10/03/2026
📌শিশুর ওজন না বাড়ার কারণ | আমরা যেসব ভুল করে থাকি
শিশুর ওজন ঠিকমতো না বাড়ার অন্যতম কারণ হলো নিয়মিত ওজন মনিটর না করা। মাসে একবার ওজন না নিলে বোঝা যায় না শিশুর বৃদ্ধি সঠিকভাবে হচ্ছে কি না। ফলে ওজন কমে যাওয়ার বা বৃদ্ধি থেমে যাওয়ার সমস্যা সময়মতো ধরাই পড়ে না। তাই ০–৬ মাস পর্যন্ত প্রতি মাসে এবং ৬–২৪ মাস পর্যন্ত অন্তত মাসে একবার শিশুর ওজন নেওয়া জরুরি।
বুকের দুধ সঠিকভাবে না খাওয়ানোও বড় ধরনের সমস্যা। সঠিক ল্যাচ না হওয়া, পর্যাপ্ত সময় দুধ না খাওয়ানো, নির্দিষ্ট সময় ধরে নয়, চাহিদামতো দুধ না দেওয়া—এসব কারণে শিশুর প্রয়োজনীয় ক্যালরি পূরণ হয় না। কৃত্রিম দুধ তৈরি করলেও অনেক সময় ঘনত্ব কম হয়, যা পুষ্টি কমিয়ে দেয়। এজন্য জন্মের পর থেকেই যথাযথভাবে দুধ খাওয়ানো, প্রতিবার অন্তত পনেরো থেকে কুড়ি মিনিট ধরে খাওয়নো এবং দিনে বারবার দুধ দেওয়ার প্রয়োজন হয়।
ছয় মাসের আগে পানি বা জুস দেওয়া আরেকটি সাধারণ ভুল। এ বয়সে শিশুর জন্য কেবল বুকের দুধই যথেষ্ট। পানি বা জুস দিলে শিশুর পেট আগে ভরে যায়, ফলে দুধ খাওয়ার পরিমাণ কমে যায় এবং ক্যালরি ঘাটতি তৈরি হয়। একই সঙ্গে পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিও বাড়ে, যা আবার ওজন কমার কারণ হতে পারে। তাই ছয় মাস পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত শিশুকে বুকের দুধ ছাড়া অন্য কিছু দেওয়া উচিত নয়।
সময়মতো complementary feeding (পরিপূরক খাবার) শুরু না করাও ওজন না বাড়ার একটি বড় কারণ। ছয় মাসের পর শিশুর শরীরের বাড়তি ক্যালরি, প্রোটিন এবং পুষ্টির প্রয়োজন হয়, যা শুধু দুধ দিয়ে পূরণ হয় না। যদি ঘন, পুষ্টিকর খাবার সময়মতো শুরু না করা হয়, তবে শিশুর ওজন ও উচ্চতা—দুটোরই বৃদ্ধি ধীর হয়ে যায়। তাই ছয় মাসে ঘন খাবার এবং দিনে তিনবার খাবার ও অতিরিক্ত দু’বার হালকা খাবার দেওয়া প্রয়োজন।
ঘুম কম হলেও শিশুর ওজন বৃদ্ধিতে বাধা সৃষ্টি হয়। ঘুমের সময় শরীরে গ্রোথ হরমোন বেশি নিঃসৃত হয়, যা বাড়ন্ত শিশুর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ক্ষুধা কমে যায়, হজমের সমস্যা দেখা দেয় এবং স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। বয়স অনুযায়ী শিশুকে নিয়মিত, পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা জরুরি।
খাদ্যাভ্যাসে প্রোটিনের অভাব থাকলে শিশুর ওজন এবং উচ্চতা দুটোই ধীরগতিতে বাড়ে। প্রোটিন শরীর গঠনের মূল উপাদান, তাই এটি কম হলে পুষ্টিহীনতা দেখা দিতে পারে। ডিম, মাছ, মুরগি, ডাল, ছোলা এবং দই—এসব প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত শিশুর খাদ্যতালিকায় থাকা প্রয়োজন।
আয়রনের ঘাটতিও শিশুর ওজন না বাড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। আয়রন কম হলে ক্ষুধা কমে যায়, শক্তি কম থাকে এবং শরীরের সামগ্রিক বৃদ্ধি ধীর হয়ে যায়। মুখমণ্ডল ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়া, দ্রুত ক্লান্ত হওয়া বা খাবারে অনীহা—এসব আয়রন স্বল্পতার লক্ষণ। এ সমস্যা দূর করতে লিভার, ডিমের কুসুম, পাতাওয়ালা শাকসবজি, বিট এবং খেজুরের মতো আয়রনসমৃদ্ধ খাবার দিতে হয়। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সাপ্লিমেন্টও দেওয়া যেতে পারে।
সঠিক সময়ে সঠিক খাবার: শিশুর ওজন বাড়ার মূল চাবিকাঠি
শিশুর ওজন বাড়াতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সময়মতো দুধ, সময়মতো পুষ্টিকর ও ঘন খাবার দেওয়া এবং পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা। ছয় মাস থেকে দুই বছর বয়স পর্যন্ত শিশুকে দিনে তিন থেকে চারবার ঘন খাবার এবং এক বা দুইবার হালকা খাবার দিতে হবে। এক বছর বয়সের পর পরিবারের খাবারই শিশুর উপযোগী করে দেওয়া যেতে পারে। প্রতিটি খাবার ঘন হবে এবং তাতে ভাত, ডাল, সবজি ও প্রোটিন একসঙ্গে থাকবে।
©Dr Md Mahfuz Mallick