিয়ে সমগ্র বিচার ব্যবস্থা এক প্রহসনে পরিণত হয়েছে। আমরা এই অনগ্রসর বিচার প্রক্রিয়ার একই বার্তা প্রতিনিয়িত প্রচার করে আপনাদের হতাশার সম্মুখীন করতে চাইনি।

কিছুদিন আগে শিয়ালদহ কোর্টে শুনানি চলাকালীন এক অভাবনীয় মুহূর্তের সম্মুখীন হই আমরা, প্রতিনিয়ত সিবিআই-এর অবহেলা বঞ্চনা, ঢিলেমি এবং সর্বোপরি অকর্মণ্যতায় ক্ষিপ্ত অভয়ার মা সিবিআই-এর তদন্তকারী অফিসারকে 'নির্লজ্জ' বলে আদালতে ভৎসর্না করেন। আমরা মনে করি, অভয়ার মা শুধু নন সিবিআই-এর চরম অপদার্থতার কারণে সারা বাংলার মানুষ সমস্বরে ওনাকে নির্লজ্জ বলতে এক বিন্দু পিছুপা হবে না।

আর জি করের নৃশংসতার আজ ১৫ মাস হতে চললো, অথচ কোনও অতিরিক্ত চার্জশীট জমা হলো না এমনকি অভয়ার ফোন, ল্যাপটপ এর ফরেনসিক পরীক্ষার কোনও রিপোর্ট আজও সামনে আনা হলো না। উপরন্তু আমাদের নজরে এলো সেই মহিলা অফিসার বাইরে এসে একদম হিন্দি সিনেমা/ সিরিয়ালোচিত কায়দায় কুম্ভীরাশ্রু বর্ষণ করলেন এবং তা সংবাদ মাধ্যমের শিরোনামেও উঠে এলো এক সহানুভূতির ছলে। আমরা, West Bengal Junior Doctors' Front অভয়ার মা-বাবার সাথে সহানুভূতি রেখে তদন্তের এই দীর্ঘসূত্রিতা এবং সিবিআই-এর এই চরম অপদার্থতাকে তীব্র ভাষায় ধিক্কার জানাই।

প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখা দরকার আজকের সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে West Bengal Junior Doctors’ Front-এর পক্ষ থেকে আইনজীবী মূলত তিনটি বিষয় তুলে ধরেন,
১) অভয়ার ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে সিবিআই-এর অযথা বিলম্ব ও অতিরিক্ত চার্জশিটের জমা না দেওয়ার প্রসঙ্গ
২) ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষার জন্য গঠিত NTF ( National Task Force) এর কোনোরকম কর্মপ্রণালী নির্দিষ্ট না হওয়ায় অতিরিক্ত নির্দেশ ও পরবর্তী আলোচনার প্রয়োজনীয়তার প্রসঙ্গ
৩) শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অংশ নেওয়া ডাক্তারদের থানায় ডেকে হেনস্থা করার প্রতিহিংসামূলক আচরণের প্রসঙ্গ।
আদালত সদর্থক ভূমিকা বজায় রেখে জানতে চেয়েছেন যে সংশ্লিষ্ট মামলাগুলি কোথায় বিচারাধীন এবং প্রাথমিক ভাবে NTF নিয়ে দিল্লি হাইকোর্টে ও পুলিশি হেনস্থার বিষয়টি কলকাতা হাইকোর্টে পাঠানোর সম্ভাবনা নিয়ে বিবেচনা করার কথা বলেছেন।

বিচার আমাদের ছিনিয়ে আনতেই হবে, এই অঙ্গীকার ও ঐক্যবদ্ধ শপথ বুকে নিয়ে শুরুর দিন থেকে প্রতিটি কোর্টের শুনানির প্রতি আমাদের যেমন সক্রিয় ভূমিকা ছিলো আগামীতেও সমান ভাবে থাকবে।

আরও একবার সংবাদের শিরোনামে রাজ্যের স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে রোগী নিরাপত্তার প্রশ্ন। সম্প্রতি বারাসত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চ...
14/11/2025

আরও একবার সংবাদের শিরোনামে রাজ্যের স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে রোগী নিরাপত্তার প্রশ্ন। সম্প্রতি বারাসত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা করতে আসা এক নাবালিকা রোগীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ সামনে এসেছে। আক্রান্ত রোগিনীর অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার হয়েছে ভিন রাজ্য থেকে পড়তে আসা এক ডাক্তারি পড়ুয়া। চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের পরিসরে এ ধরনের নৃশংস ও অশ্লীল ঘটনা শুধুমাত্র মানবিক মূল্যবোধের পরিপন্থী নয়, West Bengal Junior Doctors’ Front-এর পক্ষ থেকে আমরা স্পষ্টত জানাতে চাই-
৽ এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে এবং কীভাবে হাসপাতালের অভ্যন্তরে এরকম কাজ সেই ব্যক্তি বিনা বাধায় ঘটাতে পারে সে বিষয়ে অবিলম্বে হাসপাতাল প্রশাসন, স্বাস্থ্য দফতরের পূর্ণ হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ত্বরিত ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি আমরা জানাচ্ছি।
৽ ধর্ষকের একটাই পরিচয়, সে অপরাধী। তাই ধর্ম, জাত বা প্রাতিষ্ঠানিক পরিচিতির ঊর্ধ্বে গিয়ে তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে— তার পদমর্যাদা বা পরিচয় যাই হোক না কেন।
৽ পাশাপাশি যে কথা আবারও বলা দরকার- হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হোক, সিসিটিভি ক্যামেরাগুলি সম্পূর্ণ কার্যকর ও তত্ত্বাবধানে রাখা হোক, মহিলা রোগীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা ও সমস্ত নিরাপত্তাকর্মী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সংবেদনশীলতা সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক ।
আমরা জানি বিকৃত মানসিকতার লোক সমস্ত পেশাতেই থাকে এবং আমরা ভুলিনি ‘অভয়া’র নারকীয় ঘটনাটি ও তার তথ্য-প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা এবং দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা ব্যাপক আর্থিক দুর্নীতি—এসবের সঙ্গেও যুক্ত ছিল সন্দীপ ঘোষ, আশিস পাণ্ডের মতো কিছু ‘ডাক্তার’ রূপী অমানুষরা। শুধু তাই নয়, আর.জি. কর সহ রাজ্যের নানান স্বাস্থ্য- শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সেই পুরনো ‘থ্রেট কালচার’-এর সঙ্গে যুক্ত কিছু অপরাধী—যাদের মধ্যে অভিক বা বিরুপক্ষের মতো ডাক্তারের উপস্থিতিও অস্বীকার করা যায় না—আন্দোলনের প্রথমদিন থেকে বিচারের দাবির নামে আন্দোলনের ভেতরে ঢুকে পড়ে এক ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি করার অপচেষ্টা চালিয়েছে তারা।

কিন্তু যেভাবে ডিজিটাল মাধ্যমে “আর.জি. কর আন্দোলনের ‘প্রথম সারি’র প্রতিবাদী ডাক্তার” বলে একজন বিকৃত মানসিকতার ব্যক্তির পরিচয় নির্ধারণ করা হচ্ছে যেখানে কোনরকম সিদ্ধান্তগ্রহণ বা মিটিং তো নয়ই কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে উক্ত ব্যক্তির অংশগ্রহণ সম্পর্কেও আমাদের কোনও ধারণাই নেই। এইভাবে জনৈক বিকৃতমনস্ক ডাক্তারকে “অভয়া আন্দোলনের প্রথম সারির নেতা” বলে অভিহিত করাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে নিরাপত্তা ও সমানাধিকারের দাবির আন্দোলনকে কলঙ্কিত করার নোংরা চেষ্টা বলেই আমাদের মনে হচ্ছে। আন্দোলনের স্পিরিট, তার নৈতিক অবস্থান, এবং সত্যের পথে চলা প্রতিবাদের ভাবমূর্তিকে কলুষিত করার চেষ্টাকে আমরা তীব্র ভাষায় নিন্দা জানাই।
৽ এই দুঃখজনক ঘটনার শিকার নাবালিকা ও তার পরিবারের প্রতি আমরা গভীর সহমর্মিতা জানাই, সাথে আদালত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় যেন তারা সম্পূর্ণ নিরাপত্তা ও মানসিক সহযোগীতার মাধ্যমে যথার্থ বিচার পান, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। WBJDF এই ঘটনার ন্যায় বিচারের জন্য শেষ পর্যন্ত পরিবারের পাশে থাকবে।

আবারও আদালতে মুখ থুবড়ে পড়ল রাজ্য সরকার!ন্যায়ের পথে আমাদের এই জয় শুধু এক মামলার রায় নয়, বেআইনি বদলি, ক্ষমতার দম্ভ আ...
06/11/2025

আবারও আদালতে মুখ থুবড়ে পড়ল রাজ্য সরকার!ন্যায়ের পথে আমাদের এই জয় শুধু এক মামলার রায় নয়, বেআইনি বদলি, ক্ষমতার দম্ভ আর গণতন্ত্রবিরোধী রাজনীতির বিরুদ্ধে প্রতিটি ডাক্তার, প্রতিটি নাগরিকের ন্যায়যুদ্ধের প্রতীক।

ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট এর তিন সহযোদ্ধা জুনিয়র ডাক্তারকে বেআইনিভাবে কাউন্সেলিং উপেক্ষা করে প্রতিহিংসামূলক পোস্টিং পরিবর্তন সংক্রান্ত মামলায় দু সপ্তাহ আগেই কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চে বিচারপতির কাছে কড়া ভর্ৎসনার সম্মুখীন হয় রাজ্য সরকার, এবং অতিদ্রুত ডাঃ অনিকেত মাহাতোকে (যিনি এখনো কাজে যোগদান করেন নি) তার প্রাপ্য আর জি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পোস্টিং দেওয়ার রায়দান করা হয়। সেই রায় কে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে গিয়েছিল রাজ্যসরকার, এবং প্রত্যাশিত ভাবেই সেখানেও তারা পরাজিত হল আজ। ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট ভাবে আজ জানিয়ে দিল যে সিঙ্গেল বেঞ্চের রায় ই বহাল থাকবে। আমরা আগেই জানিয়েছিলাম যে এই জয় আমাদের কাছে প্রত্যাশিত, কিন্তু এই রায় কে চ্যালেঞ্জ করে সরকার আবার সুপ্রিম কোর্টে যেতে পারে এই আশঙ্কা যথেষ্ট রয়েছে। 'আশঙ্কা' বলা এই কারণে যে সুপ্রিম কোর্টে গেলেও যে আমাদের জয় সুনিশ্চিত তা সবাই জানলেও, কেবলমাত্র অনৈতিক এই হেনস্থা দীর্ঘায়িত করার জন্যে রাজ্য সরকার কতটা চক্ষুলজ্জাহীন হতে পারে তার প্রমান আমরা ইতিমধ্যে পেয়েছি। ইতিমধ্যে আর.টি.আই তে প্রকাশ যে ২০১৯–২০ থেকে ২০২৩–২৪ এই অর্থবর্ষে রাজ্য সরকার জনগণের ট্যাক্সের টাকা থেকে ৬৫ কোটি টাকা খরচ করেছে বিভিন্ন মামলায় আইনজীবীদের পিছনে। (উল্লেখ্য এর মধ্যে ২০২৪ –২৫ অর্থবর্ষের হিসাব নেই, যার মধ্যে অভয়া মামলা, এসএসসি দুর্নীতি মামলা সহ আরো অসংখ্য মামলা আমরা শেষ দুবছরে দেখেছি।)

অদ্ভুত এই গণতন্ত্র! নাগরিকদের ভোটে নির্বাচিত হওয়া একটা সরকার, তার নাগরিক দের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা (অধিকাংশই মিথ্যে) করছে, অথবা অসংখ্য বেআইনি কাজ (কাউন্সেলিং উপেক্ষা করে পোস্টিং পরিবর্তন, টাকা নিয়ে শিক্ষকতার চাকরি দেওয়া ইত্যাদি আরও অসংখ্য উদাহরণ) ডিফেন্ড করার জন্যে সেই নাগরিকদেরই দেওয়া ট্যাক্সের কোটি কোটি টাকা ব্যবহার করে। এমন ব্যবস্থায় একজন সাধারণ মানুষ, যার কাছে অর্থবল নেই বা সেই অর্থে জনসমর্থন নেই তার বিচার পাওয়ার 'অধিকার'ও যে আদৌ নেই এই নগ্ন সত্য টুকু সবার সামনেই স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে!

এদিকে এর মধ্যে অন্য এক অপ্রাসঙ্গিক কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ (বা প্রাসঙ্গিক কিন্তু গুরুত্বহীন) কথা বলে নেওয়া প্রয়োজন। এই রায় যে ডিভিশন বেঞ্চে আসতে চলেছে তা কিন্তু অজানা ছিল না (ঠিক যেমন বাকি দুজন অর্থাৎ ডাঃ দেবাশিস ও ডাঃ আসফাকের ক্ষেত্রেও যে একই রায় আসবে সেটা বুঝতে কঠিন আইন জ্ঞান প্রয়োজন নেই) অন প্রিন্সিপাল রাজ্য সরকার যে অন্যায় করেছে তা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছিল সিঙ্গেল বেঞ্চ, সেই রায়ের বিরুদ্ধে ডিভিশন বেঞ্চে গিয়ে আজ আবার মুখ পোড়ালো রাজ্য সরকার ও স্বাস্থ্য দফতর। বারবার চড় থাপ্পড় ও মুখে চুনকালি পড়ার অভিঘাত আগে থেকে কল্পনা করে মতিভ্রম হওয়া স্বাভাবিক। সেই মতিভ্রম এর চূড়ান্ত প্রকাশ হিসেবেই আমরা দেখলাম যে শাসক দলের দয়া দাক্ষিণ্যে খেতে পাওয়া ইয়েলো জার্নালিস্ট দের খোঁয়াড় হিসেবে বেশ সুপ্রতিষ্ঠিত একটি সংবাদপত্রে (মাফ করবেন, ভদ্রতার খাতিরে টয়লেট পেপার কেও সংবাদপত্র বলতে হচ্ছে বলে) একটি দারুণ রোমহর্ষক হেডলাইন দিয়ে মুচমুচে 'খবর' বেরিয়েছে। যেখানে কোনো এক 'ভাইরাল ভিডিও' (সম্ভবত Re**um নামক যে বৃহদন্ত্রের যে অংশে প্রতিবেদক মাথার ঘিলু সুরক্ষিত রাখেন, সেখানে গুঁজে রাখার ফলে এখনও সেই 'ভাইরাল ভিডিও' প্রকাশ্যে আনতে পারেন নি।) ডেসিফার করে নাকি বোঝা গেছে ডাঃ অনিকেত মাহাতো একটি মেডিকেল কলেজের ছাত্রদের সাথে রেস্টুরেন্টে খেতে নিয়ে গিয়ে বেশ জমিদারি কায়দায় 'অফার' দিয়েছেন যে আবার আন্দোলন করতে হবে, যত টাকা লাগবে 'আমি দেব'। প্রথমত, আপনি সংবাদের নামে গল্প লিখছেন লিখুন কিন্তু আপনার গল্পে পাঁচমাস ধরে বেতনহীন এক চরিত্র যদি এরকম বেপরোয়া জমিদারি দেখাতে শুরু করে তাহলে গল্পটাই তো অবিশ্বাস্য হতে শুরু করবে।

অবশ্যই আমরা সংশ্লিষ্ট সংবাদপত্রের অফিসে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছি। কিন্তু নিছক আইনি নোটিশ দিয়ে এই মনুষ্যেতর দের ঠিক পথে আনা যাবে বলে আমরা মনে করিনা, মানুষের সম্মিলিত গণরোষের মুখোমুখি হলেই একমাত্র এদের উচিত শিক্ষা হতে পারে। (এবং সেটা কবে, কখন, কীভাবে হবে তা কিন্তু এদের রক্ষাকর্তা শাসকদেরও জানা নেই।)

আমাদের নজর থাকবে রাজ্য সরকার এই থাপ্পড়ে শিক্ষা পেয়ে অতিদ্রুত আদালতের নির্দেশ মেনে সঠিক পোস্টিং এর ব্যবস্থা করে নাকি আমাদের ট্যাক্সের টাকায় সরকারি আইনজীবী পুষে সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে কোটি টাকা খরচ করে আরো বড় থাপ্পড়ের জন্য প্রস্তুত হন।

29/10/2025

।। ফিল্ড ডায়েরি ।। প্রাকৃতিক দুর্যোগ পরবর্তী উত্তরবঙ্গ, অক্টোবর, ২০২৫

প্রাইমারি ডিজাস্টার রেসপন্স হিসেবে বন্যা ও ভূমিধ্বসে বিধ্বস্ত উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে সপ্তাহব্যাপী অভয়া স্বাস্থ্য শিবিরের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা আমরা এক এক করে সকলের সাথে ভাগ করে নিতে চাই।

বন্যাবিধ্বস্ত ডুয়ার্স থেকে ধ্বসে বিধ্বস্ত পাহাড়ের বিভিন্ন এলাকায় স্বাস্থ্যশিবিরের ধারাবাহিকতার একখণ্ড গল্প। রঙমুক এলাকার সিডার্স চা বাগান। ধ্বস মেরামত করে চলাচলের রাস্তা খুলেছে সবে, বেশ কিছু জায়গা এখনও বিপজ্জনক ভাবে ভাঙা। অভয়া ক্লিনিকের আয়োজন হল সেই চা বাগানের পাশে, চন্দামানধুরা গ্রামে। এই বন্ধ চা বাগান অঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা ভীষণ অনিশ্চিত, অনেকেই প্রতিদিন বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

চিকিৎসা শিবিরে একে একে আসছিলেন এলাকার মানুষ– কেউ জ্বর, কেউ পেটের সমস্যা, আঘাত লাগা, সর্দিকাশি নিয়ে, কেউ আবার শুধু নিজেদের অবস্থার কথাগুলো বলতে চেয়েছেন, বিপর্যয়ের অভিঘাত বাসিন্দাদের মানসিক স্বাস্থ্যকেও বিপর্যস্ত করেছে। এমন সময় স্থানীয় উদ্যোক্তারা জানালেন, কিছুটা দূরে গ্রামের ভেতরে বৃদ্ধ ও শয্যাশায়ী কয়েকজন এর স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রয়োজন আছে, যাঁরা ধ্বসের পর থেকে ঘরেই আটকে আছেন। তখন আমাদের টিমের একাংশ বেরিয়ে পড়ে মোবাইল ক্লিনিক হিসেবে, ভাঙা রাস্তা আর পাহাড়ি ঢাল পেরিয়ে পৌঁছতে তাঁদের কাছে।

পথে চোখে পড়ল ধ্বসের গভীর দাগ। কোথাও রাস্তা নেই, কোথাও গাছের গোড়া গিয়ে ঠেকেছে ঘরের ছাদে। স্থানীয়রা বলছিলেন, যে পাড়াটা ধ্বসে গেছে, সেখানে এখন আর কিছুই বাকি নেই। পুরো গ্রামকেই নতুন জায়গায় স্থানান্তর করতে হবে, সরকারি পুনর্বাসনই একমাত্র পথ।

যতটা সম্ভব আমরা এই পরিস্থিতি নথিভুক্ত করার চেষ্টা করেছি। এখানকার মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখব, জানতে যে সরকার তাঁদের এই পুনর্বাসনের দাবি মেনে কী কী উদ্যোগ নিচ্ছে, আর সেই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবে কতটা রূপ পাচ্ছে।

Field Diary । North Bengal Disaster Response Medical Camps by the West Bengal Junior Doctors’ Front ।

As part of our primary disaster response, the West Bengal Junior Doctors’ Front set up week-long medical camps across the flood and landslide-hit regions of North Bengal. From the waterlogged plains of the Dooars to the shattered slopes of the hills, each camp carried its own story of struggle, resilience, and hope.

One chapter unfolded in Rangmuk, near the Cedars Tea Garden. The road had just been cleared after days of repair, but many stretches still remained treacherous. Our camp took shape beside the garden, in Chandamandhura village, a community reeling from the closure of the tea estate where survival itself is a daily fight.

Villagers arrived steadily, some with fever, stomach problems, injuries, or persistent coughs, and others simply to share their experiences. The emotional toll of the disaster was evident, and mental health distress was everywhere. Soon, locals mentioned that a few elderly and bedridden residents, trapped indoors since the landslides, needed urgent attention. A team from our camp set out as a mobile clinic, maneuvering broken roads and steep slopes to reach them.

On the way, the scars of the landslides were impossible to ignore. Roads had disappeared, tree roots clung to rooftops, and entire patches of land had collapsed. At one destroyed hamlet, locals said, “There’s nothing left there anymore.” Relocation to safer areas seemed inevitable, and government-led rehabilitation appeared to be the only viable solution.

We tried to document as much as possible, capturing both the physical devastation and the human stories. In the days ahead, we will keep in close touch with the affected families to monitor how the government addresses their rehabilitation and whether its promises translate into real change.

আজ থেকে ঠিক এক বছর আগে, আর জি কর হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসকের নৃশংস খুন ও ধর্ষণের প্রেক্ষিতে এবং লাগাতার আন্দোলনের চাপে...
26/10/2025

আজ থেকে ঠিক এক বছর আগে, আর জি কর হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসকের নৃশংস খুন ও ধর্ষণের প্রেক্ষিতে এবং লাগাতার আন্দোলনের চাপে নবান্ন সভাঘরে প্রশাসনিক আধিকারিক ও সরকারি কলেজগুলির অধ্যক্ষদের সাথে নিয়ে রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী-পুলিশমন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী একটি বৈঠক করেছিলেন। সেই বৈঠকের লাইভ টেলি সম্প্রচার আপনারা সকলেই দেখেছিলেন এবং সেইদিন স্বাস্থ্যব্যবস্থার হাল হকিকত ও সরকারি হাসপাতালগুলির নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন আমরা করলেও আমাদেরকে জানানো হয়নি লাইভ সম্প্রচারের কথা। অতএব ধরেই নেওয়া যায় সেদিনের লাইভ সম্প্রচারের উদ্দেশ্য স্বচ্ছতা ছিলনা, ছিল প্রচার।

সেদিন ঠিক কী প্রচারিত হয়েছিল? আশ্বাসের সুরে আমাদের মুখ্যমন্ত্রী জানান, নিরাপত্তার সমস্ত দায়িত্ব সম্পন্ন করা হয়েছে এবং তার ভিত্তিতে তিনি স্বাস্থ্যকর্মীদের নির্ভয়ে হাসপাতালে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু তারপর বহুবার সেই মিটিং সম্বন্ধীয় আপডেট ও পরবর্তী মিটিংয়ের জন্য অনুরোধ করা হলেও কোনোরকম উত্তর আমরা পাইনি। সদিচ্ছার অভাব ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণে ১২ মাস পরে গতকাল আবার উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের নিয়ে একই কারণে বৈঠকের আয়োজন করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী। একই বিষয়ে আবার বৈঠকের অর্থ এটাই দাঁড়ায় যে, গতবছরের একটিও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি, যা এই রাজ্য প্রশাসনের চরম ব্যর্থতার পরিচায়ক বলে আমরা মনে করি।

আবারও দেখা গেলো চেনা পরিচত ছন্দে ‘চুপ’ করিয়ে দেওয়া স্বাস্থ্য বিভাগীয় প্রধান বা ‘ম্যাডাম ম্যাডাম‘ করে ওঠা প্রশাসনিক কর্তাদের নিয়ে নাটকীয় আলোচনা সভায় নির্দ্বিধায় নিজের অকর্মণ্যতার দায় এড়িয়ে ভুরিভুরি মনভোলানো কথা শুনিয়ে দিনের শেষে অশ্বডিম্ব প্রসব করলেন মাননীয়া আর সাধারণ মানুষ তথা রোগীদের রেফার সমস্যা, নিরাপত্তা আর গুণমান সম্পন্ন ওষুধ প্রাপ্তির সম্ভাবনা প্রশ্ন চিহ্নই থেকে গেল!

অভয়া আন্দোলন-এর সময় West Bengal Junior Doctors’ Front বারবার চোখে চোখ রেখে শাসককে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার নগ্নরূপ তুলে ধরে জানিয়েছিল —এই ব্যবস্থাপনায় কারওই নিরাপত্তা নেই। না ডাক্তার, না স্বাস্থ্য কর্মী না রোগী। তারই ফলস্বরূপ ও প্রশাসনের সদিচ্ছার অভাবে আজ বাংলার বুকে একের পর এক ঘটনায় সেই সতর্কবাণীই যেন মর্মে মর্মে সত্যি হয়ে উঠছে।

পাঁশকুড়ায় স্বাস্থ্যকর্মী নিগ্রহ, উলুবেড়িয়ায় চিকিৎসক আক্রান্ত, বীরভূমে নার্সের উপর নৃশংস হামলা, আবার এসএসকেএম হাসপাতালে নাবালিকা রোগীর উপর নির্যাতন— সব ক’টি ঘটনাই যেন একই সুতোয় গাঁথা। কোথাও সুপারভাইজার, কোথাও ‘সিভিক ভলান্টিয়ার’, কোথাও ‘হোমগার্ড’ বা ‘কনট্রাকচুয়াল জিডিএ’— নাম আলাদা হলেও ছবিটা এক: হাসপাতালের ভেতরে অনিয়মিত, অস্থায়ী, রাজনৈতিক প্রভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত নিরাপত্তাকর্মীদের একাংশের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ।

আসলে সমস্যা রয়েছে এই স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পরিচালনার মধ্যেই, এই সিস্টেমের মধ্যেই। সঞ্জয় রাই হোক বা বাবুলাল শেখ বা অমিত মল্লিক - সবাই চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী। এদের এত সাহস, হাসপাতালের যেকোন জায়গায় অবাধ যাতায়াতের এত সুযোগ হয় কী করে? হাসপাতালে কান পাতলে এদের নামে আগেও বিভিন্ন রকম দুষ্কর্মের অভিযোগ শোনা যায়। তা সত্ত্বেও এদের বিরুদ্ধে আগে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি কেন? আমরা দেখছি এরাই হাসপাতাল গুলোতে টিকিয়ে রাখে দুর্নীতির সিস্টেম - টাকা নিয়ে বেড পাইয়ে দেওয়া হোক বা হাসপাতালে দালালরাজ - বোড়ে সৈনিক হিসাবে কাজ করে এরা, আর কাটমানি পাঠিয়ে দেয় যথাস্থানে। এরাই টিকিয়ে রাখে threat culture, r**e culture। এদের সাথে রয়েছে শাসক দলের সম্পর্ক, শাসক দলের নেতাদের প্রশ্রয়েই এদের মধ্যে আসে সেই দু:সাহস, সেই বেপরোয়া মনোভাব যেখান থেকে এরা ধর্ষনের হুমকি দেয়, খুনের হুমকি দেয়, এমনকি ধর্ষন বা খুন করে দিতেও পিছপা হয় না। এদের সবার নিয়োগ হয় এজেন্সির মাধ্যমে। এই এজেন্সি গুলোর মাথায় কারা থাকে, তাদের সাথে শাসক দলের সম্পর্ক কেমন, বা তারাই শাসক দলের মাথা কিনা - তা নিয়ে তদন্ত হয় না। তাই বাবুলাল শেখ হোক বা অমিত মল্লিক - এধরনের জঘন্য অপরাধীর জন্ম হতে থাকে একের পর এক।

আর জি কর আন্দোলনে আমরা বারবার জানিয়েছিলাম হাসপাতালের নিরাপত্তা রক্ষার দায় কোনও অস্থায়ী বা বেসরকারি এজেন্সির হাতে তুলে দেওয়া চলবে না। দাবি করেছিলাম হাসপাতালের নিরাপত্তার জন্য আলাদা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মী নিয়োগ করতে হবে, কোনও কনট্রাকচুয়াল ব্যবস্থা নয়। কিন্তু তার বদলে চলতে থাকল সেই চুক্তিভিত্তিক অস্থায়ী কর্মী নিয়োগ, চালু রইল এজেন্সির মাধ্যমে অল্প বেতনে নিয়োগ করা, শাসক দলের ছত্রছায়ায় নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালনা করা চালু রইল, চালু রইল তাদের দিয়ে দুর্নীতি, অপরাধ, threat culture বজায় রাখা। ব্যবস্থার কোন পরিবর্তন হল না, এই অপরাধের আঁতুড়ঘর সিস্টেম থেকে একের পর এক অপরাধী জন্মাবে - এটা স্বাভাবিক।

আজ মুখ্যমন্ত্রী বলছেন হাসপাতালের নিরাপত্তা কর্মীদের প্রশিক্ষনের কথা। বোঝা গেল যে হাসপাতালের নিরাপত্তা কর্মীরা যে সঠিক ভাবে প্রশিক্ষন ছাড়াই কাজ করে চলেছেন সে সম্পর্কে সরকার অবগত। অথচ, এই প্রশিক্ষনের কোন ব্যবস্থা এতদিন করা হয়নি। আর জি কর আন্দোলনের সময় এক বছর আগেও এই প্রশিক্ষন দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল, যা আজ অব্দি হয়ে ওঠেনি। সিসি টিভি অকেজো থাকার কথা, তা সঠিক ভাবে মনিটরিং না হওয়ার কথা আমরা এক বছর আগেও বারবার বলেছি। সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সঠিকভাবে কাজ হবে, সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা দিয়ে জানিয়েছিল সব হাসপাতালে নাকি সব কাজ শেষ, কোথাও ১০০%, কোথাও ৯০%। আজ এক বছরেরও বেশি সময় পর মুখ্যমন্ত্রী বলছেন সিসিটিভি অকেজো থাকার কথা, মনিটরিং সঠিক ভাবে না হওয়ার কথা, আবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এগুলো সঠিকভাবে হবে। কিন্তু বছরের পর বছর একদিকে এই অন্ত:সার শুন্য প্রতিশ্রুতি আর অন্যদিকে রোগী-স্বাস্থ্যকর্মীদের নিগ্রহের ঘটনা - ঘটে চলেছে সমান্তরাল ভাবে।

আমরা মনে করি হাসপাতালে রোগীর চিকিৎসা আর হাসপাতালের নিরাপত্তা অঙ্গাঙ্গী ভাবে জড়িত। হাসপাতালে সঠিক পরিকাঠামো নির্মান, সঠিক গুনমানের ওষুধ, যন্ত্রপাতির উপস্থিতি, সঠিক রেফারাল সিস্টেম আর নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যায় দক্ষ নিরাপত্তারক্ষী, অন কল রুম, কার্যকর সিসিটিভি - এসব ই প্রয়োজন হাসপাতালে ভালো চিকিৎসার জন্য, ভালো কাজের পরিবেশের জন্য। আর সরকারের দায়িত্ব সেগুলো সঠিকভাবে কার্যকর করা, সেগুলোর দেখভাল করা। সেই দায়িত্ব পালন না করে, হাসপাতালের দুর্নীতি, threat culture এর সিস্টেম কায়েম রেখে, স্বাস্থ্যক্ষেত্রে 'চক্রান্ত' খুঁজে বের করার কথা বলা আসলে সরকারের নিজের অপদার্থতা ঢাকতে বিভ্রান্তি ছড়ানো বই কিছু নয়।

অভয়ার ন্যায়বিচার সহ স্বাস্থ্যক্ষেত্রে পর্যাপ্ত পরিকাঠামো, রোগী-স্বাস্থ্যকর্মীর নিরাপত্তা, নারী নিরাপত্তা, উপযুক্ত কাজের পরিবেশ, পর্যাপ্ত সংখ্যক স্থায়ী কর্মী নিয়োগের যে দাবি আমরা প্রথম থেকে তুলে আসছি সেগুলোই আসলে এই ঘুন ধরা স্বাস্থ্য-ব্যবস্থার স্বাস্থ্য ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজন। সরকার যদি সত্যিই এই ভেঙে পড়া স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সংস্কার চায় তাহলে এই লোকদেখানো sitting, meeting আর setting ছেড়ে মানুষের স্বার্থে আমাদের দাবিগুলো পূরনের জন্য উপযুক্ত পদক্ষেপ দ্রুত নিক।

Address


Alerts

Be the first to know and let us send you an email when WBJDF - West Bengal Junior Doctors' Front posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to WBJDF - West Bengal Junior Doctors' Front:

  • Want your practice to be the top-listed Clinic?

Share

Share on Facebook Share on Twitter Share on LinkedIn
Share on Pinterest Share on Reddit Share via Email
Share on WhatsApp Share on Instagram Share on Telegram